Topic: Our Environment (Class 5) Chapter 4: Physical Environment – ​​Biodiversity and Environment (Notes)

Day 1: অধ্যায়: জীববৈচিত্র্য (উদ্ভিদ ও প্রাণী) NOTES
জীববৈচিত্র্য (উদ্ভিদ ও প্রাণী) - Class V EVS
Class V | আমাদের পরিবেশ

অধ্যায়: জীববৈচিত্র্য (উদ্ভিদ ও প্রাণী)

উদ্ভিদ আর প্রাণীদের নিয়ে জীবজগৎ

আমাদের চারপাশে নানা রকমের গাছপালা ও পশুপাখি আছে। এদের সবারই প্রাণ আছে। নিজেদের খাবার নিজেরা তৈরি করতে পারে এমন উদ্ভিদ এবং চারপাশের নানা প্রাণীদের নিয়েই গড়ে উঠেছে আমাদের এই জীবজগৎ।

🌳
উদ্ভিদ
🐾
প্রাণী

🐕 বুনো থেকে পোষা হলো

মানুষ প্রথমে আত্মরক্ষা ও শিকারের প্রয়োজনে কুকুরকে পোষ মানায়। এরপর ধীরে ধীরে গোরু, ছাগল, ভেড়া, ঘোড়া ইত্যাদি প্রাণীদের নিজেদের প্রয়োজনে বুনো থেকে পোষা করে তোলে।

খাদ্য দুধ যাতায়াত

🦴 প্রাণীর প্রকারভেদ

মেরুদণ্ডী: মানুষ, মাছ, ব্যাঙ, সাপ
অমেরুদণ্ডী: কেঁচো, শামুক, প্রজাপতি

✨ অদ্ভুত আচার-আচরণ

চেনা গাছ

  • লজ্জাবতী: পাতা ছুঁলেই বুজে যায়।
  • সূর্যমুখী: সূর্যের দিকে মুখ করে ফোটে।

চেনা প্রাণী

  • কুকুর: প্রভুভক্ত, লেজ নাড়ে।
  • বিড়াল: ইঁদুর দেখলে ওত পাতে।

আধা চেনা প্রাণী

বেজি, শিয়াল বা গোসাপ মানুষের কাছে এলেও লুকিয়ে থাকতে ভালোবাসে।

⚠️

হারিয়ে যাওয়া স্থানীয় প্রাণী

পরিবেশ দূষণ, বাসস্থানের অভাব এবং জলাশয় বুজিয়ে ফেলার কারণে শকুন, চড়াই পাখি এবং নানা দেশি মাছ (যেমন—খলসে, মৌরলা) আজ হারিয়ে যেতে বসেছে।

© WBBSE AI Engine - Interactive Learning Module

"আমাদের চারপাশের পরিবেশের প্রতিটি অংশই অবিচ্ছেদ্য।"

WBBSE Notes: মানবদেহ
WBBSE Class V | EVS

অধ্যায়: মানবদেহ

আমাদের পরিবেশ - পাঠ্যবই ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর

সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (Short Answer Questions)

১. শরীরের বর্ম কাকে বলা হয়?

উত্তর: আমাদের শরীরের চামড়া বা ত্বককে বর্ম বলা হয়।

২. ত্বকের নিচে কী কী থাকে?

উত্তর: ত্বকের নিচে মাংসপেশি, শিরা আর ধমনি থাকে।

৩. শরীরের কোন অংশের চামড়া সবচেয়ে বেশি পুরু?

উত্তর: পায়ের তলার চামড়া শরীরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পুরু হয়।

৪. ত্বকের ওপরের স্তরে আঘাত লাগলে সঙ্গে সঙ্গে রক্ত বের হয় না কেন?

উত্তর: ত্বকের ওপরের স্তরে কোনো রক্তনালী থাকে না, তাই একটু ছড়ে গেলে বা কাটলে সঙ্গে সঙ্গে রক্ত বের হয় না।

৫. মেলানিন কী?

উত্তর: মেলানিন হলো এক প্রকার রঞ্জক পদার্থ যা চামড়া ও চুলের রং নির্ধারণ করে।

৬. রোদ লাগলে ত্বকে কোন ভিটামিন তৈরি হয়?

উত্তর: গায়ে রোদ লাগলে ত্বকের নিচে ভিটামিন 'ডি' তৈরি হয়।

৭. বয়স বাড়লে চুল সাদা হয়ে যায় কেন?

উত্তর: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে মেলানিন তৈরি হওয়া কমে যায়, তাই চুল সাদা হয়ে যায়।

৮. সজারুর কাঁটা আসলে কী?

উত্তর: সজারুর কাঁটা আসলে তার শরীরের শক্ত হয়ে যাওয়া চুল।

৯. গন্ডারের খড়্গ আসলে কী দিয়ে তৈরি?

উত্তর: গন্ডারের খড়্গ আসলে জমাট বাঁধা শক্ত চুল।

১০. নখ কাটলে আমাদের ব্যথা লাগে না কেন?

উত্তর: নখের বাইরের অংশে কোনো প্রাণ বা স্নায়ু নেই, তাই নখ কাটলে ব্যথা লাগে না।

১১. অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা হলে নখের কী পরিবর্তন হয়?

উত্তর: রক্তাল্পতা হলে নখের মাঝখানটা চামচের মতো গর্ত হয়ে যায় এবং নখ ফ্যাকাশে দেখায়।

১২. বিড়াল বা বাঘের নখ থাবার নিচে লুকোনো থাকে কেন?

উত্তর: হাঁটার সময় যাতে নখ ঘষে না যায়, তাই তাদের নখ থাবার নিচে লুকোনো থাকে।

১৩. কনুই থেকে কবজি পর্যন্ত হাড় দুটির নাম কী?

উত্তর: কনুই থেকে কবজি পর্যন্ত হাড় দুটির নাম হলো আলনা ও রেডিয়াস।

১৪. মানবদেহের সবচেয়ে বড় হাড় কোনটি?

উত্তর: কোমর থেকে হাঁটু পর্যন্ত বিস্তৃত হাড় 'ফিমার' হলো মানবদেহের সবচেয়ে বড় হাড়।

১৫. লিগামেন্ট কাকে বলে?

উত্তর: হাড়গুলো একে অপরের সঙ্গে দড়ির মতো যে জিনিস দিয়ে আটকানো থাকে, তাকে লিগামেন্ট বলে।

১৬. স্টেথোস্কোপ কে আবিষ্কার করেন?

উত্তর: ফরাসি ডাক্তার রেনে লিনেক প্রথম স্টেথোস্কোপ আবিষ্কার করেন।

১৭. যক্ষ্মা বা টিবি কী ধরনের রোগ?

উত্তর: যক্ষ্মা বা টিবি হলো একটি মারাত্মক বায়ুবাহিত রোগ।

১৮. যক্ষ্মা প্রতিরোধের টিকার নাম কী?

উত্তর: যক্ষ্মা প্রতিরোধের টিকার নাম হলো বিসিজি (BCG)।

১৯. কয়েকটি জলবাহিত রোগের নাম লেখো।

উত্তর: আন্ত্রিক, কলেরা এবং টাইফয়েড হলো জলবাহিত রোগ।

২০. ওআরএস (ORS) কখন ব্যবহার করা হয়?

উত্তর: পাতলা পায়খানা বা ডিহাইড্রেশনের ফলে শরীরে জলের ঘাটতি দেখা দিলে ওআরএস ব্যবহার করা হয়।

দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্ন (Long Answer Questions)

১. ত্বককে কেন শরীরের বর্ম বলা হয়? এর কাজ কী?

উত্তর: আগেকার দিনে যুদ্ধে আঘাত থেকে বাঁচতে বর্ম ব্যবহার করা হতো। ত্বকও ঠিক তেমনি আমাদের শরীরের ভেতরের অংশগুলোকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে। এটি সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে বাঁচায় এবং ভেতরের মাংসপেশি, শিরা ও ধমনিকে ঢেকে রাখে। তাই ত্বককে শরীরের বর্ম বলা হয়।

২. শরীরের বিভিন্ন অংশে ত্বকের পুরুত্বের পার্থক্যের কারণ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: শরীরের সব জায়গার চামড়া সমান নয়। হাতের চেটোর দিকের চামড়া পুরু হলেও উলটোদিকের চামড়া পাতলা। সবচেয়ে পুরু চামড়া থাকে পায়ের তলায়, কারণ হাঁটার সময় শরীরের পুরো ভর বা চাপ পায়ের তলার ওপর পড়ে। ঘর্ষণ ও চাপ সহ্য করার জন্যই প্রকৃতির নিয়মে এই পার্থক্য দেখা যায়।

৩. ত্বকের স্তরবিন্যাস সম্পর্কে যা জানো লেখো।

উত্তর: চামড়ার প্রধানত দুটি স্তর থাকে—ওপরের স্তর এবং ভিতরের স্তর। ওপরের স্তরটি মৃত কোষ দ্বারা গঠিত এবং এতে কোনো রক্তনালী থাকে না। তাই ওপরের স্তর সামান্য ছড়ে গেলে রক্ত বের হয় না। ভিতরের স্তরে রক্তনালী ও স্নায়ু থাকে। এই স্তরটি অনেক বেশি সংবেদনশীল।

৪. মানুষের গায়ের রং কালো বা ফরসা হয় কেন? এর সুবিধা কী?

উত্তর: ত্বকের রং কালো বা ফরসা হওয়ার মূল কারণ হলো 'মেলানিন' নামক রঞ্জক পদার্থ। যার শরীরে মেলানিন বেশি তার গায়ের রং কালো হয়। মেলানিন সূর্যরশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে রক্ষা করে এবং ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে। ফরসা মানুষের ত্বকে মেলানিন কম থাকে।

৫. সজারুর কাঁটা ও গন্ডারের খড়্গ আসলে কী? এগুলি তাদের কী কাজে লাগে?

উত্তর: সজারুর কাঁটা এবং গন্ডারের খড়্গ উভয়ই আসলে বিবর্তিত ও শক্ত হয়ে যাওয়া চুল। সজারুর চুলগুলো শক্ত ও ছুঁচলো হয়ে কাঁটার রূপ নিয়েছে, যা সে আত্মরক্ষার কাজে ব্যবহার করে। গন্ডারের খড়্গও জমাট বাঁধা চুল, যা তার আত্মরক্ষা ও লড়াইয়ের প্রধান হাতিয়ার।

৬. নখ দেখে কীভাবে শরীরের অবস্থা বোঝা যায়?

উত্তর: নখের রং ও আকৃতি দেখে শরীরের স্বাস্থ্য বোঝা যায়। সুস্থ মানুষের নখ সাধারণত গোলাপি আভার হয়। কিন্তু শরীরে রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া হলে নখ ফ্যাকাশে হয়ে যায়। অনেক সময় নখের মাঝখানটা চামচের মতো গর্ত হয়ে যায়, যা আয়রনের অভাব বা রক্তাল্পতার লক্ষণ।

৭. বন্য প্রাণীদের নখের বৈশিষ্ট্য ও প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করো।

উত্তর: বিড়াল, কুকুর বা বাঘের মতো প্রাণীদের নখ খুব তীক্ষ্ণ হয়। শিকার ধরার জন্য বা গাছে ওঠার জন্য তারা এই নখ ব্যবহার করে। হাঁটার সময় যাতে নখ ঘষে ভোঁতা না হয়ে যায়, তাই তারা নখ থাবার নিচে লুকিয়ে রাখে। পাখিদের নখও খুব শক্ত ও বাঁকানো হয়, যা দিয়ে তারা গাছের ডাল শক্ত করে আঁকড়ে ধরে।

৮. মানুষের হাতের হাড়গুলোর গঠন বর্ণনা করো।

উত্তর: মানুষের হাতের গঠন বেশ জটিল। কাঁধ থেকে কনুই পর্যন্ত যে হাড়টি থাকে তার নাম হিউমেরাস। আবার কনুই থেকে কবজি পর্যন্ত দুটি হাড় সমান্তরালভাবে থাকে, যাদের নাম হলো আলনা ও রেডিয়াস। এই হাড়গুলোর সমন্বয়েই আমরা হাত নাড়াচাড়া করতে ও কাজ করতে পারি।

৯. অস্থিসন্ধি বা জয়েন্ট বলতে কী বোঝো? এর গুরুত্ব কী?

উত্তর: যেখানে দুটি হাড় একে অপরের সঙ্গে মিলিত হয়, তাকে অস্থিসন্ধি বা জয়েন্ট বলে। হাড়গুলো লিগামেন্ট নামক দড়ির মতো তন্তু দিয়ে আটকানো থাকে। অস্থিসন্ধি থাকার ফলেই আমরা আমাদের হাত, পা, আঙুল বা ঘাড় বাঁকাতে ও ঘোরাতে পারি। অস্থিসন্ধি না থাকলে আমাদের শরীর কাঠের মতো শক্ত হয়ে যেত।

১০. পেশি কীভাবে আমাদের কাজ করতে সাহায্য করে?

উত্তর: হাড়ের গায়ে পেশি লাগানো থাকে। পেশিগুলো স্থিতিস্থাপক, অর্থাৎ এরা সংকুচিত ও প্রসারিত হতে পারে। যখন আমরা হাত বা পা নাড়াই, তখন নির্দিষ্ট পেশি সংকুচিত হয়ে হাড়কে টানে। হাঁটা, দৌড়ানো, ভারী জিনিস তোলা বা লেখার মতো সব কাজে পেশি ও হাড়ের যৌথ ভূমিকা থাকে।

১১. হৃৎপিণ্ডের কাজ ও হৃৎস্পন্দন সম্পর্কে কী জানো?

উত্তর: হৃৎপিণ্ড আমাদের শরীরের একটি পাম্পের মতো অঙ্গ। এটি নিরন্তর সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে সারা শরীরে রক্ত পাঠিয়ে দেয়। এই পাম্প করার সময় যে শব্দ তৈরি হয় তাকেই হৃৎস্পন্দন বা 'ধুকপুক' শব্দ বলা হয়। স্টেথোস্কোপের সাহায্যে ডাক্তাররা এই শব্দ শুনে হৃৎপিণ্ডের অবস্থা বুঝতে পারেন।

১২. স্টেথোস্কোপ আবিষ্কারের ইতিহাসটি সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর: ফরাসি ডাক্তার রেনে লিনেক প্রথম স্টেথোস্কোপ আবিষ্কার করেন। একদিন তিনি একটি নিরেট কাগজের নল তৈরি করে রোগীর বুকের ওপর রেখে শব্দ শোনার চেষ্টা করেন এবং সফল হন। পরে এই ধারণাকে উন্নত করে তিনি কাঠের নল দিয়ে প্রথম স্থায়ী স্টেথোস্কোপ তৈরি করেন। এভাবেই আধুনিক স্টেথোস্কোপের পথ চলা শুরু হয়।

১৩. যক্ষ্মা রোগ কীভাবে ছড়ায় এবং এর লক্ষণ কী?

উত্তর: যক্ষ্মা একটি বায়ুবাহিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা থুতুর মাধ্যমে এই রোগের জীবাণু বাতাসে মেশে। সুস্থ মানুষ সেই বাতাস প্রশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে তার শরীরেও জীবাণু প্রবেশ করে। দীর্ঘদিনের কাশি, কাশির সঙ্গে রক্ত পড়া, বিকেলের দিকে জ্বর আসা এবং ওজন কমে যাওয়া এই রোগের প্রধান লক্ষণ।

১৪. যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা আলোচনা করো।

উত্তর: একসময় যক্ষ্মা হলে মানুষ মারা যেত, কিন্তু বর্তমানে ডটস (DOTS) পদ্ধতিতে নিয়মিত ওষুধ খেলে এই রোগ সম্পূর্ণ সেরে যায়। প্রতিরোধের জন্য শিশুদের জন্মের পরেই বিসিজি (BCG) টিকা দেওয়া হয়। এছাড়া রোগীর কফ বা থুতু যেখানে সেখানে না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা উচিত যাতে সংক্রমণ না ছড়ায়।

১৫. জলবাহিত রোগ প্রতিরোধের উপায়গুলো কী কী?

উত্তর: জলবাহিত রোগ যেমন কলেরা বা টাইফয়েড প্রতিরোধের প্রধান উপায় হলো বিশুদ্ধ জল পান করা। জল ফুটিয়ে ঠান্ডা করে পান করা সবচেয়ে নিরাপদ। এছাড়া হ্যালোজেন ট্যাবলেট ব্যবহার করে জল শোধন করা যায়। খাবার আগে হাত ভালো করে ধোয়া এবং বাইরের খোলা খাবার বা জল না খাওয়াও জরুরি।

১৬. ওআরএস (ORS) তৈরির পদ্ধতি ও এর প্রয়োজনীয়তা কী?

উত্তর: ওআরএস হলো ওরাল রিহাইড্রেশন সল্ট। এটি বাড়িতেও তৈরি করা যায়—এক গ্লাস ফোটানো ঠান্ডা জলে এক চামচ চিনি ও এক চিমটি নুন মিশিয়ে। আন্ত্রিক বা বারবার পাতলা পায়খানা হলে শরীর থেকে প্রচুর জল ও খনিজ বেরিয়ে যায়, যাকে ডিহাইড্রেশন বলে। ওআরএস এই জলের ঘাটতি পূরণ করে রোগীকে সুস্থ করে তোলে।

১৭. চুলের কাজ ও বিভিন্ন প্রাণীর চুলের বৈচিত্র্য আলোচনা করো।

উত্তর: চুল আমাদের মাথাকে বাইরের রোদ এবং আঘাত থেকে রক্ষা করে। মানুষের ক্ষেত্রে চুলের রং ও ধরন আলাদা হয় মেলানিনের কারণে। প্রাণীদের ক্ষেত্রে চুলের বৈচিত্র্য আরও বেশি। যেমন সজারুর চুল কাঁটার মতো শক্ত, আবার গন্ডারের চুল জমাট বেঁধে খড়্গ তৈরি করে। ভেড়ার লোম বা চুল থেকে আমরা পশম পাই যা আমাদের শীত থেকে বাঁচায়।

১৮. হাড়ের সুস্থতার জন্য আমাদের কী কী করা উচিত?

উত্তর: হাড় মজবুত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার এবং ভিটামিন 'ডি' প্রয়োজন। নিয়মিত গায়ে রোদ লাগালে ত্বকের নিচে ভিটামিন 'ডি' তৈরি হয় যা হাড়ের গঠনে সাহায্য করে। এছাড়া নিয়মিত ব্যায়াম ও খেলাধুলা করলে হাড় ও অস্থিসন্ধি সচল থাকে। হাড়ের কোনো চোট বা ব্যথা হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

১৯. স্টেথোস্কোপের সাহায্যে ডাক্তাররা কী কী পরীক্ষা করেন?

উত্তর: স্টেথোস্কোপের সাহায্যে ডাক্তাররা প্রধানত রোগীর হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন শোনেন। হৃৎস্পন্দনের গতি ও ছন্দ দেখে বোঝা যায় হৃৎপিণ্ড ঠিকমতো রক্ত পাম্প করছে কি না। এছাড়া ফুসফুসের বায়ু চলাচলের শব্দ শুনে শ্বাসকষ্ট বা নিউমোনিয়ার মতো রোগ শনাক্ত করা যায়। এটি প্রাথমিক রোগ নির্ণয়ের একটি অপরিহার্য যন্ত্র।

২০. মানবদেহের কাঠামো রক্ষায় কঙ্কালতন্ত্রের ভূমিকা লেখো।

উত্তর: কঙ্কালতন্ত্র বা হাড়ের কাঠামো আমাদের শরীরকে একটি নির্দিষ্ট আকৃতি দেয়। এটি শরীরের নরম অঙ্গগুলোকে (যেমন—হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, মস্তিষ্ক) রক্ষা করে। হাড়ের সাথে পেশি যুক্ত থেকে আমাদের চলাফেরা করতে সাহায্য করে। হাড় ছাড়া আমাদের শরীর মাংসের দলার মতো হতো, আমরা সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারতাম না।

© ২০২৪ WBBSE AI Engine - শিক্ষা ও প্রগতির পথে।

WBBSE Notes - জীববৈচিত্র্য (উদ্ভিদ ও প্রাণী)

পঞ্চম শ্রেণী: আমাদের পরিবেশ

অধ্যায়: জীববৈচিত্র্য (উদ্ভিদ ও প্রাণী)

WBBSE AI Engine - পাঠ্যবই ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর নোটস

সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (SAQ) - ২০টি

১. জীবজগৎ কাদের নিয়ে গড়ে উঠেছে?

উত্তর: উদ্ভিদ আর প্রাণীদের নিয়ে জীবজগৎ গড়ে উঠেছে।

২. নিজের খাবার নিজে তৈরি করতে পারে কে?

উত্তর: উদ্ভিদ নিজের খাবার নিজে তৈরি করতে পারে।

৩. মানুষ প্রথম কোন প্রাণীকে পোষ মানিয়েছিল?

উত্তর: মানুষ প্রথম কুকুরকে পোষ মানিয়েছিল।

৪. মানুষ কেন কুকুরকে পোষ মানিয়েছিল?

উত্তর: আত্মরক্ষা এবং শিকারের প্রয়োজনে মানুষ কুকুরকে পোষ মানিয়েছিল।

৫. পোষা প্রাণী কাকে বলে?

উত্তর: যে সব প্রাণী আমাদের বাড়িতে বা মানুষের কাছাকাছি থাকে এবং যাদের আমরা পালন করি, তাদের পোষা প্রাণী বলে।

৬. বন্য প্রাণী কাকে বলে?

উত্তর: যারা বনে-জঙ্গলে থাকে এবং নিজেদের খাবার নিজেরাই জোগাড় করে, তাদের বন্য প্রাণী বলে।

৭. দুটি বন্য প্রাণীর নাম লেখো।

উত্তর: বাঘ ও সিংহ।

৮. দুটি ওষুধি গাছের নাম লেখো।

উত্তর: নিম ও তুলসী।

৯. ঘরের ভেতরে দেখা যায় এমন দুটি প্রাণীর নাম লেখো।

উত্তর: টিকটিকি ও মাকড়সা।

১০. মেরুদণ্ডী প্রাণী কাকে বলে?

উত্তর: যে সব প্রাণীর শিরদাঁড়া বা মেরুদণ্ড আছে, তাদের মেরুদণ্ডী প্রাণী বলে।

১১. অমেরুদণ্ডী প্রাণী কাকে বলে?

উত্তর: যাদের শিরদাঁড়া বা মেরুদণ্ড নেই, তাদের অমেরুদণ্ডী প্রাণী বলে।

১২. কেঁচো মেরুদণ্ডী না অমেরুদণ্ডী প্রাণী?

উত্তর: কেঁচো একটি অমেরুদণ্ডী প্রাণী।

১৩. লজ্জাবতী গাছের বৈশিষ্ট্য কী?

উত্তর: লজ্জাবতী গাছের পাতা ছুঁলেই তা সঙ্গে সঙ্গে বুজে যায়।

১৪. সূর্যমুখী ফুল কোন দিকে মুখ করে ফোটে?

উত্তর: সূর্যমুখী ফুল সবসময় সূর্যের দিকে মুখ করে ফোটে।

১৫. কুকুর খুশি হলে কী করে?

উত্তর: কুকুর খুশি হলে লেজ নাড়ে।

১৬. বিড়াল কখন চোখ বুজে থাকে?

উত্তর: বিড়াল আরাম পেলে চোখ বুজে থাকে।

১৭. দুটি আধা চেনা প্রাণীর নাম লেখো।

উত্তর: বেজি ও গিরগিটি।

১৮. হারিয়ে যেতে বসা একটি পাখির নাম লেখো।

উত্তর: শকুন (বা চড়াই পাখি)।

১৯. দুটি দেশি মাছের নাম লেখো যারা আজ প্রায় বিলুপ্ত?

উত্তর: খলসে ও মৌরলা।

২০. জলাশয় বুজিয়ে ফেলার ফল কী হচ্ছে?

উত্তর: জলাশয় বুজিয়ে ফেলার ফলে অনেক দেশি মাছ ও জলজ প্রাণী হারিয়ে যাচ্ছে।

দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্ন (LAQ) - ২০টি

১. জীবজগৎ বলতে কী বোঝো? উদ্ভিদ ও প্রাণীর মধ্যে একটি প্রধান পার্থক্য লেখো।

উত্তর: আমাদের চারপাশে থাকা নানা রকমের গাছপালা এবং পশুপাখি যাদের প্রাণ আছে, তাদের নিয়েই গড়ে উঠেছে জীবজগৎ। উদ্ভিদ ও প্রাণীর মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো—উদ্ভিদ সূর্যের আলোর সাহায্যে নিজেদের খাবার নিজেরা তৈরি করতে পারে, কিন্তু প্রাণীরা তা পারে না; তারা খাবারের জন্য উদ্ভিদের ওপর বা অন্য প্রাণীর ওপর নির্ভর করে।

২. বুনো প্রাণী কীভাবে পোষা প্রাণীতে পরিণত হলো? সংক্ষেপে আলোচনা করো।

উত্তর: অনেক আগে সব প্রাণীই বুনো ছিল। মানুষ প্রথমে নিজের নিরাপত্তা এবং শিকারের সাহায্যের জন্য কুকুরকে পোষ মানায়। এরপর ধীরে ধীরে মানুষ বুঝতে পারে যে কিছু প্রাণীকে পালন করলে তাদের থেকে দুধ, মাংস পাওয়া যাবে এবং যাতায়াতের সুবিধা হবে। এই প্রয়োজনেই গোরু, ছাগল, ভেড়া ও ঘোড়াকে মানুষ বুনো থেকে পোষা প্রাণীতে পরিণত করে।

৩. বন্য প্রাণী ও পোষা প্রাণীর মধ্যে তিনটি পার্থক্য উদাহরণসহ লেখো।

উত্তর: ১) বন্য প্রাণীরা বনে-জঙ্গলে থাকে (যেমন—বাঘ), কিন্তু পোষা প্রাণীরা মানুষের বাড়িতে বা কাছাকাছি থাকে (যেমন—গোরু)। ২) বন্য প্রাণীরা নিজেদের খাবার নিজেরাই জোগাড় করে, কিন্তু পোষা প্রাণীদের খাবার মানুষ জোগাড় করে দেয়। ৩) বন্য প্রাণীরা সাধারণত মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলে, কিন্তু পোষা প্রাণীরা মানুষের ওপর নির্ভরশীল ও অনুগত হয়।

৪. আমাদের বাড়ির আশেপাশে দেখা যায় এমন উদ্ভিদের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: আমাদের বাড়ির আশেপাশে আম, জাম, কাঁঠাল, নিম, তুলসীর মতো অনেক গাছ থাকে। বড়ো গাছগুলো আমাদের ফল দেয়, কাঠ দেয় এবং ছায়া দিয়ে পরিবেশ ঠান্ডা রাখে। আবার তুলসী বা নিমের মতো ছোটো গাছগুলো ওষুধি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা আমাদের নানা রোগ সারাতে সাহায্য করে।

৫. ঘরের ভেতরে বা আশেপাশে আমরা কোন কোন ক্ষুদ্র প্রাণী দেখতে পাই? তারা আমাদের পরিবেশের অংশ কেন?

উত্তর: ঘরের ভেতরে বা আশেপাশে আমরা মাকড়সা, টিকটিকি, আরশোলা, পিঁপড়ে, মশা, মাছি ইত্যাদি দেখতে পাই। এরা আমাদের পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ কারণ এরা বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখে। উদাহরণস্বরূপ, টিকটিকি মশা-মাছি খেয়ে তাদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

৬. উদাহরণসহ মেরুদণ্ডী ও অমেরুদণ্ডী প্রাণীর পার্থক্য বুঝিয়ে দাও।

উত্তর: মেরুদণ্ডী প্রাণীদের শরীরের ভেতরে শিরদাঁড়া বা মেরুদণ্ড থাকে যা তাদের শরীরকে সোজা রাখতে সাহায্য করে; যেমন—মানুষ, মাছ, ব্যাঙ ও পাখি। অন্যদিকে, অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের কোনো শিরদাঁড়া থাকে না; যেমন—কেঁচো, শামুক ও প্রজাপতি। মেরুদণ্ডী প্রাণীরা সাধারণত আকারে বড়ো ও শক্তিশালী হয়।

৭. লজ্জাবতী ও সূর্যমুখী গাছের আচরণের মাধ্যমে উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা কীভাবে প্রকাশ পায়?

উত্তর: লজ্জাবতী গাছের পাতা স্পর্শ করলে তা তৎক্ষণাৎ বুজে যায়, যা স্পর্শের প্রতি তার সাড়া দেওয়া বোঝায়। আবার সূর্যমুখী ফুল সূর্যের আলোর দিকে মুখ করে ফোটে এবং দিনের বেলা সূর্যের গতির সাথে সাথে হেলে পড়ে। এই আচরণগুলো প্রমাণ করে যে প্রাণীদের মতো উদ্ভিদেরও প্রাণ আছে এবং তারা উদ্দীপনায় সাড়া দেয়।

৮. কুকুরের প্রভুভক্তি ও আচরণের বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।

উত্তর: কুকুর খুব বুদ্ধিমান ও প্রভুভক্ত প্রাণী। এরা অপরিচিত লোক দেখলে ডেকে ওঠে এবং প্রভুকে বিপদের হাত থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করে। কুকুর যখন খুব খুশি হয়, তখন সে তার লেজ নাড়িয়ে আনন্দ প্রকাশ করে। মানুষের সাথে এদের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়।

৯. বিড়াল ও ইঁদুরের আচরণগত সম্পর্ক পাঠ্যবই অনুযায়ী লেখো।

উত্তর: বিড়াল একটি শান্ত স্বভাবের প্রাণী হলেও শিকারের সময় সে খুব সতর্ক। বিড়াল যখন আরাম পায় তখন চোখ বুজে থাকে। কিন্তু যখনই সে ইঁদুর দেখে, তখনই সে শিকার করার জন্য ওত পাতে। ইঁদুর বিড়ালের প্রধান খাদ্য হওয়ার কারণে এদের মধ্যে শিকারি ও শিকারের সম্পর্ক দেখা যায়।

১০. "আধা চেনা প্রাণী" বলতে কী বোঝো? দুটি উদাহরণ দিয়ে তাদের স্বভাব লেখো।

উত্তর: যে সব প্রাণীকে আমরা রোজ দেখি না কিন্তু মাঝে মাঝে আমাদের আশেপাশে দেখা যায়, তাদের আধা চেনা প্রাণী বলে। যেমন—বেজি ও শিয়াল। এরা মানুষের কাছাকাছি এলেও সাধারণত আড়ালে বা লুকিয়ে থাকতে ভালোবাসে। বিপদের আঁচ পেলে এরা দ্রুত পালিয়ে গিয়ে আত্মরক্ষা করে।

১১. আমাদের পরিবেশ থেকে কেন অনেক প্রাণী হারিয়ে যাচ্ছে? তিনটি কারণ লেখো।

উত্তর: প্রাণী হারিয়ে যাওয়ার প্রধান তিনটি কারণ হলো: ১) পরিবেশ দূষণ, যার ফলে প্রাণীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। ২) বাসস্থানের অভাব বা জঙ্গল কেটে ফেলা, যার ফলে বন্য প্রাণীরা আশ্রয়হীন হচ্ছে। ৩) জলাশয় বুজিয়ে ফেলা, যার কারণে মাছ ও জলজ প্রাণীরা মারা যাচ্ছে।

১২. শকুন ও চড়াই পাখি কেন আগের মতো দেখা যায় না?

উত্তর: পরিবেশের পরিবর্তন এবং দূষণের কারণে শকুন ও চড়াই পাখির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। শকুনের খাদ্যের অভাব এবং চড়াই পাখির বাসযোগ্য জায়গার অভাব ও আধুনিক নগরায়নের ফলে তারা আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। এদের সংরক্ষণ করা আমাদের পরিবেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

১৩. দেশি মাছের বিলুপ্তির কারণ ও দুটি বিলুপ্তপ্রায় মাছের নাম লেখো।

উত্তর: গ্রামবাংলার অনেক জলাশয় ও পুকুর বুজিয়ে ফেলার ফলে দেশি মাছের বসবাসের জায়গা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে পুকুরের জল দূষিত হয়ে মাছ মারা যাচ্ছে। খলসে ও মৌরলা হলো এমন দুটি দেশি মাছ যা আজ খুব একটা দেখা যায় না।

১৪. গিরগিটি ও গোসাপের আত্মরক্ষার কৌশল সম্পর্কে কী জানো?

উত্তর: গিরগিটি ও গোসাপ হলো আধা চেনা প্রাণী। এরা মানুষের কাছাকাছি এলেও লুকিয়ে থাকতে পছন্দ করে। গিরগিটি তার গায়ের রঙ পরিবর্তন করে পরিবেশের সাথে মিশে গিয়ে শত্রুর হাত থেকে বাঁচে। আর গোসাপ বিপদের আঁচ পেলে দ্রুত গর্তে বা ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে পড়ে আত্মরক্ষা করে।

১৫. বীরুৎ জাতীয় উদ্ভিদ আমাদের কী কী উপকারে লাগে?

উত্তর: বীরুৎ হলো ছোটো ও নরম কাণ্ডযুক্ত উদ্ভিদ। আমাদের আশেপাশে থাকা অনেক বীরুৎ জাতীয় উদ্ভিদ ওষুধি হিসেবে কাজ করে। যেমন—তুলসী পাতা সর্দি-কাশিতে উপকারী। এছাড়া অনেক ছোটো গাছ আমাদের খাদ্য হিসেবে শাক-সবজি সরবরাহ করে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে।

১৬. মানুষ কেন ঘোড়া ও গরুকে পোষ মানিয়েছিল? তাদের গুরুত্ব লেখো।

উত্তর: মানুষ যাতায়াত ও মালপত্র বহনের সুবিধার জন্য ঘোড়াকে পোষ মানিয়েছিল। অন্যদিকে, খাদ্যের প্রয়োজনে বিশেষ করে দুধ পাওয়ার জন্য এবং কৃষিকাজে সাহায্যের জন্য গরুকে পোষ মানানো হয়েছিল। এই প্রাণীগুলো মানুষের জীবনযাত্রাকে অনেক সহজ করে তুলেছিল।

১৭. মাকড়সা ও পিঁপড়েকে কেন আমরা ঘরের আশেপাশে বেশি দেখি?

উত্তর: মাকড়সা ও পিঁপড়ে হলো অমেরুদণ্ডী প্রাণী যারা মানুষের ঘরের কোণে বা আশেপাশে নিরাপদ আশ্রয় ও খাবার পায়। মাকড়সা জাল বুনে পোকা শিকার করে, আর পিঁপড়েরা দলবদ্ধভাবে খাবারের সন্ধানে ঘোরে। এরা আমাদের ঘরের বাস্তুতন্ত্রের একটি অংশ।

১৮. জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আমাদের কী কী করা উচিত বলে তুমি মনে করো?

উত্তর: জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আমাদের উচিত—১) গাছপালা না কাটা এবং বেশি করে গাছ লাগানো। ২) জলাশয় বা পুকুর বুজিয়ে না ফেলা। ৩) পরিবেশ দূষণ কমানো যাতে পশুপাখি সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারে। ৪) বন্য প্রাণীদের বিরক্ত না করা এবং তাদের আবাসস্থল রক্ষা করা।

১৯. সাপ ও ব্যাঙকে কেন মেরুদণ্ডী প্রাণী বলা হয়?

উত্তর: সাপ ও ব্যাঙের শরীরের মাঝবরাবর একটি হাড়ের কাঠামো বা শিরদাঁড়া থাকে যা তাদের শরীরের ভার বহন করে এবং স্নায়ুতন্ত্রকে রক্ষা করে। এই শিরদাঁড়া বা মেরুদণ্ড থাকার কারণেই এদের মেরুদণ্ডী প্রাণী বলা হয়। যদিও সাপের পা নেই, তবুও তার দীর্ঘ মেরুদণ্ড তাকে চলাফেরা করতে সাহায্য করে।

২০. "উদ্ভিদ ও প্রাণী একে অপরের ওপর নির্ভরশীল"—পাঠ্যবইয়ের আলোকে বুঝিয়ে দাও।

উত্তর: উদ্ভিদ সূর্যের আলো ব্যবহার করে খাবার তৈরি করে যা প্রাণীরা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। আবার অনেক প্রাণী (যেমন—মৌমাছি, প্রজাপতি) উদ্ভিদের পরাগমিলনে সাহায্য করে। প্রাণীরা ত্যাগ করা কার্বন ডাই-অক্সাইড উদ্ভিদ গ্রহণ করে এবং উদ্ভিদ আমাদের বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন দেয়। এভাবেই তারা একে অপরের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে।

© ২০২৪ WBBSE AI Engine - আমাদের পরিবেশ (পঞ্চম শ্রেণী)

শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রস্তুতকৃত

WBBSE Mock Test - জীববৈচিত্র্য

মক টেস্ট: জীববৈচিত্র্য (উদ্ভিদ ও প্রাণী)

শ্রেণি: পঞ্চম | বিষয়: আমাদের পরিবেশ

মোট প্রশ্ন: ৬০

"নমস্কার ছাত্র-ছাত্রীরা! আমি তোমাদের পরিবেশ বিজ্ঞানের শিক্ষক। আজ আমরা আমাদের চারপাশের উদ্ভিদ ও প্রাণীদের বৈচিত্র্য নিয়ে একটি পরীক্ষা দেব। প্রশ্নগুলো মন দিয়ে পড়ো এবং সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো।"

WBBSE Online Exam - Class V EVS

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE)

অনলাইন মূল্যায়ন - ২০২৪

শ্রেণি: পঞ্চম বিষয়: আমাদের পরিবেশ অধ্যায়: জীববৈচিত্র্য

বিভাগ 'ক' : সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (MCQ) - ১০ x ১ = ১০

১. মানুষ প্রথম কোন প্রাণীকে পোষ মানিয়েছিল?

২. নিচের কোনটি একটি বন্য প্রাণী?

৩. শিরদাঁড়া নেই এমন একটি প্রাণী হলো—

৪. কোন গাছের পাতা ছুঁলেই বুজে যায়?

৫. সূর্যমুখী ফুল কোন দিকে মুখ করে ফোটে?

৬. নিচের কোনটি মেরুদণ্ডী প্রাণী?

৭. কোন পাখিটি এখন আর আগের মতো দেখা যায় না?

৮. কুকুর খুশি হলে কী করে?

৯. নিচের কোনটি একটি ওষুধি গাছ?

১০. নিজের খাবার নিজে তৈরি করতে পারে কে?

বিভাগ 'খ' : সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (Descriptive) - ১০ x ৩ = ৩০

১১. মানুষ কেন বুনো প্রাণীদের পোষ মানিয়েছিল? (৩-৪টি বাক্যে লেখো)

১২. বন্য প্রাণী ও পোষা প্রাণীর মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।

১৩. মেরুদণ্ডী ও অমেরুদণ্ডী প্রাণী কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

১৪. লজ্জাবতী ও সূর্যমুখী গাছের বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।

১৫. কুকুর ও বিড়ালের আচার-আচরণ সম্পর্কে যা জানো লেখো।

১৬. 'আধা চেনা প্রাণী' বলতে কী বোঝো? কয়েকটি উদাহরণ দাও।

১৭. আমাদের চারপাশ থেকে অনেক প্রাণী হারিয়ে যাচ্ছে কেন? এর তিনটি কারণ লেখো।

১৮. তোমার বাড়ির আশেপাশে দেখা যায় এমন পাঁচটি গাছের নাম ও তাদের উপযোগিতা লেখো।

১৯. ঘরের ভেতরে বা আশেপাশে আমরা সচরাচর কোন কোন পতঙ্গ ও প্রাণী দেখতে পাই?

২০. জীবজগৎ বলতে কী বোঝো? উদ্ভিদ ও প্রাণীর পারস্পরিক সম্পর্ক সংক্ষেপে লেখো।

Revision: জীববৈচিত্র্য (উদ্ভিদ ও প্রাণী)
Revision Tab

অধ্যায়: জীববৈচিত্র্য (উদ্ভিদ ও প্রাণী)

Class: V | Subject: EVS (আমাদের পরিবেশ)

Mistake Analysis (ভুল ও সংশোধন)

সাধারণ ভুল ধারণা (Common Pitfalls)সঠিক ধারণা (Correct Concept)
শিক্ষার্থীরা মনে করে কুকুর বা গোরু সবসময়ই পোষা প্রাণী ছিল।আগে সব প্রাণীই বুনো ছিল। মানুষ নিজের প্রয়োজনে (শিকার, খাদ্য, যাতায়াত) তাদের পোষ মানিয়েছে।
সাপ বা মাছের শরীর নরম বলে অনেকে এদের অমেরুদণ্ডী মনে করে।সাপ, মাছ এবং ব্যাঙের শিরদাঁড়া বা মেরুদণ্ড আছে, তাই এরা মেরুদণ্ডী প্রাণী।
গাছেরা জড় পদার্থের মতো, তারা কোনো উদ্দীপনায় সাড়া দেয় না।গাছেরা সংবেদনশীল। যেমন: লজ্জাবতী পাতা ছুঁলে বুজে যায় এবং সূর্যমুখী সূর্যের দিকে মুখ করে ঘোরে।
চড়াই বা শকুনের মতো চেনা পাখিরা কখনোই হারিয়ে যেতে পারে না।পরিবেশ দূষণ ও বাসস্থানের অভাবে চড়াই, শকুন এবং মৌরলার মতো দেশি মাছ আজ বিলুপ্তপ্রায় বা হারিয়ে যেতে বসেছে।
মাকড়সা বা পিঁপড়েকে অনেকে মেরুদণ্ডী মনে করার ভুল করে।মাকড়সা, পিঁপড়ে, কেঁচো, শামুক—এদের শিরদাঁড়া নেই, তাই এরা অমেরুদণ্ডী

Power Revision Summary (দ্রুত ঝালাই)

🌱 জীবজগতের ভিত্তি

  • উদ্ভিদ নিজের খাবার নিজে তৈরি করতে পারে।
  • উদ্ভিদ ও প্রাণী মিলেই আমাদের জীবজগৎ।

🐕 বুনো থেকে পোষা

  • মানুষের প্রথম পোষা প্রাণী: কুকুর (আত্মরক্ষার জন্য)।
  • পরে গোরু, ঘোড়া, ছাগলকে পোষ মানানো হয় খাদ্য ও যাতায়াতের জন্য।

🦴 মেরুদণ্ডী বনাম অমেরুদণ্ডী

  • মেরুদণ্ডী: মানুষ, মাছ, ব্যাঙ, সাপ, পাখি।
  • অমেরুদণ্ডী: কেঁচো, শামুক, প্রজাপতি, মশা, মাছি।

🌻 উদ্ভিদের আচরণ

  • লজ্জাবতী: স্পর্শে সাড়া দেয় (পাতা বুজে যায়)।
  • সূর্যমুখী: আলোর দিকে মুখ করে ঘোরে।

⚠️ বিপন্ন প্রাণী

  • হারিয়ে যাচ্ছে: শকুন, চড়াই, খলসে ও মৌরলা মাছ।
  • কারণ: দূষণ, বাসস্থানের অভাব ও জলাশয় ভরাট।

🦎 আধা চেনা প্রাণী

  • বেজি, শিয়াল, গিরগিটি, গোসাপ—এরা মানুষের কাছে থাকলেও লুকিয়ে থাকতে ভালোবাসে।
© WBBSE AI Engine - Revision Module | Class V EVS
Active Recall Toolkit - জীববৈচিত্র্য
WBBSE AI Engine • Class V

Active Recall Toolkit: জীববৈচিত্র্য (উদ্ভিদ ও প্রাণী)

আমাদের পরিবেশ | অধ্যায়: জীববৈচিত্র্য

১. Blind Questions (স্মৃতি পরীক্ষা)

১. মানুষ প্রথম কোন প্রাণীকে পোষ মানিয়েছিল?

২. উদ্ভিদ কীভাবে নিজেদের খাবার তৈরি করে?

৩. বন্য প্রাণী ও পোষা প্রাণীর মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?

৪. মেরুদণ্ডী প্রাণী কাকে বলা হয়?

৫. দুটি অমেরুদণ্ডী প্রাণীর উদাহরণ দাও।

৬. লজ্জাবতী গাছের পাতায় হাত দিলে কী ঘটে?

৭. সূর্যমুখী ফুল কোন দিকে মুখ করে ফোটে?

৮. কুকুর অপরিচিত লোক দেখলে কী করে?

৯. বিড়াল কখন চোখ বুজে থাকে?

১০. দুটি ওষুধি গাছের নাম লেখো।

১১. বীরুৎ জাতীয় উদ্ভিদ আমাদের কী কাজে লাগে?

১২. সাপ মেরুদণ্ডী না অমেরুদণ্ডী প্রাণী?

১৩. বর্তমানে হারিয়ে যেতে বসেছে এমন একটি পাখির নাম বলো।

১৪. দেশি মাছ কমে যাওয়ার একটি কারণ কী?

১৫. বেজি বা শিয়ালকে কেন 'আধা চেনা' প্রাণী বলা হয়েছে?

২. The Feynman Method (সহজ পাঠ)

৫ বছরের শিশুকে বোঝানোর স্ক্রিপ্ট:

"শোনো, আমাদের চারপাশে কত বন্ধু আছে জানো? কেউ সবুজ পাতাওয়ালা গাছ, কেউ আবার ডাকতে পারা পশুপাখি। গাছেরা খুব লক্ষ্মী, ওরা সূর্যের আলো দিয়ে নিজেদের খাবার নিজেরাই বানিয়ে নেয়। আর প্রাণীদের মধ্যে কেউ আমাদের বাড়িতে থাকে (যেমন কুকুর বা গোরু), তাদের আমরা 'পোষা' বলি। আর যারা বনে থাকে, তারা 'বন্য'। আমাদের পিঠের মাঝখানে যেমন একটা শক্ত হাড় আছে (শিরদাঁড়া), তেমন যাদের আছে তারা মেরুদণ্ডী। আর যাদের নেই, তারা অমেরুদণ্ডী। কিন্তু জানো তো, আমরা যদি পরিবেশ নোংরা করি বা গাছ কেটে ফেলি, তবে এই বন্ধুদের অনেকে হারিয়ে যাবে। তাই আমাদের সবার খেয়াল রাখতে হবে!"

৩. Spaced Repetition (রিভিশন রুটিন)

১ দিন পর (Day 1)

পোষা ও বন্য প্রাণীর পার্থক্য এবং মেরুদণ্ডী ও অমেরুদণ্ডী প্রাণীর তালিকা তৈরি করো।

প্রাথমিক

৩ দিন পর (Day 3)

গাছ ও প্রাণীদের আচার-আচরণ (যেমন লজ্জাবতী গাছ বা কুকুরের আচরণ) মনে করার চেষ্টা করো।

গভীর

৭ দিন পর (Day 7)

হারিয়ে যাওয়া প্রাণী ও মাছের নাম এবং কেন তারা হারিয়ে যাচ্ছে সেই কারণগুলো আলোচনা করো।

স্থায়ী

WBBSE AI Engine • Active Recall System • Class V EVS

    About the Author

    You may also like these

    BISWAZ GROWTH ACADEMY - Free WBBSE Class 1 to 10 Books

    Biswaz Growth Academy: Free WBBSE Books & Study Materials

    Welcome to biswaz.com, your premier destination for high-quality educational resources. Explore our comprehensive library of West Bengal Board (WBBSE) textbooks from Class 1 to Class 10. Whether you are looking for Amar Boi, Sahaj Path, Ganit Prabha, Butterfly, Bliss, or Amader Paribesh, we provide easily accessible PDF downloads to support student growth, learning, and exam preparation.

    WBBSE Books PDF Download Class 1 to 10 Syllabus West Bengal Board Solutions Free School Textbooks Biswaz Educational Portal

    Biswaz Growth

    Academy Portal

    Select a Class

    0 items