DAY 1 (Motions of the Earth)CLASS NOTES
অধ্যায় ২: পৃথিবীর গতিসমূহ
Motions of the Earth
অধ্যায় সারসংক্ষেপ
আবর্তন ও পরিক্রমণ
আবর্তন গতি (Rotation)
পৃথিবী তার অক্ষের ওপর পশ্চিম থেকে পূর্বে লাট্টুর মতো আবর্তন করছে।
নক্ষত্র দিন
২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড
সৌরদিন (গড়ে)
২৪ ঘণ্টা
নিশীথ সূর্যের দেশ
নরওয়ের হ্যামারফেস্ট বন্দর থেকে গ্রীষ্মকালে রাতেও সূর্য দেখা যায়।
কোরিওলিস বল ও ফেরেলের সূত্র
পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সৃষ্ট শক্তির প্রভাবে উত্তর গোলার্ধে বায়ু ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে যায়।
ছায়াবৃত্ত (Illumination Circle)
দিন ও রাত্রির আলোকরেখাকে ছায়াবৃত্ত বলে। এটি পৃথিবীকে আলোকিত ও অন্ধকার—এই দুই অংশে বিভক্ত করে।
পরিক্রমণ গতি (Revolution)
পৃথিবী সূর্যকে ৩ কোটি কিমি দীর্ঘ উপবৃত্তাকার কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করে।
- ১
সময়কাল
৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড
- ২
অধিবর্ষ (Leap Year)
প্রতি ৪ বছর অন্তর ফেব্রুয়ারি মাস ২৯ দিনের হয়।
অপসূর (Aphelion)
৪ঠা জুলাই
দূরত্ব সর্বাধিক: ১৫ কোটি ২০ লক্ষ কিমি
অনুসূর (Perihelion)
৩রা জানুয়ারি
দূরত্ব সর্বনিম্ন: ১৪ কোটি ৭০ লক্ষ কিমি
২১শে মার্চ
মহাবিষুব
দিন ও রাত্রি সমান
২১শে জুন
উত্তর অয়নান্ত
উত্তর গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন
২৩শে সেপ্টেম্বর
জলবিষুব
দিন ও রাত্রি সমান
২২শে ডিসেম্বর
দক্ষিণ অয়নান্ত
উত্তর গোলার্ধে ক্ষুদ্রতম দিন
পৃথিবীর পরিক্রমণ গতির ফলেই পৃথিবীতে ঋতু পরিবর্তন ঘটে।
অধ্যায় ২: পৃথিবীর গতিসমূহ
Class: IX | Subject: আমাদের পৃথিবী
সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (Short Answer Questions - 20)
১. পৃথিবীর আবর্তন গতি কাকে বলে?
উত্তর: পৃথিবী তার নিজের অক্ষের ওপর পশ্চিম থেকে পূর্বে লাট্টুর মতো যে পাক খায়, তাকে আবর্তন গতি বলে।
২. নক্ষত্র দিন বলতে কী বোঝো?
উত্তর: পৃথিবী তার নিজের অক্ষের ওপর একবার পূর্ণ আবর্তন করতে যে সময় নেয় (২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড), তাকে নক্ষত্র দিন বলে।
৩. ১ সৌরদিন বলতে কত সময় বোঝায়?
উত্তর: পৃথিবীর আবর্তনের গড় সময়কে ২৪ ঘণ্টা বা ১ সৌরদিন ধরা হয়।
৪. কোরিওলিস বল কী?
উত্তর: পৃথিবীর আবর্তনের ফলে যে শক্তির সৃষ্টি হয় এবং যা বায়ুপ্রবাহের দিক বিক্ষেপ ঘটায়, তাকে কোরিওলিস বল বলে।
৫. ফেরেলের সূত্রটি কী?
উত্তর: কোরিওলিস বলের প্রভাবে বায়ু উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে যায়—এটিই ফেরেলের সূত্র।
৬. ছায়াবৃত্ত (Illumination Circle) কাকে বলে?
উত্তর: পৃথিবীর আলোকিত অংশ ও অন্ধকার অংশের মধ্যবর্তী বৃত্তাকার আলোকরেখাকে ছায়াবৃত্ত বলে।
৭. 'নিশীথ সূর্যের দেশ' কাকে বলা হয়?
উত্তর: নরওয়ের হ্যামারফেস্ট বন্দরকে নিশীথ সূর্যের দেশ বলা হয়।
৮. পৃথিবীর পরিক্রমণ গতি কাকে বলে?
উত্তর: পৃথিবী সূর্যকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে একবার প্রদক্ষিণ করাকে পরিক্রমণ গতি বলে।
৯. পৃথিবীর কক্ষপথের দৈর্ঘ্য কত?
উত্তর: পৃথিবীর কক্ষপথের দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৬ কোটি কিমি।
১০. এক বছর বা পরিক্রমণ গতির সঠিক সময় কত?
উত্তর: ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড।
১১. অধিবর্ষ বা লিপ ইয়ারে ফেব্রুয়ারি মাস কত দিনের হয়?
উত্তর: ২৯ দিনের হয়।
১২. অপসূর অবস্থান কাকে বলে?
উত্তর: ৪ঠা জুলাই সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব সর্বাধিক (১৫ কোটি ২০ লক্ষ কিমি) হওয়াকে অপসূর বলে।
১৩. অনুসূর অবস্থান কবে হয়?
উত্তর: ৩রা জানুয়ারি অনুসূর অবস্থান হয়।
১৪. মহাবিষুব কোন তারিখে হয়?
উত্তর: ২১শে মার্চ মহাবিষুব হয়।
১৫. জলবিষুব বলতে কোন তারিখকে বোঝায়?
উত্তর: ২৩শে সেপ্টেম্বর তারিখকে জলবিষুব বলে।
১৬. উত্তর অয়নান্ত দিবস কবে পালিত হয়?
উত্তর: ২১শে জুন উত্তর অয়নান্ত দিবস পালিত হয়।
১৭. দক্ষিণ অয়নান্ত দিবস কবে হয়?
উত্তর: ২২শে ডিসেম্বর দক্ষিণ অয়নান্ত দিবস হয়।
১৮. বিষুব কথার অর্থ কী?
উত্তর: বিষুব কথার অর্থ হলো সমান দিন ও রাত্রি।
১৯. উত্তর গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন কোনটি?
উত্তর: ২১শে জুন উত্তর গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন।
২০. অনুসূর অবস্থানে সূর্য ও পৃথিবীর দূরত্ব কত থাকে?
উত্তর: ১৪ কোটি ৭০ লক্ষ কিমি।
দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্ন (Long Answer Questions - 20)
১. পৃথিবীর আবর্তন গতির বিবরণ দাও।
উত্তর: পৃথিবী তার মেরুরেখা বা অক্ষের ওপর পশ্চিম থেকে পূর্বে লাট্টুর মতো অনবরত পাক খাচ্ছে, একেই আবর্তন গতি বলে। এই আবর্তনের সঠিক সময় হলো ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড, যাকে নক্ষত্র দিন বলা হয়। তবে হিসাবের সুবিধার্থে আমরা একে ২৪ ঘণ্টা বা ১ সৌরদিন ধরি। এই গতির ফলেই পৃথিবীতে দিন ও রাত্রি সংঘটিত হয় এবং কোরিওলিস বলের সৃষ্টি হয়।
২. কোরিওলিস বল ও ফেরেলের সূত্রের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: পৃথিবীর আবর্তন গতির প্রভাবে এক প্রকার শক্তির সৃষ্টি হয় যা কোরিওলিস বল নামে পরিচিত। এই বলের প্রভাবে ভূপৃষ্ঠের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু বা সমুদ্রস্রোত সরাসরি উত্তর-দক্ষিণে প্রবাহিত হতে পারে না। বিজ্ঞানী ফেরেলের মতে, এই বলের প্রভাবে বায়ু উত্তর গোলার্ধে তার গতির ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে যায়। অর্থাৎ কোরিওলিস বলের কার্যকারিতাই ফেরেলের সূত্রের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
৩. ছায়াবৃত্ত কীভাবে গঠিত হয় এবং এর গুরুত্ব কী?
উত্তর: পৃথিবী গোল হওয়ায় সূর্যের আলো একই সঙ্গে সব জায়গায় পড়ে না। অর্ধাংশ আলোকিত থাকে এবং বাকি অর্ধাংশ অন্ধকারে থাকে। এই আলোকিত ও অন্ধকার অংশের সংযোগস্থলে যে বৃত্তাকার সীমারেখা তৈরি হয়, তাকে ছায়াবৃত্ত বলে। ছায়াবৃত্তের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করেই দিন ও রাত্রির সীমানা নির্ধারিত হয়। পৃথিবীর আবর্তনের ফলে ছায়াবৃত্ত ক্রমশ সরে যায় বলেই আমরা পর্যায়ক্রমে দিন ও রাত্রি অনুভব করি।
৪. নিশীথ সূর্যের দেশ নরওয়ে সম্পর্কে টীকা লেখো।
উত্তর: উত্তর গোলার্ধ যখন সূর্যের দিকে বেশি ঝুঁকে থাকে (গ্রীষ্মকালে), তখন সুমেরু বৃত্তের উত্তর দিকে সূর্য ২৪ ঘণ্টাই দিগন্তের ওপরে থাকে। নরওয়ের হ্যামারফেস্ট বন্দরটি এই অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে মে মাস থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত গভীর রাতেও সূর্য দেখা যায়। এই অদ্ভুত প্রাকৃতিক ঘটনার কারণেই নরওয়েকে 'নিশীথ সূর্যের দেশ' বলা হয়।
৫. পৃথিবীর পরিক্রমণ গতি ও তার সময়কাল আলোচনা করো।
উত্তর: পৃথিবী তার নির্দিষ্ট উপবৃত্তাকার কক্ষপথে সূর্যকে কেন্দ্র করে পশ্চিম থেকে পূর্বে প্রদক্ষিণ করছে, একে পরিক্রমণ গতি বলে। এই পরিক্রমণ সম্পন্ন করতে পৃথিবীর সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড। এই সময়কালকে এক সৌর বছর বলা হয়। এই গতির ফলেই পৃথিবীতে ঋতু পরিবর্তন ঘটে এবং দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্যের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে।
৬. অধিবর্ষ বা লিপ ইয়ারের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: পৃথিবীর সূর্যকে পরিক্রমণ করতে সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড। কিন্তু আমরা ৩৬৫ দিনে এক বছর ধরি। এর ফলে প্রতি বছর প্রায় ৬ ঘণ্টা সময় বাড়তি থেকে যায়। এই বাড়তি সময়কে সমন্বয় করার জন্য প্রতি ৪ বছর অন্তর ফেব্রুয়ারি মাসের সাথে ১ দিন যোগ করে (৬ ঘণ্টা × ৪ = ২৪ ঘণ্টা বা ১ দিন) মাসটিকে ২৯ দিনের করা হয় এবং বছরটি হয় ৩৬৬ দিনের। একেই অধিবর্ষ বলে।
৭. অপসূর ও অনুসূর অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর: পৃথিবীর কক্ষপথ উপবৃত্তাকার হওয়ায় সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব সবসময় সমান থাকে না। ৪ঠা জুলাই পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব সর্বাধিক হয় (১৫ কোটি ২০ লক্ষ কিমি), একে অপসূর বলে। অন্যদিকে, ৩রা জানুয়ারি এই দূরত্ব সর্বনিম্ন হয় (১৪ কোটি ৭০ লক্ষ কিমি), একে অনুসূর বলে। অপসূর অবস্থানে পৃথিবী সূর্যের থেকে দূরে এবং অনুসূর অবস্থানে কাছে থাকে।
৮. বিষুব বলতে কী বোঝো? মহাবিষুব ও জলবিষুবের বর্ণনা দাও।
উত্তর: 'বিষুব' শব্দের অর্থ হলো সমান দিন ও রাত্রি। বছরে দুদিন সূর্য বিষুবরেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়, ফলে পৃথিবীর সর্বত্র দিন ও রাত্রি সমান হয়। ২১শে মার্চ উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল থাকায় একে মহাবিষুব বা বসন্তকালীন বিষুব বলে। আবার ২৩শে সেপ্টেম্বর উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল থাকায় একে জলবিষুব বা শারদকালীন বিষুব বলা হয়।
৯. উত্তর অয়নান্ত দিবস বা কর্কট সংক্রান্তি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ২১শে জুন পৃথিবী তার কক্ষপথের এমন অবস্থানে থাকে যে সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার (২৩.৫° উত্তর) ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। একে উত্তর অয়নান্ত দিবস বলে। এই দিন উত্তর গোলার্ধে দিন সবচেয়ে বড় এবং রাত্রি সবচেয়ে ছোট হয়। এই সময় উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল এবং দক্ষিণ গোলার্ধে শীতকাল বিরাজ করে।
১০. দক্ষিণ অয়নান্ত দিবস বা মকর সংক্রান্তির বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: ২২শে ডিসেম্বর সূর্য মকরক্রান্তি রেখার (২৩.৫° দক্ষিণ) ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। একে দক্ষিণ অয়নান্ত দিবস বলে। এই দিন দক্ষিণ গোলার্ধে দিন দীর্ঘতম এবং রাত্রি ক্ষুদ্রতম হয়। এর বিপরীতে উত্তর গোলার্ধে দিন সবচেয়ে ছোট এবং রাত্রি সবচেয়ে বড় হয়, যার ফলে উত্তর গোলার্ধে তখন শীতকাল অনুভূত হয়।
১১. পৃথিবীর কক্ষপথের প্রকৃতি ও তার প্রভাব আলোচনা করো।
উত্তর: পৃথিবীর কক্ষপথটি সম্পূর্ণ বৃত্তাকার নয়, বরং উপবৃত্তাকার। এই কক্ষপথের দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৬ কোটি কিমি। উপবৃত্তাকার কক্ষপথের একটি ফোকাসে সূর্য অবস্থান করে। এই কক্ষপথের প্রকৃতির কারণেই বছরের বিভিন্ন সময়ে সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্বের পরিবর্তন ঘটে (অপসূর ও অনুসূর), যা পৃথিবীর পরিক্রমণ বেগের ওপর সামান্য প্রভাব ফেলে।
১২. আবর্তন গতির ফলে দিন ও রাত্রি কীভাবে সংঘটিত হয়?
উত্তর: পৃথিবী তার অক্ষের ওপর পশ্চিম থেকে পূর্বে আবর্তন করছে। আবর্তনের সময় পৃথিবীর যে অংশ সূর্যের সামনে আসে সেখানে সূর্যের আলো পড়ে এবং দিন হয়। বিপরীত অংশটি অন্ধকারে থাকে বলে সেখানে রাত্রি হয়। পৃথিবীর অনবরত আবর্তনের ফলে আলোকিত অংশ অন্ধকারে এবং অন্ধকার অংশ আলোতে চলে আসে, এভাবেই পর্যায়ক্রমে দিন ও রাত্রি ঘটে।
১৩. ঋতু পরিবর্তনের কারণ হিসেবে পরিক্রমণ গতির ভূমিকা কী?
উত্তর: পৃথিবীর পরিক্রমণ গতির সময় তার অক্ষটি কক্ষতলের সাথে ৬৬.৫° কোণে হেলে থাকে। এই হেলানো অবস্থানের কারণে পরিক্রমণের সময় বছরের বিভিন্ন সময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন অংশ সূর্যের দিকে ঝুঁকে থাকে। ফলে সূর্যের পতন কোণের পরিবর্তন ঘটে এবং দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্যের হ্রাস-বৃদ্ধি হয়। এর ফলেই পৃথিবীতে গ্রীষ্ম, শরৎ, শীত ও বসন্ত—এই ঋতুচক্র আবর্তিত হয়।
১৪. নক্ষত্র দিন ও সৌরদিনের পার্থক্যের কারণ কী?
উত্তর: পৃথিবী তার নিজের অক্ষের ওপর একবার আবর্তন করতে যে সময় নেয় তাকে নক্ষত্র দিন বলে (২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড)। কিন্তু পৃথিবী আবর্তনের সাথে সাথে কক্ষপথে কিছুটা এগিয়ে যায়, তাই সূর্যকে পুনরায় একই অবস্থানে দেখতে আরও প্রায় ৩ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড বেশি সময় লাগে। এই বর্ধিত সময়সহ মোট ২৪ ঘণ্টাকে ১ সৌরদিন বলা হয়।
১৫. ৩রা জানুয়ারি ও ৪ঠা জুলাই পৃথিবীর অবস্থানের তাৎপর্য কী?
উত্তর: ৩রা জানুয়ারি পৃথিবী সূর্যের সবচেয়ে কাছে (১৪ কোটি ৭০ লক্ষ কিমি) থাকে, একে অনুসূর বলে। ৪ঠা জুলাই পৃথিবী সূর্য থেকে সবচেয়ে দূরে (১৫ কোটি ২০ লক্ষ কিমি) থাকে, একে অপসূর বলে। যদিও অনুসূর অবস্থানে পৃথিবী সূর্যের কাছে থাকে, তবুও উত্তর গোলার্ধে তখন শীতকাল থাকে কারণ পৃথিবীর অক্ষের হেলানো অবস্থানের জন্য উত্তর গোলার্ধ তখন সূর্যের বিপরীত দিকে হেলে থাকে।
১৬. পৃথিবীর আবর্তনের দিক পশ্চিম থেকে পূর্বে হওয়ার ফলাফল কী?
উত্তর: পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্বে আবর্তন করে বলেই আমরা প্রতিদিন সূর্যকে পূর্ব দিকে উঠতে এবং পশ্চিম দিকে অস্ত যেতে দেখি। এছাড়া এই গতির কারণেই কোরিওলিস বলের সৃষ্টি হয় যা বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতকে উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বিক্ষিপ্ত করে।
১৭. ২১শে জুন কেন উত্তর গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন হয়?
উত্তর: ২১শে জুন উত্তর অয়নান্ত দিবসে উত্তর মেরু সূর্যের দিকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকে থাকে। এই দিন সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে উত্তর গোলার্ধের অধিকাংশ অংশ দীর্ঘক্ষণ সূর্যের আলো পায় এবং ছায়াবৃত্তের বাইরে থাকে। এই কারণেই এই দিন উত্তর গোলার্ধে দিন সবচেয়ে বড় এবং রাত্রি সবচেয়ে ছোট হয়।
১৮. ২২শে ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধের অবস্থা কেমন থাকে?
উত্তর: ২২শে ডিসেম্বর দক্ষিণ অয়নান্ত দিবসে দক্ষিণ মেরু সূর্যের দিকে ঝুঁকে থাকে এবং সূর্য মকরক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে দক্ষিণ গোলার্ধে তখন দীর্ঘতম দিন ও ক্ষুদ্রতম রাত্রি হয়। প্রচুর সূর্যরশ্মি পাওয়ার কারণে দক্ষিণ গোলার্ধে তখন গ্রীষ্মকাল বিরাজ করে, যা উত্তর গোলার্ধের ঠিক বিপরীত।
১৯. পৃথিবীর গতির ফলে সৃষ্ট কোরিওলিস বলের প্রভাব আলোচনা করো।
উত্তর: কোরিওলিস বল হলো পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সৃষ্ট একটি বিক্ষেপক শক্তি। এর প্রধান প্রভাবগুলি হলো: ১. বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তন (ফেরেলের সূত্রানুসারে), ২. সমুদ্রস্রোতের গতিপথ পরিবর্তন এবং ৩. ঘূর্ণবাতের সৃষ্টি। এই বল নিরক্ষরেখায় শূন্য এবং মেরু অঞ্চলে সর্বাধিক হয়।
২০. বিষুবরেখায় দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য কেমন থাকে এবং কেন?
উত্তর: বিষুবরেখায় সারা বছরই দিন ও রাত্রির দৈর্ঘ্য সমান (১২ ঘণ্টা দিন ও ১২ ঘণ্টা রাত্রি) থাকে। এর কারণ হলো, পৃথিবীর অক্ষ যেভাবেই হেলানো থাকুক না কেন, ছায়াবৃত্ত সর্বদা বিষুবরেখাকে সমান দুই ভাগে ভাগ করে। ফলে বিষুবরেখায় আলোকবৃত্তের অবস্থান সবসময় স্থিতিশীল থাকে।
DAY 2 (Motions of the Earth) MOCK TEST
WBBSE AI Engine
অধ্যায় ২: পৃথিবীর গতিসমূহ (Motions of the Earth)
পৃথিবী তার অক্ষের ওপর কোন দিক থেকে কোন দিকে আবর্তন করছে?
পরীক্ষা সম্পন্ন!
আপনার প্রাপ্ত স্কোর নিচে দেওয়া হলো:
DAY 3 (Motions of the Earth) ONLINE EXAM
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE)
অনলাইন মূল্যায়ন: ২০২৪-২৫
আপনার ফলাফল
চমৎকার প্রচেষ্টা!
শিক্ষকের মন্তব্য:
আপনার বর্ণনামূলক উত্তরগুলি পর্যালোচনার জন্য সংরক্ষিত হয়েছে। MCQ স্কোরের ভিত্তিতে আপনার প্রস্তুতি যাচাই করুন।
DAY 4 (Motions of the Earth) QUESTIONS'S SOLUTIONS
অধ্যায় ২: পৃথিবীর গতিসমূহ (Motions of the Earth)
পাঠ্যবইয়ের অনুশীলনী ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
বিভাগ ক: সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (MCQ)
১. পৃথিবীর আবর্তনের প্রকৃত সময় বা নক্ষত্র দিন হলো—
উত্তর: ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড।
২. অপসূর অবস্থানে সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব কত হয়?
উত্তর: ১৫ কোটি ২০ লক্ষ কিমি।
৩. উত্তর গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন কোনটি?
উত্তর: ২১শে জুন।
বিভাগ খ: অতি সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন
প্রশ্ন: কোরিওলিস বল কাকে বলে?
উত্তর: পৃথিবীর আবর্তনের ফলে যে শক্তির সৃষ্টি হয় তাকে কোরিওলিস বল বলে।
প্রশ্ন: ছায়াবৃত্ত কী?
উত্তর: দিন ও রাত্রির আলোকরেখাকে ছায়াবৃত্ত (Illumination Circle) বলে।
প্রশ্ন: 'নিশীথ সূর্যের দেশ' কাকে বলা হয়?
উত্তর: নরওয়ের হ্যামারফেস্ট বন্দরকে।
প্রশ্ন: অনুসূর অবস্থান কবে হয়?
উত্তর: ৩রা জানুয়ারি।
বিভাগ গ: সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাধর্মী প্রশ্ন
১. ফেরেলের সূত্রটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: কোরিওলিস বলের প্রভাবে ফেরেলের সূত্রানুসারে পৃথিবী পৃষ্ঠে প্রবাহিত বায়ু উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে যায়। এটি পৃথিবীর আবর্তন গতির একটি অন্যতম ফলাফল।
২. অধিবর্ষ বা লিপ ইয়ার (Leap Year) কেন হয়?
উত্তর: পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড সময় নেয়। এই বাড়তি সময়কে সমন্বয় করার জন্য প্রতি ৪ বছর অন্তর ফেব্রুয়ারি মাসকে ২৮ দিনের পরিবর্তে ২৯ দিন করা হয়, একেই অধিবর্ষ বলে।
একনজরে গুরুত্বপূর্ণ তারিখসমূহ
| তারিখ | ঘটনা / গুরুত্ব |
|---|---|
| ২১শে মার্চ | মহাবিষুব (দিন-রাত্রি সমান) |
| ৪ঠা জুলাই | অপসূর অবস্থান (দূরত্ব সর্বাধিক) |
| ২৩শে সেপ্টেম্বর | জলবিষুব (দিন-রাত্রি সমান) |
| ২২শে ডিসেম্বর | দক্ষিণ অয়নান্ত দিবস (উত্তর গোলার্ধে ক্ষুদ্রতম দিন) |
DAY 5 (Motions of the Earth) Revision & Mistake Analysis / Active Recall & Teaching Method
অধ্যায় ২: পৃথিবীর গতিসমূহ (Motions of the Earth)
WBBSE AI Engine: সংশোধনী ও দ্রুত পুনরালোচনা মডিউল
সাধারণ ভুল ও সঠিক ধারণা (Mistake Analysis)
| সাধারণ ভুল (Common Pitfalls) | সঠিক ধারণা (Correction/Fact) |
|---|---|
| ছাত্রছাত্রীরা মনে করে পৃথিবী পূর্ব থেকে পশ্চিমে আবর্তন করে। | পৃথিবী তার অক্ষের ওপর পশ্চিম থেকে পূর্বে লাট্টুর মতো আবর্তন করে। |
| নক্ষত্র দিন ও সৌরদিনকে একই মনে করা। | নক্ষত্র দিন হলো ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড, কিন্তু আমরা গড়ে ২৪ ঘণ্টাকে ১ সৌরদিন ধরি। |
| কোরিওলিস বলের প্রভাবে বায়ু সবদিকে একইভাবে বেঁকে যায়। | ফেরেলের সূত্রানুসারে: উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে যায়। |
| অপসূর ও অনুসূর অবস্থানের তারিখ গুলিয়ে ফেলা। | অপসূর (দূরত্ব বেশি): ৪ঠা জুলাই; অনুসূর (দূরত্ব কম): ৩রা জানুয়ারি। |
| মনে করা হয় জুলাই মাসে দূরত্ব বেশি বলে শীতকাল হয়। | দূরত্ব ঋতু পরিবর্তনের মূল কারণ নয়; পৃথিবীর অক্ষের হেলানো অবস্থান ও পরিক্রমণই প্রধান কারণ। ৪ঠা জুলাই উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল থাকে। |
পাওয়ার রিভিশন সামারি (High-Yield Points)
আবর্তন গতি (Rotation)
- • দিক: পশ্চিম থেকে পূর্ব।
- • সময়: ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড (নক্ষত্র দিন)।
- • কোরিওলিস বল: আবর্তনের ফলে সৃষ্ট বল যা বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তন করে (ফেরেলের সূত্র)।
- • ছায়াবৃত্ত: দিন ও রাত্রির বিভাজক আলোকরেখা।
পরিক্রমণ গতি (Revolution)
- • সময়: ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড।
- • গুরুত্বপূর্ণ তারিখ: ২১শে মার্চ (মহাবিষুব) ও ২৩শে সেপ্টেম্বর (জলবিষুব) - দিন ও রাত্রি সমান।
- • অয়নান্ত দিবস: ২১শে জুন (উত্তর গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন), ২২শে ডিসেম্বর (ক্ষুদ্রতম দিন)।
- • দূরত্ব: অপসূর (১৫.২ কোটি কিমি), অনুসূর (১৪.৭ কোটি কিমি)।
💡 প্রো-টিপ: মনে রাখার সহজ উপায় - 'অ' দিয়ে 'অপসূর' এবং 'অ' দিয়ে 'অধিক' (দূরত্ব)। ৪ঠা জুলাই পৃথিবী সূর্য থেকে সবচেয়ে দূরে থাকে।
© WBBSE Revision Engine • Class IX Geography • Chapter 2
অধ্যায় ২: পৃথিবীর গতিসমূহ (Motions of the Earth)
স্মৃতিশক্তি ও ধারণা স্বচ্ছ করার জন্য একটি বিশেষ টুলকিট।
১. Blind Questions (স্মৃতি পরীক্ষা)
*নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর মনে মনে দেওয়ার চেষ্টা করো। কোনো অপশন দেওয়া নেই।*
২. The Feynman Method (সহজ ব্যাখ্যা)
৫ বছরের শিশুকে বোঝানোর মতো স্ক্রিপ্ট:
"মনে করো, পৃথিবী একটা বড় লাট্টুর মতো নিজের জায়গায় বনবন করে ঘুরছে (আবর্তন গতি)। এই ঘোরার জন্যই আমাদের দিন আর রাত হয়। আবার এই পৃথিবীটাই সূর্যের চারদিকে একটা বড় গোল রাস্তায় দৌড়াচ্ছে (পরিক্রমণ গতি)। এই দৌড় শেষ করতে তার পুরো এক বছর সময় লাগে। দৌড়ানোর সময় পৃথিবী কখনো সূর্যের একটু কাছে আসে, কখনো দূরে যায়—আর এভাবেই ঋতু বদলে গরম বা শীতকাল আসে। মজার ব্যাপার হলো, ৪ বছর পরপর পৃথিবী তার দৌড়ের সময় মেলাতে ফেব্রুয়ারি মাসে একটা বাড়তি দিন যোগ করে নেয়, যেটাকে আমরা লিপ-ইয়ার বলি!"
৩. Spaced Repetition Schedule (রিভিশন রুটিন)
আবর্তন গতির সময়, কোরিওলিস বল এবং ফেরেলের সূত্রটি পুনরায় দেখে নাও।
পরিক্রমণ গতি, অপসূর ও অনুসূর অবস্থানের তারিখ ও দূরত্ব মুখস্থ করো।
বিষুব (Equinox) ও অয়নান্ত দিবসের তারিখগুলো এবং ঋতু পরিবর্তনের কারণ ঝালিয়ে নাও।
WBBSE AI Engine • Class IX Geography Toolkit • Source: Chapter 2