ALL NOTES
মানবদেহ
অধ্যায় ১ • পৃষ্ঠা ১–১৮
আমাদের শরীর এক বিস্ময়কর যন্ত্র। এই অধ্যায়ে আমরা জানব শরীরের বর্ম বা চামড়া কীভাবে আমাদের রক্ষা করে, হাড় ও পেশি কীভাবে কাজ করে, এবং কীভাবে স্টেথোস্কোপ আবিষ্কৃত হয়েছিল। এসো, মানবদেহের অজানা রহস্যগুলো উন্মোচন করি।
এই অধ্যায়ের মূল বিষয়বস্তু
শরীরের বর্ম ও মেলানিন
চামড়া বা ত্বক আমাদের শরীরকে বাইরের আঘাত ও সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে বাঁচায়। মেলানিন থাকার কারণে চামড়ার রং কালো হয় এবং এটি ক্যানসার প্রতিরোধ করে।
হাড়, জোড় ও পেশি
আমাদের শরীরে হাড় হলো কাঠামো। অস্থিসন্ধি বা হাড়ের জোড় এবং লিগামেন্ট হাড়গুলোকে যুক্ত রাখে। পেশি হাড়কে নড়াচড়া করতে সাহায্য করে।
হৃদপিণ্ড ও স্টেথোস্কোপ
হৃদপিণ্ড পাম্পের মতো কাজ করে সারা শরীরে রক্ত ছড়িয়ে দেয়। রেনে লিনেক প্রথম স্টেথোস্কোপ আবিষ্কার করেছিলেন যা দিয়ে হৃদপিণ্ডের শব্দ শোনা যায়।
রোগ ও প্রতিকার
বাতাস ও জলের মাধ্যমে যক্ষ্মা, কলেরা, টাইফয়েড ইত্যাদি রোগ ছড়ায়। ওআরএস (ORS) এবং ডট (DOT) চিকিৎসা সম্পর্কে ধারণা।
তুমি কি জানো?
আজকের স্টেথোস্কোপ দেখতে যেমন, শুরুতে কিন্তু তেমন ছিল না। প্রায় দুশো বছর আগে রেনে লিনেক কাঠের নল দিয়ে প্রথম স্টেথোস্কোপ বানিয়েছিলেন!
গুরুত্বপূর্ণ শব্দসমূহ
হাতে কলমে কাজ
তোমার নিজের হাতের কবজি থেকে কনুই পর্যন্ত হাড়গুলো স্পর্শ করে অনুভব করার চেষ্টা করো।
আমাদের পরিবেশ
অধ্যায়: মানবদেহ
পঞ্চম শ্রেণি | WBSSC প্রস্তুতি নোটস
সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)
১. শরীরের বর্ম কাকে বলা হয়?
উত্তর: চামড়া বা ত্বককে শরীরের বর্ম বলা হয়, কারণ এটি বাইরের আঘাত ও সূর্যের তাপ থেকে শরীরকে রক্ষা করে।
২. ত্বকের ওপরের স্তরে কি রক্ত থাকে?
উত্তর: না, ত্বকের একদম ওপরের স্তরে রক্ত থাকে না। কেটে গেলে এখান থেকে রক্ত বের হয় না।
৩. চামড়ার রং কালো হয় কেন?
উত্তর: চামড়ায় 'মেলানিন' নামক একটি রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে চামড়ার রং কালো হয়।
৪. মেলানিন আমাদের কীভাবে সাহায্য করে?
উত্তর: মেলানিন সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি শুষে নিয়ে ত্বকের ক্যানসার আটকাতে সাহায্য করে।
৫. রোদে শরীরের ত্বকে কোন ভিটামিন তৈরি হয়?
উত্তর: রোদে শরীরের ত্বকে ভিটামিন 'ডি' (Vitamin D) তৈরি হয়।
৬. গন্ডারের খড়্গ আসলে কী?
উত্তর: গন্ডারের খড়্গ আসলে কোনো হাড় নয়, এটি জমাট বাঁধা শক্ত চুল।
৭. সজারুর কাঁটা আসলে কী?
উত্তর: সজারুর কাঁটা হলো তাদের শরীরের শক্ত ও সুঁচালো লোম, যা তাদের আত্মরক্ষায় সাহায্য করে।
৮. হাড়ের জোড়কে কী বলা হয়?
উত্তর: হাড়ের জোড়কে 'অস্থিসন্ধি' বলা হয়।
৯. হাড়গুলো অস্থিসন্ধিতে কী দিয়ে লাগানো থাকে?
উত্তর: হাড়গুলো অস্থিসন্ধিতে দড়ির মতো একরকম জিনিস দিয়ে লাগানো থাকে, যাকে 'লিগামেন্ট' বলে।
১০. কনুই থেকে কবজি পর্যন্ত হাড়ের নাম কী?
উত্তর: কনুই থেকে কবজি পর্যন্ত হাড় দুটির নাম হলো 'আলনা' ও 'রেডিয়াস'।
১১. কাঁধ থেকে কনুই পর্যন্ত হাড়ের নাম কী?
উত্তর: কাঁধ থেকে কনুই পর্যন্ত হাড়টির নাম হলো 'হিউমেরাস'।
১২. কোমর থেকে হাঁটু পর্যন্ত হাড়ের নাম কী?
উত্তর: কোমর থেকে হাঁটু পর্যন্ত হাড়টির নাম হলো 'ফিমার'। এটি শরীরের সবচেয়ে বড় হাড়।
১৩. হাঁটুর নিচ থেকে গোড়ালি পর্যন্ত হাড়ের নাম কী?
উত্তর: হাঁটুর নিচ থেকে গোড়ালি পর্যন্ত হাড় দুটির নাম হলো 'টিবিয়া' ও 'ফিবুলা'।
১৪. যক্ষ্মা রোগের জীবাণু কোথায় বাসা বাঁধে?
উত্তর: যক্ষ্মা রোগের জীবাণু মূলত ফুসফুসে বাসা বাঁধে, তবে হাড় বা অন্য অঙ্গেও হতে পারে।
১৫. যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসার নাম কী?
উত্তর: যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসার নাম হলো DOT (Directly Observed Treatment) বা ডট চিকিৎসা।
১৬. স্টেথোস্কোপ কে আবিষ্কার করেন?
উত্তর: রেনে লিনেক (Rene Laennec) স্টেথোস্কোপ আবিষ্কার করেন।
১৭. হৃৎপিণ্ডের শব্দ কেমন শোনা যায়?
উত্তর: হৃৎপিণ্ডের শব্দ 'ধুকপুক' বা 'লাব-ডুব' এর মতো শোনা যায়।
১৮. ওআরএস (ORS) এর পুরো কথা কী?
উত্তর: ওআরএস-এর পুরো কথা হলো 'ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন' (Oral Rehydration Solution)।
১৯. কলেরা বা ডায়েরিয়া হলে শরীর থেকে কী কমে যায়?
উত্তর: কলেরা বা ডায়েরিয়া হলে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে জল ও নুন বেরিয়ে যায়।
২০. বিসিজি (BCG) টিকা কোন রোগের জন্য দেওয়া হয়?
উত্তর: যক্ষ্মা রোগ প্রতিরোধের জন্য শিশুদের বিসিজি টিকা দেওয়া হয়।
দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (LAQ)
১. চামড়াকে শরীরের বর্ম বলা হয় কেন? এর কাজ কী?
উত্তর: আগেকার দিনে যোদ্ধারা যুদ্ধের সময় শরীরকে আঘাত থেকে বাঁচাতে ধাতুর তৈরি পোশাক বা বর্ম পরত। ঠিক তেমনই আমাদের চামড়া বা ত্বক বাইরের আঘাত, রোদ, ও জীবাণুর আক্রমণ থেকে শরীরের ভেতরের মাংসপেশি, শিরা, ধমনি ও অন্যান্য অঙ্গকে রক্ষা করে। তাই চামড়াকে 'শরীরের বর্ম' বলা হয়।
চামড়ার কাজ:
- শরীরের ভেতরের অংশকে বাইরের আঘাত থেকে বাঁচানো।
- সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে শরীরকে রক্ষা করা।
- ঘামের মাধ্যমে শরীরের বর্জ্য পদার্থ বের করে দেওয়া।
- শরীরকে রোগজীবাণুর হাত থেকে বাঁচানো।
২. চামড়ার কয়টি স্তর ও কী কী? আঘাত লাগলে চামড়ার কী ক্ষতি হয়?
উত্তর: চামড়ার প্রধানত দুটি স্তর থাকে—
- ওপরের স্তর: এই স্তরে রক্ত থাকে না। এটি বাইরের আঘাত থেকে বাঁচায়।
- ভেতরের স্তর: এই স্তরে রক্তনালী ও স্নায়ু থাকে।
আঘাত লাগলে চামড়ার ওপরের স্তর কেটে গেলে রক্ত বের হয় না, কিন্তু আঘাত গভীর হলে ভেতরের স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং রক্ত বের হয়। আবার পুড়ে গেলে চামড়ার ওপরের স্তর মরে যায় এবং নিচের স্তর থেকে জল বেরিয়ে ফোসকা পড়ে।
৩. মেলানিন কী? ফর্সা ও কালো চামড়ার মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: মেলানিন হলো চামড়ায় থাকা এক ধরণের রঞ্জক পদার্থ যা চামড়ার রং নির্ধারণ করে।
যাদের চামড়ায় মেলানিন বেশি থাকে, তাদের গায়ের রং কালো বা শ্যামলা হয়। আর যাদের চামড়ায় মেলানিন কম থাকে, তাদের গায়ের রং ফর্সা হয়। কালো চামড়া সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে শরীরকে বেশি রক্ষা করতে পারে এবং এতে ত্বকের ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।
৪. বয়সের সাথে সাথে চামড়া কুঁচকে যায় কেন? চুল সাদা হয় কেন?
উত্তর: বয়স বাড়লে শরীর ও চামড়া বাড়তে থাকে, কিন্তু চামড়ার নিচের মাংসপেশি বা চর্বি কমে গেলে চামড়া আলগা হয়ে যায় এবং কুঁচকে যায়।
চুল সাদা হওয়ার কারণ হলো মেলানিন। বয়স বাড়লে চুলের গোড়ায় মেলানিন তৈরি হওয়া কমে যায় বা বন্ধ হয়ে যায়, ফলে চুল তার কালো রং হারিয়ে সাদা হয়ে যায়।
৫. নখ কেন নিয়মিত কাটা দরকার? নখ দেখে ডাক্তাররা কী বোঝেন?
উত্তর: নখ বড় হলে তার ভেতরে ময়লা ও জীবাণু জমে থাকে। খাওয়ার সময় সেই জীবাণু পেটে গিয়ে অসুখ ঘটাতে পারে। তাই নিয়মিত নখ কাটা ও পরিষ্কার রাখা দরকার।
ডাক্তাররা নখ দেখে রোগীর রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া আছে কি না তা বোঝেন। নখ ফ্যাকাসে হয়ে গেলে বোঝা যায় শরীরে রক্তের অভাব হয়েছে।
৬. মানুষের কঙ্কাল বা হাড়ের কাজ কী? হাড় মজবুত করতে কী খাওয়া উচিত?
উত্তর: মানুষের কঙ্কাল বা হাড়ের প্রধান কাজগুলি হলো:
- শরীরের নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি করা।
- শরীরের নরম অঙ্গগুলিকে (যেমন হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস) রক্ষা করা।
- চলাফেরা ও কাজ করতে সাহায্য করা।
হাড় মজবুত করার জন্য ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার যেমন—দুধ, ডিম, ও ছোট মাছ খাওয়া উচিত।
৭. মানুষের হাতের ও পায়ের বিভিন্ন হাড়ের নাম লেখো।
উত্তর:
- হাতের হাড়:
- কাঁধ থেকে কনুই: হিউমেরাস (Humerus)।
- কনুই থেকে কবজি: আলনা (Ulna) ও রেডিয়াস (Radius)।
- পায়ের হাড়:
- কোমর থেকে হাঁটু: ফিমার (Femur)।
- হাঁটুর নিচ থেকে গোড়ালি: টিবিয়া (Tibia) ও ফিবুলা (Fibula)।
- মেরুদণ্ড: মেরুদণ্ডের হাড়কে বলা হয় কশেরুকা (Vertebrae)।
৮. অস্থিসন্ধি ও লিগামেন্ট কাকে বলে? এদের কাজ কী?
উত্তর:
অস্থিসন্ধি: শরীরের যেখানে দুটি হাড় এসে মিলিত হয়, সেই জোড়কে অস্থিসন্ধি বলে। যেমন—কনুই, হাঁটু, বা কাঁধের জোড়।
লিগামেন্ট: অস্থিসন্ধিতে হাড়গুলো যে দড়ির মতো অংশ দিয়ে একে অপরের সাথে জোড়া লাগানো থাকে, তাকে লিগামেন্ট বলে।
কাজ: অস্থিসন্ধি ও লিগামেন্ট আমাদের হাত-পা নাড়াতে, ভাঁজ করতে এবং চলাফেরা করতে সাহায্য করে।
৯. পেশি কী? পেশি কীভাবে হাড়কে সাহায্য করে? পেশি মজবুত করার উপায় কী?
উত্তর: চামড়ার নিচে হাড়ের ওপর যে নরম মাংসল অংশ থাকে, তাকে পেশি বলে।
পেশি হাড়ের সাথে যুক্ত থেকে হাড়কে নাড়াচড়া করতে সাহায্য করে। পেশি সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে হাড়কে টানে, ফলে আমরা হাত-পা নাড়াতে পারি।
পেশি মজবুত করার জন্য মাছ, মাংস, ডিম, ডাল, সয়াবিন ইত্যাদি প্রোটিনযুক্ত খাবার খেতে হবে এবং নিয়মিত ব্যায়াম বা শরীরচর্চা করতে হবে।
১০. হৃৎপিণ্ডের কাজ কী? দৌড়লে হৃৎপিণ্ডের ধুকপুকানি বাড়ে কেন?
উত্তর: হৃৎপিণ্ড হলো শরীরের পাম্প যন্ত্র। এটি অনবরত সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে সারা শরীরে রক্ত ছড়িয়ে দেয়। রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন ও পুষ্টি শরীরের সব অংশে পৌঁছায়।
দৌড়লে বা পরিশ্রমের কাজ করলে আমাদের শরীরের বেশি শক্তির প্রয়োজন হয়। তখন কোষে বেশি অক্সিজেন দরকার হয়। তাই রক্তকে দ্রুত অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়ার জন্য হৃৎপিণ্ডকে জোরে পাম্প করতে হয়, ফলে ধুকপুকানি বেড়ে যায়।
১১. স্টেথোস্কোপ আবিষ্কারের গল্পটি সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর: ফরাসি চিকিৎসক রেনে লিনেক একদিন দেখলেন দুটি বাচ্চা একটি কাঠের দণ্ড নিয়ে খেলছে। একজন দণ্ডের এক প্রান্তে পিন দিয়ে আঁচড় কাটছে, আর অন্যজন অন্য প্রান্তে কান পেতে সেই শব্দ শুনছে। এই ঘটনা দেখে লিনেকের মাথায় বুদ্ধি এল। তিনি কাগজ গোল করে পেঁচিয়ে একটি নল বানালেন এবং সেটি দিয়ে রোগীর বুকের শব্দ শুনলেন। পরে তিনি বাঁশ বা কাঠের ফাঁপা নল দিয়ে প্রথম স্টেথোস্কোপ তৈরি করেন।
১২. যক্ষ্মা রোগের লক্ষণগুলি কী কী? এই রোগ কীভাবে ছড়ায়?
যক্ষ্মা রোগের লক্ষণ:
- বিকেলে জ্বর আসা ও রাতে ঘাম হওয়া।
- টানা কাশি ও কফের সাথে রক্ত পড়া।
- বুকে ব্যথা হওয়া।
- শরীরের ওজন ক্রমশ কমে যাওয়া।
ছড়ানোর উপায়: যক্ষ্মা একটি বায়ুবাহিত রোগ। রোগীর হাঁচি, কাশি বা থুতুর মাধ্যমে এই রোগের জীবাণু বাতাসে মিশে সুস্থ মানুষের শরীরে প্রবেশ করে।
১৩. যক্ষ্মা হলে কী করা উচিত? এর চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে লেখো।
উত্তর: যক্ষ্মা হলে ভয় না পেয়ে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এটি এখন আর মারণ রোগ নয়, সঠিক চিকিৎসায় পুরোপুরি সেরে যায়।
চিকিৎসা: যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসার নাম DOT (Directly Observed Treatment)। সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এই চিকিৎসা বিনামূল্যে করা হয়। রোগীকে টানা ৬ মাস বা ১ বছর নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়। মাঝপথে ওষুধ বন্ধ করলে রোগ আবার ফিরে আসতে পারে এবং তখন তা সারানো কঠিন হয়ে পড়ে।
১৪. জলবাহিত রোগ কাকে বলে? কয়েকটি জলবাহিত রোগের নাম লেখো।
উত্তর: যেসব রোগের জীবাণু জলের মাধ্যমে ছড়ায় এবং দূষিত জল পান করলে বা ব্যবহার করলে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে, তাদের জলবাহিত রোগ বলে।
উদাহরণ: কলেরা, টাইফয়েড, ডায়েরিয়া বা পেটের অসুখ, পোলিও, জন্ডিস ইত্যাদি।
১৫. ওআরএস (ORS) কখন ব্যবহার করা হয়? বাড়িতে কীভাবে ওআরএস তৈরি করবে?
উত্তর: ডায়েরিয়া বা পাতলা পায়খানা হলে শরীর থেকে প্রচুর জল ও নুন বেরিয়ে যায়। এই ঘাটতি পূরণ করতে ওআরএস খাওয়ানো হয়।
তৈরি করার পদ্ধতি:
- এক গ্লাস জল ভালো করে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে নিতে হবে।
- তাতে এক চামচ চিনি দিতে হবে।
- এক চিমটে নুন দিতে হবে।
- সবকিছু ভালো করে মিশিয়ে নিলেই ওআরএস তৈরি।
১৬. বায়ুবাহিত রোগ কীভাবে ছড়ায়? হাঁচি বা কাশির সময় মুখে রুমাল দেওয়া উচিত কেন?
উত্তর: বায়ুবাহিত রোগের জীবাণু বাতাসে ভেসে বেড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি বা কাশি দিলে তার মুখ থেকে অসংখ্য জীবাণু বাতাসে মিশে যায়। সুস্থ মানুষ সেই বাতাস শ্বাস হিসেবে গ্রহণ করলে তাদের শরীরেও রোগ ছড়ায়।
তাই হাঁচি বা কাশির সময় মুখে রুমাল দিলে জীবাণু বাতাসে ছড়াতে পারে না, ফলে অন্যেরা নিরাপদ থাকে। ইনফ্লুয়েঞ্জা, যক্ষ্মা, বসন্ত ইত্যাদি বায়ুবাহিত রোগ।
১৭. প্রাণীদের নখ ও লোম কীভাবে তাদের আত্মরক্ষায় সাহায্য করে? উদাহরণ দাও।
উত্তর:
- নখ: বাঘ, সিংহ, বিড়াল বা শিকারি পাখিদের ধারালো নখ থাকে যা দিয়ে তারা শিকার ধরে এবং শত্রুর আক্রমণ থেকে নিজেকে বাঁচায়।
- লোম: সজারুর লোম কাঁটার মতো শক্ত হয়। শত্রু আক্রমণ করলে তারা কাঁটা খাড়া করে দেয়। গন্ডারের খড়্গও আসলে জমাট বাঁধা চুল, যা তাদের অস্ত্র হিসেবে কাজ করে। এছাড়া ভাল্লুক বা পাহাড়ি প্রাণীদের ঘন লোম তাদের শীত থেকে বাঁচায়।
১৮. শরীরের রক্ত চলাচলের প্রয়োজনীয়তা কী? ধমনি ও শিরার কাজ কী?
উত্তর: রক্ত সারা শরীরে অক্সিজেন এবং হজম হওয়া খাবারের পুষ্টি পৌঁছে দেয়। আবার শরীরের বর্জ্য পদার্থ বয়ে নিয়ে আসে। তাই বেঁচে থাকার জন্য রক্ত চলাচল অত্যন্ত জরুরি।
ধমনি: হৃৎপিণ্ড থেকে অক্সিজেনযুক্ত বিশুদ্ধ রক্ত সারা শরীরে পৌঁছে দেয়। (এরা সাধারণত শরীরের ভেতরের দিকে থাকে)।
শিরা: সারা শরীর থেকে দূষিত রক্ত হৃৎপিণ্ডে ফিরিয়ে আনে। (এরা চামড়ার ঠিক নিচে থাকে এবং বাইরে থেকে দেখা যায়)।
১৯. আগেকার দিনে মানুষ কীভাবে রোগ নির্ণয় করত? এখনকার পদ্ধতির সাথে তার পার্থক্য কী?
উত্তর: আগেকার দিনে ডাক্তার বা কবিরাজরা রোগীর নাড়ি টিপে, চোখের রং দেখে, জিভ দেখে বা নখ দেখে রোগ বোঝার চেষ্টা করতেন। স্টেথোস্কোপ আবিষ্কারের আগে সরাসরি বুকে কান পেতে হৃৎস্পন্দন শুনতেন।
এখন বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে স্টেথোস্কোপ ছাড়াও এক্স-রে, রক্ত পরীক্ষা, মল-মূত্র পরীক্ষা ইত্যাদির মাধ্যমে অনেক নিখুঁতভাবে রোগ নির্ণয় করা যায়।
২০. সুস্থ শরীর ও স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য আমাদের কী কী নিয়ম মেনে চলা উচিত?
উত্তর: সুস্থ থাকার জন্য আমাদের যা করা উচিত:
- পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা এবং নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া।
- বিশুদ্ধ ও ফোটানো জল পান করা।
- পুষ্টিকর ও টাটকা খাবার খাওয়া।
- নিয়মিত নখ ও চুল কাটা।
- হাঁচি-কাশির সময় মুখে রুমাল দেওয়া।
- নিয়মিত ব্যায়াম বা খেলাধুলা করা।
MOCK TEST
আমাদের পরিবেশ (পঞ্চম শ্রেণি)
অধ্যায়: মানবদেহ (পৃষ্ঠা ১-১৮)
প্রশ্ন লোড হচ্ছে...
পরীক্ষা সম্পন্ন!
আপনার স্কোর: / 60
ONLINE TEST
অনলাইন মূল্যায়ন পত্র (Online Exam)
বিষয়: আমাদের পরিবেশ (পঞ্চম শ্রেণি)
অধ্যায়: মানবদেহ (Human Body)
অভিনন্দন! পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
MCQ স্কোর: 0 / ১০
বিভাগ খ (Descriptive)-এর উত্তরগুলি শিক্ষক মহাশয় যাচাই করবেন।