অধ্যায় ৭: নোটস ও কুইজ

প্রশ্ন ও উত্তর নোটস

শ্রেণি: চতুর্থ | অধ্যায় ৭: জীবিকা ও সম্পদ

বিভাগ ক (২ নম্বর)

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

১. জীবিকা কাকে বলে?

বেঁচে থাকার জন্য মানুষ যে কাজ করে অর্থ উপার্জন করে এবং নিজের ও পরিবারের প্রয়োজন মেটায়, তাকে জীবিকা বলে। যেমন—কৃষিকাজ, মাছ ধরা, চাকরি করা ইত্যাদি।

২. কুটির শিল্প বলতে কী বোঝো?

বাড়িতে বসে অল্প মূলধনে ও সামান্য সরঞ্জামের সাহায্যে যে সমস্ত জিনিসপত্র তৈরি করা হয়, তাকে কুটির শিল্প বলে। যেমন—তাঁত শিল্প, মাটির পুতুল তৈরি, ঝুড়ি বোনা ইত্যাদি।

৩. সম্পদ কয় প্রকার ও কী কী?

সম্পদ সাধারণত দুই প্রকার। ১. প্রাকৃতিক সম্পদ (যেমন—জল, বাতাস, কয়লা) এবং ২. মানব-সৃষ্ট সম্পদ (যেমন—ঘরবাড়ি, স্কুল, হাসপাতাল)।

৪. লুপ্তপ্রায় জীবিকা কাদের বলে?

যেসব জীবিকা আগে ছিল কিন্তু এখন আর খুব একটা দেখা যায় না বা হারিয়ে যেতে বসেছে, তাদের লুপ্তপ্রায় জীবিকা বলে। যেমন—পালকি বাহক, শাঁখারি।

বিভাগ খ (৩ নম্বর)

ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন ও উত্তর

৫. ডোকরা শিল্প কীভাবে তৈরি হয়?

ডোকরা হলো ধাতু গলিয়ে তৈরি এক ধরণের শিল্প। প্রথমে মোম দিয়ে মূর্তির ছাঁচ তৈরি করা হয়। তারপর সেই ছাঁচে গলানো ধাতু (পিতল বা ব্রোঞ্জ) ঢেলে মূর্তি তৈরি করা হয়। এই পদ্ধতিতে তৈরি মূর্তি বা গয়না বাঁকুড়া ও বর্ধমান জেলায় বিখ্যাত।

৬. চা বাগানের কাজ সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।

দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ি জেলার পাহাড়ি অঞ্চলে প্রচুর চা বাগান আছে। এখানকার শ্রমিকরা পিঠে ঝুড়ি বেঁধে চা গাছের কচি পাতা তোলে। তারপর সেই পাতা কারখানায় নিয়ে গিয়ে শুকিয়ে চা তৈরি করা হয়। এটিই এখানকার মানুষদের প্রধান জীবিকা।

৭. কামার ও কুমোরের কাজের মধ্যে পার্থক্য কী?

কামার বা কর্মকাররা লোহা গরম করে পিটিয়ে কুড়ুল, কাস্তে, কোদাল ইত্যাদি তৈরি করেন। অন্যদিকে, কুমোর বা কুম্ভকাররা মাটি দিয়ে চাকা ঘুরিয়ে হাঁড়ি, কলসি, পুতুল ইত্যাদি তৈরি করেন। কামারের কাজ ধাতুর সাথে যুক্ত আর কুমোরের কাজ মাটির সাথে যুক্ত।

বিভাগ গ (৪ নম্বর)

মাঝারি ও ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন

৮. নকশি কাঁথা কী? এটি তৈরিতে কী কী উপকরণের প্রয়োজন হয়?

নকশি কাঁথা: গ্রামের মহিলারা পুরোনো শাড়ি বা কাপড় দিয়ে কাঁথা তৈরি করেন এবং তার ওপর রঙিন সুতো দিয়ে সুন্দর নকশা বা ছবি ফুটিয়ে তোলেন। একেই নকশি কাঁথা বলে।
উপকরণ: নকশি কাঁথা তৈরির জন্য প্রয়োজন—পুরোনো বা নতুন নরম সুতির কাপড়, সুই বা ছুঁচ এবং বিভিন্ন রঙের সুতো।

৯. মানুষকেই কেন ‘সম্পদ’ বলা হয়? উদাহরণ দাও।

শুধুমাত্র টাকা-পয়সা বা জমিজমা থাকলেই তাকে সম্পদ বলা হয় না। মানুষের জ্ঞান, বুদ্ধি, দক্ষতা এবং শ্রম—এগুলোও সমাজের উপকারে লাগে। তাই মানুষকেও সম্পদ বলা হয়।
উদাহরণ: ডাক্তার রোগীদের সেবা করেন, শিক্ষক ছাত্রদের শিক্ষা দেন, বিজ্ঞানীরা নতুন কিছু আবিষ্কার করেন। এঁরা সবাই মানব-সম্পদ।

১০. ছৌ নাচ সম্পর্কে যা জানো লেখো।

ছৌ নাচ পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলার একটি বিখ্যাত লোকনৃত্য। এই নাচে শিল্পীরা রামায়ণ বা মহাভারতের বিভিন্ন চরিত্রের বড় বড় রঙিন মুখোশ পরে নাচেন। এই নাচে বাদ্যযন্ত্র হিসেবে ধামসা ও মাদল ব্যবহার করা হয়। ছৌ নাচের মুখোশ তৈরি করাও একটি কুটির শিল্প।

বিভাগ ঘ (৫ নম্বর)

রচনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর

১১. কৃষিকাজে প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত কী কী পরিবর্তন এসেছে?

কৃষিকাজে সময়ের সাথে সাথে অনেক পরিবর্তন এসেছে:

  • প্রাচীনকাল: আদিম মানুষ প্রথমে পাথরের টুকরো বা গাছের ডাল দিয়ে মাটি খুঁড়ে চাষ করত। তখন কোনো উন্নত যন্ত্রপাতি ছিল না।
  • মধ্যযুগ: এরপর মানুষ ধাতুর ব্যবহার শিখল। লোহার ফলা দেওয়া লাঙল ব্যবহার করে গোরু বা মোষ দিয়ে জমি চাষ করা শুরু হলো। এতে চাষের কাজ সহজ হলো।
  • বর্তমান কাল: এখন বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে চাষের কাজে ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার, হারভেস্টার ইত্যাদি যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। জলসেচের জন্য পাম্প ব্যবহার করা হয়। রাসায়নিক সারের বদলে এখন জৈব সার ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

১২. পশ্চিমবঙ্গের তিনটি বিখ্যাত হস্তশিল্পের বর্ণনা দাও।

পশ্চিমবঙ্গের তিনটি বিখ্যাত হস্তশিল্প হলো:

  • পোড়ামাটির শিল্প (Terracotta): বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর পোড়ামাটির কাজের জন্য বিখ্যাত। এখানকার মন্দিরের গায়ে পোড়ামাটির ফলক এবং পোড়ামাটির ঘোড়া খুব জনপ্রিয়।
  • তাঁত শিল্প: নদিয়ার শান্তিপুর ও হুগলির ধনেখালি তাঁতের শাড়ির জন্য বিখ্যাত। তাঁতিরা সুতো দিয়ে তাঁত বুনে এই কাপড় তৈরি করেন।
  • গালা শিল্প: পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া জেলায় লাক্ষা বা গালা দিয়ে পুতুল ও গয়না তৈরি করা হয়। এটি একটি প্রাচীন কুটির শিল্প।

মূল্যায়ন পত্র: বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ)

সঠিক উত্তরটিতে ক্লিক করো। শেষে ‘জমা দিন’ বোতামে ক্লিক করে নম্বর দেখো।

১. যারা মাটির জিনিস তৈরি করেন:

২. ছৌ নাচের জন্য বিখ্যাত:

৩. লুপ্তপ্রায় জীবিকা:

৪. ডোকরা শিল্পে লাগে:

৫. লোহার জিনিস গড়েন:

৬. প্রাকৃতিক সম্পদ:

৭. দার্জিলিং-এর জীবিকা:

৮. পোড়ামাটির মন্দির:

৯. কুটির শিল্প নয়:

১০. গম্ভীরা পালা:

১১. চাষের আধুনিক যন্ত্র:

১২. তাঁতিরা তৈরি করেন:

১৩. নকশি কাঁথা:

১৪. প্রাণিজ সম্পদ:

১৫. ভালো সার:

১৬. শান্তিপুর:

১৭. চিঠি বিলি করত:

১৮. মানুষ তৈরি সম্পদ:

১৯. মাছ ধরার যন্ত্র:

২০. খনিজ সম্পদ:

২১. কুমোর : মাটি :: ছুতোর :

২২. দার্জিলিং : চা :: পুরুলিয়া :

২৩. লাঙল : বলদ :: ট্রাক্টর :

২৪. ডোকরা : ধাতু :: টেরাকোটা :

২৫. ডাক্তার : স্টেথোস্কোপ :: চাষি :

BISWAZ GROWTH ACADEMY - Class Menu
BISWAZ GROWTH ACADEMY - Class Menu