অনলাইন পরীক্ষা: আমাদের পরিবেশ প্রশ্নপত্র
বিষয়: রংবাহার (তৃতীয় শ্রেণির অধ্যায় ৯ থেকে – সাধারণ জ্ঞান)
পূর্ণমান: ৫০
সময়: ১.৫ ঘণ্টা
শ্রেণি: ৩য়
শিক্ষার্থীর নাম:
বিদ্যালয়ের নাম:
অধ্যায় ৯: রংবাহার – মূল ধারণা
১. রঙের উৎস ও ব্যবহার
রং কী?
আলো যখন কোনো বস্তুর ওপর পড়ে, তখন বস্তুটির যে অংশ প্রতিফলিত হয়, তা-ই আমাদের চোখে রং হিসেবে ধরা দেয়।রঙের প্রকারভেদ:
রং মূলত দুই প্রকার: **১) প্রাকৃতিক রং** (উদ্ভিদ বা প্রাণী থেকে পাওয়া) এবং **২) কৃত্রিম রং** (কারখানায় রাসায়নিক দিয়ে তৈরি)।ব্যবহার:
রং দিয়ে পোশাক, ঘরবাড়ি, ছবি আঁকা এবং খাবার (খুব কম পরিমাণে) রাঙানো হয়।
২. প্রাকৃতিক রঙের উৎস
গাছের পাতা:
**নীল রং** পাওয়া যায় **নীল গাছ** থেকে। বিভিন্ন সবুজ পাতা থেকে **সবুজ রং** তৈরি হয়।ফুল ও ফল:
**গাঁদা ফুল** থেকে হলুদ বা কমলা রং পাওয়া যায়। **পেঁয়াজের খোসা** থেকেও রং তৈরি করা যায়। **আম, হলুদ, গাজর** ইত্যাদি থেকেও রং তৈরি করা যায়।পোশাক:
আগেকার দিনে সুতির পোশাক রাঙানোর জন্য প্রধানত প্রাকৃতিক রং ব্যবহার করা হতো।
৩. কৃত্রিম রং ও বিপদ
কৃত্রিম রং:
এগুলি **রাসায়নিক পদার্থ** দিয়ে তৈরি হয়, যা সাধারণত **খনিজ তেল** শোধন করে পাওয়া যায়। এগুলি উজ্জ্বল হয় এবং সহজে ওঠে না।বিপদ:
কৃত্রিম রংগুলি সাধারণত **খাবারে ব্যবহার করা বিপজ্জনক**। এতে শরীরের ক্ষতি হতে পারে। পোশাক বা খেলনা রাঙানোর জন্যই মূলত কৃত্রিম রং ব্যবহার করা উচিত।সতর্কতা:
বাচ্চাদের উচিত নয় অচেনা ফল বা গাছপালা থেকে রং তৈরি করে মুখে দেওয়া বা সেটির সংস্পর্শে আসা।
বিভাগ ০: প্রশ্নোত্তরের সারণী (Quick Revision Notes – রংবাহার)
অধ্যায় ৯: ‘রংবাহার’ থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলির উত্তর নিচে দেওয়া হলো।
| প্রশ্ন নং | প্রশ্নের ধরন ও মূল বিষয় | উত্তর (সংক্ষিপ্ত সারাংশ) |
|---|---|---|
| ১-১০ | বহু নির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ) | সঠিক উত্তরগুলি হল: ১.(খ) নীল গাছ, ২.(গ) উজ্জ্বল ও সহজে ওঠে না, ৩.(খ) সূর্যকিরণ, ৪.(ক) খনিজ তেল, ৫.(গ) হলুদ/কমলা, ৬.(খ) ফুল, ৭.(ক) প্রাকৃতিক রং, ৮.(গ) নিরাপদ রং, ৯.(খ) পেঁয়াজের খোসা, ১০.(ক) শরীরের ক্ষতি হতে পারে। |
| ১১. | রং ও উৎস | রং হল প্রতিফলিত আলো। উৎস দুই প্রকার: প্রাকৃতিক (উদ্ভিদ/প্রাণী) ও কৃত্রিম (রাসায়নিক)। |
| ১২. | নীল রং | পোশাক রাঙানোর জন্য নীল রং পাওয়া যায় নীল গাছ থেকে। |
| ১৩. | কৃত্রিম রংয়ের বিপদ | কৃত্রিম রং ক্ষতিকর রাসায়নিক দিয়ে তৈরি হয় এবং এটি খাবারে ব্যবহার করলে শরীরের ক্ষতি হতে পারে। |
| ১৪. | প্রাকৃতিক রং | গাঁদা ফুল, হলুদ, পেঁয়াজের খোসা ইত্যাদি থেকে রং তৈরি হয়। এটি সাধারণত খাবারের জন্য বেশি নিরাপদ। |
| ১৫. | রং ও পোশাক | আগেকার দিনে দর্জিরা প্রাকৃতিক রং দিয়ে পোশাক রাঙাতেন। এখন দ্রুত ও সহজে রং করার জন্য কৃত্রিম রং ব্যবহার করা হয়। |
বিশদ উত্তরের প্রস্তুতি (Long Answer Preparation)
প্রশ্ন: প্রাকৃতিক রং ও কৃত্রিম রংয়ের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো। আমরা কেন কৃত্রিম রং খাবারে ব্যবহার করব না? (৫ মার্কস)
১. উৎস:
প্রাকৃতিক রং: উদ্ভিদ (নীল গাছ, হলুদ) বা প্রাণী থেকে পাওয়া যায়।
কৃত্রিম রং: কারখানায় রাসায়নিক পদার্থ (খনিজ তেল থেকে) ব্যবহার করে তৈরি করা হয়।
২. বৈশিষ্ট্য:
প্রাকৃতিক রং: সাধারণত কম উজ্জ্বল এবং সহজে ফিকে হয়ে যায়।
কৃত্রিম রং: খুব উজ্জ্বল, দীর্ঘস্থায়ী এবং সহজে ফিকে হয় না।
৩. খাবারে ব্যবহার:
কৃত্রিম রং খাবারে ব্যবহার করা উচিত নয়: কারণ এগুলি ক্ষতিকর রাসায়নিক দিয়ে তৈরি, যা পেটে গেলে **শরীরের ক্ষতি** হতে পারে এবং অনেক সময় গুরুতর **রোগ** সৃষ্টি করতে পারে।