প্রকল্প পত্র (ষষ্ঠ শ্রেণি): অধ্যায় ৩ – প্রাচীন ইতিহাসের ধারা
প্রসেসিং…

বিষয়: অতীত ও ঐতিহ্য (ষষ্ঠ শ্রেণি)

অধ্যায় ৩: ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীন ইতিহাসের ধারা (প্রকল্প নোটস)

মূল ধারণা ও প্রশ্নাবলী

۱. ‘সভ্যতা’ বলতে কী বোঝায়? সভ্যতার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী? [৫ নম্বর] [গুরুত্বপূর্ণ]

উত্তর: সংস্কৃতি বা জীবনযাপনের উন্নতির একটি জটিল পর্যায়কে ‘সভ্যতা’ বলা হয়। যখন মানুষ যাযাবর জীবন ছেড়ে স্থায়ীভাবে গ্রাম ও নগরে বসতি স্থাপন করে, তখন সভ্যতার সূচনা হয়।

সভ্যতার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:

  1. স্থায়ী বসতি: কৃষির উপর ভিত্তি করে গ্রাম ও পরবর্তীকালে নগর বা শহর গড়ে ওঠা।
  2. শাসন কাঠামো: সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য একটি নির্দিষ্ট শাসনব্যবস্থা ও শাসকের উপস্থিতি।
  3. শিল্প ও স্থাপত্য: উন্নত শিল্পকলা, মূর্তি, মন্দির, প্রাসাদ বা পাকা বাড়ির মতো স্থাপত্যের নিদর্শন।
  4. লিপির ব্যবহার: মনের ভাব প্রকাশ বা হিসাব রাখার জন্য লিপি বা লেখার ব্যবহার। এটিই সভ্যতার সবচেয়ে বড় মাপকাঠি।
  5. সামাজিক বিভাজন: আদিম গোষ্ঠীর সমতার বদলে সমাজে শাসক, পুরোহিত, ব্যবসায়ী, কারিগর, কৃষক প্রভৃতি বিভিন্ন শ্রেণীর বা জীবিকার মানুষের বিভাজন তৈরি হওয়া।

২. ‘তামা-পাথরের যুগ’ (Chalcolithic Age) কাকে বলে? [২ নম্বর]

উত্তর: নতুন পাথরের যুগের শেষের দিকে মানুষ প্রথম তামা ধাতুর ব্যবহার শেখে। কিন্তু তখনও পাথরের হাতিয়ারের ব্যবহার বন্ধ হয়ে যায়নি। যে যুগে মানুষ একইসাথে তামা ও পাথরের হাতিয়ার ব্যবহার করত, সেই সময়কালকে ‘তামা-পাথরের যুগ’ বলা হয়। মেহেরগড় সভ্যতা ছিল এই যুগের একটি উদাহরণ।

৩. মেহেরগড় সভ্যতা কে, কবে আবিষ্কার করেন? [২ নম্বর]

উত্তর: ফরাসি প্রত্নতাত্ত্বিক **জাঁ ফ্রাঁসোয়া জারিজ** এবং তাঁর সহযোগী রিচার্ড মেডো **১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে** মেহেরগড় সভ্যতা আবিষ্কার করেন। এটি বর্তমান পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে বোলান গিরিপথের কাছে অবস্থিত।

৪. মেহেরগড় সভ্যতার জীবনযাত্রার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো। [৫ নম্বর]

উত্তর: মেহেরগড় সভ্যতা ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীনতম গ্রামীণ সভ্যতা। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:

  1. কৃষিকাজ: এরা ছিল মূলত কৃষিজীবী। এখানকার মানুষ গম ও যব চাষ করত। ভারতীয় উপমহাদেশে কার্পাস বা তুলো চাষের সবচেয়ে পুরোনো নিদর্শন মেহেরগড়েই পাওয়া গেছে।
  2. পশুপালন: তারা ছাগল, ভেড়া ও কুঁজওয়ালা ষাঁড় পুষত।
  3. মাটির পাত্র: প্রথম দিকে হাতে তৈরি মাটির পাত্র এবং পরবর্তী পর্যায়ে কুমোরের চাকায় তৈরি সুন্দর, নকশা করা মাটির পাত্র পাওয়া গেছে।
  4. গৃহনির্মাণ: তারা রোদে পোড়ানো ইট দিয়ে তৈরি বাড়িতে বাস করত, যেগুলিতে একাধিক ঘর থাকত। শস্য মজুত রাখার জন্য বড় ‘শস্যাগার’-এরও নিদর্শন মিলেছে।
  5. কারিগরিশিল্প: তারা তামা ও পাথরের হাতিয়ার (কাস্তে, ছুরি) এবং শাঁখ ও বিভিন্ন পাথরের গয়না তৈরি করতে পারত।

৫. মেহেরগড় সভ্যতার সমাধিক্ষেত্রের বৈশিষ্ট্য কী ছিল? [৩ নম্বর]

উত্তর: মেহেরগড় সভ্যতার সমাধিক্ষেত্রগুলি থেকে তাদের পরলোক সম্পর্কে ধারণার ইঙ্গিত মেলে।

  • মৃতদেহগুলিকে সোজাসুজি বা কাত করে শুইয়ে সমাধি দেওয়া হতো।
  • মৃতদেহের সঙ্গে তাদের ব্যবহারের জিনিসপত্র, যেমন – শাঁখ বা পাথরের গয়না, কুড়ুল ইত্যাদি দেওয়া হতো।
  • অনেক সমাধিতে মৃতদেহের সাথে গৃহপালিত পশুর (যেমন ছাগল) কঙ্কালও পাওয়া গেছে। সম্ভবত তারা মনে করত, মৃত্যুর পরেও এই জিনিসগুলি তাদের কাজে লাগবে।
  • অনেক মৃতদেহকে লাল কাপড় জড়িয়ে বা লাল রং মাখিয়ে সমাধি দেওয়া হতো।

৬. হরপ্পা সভ্যতাকে ‘সিন্ধু সভ্যতা’ বলা হয় কেন? এই সভ্যতার আবিষ্কারের কাহিনি লেখো। [৫ নম্বর]

উত্তর:

সিন্ধু সভ্যতা নামকরণের কারণ:

হরপ্পা সভ্যতার প্রথম আবিষ্কৃত দুটি প্রধান কেন্দ্র— হরপ্পা (১৯২১) ও মহেনজোদাড়ো (১৯২২)— সিন্ধু নদ ও তার উপত্যকা অঞ্চলে অবস্থিত ছিল। তাই গোড়ার দিকে ঐতিহাসিকরা এই সভ্যতার নাম দেন ‘সিন্ধু সভ্যতা’ (Indus Valley Civilization)।

আবিষ্কারের কাহিনি:

  1. ১৮২৬ সালে চার্লস ম্যাসন প্রথম হরপ্পার ধ্বংসাবশেষ লক্ষ্য করেন।
  2. ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে প্রত্নতাত্ত্বিক আলেকজান্ডার কানিংহাম এই অঞ্চল থেকে কয়েকটি সিলমোহর পান, কিন্তু তিনি এর গুরুত্ব বুঝতে পারেননি।
  3. বিংশ শতকের গোড়ার দিকে, **দয়ারাম সাহানি** ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে **হরপ্পা** কেন্দ্রটি আবিষ্কার করেন।
  4. এর ঠিক পরের বছর, ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে, **রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়** **মহেনজোদাড়ো** কেন্দ্রটি আবিষ্কার করেন।
  5. অবশেষে, ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে জন মার্শালের নেতৃত্বে এই দুটি কেন্দ্রের আবিষ্কারের কথা বিস্তারিতভাবে ঘোষণা করা হয় এবং জানা যায় এটি একটি সুপ্রাচীন নগর সভ্যতা।

পরে সিন্ধু উপত্যকার বাইরেও এই সভ্যতার নিদর্শন মেলায় (যেমন – লোথাল, কালিবঙ্গান), প্রথম আবিষ্কৃত কেন্দ্র ‘হরপ্পা’-র নামে এই সভ্যতার নাম ‘হরপ্পা সভ্যতা’ রাখা হয়।

৭. হরপ্পা সভ্যতাকে কেন ‘প্রায়-ইতিহাস’ যুগের সভ্যতা বলা হয়? [২ নম্বর]

উত্তর: হরপ্পা সভ্যতার মানুষেরা লিখতে জানত এবং তাদের লিপি (লেখা) সিলমোহর ও পাত্রের গায়ে পাওয়া গেছে। কিন্তু সেই লিপির পাঠোদ্ধার বা পড়া আজও সম্ভব হয়নি।

যে যুগের লেখা পাওয়া যায়, কিন্তু তা পড়া যায় না, সেই যুগকে ‘প্রায়-ইতিহাস’ যুগ বলা হয়। এই কারণেই হরপ্পা সভ্যতাকে ‘প্রায়-ইতিহাস’ যুগের সভ্যতা বলা হয়।

৮. হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনা কেমন ছিল? ‘সিটাডেল’ কী? [৫ নম্বর] [গুরুত্বপূর্ণ]

উত্তর: হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনা ছিল অত্যন্ত উন্নত ও আধুনিক।

নগর পরিকল্পনা:

  1. শহরগুলি সাধারণত দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল: একটি উঁচু এলাকা এবং একটি নীচু এলাকা।
  2. রাস্তাগুলি ছিল চওড়া, পাকা এবং উত্তর-দক্ষিণে ও পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত, যা শহরকে ‘গ্রিড’ বা চৌকো আকারে ভাগ করত।
  3. বাড়িগুলি পোড়ানো ইট দিয়ে তৈরি ছিল। প্রতিটি বাড়িতে শৌচাগার ও স্নানাগার থাকত।
  4. রাস্তার ধারে ঢাকা দেওয়া **নর্দমা** (Drainage System) ছিল, যা এই সভ্যতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। বাড়িগুলির ছোট নালা রাস্তার বড় নর্দমার সাথে যুক্ত থাকত।

সিটাডেল (Citadel):

হরপ্পার নগরগুলির একটি উঁচু এলাকা থাকত, যাকে প্রত্নতাত্ত্বিকরা ‘সিটাডেল’ বলেন। এটি সাধারণত শহরের পশ্চিম দিকে একটি বানানো ঢিবির ওপর অবস্থিত থাকত। সিটাডেল এলাকাটি উঁচু পাঁচিল দিয়ে ঘেরা থাকত। এখানে সাধারণ বসতবাড়ি থাকত না, বরং শস্যাগার, স্নানাগার বা প্রশাসনিক ভবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইমারতগুলি থাকত। মনে করা হয়, এই সিটাডেল এলাকায় শাসকরা বা ধনী ব্যক্তিরা বাস করতেন।

৯. মহেনজোদাড়োর ‘মহা-স্নানাগার’ (Great Bath) সম্পর্কে লেখো। [৩ নম্বর]

উত্তর: মহেনজোদাড়োর সিটাডেল এলাকায় একটি বিশাল বাঁধানো জলাধার পাওয়া গেছে, যা ‘মহা-স্নানাগার’ নামে পরিচিত।

  • এটি পাকা পোড়ানো ইট দিয়ে তৈরি ছিল এবং জল যাতে চুঁইয়ে না যায়, তার জন্য পিচ বা বিটুমিনের আস্তরণ দেওয়া হয়েছিল।
  • আয়তাকার এই জলাধারে নামার জন্য দুই প্রান্তে সিঁড়ির ধাপ ছিল।
  • এর পাশে ছোট ছোট ঘর ছিল, যা সম্ভবত পোশাক পাল্টানোর জন্য ব্যবহৃত হতো।
  • ঐতিহাসিকরা মনে করেন, এই স্নানাগারটি সম্ভবত কোনো বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বা উৎসবের সময় স্নানের জন্য ব্যবহৃত হতো।
মহা-স্নানাগার (মহেনজোদাড়ো) মহা-স্নানাগার জল

চিত্র: মহেনজোদাড়োর মহা-স্নানাগারের একটি নকশা।

১০. হরপ্পা সভ্যতার শস্যাগারের গুরুত্ব কী ছিল? [২ নম্বর]

উত্তর: হরপ্পা ও মহেনজোদাড়োতে বিশাল শস্যাগারের নিদর্শন পাওয়া গেছে। এর গুরুত্ব হলো:

  1. এটি উন্নত কৃষি ব্যবস্থার পরিচয় দেয়, কারণ কৃষিতে ‘বাড়তি ফসল’ বা উদ্বৃত্ত উৎপাদন না হলে এত বড় শস্যাগারের প্রয়োজন হতো না।
  2. এই শস্য সম্ভবত কর (Tax) হিসেবে আদায় করা হতো এবং বন্যা বা খরার মতো আপৎকালীন সময়ে প্রজাদের মধ্যে বিতরণের জন্য বা বাণিজ্যের জন্য মজুত রাখা হতো।

১১. হরপ্পা সভ্যতার কারিগরি শিল্প ও বাণিজ্যের পরিচয় দাও। [৫ নম্বর]

উত্তর:

কারিগরি শিল্প: হরপ্পা সভ্যতার কারিগররা বিভিন্ন শিল্পে অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন:

  • ধাতু শিল্প: তাঁরা তামা ও ব্রোঞ্জের ব্যবহার জানত (লোহা জানত না)। তামা ও ব্রোঞ্জ দিয়ে তাঁরা ছুরি, কুঠার, বাটালি এবং সুন্দর মূর্তি (যেমন – মহেনজোদাড়োর ব্রোঞ্জ নারীমূর্তি) তৈরি করত।
  • বস্ত্র শিল্প: তাঁরা সুতি ও পশমের বস্ত্র বুনতে পারত।
  • মৃৎশিল্প: কুমোরের চাকায় তৈরি লাল-কালো রঙের (Red-and-Black Ware) সুন্দর মাটির পাত্র তৈরি হতো, যাতে জ্যামিতিক নকশা বা মাছ, গাছপালার ছবি আঁকা থাকত।
  • গয়না: সোনা, তামা, শাঁখ এবং দামি পাথর (যেমন – লাপিস লাজুলি, কার্নেলিয়ান) দিয়ে তাঁরা নানা রকম গয়না ও পুঁতি বানাত।
  • সিলমোহর: নরম পাথর কেটে তৈরি সিলমোহর বানানো ছিল তাঁদের শ্রেষ্ঠ শিল্পকীর্তি।

বাণিজ্য: হরপ্পা সভ্যতার অর্থনীতি বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল।

  • অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য: বলদে টানা গাড়িতে বা নৌকায় করে সাম্রাজ্যের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে কাঁচামাল ও তৈরি জিনিসপত্র যেত।
  • বৈদেশিক বাণিজ্য: মেসোপটেমিয়া (বর্তমান ইরাক), ইরান এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে হরপ্পার জলপথে বাণিজ্য চলত। মেসোপটেমিয়ায় হরপ্পার সিলমোহর পাওয়া গেছে, যা এই বাণিজ্যের প্রমাণ। লোথাল ছিল এই সভ্যতার প্রধান বন্দর-নগরী।

১২. হরপ্পা সভ্যতার লিপি (Script) সম্পর্কে কী জানা যায়? [৩ নম্বর]

উত্তর:

  • হরপ্পার লোকেরা লিখতে জানত। তাদের লিপি মূলত সিলমোহর ও মাটির পাত্রের গায়ে পাওয়া গেছে।
  • এই লিপি ছিল ‘সাংকেতিক’ বা ‘চিত্রলিপি’ (Pictographic), এতে প্রায় ৩৭৫ থেকে ৪০০টি চিহ্ন রয়েছে।
  • এই লিপি ডানদিক থেকে বাঁদিকে লেখা হতো।
  • দুর্ভাগ্যবশত, এই লিপির পাঠোদ্ধার বা পড়া আজও সম্ভব হয়নি। এটি পড়া গেলে হরপ্পা সভ্যতা সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য জানা যেত।

১৩. হরপ্পা সভ্যতার পতনের কারণগুলি কী ছিল? [৫ নম্বর]

উত্তর: কোনো একটি বিশেষ কারণে হরপ্পা সভ্যতার পতন ঘটেনি। ঐতিহাসিকরা একাধিক কারণকে দায়ী করেছেন:

  1. বন্যা: মহেনজোদাড়ো ও অন্যান্য শহর সিন্ধু নদের তীরে হওয়ায় বারবার বন্যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে মনে করা হয়।
  2. জলবায়ু পরিবর্তন: আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ২২০০ অব্দ নাগাদ বৃষ্টিপাত কমতে শুরু করে এবং জলবায়ু শুষ্ক হয়ে যায়, যা কৃষিকাজের ব্যাপক ক্ষতি করে।
  3. পরিবেশের অবনতি: ইট পোড়ানো এবং বাড়ি তৈরির জন্য প্রচুর পরিমাণে গাছ কাটা বা জঙ্গল ধ্বংসের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা বৃষ্টিপাত কমিয়ে দেয়।
  4. বাণিজ্যে ঘাটতি: মেসোপটেমিয়ার সঙ্গে বৈদেশিক বাণিজ্যে ভাটা পড়ায় হরপ্পার নগরগুলির অর্থনৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
  5. শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা: সম্ভবত এই প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক সংকটগুলি সামাল দিতে না পারায় নগরগুলির শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।

(দ্রষ্টব্য: আর্যদের আক্রমণের তত্ত্বটি বর্তমানে আর সেভাবে গ্রহণ করা হয় না।)

BISWAZ GROWTH ACADEMY - Class Menu
BISWAZ GROWTH ACADEMY - Class Menu