বিষয়: পরিবেশ ও বিজ্ঞান (ষষ্ঠ শ্রেণি)
অধ্যায় ১২: বর্জ্য পদার্থ (নোটস)
১. বর্জ্য পদার্থের ধারণা ও প্রকারভেদ (Concept and Types of Waste)
১. বর্জ্য পদার্থ (Waste Materials) কাকে বলে?
মানুষ বা অন্যান্য জীবের দৈনন্দিন কাজ, শিল্প বা কৃষি কাজ থেকে উৎপন্ন **অপ্রয়োজনীয়, অব্যবহৃত বা অতিরিক্ত পদার্থ**, যা পরিবেশে মিশে দূষণ ঘটায়, তাদের **বর্জ্য পদার্থ** বলে।
২. বর্জ্য পদার্থ কয় প্রকার ও কী কী?
বর্জ্য পদার্থ প্রধানত দুই প্রকার:
- **জীব-বিশ্লেষ্য বর্জ্য (Biodegradable Waste)**
- **জীব-অবিশ্লেষ্য বর্জ্য (Non-biodegradable Waste)**
৩. জীব-বিশ্লেষ্য বর্জ্য কাকে বলে? দুটি উদাহরণ দাও।
যেসব বর্জ্য পদার্থ **অণুজীবদের** (যেমন – ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক) সাহায্যে **প্রাকৃতিকভাবে বিয়োজিত** হয়ে মাটি বা পরিবেশে মিশে যায়, তাদের **জীব-বিশ্লেষ্য** বর্জ্য বলে।
উদাহরণ: শাক-সবজির খোসা, পচনশীল খাদ্য, কাগজ, গাছের পাতা, প্রাণীর মল-মূত্র।
৪. জীব-অবিশ্লেষ্য বর্জ্য কাকে বলে? দুটি উদাহরণ দাও।
যেসব বর্জ্য পদার্থ **অণুজীবদের দ্বারা সহজে বিয়োজিত হয় না** এবং দীর্ঘকাল ধরে পরিবেশে অপরিবর্তিত অবস্থায় থেকে যায়, তাদের **জীব-অবিশ্লেষ্য** বর্জ্য বলে।
উদাহরণ: প্লাস্টিক, পলিথিন, কাঁচ, ধাতব বর্জ্য, থার্মোকল।
৫. জীব-বিশ্লেষ্য ও জীব-অবিশ্লেষ্য বর্জ্যের মধ্যে দুটি প্রধান পার্থক্য লেখো।
| বৈশিষ্ট্য | জীব-বিশ্লেষ্য বর্জ্য | জীব-অবিশ্লেষ্য বর্জ্য |
|---|---|---|
| **বিয়োজন ক্ষমতা** | অণুজীব দ্বারা বিয়োজিত হয় (পচে যায়)। | অণুজীব দ্বারা সহজে বিয়োজিত হয় না। |
| **পরিবেশে প্রভাব** | কম ক্ষতিকারক, মাটিতে মিশে যায়। | দীর্ঘকাল থাকে, মারাত্মক দূষণ ঘটায়। |
| **সময়কাল** | তুলনামূলকভাবে কম সময়ে পচে যায়। | বছরের পর বছর পরিবেশে থেকে যায়। |
২. বর্জ্য পদার্থের প্রভাব ও ব্যবস্থাপনা (Waste Management)
৬. পরিবেশের ওপর বর্জ্য পদার্থের দুটি ক্ষতিকর প্রভাব লেখো।
- **মাটি দূষণ:** জীব-অবিশ্লেষ্য বর্জ্য মাটির উর্বরতা কমিয়ে দেয়।
- **জল দূষণ:** বর্জ্য পদার্থ জলে মিশে জলজ জীবের মৃত্যু ঘটায় এবং রোগের জীবাণু ছড়ায়।
- **বায়ু দূষণ:** বর্জ্য পোড়ালে ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাস (যেমন – কার্বন মনোক্সাইড) বাতাসে মেশে।
৭. বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ‘3R’ নীতিটি লেখো।
বর্জ্য উৎপাদন কমানো ও পরিবেশ সুরক্ষার জন্য তিনটি প্রধান নীতি অনুসরণ করা হয়, যা একত্রে ‘3R’ নীতি নামে পরিচিত:
- **Reduce (কম ব্যবহার):** অপ্রয়োজনীয় জিনিসের ব্যবহার বা বর্জ্য উৎপাদন হ্রাস করা।
- **Reuse (পুনরায় ব্যবহার):** জিনিস বাতিল না করে পুনরায় ব্যবহার করা।
- **Recycle (পুনর্নবীকরণ):** বাতিল বস্তুকে প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে নতুন জিনিস তৈরি করা।
৮. কম্পোস্টিং (Composting) বা জৈব সার তৈরি কাকে বলে?
পচনশীল জৈব বর্জ্যকে (যেমন – গাছের পাতা, সবজির খোসা) মাটির গর্তে বা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে রেখে **অণুজীবের সাহায্যে** পচিয়ে মূল্যবান **জৈব সার** তৈরি করার পদ্ধতিকে কম্পোস্টিং বলে।
৯. প্লাস্টিক বর্জ্যের দুটি ক্ষতিকারক প্রভাব লেখো।
- প্লাস্টিক জীব-অবিশ্লেষ্য হওয়ায় মাটিতে মিশে না গিয়ে মাটির **জল ধারণ ক্ষমতা** কমিয়ে দেয়।
- প্লাস্টিক নর্দমা বা ড্রেনে আটকে গিয়ে **জল নিকাশী ব্যবস্থায়** বাধা সৃষ্টি করে, যা বন্যা বা জল জমার কারণ হতে পারে।
- প্লাস্টিক বর্জ্য গবাদি পশুর পেটে গেলে তাদের মৃত্যু হতে পারে।
১০. একটি সহজ রিসাইক্লিং (Recycling) পদ্ধতির উদাহরণ দাও।
কাঁচ বা প্লাস্টিকের বোতল, কাগজের মতো বর্জ্যগুলিকে আলাদা করে সংগ্রহ করে কারখানায় পাঠানো হয়, যেখানে এগুলিকে গলিয়ে বা প্রক্রিয়াজাত করে আবার নতুন কাঁচ বা প্লাস্টিকের জিনিস তৈরি করা হয়।
১১. বাড়িতে বর্জ্য পদার্থগুলি কীভাবে আলাদা করা উচিত?
বাড়িতে বর্জ্য পদার্থগুলিকে অন্তত দুটি আলাদা পাত্রে রাখা উচিত:
- **সবুজ পাত্রে:** জীব-বিশ্লেষ্য বর্জ্য (যেমন – খাবারের উচ্ছিষ্ট, সবজির খোসা) – এগুলি কম্পোস্ট তৈরির জন্য ব্যবহৃত হতে পারে।
- **নীল পাত্রে:** জীব-অবিশ্লেষ্য বর্জ্য (যেমন – প্লাস্টিক, কাঁচ, ধাতব টুকরো) – এগুলি রিসাইক্লিং বা অন্য ব্যবস্থাপনার জন্য পাঠানো উচিত।