বিষয়: অতীত ও ঐতিহ্য (সপ্তম শ্রেণি)
অধ্যায় ৫: মুঘল সাম্রাজ্য (প্রকল্প নোটস)
মূল ধারণা ও প্রশ্নাবলী
১. মুঘল কারা? বাবর কোন দুটি প্রধান শক্তির বংশধর ছিলেন?
উত্তর: ‘মুঘল’ শব্দটি ‘মোঙ্গল’ শব্দ থেকে এসেছে। ভারতের মুঘল শাসকরা ছিলেন দুটি প্রধান মধ্য এশীয় রাজবংশের বংশধর:
- পিতৃপক্ষে: তাঁরা ছিলেন তুর্কি নেতা **তৈমুর লঙ**-এর বংশধর। মুঘলরা এই তৈমুরের বংশধর হিসেবেই বেশি গর্ববোধ করতেন।
- মাতৃপক্ষে: তাঁরা ছিলেন মোঙ্গল নেতা **চেঙ্গিস খান**-এর বংশধর।
ভারতের প্রথম মুঘল বাদশাহ ছিলেন জহিরউদ্দিন মহম্মদ বাবর।
২. ‘বাদশাহ’ ও ‘সুলতান’ উপাধির মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর:
- সুলতান: দিল্লির তুর্কি শাসকরা ‘সুলতান’ উপাধি নিতেন। এই উপাধিটি তত্ত্বগতভাবে ইসলামীয় ধর্মগুরু খলিফার অনুমোদনসাপেক্ষ ছিল। মুঘলরা ‘সুলতান’ শব্দটি সাধারণত যুবরাজদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করত (যেমন – সুলতান সলিম)।
- বাদশাহ: মুঘল শাসকরা ‘বাদশাহ’ বা ‘পাদশাহ’ (ফারসি শব্দ, অর্থ প্রভু বা শাসক) উপাধি ব্যবহার করতেন। এই উপাধি ব্যবহার করে তাঁরা বোঝাতেন যে, তাঁদের শাসন করার ক্ষমতা ঈশ্বরের প্রদত্ত এবং তাঁরা অন্য কোনো শাসকের (যেমন খলিফা) অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল নন, অর্থাৎ তাঁরা সার্বভৌম।
৩. পানিপথের প্রথম যুদ্ধ (১৫২৬) কাদের মধ্যে হয়েছিল? বাবরের জয়ের কারণ কী?
উত্তর:
কাদের মধ্যে: পানিপথের প্রথম যুদ্ধ (১৫২৬ খ্রিঃ) হয়েছিল দিল্লির লোদি বংশের শেষ সুলতান **ইব্রাহিম লোদি** এবং মুঘল নেতা **জহিরউদ্দিন মহম্মদ বাবর**-এর মধ্যে। এই যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদি পরাজিত ও নিহত হন এবং বাবর দিল্লিতে মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
বাবরের জয়ের কারণ: বাবরের সৈন্যসংখ্যা ইব্রাহিম লোদির চেয়ে অনেক কম হলেও, বাবর মূলত দুটি বিশেষ রণকৌশলের জন্য জয়লাভ করেন:
- কামান ও বন্দুকের ব্যবহার (গোলন্দাজ বাহিনী): বাবরই প্রথম ভারতের যুদ্ধে তুর্কিদের থেকে শেখা ‘রুমি’ কৌশল অনুসারে কামান ও বন্দুকের (গোলন্দাজ বাহিনী) কার্যকর ব্যবহার করেন। কামানের শব্দে লোদির হস্তীবাহিনী ভয় পেয়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
- তুলুঘমা (Tulughma) রণকৌশল: এই কৌশলে বাবর তাঁর দ্রুতগামী ঘোড়সওয়ার তিরন্দাজ বাহিনীকে দুটি ভাগে ভাগ করে শত্রুপক্ষকে দুই পাশ ও পেছন দিক থেকে ঘিরে ফেলার নির্দেশ দেন।
এই দ্বিমুখী আক্রমণে (সামনে কামান, পাশে তিরন্দাজ) লোদির অনভিজ্ঞ বাহিনী দিশাহারা হয়ে পরাজিত হয়।
চিত্র: পানিপথের যুদ্ধে বাবরের ‘রুমি’ ও ‘তুলুঘমা’ কৌশলের নকশা।
৪. ‘পাট্টা’ ও ‘কবুলিয়ত’ কী? ‘দাগ’ ও ‘হুলিয়া’ ব্যবস্থা কে চালু করেন?
উত্তর: আফগান শাসক শের শাহ (যিনি হুমায়ুনকে পরাজিত করে শাসন করেন) তাঁর রাজস্ব ও সামরিক ব্যবস্থায় একাধিক সংস্কার করেন:
- পাট্টা ও কবুলিয়ত: শের শাহ কৃষককে জমির ওপর তার স্বত্ব বা অধিকার নির্দিষ্ট করে ‘পাট্টা’ দিতেন। এই পাট্টায় কৃষকের নাম, জমিতে তার অধিকার এবং কত রাজস্ব দিতে হবে তা লেখা থাকত। এর বিনিময়ে, কৃষক রাজস্ব দেওয়ার কথা স্বীকার করে রাষ্ট্রকে যে দলিল সই করে দিত, তাকে ‘কবুলিয়ত’ বলা হতো।
- দাগ ও হুলিয়া: শের শাহ সামরিক বাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে সুলতান আলাউদ্দিন খলজির চালু করা ‘দাগ’ (সৈন্যদের ঘোড়ার ওপর রাজকীয় চিহ্ন এঁকে দেওয়া) এবং ‘হুলিয়া’ (সৈন্যদের চেহারার বিস্তারিত বিবরণ নথিভুক্ত করা) ব্যবস্থা পুনরায় চালু করেন। এর ফলে সেনাবাহিনীতে দুর্নীতি ও জালিয়াতি বন্ধ করা সহজ হয়।
৫. ‘সড়ক-ই-আজম’ কে, কেন নির্মাণ করেন?
উত্তর: শের শাহ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য বাংলার সোনারগাঁ থেকে উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে পেশোয়ার পর্যন্ত বিস্তৃত পুরোনো রাস্তাটি সংস্কার করান। এই রাস্তাটি ‘সড়ক-ই-আজম’ নামে পরিচিতি লাভ করে। পরবর্তীকালে ব্রিটিশ আমলে এটি ‘গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড’ নামে খ্যাত হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল দ্রুত ডাক-যোগাযোগ এবং সামরিক বাহিনীর যাতায়াত নিশ্চিত করা।
৬. আকবরের নবরত্ন সভার দুজন বিখ্যাত সদস্যের নাম এবং তাদের কৃতিত্ব উল্লেখ করো।
উত্তর: আকবরের দরবারে ন-জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে একত্রে ‘নবরত্ন’ বলা হতো। তাঁদের মধ্যে দুজন হলেন:
- রাজা বীরবল (মহেশ দাস): তিনি ছিলেন আকবরের প্রধানমন্ত্রী (ওয়াজির-ই আজম) এবং অত্যন্ত বুদ্ধিমান একজন পরামর্শদাতা। তাঁর বুদ্ধিমত্তার অনেক গল্প প্রচলিত আছে।
- আবুল ফজল আল্লামি: তিনি ছিলেন আকবরের সভাসদ ও ঐতিহাসিক। তিনি আকবরের জীবনী ‘আকবরনামা’ রচনা করেন, যা সেই যুগের ইতিহাসের এক অমূল্য উপাদান।
৭. ‘বারো ভূঁইয়া’ কারা ছিলেন?
উত্তর: মুঘল সম্রাট আকবরের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র জাহাঙ্গিরের আমলে বাংলার স্থানীয় হিন্দু জমিদার ও আফগান নেতারা মুঘলদের বিরুদ্ধে বারংবার বিদ্রোহ করেন। এই বিদ্রোহী জমিদার ও আফগান নেতারা সম্মিলিতভাবে ‘বারো ভূঁইয়া’ নামে পরিচিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রতাপাদিত্য, চাঁদ রায়, কেদার রায় এবং ইশা খান ছিলেন প্রধান।
৮. আকবরের ‘রাজপুত নীতি’ কী ছিল? ‘ওয়াতন জায়গির’ বলতে কী বোঝো?
উত্তর:
আকবরের রাজপুত নীতি: আকবর বুঝেছিলেন যে, হিন্দুস্তানের ওপর মুঘল শাসন সুদৃঢ় করতে গেলে শুধুমাত্র তুর্কি বা মুঘল অভিজাতদের ওপর নির্ভর করলে চলবে না, স্থানীয় শক্তিশালী রাজপুতদেরও শাসনে অংশীদার করতে হবে। তাই তিনি ‘মৈত্রী ও যুদ্ধনীতি’-র এক মিশ্র নীতি গ্রহণ করেন:
- তিনি রাজপুত রাজপরিবারগুলির সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করেন (যেমন – অম্বরের রাজকন্যা যোধাবাঈ-এর সাথে)।
- তিনি রাজপুত রাজাদের (যেমন – রাজা মান সিংহ, রাজা ভগবান দাস) মুঘল প্রশাসনের উচ্চ ‘মনসব’ বা পদে নিয়োগ করেন।
- তিনি অ-মুসলিমদের ওপর থেকে ‘তীর্থকর’ ও ‘জিজিয়া কর’ তুলে নেন।
- যেসব রাজপুত রাজ্য (যেমন মেওয়াড়) এই মৈত্রী নীতি গ্রহণ করেনি, তাদের বিরুদ্ধে তিনি যুদ্ধ করেন (যেমন – হলদিঘাটির যুদ্ধ)।
ওয়াতন জায়গির: আকবরের নীতি মেনে যেসব রাজপুত রাজা মুঘলদের বশ্যতা স্বীকার করতেন, বাদশাহ তাঁদের নিজস্ব রাজ্য বা ‘ওয়াতন’ (নিজের ভিটে বা এলাকা) ফেরত দিতেন। এই নিজস্ব রাজ্যকে জায়গির হিসেবে ভোগ করার অধিকারকে ‘ওয়াতন জায়গির’ বলা হতো। এর ফলে রাজপুতরা নিজেদের রাজ্যে শাসনও করতে পারতেন, আবার মুঘল মনসবদার হিসেবেও কাজ করতেন।
৯. আকবরের ‘সুলহ-ই কুল’ ও ‘দীন-ই ইলাহি’ আদর্শ দুটি কী ছিল?
উত্তর:
সুলহ-ই কুল (Sulh-i-Kul): এটি আকবরের প্রশাসনিক ও ধর্মীয় আদর্শ। এর আক্ষরিক অর্থ হলো ‘সকলের প্রতি সহনশীলতা’ বা ‘সকলের জন্য শান্তি’। আকবর বুঝতে পেরেছিলেন যে, বিভিন্ন ধর্ম, জাতি ও গোষ্ঠীর মানুষকে নিয়ে গঠিত এই সাম্রাজ্যকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে হলে ধর্মীয় গোঁড়ামি ত্যাগ করতে হবে। এই আদর্শের ভিত্তিতে তিনি চেয়েছিলেন, সাম্রাজ্যের সকল প্রজা যেন বাদশাহের প্রতি অনুগত থাকে এবং একে অপরের প্রতি সহনশীল হয়।
দীন-ই ইলাহি (Din-i-Ilahi): ‘সুলহ-ই কুল’ আদর্শের ভিত্তিতেই আকবর ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দে ‘দীন-ই ইলাহি’ নামে একটি ব্যক্তিগত মতাদর্শ বা বিশ্বাস গড়ে তোলেন। এটি কোনো নতুন ধর্ম ছিল না, বরং এটি ছিল হিন্দু, ইসলাম, জৈন, পারসি প্রভৃতি ধর্মের ভালো ভালো নীতিগুলির একটি সংমিশ্রণ। এর মূল কথা ছিল একেশ্বরবাদ এবং বাদশাহের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য। বীরবলের মতো গুটিকয়েক অভিজাতই কেবল এই মত গ্রহণ করেছিলেন।
১০. ‘মনসবদারি ব্যবস্থা’ কী? ‘জায়গির’ বলতে কী বোঝো?
উত্তর:
মনসবদারি ব্যবস্থা: ‘মনসব’ একটি ফারসি শব্দ, যার অর্থ ‘পদ’ বা ‘মর্যাদা’। আকবর তাঁর সাম্রাজ্যের সামরিক ও অসামরিক প্রশাসন পরিচালনার জন্য এই ব্যবস্থা চালু করেন।
যারা সরকারি পদে যোগ দিতেন, তাঁদের ‘মনসবদার’ বলা হতো। প্রতিটি মনসবদার দুটি পদের অধিকারী হতেন—’জাত’ ও ‘সওয়ার’।
- জাত: ‘জাত’ পদের মাধ্যমে প্রশাসনে ওই মনসবদারের মর্যাদা বা বেতন নির্ধারিত হতো।
- সওয়ার: ‘সওয়ার’ পদের মাধ্যমে নির্ধারিত হতো যে ওই মনসবদারকে কতজন ঘোড়সওয়ার সৈন্য রাখতে হবে।
মনসবদারদের কর্তব্য ছিল বাদশাহের জন্য সৈন্য প্রস্তুত রাখা এবং যুদ্ধের সময় সৈন্য যোগান দেওয়া।
জায়গির: মনসবদারদের বেতন নগদে অথবা রাজস্ব বরাতের মাধ্যমে দেওয়া হতো। নির্দিষ্ট এলাকা থেকে রাজস্ব আদায়ের এই বরাত বা অধিকারকেই বলা হতো ‘জায়গির’। যিনি জায়গির পেতেন, তিনি ‘জায়গিরদার’ নামে পরিচিত হতেন। জায়গিরদাররা ওই রাজস্ব থেকে নিজেদের বেতন ও সৈন্যদের খরচ মেটাতেন।
১১. ‘জাবতি’ ব্যবস্থা বা ‘টোডরমলের বন্দোবস্ত’ কী?
উত্তর: আকবরের রাজস্বমন্ত্রী ছিলেন রাজা টোডরমল। তিনি শের শাহের রাজস্ব ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে একটি নতুন ভূমি-রাজস্ব ব্যবস্থা চালু করেন।
- এই ব্যবস্থায় জমি জরিপ করে বা মেপে (জাবত) তার উর্বরতা অনুযায়ী রাজস্ব নির্ধারণ করা হতো।
- একটি নির্দিষ্ট এলাকার আগের দশ বছরের (দহ-সালা) তথ্যের ভিত্তিতে মোট উৎপাদনের এক-তৃতীয়াংশ রাজস্ব হিসেবে ধার্য করা হয়।
জমি জরিপের ভিত্তিতে রাজস্ব নির্ধারণের এই পদ্ধতিকে ‘জাবতি’ ব্যবস্থা এবং টোডরমলের নামানুসারে একে ‘টোডরমলের বন্দোবস্ত’ বলা হয়।
অতিরিক্ত প্রশ্নাবলী (Higher Order Thinking)
১২. ঔরঙ্গজেবের রাজপুত নীতি আকবরের থেকে কীভাবে আলাদা ছিল?
উত্তর: আকবর রাজপুতদের সাথে মৈত্রী ও বিবাহের মাধ্যমে সম্পর্ক স্থাপন করে সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় করেছিলেন। ঔরঙ্গজেবও প্রথমদিকে রাজপুতদের (যেমন – মির্জা রাজা জয়সিংহ, যশোবন্ত সিংহ) উচ্চ মনসব দেন এবং তাঁর আমলেই মনসবদারদের মধ্যে রাজপুতের সংখ্যা সর্বাধিক ছিল।
পার্থক্য: আকবর রাজপুতদের ধর্মীয় স্বাধীনতা (জিজিয়া ও তীর্থকর রদ) দিয়েছিলেন। কিন্তু ঔরঙ্গজেব ১৬৭৯ খ্রিস্টাব্দে পুনরায় ‘জিজিয়া কর’ চাপিয়ে দেন। এছাড়া, মারওয়াড়ের রানা যশোবন্ত সিংহের মৃত্যুর পর তিনি সরাসরি সেই রাজ্যটি মুঘল সাম্রাজ্যভুক্ত করার চেষ্টা করেন। এর ফলে মুঘলদের সঙ্গে রাঠোর ও মেওয়াড় রাজ্যের দীর্ঘমেয়াদী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়, যা আকবরের নীতির পরিপন্থী ছিল এবং সাম্রাজ্যের ক্ষতি করে।
১৩. ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীতি (Deccan Policy) কীভাবে মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের কারণ হয়েছিল?
উত্তর: ঔরঙ্গজেব তাঁর রাজত্বকালের শেষ ২৫ বছর (১৬৮১-১৭০৭) দাক্ষিণাত্যে (দক্ষিণ ভারতে) কাটিয়েছিলেন। এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধই মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
- মারাঠা শক্তির উত্থান: তাঁর প্রধান লক্ষ্য ছিল মারাঠা নেতা শিবাজীকে দমন করা। তিনি বিজাপুর ও গোলকোন্ডা (দাক্ষিণাত্যের দুটি শিয়া রাজ্য) দখল করলেও মারাঠাদের পুরোপুরি দমন করতে পারেননি।
- রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ: মারাঠাদের সঙ্গে এই পঁচিশ বছরের নিরন্তর গেরিলা যুদ্ধে মুঘলদের বহু সৈন্য ও অর্থ নষ্ট হয়।
- রাজকোষ শূন্য: দাক্ষিণাত্য থেকে যে পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের আশা করা হয়েছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি অর্থ যুদ্ধের খরচে ব্যয় হয়ে যায়, ফলে রাজকোষ শূন্য হয়ে পড়ে।
- শাসনে অবহেলা: বাদশাহ নিজে ২৫ বছর দিল্লি থেকে দূরে থাকায় উত্তর ভারতে শাসনব্যবস্থা শিথিল হয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্রোহ দেখা দেয়।
এই কারণগুলির জন্য ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীতিকে ‘দাক্ষিণাত্য ক্ষত’ (Deccan Ulcer) বলা হয়, যা মুঘল সাম্রাজ্যের পতনকে ত্বরান্বিত করে।
১৪. জাহাঙ্গিরের আমলে ‘নূরজাহান চক্র’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: জাহাঙ্গিরের স্ত্রী, সম্রাজ্ঞী নূরজাহান, অত্যন্ত প্রতিভাশালী ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী নারী ছিলেন। জাহাঙ্গিরের রাজত্বকালের শেষদিকে (বিশেষত ১৬২২-২৭ খ্রিঃ) বাদশাহ অসুস্থ হয়ে পড়লে নূরজাহানই কার্যত পর্দার আড়াল থেকে শাসন ক্ষমতা পরিচালনা করতেন।
তিনি তাঁর বাবা (ইতিমাদ-উদ-দৌলা), ভাই (আসিফ খান) এবং শাহজাদা খুররমকে (পরবর্তী শাহ জাহান) নিয়ে দরবারে একটি শক্তিশালী গোষ্ঠী বা ‘চক্র’ তৈরি করেন। এই চক্রটিই জাহাঙ্গিরের নামে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিত। মুঘল দরবারের এই প্রভাবশালী গোষ্ঠীকে ঐতিহাসিকরা ‘নূরজাহান চক্র’ বলে অভিহিত করেছেন।