Topic: Our Environment (Class 5) Chapter 1: Human Body (Notes)

Day 1: অধ্যায়: মানবদেহ NOTES
অধ্যায়: মানবদেহ - আমাদের পরিবেশ
শ্রেণি: পঞ্চম | বিষয়: আমাদের পরিবেশ

অধ্যায়: মানবদেহ

শরীরের বর্ম, হাড়ের গঠন এবং স্বাস্থ্যের কথা

WBBSE Digital Interactive Intro

শরীরের বর্ম ও চুল

আমাদের শরীরের বর্ম হলো চামড়া। এটি বাইরের আঘাত ও সূর্যের আলো থেকে বাঁচায়। চামড়ার রং কালো বা ফরসা হওয়ার কারণ হলো 'মেলানিন'

  • রোদ লাগলে ত্বকে ভিটামিন 'ডি' তৈরি হয়।
  • সজারুর কাঁটা আসলে শক্ত চুল।

হাড় ও পেশি

শরীরের কাঠামো তৈরি হয় হাড় দিয়ে। হাড়ের জোড়াকে বলে অস্থিসন্ধি, যা লিগামেন্ট দিয়ে আটকানো থাকে।

গুরুত্বপূর্ণ হাড়:

• হিউমেরাস (কাঁধ-কনুই)
• ফিমার (সবচেয়ে বড়)
• আলনা ও রেডিয়াস

হৃৎপিণ্ড ও স্বাস্থ্য

হৃৎপিণ্ড সারা শরীরে রক্ত পাম্প করে। ফরাসি ডাক্তার রেনে লিনেক প্রথম স্টেথোস্কোপ আবিষ্কার করেন।

যক্ষ্মা (TB) BCG টিকা
জলবাহিত রোগ ORS / হ্যালোজেন

💡 তুমি কি জানো?

💅

রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া হলে নখের মাঝখানটা চামচের মতো গর্ত হয়ে যায় এবং নখ ফ্যাকাশে দেখায়।

🦶

পায়ের তলার চামড়া সবচেয়ে পুরু হয়, কারণ সেখানে হাঁটার সময় শরীরের পুরো ভর বা চাপ পড়ে।

উৎস: আমাদের পরিবেশ (পঞ্চম শ্রেণি) | পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ

WBBSE Notes: মানবদেহ
WBBSE Class V | EVS

অধ্যায়: মানবদেহ

আমাদের পরিবেশ - পাঠ্যবই ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর

সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (Short Answer Questions)

১. শরীরের বর্ম কাকে বলা হয়?

উত্তর: আমাদের শরীরের চামড়া বা ত্বককে বর্ম বলা হয়।

২. ত্বকের নিচে কী কী থাকে?

উত্তর: ত্বকের নিচে মাংসপেশি, শিরা আর ধমনি থাকে।

৩. শরীরের কোন অংশের চামড়া সবচেয়ে বেশি পুরু?

উত্তর: পায়ের তলার চামড়া শরীরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পুরু হয়।

৪. ত্বকের ওপরের স্তরে আঘাত লাগলে সঙ্গে সঙ্গে রক্ত বের হয় না কেন?

উত্তর: ত্বকের ওপরের স্তরে কোনো রক্তনালী থাকে না, তাই একটু ছড়ে গেলে বা কাটলে সঙ্গে সঙ্গে রক্ত বের হয় না।

৫. মেলানিন কী?

উত্তর: মেলানিন হলো এক প্রকার রঞ্জক পদার্থ যা চামড়া ও চুলের রং নির্ধারণ করে।

৬. রোদ লাগলে ত্বকে কোন ভিটামিন তৈরি হয়?

উত্তর: গায়ে রোদ লাগলে ত্বকের নিচে ভিটামিন 'ডি' তৈরি হয়।

৭. বয়স বাড়লে চুল সাদা হয়ে যায় কেন?

উত্তর: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে মেলানিন তৈরি হওয়া কমে যায়, তাই চুল সাদা হয়ে যায়।

৮. সজারুর কাঁটা আসলে কী?

উত্তর: সজারুর কাঁটা আসলে তার শরীরের শক্ত হয়ে যাওয়া চুল।

৯. গন্ডারের খড়্গ আসলে কী দিয়ে তৈরি?

উত্তর: গন্ডারের খড়্গ আসলে জমাট বাঁধা শক্ত চুল।

১০. নখ কাটলে আমাদের ব্যথা লাগে না কেন?

উত্তর: নখের বাইরের অংশে কোনো প্রাণ বা স্নায়ু নেই, তাই নখ কাটলে ব্যথা লাগে না।

১১. অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা হলে নখের কী পরিবর্তন হয়?

উত্তর: রক্তাল্পতা হলে নখের মাঝখানটা চামচের মতো গর্ত হয়ে যায় এবং নখ ফ্যাকাশে দেখায়।

১২. বিড়াল বা বাঘের নখ থাবার নিচে লুকোনো থাকে কেন?

উত্তর: হাঁটার সময় যাতে নখ ঘষে না যায়, তাই তাদের নখ থাবার নিচে লুকোনো থাকে।

১৩. কনুই থেকে কবজি পর্যন্ত হাড় দুটির নাম কী?

উত্তর: কনুই থেকে কবজি পর্যন্ত হাড় দুটির নাম হলো আলনা ও রেডিয়াস।

১৪. মানবদেহের সবচেয়ে বড় হাড় কোনটি?

উত্তর: কোমর থেকে হাঁটু পর্যন্ত বিস্তৃত হাড় 'ফিমার' হলো মানবদেহের সবচেয়ে বড় হাড়।

১৫. লিগামেন্ট কাকে বলে?

উত্তর: হাড়গুলো একে অপরের সঙ্গে দড়ির মতো যে জিনিস দিয়ে আটকানো থাকে, তাকে লিগামেন্ট বলে।

১৬. স্টেথোস্কোপ কে আবিষ্কার করেন?

উত্তর: ফরাসি ডাক্তার রেনে লিনেক প্রথম স্টেথোস্কোপ আবিষ্কার করেন।

১৭. যক্ষ্মা বা টিবি কী ধরনের রোগ?

উত্তর: যক্ষ্মা বা টিবি হলো একটি মারাত্মক বায়ুবাহিত রোগ।

১৮. যক্ষ্মা প্রতিরোধের টিকার নাম কী?

উত্তর: যক্ষ্মা প্রতিরোধের টিকার নাম হলো বিসিজি (BCG)।

১৯. কয়েকটি জলবাহিত রোগের নাম লেখো।

উত্তর: আন্ত্রিক, কলেরা এবং টাইফয়েড হলো জলবাহিত রোগ।

২০. ওআরএস (ORS) কখন ব্যবহার করা হয়?

উত্তর: পাতলা পায়খানা বা ডিহাইড্রেশনের ফলে শরীরে জলের ঘাটতি দেখা দিলে ওআরএস ব্যবহার করা হয়।

দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্ন (Long Answer Questions)

১. ত্বককে কেন শরীরের বর্ম বলা হয়? এর কাজ কী?

উত্তর: আগেকার দিনে যুদ্ধে আঘাত থেকে বাঁচতে বর্ম ব্যবহার করা হতো। ত্বকও ঠিক তেমনি আমাদের শরীরের ভেতরের অংশগুলোকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে। এটি সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে বাঁচায় এবং ভেতরের মাংসপেশি, শিরা ও ধমনিকে ঢেকে রাখে। তাই ত্বককে শরীরের বর্ম বলা হয়।

২. শরীরের বিভিন্ন অংশে ত্বকের পুরুত্বের পার্থক্যের কারণ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: শরীরের সব জায়গার চামড়া সমান নয়। হাতের চেটোর দিকের চামড়া পুরু হলেও উলটোদিকের চামড়া পাতলা। সবচেয়ে পুরু চামড়া থাকে পায়ের তলায়, কারণ হাঁটার সময় শরীরের পুরো ভর বা চাপ পায়ের তলার ওপর পড়ে। ঘর্ষণ ও চাপ সহ্য করার জন্যই প্রকৃতির নিয়মে এই পার্থক্য দেখা যায়।

৩. ত্বকের স্তরবিন্যাস সম্পর্কে যা জানো লেখো।

উত্তর: চামড়ার প্রধানত দুটি স্তর থাকে—ওপরের স্তর এবং ভিতরের স্তর। ওপরের স্তরটি মৃত কোষ দ্বারা গঠিত এবং এতে কোনো রক্তনালী থাকে না। তাই ওপরের স্তর সামান্য ছড়ে গেলে রক্ত বের হয় না। ভিতরের স্তরে রক্তনালী ও স্নায়ু থাকে। এই স্তরটি অনেক বেশি সংবেদনশীল।

৪. মানুষের গায়ের রং কালো বা ফরসা হয় কেন? এর সুবিধা কী?

উত্তর: ত্বকের রং কালো বা ফরসা হওয়ার মূল কারণ হলো 'মেলানিন' নামক রঞ্জক পদার্থ। যার শরীরে মেলানিন বেশি তার গায়ের রং কালো হয়। মেলানিন সূর্যরশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে রক্ষা করে এবং ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে। ফরসা মানুষের ত্বকে মেলানিন কম থাকে।

৫. সজারুর কাঁটা ও গন্ডারের খড়্গ আসলে কী? এগুলি তাদের কী কাজে লাগে?

উত্তর: সজারুর কাঁটা এবং গন্ডারের খড়্গ উভয়ই আসলে বিবর্তিত ও শক্ত হয়ে যাওয়া চুল। সজারুর চুলগুলো শক্ত ও ছুঁচলো হয়ে কাঁটার রূপ নিয়েছে, যা সে আত্মরক্ষার কাজে ব্যবহার করে। গন্ডারের খড়্গও জমাট বাঁধা চুল, যা তার আত্মরক্ষা ও লড়াইয়ের প্রধান হাতিয়ার।

৬. নখ দেখে কীভাবে শরীরের অবস্থা বোঝা যায়?

উত্তর: নখের রং ও আকৃতি দেখে শরীরের স্বাস্থ্য বোঝা যায়। সুস্থ মানুষের নখ সাধারণত গোলাপি আভার হয়। কিন্তু শরীরে রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া হলে নখ ফ্যাকাশে হয়ে যায়। অনেক সময় নখের মাঝখানটা চামচের মতো গর্ত হয়ে যায়, যা আয়রনের অভাব বা রক্তাল্পতার লক্ষণ।

৭. বন্য প্রাণীদের নখের বৈশিষ্ট্য ও প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করো।

উত্তর: বিড়াল, কুকুর বা বাঘের মতো প্রাণীদের নখ খুব তীক্ষ্ণ হয়। শিকার ধরার জন্য বা গাছে ওঠার জন্য তারা এই নখ ব্যবহার করে। হাঁটার সময় যাতে নখ ঘষে ভোঁতা না হয়ে যায়, তাই তারা নখ থাবার নিচে লুকিয়ে রাখে। পাখিদের নখও খুব শক্ত ও বাঁকানো হয়, যা দিয়ে তারা গাছের ডাল শক্ত করে আঁকড়ে ধরে।

৮. মানুষের হাতের হাড়গুলোর গঠন বর্ণনা করো।

উত্তর: মানুষের হাতের গঠন বেশ জটিল। কাঁধ থেকে কনুই পর্যন্ত যে হাড়টি থাকে তার নাম হিউমেরাস। আবার কনুই থেকে কবজি পর্যন্ত দুটি হাড় সমান্তরালভাবে থাকে, যাদের নাম হলো আলনা ও রেডিয়াস। এই হাড়গুলোর সমন্বয়েই আমরা হাত নাড়াচাড়া করতে ও কাজ করতে পারি।

৯. অস্থিসন্ধি বা জয়েন্ট বলতে কী বোঝো? এর গুরুত্ব কী?

উত্তর: যেখানে দুটি হাড় একে অপরের সঙ্গে মিলিত হয়, তাকে অস্থিসন্ধি বা জয়েন্ট বলে। হাড়গুলো লিগামেন্ট নামক দড়ির মতো তন্তু দিয়ে আটকানো থাকে। অস্থিসন্ধি থাকার ফলেই আমরা আমাদের হাত, পা, আঙুল বা ঘাড় বাঁকাতে ও ঘোরাতে পারি। অস্থিসন্ধি না থাকলে আমাদের শরীর কাঠের মতো শক্ত হয়ে যেত।

১০. পেশি কীভাবে আমাদের কাজ করতে সাহায্য করে?

উত্তর: হাড়ের গায়ে পেশি লাগানো থাকে। পেশিগুলো স্থিতিস্থাপক, অর্থাৎ এরা সংকুচিত ও প্রসারিত হতে পারে। যখন আমরা হাত বা পা নাড়াই, তখন নির্দিষ্ট পেশি সংকুচিত হয়ে হাড়কে টানে। হাঁটা, দৌড়ানো, ভারী জিনিস তোলা বা লেখার মতো সব কাজে পেশি ও হাড়ের যৌথ ভূমিকা থাকে।

১১. হৃৎপিণ্ডের কাজ ও হৃৎস্পন্দন সম্পর্কে কী জানো?

উত্তর: হৃৎপিণ্ড আমাদের শরীরের একটি পাম্পের মতো অঙ্গ। এটি নিরন্তর সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে সারা শরীরে রক্ত পাঠিয়ে দেয়। এই পাম্প করার সময় যে শব্দ তৈরি হয় তাকেই হৃৎস্পন্দন বা 'ধুকপুক' শব্দ বলা হয়। স্টেথোস্কোপের সাহায্যে ডাক্তাররা এই শব্দ শুনে হৃৎপিণ্ডের অবস্থা বুঝতে পারেন।

১২. স্টেথোস্কোপ আবিষ্কারের ইতিহাসটি সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর: ফরাসি ডাক্তার রেনে লিনেক প্রথম স্টেথোস্কোপ আবিষ্কার করেন। একদিন তিনি একটি নিরেট কাগজের নল তৈরি করে রোগীর বুকের ওপর রেখে শব্দ শোনার চেষ্টা করেন এবং সফল হন। পরে এই ধারণাকে উন্নত করে তিনি কাঠের নল দিয়ে প্রথম স্থায়ী স্টেথোস্কোপ তৈরি করেন। এভাবেই আধুনিক স্টেথোস্কোপের পথ চলা শুরু হয়।

১৩. যক্ষ্মা রোগ কীভাবে ছড়ায় এবং এর লক্ষণ কী?

উত্তর: যক্ষ্মা একটি বায়ুবাহিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা থুতুর মাধ্যমে এই রোগের জীবাণু বাতাসে মেশে। সুস্থ মানুষ সেই বাতাস প্রশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে তার শরীরেও জীবাণু প্রবেশ করে। দীর্ঘদিনের কাশি, কাশির সঙ্গে রক্ত পড়া, বিকেলের দিকে জ্বর আসা এবং ওজন কমে যাওয়া এই রোগের প্রধান লক্ষণ।

১৪. যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা আলোচনা করো।

উত্তর: একসময় যক্ষ্মা হলে মানুষ মারা যেত, কিন্তু বর্তমানে ডটস (DOTS) পদ্ধতিতে নিয়মিত ওষুধ খেলে এই রোগ সম্পূর্ণ সেরে যায়। প্রতিরোধের জন্য শিশুদের জন্মের পরেই বিসিজি (BCG) টিকা দেওয়া হয়। এছাড়া রোগীর কফ বা থুতু যেখানে সেখানে না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা উচিত যাতে সংক্রমণ না ছড়ায়।

১৫. জলবাহিত রোগ প্রতিরোধের উপায়গুলো কী কী?

উত্তর: জলবাহিত রোগ যেমন কলেরা বা টাইফয়েড প্রতিরোধের প্রধান উপায় হলো বিশুদ্ধ জল পান করা। জল ফুটিয়ে ঠান্ডা করে পান করা সবচেয়ে নিরাপদ। এছাড়া হ্যালোজেন ট্যাবলেট ব্যবহার করে জল শোধন করা যায়। খাবার আগে হাত ভালো করে ধোয়া এবং বাইরের খোলা খাবার বা জল না খাওয়াও জরুরি।

১৬. ওআরএস (ORS) তৈরির পদ্ধতি ও এর প্রয়োজনীয়তা কী?

উত্তর: ওআরএস হলো ওরাল রিহাইড্রেশন সল্ট। এটি বাড়িতেও তৈরি করা যায়—এক গ্লাস ফোটানো ঠান্ডা জলে এক চামচ চিনি ও এক চিমটি নুন মিশিয়ে। আন্ত্রিক বা বারবার পাতলা পায়খানা হলে শরীর থেকে প্রচুর জল ও খনিজ বেরিয়ে যায়, যাকে ডিহাইড্রেশন বলে। ওআরএস এই জলের ঘাটতি পূরণ করে রোগীকে সুস্থ করে তোলে।

১৭. চুলের কাজ ও বিভিন্ন প্রাণীর চুলের বৈচিত্র্য আলোচনা করো।

উত্তর: চুল আমাদের মাথাকে বাইরের রোদ এবং আঘাত থেকে রক্ষা করে। মানুষের ক্ষেত্রে চুলের রং ও ধরন আলাদা হয় মেলানিনের কারণে। প্রাণীদের ক্ষেত্রে চুলের বৈচিত্র্য আরও বেশি। যেমন সজারুর চুল কাঁটার মতো শক্ত, আবার গন্ডারের চুল জমাট বেঁধে খড়্গ তৈরি করে। ভেড়ার লোম বা চুল থেকে আমরা পশম পাই যা আমাদের শীত থেকে বাঁচায়।

১৮. হাড়ের সুস্থতার জন্য আমাদের কী কী করা উচিত?

উত্তর: হাড় মজবুত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার এবং ভিটামিন 'ডি' প্রয়োজন। নিয়মিত গায়ে রোদ লাগালে ত্বকের নিচে ভিটামিন 'ডি' তৈরি হয় যা হাড়ের গঠনে সাহায্য করে। এছাড়া নিয়মিত ব্যায়াম ও খেলাধুলা করলে হাড় ও অস্থিসন্ধি সচল থাকে। হাড়ের কোনো চোট বা ব্যথা হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

১৯. স্টেথোস্কোপের সাহায্যে ডাক্তাররা কী কী পরীক্ষা করেন?

উত্তর: স্টেথোস্কোপের সাহায্যে ডাক্তাররা প্রধানত রোগীর হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন শোনেন। হৃৎস্পন্দনের গতি ও ছন্দ দেখে বোঝা যায় হৃৎপিণ্ড ঠিকমতো রক্ত পাম্প করছে কি না। এছাড়া ফুসফুসের বায়ু চলাচলের শব্দ শুনে শ্বাসকষ্ট বা নিউমোনিয়ার মতো রোগ শনাক্ত করা যায়। এটি প্রাথমিক রোগ নির্ণয়ের একটি অপরিহার্য যন্ত্র।

২০. মানবদেহের কাঠামো রক্ষায় কঙ্কালতন্ত্রের ভূমিকা লেখো।

উত্তর: কঙ্কালতন্ত্র বা হাড়ের কাঠামো আমাদের শরীরকে একটি নির্দিষ্ট আকৃতি দেয়। এটি শরীরের নরম অঙ্গগুলোকে (যেমন—হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, মস্তিষ্ক) রক্ষা করে। হাড়ের সাথে পেশি যুক্ত থেকে আমাদের চলাফেরা করতে সাহায্য করে। হাড় ছাড়া আমাদের শরীর মাংসের দলার মতো হতো, আমরা সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারতাম না।

© ২০২৪ WBBSE AI Engine - শিক্ষা ও প্রগতির পথে।

WBBSE Mock Test - মানবদেহ

WBBSE AI Engine: Mock Test

বিষয়: আমাদের পরিবেশ (পঞ্চম শ্রেণি)

অধ্যায়: মানবদেহ

প্রশ্ন সংখ্যা: ৬০ পূর্ণমান: ৬০

বিভাগ ১: শরীরের বর্ম ও ত্বক

১. আমাদের শরীরের বর্ম কোনটি?

২. আগেকার দিনে যুদ্ধের বর্ম কী দিয়ে তৈরি হতো?

৩. ত্বকের ঠিক নীচে কী থাকে না?

৪. শরীরের কোন অংশের চামড়া সবচেয়ে বেশি পুরু?

৫. চামড়ার ওপরের স্তরে কী থাকে না?

৬. চামড়ার রং কালো বা ফরসা হওয়ার জন্য দায়ী রঞ্জক পদার্থটি কী?

৭. রোদে থাকলে ত্বকের নীচে কোন ভিটামিন তৈরি হয়?

৮. বয়স বাড়লে চুল সাদা হয়ে যায় কেন?

৯. সজারুর কাঁটা আসলে কী?

১০. গন্ডারের খড়্গ আসলে কী?

১১. নখ কাটলে ব্যথা লাগে না কেন?

১২. রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া হলে নখের আকার কেমন হয়?

১৩. কোন প্রাণীর থাবার নীচে নখ লুকোনো থাকে?

১৪. কনুই থেকে কবজি পর্যন্ত হাড় দুটির নাম কী?

১৫. মানবদেহের সবচেয়ে বড়ো হাড় কোনটি?

১৬. হাড়গুলো একে অপরের সঙ্গে কী দিয়ে আটকানো থাকে?

১৭. পেশি হাড়ের সঙ্গে যুক্ত থেকে কীসে সাহায্য করে?

১৮. হৃৎপিণ্ডের শব্দ শোনার যন্ত্রটির নাম কী?

১৯. প্রথম স্টেথোস্কোপ কে আবিষ্কার করেন?

২০. যক্ষ্মা বা টিবি কোন ধরনের রোগ?

২১. যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসার নাম কী?

২২. শিশুদের যক্ষ্মা প্রতিরোধের জন্য কোন টিকা দেওয়া হয়?

২৩. নিচের কোনটি জলবাহিত রোগ?

২৪. বারবার পাতলা পায়খানা হলে কী খাওয়ানো উচিত?

২৫. জল শোধন করতে কোন ট্যাবলেট ব্যবহার করা হয়?

WBBSE Online Exam - Class V EVS (মানবদেহ)

অনলাইন মূল্যায়ন পরীক্ষা ২০২৪

শ্রেণি: পঞ্চম | বিষয়: আমাদের পরিবেশ

অধ্যায়: মানবদেহ

মোট প্রশ্ন: ২০ পূর্ণমান: ৫০

সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (MCQ)

১. আমাদের শরীরের বর্ম কোনটি?

২. শরীরের কোন অংশের চামড়া সবচেয়ে পুরু?

৩. ত্বকের রঙের জন্য দায়ী রঞ্জক পদার্থটি হলো—

৪. সূর্যের আলোয় ত্বকের নীচে কোন ভিটামিন তৈরি হয়?

৫. গন্ডারের খড়্গ আসলে কী?

৬. নখের মাঝখানটা চামচের মতো হয়ে যাওয়া কিসের লক্ষণ?

৭. মানবদেহের সবচেয়ে বড়ো হাড়টির নাম কী?

৮. হাড়গুলো একে অপরের সাথে কী দিয়ে আটকানো থাকে?

৯. স্টেথোস্কোপ কে আবিষ্কার করেন?

১০. যক্ষ্মা রোগের প্রতিরোধের জন্য কোন টিকা দেওয়া হয়?

সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (Descriptive)

১১. চামড়াকে শরীরের বর্ম বলা হয় কেন?

১২. বয়স বাড়লে মানুষের চুল সাদা হয়ে যায় কেন?

১৩. সজারু কীভাবে নিজের আত্মরক্ষা করে?

১৪. নখ কাটলে আমাদের ব্যথা লাগে না কেন?

১৫. বিড়াল বা বাঘের নখ থাবার নীচে লুকোনো থাকে কেন?

১৬. কুনুই থেকে কবজি এবং কাঁধ থেকে কুনুই পর্যন্ত হাড়গুলির নাম লেখো।

১৭. আমাদের শরীরে পেশির কাজ কী?

১৮. হৃৎপিণ্ডের কাজ কী? আমরা কীভাবে হৃৎপিণ্ডের শব্দ শুনতে পাই?

১৯. যক্ষ্মা রোগ কীভাবে ছড়ায়? বর্তমানে এই রোগের চিকিৎসা কী?

২০. জলবাহিত রোগের হাত থেকে বাঁচতে আমাদের কী কী করা উচিত?

অধ্যায়: মানবদেহ (Revision)

পঞ্চম শ্রেণি | আমাদের পরিবেশ

⚠️ সাধারণ ভুল ও সঠিক ধারণা (Mistake Analysis)

সাধারণ ভুল (Common Mistake)সঠিক ধারণা (Correction)
অনেকে মনে করে চামড়ার সব স্তরেই রক্তনালী থাকে।চামড়ার ওপরের স্তরে কোনো রক্তনালী থাকে না, তাই সামান্য ছড়ে গেলে রক্ত বেরোয় না।
গন্ডারের খড়্গ বা সজারুর কাঁটা হাড় দিয়ে তৈরি।এগুলি আসলে জমাট বাঁধা বা শক্ত হয়ে যাওয়া চুল
নখ কাটলে ব্যথা লাগে কারণ নখ সজীব।নখের বাইরের অংশে কোনো প্রাণ বা স্নায়ু নেই, তাই কাটলে ব্যথা লাগে না। তবে গোড়ায় রক্তনালী ও স্নায়ু থাকে।
হিউমেরাস ও ফিমার হাড়ের অবস্থান গুলিয়ে ফেলা।হিউমেরাস থাকে কাঁধ থেকে কনুই পর্যন্ত; ফিমার থাকে কোমর থেকে হাঁটু পর্যন্ত (এটি দেহের দীর্ঘতম হাড়)।
যক্ষ্মা (TB) জলবাহিত রোগ মনে করা।যক্ষ্মা একটি বায়ুবাহিত রোগ যা হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়ায়।
পেশি হাড়ের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে না।পেশি হাড়ের গায়ে লাগানো থাকে এবং এদের সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমেই আমরা নড়াচড়া করতে পারি।

পাওয়ার রিভিশন সামারি (High-Yield Points)

ত্বক ও চুল

  • ত্বক হলো শরীরের বর্ম; রোদ ও আঘাত থেকে বাঁচায়।
  • মেলানিন: ত্বক ও চুলের কালো রঙের জন্য দায়ী।
  • সূর্যের আলো ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরিতে সাহায্য করে।
  • পায়ের তলার চামড়া সবচেয়ে পুরু হয়।

অস্থি ও পেশি

  • অস্থিসন্ধি: দুটি হাড়ের জোড়া মুখ।
  • লিগামেন্ট: হাড়গুলোকে দড়ির মতো আটকে রাখে।
  • ফিমার: শরীরের সবচেয়ে বড় হাড়।
  • কনুই থেকে কবজি পর্যন্ত হাড়: আলনা ও রেডিয়াস

স্বাস্থ্য ও রোগ

  • অ্যানিমিয়া: নখ ফ্যাকাশে ও চামচের মতো হয়ে যায়।
  • যক্ষ্মা (TB): বায়ুবাহিত; প্রতিরোধে BCG টিকা ও চিকিৎসায় DOTS লাগে।
  • জলবাহিত রোগ: আন্ত্রিক, কলেরা, টাইফয়েড।
  • শরীরে জলের ঘাটতি মেটাতে ORS বা নুন-চিনির জল প্রয়োজন।

আবিষ্কার ও অন্যান্য

  • স্টেথোস্কোপ: আবিষ্কারক রেনে লিনেক (René Laennec)।
  • হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন সারা শরীরে রক্ত পাম্প করে।
  • বিড়াল বা বাঘের নখ থাবার নীচে লুকোনো থাকে।
WBBSE AI Engine | দ্রুত রিভিশনের জন্য তৈরি।
Active Recall Toolkit - মানবদেহ
WBBSE Class V | EVS

অধ্যায়: মানবদেহ

Active Recall Toolkit for Effective Learning

1. Blind Questions (স্মৃতি পরীক্ষা)

১. আমাদের শরীরের বর্ম কাকে বলা হয়?

২. ত্বকের নিচে কী কী থাকে যা ত্বক রক্ষা করে?

৩. শরীরের কোন অংশের চামড়া সবচেয়ে বেশি পুরু হয়?

৪. ত্বকের ওপরের স্তরে কি রক্তনালী থাকে?

৫. ত্বকের রং কালো বা ফরসা হওয়ার জন্য দায়ী রঞ্জকটির নাম কী?

৬. রোদে দাঁড়ালে ত্বকের নিচে কোন ভিটামিন তৈরি হয়?

৭. বয়স বাড়লে চুল সাদা হয়ে যায় কেন?

৮. সজারুর কাঁটা আসলে কীসের পরিবর্তিত রূপ?

৯. নখের মাঝখানটা চামচের মতো গর্ত হয়ে যাওয়া কোন রোগের লক্ষণ?

১০. কনুই থেকে কবজি পর্যন্ত হাড় দুটির নাম কী কী?

১১. মানবদেহের সবচেয়ে বড়ো হাড়ের নাম কী?

১২. লিগামেন্ট (Ligament) কাকে বলে?

১৩. প্রথম স্টেথোস্কোপ কে আবিষ্কার করেছিলেন?

১৪. যক্ষ্মা বা টিবি রোগের টিকার নাম কী?

১৫. জলবাহিত রোগের কারণে শরীরে জলের ঘাটতি হলে কী খাওয়াতে হয়?

2. The Feynman Method (সহজ ব্যাখ্যা)

Concept: আমাদের শরীরের বর্ম ও কাঠামো

"শোনো ছোটো বন্ধু, তুমি কি জানো তোমার শরীরে একটা জাদুকরী রেইনকোট আছে? সেটা হলো তোমার চামড়া! যেমন রেইনকোট আমাদের বৃষ্টি থেকে বাঁচায়, তেমনি চামড়া আমাদের বাইরের ধুলোবালি আর সূর্যের তাপ থেকে বাঁচায়। এর ভেতরে থাকে শক্ত শক্ত হাড়, যা আমাদের সোজা হয়ে দাঁড়াতে সাহায্য করে। হাড়গুলো আবার দড়ির মতো লিগামেন্ট দিয়ে একে অপরের সাথে জোড়া থাকে। আর আমাদের বুকের ভেতরে একটা ছোট্ট পাম্প আছে, যাকে বলে হৃৎপিণ্ড। এটা সারাদিন 'ধুকপুক' করে সারা শরীরে রক্ত পাঠিয়ে দেয় যাতে আমরা শক্তি পাই। তাই আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে পরিষ্কার জল খেতে হবে আর নিয়ম করে হাত-পা ধুতে হবে!"

3. Spaced Repetition Schedule (পড়ার রুটিন)

Day 1: ত্বক ও চুল
  • • ত্বকের স্তর ও মেলানিন
  • • ভিটামিন ডি ও সূর্যের আলো
  • • সজারু ও গন্ডারের চুলের বৈশিষ্ট্য
Day 3: হাড় ও পেশি
  • • হিউমেরাস, ফিমার, আলনা ও রেডিয়াস
  • • অস্থিসন্ধি ও লিগামেন্ট
  • • নখের স্বাস্থ্য ও অ্যানিমিয়া
Day 7: অঙ্গ ও রোগ
  • • হৃৎপিণ্ড ও স্টেথোস্কোপ
  • • বায়ুবাহিত রোগ (যক্ষ্মা ও BCG)
  • • জলবাহিত রোগ ও ORS
Generated by WBBSE AI Engine • Source: আমাদের পরিবেশ (পঞ্চম শ্রেণি)

    About the Author

    You may also like these

    BISWAZ GROWTH ACADEMY - Free WBBSE Class 1 to 10 Books

    Biswaz Growth Academy: Free WBBSE Books & Study Materials

    Welcome to biswaz.com, your premier destination for high-quality educational resources. Explore our comprehensive library of West Bengal Board (WBBSE) textbooks from Class 1 to Class 10. Whether you are looking for Amar Boi, Sahaj Path, Ganit Prabha, Butterfly, Bliss, or Amader Paribesh, we provide easily accessible PDF downloads to support student growth, learning, and exam preparation.

    WBBSE Books PDF Download Class 1 to 10 Syllabus West Bengal Board Solutions Free School Textbooks Biswaz Educational Portal

    Biswaz Growth

    Academy Portal

    Select a Class

    0 items