বিষয়: পরিবেশ ও বিজ্ঞান (ষষ্ঠ শ্রেণি)
অধ্যায় ৪: শিলা ও খনিজ পদার্থ (নোটস)
১. শিলার প্রকারভেদ (Types of Rocks)
১. শিলা কাকে বলে? শিলা কত প্রকার ও কী কী?
পৃথিবীর ওপরের শক্ত খোসাটি অর্থাৎ **ভূত্বক** যা দিয়ে তৈরি, তাই হলো শিলা বা পাথর। শিলা গঠিত হয় এক বা একাধিক **খনিজ পদার্থ** দ্বারা।
শিলা প্রধানত তিন প্রকার:
- **আগ্নেয়শিলা (Igneous Rock)**
- **পাললিক শিলা (Sedimentary Rock)**
- **পরিবর্তিত শিলা (Metamorphic Rock)**
২. ম্যাগমা (Magma) ও লাভা (Lava) কাকে বলে?
- **ম্যাগমা:** পৃথিবীর গভীরের অত্যন্ত গরম ও গলিত পাথর (তরল অবস্থায় থাকা শিলা)।
- **লাভা:** আগ্নেয়গিরির ফাটল বা মুখ দিয়ে ম্যাগমা যখন ভূপৃষ্ঠের বাইরে বেরিয়ে আসে, তখন তাকে লাভা বলে।
৩. আগ্নেয়শিলা (Igneous Rock) কাকে বলে? দুটি উদাহরণ দাও।
আগ্নেয়শিলা হলো সেই শিলা যা পৃথিবীর অভ্যন্তরের উত্তপ্ত ম্যাগমা বা লাভা **ঠান্ডা হয়ে ও জমাট বেঁধে** কঠিন হওয়ার ফলে তৈরি হয়। একে প্রাথমিক শিলাও বলে।
উদাহরণ: গ্রানাইট, ব্যাসাল্ট, পিউমিস (ঝামা পাথর)।
চিত্র: লাভা ও ম্যাগমা থেকে আগ্নেয়শিলা তৈরি।
৪. পিউমিস (Pumice) বা ঝামা পাথরে ছিদ্র দেখা যায় কেন?
উত্তপ্ত ম্যাগমা থেকে লাভা যখন ভূপৃষ্ঠে দ্রুত ঠান্ডা হয়, তখন তরল ম্যাগমায় দ্রবীভূত গ্যাসগুলি লাভা থেকে বেরোবার সময় পিউমিস পাথরের মধ্যে দিয়ে বেরিয়ে আসে। এর ফলে পিউমিস পাথরে অসংখ্য **ছিদ্রের** সৃষ্টি হয়।
৫. পাললিক শিলা (Sedimentary Rock) কাকে বলে? দুটি উদাহরণ দাও।
হ্রদ, নদী বা সমুদ্রের তলদেশে পলি, কাদা, বালি ও অন্যান্য **শিলাচূর্ণ জমাট বেঁধে** এবং লক্ষ লক্ষ বছর ধরে মাটির নীচের চাপ ও গরমে কঠিন হওয়ার ফলে যে শিলা তৈরি হয়, তাকে পাললিক শিলা বলে।
উদাহরণ: বেলে পাথর, শেল, চুনাপাথর।
৬. পাললিক শিলায় জীবাশ্ম (Fossil) পাওয়া যায় কেন?
পাললিক শিলা সাধারণত জলের নীচে তৈরি হয়। পলি জমার সময় মাছ, শামুক বা অন্যান্য প্রাণীর দেহাবশেষ এই পলির স্তরে চাপা পড়ে যায় এবং কালক্রমে পাথরে পরিণত হয়। এই কারণে পাললিক শিলায় জীবাশ্ম বা ফসিল পাওয়া যায়।
৭. রূপান্তরিত শিলা (Metamorphic Rock) কাকে বলে? দুটি উদাহরণ দাও।
আগ্নেয়শিলা বা পাললিক শিলা মাটির **গভীরে প্রচণ্ড তাপ ও চাপের** প্রভাবে নিজেদের মূল বৈশিষ্ট্য পাল্টে ফেলে এবং নতুন ধর্মবিশিষ্ট শিলায় রূপান্তরিত হয়। এই শিলাকে রূপান্তরিত শিলা বা পরিবর্তিত শিলা বলে।
উদাহরণ: মার্বেল (চুনাপাথর থেকে পরিবর্তিত), স্লেট (শেল থেকে পরিবর্তিত), নীস (গ্রানাইট থেকে পরিবর্তিত)।
২. খনিজ, আকরিক ও জীবাশ্ম জ্বালানি
৮. খনিজ পদার্থ (Mineral) কাকে বলে?
প্রকৃতিতে শিলার মধ্যে প্রাপ্ত বিশেষ ধরনের মৌলিক বা যৌগিক পদার্থকে **খনিজ পদার্থ** বলে। শিলা এক বা একাধিক খনিজ দিয়ে তৈরি।
৯. আকরিক (Ore) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যে খনিজ থেকে কোনো ধাতুকে **সহজে ও কম খরচে** বেশি পরিমাণে নিষ্কাশন করা সম্ভব, সেই খনিজকে ওই ধাতুর **আকরিক** বলে।
উদাহরণ: লোহার আকরিক হলো হেমাটাইট (Fe ও O যুক্ত যৌগ); অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক হলো বক্সাইট।
| ধাতুর নাম | প্রধান আকরিক | আকরিকে প্রধান মৌল |
|---|---|---|
| **লোহা** | হেমাটাইট | লোহা ও অক্সিজেন |
| **অ্যালুমিনিয়াম** | বক্সাইট | অ্যালুমিনিয়াম ও অক্সিজেন |
| **তামা** | কপার গ্লান্স | তামা ও সালফার |
১০. সংকর ধাতু (Alloy) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
দুই বা ততোধিক ধাতুকে (অথবা ধাতু ও অধাতুকে) গলিয়ে মিশিয়ে যে **মিশ্র ধাতু** তৈরি হয়, তাকে সংকর ধাতু বলে। সংকর ধাতুর ধর্ম তার উপাদানগুলির ধর্ম থেকে আলাদা হয়।
উদাহরণ: ইস্পাত (লোহা + কার্বন), পিতল (তামা + দস্তা), কাঁসা (তামা + টিন), গয়নার সোনা (সোনা + তামা)।
১১. জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuels) কাকে বলে? তিনটি উদাহরণ দাও।
লক্ষ লক্ষ বছর ধরে মাটির গভীরে উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ উচ্চ **তাপ ও চাপের** প্রভাবে পরিবর্তিত হয়ে যে জ্বালানি তৈরি করে, তাকে জীবাশ্ম জ্বালানি বলে।
উদাহরণ: কয়লা, পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস (মিথেন)।
চিত্র: পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস তৈরি। মৃত সামুদ্রিক জীবদেহ পলি ও মাটির নীচে চাপা পড়ে তৈরি হয়।
১২. পেট্রোলিয়াম (Petroleum) কী? শোধন করা হয় কেন?
পেট্রোলিয়াম হলো মাটির নীচে থাকা চটচটে, গাঢ় তরল মিশ্রণ। এটি বহু হাইড্রোকার্বন যৌগ, জল ও অন্যান্য পদার্থ মিশে তৈরি হয়।
শোধন: একে সরাসরি ব্যবহার করা যায় না। শোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পেট্রোলিয়াম থেকে কেরোসিন, পেট্রল, ডিজেল, এল.পি.জি. (LPG) -এর মতো দরকারী জ্বালানি ও অন্যান্য রাসায়নিক আলাদা করা হয়।
১৩. জীবাশ্ম জ্বালানির দুটি ক্ষতিকারক প্রভাব লেখো।
- দহনের ফলে উৎপন্ন কার্বন ডাইঅক্সাইড ($\text{CO}_2$) **বিশ্ব উষ্ণায়ন** ঘটায়।
- সালফার ও নাইট্রোজেনের অক্সাইড নির্গমনের ফলে **অ্যাসিড বৃষ্টি** হয়।