বিষয়: পরিবেশ ও বিজ্ঞান (ষষ্ঠ শ্রেণি)
অধ্যায় ৩: মৌলিক, যৌগিক ও মিশ্র পদার্থ (নোটস)
১. ধাতু (Metals) ও অধাতু (Non-metals)
১. ধাতু (Metal) কাকে বলে?
যেসব পদার্থ:
- আলোতে **চকচক** করে (ধাতব দ্যুতি)।
- আঘাত করলে **বিশেষ শব্দ** হয়।
- তাপ ও তড়িতের **সুপরিবাহী**।
- পিটিয়ে **পাত** (নমনীয়তা) ও টেনে **সরু তার** (প্রসারণশীলতা) তৈরি করা যায়।
সাধারণত এগুলিই ধাতু। (ব্যতিক্রম: পারদ তরল ধাতু; গ্রাফাইট অধাতু হলেও সুপরিবাহী)।
২. অধাতু (Non-metal) কাকে বলে?
যেসব পদার্থ:
- আলোতে **চকচক করে না** (ব্যতিক্রম: আয়োডিন, গ্রাফাইট)।
- তাপ ও তড়িতের **কুপরিবাহী** (ব্যতিক্রম: গ্রাফাইট)।
- আঘাত করলে **ভেঙে গুঁড়ো** হয়ে যায় (ভঙ্গুর)।
এগুলিই অধাতু। (ব্যতিক্রম: ব্রোমিন তরল অধাতু)।
৩. ধাতু ও অধাতুর মধ্যে দুটি প্রধান পার্থক্য লেখো।
| বৈশিষ্ট্য | ধাতু (যেমন লোহা, তামা) | অধাতু (যেমন কার্বন, সালফার) |
|---|---|---|
| **আকৃতি পরিবর্তন** | নমনীয় ও প্রসারণশীল (পিটিয়ে পাত বা তার করা যায়)। | ভঙ্গুর (আঘাতে গুঁড়ো হয়ে যায়)। |
| **তড়িৎ পরিবহন** | সুপরিবাহী (ব্যতিক্রম নেই)। | কুপরিবাহী (ব্যতিক্রম: গ্রাফাইট)। |
| **শব্দ** | আঘাত করলে বিশেষ ধাতব শব্দ হয়। | আঘাত করলে কোনো শব্দ হয় না। |
৪. চুম্বক (Magnet) কোন ধরনের পদার্থকে আকর্ষণ করে?
চুম্বক কেবল **চৌম্বক পদার্থকে** (যেমন – লোহা, নিকেল, কোবাল্ট) আকর্ষণ করে।
চিত্র: চৌম্বক পদার্থ (লোহার গুঁড়ো) চুম্বক দ্বারা আকৃষ্ট হচ্ছে।
২. মৌলিক, যৌগিক ও মিশ্র পদার্থ
৫. মৌলিক পদার্থ (Element) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যে পদার্থকে ভাঙলে বা বিশ্লেষণ করলে সেই পদার্থ ছাড়া **অন্য কোনো পদার্থ পাওয়া যায় না**, তাকে মৌলিক পদার্থ বা মৌল বলে।
উদাহরণ: লোহা, তামা, সোনা, অক্সিজেন ($O$), হাইড্রোজেন ($H$), কার্বন ($C$)।
- মৌলিক পদার্থ **পরমাণু** দিয়ে তৈরি।
- পরমাণু হলো মৌলের ক্ষুদ্রতম কণা যার মধ্যে মৌলের সব গুণ বর্তমান।
৬. যৌগিক পদার্থ (Compound) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যে পদার্থকে ভাঙলে **একাধিক** মৌলিক পদার্থ পাওয়া যায়, এবং যাদের ধর্ম তাদের উপাদান মৌলগুলির ধর্ম থেকে **সম্পূর্ণ ভিন্ন**, তাকে যৌগিক পদার্থ বা যৌগ বলে।
উদাহরণ: জল ($H_2O$), কার্বন ডাইঅক্সাইড ($CO_2$), চিনি, নুন ($NaCl$)।
৭. জল একটি যৌগ কেন?
জল ($H_2O$) হাইড্রোজেন ($H_2$) ও অক্সিজেন ($O_2$) নামক দুটি মৌলিক পদার্থ দিয়ে তৈরি। কিন্তু জল, যা কিনা তরল, তার ধর্ম তার উপাদানগুলির ধর্ম থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন:
- হাইড্রোজেন দাহ্য গ্যাস, অক্সিজেন দহনে সাহায্যকারী গ্যাস। কিন্তু জল আগুন **নেভায়**।
- তড়িৎ বিশ্লেষণ করলে জল ভেঙে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন তৈরি হয়।
৮. মিশ্র পদার্থ (Mixture) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যে পদার্থে **একাধিক মৌলিক বা যৌগিক পদার্থ** যেকোনো অনুপাতে **মিশে** থাকে এবং তাদের নিজস্ব ধর্ম **বজায়** রাখে, তাকে মিশ্র পদার্থ বা মিশ্রণ বলে।
উদাহরণ: বায়ু, দুধ, চিনির শরবত, কাঁসা, পিতল।
৯. মৌল, যৌগ ও মিশ্রণের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
| বৈশিষ্ট্য | মৌল | যৌগ | মিশ্রণ |
|---|---|---|---|
| **উপাদান** | একই ধরনের পরমাণু। | একাধিক মৌল **নির্দিষ্ট** ওজনের অনুপাতে থাকে। | একাধিক মৌল বা যৌগ **যেকোনো** অনুপাতে মিশে থাকে। |
| **ধর্ম** | নিজস্ব ধর্ম। | উপাদানগুলির ধর্ম থেকে **সম্পূর্ণ ভিন্ন**। | উপাদানগুলির ধর্ম **বজায়** থাকে। |
| **পৃথককরণ** | সাধারণভাবে সম্ভব নয়। | রাসায়নিক পদ্ধতিতে সম্ভব। | ভৌত পদ্ধতিতে (যেমন – পরিস্রাবণ) সম্ভব। |
১০. অণু (Molecule) কাকে বলে? মৌল অণু ও যৌগ অণুর উদাহরণ দাও।
মৌল বা যৌগের যে ক্ষুদ্রতম কণা **স্বাধীনভাবে থাকতে পারে** এবং যার মধ্যে ওই পদার্থের সমস্ত ধর্ম বর্তমান থাকে, তাকে অণু বলে।
- **মৌল অণু:** একই মৌলের একাধিক পরমাণু দ্বারা গঠিত। (যেমন – $O_2$, $H_2$)।
- **যৌগ অণু:** ভিন্ন মৌলের পরমাণু দ্বারা গঠিত। (যেমন – $H_2O$, $CO_2$)।
৩. মিশ্রণ পৃথককরণের পদ্ধতি
১১. পরিস্রাবণ (Filtration) কাকে বলে?
যে ভৌত প্রক্রিয়ায় **ফিলটার কাগজের** মতো ছাঁকনি ব্যবহার করে তরলে অদ্রাব্য কঠিন কণাগুলিকে পৃথক করা হয়, তাকে পরিস্রাবণ বলে।
উদাহরণ: কাদাগোলা জল থেকে কাদা পৃথক করা।
১২. কেলাসন (Crystallization) কাকে বলে?
দ্রবণ থেকে কঠিন দ্রাবকে **দানা দানা কেলাস** রূপে পৃথক করার পদ্ধতিকে কেলাসন বলে। এই পদ্ধতিতে তরলে দ্রবীভূত কঠিন দ্রাবকে পৃথক করা যায়।
উদাহরণ: নুন জলকে ফুটিয়ে গাঢ় করার পর ঠান্ডা করলে নুনের কেলাস পাওয়া যায়।
চিত্র: কেলাসন প্রক্রিয়ায় নুনজল থেকে নুনের কেলাস তৈরি।
১৩. চুম্বকের সাহায্যে মিশ্রণ থেকে উপাদান পৃথক করা যায় কখন?
মিশ্রণে যদি **চৌম্বক পদার্থ** (যেমন – লোহার গুঁড়ো) মিশে থাকে, তবে চুম্বকের আকর্ষণ ধর্মকে ব্যবহার করে চৌম্বক পদার্থটিকে সহজেই আলাদা করা যায়।
১৪. আগ্নেয়শিলা, পাললিক শিলা ও পরিবর্তিত শিলার একটি করে উদাহরণ দাও।
- **আগ্নেয়শিলা:** গ্রানাইট, ব্যাসাল্ট (ম্যাগমা থেকে তৈরি)।
- **পাললিক শিলা:** বেলে পাথর, শেল, চুনাপাথর (পলি জমাট বেঁধে তৈরি)।
- **পরিবর্তিত শিলা:** মার্বেল (চুনাপাথর থেকে তৈরি), স্লেট (শেল থেকে তৈরি)।