সম্পূর্ণ অধ্যায় নোটস
শ্রেণি: চতুর্থ | অধ্যায় ৪: আবহাওয়া ও বাসস্থান
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (মান – ২)
১. পাহাড়ের চূড়ায় উঠলে শ্বাসকষ্ট হয় কেন?
পাহাড়ের অনেক উঁচুতে বাতাসের পরিমাণ কমে যায়। ফলে বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণও কমে যায়। আমাদের শ্বাস নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পাওয়ায় শ্বাসকষ্ট হয়।
২. শীতকালে ভিজে জামাকাপড় তাড়াতাড়ি শুকায় কেন?
শীতকালে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ খুব কম থাকে, অর্থাৎ বাতাস শুষ্ক হয়। এই শুষ্ক বাতাস ভিজে কাপড়ের জল খুব দ্রুত শুষে নেয়, তাই কাপড় তাড়াতাড়ি শুকায়।
৩. ‘শিল’ বা শিলাবৃষ্টি কী?
বৃষ্টির জল আকাশ থেকে পড়ার সময় বাতাসের খুব ঠান্ডা স্তরের মধ্যে দিয়ে আসলে তা জমে বরফের টুকরো হয়ে যায়। এই বরফের টুকরোগুলোকেই শিল বলা হয়।
৪. পরিযায়ী পাখি কাদের বলে?
শীতকালে শীতের হাত থেকে বাঁচতে এবং খাবারের খোঁজে অনেক পাখি দূর দেশ থেকে উড়ে আমাদের দেশে আসে। এদের পরিযায়ী পাখি বলে। যেমন—পিনটেল, হুইসলিং টীল।
৫. মরুভূমির প্রাণীরা কীভাবে বেঁচে থাকে?
মরুভূমিতে জল খুব কম। তাই উটের মতো প্রাণীরা তাদের কুঁজে চর্বি জমিয়ে রাখে এবং দীর্ঘদিন জল না খেয়ে থাকতে পারে। ফণীমনসা জাতীয় গাছ কাঁটার মাধ্যমে জল অপচয় রোধ করে।
৬. বাতাসের প্রধান উপাদানগুলি কী কী?
বাতাস হলো বিভিন্ন গ্যাসের মিশ্রণ। এতে সবচেয়ে বেশি থাকে নাইট্রোজেন, তারপর অক্সিজেন। এছাড়াও কার্বন ডাইঅক্সাইড, জলীয় বাষ্প এবং ধূলিকণা থাকে।
ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন ও উত্তর (মান – ৩)
৭. মেঘ কীভাবে সৃষ্টি হয়? (বা বৃষ্টির জলচক্র সংক্ষেপে লেখো)
সূর্যের তাপে নদী, পুকুর ও সমুদ্রের জল গরম হয়ে বাষ্পে পরিণত হয়। এই জলীয় বাষ্প বাতাসের চেয়ে হালকা বলে উপরে উঠে যায়। উপরে উঠে বাতাস ঠান্ডা হলে বাষ্প ঘনীভূত হয়ে ছোট ছোট জলকণায় পরিণত হয়। বাতাসের ধূলিকণাকে আশ্রয় করে এই জলকণাগুলি ভেসে বেড়ায়, একেই আমরা মেঘ বলি। মেঘ আরও ঠান্ডা ও ভারী হলে বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ে।
৮. আবহাওয়া বলতে কী বোঝো? ঋতু কাকে বলে?
আবহাওয়া: কোনো একটি নির্দিষ্ট জায়গায় নির্দিষ্ট সময়ে রোদ, বৃষ্টি, তাপমাত্রা বা বাতাসের অবস্থাকে আবহাওয়া বলে। এটি প্রতিদিন বা প্রতি মুহূর্তে বদলাতে পারে।
ঋতু: যখন বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়জুড়ে কোনো জায়গার আবহাওয়া মোটামুটি একই রকম থাকে, তখন তাকে ঋতু বলে। যেমন—গ্রীষ্মকালে বেশ কিছুদিন ধরে গরম থাকে।
৯. গাছ ও প্রাণীরা কীভাবে একে অপরের শ্বাসকার্যে সাহায্য করে?
প্রাণীরা শ্বাস নেওয়ার সময় বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড ত্যাগ করে। অন্যদিকে, গাছেরা খাবার তৈরির সময় বাতাস থেকে সেই কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন বাতাসে ফিরিয়ে দেয়। এভাবেই গাছ ও প্রাণীরা একে অপরের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে।
১০. সাঁতরাগাছির ঝিলে পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে কেন?
সাঁতরাগাছির ঝিলে একসময় শীতকালে প্রচুর পরিযায়ী পাখি আসত। কিন্তু বর্তমানে ঝিলের জল নোংরা হয়ে যাচ্ছে এবং ঝিলটি কচুরিপানায় ভরে যাচ্ছে। থাকার জায়গার অভাব এবং দূষণের কারণে পাখিদের আসা কমে যাচ্ছে।
রচনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর (মান – ৫)
১১. পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন ঋতুর পরিচয় দাও।
পশ্চিমবঙ্গে সাধারণত ছয়টি ঋতু দেখা যায়:
- গ্রীষ্মকাল (বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ): খুব গরম পড়ে, পুকুর-নদী শুকিয়ে যায়, কালবৈশাখী ঝড় হয়। আম, জাম, লিচু পাকে।
- বর্ষাকাল (আষাঢ়-শ্রাবণ): আকাশ কালো মেঘে ঢাকা থাকে, প্রচুর বৃষ্টি হয়। নদী-নালা জলে ভরে ওঠে।
- শরৎকাল (ভাদ্র-আশ্বিন): সাদা মেঘের ভেলা দেখা যায়, কাশফুল ফোটে। আবহাওয়া মনোরম থাকে।
- হেমন্তকাল (কার্তিক-অগ্রহায়ণ): অল্প শীতের আমেজ পাওয়া যায়, মাঠে ধান পাকে।
- শীতকাল (পৌষ-মাঘ): খুব ঠান্ডা পড়ে, উত্তর দিক থেকে হাওয়া বয়। সোয়েটার, চাদর গায়ে দিতে হয়।
- বসন্তকাল (ফাল্গুন-চৈত্র): গাছে নতুন পাতা গজায়, কোকিল ডাকে, পলাশ ও শিমুল ফুল ফোটে।
১২. জলদাপাড়া জঙ্গলের ভ্রমণের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দাও। (বই অনুসারে)
উত্তরবঙ্গে তোর্সা ও হলং নদীর তীরে অবস্থিত জলদাপাড়া অভয়ারণ্য।
- পরিবেশ: ঘন জঙ্গল, বড় বড় ঘাসের বন এবং পাহাড়ি নদী।
- প্রাণী: এখানে বুনো হাতি, হরিণ, ময়ূর এবং বাইসন দেখা যায়। তবে এই জঙ্গলের প্রধান আকর্ষণ হলো বিখ্যাত একশৃঙ্গ গন্ডার।
- মানুষ: জঙ্গলের আশেপাশেই থাকে রাভা, মেচ ও টোটো উপজাতির মানুষেরা। তাদের নিজস্ব ভাষা, নাচ ও গান আছে।
লেখকের বর্ণনায়, জঙ্গলের টাওয়ার থেকে ঘাসের জঙ্গল নড়ে উঠতে দেখা যায় এবং সেখান থেকে বাচ্চা সহ গন্ডার বেরিয়ে আসে। এটি একটি রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।
১৩. বন্য প্রাণীদের বাসস্থান কেন হারিয়ে যাচ্ছে? এর ফলাফল কী?
বাসস্থান হারানোর কারণ:
- মানুষ থাকার জন্য জঙ্গল কেটে বাড়িঘর ও শহর তৈরি করছে।
- চাষের জমি বাড়ানোর জন্য বনভূমি ধ্বংস করা হচ্ছে।
- জলাভূমি বুজিয়ে ফেলা হচ্ছে।
- কুসংস্কারের বশে অনেক গাছ (যেমন শিমুল) কেটে ফেলা হচ্ছে।
ফলাফল: বাসস্থান হারানোর ফলে বাঘ, হাতি, গন্ডারের মতো প্রাণীরা লোকালয়ে চলে আসছে। খাবারের অভাবে অনেক প্রাণী মারা যাচ্ছে এবং ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।
মূল্যায়ন পত্র: বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ)
সঠিক উত্তরটিতে ক্লিক করো। শেষে ‘জমা দিন’ বোতামে ক্লিক করে নম্বর দেখো।
ফলাফল
প্রাপ্ত নম্বর
/ ৫০
শতাংশ
%