আমাদের পরিবেশ – পোশাক (নোটস ও পরীক্ষা)
বিষয়: পোশাক (তৃতীয় শ্রেণির অধ্যায় ৩ থেকে)
পূর্ণমান: ৫০
সময়: ১.৫ ঘণ্টা
শ্রেণি: ৩য়
শিক্ষার্থীর নাম:
বিদ্যালয়ের নাম:
অধ্যায় ৩: পোশাক – মূল ধারণা
১. পোশাকের প্রয়োজনীয়তা ও ভিন্নতা
- পোশাক আমাদের **ঠান্ডা, গরম ও বৃষ্টি** থেকে বাঁচায়।
- পোশাকের মাধ্যমে মানুষকে তাদের **কাজ** অনুযায়ী চেনা যায় (যেমন: ডাক্তার, পুলিশ, নার্স)।
- স্কুল-কলেজে একই পোশাক পরা হয়, তাকে **ইউনিফর্ম** বলে।
২. ঋতু অনুযায়ী পোশাক
গরমকাল:
**সুতির (Cotton)** পোশাক। সুতির পোশাক হালকা হয় এবং ঘাম শোষণ করে শরীরকে ঠান্ডা রাখে।শীতকাল:
**পশম (Wool)** বা উলের তৈরি পোশাক (সোয়েটার, চাদর) পরি। পশমের পোশাক শরীরকে গরম রাখে।বর্ষাকাল:
**বর্ষাতি** বা **সিন্থেটিক** (Synthetic) পোশাক পরি। সিন্থেটিক কাপড় দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং সহজে জল শোষণ করে না।
৩. পোশাকের উপাদান ও উৎস
প্রাকৃতিক উপাদান:
- **সুতি/কার্পাস:** এটি **তুলো** থেকে তৈরি হয়। তুলো গাছ থেকে আসে (উদ্ভিদজাত)।
- **পশম/উল:** এটি মূলত **ভেড়ার লোম** থেকে আসে (প্রাণীজ)। কিছু ছাগলের লোম থেকেও উল তৈরি হয়।
কৃত্রিম উপাদান (সিন্থেটিক):
- **সিন্থেটিক উল/কাপড় (যেমন: ক্যাশমিলন):** এটি **খনিজ তেল** শোধন করে কারখানায় তৈরি করা হয়। এটি তাড়াতাড়ি শুকোয় ও কোঁচকায় না।
- **বর্ষাতি:** সিন্থেটিক উপাদান দিয়ে তৈরি হয়।
৪. পোশাক তৈরির ইতিহাস
প্রাচীনকাল:
মানুষ প্রথমে কোনো পোশাক পরত না। পরে শীত থেকে বাঁচতে তারা **পশুর ছাল-চামড়া** এবং **গাছের ছাল, লতা-পাতা** নিজেদের গায়ে জড়িয়ে রাখত।মধ্যবর্তী পর্যায়:
মানুষ হাড়ের কাঠিকে **সুচের** মতো ব্যবহার করে পশুর চামড়া জুড়তে শিখল। **পাট** বা **শন** গাছের আঁশ দিয়ে বুনে কাপড় তৈরির প্রাথমিক চেষ্টা করত।আধুনিক পর্যায়:
**তুলো** চাষ এবং **তাঁত** ও **সেলাই মেশিনের** আবিষ্কারের ফলে বর্তমানে নানা ধরনের সুতি, পশম এবং সিন্থেটিক পোশাক তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।
বিভাগ ০: প্রশ্নোত্তরের সারণী (Quick Revision Notes – পোশাক)
অধ্যায় ৩: ‘পোশাক’ থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলির উত্তর নিচে দেওয়া হলো।
| প্রশ্ন নং | প্রশ্নের ধরন ও মূল বিষয় | উত্তর (সংক্ষিপ্ত সারাংশ) |
|---|---|---|
| ১-১০ | বহু নির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ) | সঠিক উত্তরগুলি হল: ১.(গ) ঠান্ডা থেকে, ২.(খ) পশম/উল, ৩.(খ) সুতি, ৪.(ক) খনিজ তেল, ৫.(গ) ভেড়ার লোম, ৬.(খ) কাঁধের জোড়, ৭.(গ) নার্স, ৮.(খ) পশুর চামড়া, ৯.(ক) বর্ষাতি, ১০.(গ) সুচ। |
| ১১. | পোশাকের প্রয়োজনীয়তা | পোশাক আমাদের ঠান্ডা, গরম, বৃষ্টি ও পোকা-মাকড় থেকে বাঁচায় এবং মানুষকে তাদের কাজ অনুযায়ী চিনতে সাহায্য করে। |
| ১২. | ঋতুভিত্তিক পোশাক | গরমকালে সুতির পোশাক (হালকা), শীতকালে পশমের পোশাক (গরম রাখে), বর্ষাকালে সিন্থেটিক পোশাক (তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়)। |
| ১৩. | স্কুলের পোশাক | স্কুলে ইউনিফর্ম পরার কারণ হল সকল শিক্ষার্থীকে একই রকম দেখানো এবং তাদের পরিচয় দেওয়া। এটি বৈষম্য কমাতে সাহায্য করে। |
| ১৪. | সিন্থেটিকের সুবিধা | সিন্থেটিক কাপড় (যেমন: রেনকোট/বর্ষাতি) তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়, সহজে কোঁচকায় না এবং জল শোষণ করে না। |
| ১৫. | পশমের উৎস | পশম বা উল আসে মূলত ভেড়ার লোম থেকে। এটি প্রাকৃতিক (প্রাণীজ) উপাদান। |
বিশদ উত্তরের প্রস্তুতি (Long Answer Preparation)
প্রশ্ন: মানব ইতিহাসের সাপেক্ষে পোশাক তৈরির বিবর্তন সংক্ষেপে লেখো। (৫ মার্কস)
১. প্রাথমিক পর্যায় (শিকারি যুগ):
মানুষ যখন আগুন জ্বালাতে শেখেনি, তখন চরম ঠান্ডা থেকে বাঁচতে তারা কেবল শিকার করা **পশুর ছাল-চামড়া** বা **গাছের ছাল ও লতা** নিজেদের গায়ে জড়িয়ে রাখত।
২. মধ্যবর্তী পর্যায় (জুড়ে রাখা):
পরে তারা পশুর **হাড়** বা **কাঠির** মতো ধারালো জিনিস দিয়ে পশুর চামড়া কেটে নিত এবং তা সেলাই করার জন্য **গাছের শক্ত আঁশ** ব্যবহার করত। এভাবে পশুর চামড়া জোড়া দিয়ে পোশাক তৈরি করত।
৩. কৃষি যুগ ও সুতির ব্যবহার:
কৃষিকাজ শেখার পর মানুষ **তুলো** চাষ শুরু করে। তুলো থেকে সুতো এবং সেই সুতো **তাঁত যন্ত্রে** বুনে সুতির কাপড় তৈরি করা হয়। এটিই প্রথম আধুনিক ও আরামদায়ক পোশাক ছিল।
৪. আধুনিক ও কৃত্রিম পোশাক:
বর্তমানের সবচেয়ে আধুনিক পোশাক **খনিজ তেল** (Mineral Oil) থেকে কৃত্রিম উপায়ে তৈরি হয় (যেমন: সিন্থেটিক উল বা ক্যাশমিলন)। **সেলাই মেশিন** ব্যবহারের কারণে এখন কম সময়ে পোশাক তৈরি করা সম্ভব হয়।