DAY 1 ভূ-পৃষ্ঠের কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয় CLASS NOTES
অধ্যায় ৪: ভূ-গঠনকারী প্রক্রিয়া ও
পৃথিবীর ভূমিরূপ
পৃথিবীর উপরিভাগ সর্বত্র সমান নয়। কোথাও সুউচ্চ পর্বত, কোথাও ঢেউ খেলানো মালভূমি আবার কোথাও বিস্তৃত সমভূমি। এই বৈচিত্র্যময় ভূমিরূপ সৃষ্টির পেছনে কাজ করে বিভিন্ন ভূ-গঠনকারী প্রক্রিয়া। এই অধ্যায়ে আমরা জানব কীভাবে পৃথিবীর অভ্যন্তরীন ও বাহ্যিক শক্তিগুলো আমাদের এই পৃথিবীকে প্রতিনিয়ত নতুন রূপ দিচ্ছে।
অন্তর্জাত প্রক্রিয়া
পৃথিবীর অভ্যন্তর থেকে উৎপন্ন শক্তি (যেমন: পাত সংস্থান, অগ্ন্যুৎপাত)।
বহির্জাত প্রক্রিয়া
পৃথিবীর উপরিভাগে ক্রিয়াশীল শক্তি (যেমন: নদী, বায়ু, হিমবাহ)।
এক নজরে পাঠ্যসূচি
- ✓ পর্বতের শ্রেণিবিভাগ ও বৈশিষ্ট্য
- ✓ মালভূমির বিভিন্ন প্রকারভেদ
- ✓ সমভূমির গঠন ও গুরুত্ব
- ✓ মানুষের জীবনে ভূমিরূপের প্রভাব
প্রধান ভূমিরূপসমূহ এক্সপ্লোর করো
পর্বত
ভঙ্গিল, স্তূপ ও আগ্নেয় পর্বত সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা।
মালভূমি
পামির মালভূমি থেকে শুরু করে ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমির গল্প।
সমভূমি
পলি গঠিত সমভূমি ও মানব সভ্যতায় এর অবদান।
তুমি কি শেখার জন্য প্রস্তুত?
ভূ-গঠনকারী প্রক্রিয়ার এই রোমাঞ্চকর যাত্রা শুরু করো এখনই।
আমাদের পৃথিবী
অধ্যায় ৪: ভূ-গঠনকারী প্রক্রিয়া ও পৃথিবীর ভূমিরূপ
AI Generated Comprehensive Study Notes & Question Bank
সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (SAQ) - ২০টি
১. ভূ-গঠনকারী প্রক্রিয়া কাকে বলে?
যেসব প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে পৃথিবীর উপরিভাগের রূপের পরিবর্তন ঘটে এবং বিভিন্ন ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়, তাদের ভূ-গঠনকারী প্রক্রিয়া বলে।
২. অন্তর্জাত প্রক্রিয়া কী?
পৃথিবীর অভ্যন্তরে উৎপন্ন যে শক্তির প্রভাবে ভূ-ত্বকের পরিবর্তন ঘটে, তাকে অন্তর্জাত প্রক্রিয়া বলে (যেমন—অগ্নুৎপাত, ভূমিকম্প)।
৩. বহির্জাত প্রক্রিয়া কাকে বলে?
পৃথিবীর বাইরে বায়ুপ্রবাহ, নদী, হিমবাহ প্রভৃতি শক্তির প্রভাবে ভূমিরূপের যে পরিবর্তন ঘটে, তাকে বহির্জাত প্রক্রিয়া বলে।
৪. মহীভাবক আলোড়ন কী?
যে আলোড়ন পৃথিবীর ব্যাসার্ধ বরাবর লম্বভাবে কাজ করে এবং মহাদেশ সৃষ্টিতে সাহায্য করে, তাকে মহীভাবক আলোড়ন বলে।
৫. গিরিজনি আলোড়ন কাকে বলে?
যে আলোড়ন পৃথিবীর স্পর্শক বরাবর অনুভূমিকভাবে কাজ করে এবং পর্বত সৃষ্টিতে সাহায্য করে, তাকে গিরিজনি আলোড়ন বলে।
৬. 'পাত' (Plate) শব্দটি প্রথম কে ব্যবহার করেন?
১৯৬৫ সালে জে. টি. উইলসন প্রথম 'পাত' শব্দটি ব্যবহার করেন।
৭. অভিসারী পাত সীমানা কী?
যখন দুটি পাত পরস্পরের দিকে এগিয়ে আসে এবং সংঘর্ষ ঘটে, তাকে অভিসারী পাত সীমানা বলে।
৮. অপসারী পাত সীমানা কাকে বলে?
যখন দুটি পাত পরস্পরের বিপরীত দিকে সরে যায়, তাকে অপসারী বা গঠনকারী পাত সীমানা বলে।
৯. ভঙ্গিল পর্বত কাকে বলে?
ভূ-আলোড়নের ফলে পাললিক শিলাস্তরে ভাঁজ পড়ে যে পর্বত সৃষ্টি হয়, তাকে ভঙ্গিল পর্বত বলে (যেমন—হিমালয়)।
১০. স্তূপ পর্বত কী?
দুটি চ্যুতির মধ্যবর্তী অংশ উঁচুতে উঠে গিয়ে যে পর্বত সৃষ্টি করে, তাকে স্তূপ পর্বত বলে (যেমন—সাতপুরা)।
১১. গ্রস্ত উপত্যকা কাকে বলে?
দুটি সমান্তরাল চ্যুতির মধ্যবর্তী অংশ নিচে বসে গিয়ে যে উপত্যকা তৈরি হয়, তাকে গ্রস্ত উপত্যকা বলে (যেমন—নর্মদা উপত্যকা)।
১২. আগ্নেয় পর্বত বা সঞ্চয়জাত পর্বত কী?
অগ্নুৎপাতের ফলে নির্গত লাভা, ছাই প্রভৃতি সঞ্চিত হয়ে যে পর্বত গঠিত হয়, তাকে আগ্নেয় পর্বত বলে (যেমন—ফুজিয়ামা)।
১৩. অবশিষ্ট বা ক্ষয়জাত পর্বত কাকে বলে?
প্রাচীন উচ্চভূমি দীর্ঘকাল ধরে প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে যে নিচু পাহাড়ে পরিণত হয়, তাকে ক্ষয়জাত পর্বত বলে (যেমন—আরাবল্লী)।
১৪. পর্বতগ্রন্থি কী?
যে উচ্চভূমি থেকে একাধিক পর্বতশ্রেণি বিভিন্ন দিকে বিস্তৃত হয়, তাকে পর্বতগ্রন্থি বলে (যেমন—পামির গ্রন্থি)।
১৫. মালভূমিকে 'টেবিল ল্যান্ড' বলা হয় কেন?
মালভূমির উপরিভাগ টেবিলের মতো প্রায় সমতল এবং চারপাশ খাড়া ঢালযুক্ত হওয়ায় একে টেবিল ল্যান্ড বলে।
১৬. পর্বতবেষ্টিত মালভূমি কী?
যে মালভূমির চারপাশ পর্বত দিয়ে ঘেরা থাকে, তাকে পর্বতবেষ্টিত মালভূমি বলে (যেমন—তিব্বত মালভূমি)।
১৭. পলিগঠিত সমভূমি কাকে বলে?
নদী বাহিত পলি, বালি, কাদা দীর্ঘকাল ধরে নিচু স্থানে সঞ্চিত হয়ে যে সমভূমি গঠন করে, তাকে পলিগঠিত সমভূমি বলে।
১৮. লোয়েস সমভূমি কী?
মরুভূমির সূক্ষ্ম বালুকণা বায়ুর দ্বারা বাহিত হয়ে দূরবর্তী কোনো স্থানে সঞ্চিত হয়ে যে সমভূমি গঠন করে, তাকে লোয়েস সমভূমি বলে।
১৯. লাভা মালভূমি কাকে বলে?
ভূগর্ভস্থ লাভা ফাটল দিয়ে বাইরে বেরিয়ে এসে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সঞ্চিত হয়ে যে মালভূমি তৈরি করে, তাকে লাভা মালভূমি বলে (যেমন—দাক্ষিণাত্য মালভূমি)।
২০. ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি কী?
নদী বা অন্যান্য প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা কোনো মালভূমি অঞ্চল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে তাকে ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি বলে (যেমন—ছোটনাগপুর মালভূমি)।
দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্ন (LAQ) - ২০টি
১. পাত সংস্থান তত্ত্ব অনুযায়ী ভঙ্গিল পর্বতের উৎপত্তি ব্যাখ্যা করো।
পাত সংস্থান তত্ত্ব অনুসারে, ভূ-ত্বক কতগুলি ছোট-বড় পাতের সমন্বয়ে গঠিত। যখন দুটি অভিসারী পাত (বিশেষ করে একটি মহাদেশীয় ও একটি মহাসাগরীয় অথবা দুটি মহাদেশীয় পাত) পরস্পরের দিকে অগ্রসর হয়, তখন তাদের মধ্যবর্তী মহীখাতে সঞ্চিত পলিরাশিতে প্রচণ্ড পার্শ্বচাপ পড়ে। এই চাপের ফলে পলিরাশিতে ভাঁজ পড়ে এবং তা ক্রমশ উপরে উঠে ভঙ্গিল পর্বতের সৃষ্টি করে। উদাহরণস্বরূপ, ইউরেশীয় ও ভারতীয় পাতের সংঘর্ষে হিমালয় পর্বতের উৎপত্তি হয়েছে।
২. স্তূপ পর্বত ও গ্রস্ত উপত্যকার সৃষ্টি প্রক্রিয়া চিত্রসহ বর্ণনা করো।
ভূ-আলোড়নের ফলে ভূ-ত্বকে টান বা সংনমনের সৃষ্টি হলে শিলাস্তরে ফাটল বা চ্যুতির সৃষ্টি হয়। যখন দুটি সমান্তরাল চ্যুতির মধ্যবর্তী অংশ ভূ-আলোড়নের চাপে উপরে উঠে যায়, তখন তাকে স্তূপ পর্বত বলে। অন্যদিকে, দুটি চ্যুতির মধ্যবর্তী অংশ যদি নিচে বসে যায়, তবে তাকে গ্রস্ত উপত্যকা বলে। ভারতের সাতপুরা একটি স্তূপ পর্বত এবং নর্মদা নদীর উপত্যকা একটি গ্রস্ত উপত্যকা।
৩. উৎপত্তি অনুসারে মালভূমির প্রধান তিনটি শ্রেণিবিভাগ আলোচনা করো।
উৎপত্তি অনুসারে মালভূমিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়: (ক) পর্বতবেষ্টিত মালভূমি: চারদিকে পর্বত দ্বারা ঘেরা মালভূমি, যেমন তিব্বত মালভূমি। (খ) লাভা মালভূমি: আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের ফলে নির্গত লাভা সঞ্চিত হয়ে গঠিত মালভূমি, যেমন দাক্ষিণাত্য মালভূমি। (গ) ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি: নদী বা হিমবাহ দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে বিচ্ছিন্ন হওয়া মালভূমি, যেমন ছোটনাগপুর মালভূমি।
৪. সমভূমির গুরুত্ব বা মানবজীবনে সমভূমির প্রভাব আলোচনা করো।
সমভূমি অঞ্চল মানব সভ্যতার ধারক। এর গুরুত্বগুলি হলো: (১) কৃষিকাজ: সমভূমির উর্বর পলিমাটি কৃষিকাজের জন্য আদর্শ। (২) পরিবহন: সমতল ভূমি হওয়ায় এখানে সড়ক ও রেলপথ নির্মাণ সহজ। (৩) শিল্প ও বাণিজ্য: কাঁচামালের সহজলভ্যতা ও উন্নত পরিবহনের কারণে এখানে শিল্প গড়ে ওঠে। (৪) জনবসতি: জীবনধারণের অনুকূল পরিবেশের জন্য সমভূমিতে জনঘনত্ব সবচেয়ে বেশি হয়।
৫. ভঙ্গিল পর্বতের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী?
ভঙ্গিল পর্বতের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো: (১) এই পর্বত পাললিক শিলা দ্বারা গঠিত। (২) এতে প্রচুর ভাঁজ ও চ্যুতি দেখা যায়। (৩) ভঙ্গিল পর্বতে সামুদ্রিক জীবাশ্ম দেখতে পাওয়া যায়। (৪) এই পর্বতগুলি সাধারণত দীর্ঘ ও সুউচ্চ হয়। (৫) এগুলি অস্থির অঞ্চলে গঠিত হওয়ায় ভূমিকম্প প্রবণ হয়।
৬. আগ্নেয় পর্বত কীভাবে সৃষ্টি হয়? এর বৈশিষ্ট্য লেখো।
ভূগর্ভস্থ তপ্ত ম্যাগমা ভূ-ত্বকের কোনো দুর্বল ফাটল বা ছিদ্রপথ দিয়ে বাইরে বেরিয়ে এসে (লাভা হিসেবে) সঞ্চিত হয়ে শঙ্কু আকৃতির যে পর্বত গঠন করে তাকে আগ্নেয় পর্বত বলে। বৈশিষ্ট্য: (১) এটি আগ্নেয় শিলা দ্বারা গঠিত। (২) এর মাথায় জ্বালামুখ থাকে। (৩) এটি দেখতে অনেকটা মোচাকৃতি বা শঙ্কুর মতো হয়।
৭. মহীভাবক ও গিরিজনি আলোড়নের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
মহীভাবক আলোড়ন উলম্বভাবে কাজ করে, কিন্তু গিরিজনি আলোড়ন অনুভূমিকভাবে কাজ করে। মহীভাবক আলোড়নের ফলে মহাদেশ বা বিশাল ভূখণ্ড সৃষ্টি হয়, অন্যদিকে গিরিজনি আলোড়নের ফলে ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টি হয়। মহীভাবক আলোড়নে শিলাস্তরে চ্যুতি ঘটে, কিন্তু গিরিজনি আলোড়নে ভাঁজ পড়ে।
৮. মালভূমি ও সমভূমির মধ্যে তিনটি প্রধান পার্থক্য উল্লেখ করো।
(১) উচ্চতা: মালভূমির উচ্চতা সাধারণত ৩০০ মিটারের বেশি হয়, সমভূমির উচ্চতা ৩০০ মিটারের কম। (২) উপরিভাগ: মালভূমির উপরিভাগ ঢেউখেলানো বা বন্ধুর, সমভূমির উপরিভাগ প্রায় সমতল। (৩) ঢাল: মালভূমির চারপাশ খাড়া ঢালযুক্ত, সমভূমির ঢাল খুব সামান্য।
৯. ক্ষয়জাত পর্বত ও সঞ্চয়জাত পর্বতের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
ক্ষয়জাত পর্বত প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা প্রাচীন উচ্চভূমি ক্ষয়ের ফলে সৃষ্টি হয়, কিন্তু সঞ্চয়জাত পর্বত আগ্নেয় পদার্থ সঞ্চয়ের ফলে সৃষ্টি হয়। ক্ষয়জাত পর্বতের উচ্চতা সময়ের সাথে কমে, সঞ্চয়জাত পর্বতের উচ্চতা অগ্নুৎপাতের ফলে বাড়তে পারে। উদাহরণ: আরাবল্লী (ক্ষয়জাত), ইতালির ভিসুভিয়াস (সঞ্চয়জাত)।
১০. পামির মালভূমিকে 'পৃথিবীর ছাদ' বলা হয় কেন?
পামির মালভূমি পৃথিবীর উচ্চতম মালভূমি (গড় উচ্চতা প্রায় ৪৮৭৩ মিটার)। এটি একটি বিশাল অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত এবং এর উচ্চতা অনেক পর্বতের থেকেও বেশি। এর বিশালতা এবং অত্যধিক উচ্চতার কারণেই একে 'পৃথিবীর ছাদ' (Roof of the World) বলা হয়।
১১. সমভূমির শ্রেণিবিভাগ করো এবং যেকোনো একটির বর্ণনা দাও।
সমভূমিকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়—সঞ্চয়জাত, ক্ষয়জাত এবং ভূ-গাঠনিক সমভূমি। পলিগঠিত সমভূমি: নদী তার উচ্চগতি থেকে বয়ে আনা পলি, বালি, কাঁকর নিম্নগতিতে নদীর দুই কূলে বা মোহনায় সঞ্চয় করে যে বিস্তীর্ণ সমভূমি গঠন করে তাকে পলিগঠিত সমভূমি বলে। সিন্ধু-গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সমভূমি এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
১২. পর্বতবেষ্টিত মালভূমি ও মহাদেশীয় মালভূমির মধ্যে পার্থক্য কী?
পর্বতবেষ্টিত মালভূমি চারদিকে উচ্চ পর্বতশ্রেণি দ্বারা বেষ্টিত থাকে (যেমন—তিব্বত), কিন্তু মহাদেশীয় মালভূমি বিশাল মহাদেশের অংশ হিসেবে সমুদ্র বা সমভূমি দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে (যেমন—আফ্রিকা মালভূমি)। পর্বতবেষ্টিত মালভূমি সাধারণত গিরিজনি আলোড়নের ফলে সৃষ্টি হয়, আর মহাদেশীয় মালভূমি মহীভাবক আলোড়নের ফলে সৃষ্টি হয়।
১৩. মানবজীবনে মালভূমির প্রভাব আলোচনা করো।
মালভূমি অঞ্চলের গুরুত্ব অপরিসীম: (১) খনিজ ভাণ্ডার: মালভূমি অঞ্চল খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হয় (যেমন—ছোটনাগপুর)। (২) বনজ সম্পদ: মালভূমির ঢালে প্রচুর বনভূমি থাকে যা থেকে কাঠ ও মধু পাওয়া যায়। (৩) জলবিদ্যুৎ: মালভূমির নদীগুলি বন্ধুর ভূপ্রকৃতির কারণে খরস্রোতা হয়, যা জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে সহায়ক। (৪) পশুপালন: কিছু মালভূমি অঞ্চলে তৃণভূমি থাকায় পশুপালন করা হয়।
১৪. আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের কারণগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো।
প্রধান কারণগুলি হলো: (১) ভূ-অভ্যন্তরের অত্যধিক তাপ ও চাপ। (২) ভূ-ত্বকের দুর্বল ফাটল বা ছিদ্রপথের উপস্থিতি। (৩) পাতের চলন বা সংঘর্ষ। (৪) ভূগর্ভস্থ জল বাষ্পীভূত হয়ে প্রচণ্ড চাপের সৃষ্টি করলে তা ম্যাগমার সাথে বাইরে বেরিয়ে আসে।
১৫. পেডিপ্লেন ও পিনিপ্লেন বলতে কী বোঝো?
মরু অঞ্চলে বায়ুর ক্ষয়কার্যের ফলে পাহাড়ের পাদদেশে যে সমভূমি গঠিত হয় তাকে পেডিপ্লেন বলে। অন্যদিকে, আর্দ্র অঞ্চলে নদীর দীর্ঘকালীন ক্ষয়কার্যের ফলে কোনো উচ্চভূমি যখন প্রায় সমতলে পরিণত হয়, তখন তাকে পিনিপ্লেন বা সমপ্রায় ভূমি বলে।
১৬. হিমালয় পর্বত কীভাবে ভারতের জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করে?
হিমালয় পর্বত ভারতের উত্তরে প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে থেকে: (১) শীতকালে সাইবেরিয়ার তীব্র শীতল হাওয়াকে ভারতে ঢুকতে বাধা দেয়। (২) দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুকে বাধা দিয়ে ভারতে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। ফলে ভারতের জলবায়ু নাতিশীতোষ্ণ ও আর্দ্র প্রকৃতির হয়।
১৭. লাভা মালভূমি ও লাভা সমভূমির মধ্যে পার্থক্য কী?
লাভা যখন অনেক উঁচুতে সঞ্চিত হয়ে টেবিলের মতো আকৃতি নেয়, তখন তাকে লাভা মালভূমি বলে। কিন্তু লাভা যদি নিচু স্থানে পাতলা স্তরে ছড়িয়ে পড়ে প্রায় সমতল ভূমি গঠন করে, তবে তাকে লাভা সমভূমি বলে। মালভূমির উচ্চতা ও বন্ধুরতা সমভূমির তুলনায় অনেক বেশি হয়।
১৮. ভঙ্গিল পর্বত অঞ্চলে কেন আগ্নেয়গিরি দেখা যায়?
ভঙ্গিল পর্বত সাধারণত পাতের অভিসারী সীমানায় গঠিত হয়। যখন একটি পাত অন্য পাতের নিচে প্রবেশ করে, তখন তা ভূ-অভ্যন্তরের তাপে গলে ম্যাগমা তৈরি করে। এই ম্যাগমা ভঙ্গিল পর্বতের দুর্বল ফাটল দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। তাই ভঙ্গিল পর্বত অঞ্চলে প্রায়ই আগ্নেয়গিরি ও ভূমিকম্প দেখা যায়।
১৯. বদ্বীপ সমভূমি কীভাবে গঠিত হয়?
নদী যখন মোহনার কাছে পৌঁছায়, তখন তার গতিবেগ খুব কমে যায়। ফলে নদীর সাথে বয়ে আনা পলি, বালি, কাদা মোহনায় সমুদ্রের অগভীর অংশে সঞ্চিত হতে থাকে। এই সঞ্চিত পলি কালক্রমে গ্রিক অক্ষর 'ডেল্টা' বা বাংলা 'ব'-এর মতো আকৃতি ধারণ করে যে সমভূমি গঠন করে, তাকে বদ্বীপ সমভূমি বলে।
২০. ভূ-গঠনকারী প্রক্রিয়ায় 'অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার'-এর ভূমিকা কী?
অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার হলো গুরুমণ্ডলের ওপরের একটি সান্দ্র বা অর্ধ-তরল স্তর। এর ওপর পৃথিবীর পাতগুলি ভাসমান অবস্থায় থাকে। অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারে পরিচলন স্রোতের সৃষ্টি হয়, যা পাতগুলিকে গতিশীল করে। এই পাতের চলনের ফলেই পর্বত গঠন, অগ্নুৎপাত ও ভূমিকম্পের মতো ভূ-গঠনকারী প্রক্রিয়াগুলি সম্পন্ন হয়।
© ২০২৪ WBBSE AI Engine - শিক্ষামূলক সহায়িকা
শ্রেণি: নবম | বিষয়: ভূগোল | অধ্যায় ৪
DAY 2 ভূ-পৃষ্ঠের কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয় MOCK TEST
WBBSE AI Engine: Mock Test
অধ্যায় ৩: ভূ-পৃষ্ঠের কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয় (Class IX)
অক্ষরেখাগুলি কোন দিকে বিস্তৃত?
পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে!
আপনার পারফরম্যান্স রিপোর্ট নিচে দেওয়া হলো।
মোট প্রশ্ন
৬০
সঠিক
০
শতাংশ
০%
DAY 3 ভূ-পৃষ্ঠের কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয় ONLINE EXAM
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE)
অনলাইন মূল্যায়ন পরীক্ষা
আপনার স্কোর (MCQ)
বর্ণনামূলক প্রশ্নগুলি আপনার শিক্ষক দ্বারা মূল্যায়ন করা হবে।
DAY 4 ভূ-পৃষ্ঠের কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয় QUESTIONS'S SOLUTIONS
আমাদের পৃথিবী
অধ্যায় ৩: ভূ-পৃষ্ঠের কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয়
WBBSE AI Engine
Activity Solutions
শিক্ষকের কথা: প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীরা, আজ আমরা তোমাদের পাঠ্যবইয়ের তৃতীয় অধ্যায় অর্থাৎ 'ভূ-পৃষ্ঠের কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয়' থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তরগুলি আলোচনা করব। অক্ষরেখা, দ্রাঘিমারেখা এবং সময়ের হিসাব কীভাবে করতে হয়, তা এই অনুশীলনীটি সমাধান করলে তোমরা সহজেই বুঝতে পারবে।
১ সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (Short Answer Type)
প্রশ্ন ১: অক্ষরেখা কাকে বলে? এর প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
প্রশ্ন ২: প্রধান তিনটি অক্ষরেখার নাম ও মান উল্লেখ করো।
- নিরক্ষরেখা ($0^\circ$)
- কর্কটক্রান্তি রেখা ($23 \frac{1}{2}^\circ$ উত্তর)
- মকরক্রান্তি রেখা ($23 \frac{1}{2}^\circ$ দক্ষিণ)
প্রশ্ন ৩: দ্রাঘিমারেখা কাকে বলে? এটি অক্ষরেখার থেকে কীভাবে আলাদা?
২ দ্রাঘিমা ও সময় সংক্রান্ত সমস্যা
প্রশ্ন ৪: মূলমধ্যরেখা কী এবং এটি কোথায় অবস্থিত?
প্রশ্ন ৫: দ্রাঘিমার পার্থক্যের সাথে সময়ের সম্পর্ক কী?
প্রশ্ন ৬: IST বলতে কী বোঝো? ভারতের প্রমাণ দ্রাঘিমার মান কত?
DAY 5 ভূ-পৃষ্ঠের কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয় Revision & Mistake Analysis / Active Recall & Teaching Method
অধ্যায় ৩: ভূ-পৃষ্ঠের কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয়
শ্রেণি: নবম | বিষয়: আমাদের পৃথিবী
Mistake Analysis (ভুল বনাম সংশোধন)
| সাধারণ ভুল (Common Mistake) | সঠিক ধারণা (Correction) |
|---|---|
| অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখা উভয়কেই পূর্ণবৃত্ত মনে করা। | অক্ষরেখাগুলি পূর্ণবৃত্ত, কিন্তু দ্রাঘিমারেখাগুলি অর্ধবৃত্তাকার যা মেরুবিন্দুতে মিলিত হয়। |
| সব কাল্পনিক রেখাই পরস্পর সমান্তরাল বলে ধরে নেওয়া। | শুধুমাত্র অক্ষরেখাগুলি পরস্পর সমান্তরাল। দ্রাঘিমারেখাগুলি সমান্তরাল নয়। |
| ১° দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময়ের পার্থক্য ১ মিনিট বা ৪ সেকেন্ড মনে করা। | প্রতি ১° দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট। |
| ভারতের প্রমাণ দ্রাঘিমা (IST) শুধুমাত্র ৮২° পূর্ব বলা। | ভারতের সঠিক প্রমাণ দ্রাঘিমা হলো ৮২° ৩০' পূর্ব। |
Power Revision Summary
মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ
- • অক্ষরেখা: পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত, পূর্ণবৃত্তাকার এবং পরস্পর সমান্তরাল।
- • দ্রাঘিমারেখা: উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত, অর্ধবৃত্তাকার এবং মেরুবিন্দুতে মিলিত হয়।
- • প্রধান রেখা: নিরক্ষরেখা (০°), কর্কটক্রান্তি (২৩ ½° উঃ), মকরক্রান্তি (২৩ ½° দঃ) এবং মূলমধ্যরেখা (০°)।
দ্রুত তথ্য (High-Yield)
- • সময় ও দ্রাঘিমা: ১° দ্রাঘিমা = ৪ মিনিট সময়ের পার্থক্য।
- • IST: ভারতের প্রমাণ সময় নির্ধারিত হয় ৮২° ৩০' পূর্ব দ্রাঘিমা অনুযায়ী।
- • গ্রিনিচ: মূলমধ্যরেখা লন্ডনের গ্রিনিচ মানমন্দিরের ওপর দিয়ে অতিক্রান্ত হয়েছে।
ভূ-পৃষ্ঠের কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয়
শ্রেণি: নবম | বিষয়: আমাদের পৃথিবী (অধ্যায় ৩)
১. Blind Questions (স্মৃতি পরীক্ষা)
১. অক্ষরেখা কোন দিকে বিস্তৃত থাকে?
২. অক্ষরেখাগুলি কি পরস্পর সমান্তরাল?
৩. প্রধান অক্ষরেখা বা নিরক্ষরেখার মান কত?
৪. কর্কটক্রান্তি রেখার অক্ষাংশ কত?
৫. মকরক্রান্তি রেখা কোন গোলার্ধে অবস্থিত?
৬. দ্রাঘিমারেখাগুলি কোন দিকে বিস্তৃত?
৭. দ্রাঘিমারেখাগুলি কি পূর্ণবৃত্ত না অর্ধবৃত্ত?
৮. দ্রাঘিমারেখাগুলি কোথায় গিয়ে মিলিত হয়?
৯. মূলমধ্যরেখার মান কত ডিগ্রি?
১০. মূলমধ্যরেখা কোন শহরের ওপর দিয়ে গেছে?
১১. ১° দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময়ের পার্থক্য কত হয়?
১২. ভারতের প্রমাণ দ্রাঘিমার মান কত?
১৩. IST-এর পুরো নাম কী?
১৪. অক্ষরেখাগুলি কি পূর্ণবৃত্ত?
১৫. দ্রাঘিমারেখাগুলি কি পরস্পর সমান্তরাল?
২. The Feynman Method (সহজ ব্যাখ্যা)
"৫ বছরের শিশুকে বোঝানোর স্ক্রিপ্ট:"
"শোনো, আমাদের পৃথিবীটা তো একটা মস্ত বড় বলের মতো। আমরা যদি এই বলটার ওপর শোয়ানো ভাবে কিছু গোল গোল দাগ টানি (ঠিক যেমন তোমার প্যান্টের বেল্ট থাকে), তবে সেগুলো হলো অক্ষরেখা। আর যদি ওপর থেকে নিচে (ঠিক যেমন একটা কমলালেবুর কোয়ার দাগ থাকে) দাগ টানি, তবে সেগুলো হলো দ্রাঘিমারেখা। এই দাগগুলো আমাদের বলে দেয় আমরা ঠিক কোথায় আছি আর এখন কটা বাজে! যেমন, এক দাগ থেকে পাশের দাগে যেতে সূর্যের ৪ মিনিট সময় লাগে।"
৩. Spaced Repetition Schedule (পুনরাবৃত্তি তালিকা)
| সময়কাল | আলোচ্য বিষয় | লক্ষ্য |
|---|---|---|
| ১ দিন পর | অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার সংজ্ঞা ও মূল পার্থক্য। | মৌলিক ধারণা স্বচ্ছ করা। |
| ৩ দিন পর | প্রধান অক্ষরেখা ও মূলমধ্যরেখার মান ও অবস্থান (গ্রিনিচ)। | তথ্য ও মান মনে রাখা। |
| ৭ দিন পর | দ্রাঘিমা ও সময়ের সম্পর্ক এবং ভারতের প্রমাণ সময় (IST)। | গাণিতিক প্রয়োগ ও গভীর জ্ঞান। |