বিষয়: পরিবেশ ও বিজ্ঞান (ষষ্ঠ শ্রেণি)
অধ্যায় ১০: জীববৈচিত্র্য ও তার শ্রেণিবিভাগ (নোটস)
১. জীববৈচিত্র্য (Biodiversity) ও তার গুরুত্ব
১. জীববৈচিত্র্য (Biodiversity) কাকে বলে?
কোনো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে বা পরিবেশে বসবাসকারী **বিভিন্ন প্রকার জীবের** (উদ্ভিদ, প্রাণী ও অণুজীব) মধ্যে যে **প্রচুর বৈচিত্র্য** দেখা যায়, তাকে জীববৈচিত্র্য বলে।
২. জীববৈচিত্র্যের তিনটি প্রধান স্তর কী কী?
- প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity)
- জিনগত বৈচিত্র্য (Genetic diversity)
- বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity)
৩. জীববৈচিত্র্যের দুটি প্রধান গুরুত্ব লেখো।
- পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা (যেমন – খাদ্য শৃঙ্খল বজায় রাখা)।
- মানুষের খাদ্য, ঔষধ (যেমন – পেনিসিলিন) এবং শিল্পজাত দ্রব্যের (যেমন – রবার, কাঠ) উৎস হিসেবে কাজ করা।
৪. শ্রেণীবিভাগ (Classification) কাকে বলে? এর দুটি গুরুত্ব লেখো।
জীবদের মধ্যেকার **মিল ও অমিলগুলির** ওপর ভিত্তি করে তাদের ছোটো থেকে বড়ো বিভিন্ন গোষ্ঠী বা দলে সাজানোর পদ্ধতিকে **শ্রেণীবিভাগ** বলে।
গুরুত্ব:
- বিশাল জীবজগতকে **সংক্ষেপে ও সহজে** জানতে সাহায্য করে।
- জীবদের মধ্যেকার **পারস্পরিক সম্পর্ক** বুঝতে সুবিধা হয়।
৫. দ্বিপদ নামকরণ (Binomial Nomenclature) কাকে বলে?
প্রতিটি জীবকে **দুটি লাতিন বা গ্রিক শব্দ** ব্যবহার করে যে বৈজ্ঞানিক নামে চিহ্নিত করা হয়, তাকে দ্বিপদ নামকরণ বলে। প্রথম অংশটি **গণ** (Genus) এবং দ্বিতীয় অংশটি **প্রজাতি** (Species) নির্দেশ করে।
উদাহরণ: মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম **Homo sapiens**।
২. উদ্ভিদ ও প্রাণীর শ্রেণীবিভাগ
৬. উদ্ভিদ ও প্রাণীর শ্রেণীবিভাগের মূল ভিত্তি কী?
উদ্ভিদের শ্রেণীবিভাগের মূল ভিত্তি হলো **ফুল ও ফলের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি**।
প্রাণীর শ্রেণীবিভাগের মূল ভিত্তি হলো **মেরুদণ্ড বা কশেরুকার উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি**।
৭. সপুষ্পক (Flowering) ও অপুষ্পক (Non-flowering) উদ্ভিদ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
- **সপুষ্পক উদ্ভিদ:** যেসব উদ্ভিদের **ফুল, ফল ও বীজ** হয়। (যেমন – আম, জবা, গোলাপ)।
- **অপুষ্পক উদ্ভিদ:** যেসব উদ্ভিদের **ফুল, ফল ও বীজ হয় না**, বরং রেণুর মাধ্যমে বংশবিস্তার করে। (যেমন – মশ, ফার্ন, শৈবাল)।
চিত্র: উদ্ভিদজগতের প্রধান দুটি ভাগ।
৮. মেরুদণ্ডী (Vertebrates) ও অমেরুদণ্ডী (Invertebrates) প্রাণী কাকে বলে?
- **মেরুদণ্ডী প্রাণী:** যে সমস্ত প্রাণীর **দেহের অভ্যন্তরে মেরুদণ্ড** (Backbone বা Vertebral Column) উপস্থিত থাকে। এদের দেহকে মাছ, উভচর, সরীসৃপ, পক্ষী ও স্তন্যপায়ী—এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। (যেমন – মানুষ, গরু, পাখি, সাপ)।
- **অমেরুদণ্ডী প্রাণী:** যে সমস্ত প্রাণীর **দেহে মেরুদণ্ড অনুপস্থিত**। এদের দেহকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায় (যেমন – পতঙ্গ, কৃমি, তারা মাছ, চিংড়ি)। (যেমন – কেঁচো, মশা, চিংড়ি, শামুক)।
৯. মেরুদণ্ডী প্রাণীদের শ্রেণিবিভাগ করো ও প্রতিটির একটি করে উদাহরণ দাও।
| শ্রেণি | বৈশিষ্ট্য | উদাহরণ |
|---|---|---|
| **মৎস্য (Fish)** | জলজ প্রাণী, ফুলকা দ্বারা শ্বাস নেয়। | রুই মাছ, কাতলা মাছ |
| **উভচর (Amphibia)** | জল ও স্থল উভয় স্থানে থাকতে পারে। | ব্যাঙ, সোনা ব্যাঙ |
| **সরীসৃপ (Reptilia)** | শুষ্ক ত্বক ও বুকে হেঁটে চলে। | সাপ, টিকটিকি, কুমির |
| **পক্ষী (Aves)** | পালকযুক্ত দেহ, ডিম পাড়ে, ওড়ার জন্য পাখা আছে। | কাক, চড়াই, পায়রা |
| **স্তন্যপায়ী (Mammalia)** | দেহে লোম ও স্তন গ্রন্থি থাকে, বাচ্চা জন্ম দেয়। | মানুষ, গরু, বাঘ |
১০. অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের দুটি প্রধান ভাগের উদাহরণ দাও।
- **পতঙ্গ (Insects):** মশা, মাছি, প্রজাপতি।
- **কৃমি (Worms):** গোলকৃমি, ফিতাকৃমি, কেঁচো।
১১. শীতল রক্তবিশিষ্ট (Cold-blooded) প্রাণী ও উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট (Warm-blooded) প্রাণী কাকে বলে?
- **শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী:** যে প্রাণীদের দেহের উষ্ণতা পরিবেশের উষ্ণতার সঙ্গে **পরিবর্তিত হয়**। (যেমন – মাছ, ব্যাঙ, সাপ)।
- **উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট প্রাণী:** যে প্রাণীদের দেহের উষ্ণতা পরিবেশের উষ্ণতার পরিবর্তন হলেও **কমবেশি স্থির থাকে**। (যেমন – পাখি, স্তন্যপায়ী প্রাণী)।
১২. মাছকে কেন উভচর প্রাণীর শ্রেণীতে ফেলা যায় না?
মাছ শুধুমাত্র জলেই বাঁচতে পারে এবং ফুলকার সাহায্যে শ্বাস নেয়। উভচর প্রাণীদের মতো এরা জল ও স্থল উভয় স্থানে থাকতে পারে না, তাই মাছ উভচর নয়।