অধ্যায় ২: সু-অভ্যাস (তৃতীয় শ্রেণি)

স্বাস্থ্য ও শারীরশিক্ষা (তৃতীয় শ্রেণি)

অধ্যায় ২: সু-অভ্যাস

অধ্যায়ের সারসংক্ষেপ

এই অধ্যায়ে একটি সুস্থ, সবল ও ভালো জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় দৈনন্দিন অভ্যাসগুলির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

১. দৈনন্দিন অভ্যাস

  • ঘুম থেকে ওঠা: সূর্য ওঠার আগে বিছানা ছেড়ে উঠতে হবে এবং প্রাতঃকৃত্য সারতে হবে।
  • দাঁত মাজা: দাঁতন বা ব্রাশ দিয়ে প্রতিদিন ভালো করে দাঁত পরিষ্কার করা উচিত।
  • ব্যায়াম: দেহ ও মনকে সুস্থ-সবল ও সতেজ রাখতে প্রতিদিন যোগাসন (যেমন: শলভাসন, ভুজঙ্গাসন, শবাসন) করা প্রয়োজন।
  • পড়াশোনা: মন দিয়ে পড়াশোনা করলে জগৎটাকে জানা যায়।
  • নিজের কাজ: নিজের ছোট ছোট কাজ, যেমন – বই গুছোনো, জুতো পরিষ্কার করা বা নিজের কাপড় কাচা, নিজেই করা উচিত।

২. ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা

  • স্নান: প্রতিদিন তেল মেখে ও প্রয়োজনে সাবান ব্যবহার করে স্নান করা উচিত। এতে শরীর পরিষ্কার থাকে, মন ফুর্তিতে ভরে ওঠে এবং খোস, দাদ, চুলকানির মতো চর্মরোগ এড়ানো যায়।
  • হাত ধোয়া: খাওয়ার আগে ও পরে অবশ্যই ভালো করে হাত ও মুখ ধুতে হবে।
  • নখ কাটা: নিয়মিত নখ কাটতে হবে। দাঁত দিয়ে নখ কাটা একটি বদ অভ্যাস।
  • হাঁচি ও কাশি: হাঁচি বা কাশির সময় মুখে রুমাল চাপা দিতে হবে। থুথু, সর্দি বা কফ নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলা উচিত, কারণ এগুলি থেকে যক্ষ্মা বা নিউমোনিয়ার মতো রোগ ছড়াতে পারে।

৩. খাদ্য ও পানীয় সংক্রান্ত অভ্যাস

  • সুষম আহার: বাল্যকালে শরীর দ্রুত বাড়ে, তাই পুষ্টিকর খাবার খুব দরকারি। মিড-ডে মিলের ডাল, ভাত ও তরকারি পেট ভরে খাওয়া উচিত।
  • শাকসবজি: লাউ, কুমড়ো, বাঁধাকপি, বিট, গাজর ইত্যাদি সবুজ শাকসবজি স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।
  • ফল: প্রতিদিন অন্তত একটি করে ঋতুভিত্তিক ফল (যেমন – আম, জাম, কলা, পেয়ারা, আপেল, লেবু) খাওয়া উচিত, কারণ ফলে প্রচুর ভিটামিন থাকে।
  • বর্জনীয় খাবার: রাস্তার ধারের কাটা ফল, রঙিন জল, ফুচকা বা তেলেভাজা খাওয়া উচিত নয়। এগুলি দেহের ক্ষতি করে।
  • খাবার ঢাকা: খাবার ও জল সব সময় ভালোভাবে ঢেকে রাখতে হবে। বাসি, পচা বা খোলা খাবার খেলে নানা রকম রোগ হয়।
  • বিশুদ্ধ জল: পানীয় জল অবশ্যই বিশুদ্ধ হতে হবে। নোংরা জলে রোগজীবাণু থাকে। নলকূপের জল বা জল ফুটিয়ে পান করা উচিত।
  • ওআরএস (ORS): পেট খারাপ বা ডায়ারিয়া হলে এক চিমটে নুন, গুড় বা চিনি বিশুদ্ধ পানীয় জলে মিশিয়ে ‘ওআরএস’ বানিয়ে খেতে হবে।

৪. অন্যান্য সু-অভ্যাস

  • পথ নিরাপত্তা: রাস্তায় চলার সময় সজাগ থাকতে হবে এবং সর্বদা বাঁদিক ধরে চলতে হবে।
  • শৃঙ্খলা: বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের কথা মেনে চলতে হবে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।
  • খেলাধুলা: বিকেলবেলা নিয়ম করে খেলার মাঠে খেলাধুলা করা ভালো অভ্যাস।
  • ঘুম: রাতে শোবার আগে অবশ্যই মশারি টাঙিয়ে ঘুমাতে হবে, কারণ মশা অনেক রোগের জীবাণু বহন করে।

বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলী (MCQ)

সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:

  1. কখন বিছানা ছেড়ে উঠতে বলা হয়েছে?

  2. নিয়মিত যোগাসন করলে কী হয়?

  3. নিয়মিত স্নান করলে কী দূর হয়?

  4. রাস্তাঘাটে কোন দিক ধরে চলতে হয়?

  5. বিদ্যালয়ে কাদের কথা মেনে চলতে বলা হয়েছে?

  6. বাল্যকালে শরীর বাড়ার জন্য কী বেশি দরকারি?

  7. গাজর, বিট, বাঁধাকপিকে কী বলা হয়েছে?

  8. ফলে কী ভরা থাকে?

  9. ‘ওআরএস’ (ORS) কখন খেতে হয়?

  10. কখন হাত-মুখ ধুতে বলা হয়েছে?

  11. নখ কী দিয়ে কাটা উচিত নয়?

  12. খাবার ও জল কেমনভাবে রাখা উচিত?

  13. পানীয় জল কেমন হওয়া চাই?

  14. কোন জল খেলে অসুখ বিসুখ হয়?

  15. থুথু, সর্দি, কফ থেকে কী ছড়ায়?

  16. রাস্তার ধারের কোন খাবার খেতে বারণ করা হয়েছে?

  17. বিকেলবেলায় কী করতে বলা হয়েছে?

  18. রাত্রে কী টাঙিয়ে ঘুমাতে হয়?

  19. মশারি কেন ব্যবহার করা হয়?

  20. কোনটি নিজের কাজ হিসেবে করতে বলা হয়েছে?

BISWAZ GROWTH ACADEMY - Class Menu
BISWAZ GROWTH ACADEMY - Class Menu