প্রকল্প পত্র (ষষ্ঠ শ্রেণি): অধ্যায় ৬ – সাম্রাজ্য বিস্তার ও শাসন
প্রসেসিং…

বিষয়: অতীত ও ঐতিহ্য (ষষ্ঠ শ্রেণি)

অধ্যায় ৬: সাম্রাজ্য বিস্তার ও শাসন (প্রকল্প নোটস)

মূল ধারণা ও প্রশ্নাবলী

১. ‘সাম্রাজ্য’ ও ‘সম্রাট’ বলতে কী বোঝায়? [৩ নম্বর]

উত্তর:

  • সাম্রাজ্য: ‘সাম্রাজ্য’ বলতে একটি বিরাট শাসন এলাকাকে বোঝায়। যখন কোনো শক্তিশালী রাজা অন্য ছোট ছোট রাজ্যগুলি যুদ্ধ করে দখল করে নেন এবং সেই সব রাজ্যগুলিকে একত্রিত করে একটি বড় শাসন এলাকা তৈরি করেন, তখন তাকে ‘সাম্রাজ্য’ বলে।
  • সম্রাট: যিনি এই বিশাল সাম্রাজ্য শাসন করেন, তাঁকেই ‘সম্রাট’ বলা হয়। সম্রাট মানে ‘বড় রাজা’ বা ‘রাজাধিরাজ’ (রাজাদের রাজা)। যেমন, মৌর্য সাম্রাজ্য ছিল ভারতের প্রথম সাম্রাজ্য এবং চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ছিলেন তার প্রথম সম্রাট।

২. আলেকজান্ডারের ভারত অভিযানের ফলাফল কী হয়েছিল? [৩ নম্বর]

উত্তর: খ্রিস্টপূর্ব ৩০০ অব্দ নাগাদ গ্রিক বীর আলেকজান্ডার ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিম অংশে অভিযান করেন। তিনি রাজা পুরুর মতো স্থানীয় শাসকদের পরাজিত করেন।

ফলাফল:

  1. এই অভিযানের ফলে উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের ছোট ছোট রাজ্যগুলির ক্ষমতা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে।
  2. এই রাজনৈতিক শূন্যতার সুযোগ নিয়েই পরবর্তীকালে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পক্ষে মগধকে কেন্দ্র করে সাম্রাজ্য গড়ে তোলা সহজ হয়েছিল। তিনি সহজেই পাঞ্জাব ও উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলটি নিজের দখলে আনতে পেরেছিলেন।

৩. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য কীভাবে মৌর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন? [৩ নম্বর]

উত্তর: আলেকজান্ডারের ভারত অভিযানের সময় মগধে নন্দ রাজবংশের শাসন ছিল। এই বংশের শেষ রাজা ধননন্দ ছিলেন অত্যন্ত অপ্রিয়। ব্রাহ্মণ পণ্ডিত চাণক্য (বা কৌটিল্য) নন্দ রাজার দ্বারা অপমানিত হয়ে তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরানোর প্রতিজ্ঞা করেন।

চাণক্যের সাহায্যেই চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য নন্দ রাজাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামেন এবং শেষ নন্দ রাজা ধননন্দকে পরাজিত করে মগধে মৌর্য শাসন প্রতিষ্ঠা করেন (আনু. খ্রিস্টপূর্ব ৩২৪/৩২৫ অব্দ)। পরবর্তীকালে তিনি গ্রিক সেনাপতি সেলুকাস নিকেটরকে পরাজিত করে সাম্রাজ্যের সীমানা উত্তর-পশ্চিম ভারতেও বিস্তার করেন।

৪. ‘অর্থশাস্ত্র’ গ্রন্থটির বিষয়বস্তু কী? [৩ নম্বর]

উত্তর: ‘অর্থশাস্ত্র’ গ্রন্থটির লেখক হিসেবে কৌটিল্য বা চাণক্যের নাম উল্লেখ করা হয়। যদিও বইটি সম্ভবত একজনের লেখা নয়।

নামে ‘অর্থশাস্ত্র’ হলেও এটি মূলত রাষ্ট্রশাসন ও রাজনীতি বিষয়ক একটি গ্রন্থ। এতে রাজ্যশাসন কেমন হওয়া উচিত, রাজার কর্তব্য কী, কর ব্যবস্থা কেমন হবে, গুপ্তচর কীভাবে কাজ করবে, অর্থাৎ রাষ্ট্রশাসনের সমস্ত খুঁটিনাটি বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এটি মৌর্য আমলের ইতিহাস জানার একটি জরুরি উপাদান।

৫. সম্রাট অশোক কেন বিখ্যাত? ‘কলিঙ্গ যুদ্ধ’-এর গুরুত্ব কী? [৫ নম্বর] [গুরুত্বপূর্ণ]

উত্তর:

অশোকের খ্যাতি: চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পৌত্র অশোক (আনু. খ্রিঃপূঃ ২৭৩-২৩২ অব্দ) ছিলেন মৌর্য বংশের তথা ভারতের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্রাট। তিনি তাঁর ‘ধম্ম’ (ধর্ম) প্রচার এবং জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য বিখ্যাত।

কলিঙ্গ যুদ্ধের গুরুত্ব:

  1. যুদ্ধ: অশোক তাঁর জীবনে একটিমাত্র যুদ্ধ করেছিলেন— সেটি হলো কলিঙ্গ (বর্তমান ওড়িশা) যুদ্ধ।
  2. প্রভাব: এই যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা যায় এবং বহু মানুষ আহত হন। যুদ্ধের এই ভয়াবহ হিংসা ও রক্তপাত দেখে অশোক গভীরভাবে দুঃখিত হন এবং অনুতপ্ত হন।
  3. ধর্মান্তর: এই যুদ্ধের পরেই তিনি বৌদ্ধ সন্ন্যাসী উপগুপ্তের কাছে বৌদ্ধধর্মে দীক্ষা নেন এবং ‘যুদ্ধনীতি’ (রণভেরী) ত্যাগ করে ‘ধর্মবিজয়’ বা ‘ধম্মনীতি’ (ধর্মভেরী) গ্রহণ করার প্রতিজ্ঞা করেন। এটিই ছিল কলিঙ্গ যুদ্ধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফল।

৬. অশোকের ‘ধম্ম’ (Dhamma) কী ছিল? [৫ নম্বর] [গুরুত্বপূর্ণ]

উত্তর: ‘ধম্ম’ হলো ‘ধর্ম’ কথাটির প্রাকৃত রূপ। কলিঙ্গ যুদ্ধের পর সম্রাট অশোক তাঁর সাম্রাজ্যের বিভিন্ন ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রজাদের ঐক্যবদ্ধ রাখার জন্য যে আদর্শ প্রচার করেন, তাই ‘অশোকের ধম্ম’ নামে পরিচিত।

এটি কোনো বিশেষ ধর্ম (যেমন বৌদ্ধধর্ম) ছিল না, বরং এটি ছিল কতগুলি সামাজিক আচরণবিধি ও নৈতিক উপদেশের সমষ্টি।

ধম্মের মূল কথা:

  • অহিংসা: কোনো প্রাণী হত্যা না করা, যুদ্ধ না করা।
  • সহনশীলতা: সমস্ত ধর্মের প্রতি এবং মানুষের প্রতি সহনশীল হওয়া।
  • শ্রদ্ধা: বাবা-মা, গুরুজন, ব্রাহ্মণ ও শ্রমণদের সম্মান ও শ্রদ্ধা করা।
  • সদাচরণ: দয়া, দান, সত্য কথা বলা এবং দাস ও ভৃত্যদের প্রতি ভালো ব্যবহার করা।

অশোক মনে করতেন, প্রজারা তাঁর সন্তানের মতো এবং এই ধম্ম পালনের মাধ্যমে তিনি প্রজাদের মধ্যে শান্তি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন।

অশোক স্তম্ভ সারনাথ

চিত্র: সারনাথের অশোক স্তম্ভ। এটি ভারতের জাতীয় প্রতীক।

৭. মৌর্য সাম্রাজ্যের শাসন ব্যবস্থা কেমন ছিল? ‘মহাস্থানগড়’ লেখ-এর গুরুত্ব কী? [৫ নম্বর]

উত্তর:

শাসন ব্যবস্থা:

  • কেন্দ্রীয় শাসন: শাসনের শীর্ষে ছিলেন সম্রাট। তাঁকে শাসনকাজে সাহায্য করার জন্য ‘অমাত্য’ বা মহামাত্র’ নামক উচ্চপদস্থ রাজকর্মচারী এবং একটি মন্ত্রী পরিষদ ছিল।
  • সেনাবাহিনী: সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখার জন্য বিশাল সেনাবাহিনী (পদাতিক, ঘোড়া, রথ, হাতি) ছিল।
  • গুপ্তচর: সাম্রাজ্যের খোঁজখবর আনার জন্য অত্যন্ত দক্ষ গুপ্তচর বাহিনী ছিল।
  • প্রাদেশিক শাসন: বিশাল সাম্রাজ্যকে কয়েকটি প্রদেশে ভাগ করা হয়েছিল। প্রদেশের দায়িত্বে সাধারণত রাজপুত্ররা বা মহামাত্ররা থাকতেন।
  • রাজস্ব: কৃষিজমি জরিপ করে কর (মূলত ‘ভাগ’ ও ‘বলি’) আদায় করা হতো, যা ছিল রাষ্ট্রের আয়ের প্রধান উৎস।

মহাস্থানগড় লেখের গুরুত্ব:

বাংলাদেশের বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়ে মৌর্য যুগের একটি ব্রাহ্মী লিপি পাওয়া গেছে। এই লেখটির গুরুত্ব হলো, এতে ‘পুন্ড্রনগর’ (পুণ্ড্রবর্ধন) থেকে প্রজাদের উদ্দেশ্যে রাজকীয় আদেশ জারি করার কথা বলা আছে। আদেশে বলা হয়েছে, দুর্ভিক্ষ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় প্রজাদের সাহায্য করার জন্য যেন রাজকোষ থেকে শস্য ও অর্থ (‘কড়ি’) দেওয়া হয়। এটিই বাংলায় মৌর্য শাসনের প্রাচীনতম প্রমাণ।

৮. কুষাণ সম্রাট কনিষ্ক কেন বিখ্যাত? [৫ নম্বর]

উত্তর: কনিষ্ক ছিলেন কুষাণ বংশের শ্রেষ্ঠ সম্রাট। তিনি বিভিন্ন কারণে বিখ্যাত:

  1. সাম্রাজ্য: তাঁর সাম্রাজ্য মধ্য এশিয়া (ব্যাকট্রিয়া) থেকে উত্তর ভারতের মথুরা ও বারাণসী পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তাঁর রাজধানী ছিল পুরুষপুর বা পেশাওয়ার।
  2. শকাব্দ: মনে করা হয়, তিনি ৭৮ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে বসেন এবং এই বছর থেকেই ‘শকাব্দ’ গণনা শুরু হয়।
  3. বাণিজ্য: তাঁর আমলে মধ্য এশিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া বিখ্যাত ‘রেশম পথ’ (Silk Route) কুষাণদের নিয়ন্ত্রণে ছিল, যার ফলে বাণিজ্যের প্রভূত উন্নতি ঘটে।
  4. বৌদ্ধধর্ম: তিনি বৌদ্ধধর্মের (মহাযান) পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তাঁর আমলেই কাশ্মীরে চতুর্থ বৌদ্ধ সংগীতি অনুষ্ঠিত হয়।
  5. শিল্পকলা: তিনি মথুরা শিল্পরীতির পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। মথুরায় তাঁর একটি মাথাকাটা যোদ্ধার মূর্তিও পাওয়া গেছে।
  6. উপাধি: তিনি চিনা সম্রাটদের অনুকরণে ‘দেবপুত্র’ (দেবতার পুত্র) উপাধি গ্রহণ করেন।

৯. শক-সাতবাহন দ্বন্দ্বের কারণ কী ছিল? [৩ নম্বর]

উত্তর: মৌর্যদের পতনের পর দাক্ষিণাত্যে সাতবাহন এবং পশ্চিম ভারতে শক-ক্ষত্রপ শক্তি ক্ষমতায় আসে। এই দুই শক্তির মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী দ্বন্দ্বের প্রধান কারণ ছিল অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক:

  • অঞ্চল দখল: উভয় শক্তিই দাক্ষিণাত্যের পশ্চিম উপকূল (যা রোম-ভারত বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র ছিল) এবং উর্বর পূর্ব ও পশ্চিম মালব অঞ্চল দখল করতে চেয়েছিল।
  • বাণিজ্যিক গুরুত্ব: এই অঞ্চলগুলির বন্দর ও বাণিজ্যপথগুলির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই রাজ্যের রাজস্ব বাড়বে। এই বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের কারণেই শক ও সাতবাহনদের মধ্যে ক্রমাগত যুদ্ধ বিগ্রহ লেগে থাকত।

১০. গুপ্ত সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ শাসক কে ছিলেন? তাঁর কৃতিত্ব জানতে পারি কোথা থেকে? [৩ নম্বর]

উত্তর: গুপ্ত সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ শাসক ছিলেন **সমুদ্রগুপ্ত** (আনু. ৩৩৫-৩৭৫ খ্রিঃ)।

তাঁর কৃতিত্ব সম্পর্কে জানার প্রধান উপাদান হলো **’এলাহাবাদ প্রশস্তি’** বা ‘প্রয়াগ প্রশস্তি’। এটি সংস্কৃত ভাষায় লেখা একটি শিলালেখ। এই প্রশস্তিটি রচনা করেন সমুদ্রগুপ্তের সভাকবি **হরিষেণ**। এতে সমুদ্রগুপ্তের রাজ্যজয়, বিশেষত আর্যাবর্তের (উত্তর ভারত) নয়জন রাজা এবং দাক্ষিণাত্যের (দক্ষিণ ভারত) বারোজন রাজাকে পরাজিত করার কাহিনি বিস্তারিতভাবে লেখা আছে।

১১. গুপ্ত ও মৌর্য সাম্রাজ্যের শাসনব্যবস্থার মধ্যে তুলনা করো। [৫ নম্বর]

উত্তর:

বিষয় মৌর্য সাম্রাজ্য (খ্রিঃপূঃ ৪র্থ-২য় শতক) গুপ্ত সাম্রাজ্য (খ্রিঃ ৪র্থ-৬ষ্ঠ শতক)
কেন্দ্রীয় শাসন শাসন ছিল অত্যন্ত **কেন্দ্রীভূত**। সম্রাটের হাতেই ছিল সমস্ত ক্ষমতা। শাসন ছিল তুলনামূলকভাবে **বিকেন্দ্রীভূত**। সম্রাট ‘মহারাজাধিরাজ’ উপাধি নিলেও, তাঁকে ‘মহাসামন্ত’ বা স্থানীয় শাসকদের ওপর নির্ভর করতে হতো।
প্রাদেশিক শাসন প্রদেশগুলিতে (‘আহার’) সরাসরি সম্রাটের নিযুক্ত কর্মচারী (‘মহামাত্র’) শাসন চালাতেন। প্রদেশগুলিকে (‘ভুক্তি’) বলা হতো। ভুক্তির শাসকরা (‘উপরিক’) অনেক বেশি স্বাধীন ছিলেন।
গুপ্তচর ব্যবস্থা গুপ্তচর ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী এবং শাসনের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। গুপ্তচর ব্যবস্থার গুরুত্ব কমে গিয়েছিল।
ভূমিদান প্রথা ভূমিদানের বিশেষ প্রচলন ছিল না। ব্রাহ্মণ ও কর্মচারীদের বেতনের বদলে নিষ্কর জমি (‘অগ্রহায়’ বা ‘ভূমিদান’) দেওয়ার প্রথা খুব বেড়ে যায়, যা সামন্ত ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি করে।

১২. হর্ষবর্ধন কে ছিলেন? তাঁর সম্পর্কে আমরা কোথা থেকে জানতে পারি? [৩ নম্বর]

উত্তর: হর্ষবর্ধন ছিলেন খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকের উত্তর ভারতের একজন উল্লেখযোগ্য শাসক। তিনি পুষ্যভূতি রাজবংশের শাসক ছিলেন এবং থানেশ্বর ও কনৌজ থেকে শাসন পরিচালনা করতেন। তিনি ‘সকলোত্তরপথনাথ’ (সমগ্র উত্তর ভারতের অধিপতি) উপাধি নিয়েছিলেন।

তাঁর সম্পর্কে আমরা দুটি প্রধান উৎস থেকে জানতে পারি:

  1. ‘হর্ষচরিত’: এটি হর্ষবর্ধনের সভাকবি বাণভট্টের লেখা একটি সংস্কৃত প্রশস্তি বা জীবনীকাব্য।
  2. ‘সি-ইউ-কি’: চিনা পর্যটক হিউয়েন সাঙ বা সুয়ান জাং-এর লেখা ভ্রমণ বিবরণী, যিনি হর্ষবর্ধনের রাজত্বকালে ভারতে এসেছিলেন।

BISWAZ GROWTH ACADEMY - Class Menu
BISWAZ GROWTH ACADEMY - Class Menu