প্রশ্ন ও উত্তর নোটস
শ্রেণি: চতুর্থ | অধ্যায় ৮: মানুষের পরিবার ও সমাজ
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
১. সমাজ কাকে বলে?
যখন অনেক মানুষ একে অপরের প্রয়োজনে এবং বিপদে-আপদে পাশে থাকার জন্য একসঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করে, তখন তাকে সমাজ বলে।
২. পরিবার কত ধরণের হয়?
পরিবার সাধারণত দুই ধরণের হয়। ১. ছোট পরিবার (মা, বাবা ও ভাই-বোন) এবং ২. বড় বা যৌথ পরিবার (দাদু, ঠাকুমা, কাকা, কাকিমা ও ভাই-বোন সবাই মিলে)।
৩. আত্মীয় কাদের বলে?
একই পরিবারের বা বংশের লোকজনকে এবং বিবাহসূত্রে সম্পর্কিত মানুষদের আত্মীয় বলা হয়। যেমন—পিসি, মাসি, মামা, কাকা ইত্যাদি।
৪. সমাজ চালানো বা সমাজবন্ধুর কাজ কী?
যারা সমাজের মঙ্গলের জন্য কাজ করেন এবং আমাদের নানাভাবে উপকার করেন, তাঁদের সমাজবন্ধু বলা হয়। যেমন—মুচি, ধোপা, নাপিত, ডাক্তার, পুলিশ।
৫. মানুষ কেন জোট বেঁধে থাকতে শুরু করল?
বন্য জন্তুদের আক্রমণ থেকে বাঁচতে, খাবার জোগাড় করতে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করার জন্য আদিম মানুষ জোট বেঁধে থাকতে শুরু করেছিল।
৬. যাযাবর কাদের বলা হতো?
আগেকার দিনে মানুষ খাবার ও বাসস্থানের খোঁজে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরে বেড়াত। এদের স্থায়ী কোনো ঘরবাড়ি ছিল না। এদের যাযাবর বলা হতো।
ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন ও উত্তর
৭. যৌথ পরিবার ভেঙে ছোট পরিবার তৈরি হচ্ছে কেন?
আগেকার দিনে বেশিরভাগ মানুষ চাষবাস করত এবং একসঙ্গে বড় বাড়িতে থাকত। কিন্তু এখন পড়াশোনা ও চাকরির প্রয়োজনে মানুষ গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে যাচ্ছে। জায়গার অভাব এবং কাজের প্রয়োজনে মানুষ আলাদা থাকতে শুরু করায় যৌথ পরিবার ভেঙে ছোট পরিবার তৈরি হচ্ছে।
৮. সমাজের নিয়মকানুন কেন তৈরি হলো?
মানুষ যখন একসঙ্গে থাকতে শুরু করল, তখন নিজেদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ এড়াতে এবং শান্তি বজায় রাখতে কিছু নিয়মকানুনের প্রয়োজন হলো। সবাই যাতে সমান সুযোগ পায় এবং একে অপরকে সাহায্য করে, সেজন্যই সমাজের নিয়মকানুন তৈরি হলো।
৯. লোককথা বা লোকসংস্কৃতি বলতে কী বোঝো?
মানুষের মুখে মুখে চলে আসা গল্প, গান, ছড়া বা প্রবাদকে লোককথা বা লোকসংস্কৃতি বলে। এগুলি বইতে লেখা থাকে না, কিন্তু দাদু-ঠাকুমার কাছ থেকে শুনে শুনে আমরা জানতে পারি। যেমন—টুসু গান, ভাদু গান, রূপকথার গল্প।
মাঝারি ও বিশ্লেষণমূলক প্রশ্ন
১০. সমাজে একে অপরের উপর নির্ভরশীলতা কীভাবে দেখা যায়? উদাহরণ দাও।
সমাজে কেউ একা বাঁচতে পারে না। আমাদের বেঁচে থাকার জন্য ডাক্তার, শিক্ষক, চাষি, তাঁতি, কামার, কুমোর—সবার প্রয়োজন।
উদাহরণ: চাষি ফসল ফলান, আমরা সেই ফসল কিনে খাই। আবার আমরা অসুস্থ হলে ডাক্তারের কাছে যাই। ডাক্তার আমাদের সুস্থ করেন। অর্থাৎ, আমরা একে অপরের কাজের উপর নির্ভর করি।
১১. আগেকার দিনের সমাজ আর এখনকার সমাজের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।
১. বাসস্থান: আগেকার মানুষ গুহায় বা গাছের ডালে থাকত, এখন মানুষ পাকা বাড়িতে থাকে।
২. জীবিকা: আগে মানুষের প্রধান কাজ ছিল শিকার ও ফলমূল সংগ্রহ। এখন মানুষ কৃষি, শিল্প, চাকরি ও নানা ধরণের ব্যবসা করে।
৩. পরিবার: আগে মানুষ দল বেঁধে যাযাবরের মতো থাকত, পরে যৌথ পরিবারে থাকত। এখন ছোট পরিবারের সংখ্যা বেশি।
১২. পাহাড়ি অঞ্চলের সমাজ ও জীবনযাত্রা কেমন?
পাহাড়ি অঞ্চলে সমতল জায়গা কম, তাই বাড়িঘরগুলো ধাপে ধাপে তৈরি হয়। এখানকার রাস্তাঘাট উঁচু-নিচু। এখানকার মানুষেরা মূলত চা বাগান, কমলালেবু চাষ বা পর্যটন শিল্পের সাথে যুক্ত। লেপচা, ভুটিয়া, নেপালি প্রভৃতি সম্প্রদায়ের মানুষ এখানে মিলেমিশে বসবাস করে।
রচনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর
১৩. মানুষ কীভাবে যাযাবর জীবন থেকে স্থায়ী সমাজে বসবাস শুরু করল?
মানুষের সমাজ গড়ে ওঠার ইতিহাস ধাপে ধাপে এগিয়েছে:
- শিকারি যুগ: প্রথমে মানুষ বনে-জঙ্গলে ঘুরে শিকার করত আর ফলমূল খেত। নির্দিষ্ট কোনো ঘর ছিল না।
- পশুপালন: এরপর মানুষ পশুকে পোষ মানাতে শিখল। পশুখাদ্যের জন্য এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরত।
- কৃষিকাজ: সবশেষে মানুষ চাষবাস শিখল। ফসলের দেখাশোনা করার জন্য তাদের ক্ষেতের পাশে স্থায়ীভাবে থাকতে হলো। এভাবেই গড়ে উঠল গ্রাম ও সমাজ।
১৪. সমাজের ভালো-মন্দ বা সামাজিক সমস্যাগুলি কীভাবে সমাধান করা সম্ভব?
সমাজে যেমন ভালো দিক আছে, তেমনি কিছু সমস্যাও (কুসংস্কার, দূষণ, ভেদাভেদ) আছে। এগুলি সমাধান করতে হলে:
- সবাইকে শিক্ষিত ও সচেতন হতে হবে।
- সমাজের নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে।
- পরিবেশ দূষণ রোধে গাছ লাগাতে হবে এবং প্লাস্টিক বর্জন করতে হবে।
- একে অপরের বিপদে পাশে দাঁড়াতে হবে এবং মিলেমিশে কাজ করতে হবে।
মূল্যায়ন পত্র: বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ)
সঠিক উত্তরটিতে ক্লিক করো। শেষে ‘জমা দিন’ বোতামে ক্লিক করে নম্বর দেখো।