প্রশ্ন ও উত্তর নোটস
শ্রেণি: চতুর্থ | অধ্যায় ৯: আধুনিক সভ্যতা ও পরিবেশের সংরক্ষণ
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
১. পরিবেশ দূষণ কাকে বলে?
পরিবেশের উপাদানগুলি (জল, বায়ু, মাটি) যখন মানুষের বা প্রাণীর ক্ষতি করে এমন অবস্থায় পৌঁছায়, তখন তাকে পরিবেশ দূষণ বলে।
২. বর্জ্য পদার্থ কী?
ব্যবহারের পর আমরা যেসব অপ্রয়োজনীয় জিনিস ফেলে দিই, তাদের বর্জ্য পদার্থ বলে। যেমন—চিপসের প্যাকেট, আনাজের খোসা, ভাঙা প্লাস্টিক।
৩. শব্দ দূষণ কী?
মানুষের সহনক্ষমতার চেয়ে বেশি জোরে শব্দ হলে, যা কানের ও শরীরের ক্ষতি করে, তাকে শব্দ দূষণ বলে। যেমন—গাড়ির হর্ন, মাইকের আওয়াজ।
৪. বনসৃজন বা বৃক্ষরোপণ কেন প্রয়োজন?
গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয় এবং পরিবেশকে ঠান্ডা রাখে। পরিবেশ দূষণ কমাতে এবং জীবজন্তুর বাসস্থান রক্ষা করতে বনসৃজন বা নতুন গাছ লাগানো প্রয়োজন।
৫. লুপ্তপ্রায় প্রাণী কাদের বলে?
যেসব প্রাণী সংখ্যায় খুব কমে গেছে এবং ভবিষ্যতে হারিয়ে যাওয়ার ভয় আছে, তাদের লুপ্তপ্রায় প্রাণী বলে। যেমন—রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, গন্ডার।
৬. স্থাপত্য ও ভাস্কর্য কী?
পুরোনো দিনের তৈরি মন্দির, মসজিদ, গির্জা বা বাড়িঘর হলো স্থাপত্য। আর পাথর বা ধাতু খোদাই করে তৈরি মূর্তি বা নকশা হলো ভাস্কর্য।
ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন ও উত্তর
৭. প্লাস্টিক ব্যবহারের অপকারিতাগুলি লেখো।
১. প্লাস্টিক মাটিতে মিশে যায় না, ফলে মাটি দূষিত হয়।
২. নর্দমায় প্লাস্টিক জমলে জল নিকাশি ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায় এবং বন্যা হতে পারে।
৩. পুকুর বা নদীতে প্লাস্টিক ফেললে জলজ প্রাণীদের ক্ষতি হয়।
৮. জল কীভাবে দূষিত হয়?
১. কলকারখানার নোংরা রাসায়নিক জল নদীতে মিশলে।
২. পুকুরে গোরু-মোষ স্নান করালে বা কাপড় কাচলে।
৩. চাষের ক্ষেতের রাসায়নিক সার ও কীটনাশক বৃষ্টির জলে ধুয়ে পুকুরে পড়লে।
৯. স্থাপত্য ও সৌধগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কেন?
১. গাড়ির ধোঁয়া ও কলকারখানার ধোঁয়ায় বাতাসের দূষণ বাড়ছে, যা পাথরের ক্ষতি করছে।
২. অনেক সময় মানুষ সৌধের গায়ে নাম লেখে বা নোংরা করে।
৩. ঝড়, বৃষ্টি ও ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক কারণেও পুরনো স্থাপত্য নষ্ট হয়।
মাঝারি ও বিশ্লেষণমূলক প্রশ্ন
১০. শব্দ দূষণের ফলে আমাদের শরীরের কী কী ক্ষতি হতে পারে?
তীব্র শব্দ বা শব্দ দূষণের ফলে:
১. কানের পর্দা ছিঁড়ে যেতে পারে বা শোনার ক্ষমতা কমে যেতে পারে।
২. রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে এবং হৃদরোগের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৩. মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায় এবং ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে।
৪. ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনায় মন দিতে অসুবিধা হয়।
১১. বায়ু দূষণ রোধ করার জন্য আমাদের কী কী করা উচিত?
১. বেশি করে গাছ লাগাতে হবে, কারণ গাছ বাতাস পরিষ্কার রাখে।
২. কলকারখানায় ধোঁয়া শোধন করার যন্ত্র বসাতে হবে।
৩. পুরোনো গাড়ি বাতিল করতে হবে যা বেশি ধোঁয়া ছাড়ে।
৪. যত্রতত্র আবর্জনা পোড়ানো বন্ধ করতে হবে।
১২. বিষ্ণুপুরের টেরাকোটা মন্দির সম্পর্কে যা জানো লেখো।
বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর পোড়ামাটির বা টেরাকোটার মন্দিরের জন্য বিখ্যাত। এখানকার রাজারা অনেক মন্দির তৈরি করেছিলেন, যেমন— রাসমঞ্চ, জোড়বাংলা মন্দির। এই মন্দিরগুলোর গায়ে পোড়ামাটির ফলকে রামায়ণ, মহাভারত এবং সেই সময়ের সমাজজীবনের নানা ছবি খোদাই করা আছে। এটি পশ্চিমবঙ্গের একটি গর্বের স্থাপত্য।
রচনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর
১৩. আধুনিক সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে পরিবেশের কী ক্ষতি হয়েছে আলোচনা করো।
সভ্যতার উন্নতির সাথে সাথে আমরা পরিবেশের অনেক ক্ষতি করেছি:
- বনভূমি ধ্বংস: শহর ও কলকারখানা তৈরির জন্য প্রচুর গাছ কাটা হয়েছে, ফলে বন্য প্রাণীদের বাসস্থান নষ্ট হচ্ছে।
- দূষণ বৃদ্ধি: প্রচুর গাড়ি ও কারখানার ধোঁয়ায় বাতাস দূষিত হচ্ছে। প্লাস্টিকের ব্যবহারে মাটি ও জল দূষিত হচ্ছে।
- জলবায়ু পরিবর্তন: গাছ কমার ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে এবং বৃষ্টিপাত অনিয়মিত হয়ে পড়ছে।
- জীববৈচিত্র্য হ্রাস: দূষণ ও শিকারের ফলে অনেক প্রাণী পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেছে বা যাওয়ার পথে।
১৪. পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য ছাত্রছাত্রী হিসেবে তোমরা কী কী করতে পারো?
পরিবেশ বাঁচাতে আমরা নিম্নলিখিত কাজগুলো করতে পারি:
- বিদ্যালয়ে ও বাড়ির চারপাশে গাছ লাগাতে পারি এবং গাছের যত্ন নিতে পারি।
- প্লাস্টিকের ব্যাগের বদলে চটের বা কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করতে পারি।
- জলের অপচয় বন্ধ করতে পারি এবং যত্রতত্র নোংরা না ফেলে নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলতে পারি।
- পাখি বা বন্য প্রাণীদের বিরক্ত না করে তাদের প্রতি যত্নশীল হতে পারি।
- বড়দের এবং বন্ধুদের পরিবেশ দূষণ সম্পর্কে সচেতন করতে পারি।
মূল্যায়ন পত্র: বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ)
সঠিক উত্তরটিতে ক্লিক করো। শেষে ‘জমা দিন’ বোতামে ক্লিক করে নম্বর দেখো।