Subject: Past and Heritage (Class 7) Chapter 2: Some Trends in Indian Political History (Project Notes)

প্রকল্প পত্র (সপ্তম শ্রেণি): অধ্যায় ২ – ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের কয়েকটি ধারা
প্রসেসিং…

বিষয়: অতীত ও ঐতিহ্য (সপ্তম শ্রেণি)

অধ্যায় ২: ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের কয়েকটি ধারা (প্রকল্প নোটস)

মূল ধারণা ও প্রশ্নাবলী

১. ‘বঙ্গ’ নামের প্রথম উল্লেখ কোথায় পাওয়া যায়? ‘বাংলা’ নামটির উৎপত্তি কীভাবে হয়? [৩ নম্বর]

উত্তর: ‘বঙ্গ’ নামটির প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় ঋগ্বেদের ‘ঐতরেয় আরণ্যক’-এ।

প্রাচীনকালে ‘বঙ্গ’ ছিল বাংলার একটি ছোট জনপদ মাত্র। পরে খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতকে ঐতিহাসিক মিনহাজ-ই-সিরাজের লেখাতেও ‘বঙ্গ’ রাজ্যের কথা আছে। মুঘল যুগে ঐতিহাসিক আবুল ফজল এই অঞ্চলকে ‘সুবা বাংলা’ বলে উল্লেখ করেন। ষোড়শ থেকে অষ্টাদশ শতকে ইউরোপীয় বণিকরা এই দেশকে ‘বেঙ্গালা’ (Bengala) নামে ডাকত। এই ‘বঙ্গ’, ‘বাংলা’ বা ‘বেঙ্গালা’ নামগুলি থেকেই ‘বাংলাদেশ’ বা ‘বাংলা’ নামের উৎপত্তি হয়েছে।

২. প্রাচীন বাংলার প্রধান অঞ্চলগুলির (জনপদ) নাম লেখো। [২ নম্বর]

উত্তর: প্রাচীন বাংলার প্রধান অঞ্চলগুলি বা জনপদগুলি ছিল—

  • পুণ্ড্রবর্ধন
  • বরেন্দ্র
  • বঙ্গ (এবং বঙ্গাল)
  • রাঢ় (উত্তর রাঢ় ও দক্ষিণ রাঢ়)
  • গৌড়
  • সমতট
  • হরিকেল

৩. প্রাচীন বাংলার ‘পুণ্ড্রবর্ধন’ ও ‘বঙ্গ’ জনপদ দুটির পরিচয় দাও। [৩ নম্বর]

উত্তর:

  • পুণ্ড্রবর্ধন: এটি ছিল প্রাচীন বাংলার বৃহত্তম জনপদ। আজকের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দিনাজপুর, বগুড়া, রাজশাহী এবং পাবনা জেলা নিয়ে এই অঞ্চল গঠিত ছিল। গুপ্তযুগে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘ভুক্তি’ বা শাসন-এলাকা ছিল।
  • বঙ্গ: প্রাচীনকালে পদ্মা ও ভাগীরথী নদীর মাঝের ত্রিভুজের মতো ব-দ্বীপ অঞ্চলকে ‘বঙ্গ’ বলা হতো। খ্রিস্টীয় একাদশ-দ্বাদশ শতকে ‘বঙ্গ’ বলতে এখনকার বাংলাদেশের ঢাকা, বিক্রমপুর, ফরিদপুর ও বরিশাল অঞ্চলকে বোঝানো হতো।

৪. ‘গৌড়’ জনপদটির পরিচয় দাও। শশাঙ্ক কে ছিলেন? [৫ নম্বর] [গুরুত্বপূর্ণ]

উত্তর:

গৌড়: প্রাচীন ও মধ্যযুগে গৌড় ছিল বাংলার এক গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল ও জনগোষ্ঠী। খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতকে আজকের মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও বর্ধমান জেলার পশ্চিম ভাগ নিয়ে গৌড় তৈরি হয়েছিল।

শশাঙ্ক: শশাঙ্ক ছিলেন প্রাচীন বাংলার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ এবং সার্বভৌম শাসক। তিনি প্রথমে গুপ্ত সম্রাটদের একজন ‘মহাসামন্ত’ ছিলেন। ৬০৬ খ্রিস্টাব্দের কিছু আগে তিনি গৌড়ের শাসক হন এবং পরবর্তীকালে গৌড়ের ক্ষমতা বহুদূর বিস্তার করেন।

তাঁর রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ (আজকের মুর্শিদাবাদে)। তিনি মগধ, বুদ্ধগয়া এমনকি ওড়িশার একাংশও নিজ অধিকারে আনেন। তিনি উত্তর ভারতের শক্তিশালী শাসক হর্ষবর্ধনের সঙ্গেও সফলভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। শশাঙ্কের আমলেই গৌড় একটি শক্তিশালী রাজ্যে পরিণত হয়েছিল।

প্রাচীন বাংলার জনপদ ভাগীরথী করতোয়া পদ্মা বরেন্দ্র গৌড় রাঢ় বঙ্গ সমতট হরিকেল পুণ্ড্রবর্ধন

চিত্র: প্রাচীন বাংলার প্রধান জনপদগুলির আপেক্ষিক অবস্থান।

৫. ‘মাৎস্যন্যায়’ বলতে কী বোঝায়? এর অবসান কীভাবে ঘটে? [৩ নম্বর] [গুরুত্বপূর্ণ]

উত্তর: ‘মাৎস্যন্যায়’ কথাটির আক্ষরিক অর্থ ‘মাছের মতো আচরণ’। পুকুরের বড় মাছ যেমন ছোট মাছকে অনায়াসে খেয়ে ফেলে, তেমনই কোনো দেশে স্থায়ী রাজা না থাকলে বা অরাজকতা চললে, শক্তিশালী লোকেরা দুর্বল লোকের ওপর অত্যাচার করে।

শশাঙ্কের মৃত্যুর পর (সপ্তম শতকের মধ্যভাগ) থেকে পাল বংশের প্রতিষ্ঠা পর্যন্ত (অষ্টম শতকের মধ্যভাগ) প্রায় একশো বছর বাংলায় কোনো কেন্দ্রীয় শাসক ছিলেন না। এই অরাজকতার সময়কালকে ‘মাৎস্যন্যায়’-এর যুগ বলা হয়।

অবসান: এই অরাজকতা দূর করার জন্য, বাংলার প্রভাবশালী লোকেরা (“প্রকৃতিপুঞ্জ”) একত্রিত হয়ে আনুমানিক ৭৫০ খ্রিস্টাব্দে গোপাল নামে একজনকে রাজা নির্বাচন করেন। এই গোপালের হাত ধরেই বাংলায় পাল বংশের রাজত্ব শুরু হয় এবং মাৎস্যন্যায়ের অবসান ঘটে।

৬. ‘ত্রিশক্তি সংগ্রাম’ কাদের মধ্যে, কেন এবং কতদিন ধরে চলেছিল? [৫ নম্বর]

উত্তর:

  • কাদের মধ্যে: খ্রিস্টীয় অষ্টম শতক থেকে উত্তর ভারতের কনৌজ দখলকে কেন্দ্র করে তিনটি প্রধান রাজবংশের মধ্যে এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চলেছিল। এই তিনটি শক্তি হলো—
    1. বাংলার **পাল** বংশ
    2. পশ্চিম ভারতের **গুর্জর-প্রতিহার** বংশ
    3. দাক্ষিণাত্যের **রাষ্ট্রকূট** বংশ
  • কেন (কারণ): কনৌজ ছিল উত্তর ভারতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শহর। এর ভৌগোলিক অবস্থান এবং খনিজ ও বাণিজ্যিক সম্পদের কারণে, মনে করা হতো যে কনৌজ দখল করতে পারলেই সমগ্র গাঙ্গেয় উপত্যকা বা উত্তর ভারত দখল করা সহজ হবে। এই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের কারণেই তিনটি শক্তিই কনৌজ দখলের লড়াইয়ে নামে।
  • সময়কাল: এই সংগ্রাম প্রায় দুশো বছর ধরে চলেছিল। এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ফলে তিনটি বংশেরই শক্তি শেষ পর্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে।

৭. ‘কৈবর্ত বিদ্রোহ’ সম্পর্কে যা জানো লেখো। [৫ নম্বর]

উত্তর: ‘কৈবর্ত বিদ্রোহ’ হলো পাল শাসনের বিরুদ্ধে একাদশ শতকের দ্বিতীয় ভাগে ঘটা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্রোহ।

  • কৈবর্ত কারা: কৈবর্তরা ছিল সম্ভবত নৌকার মাঝি বা জেলে। বাংলার উত্তর ভাগে (বরেন্দ্র অঞ্চলে) তাদের যথেষ্ট প্রভাব ছিল।
  • বিদ্রোহের কারণ: পাল রাজা দ্বিতীয় মহীপালের (আনু. ১০৭০-‘৭১ খ্রিঃ) শাসনকালে কৈবর্তরা বিদ্রোহ করে। এই বিদ্রোহের কারণ স্পষ্ট না হলেও, মনে করা হয় পাল শাসকদের দুর্বলতা এবং কৈবর্তদের ওপর কোনো প্রকার শোষণ বা অত্যাচারই এর কারণ ছিল।
  • নেতা: এই বিদ্রোহের তিনজন নেতা ছিলেন – দিব্য (বা দিব্বোক), রুদোক এবং ভীম।
  • ফলাফল: দিব্য পাল রাজা দ্বিতীয় মহীপালকে পরাজিত ও হত্যা করে বরেন্দ্র অঞ্চল দখল করে নেন। বেশ কিছুকাল বরেন্দ্র অঞ্চল কৈবর্তদের শাসনে থাকে। পরবর্তীকালে, পাল রাজা রামপাল বাংলা ও বিহারের অন্যান্য সামন্ত-নায়কদের সাহায্য নিয়ে কৈবর্ত রাজা ভীমকে পরাজিত ও হত্যা করেন এবং বরেন্দ্র অঞ্চল পুনরুদ্ধার করেন।
  • উৎস: সন্ধ্যাকর নন্দীর ‘রামচরিত’ কাব্য থেকে এই বিদ্রোহের বিবরণ জানা যায়।

৮. সেন রাজাদের আদি বাসস্থান কোথায় ছিল? বল্লালসেন ও লক্ষ্মণসেনের পরিচয় দাও। [৩ নম্বর]

উত্তর: সেন রাজাদের আদি বাসস্থান ছিল দক্ষিণ ভারতের কর্ণাট অঞ্চলে। সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা সামন্তসেন কর্ণাট থেকে বাংলায় এসে রাঢ় অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেন।

  • বল্লালসেন: তিনি ছিলেন সেন বংশের অন্যতম প্রধান শাসক। তিনি পাল রাজা গোবিন্দপালকে পরাজিত করে পাল রাজত্বের ওপর চূড়ান্ত আঘাত করেন। তিনি বাংলায় রক্ষণশীল ব্রাহ্মণ্য আচার-আচরণ ও কৌলীন্য প্রথাকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
  • লক্ষ্মণসেন: তিনি ছিলেন সেন বংশের শেষ উল্লেখযোগ্য রাজা। তাঁর রাজধানী ছিল পূর্ববঙ্গের বিক্রমপুরে। তাঁর রাজসভার কবিদের মধ্যে জয়দেব (গীতগোবিন্দম্), ধোয়ী (পবনদূত) প্রমুখ বিখ্যাত ছিলেন। তাঁর আমলেই ১২০৪-০৫ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ তুর্কি সেনাপতি বখতিয়ার খলজি বাংলা আক্রমণ করেন।

৯. চোল শক্তির উত্থান কীভাবে হয়েছিল? প্রথম রাজেন্দ্রচোলের কৃতিত্ব কী? [৫ নম্বর]

উত্তর: দক্ষিণ ভারতে কাবেরী নদীর ব-দ্বীপ অঞ্চলকে কেন্দ্র করে চোল রাজ্যের উত্থান ঘটে। বিজয়ালয় (আনু. ৮৪৬ খ্রিঃ) চোল রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তী শাসক প্রথম রাজরাজ (কেরল, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক) ও তাঁর পুত্র প্রথম রাজেন্দ্রচোলের আমলে চোল শক্তি সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছায়।

প্রথম রাজেন্দ্রচোলের কৃতিত্ব:

  1. তিনি কল্যাণীর চালুক্য শক্তিকে পরাজিত করেন।
  2. তিনি উত্তর ভারতে অভিযান চালান এবং বাংলার পাল রাজাকে (সম্ভবত প্রথম মহীপাল) পরাজিত করেন। এই জয়ের স্মরণে তিনি **’গঙ্গাইকোণ্ডচোল’** (অর্থাৎ যিনি গঙ্গার জল জয় করেছেন) উপাধি নেন এবং ‘গঙ্গাইকোণ্ডচোলপুরম’ নামে নতুন রাজধানী স্থাপন করেন।
  3. তাঁদের শক্তিশালী নৌবাহিনী ছিল, যার সাহায্যে তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার (শ্রীলঙ্কা, মালয়, সুমাত্রা) দেশগুলির সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ কায়েম করেন।

১০. সুলতান মাহমুদ ও মহম্মদ ঘুরির ভারত অভিযানের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল? [৩ নম্বর] [গুরুত্বপূর্ণ]

উত্তর: গজনির সুলতান মাহমুদ এবং ঘুরের শাসক মহম্মদ ঘুরি—উভয়েই তুর্কি হলেও, তাঁদের ভারত অভিযানের উদ্দেশ্য এক ছিল না:

  • সুলতান মাহমুদ (গজনি): তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ভারতের মন্দিরগুলি থেকে ধনসম্পদ লুণ্ঠন করা। সেই সম্পদ তিনি মধ্য এশিয়ায় তাঁর সাম্রাজ্যকে সুন্দর করে সাজাতে এবং বিশ্ববিদ্যালয় গড়তে ব্যয় করতেন। ভারতে স্থায়ী সাম্রাজ্য গড়ার কোনো উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না।
  • মহম্মদ ঘুরি (ঘুর): তাঁর উদ্দেশ্য লুঠপাট ছিল না, বরং তিনি উত্তর ভারতে একটি স্থায়ী সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। এই উদ্দেশ্যেই তিনি ১১৯২ খ্রিস্টাব্দে তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে পৃথ্বীরাজ চৌহানকে পরাজিত করেন এবং তাঁর সেনাপতি কুতুবউদ্দিন আইবক দিল্লিতে সুলতানি শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।

১১. বখতিয়ার খলজি কীভাবে বাংলা জয় করেন? [৩ নম্বর]

উত্তর: তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ারউদ্দিন মহম্মদ বখতিয়ার খলজি আনুমানিক ১২০৪-০৫ খ্রিস্টাব্দে বাংলা (নদিয়া) আক্রমণ করেন।

তৎকালীন সেন রাজা লক্ষ্মণসেন এই আক্রমণের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। বখতিয়ার খলজি মাত্র সতেরো-আঠারোজন অশ্বারোহী সৈন্য নিয়ে ঘোড়া ব্যবসায়ীর ছদ্মবেশে রাজপ্রাসাদের কাছে পৌঁছে যান এবং অতর্কিতে আক্রমণ করেন। বৃদ্ধ রাজা লক্ষ্মণসেন দুপুরের আহারে বসেছিলেন। তিনি কোনো প্রতিরোধ না করেই রাজপ্রাসাদের পিছনের দরজা দিয়ে পূর্ববঙ্গের দিকে পালিয়ে যান।

এইভাবে প্রায় বিনাযুদ্ধেই তুর্কিরা নদিয়া দখল করে এবং বাংলায় তুর্কি শাসনের সূচনা হয়। পরে বখতিয়ার লক্ষ্মণাবতী (গৌড়) দখল করে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন।

অতিরিক্ত প্রশ্নাবলী (Higher Order Thinking)

১২. শশাঙ্ককে ‘বৌদ্ধবিদ্বেষী’ বলা হয় কেন? এই অভিযোগ কি সত্যি? [৩ নম্বর]

উত্তর: শশাঙ্ক ছিলেন শৈব বা শিবের উপাসক। হর্ষবর্ধনের সভাকবি বাণভট্টের ‘হর্ষচরিত’ এবং চিনা পর্যটক হিউয়েন সাঙ-এর ভ্রমণ বিবরণীতে শশাঙ্ককে ‘বৌদ্ধবিদ্বেষী’ বলা হয়েছে। অভিযোগ করা হয় যে, তিনি বৌদ্ধ ভিক্ষুকদের হত্যা করেছিলেন এবং বৌদ্ধদের পবিত্র বোধিবৃক্ষ (যে গাছের নিচে বুদ্ধ নির্বাণ লাভ করেন) কেটে ফেলেছিলেন।

সত্যতা: এই অভিযোগ পুরোপুরি সত্য না-ও হতে পারে। কারণ:

  1. বাণভট্ট বা হিউয়েন সাঙ দুজনেই ছিলেন শশাঙ্কের প্রতিপক্ষ হর্ষবর্ধনের অনুরাগী, তাই তাঁদের লেখায় অতিরঞ্জন থাকা স্বাভাবিক।
  2. শশাঙ্কের মৃত্যুর মাত্র কয়েক বছর পরই হিউয়েন সাঙ শশাঙ্কের রাজধানী কর্ণসুবর্ণের কাছেই ‘রক্তমৃত্তিকা’ বৌদ্ধবিহারের সমৃদ্ধি লক্ষ করেছিলেন।
  3. শশাঙ্ক নির্বিচারে বৌদ্ধবিদ্বেষী হলে তাঁর রাজধানীর পাশেই একটি বৌদ্ধবিহারের এত সমৃদ্ধি থাকা সম্ভব ছিল না।

১৩. পাল ও সেন যুগের শাসনের মধ্যে দুটি প্রধান পার্থক্য লেখো। [২ নম্বর]

উত্তর:

  1. ধর্মীয় নীতি: পাল রাজারা ছিলেন বৌদ্ধধর্মের অনুরাগী এবং তাঁরা নালন্দা, বিক্রমশীলের মতো বৌদ্ধবিহারগুলিকে পৃষ্ঠপোষকতা করতেন। অন্যদিকে, সেন রাজারা ছিলেন ব্রাহ্মণ্য ধর্মের অনুরাগী এবং তাঁদের আমলে বাংলায় বৌদ্ধধর্মের প্রভাব কমে যায় ও বর্ণব্যবস্থা কঠোর হয়।
  2. শাসনের স্থায়িত্ব: পাল শাসন বাংলায় প্রায় চারশো বছর (৭৫০-১২০০ খ্রিঃ) স্থায়ী হয়েছিল এবং মাৎস্যন্যায়ের অবসান ঘটিয়ে জনসমর্থনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সেন শাসন মাত্র একশো বছরের কিছু বেশি সময় (১০৯৬-১২০৫ খ্রিঃ) স্থায়ী হয়েছিল এবং তা ছিল মূলত সামরিক শক্তির ওপর নির্ভরশীল।

    About the Author

    You may also like these

    BISWAZ GROWTH ACADEMY - Free WBBSE Class 1 to 10 Books

    Biswaz Growth Academy: Free WBBSE Books & Study Materials

    Welcome to biswaz.com, your premier destination for high-quality educational resources. Explore our comprehensive library of West Bengal Board (WBBSE) textbooks from Class 1 to Class 10. Whether you are looking for Amar Boi, Sahaj Path, Ganit Prabha, Butterfly, Bliss, or Amader Paribesh, we provide easily accessible PDF downloads to support student growth, learning, and exam preparation.

    WBBSE Books PDF Download Class 1 to 10 Syllabus West Bengal Board Solutions Free School Textbooks Biswaz Educational Portal

    Biswaz Growth

    Academy Portal

    Select a Class

    0 items