প্রকল্প পত্র (সপ্তম শ্রেণি): অধ্যায় ৪ – দিল্লি সুলতানি: তুর্কো-আফগান শাসন
প্রসেসিং…

বিষয়: অতীত ও ঐতিহ্য (সপ্তম শ্রেণি)

অধ্যায় ৪: দিল্লি সুলতানি: তুর্কো-আফগান শাসন (প্রকল্প নোটস)

মূল ধারণা ও প্রশ্নাবলী

১. ‘সুলতান’ ও ‘বাদশাহ’ উপাধির মধ্যে পার্থক্য কী? [২ নম্বর]

উত্তর:

  • সুলতান: ‘সুলতান’ একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ কর্তৃত্ব বা ক্ষমতা। দিল্লির তুর্কি শাসকরা এই উপাধি ব্যবহার করতেন। সুলতানরা তত্ত্বগতভাবে ইসলাম জগতের প্রধান ধর্মগুরু ‘খলিফা’-র অনুমোদন নিয়ে শাসন করতেন।
  • বাদশাহ: ‘বাদশাহ’ বা ‘পাদশাহ’ একটি ফারসি শব্দ, যার অর্থ ‘প্রভু বা শাসক’। মুঘল শাসকরা এই উপাধি ব্যবহার করতেন। এই উপাধি ব্যবহার করে তাঁরা বোঝাতেন যে, তাঁদের শাসন করার ক্ষমতা ঈশ্বরের কাছ থেকে পাওয়া এবং তাঁরা অন্য কোনো শাসকের (যেমন খলিফা) অনুমোদনের উপর নির্ভরশীল নন।

২. দিল্লির সুলতানদের কেন খলিফার অনুমোদন প্রয়োজন হতো? [৩ নম্বর] [গুরুত্বপূর্ণ]

উত্তর: ইসলামীয় জগতের প্রধান শাসক ও ধর্মগুরু ছিলেন খলিফা। তত্ত্বগতভাবে, সমস্ত মুসলিম শাসকেরই খলিফার প্রতি আনুগত্য জানানোর কথা।

দিল্লির সুলতানিতে যখনই কোনো সুলতানের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠত বা অভিজাতরা বিদ্রোহ করত, তখনই সুলতান নিজের শাসনকে ‘বৈধ’ বা ‘আইনি’ প্রমাণ করার জন্য খলিফার অনুমোদন বা আশীর্বাদ প্রার্থনা করতেন। যেমন, ইলতুৎমিশ নিজের শাসনকে দৃঢ় করার জন্য বাগদাদের খলিফার অনুমোদন (‘দুরবাশ’ ও ‘খিলাত’) আনিয়েছিলেন (১২২৯ খ্রিঃ)। এই অনুমোদনকে বাকিরা সহজে অমান্য করতে পারত না।

৩. ‘বন্দেগান-ই চিহলগানি’ বা ‘চল্লিশ চক্র’ কী? [৩ নম্বর]

উত্তর: ‘বন্দেগান-ই চিহলগানি’ কথার আক্ষরিক অর্থ ‘চল্লিশ জন বান্দা বা অনুগামী’। সুলতান ইলতুৎমিশ তাঁর অনুগত চল্লিশ জন তুর্কি যোদ্ধাদের নিয়ে একটি শক্তিশালী অভিজাত গোষ্ঠী তৈরি করেন।

এই গোষ্ঠীই ‘বন্দেগান-ই চিহলগানি’ বা ‘চল্লিশ চক্র’ নামে পরিচিত। নামে ‘চল্লিশ’ হলেও এদের সংখ্যা চল্লিশের কম বা বেশি হতে পারত। ইলতুৎমিশের আমলে এরাই ছিল সুলতানি শাসনব্যবস্থার প্রধান স্তম্ভ। কিন্তু ইলতুৎমিশের মৃত্যুর পর এরাই অত্যন্ত ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠে এবং সুলতান কে হবেন, তা ঠিক করতে শুরু করে।

৪. সুলতানা রাজিয়া কেন ব্যর্থ হলেন? [৩ নম্বর]

উত্তর: সুলতানা রাজিয়া (১২৩৬-’৪০ খ্রিঃ) ছিলেন দিল্লির প্রথম ও শেষ নারী শাসক। তাঁর ব্যর্থতার প্রধান কারণগুলি হলো:

  1. অভিজাতদের বিরোধিতা: একজন নারী সুলতান হবেন, এটা ক্ষমতাবান তুর্কি অভিজাতরা (‘চল্লিশ চক্র’) মেনে নিতে পারেননি।
  2. অ-তুর্কিদের গুরুত্বদান: রাজিয়া তুর্কি অভিজাতদের ক্ষমতা কমানোর জন্য অ-তুর্কি অভিজাতদের বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করেন, যা তুর্কি অভিজাতদের ক্ষুব্ধ করে।
  3. লিঙ্গ: তাঁর নারী হওয়াই ছিল তাঁর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড়ো অভিযোগ। এই কারণে অভিজাতরা একজোট হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এবং তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়।
  4. ৫. গিয়াসউদ্দিন বলবনের ‘সিজদা’ ও ‘পাইবস’ প্রথা চালুর উদ্দেশ্য কী ছিল? [২ নম্বর]

    উত্তর: সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন ছিলেন ‘চল্লিশ চক্র’-এর অন্যতম সদস্য। তাই সুলতান হওয়ার পর তিনি রাজতন্ত্রের মর্যাদা ও ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে চেয়েছিলেন।

    এই উদ্দেশ্যে তিনি দরবারে দুটি পারসিক প্রথা চালু করেন: ১) **সিজদা** (সুলতানকে সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করা) এবং ২) **পাইবস** (সুলতানের পদযুগল চুম্বন করা)। এই প্রথাগুলির মাধ্যমে বলবন প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন যে, সুলতানের ক্ষমতা ও মর্যাদা অন্যান্য অভিজাতদের থেকে অনেক উপরে এবং সুলতান হলেন পৃথিবীতে ঈশ্বরের প্রতিনিধি।

    ৬. ‘খলজি বিপ্লব’ (১২৯০ খ্রিঃ) বলতে কী বোঝায়? [৩ নম্বর]

    উত্তর: ১২৯০ খ্রিস্টাব্দে জালালউদ্দিন ফিরোজ খলজি, বলবনের বংশধরদের (ইলবারি তুর্কি) ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়ে দিল্লির সুলতান হন। এই ঘটনাকে ‘খলজি বিপ্লব’ বলা হয়।

    এর ফলে শুধু একটি রাজবংশের পতন ঘটেনি, বরং দিল্লি সুলতানিতে ইলবারি তুর্কি অভিজাতদের একচেটিয়া ক্ষমতার অবসান ঘটে। এর বদলে খলজি তুর্কি এবং ভারতীয় হিন্দুস্তানিদের (যাঁরা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন) ক্ষমতা ও গুরুত্ব অনেক বেড়ে গিয়েছিল।

    ৭. আলাউদ্দিন খলজির দাক্ষিণাত্য অভিযানের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল? এই অভিযানে কে নেতৃত্ব দেন? [৩ নম্বর]

    উত্তর: আলাউদ্দিন খলজি ছিলেন দিল্লির প্রথম সুলতান যিনি দক্ষিণ ভারতে সুলতানি সাম্রাজ্যের বিস্তার ঘটান।

    উদ্দেশ্য: তাঁর দাক্ষিণাত্য অভিযানের মূল উদ্দেশ্য সাম্রাজ্য বিস্তার করা ছিল না, বরং দাক্ষিণাত্যের রাজ্যগুলি (যেমন – দেবগিরি, ওয়ারাঙ্গল) থেকে বিপুল পরিমাণ ধনসম্পদ সংগ্রহ করা এবং সেই রাজ্যগুলিকে দিল্লির সুলতানির অধীনস্থ করদ রাজ্যে পরিণত করাই ছিল তাঁর প্রধান লক্ষ্য।

    নেতৃত্ব: এই অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তাঁর প্রধান সেনাপতি **মালিক কাফুর**।

    ৮. ইবন বতুতা কে ছিলেন? তাঁর বিবরণী থেকে কী জানা যায়? [৩ নম্বর]

    উত্তর: ইবন বতুতা ছিলেন উত্তর আফ্রিকার মরক্কো দেশীয় একজন বিখ্যাত পর্যটক। তিনি সুলতান মহম্মদ বিন তুঘলকের শাসনকালে (চতুর্দশ শতক) ভারতে আসেন। তাঁর লেখা ভ্রমণ বিবরণীর নাম ‘অল-রিহলা’।

    তাঁর বিবরণী থেকে মহম্মদ বিন তুঘলকের আমলের ডাক ব্যবস্থা (ঘোড়ার ডাক বা ‘উলাক’ এবং পায়ে হাঁটা ডাক বা ‘দাওয়া’), যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সুলতানের খামখেয়ালি শাসনের অনেক তথ্য জানা যায়।

    ৯. ‘তুঘলকি কাণ্ডকারখানা’ বলতে কী বোঝায়? মহম্মদ বিন তুঘলকের দুটি প্রধান পরিকল্পনা উল্লেখ করো। [৫ নম্বর] [গুরুত্বপূর্ণ]

    উত্তর: ‘তুঘলকি কাণ্ডকারখানা’ কথাটি সুলতান মহম্মদ বিন তুঘলকের খামখেয়ালি বা অবাস্তব কাজকর্মকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। তিনি অনেক যুগান্তকারী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু উপযুক্ত ব্যবস্থা না নেওয়ায় সেগুলি ব্যর্থ হয়।

    দুটি প্রধান পরিকল্পনা:

    1. রাজধানী স্থানান্তর (১৩২৭ খ্রিঃ): সুলতান মোঙ্গল আক্রমণের ভয় থেকে বাঁচতে এবং দাক্ষিণাত্যে ভালোভাবে শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য দিল্লি থেকে দেবগিরিতে (নতুন নাম দৌলতাবাদ) রাজধানী স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। দিল্লির সমস্ত অধিবাসীকে তিনি দৌলতাবাদ যেতে বাধ্য করেন। এই অভিযানে পথে বহু মানুষ প্রাণ হারান। কয়েক বছর পর সুলতান আবার রাজধানী দিল্লিতে ফিরিয়ে আনেন।
    2. তামার মুদ্রা প্রচলন (১৩২৯ খ্রিঃ): তৎকালীন বিশ্বে সোনা ও রুপোর ঘাটতি দেখা দিলে, সুলতান মূল্যবান ধাতুর বদলে প্রতীকী মুদ্রা হিসেবে ‘তামার মুদ্রা’ চালু করেন। কিন্তু এই মুদ্রা যাতে জাল বা নকল না করা যায়, তার জন্য তিনি কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা (যেমন – মুদ্রায় রাজকীয় ছাপ) নেননি। ফলে বহু লোক বাড়িতেই তামার মুদ্রা জাল করতে শুরু করে। বাজার জাল মুদ্রায় ছেয়ে গেলে সুলতান এই পরিকল্পনা প্রত্যাহার করেন এবং তামার মুদ্রার বদলে রাজকোষ থেকে সোনা ও রুপোর মুদ্রা ফেরত দিতে বাধ্য হন। এর ফলে রাজকোষ শূন্য হয়ে যায়।

    ১০. সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলকের জনকল্যাণমূলক কাজগুলি কী ছিল? [৩ নম্বর]

    উত্তর: ফিরোজ শাহ তুঘলক একাধিক জনকল্যাণমূলক কাজ করেছিলেন:

    • কৃষি সংস্কার: কৃষির উন্নতির জন্য তিনি অনেকগুলি সেচখাল খনন করেন এবং পুরোনো খাল সংস্কার করেন।
    • জনহিতকর দপ্তর: তিনি দরিদ্রদের জন্য অর্থসাহায্যের ব্যবস্থা করেন এবং বেকার সমস্যা সমাধানের জন্য একটি দপ্তর খোলেন যেখান থেকে চাকরি দেওয়া হতো।
    • নির্মাণকার্য: তিনি একাধিক নতুন শহর (যেমন – জৌনপুর, ফিরোজাবাদ), মসজিদ, মাদ্রাসা এবং হাসপাতাল তৈরি করেন।

    ১১. ‘ইকতা’ ব্যবস্থা কী? ইকতাদারদের কাজ কী ছিল? [৫ নম্বর]

    উত্তর:

    ইকতা ব্যবস্থা: দিল্লি সুলতানিতে সাম্রাজ্যকে অনেকগুলি প্রদেশে ভাগ করা হয়েছিল। এই প্রদেশগুলিকেই বলা হতো ‘ইকতা’।

    ইকতাদার: সুলতান তাঁর সামরিক নেতাদের (আমির) বেতনের বদলে নির্দিষ্ট অঞ্চলের (ইকতা) রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব দিতেন। এই দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই ‘ইকতাদার’, ‘মুক্তি’ বা ‘ওয়ালি’ নামে পরিচিত ছিলেন।

    ইকতাদারদের কাজ:

    1. তাঁরা নিজেদের ইকতার রাজস্ব আদায় করতেন।
    2. সেই রাজস্ব থেকে তাঁরা নিজেদের ভরণপোষণ এবং নিজেদের অধীনে রাখা সেনাবাহিনীর খরচ চালাতেন।
    3. খরচের পর উদ্বৃত্ত রাজস্ব তাঁদের সুলতানের কোষাগারে জমা দিতে হতো।
    4. প্রয়োজনের সময় সুলতানকে সৈন্য দিয়ে সাহায্য করাও তাঁদের প্রধান দায়িত্ব ছিল।
    5. তাঁরা যাতে বিদ্রোহী না হন, তাই সুলতানরা প্রায়ই ইকতাদারদের এক ইকতা থেকে অন্য ইকতায় বদলি করে দিতেন।

    ১২. আলাউদ্দিন খলজির বাজারদর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার পরিচয় দাও। [৫ নম্বর]

    উত্তর: সুলতান আলাউদ্দিন খলজি একটি বিশাল স্থায়ী সেনাবাহিনী utrzymywania জন্য তাঁর সৈন্যদের নির্দিষ্ট ও কম বেতনের ব্যবস্থা করেন। সৈন্যরা যাতে ওই কম বেতনে ভালোভাবে জীবনধারণ করতে পারে, তার জন্য তিনি দিল্লিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেঁধে দেন বা নিয়ন্ত্রণ করেন। এটিই তাঁর ‘বাজারদর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা’ নামে পরিচিত।

    • তিনি খাদ্যশস্য, ঘোড়া, কাপড় ইত্যাদির জন্য আলাদা আলাদা বাজার (‘মান্ডি’) তৈরি করেন।
    • ‘শাহানা-ই মান্ডি’ ও ‘দেওয়ান-ই রিয়াসৎ’ নামে রাজকর্মচারীরা বাজারদর তদারকি করতেন।
    • সুলতানের ঠিক করে দেওয়া দামের থেকে বেশি দাম নিলে বা ওজনে ঠকালে বিক্রেতাকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হতো।
    • দুর্ভিক্ষের সময় প্রজাদের খাদ্যশস্য যোগান দেওয়ার জন্য তিনি ‘রেশন’ ব্যবস্থাও প্রবর্তন করেন।

    ১৩. বিজয়নগর ও বাহমনি রাজ্যের মধ্যে সংঘাতের মূল কারণ কী ছিল? [৩ নম্বর]

    উত্তর: বিজয়নগর ও বাহমনি রাজ্যের মধ্যে সংঘাতের মূল কারণ ছিল রাজনৈতিক, সামরিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করা।

    দুই রাজ্যই তিনটি উর্বর ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল দখল করতে চাইত:

    1. রায়চুর দোয়াব: কৃষ্ণা ও তুঙ্গভদ্রা নদীর মধ্যবর্তী এই উর্বর অঞ্চলটি।
    2. কৃষ্ণা-গোদাবরী অববাহিকা: এটিও একটি উর্বর ব-দ্বীপ অঞ্চল ছিল।
    3. মারাঠওয়াড়া দেশ: এটি বাণিজ্যিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

    এই উর্বর অঞ্চলগুলির রাজস্ব ও বাণিজ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্যই দুই রাজ্যের মধ্যে প্রায়শই যুদ্ধ লেগে থাকত।

    অতিরিক্ত প্রশ্নাবলী (Higher Order Thinking)

    ১৪. সুলতান রাজিয়ার মুদ্রায় “সুলতান” উপাধি ব্যবহারের তাৎপর্য কী? [২ নম্বর]

    উত্তর: আরবি ভাষায় ‘সুলতানা’ শব্দের অর্থ হলো সুলতানের স্ত্রী। রাজিয়া কোনো সুলতানের স্ত্রী ছিলেন না, তিনি নিজেই ছিলেন সার্বভৌম শাসক। তাই তিনি নিজের মুদ্রায় ‘সুলতানা’র বদলে ‘সুলতান’ উপাধি খোদাই করেন। এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, নারী হলেও তিনি অন্য যেকোনো পুরুষ শাসকের মতোই ক্ষমতাধর ও সার্বভৌম, তিনি কারো অধীন নন।

    ১৫. পানিপথের প্রথম যুদ্ধে (১৫২৬) বাবরের জয়ের প্রধান কারণগুলি কী ছিল? [৩ নম্বর]

    উত্তর: ইব্রাহিম লোদির সৈন্যসংখ্যা বাবরের চেয়ে অনেক বেশি হওয়া সত্ত্বেও বাবরের জয়ের প্রধান কারণগুলি ছিল:

    1. কামান ও বন্দুকের ব্যবহার: বাবর প্রথম এই যুদ্ধে তুর্কিদের থেকে শেখা ‘গোলন্দাজ’ বা কামান বাহিনী ব্যবহার করেন, যা আফগান বাহিনীর হাতিগুলিকে ভয় পাইয়ে দেয়।
    2. ‘রুমি’ রণকৌশল: বাবর এই যুদ্ধে ‘রুমি’ কৌশল (তুলুঘমা) ব্যবহার করেন। এই কৌশলে তাঁর ঘোড়সওয়ার তিরন্দাজ বাহিনী শত্রুপক্ষকে দুই পাশ ও পেছন দিক থেকে ঘিরে ফেলে এবং সামনের দিক থেকে কামান আক্রমণ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
    3. ইব্রাহিম লোদির দুর্বলতা: ইব্রাহিম লোদির অনেক আফগান অভিজাত তাঁর ওপর অসন্তুষ্ট ছিলেন এবং যুদ্ধে পূর্ণ সহযোগিতা করেননি।

    ১৬. বিজয়নগর ও বাহমনি রাজ্যের সংঘাতকে কি “হিন্দু-মুসলমান” ধর্মযুদ্ধ বলা যায়? [৩ নম্বর]

    উত্তর: না, বিজয়নগর (হিন্দু) ও বাহমনি (মুসলিম) রাজ্যের সংঘাতকে কেবল “ধর্মযুদ্ধ” বলা যায় না।

    • মূল কারণ: এই যুদ্ধের প্রধান কারণ ছিল ধর্ম নয়, বরং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক। উভয় রাজ্যই রায়চুর দোয়াবের মতো উর্বর কৃষি অঞ্চল এবং বাণিজ্যিক পথগুলি দখল করতে চেয়েছিল।
    • সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান: উভয় রাজ্যই একে অপরের থেকে অনেক কিছু শিখেছিল। যেমন, বিজয়নগরের রাজা দ্বিতীয় দেবরায় তাঁর সেনাবাহিনীতে তুর্কি (মুসলিম) তিরন্দাজ নিয়োগ করেন।
    • উপাধি: বিজয়নগরের শাসকরাও নিজেদের “হিন্দু রাইদের (রাজা) মধ্যে সুলতান” বলে উপাধি নিতেন, যা ইসলামীয় শাসনের দ্বারা প্রভাবিত ছিল।

    সুতরাং, এই সংঘাত ছিল মূলত দুটি আঞ্চলিক শক্তির মধ্যে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক আধিপত্যের লড়াই।

BISWAZ GROWTH ACADEMY - Class Menu
BISWAZ GROWTH ACADEMY - Class Menu