Subject: Past and Heritage (Class 7) Chapter 1: Concept of History (Project Notes)

প্রকল্প পত্র (সপ্তম শ্রেণি): ইতিহাসের ধারণা
প্রসেসিং…

বিষয়: অতীত ও ঐতিহ্য (সপ্তম শ্রেণি)

অধ্যায় ১: ইতিহাসের ধারণা (প্রকল্প নোটস)

মূল ধারণা ও প্রশ্নাবলী

১. ইতিহাস পাঠে সাল-তারিখ মনে রাখা জরুরি কেন? [২ নম্বর]

উত্তর: ইতিহাসের ঘটনাগুলি আজ থেকে অনেক বছর আগে ঘটেছিল এবং সব ঘটনা একই দিনে বা বছরে ঘটেনি। কোন ঘটনাটি কবে ঘটেছিল তা সঠিকভাবে জানার জন্য এবং ঘটনাগুলিকে আগে-পরে করে সাজানোর জন্য সাল-তারিখ মনে রাখা জরুরি। সময়কাল না জানলে ইতিহাসের ধারাবাহিকতা বোঝা যায় না।

২. ইতিহাসের উপাদান কাকে বলে? ইতিহাসের উপাদানগুলিকে কী কী ভাগে ভাগ করা যায়? [৩ নম্বর]

উত্তর: পুরোনো দিনের যেসব জিনিস (যেমন – পুরোনো ঘর-বাড়ি, মন্দির-মসজিদ, মূর্তি, মুদ্রা, বইপত্র) আজও রয়ে গেছে এবং যেগুলি থেকে আমরা অতীতের কথা জানতে পারি, সেগুলিকে ‘ইতিহাসের উপাদান’ বলে।

ইতিহাসের উপাদানগুলিকে প্রধানত চার ভাগে ভাগ করা যায়:

  • লেখ: পাথর বা ধাতুর পাতের উপর খোদাই করা লেখা (যেমন: শিলালেখ, তাম্রলেখ)।
  • মুদ্রা: পুরোনো দিনের টাকা-পয়সা, যা থেকে শাসকের নাম, সাল ইত্যাদি জানা যায়।
  • স্থাপত্য-ভাস্কর্য: পুরোনো মন্দির, মসজিদ, মূর্তি ইত্যাদি।
  • লিখিত উপাদান: পুরোনো দিনের বইপত্র বা কাগজে লেখা দলিল-দস্তাবেজ।

৩. মধ্যযুগে ‘বিদেশি’ ও ‘দেশ’ শব্দদুটি কী অর্থে ব্যবহৃত হতো? [৩ নম্বর]

উত্তর:

  • ‘বিদেশি’: আজকাল ‘বিদেশি’ বলতে আমরা ভারতের বাইরের অন্য দেশের লোকেদের বুঝি। কিন্তু সুলতানি বা মুঘল যুগে ‘বিদেশি’ বলতে গ্রাম বা শহরের বাইরে থেকে আসা যে কোনো অচেনা লোককেই বোঝাতো, তা সে অন্য দেশের নাও হতে পারে।
  • ‘দেশ’: আজকাল ‘দেশ’ বলতে আমরা একটি রাষ্ট্রকে (যেমন ভারত) বুঝি। কিন্তু পুরোনো দিনে ‘দেশ’ কথাটি একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলকেও বোঝাত। যেমন, কেউ হয়তো বলতেন তার ‘দেশ’ বর্ধমান, যা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের একটি জেলা মাত্র।

৪. ‘ইন্ডিয়া’ ও ‘হিন্দুস্তান’ নামগুলি কীভাবে তৈরি হয়েছিল? [৩ নম্বর] [গুরুত্বপূর্ণ]

উত্তর:

  • ইন্ডিয়া: প্রাচীন পারসিকরা সিন্ধু নদীর ব-দ্বীপ অঞ্চলকে ‘হিদুষ’ বলত (কারণ ইরানি ভাষায় ‘স’-এর উচ্চারণ ‘হ’)। পরবর্তীকালে গ্রিক ঐতিহাসিক হেরোডোটাস এই ‘হিদুষ’ নামটিকে তাঁদের নিজেদের উচ্চারণে ‘ইন্ডিয়া’ বলে উল্লেখ করেন।
  • হিন্দুস্তান: আরবি-ফারসি ভাষায় সিন্ধু নদী সংলগ্ন অঞ্চলকে ‘হিন্দুস্তান’ বলা হতো। দশম শতক নাগাদ ‘হিন্দুস্তান’ শব্দটি দ্বারা সমগ্র ভারতকে বোঝানো শুরু হয়।

৫. ‘আদি-মধ্যযুগ’ বলতে কী বোঝায়? [২ নম্বর]

উত্তর: ইতিহাসের যুগ হঠাৎ করে একদিনে বদলে যায় না। ভারতের ইতিহাসে এমন একটি সময় ছিল যখন প্রাচীন যুগ ধীরে ধীরে শেষ হয়ে আসছিল, কিন্তু মধ্যযুগও পুরোপুরি শুরু হয়নি। এই পরিবর্তন বা পালাবদলের সময়টিকেই ঐতিহাসিকরা ‘আদি-মধ্যযুগ’ বলে চিহ্নিত করেন।

৬. মধ্যযুগের ভারত সম্পর্কে পুরোনো ধারণা কী ছিল? এখনকার ঐতিহাসিকরা কী বলেন? [৩ নম্বর]

উত্তর:

  • পুরোনো ধারণা: আগে অনেকে মনে করতেন যে, ভারতের মধ্যযুগ ছিল ‘অন্ধকারে’ ডুবে থাকা একটি যুগ। এই যুগে মানুষের জীবনে বা জ্ঞান-বিজ্ঞানে কোনো উন্নতিই হয়নি।
  • নতুন ধারণা: কিন্তু এখনকার ঐতিহাসিকরা এই কথা মানেন না। তাঁরা পুরোনো উপাদানগুলি গবেষণা করে দেখিয়েছেন যে, মধ্যযুগেও জীবনের নানান দিকে (যেমন – কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য, শাসনব্যবস্থা, সাহিত্য) অনেক উন্নতি ঘটেছিল। যেমন, এই যুগেই নতুন যন্ত্রের ব্যবহার, নতুন খাবার (আলু), নতুন শহর এবং ভক্তিবাদের মতো ধর্মীয় চিন্তার বিকাশ হয়।

৭. ঐতিহাসিককে ‘গোয়েন্দা’ বলা হয় কেন? ঐতিহাসিকরা কীভাবে ইতিহাস লেখেন? [৫ নম্বর] [গুরুত্বপূর্ণ]

উত্তর:

গোয়েন্দা বলার কারণ: গল্পের গোয়েন্দা যেমন বিভিন্ন টুকরো টুকরো সূত্র (Clue) খুঁজে বের করেন এবং যুক্তি দিয়ে সেগুলিকে সাজিয়ে একটি ঘটে যাওয়া ঘটনার সত্য উদ্ঘাটন করেন, ঐতিহাসিকরাও ঠিক তেমনই কাজ করেন।

ইতিহাস লেখার পদ্ধতি:

  1. ঐতিহাসিকরা প্রথমে পুরোনো দিনের উপাদান (যেমন – মুদ্রা, শিলালেখ, বই) খুঁজে বার করেন। এই উপাদানগুলি প্রায়ই ভাঙাচোরা বা অসম্পূর্ণ থাকে।
  2. তিনি সেই টুকরো সূত্রগুলিকে যুক্তি দিয়ে বিচার করেন এবং আগে-পরে করে সাজান।
  3. যেখানে কোনো উপাদান বা সূত্র পাওয়া যায় না, সেখানে ফাঁক থেকে যায়। ঐতিহাসিক সেই ফাঁক ভরাট করার জন্য যুক্তিযুক্ত অনুমান করেন।
  4. এইভাবেই বিভিন্ন সূত্রকে যুক্তির মাধ্যমে সাজিয়ে ঐতিহাসিকরা অতীতের একটি ছবি আমাদের সামনে তুলে ধরেন।

৮. মধ্যযুগের ভারতে অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে কী কী নতুন দিক দেখা গিয়েছিল? [৫ নম্বর]

উত্তর: মধ্যযুগে ভারতের অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে অনেক নতুন দিক দেখা গিয়েছিল:

  • অর্থনীতি:
    • কৃষিতে নতুন যন্ত্র ও কৌশলের ব্যবহার (যেমন কুয়ো থেকে জল তোলা) শুরু হয়।
    • বন কেটে নতুন চাষবাসের এলাকা বাড়ানো হয়।
    • ব্যবসা-বাণিজ্যের ফলে নতুন নতুন শহর গড়ে ওঠে।
    • পোর্তুগিজদের হাত ধরে আলু, লঙ্কা, পেঁপের মতো নতুন খাবার ও পানীয়ের প্রচলন হয়।
  • সংস্কৃতি:
    • ধর্মীয় ক্ষেত্রে আড়ম্বরের বদলে ‘ভক্তি’ দিয়েই ঈশ্বরকে পাওয়ার চেষ্টা শুরু হয় (ভক্তিবাদ)।
    • সাধারণ মানুষের মুখের ভাষাই (আঞ্চলিক ভাষা) ধর্ম প্রচার ও সাহিত্যের মাধ্যম হয়ে ওঠে, ফলে বাংলা, হিন্দি, মারাঠি ইত্যাদি ভাষার বিকাশ হয়।
    • স্থাপত্য ও শিল্পকলায় নতুন রীতির জন্ম হয়।

    About the Author

    You may also like these

    BISWAZ GROWTH ACADEMY - Free WBBSE Class 1 to 10 Books

    Biswaz Growth Academy: Free WBBSE Books & Study Materials

    Welcome to biswaz.com, your premier destination for high-quality educational resources. Explore our comprehensive library of West Bengal Board (WBBSE) textbooks from Class 1 to Class 10. Whether you are looking for Amar Boi, Sahaj Path, Ganit Prabha, Butterfly, Bliss, or Amader Paribesh, we provide easily accessible PDF downloads to support student growth, learning, and exam preparation.

    WBBSE Books PDF Download Class 1 to 10 Syllabus West Bengal Board Solutions Free School Textbooks Biswaz Educational Portal

    Biswaz Growth

    Academy Portal

    Select a Class

    0 items