বিষয়: আমাদের পরিবেশ (পঞ্চম শ্রেণি)
অধ্যায় ৫: পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ পরিচিতি (নোটস)
১. ভূমির ঢাল ও অঞ্চল (Slope and Regions)
১. পশ্চিমবঙ্গের ভূমির ঢাল সাধারণভাবে কোন দিক থেকে কোন দিকে?
পশ্চিমবঙ্গের ভূমির ঢাল সাধারণভাবে **উত্তর থেকে দক্ষিণে** এবং **পশ্চিম থেকে পূর্বে**। এই কারণেই বেশিরভাগ নদী এই দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
২. পশ্চিমবঙ্গের প্রধান প্রাকৃতিক অঞ্চলগুলি কী কী?
- **উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল** (দার্জিলিং, জলপাইগুড়ির উত্তরাংশ)।
- **তরাই অঞ্চল** (পর্বতের পাদদেশ)।
- **পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চল** (পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূমের পশ্চিমাংশ)।
- **রাঢ় অঞ্চল** (উর্বর সমভূমি)।
- **গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ সমভূমি** (দক্ষিণবঙ্গ)।
- **সমুদ্র উপকূলের নোনামাটির অঞ্চল** (সুন্দরবন)।
৩. পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য কী?
- **ভূমি:** ঢেউ খেলানো, মাঝে মাঝে উঁচু টিলা বা ছোটো পাহাড় দেখা যায়।
- **মাটি:** **লালমাটি**, কাঁকর ও পাথর মেশানো এবং অপেক্ষাকৃত **অনুর্বর**।
- **জঙ্গল:** শাল, পলাশ, মহুয়া, পিয়াল গাছ বেশি দেখা যায়। (পুরুলিয়া জেলার পুরোটাই এই অঞ্চলে পড়ে)।
৪. রাঢ় অঞ্চল কাকে বলে? এর দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
পশ্চিমবঙ্গের মালভূমি অঞ্চল (পশ্চিম দিক) ও গাঙ্গেয় সমভূমি অঞ্চলের (পূর্ব দিক) মধ্যবর্তী অঞ্চলকে **রাঢ় অঞ্চল** বলে।
- **মাটি:** উর্বর **দোঁআশ** মাটি।
- **ভূমি:** প্রায় পুরোটা **সমতল**।
- **নদী:** দামোদর, দ্বারকেশ্বর, শিলাবতী, ময়ূরাক্ষী এই অঞ্চলের প্রধান নদী।
৫. নদীমাতৃক সভ্যতা কাকে বলে?
যেসব পুরোনো দিনের সভ্যতা নদীর ওপর নির্ভর করে নদীর ধারে গড়ে উঠত (নদী ছিল জলের প্রধান উৎস), সেইসব সভ্যতাকে **নদীমাতৃক সভ্যতা** বলা হয়। (যেমন – হরপ্পা সভ্যতা, মেসোপটেমীয় সভ্যতা)।
২. নদনদী ও অঞ্চল পরিচিতি (Rivers and Sub-regions)
৬. গঙ্গা নদীর উৎস কোথায়? পশ্চিমবঙ্গে এটি কী নামে পরিচিত?
উৎস: উত্তরাখণ্ড রাজ্যের **গঙ্গোত্রী হিমবাহের গোমুখ গুহা**।
পশ্চিমবঙ্গে এর প্রধান ধারাটি **ভাগীরথী** নামে পরিচিত এবং হুগলি জেলায় এর নাম **হুগলি নদী**।
৭. নিত্যবহ নদী ও অনিত্যবহ নদী কাকে বলে?
- **নিত্যবহ নদী:** যে নদীতে **সারা বছর** জল থাকে (সাধারণত বরফ গলা জলে পুষ্ট)। (যেমন – গঙ্গা, তিস্তা)।
- **অনিত্যবহ নদী:** যে নদীতে সাধারণত **বর্ষাকালে** জল থাকে এবং গ্রীষ্মকালে জল শুকিয়ে যায়। (যেমন – অজয়, কংসাবতী)।
৮. গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ সমভূমি অঞ্চল কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে?
ভাগীরথী-পদ্মা ও অন্যান্য নদী দ্বারা বয়ে আনা **পলি** জমে জমে এই সুবিশাল **সমতল ভূমি** (ব-দ্বীপ) সৃষ্টি হয়েছে। এই অঞ্চলের মাটি খুবই উর্বর।
৯. সুন্দরবন অঞ্চলের দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য লেখো।
- **ভূমি:** এটি গাঙ্গেয় ব-দ্বীপের **দক্ষিণ অংশ**, সমুদ্রের খুব কাছে অবস্থিত এবং **খুব নীচু** জায়গা।
- **জল ও মাটি:** মাটি **নোনতা** (লবণাক্ত) এবং জল **ঈষৎ নোনা**। মাটি কাদার ভাগ বেশি।
- **উদ্ভিদ:** এখানকার প্রধান গাছ হলো **ম্যানগ্রোভ** (শ্বাসমূল ও ঠেসমূলযুক্ত)।
১০. ম্যানগ্রোভ গাছের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
- মাটির গভীরে গাছকে ধরে রাখার জন্য **ঠেসমূল** (Stilt Root) থাকে।
- মাটি থেকে উপরে উঠে আসা **শ্বাসমূল** (Pneumatophore) থাকে, যা বাতাস থেকে অক্সিজেন নেয়।
চিত্র: ম্যানগ্রোভ গাছ। শ্বাসমূল বাতাস থেকে অক্সিজেন নেয়।
১১. উত্তরবঙ্গের তরাই অঞ্চল কাকে বলে? এর দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
তিস্তা, তোর্সা, জলঢাকা ইত্যাদি বরফগলা জলের নদীর **পাহাড়ের পাদদেশ সংলগ্ন** ঢালু অঞ্চলকে **তরাই অঞ্চল** বলে।
- **মাটি:** মাটি **বালি ও নুড়ি-পাথর** মেশানো এবং **স্যাঁতস্যাঁতে**।
- **নদী:** এই অঞ্চলে নদীর **স্রোত খুব বেশি**।
- **বৃষ্টিপাত:** এখানে **বৃষ্টিপাত বেশি** হয়।
১২. পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গের নাম কী? এর উচ্চতা কত?
পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গের নাম **সান্দাকফু**।
উচ্চতা: **৩৬৩০ মিটার**। এটি দার্জিলিং জেলার **সিংগালিলা পর্বতশ্রেণিতে** অবস্থিত।
১৩. উত্তরবঙ্গের দুটি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের নাম লেখো।
জলদাপাড়া (গণ্ডার) ও বক্সা (বাঘ) জাতীয় উদ্যান, গোরুমারা।
৩. শহর ও মনীষী (Cities and Personalities)
১৪. পশ্চিমবঙ্গের দুটি জেলা সদরের নাম লেখো।
কলকাতা (রাজধানী ও জেলা সদর), দার্জিলিং, বর্ধমান, মেদিনীপুর, বহরমপুর ইত্যাদি।
১৫. পশ্চিমবঙ্গের দুটি বিখ্যাত শহরের নাম লেখো এবং তাদের একটি করে বিশেষত্ব উল্লেখ করো।
- **কলকাতা:** রাজ্যের রাজধানী, **বন্দর**, বিমানবন্দর, পাতাল রেল এবং ঐতিহাসিক স্থান (ফোর্ট উইলিয়াম) আছে।
- **শিলিগুড়ি:** উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার, গুরুত্বপূর্ণ **রেলওয়ে স্টেশন** ও বাণিজ্যকেন্দ্র।
- **দিঘা:** সমুদ্র উপকূলবর্তী **পর্যটন কেন্দ্র**।
- **বিষ্ণুপুর (বাঁকুড়া):** **টেরাকোটা শিল্প** ও বস্ত্রশিল্পের জন্য বিখ্যাত।
১৬. রাজা রামমোহন রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কেন স্মরণীয়?
- **রাজা রামমোহন রায়:** সতীদাহ প্রথা বন্ধ করা ও **নারী শিক্ষার** প্রসারে প্রধান ভূমিকা পালন করেন।
- **ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:** **বিধবা বিবাহ** প্রচলনের জন্য লড়াই করেন এবং **বাংলা বর্ণমালার** সংস্কার করেন।
১৭. আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু ও আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় কেন বিখ্যাত?
- **আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু:** **উদ্ভিদের প্রাণ** আছে—এই ধারণাটি প্রমাণ করেন এবং বেতার যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার করেন।
- **আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়:** একজন **বিরাট বিজ্ঞানী** (রসায়ন) এবং শিক্ষক ছিলেন। তিনি ‘বেঙ্গল কেমিক্যালস’ প্রতিষ্ঠা করেন।
১৮. জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা’ কোন ঘটনার প্রতিবাদে লেখা হয়?
১৯০৫ সালে ইংরেজদের দ্বারা বাংলা ভাগ (বঙ্গভঙ্গ) করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে **রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর** এই গানটি লিখেছিলেন।