বিষয়: আমাদের পরিবেশ (পঞ্চম শ্রেণি)
অধ্যায় ৩: ভৌত পরিবেশ – জল ও জলাশয় (নোটস)
১. জলাশয় ও জল দূষণ (Water Bodies and Pollution)
১. তোমার আশেপাশে দেখা যায় এমন কয়েকটি জলাশয়ের নাম লেখো।
পুকুর, ডোবা, বিল, নদী, নয়ানজুলি, বাঁওড়, ঝিল, ভেড়ি ও সমুদ্র। (পাহাড়ি অঞ্চলে ঝরনা বা ঝোরা দেখা যায়)।
২. শান-বাঁধানো পুকুর ও সাধারণ পুকুরের মধ্যে একটি প্রধান পার্থক্য কী?
- **শান-বাঁধানো পুকুর:** পাড় পাকা করা থাকে, সাধারণত পানীয় জল বা নির্দিষ্ট কাজে ব্যবহৃত হয়। কচ্ছপ, ব্যাঙের মতো জীবের বসবাসের অসুবিধা হতে পারে।
- **সাধারণ পুকুর:** পাড় মাটির হয়, সাধারণত স্নান বা অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত হয় এবং অনেক জীবের প্রাকৃতিক বাসস্থান।
৩. বাঁওড় (Oxbow Lake) কাকে বলে?
নদী তার আঁকাবাঁকা পথে চলার সময় (বিশেষত সমতল অঞ্চলে) কোনো এক সময় তার বাঁকের খানিকটা জায়গা নদী থেকে **আলাদা হয়ে বন্ধ জলাশয়** তৈরি করে। একে বাঁওড় বা অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ বলে।
৪. জলাশয় কীভাবে নোংরা বা দূষিত হয়?
- পুকুরে **গবাদি পশু স্নান** করানো বা মল-মূত্র ত্যাগ করানো।
- বাড়ির **আবর্জনা** (পলিথিন, প্লাস্টিক) ও বাসন মাজা সাবান জলে ফেলা।
- কৃষিক্ষেত্রের **রাসায়নিক সার ও কীটনাশক** বৃষ্টির জলে ধুয়ে জলাশয়ে মেশা।
- কলকারখানার **রাসায়নিক বর্জ্য** সরাসরি জলে মেশা।
৫. জলাশয়ের জল প্রাকৃতিক উপায়ে কীভাবে শোধন হয়?
- **বাতাসের অক্সিজেন:** বাতাসের অক্সিজেন জলে গুলে গিয়ে জলের নোংরা পদার্থের সঙ্গে **রাসায়নিক বিক্রিয়া** করে সেগুলিকে ভেঙে দেয়।
- **জীবজন্তু ও গাছপালা:** ছোটো-বড়ো জলজ জীব (যেমন মাছ) কিছু নোংরা খায় এবং জলজ উদ্ভিদ নোংরা শোষণ করে।
৬. দূষিত জল পান করলে কী কী রোগ হতে পারে?
**কলেরা**, **টাইফয়েড**, **আমাশয়**, হেপাটাইটিস (জণ্ডিস) এবং কৃমিঘটিত রোগ।
৭. কলেরা রোগের প্রধান লক্ষণ কী?
কলেরা রোগের প্রধান লক্ষণ হলো **চাল ধোয়া জলের মতো** পাতলা পায়খানা, বমি এবং শরীরে **নুন ও জলের তীব্র ঘাটতি**।
২. ভূগর্ভস্থ জল (Groundwater)
৮. মাটির নীচের জল কোথা থেকে আসে?
মাটির নীচের জল প্রধানত দুটি উৎস থেকে আসে:
- **বৃষ্টির জল:** বৃষ্টির জল মাটির বিভিন্ন স্তর (বালি, কাদা) চুঁইয়ে ধীরে ধীরে নীচের স্তরে জমা হয়।
- **নোনা জল:** সমুদ্রের কাছাকাছি অঞ্চলে লক্ষ লক্ষ বছর ধরে সাগরের জল চুঁইয়ে মাটির নীচের স্তরে জমা হয়, যা মাটির নীচের জলকে নোনতা করে তোলে।
৯. মাটির নীচের জলের স্তর নেমে যাওয়ার কারণ কী?
- **অতিরিক্ত উত্তোলন:** মিনি ডিপ টিউবওয়েল বা বড়ো পাম্প দিয়ে **সেচের** কাজে বা **লোকালয়ে** সব কাজে মাটির নীচের জল অতিরিক্ত ব্যবহার করা।
- **জল নষ্ট:** ভাঙা কল বা খোলা পাইপ দিয়ে জল অনবরত পড়ে নষ্ট হওয়া।
১০. মাটির নীচের জলের স্তর নেমে গেলে কী কী সমস্যা হতে পারে?
- পানীয় জল পেতে অসুবিধা হয় (টিউবওয়েলে সহজে জল ওঠে না)।
- মাটির নীচের পানীয় জল **দূষিত** হতে পারে (কারণ জলের স্তর নেমে গেলে ভূগর্ভস্থ দূষিত নোনা জলের অনুপ্রবেশ ঘটে)।
১১. রান্নার কাজে পুকুরের জল ব্যবহার না করার কারণ কী?
পুকুরের জল নোংরা ও দূষিত হতে পারে, যেখানে রোগের জীবাণু থাকে। যদিও রান্নায় জল ফোটানো হয়, তবুও জীবাণুর সম্পূর্ণ নাশ না হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এছাড়া কাঁচা সবজি বা ফল ধোয়ার কাজে পুকুরের জল ব্যবহার করা উচিত নয়।
১২. ORS (Oral Rehydration Solution) কেন খাওয়ানো হয়? এটি কীভাবে তৈরি করা যায়?
পেটখারাপ বা বমির কারণে যখন শরীর থেকে **অতিরিক্ত জল ও নুন** বেরিয়ে যায়, তখন শরীরে **জল ও লবণের ভারসাম্য** ফিরিয়ে আনতে ORS খাওয়ানো হয়।
তৈরির পদ্ধতি: এক গ্লাস (প্রায় ১ লিটার) ফোটানো ও ঠান্ডা জলে এক চামচ **চিনি** আর এক চিমটে **নুন** মিশিয়ে বাড়িতেই ORS তৈরি করা যায়।
৩. জল সংরক্ষণ (Water Conservation)
১৩. জল নষ্ট কমানোর দুটি সহজ উপায় লেখো।
- ব্যবহার শেষে জলের কল **বন্ধ** করে দেওয়া।
- গভীর নলকূপের জল সেচের কাজে কম ব্যবহার করে **নদীর জল** ব্যবহার করা।
- মুখ ধোয়ার সময় বা ব্রাশ করার সময় কল খুলে না রেখে গ্লাসে জল নেওয়া।
১৪. বৃষ্টির জল সংরক্ষণ কেন প্রয়োজন?
বৃষ্টির জল সংগ্রহ করলে মাটির নীচের জলের ওপরের চাপ কমে এবং ঘরের নানা কাজে (যেমন – ঘর মোছা, কাপড় কাঁচা, গাছের গোড়ায় জল দেওয়া) এই জল ব্যবহার করা যায়।
১৫. বৃষ্টির জল কীভাবে সংগ্রহ করা যায়?
টিনের বা টালির **চাল থেকে** অথবা বাড়ির **ছাদের পাইপ** দিয়ে জল সংগ্রহ করে বড়ো পাত্রে বা ট্যাঙ্কে জমা করা যায়। তবে প্রথম দিকের জল ফেলে দিয়ে পরে জল নেওয়া উচিত।