DAY 1 Biplobi Adorsho: Napoleoner Samrajyo O Jatiyotabader Dharona CLASS NOTES
বিপ্লবী আদর্শ: নেপোলিয়নের সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদের ধারণা
"বিপ্লব আমার মাধ্যমেই পূর্ণতা পেয়েছে।" — নেপোলিয়ন বোনাপার্ট
জন্ম ও উত্থান
১৭৬৯, কর্সিকা দ্বীপ
প্রধান সংস্কার
কোড নেপোলিয়ন (১৮০৪)
চূড়ান্ত পতন
১৮১৫, ওয়াটারলুর যুদ্ধ
🚀 নেপোলিয়নের উত্থান
- ১৭৯৯: ডাইরেক্টরি শাসনের অবসান ঘটিয়ে 'প্রথম কনসাল' হিসেবে আত্মপ্রকাশ।
- ১৮০৪: নটরদাম ক্যাথেড্রালে নিজেকে 'ফরাসিদের সম্রাট' ঘোষণা।
⚖️ কোড নেপোলিয়ন (১৮০৪)
"আমার ৪০টি যুদ্ধের জয়ের গৌরব আমার একটি আইনসংহিতা মুছিয়ে দিতে পারবে না।"
⚔️ পতনের কারণসমূহ
মহাদেশীয় ব্যবস্থা (Continental System)
ইংল্যান্ডকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার অবরোধ নীতি। বার্লিন ও মিলান ডিক্রির মাধ্যমে ব্রিটিশ পণ্য নিষিদ্ধ করা হয়।
স্পেনীয় ক্ষত (Spanish Ulcer)
উপদ্বীপের যুদ্ধে স্পেনের গেরিলা বাহিনীর কাছে ফরাসি শক্তির বিপর্যয়।
রাশিয়া অভিযান (১৮১২)
রুশদের 'পোড়ামাটি নীতি' এবং প্রচণ্ড শীতে নেপোলিয়নের 'গ্র্যান্ড আর্মি' ধ্বংস হয়ে যায়।
শেষ অধ্যায়: নির্বাসন ও মৃত্যু
১৮১৩
লিপজিগের যুদ্ধ ও এলবা দ্বীপে নির্বাসন
১৮১৫
ওয়াটারলুর যুদ্ধ (চূড়ান্ত পরাজয়)
১৮২১
সেন্ট হেলেনা দ্বীপে মৃত্যু
💡 মনে রেখো:
নেপোলিয়ন ও পোপ সপ্তম পায়াস-এর মধ্যে ১৮০১ সালে যে ধর্মীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তাকে 'কনকর্ডাট' (Concordat) বলা হয়। এর মাধ্যমে ফ্রান্সে ধর্মীয় মীমাংসা সম্ভব হয়েছিল।
অধ্যায় ২: বিপ্লবী আদর্শ : নেপোলিয়নের সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদের ধারণা
শ্রেণি: নবম | বিষয়: ইতিহাস
সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (Short Answer Questions - 20)
১. নেপোলিয়ন বোনাপার্ট কবে এবং কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ১৭৬৯ সালে কর্সিকা দ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
২. নেপোলিয়ন নিজেকে ফ্রান্সের 'প্রথম কনসাল' হিসেবে কবে ঘোষণা করেন?
উত্তর: ১৭৯৯ সালে ডাইরেক্টরি শাসনের অবসান ঘটিয়ে তিনি নিজেকে ফ্রান্সের 'প্রথম কনসাল' ঘোষণা করেন।
৩. নেপোলিয়ন কবে নিজেকে 'ফরাসিদের সম্রাট' হিসেবে ঘোষণা করেন?
উত্তর: ১৮০৪ সালে নটরদাম ক্যাথেড্রালে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি নিজেকে সম্রাট ঘোষণা করেন।
৪. 'কোড নেপোলিয়ন' কী?
উত্তর: নেপোলিয়ন তাঁর ৩৫০টি আইনকে একত্রিত করে যে বিধিবদ্ধ আইনসংহিতা তৈরি করেন, তাকে 'কোড নেপোলিয়ন' (১৮০৪) বলা হয়।
৫. কোড নেপোলিয়নের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: আইনের চোখে সকলের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করা ছিল এর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।
৬. নেপোলিয়ন তাঁর কোন কাজকে ৪০টি যুদ্ধের জয়ের চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিতেন?
উত্তর: নেপোলিয়ন তাঁর 'আইনসংহিতা' বা 'কোড নেপোলিয়ন'-কে তাঁর যুদ্ধের জয়ের চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিতেন।
৭. 'কনকর্ডাট' (Concordat) কী?
উত্তর: ১৮০১ সালে চার্চ ও রাষ্ট্রের বিবাদ মেটাতে নেপোলিয়ন ও পোপ সপ্তম পায়াস-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত ধর্মীয় চুক্তিকে কনকর্ডাট বলা হয়।
৮. মহাদেশীয় ব্যবস্থা (Continental System) কেন গ্রহণ করা হয়েছিল?
উত্তর: ইংল্যান্ডকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার উদ্দেশ্যে নেপোলিয়ন এই অবরোধ নীতি গ্রহণ করেছিলেন।
৯. বার্লিন ডিক্রি (১৮০৬) কী?
উত্তর: এই ডিক্রির মাধ্যমে ইউরোপের বন্দরে ব্রিটিশ পণ্য প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়।
১০. মিলান ডিক্রি (১৮০৭) বলতে কী বোঝো?
উত্তর: এই ডিক্রি অনুসারে, নিরপেক্ষ কোনো জাহাজ ইংল্যান্ডের বন্দরে গেলে তাকে শত্রুপক্ষ হিসেবে গণ্য করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
১১. 'স্পেনীয় ক্ষত' (Spanish Ulcer) কী?
উত্তর: উপদ্বীপের যুদ্ধে স্পেনের গেরিলা বাহিনীর কাছে ফরাসি বাহিনীর নাজেহাল হওয়া এবং পরাজয়কে নেপোলিয়ন 'স্পেনীয় ক্ষত' বলেছেন।
১২. 'পোড়ামাটি নীতি' (Scorched Earth Policy) কারা গ্রহণ করেছিল?
উত্তর: ১৮১২ সালে নেপোলিয়নের আক্রমণের বিরুদ্ধে রুশ বাহিনী 'পোড়ামাটি নীতি' গ্রহণ করেছিল।
১৩. নেপোলিয়নের 'গ্র্যান্ড আর্মি' (Grand Army) কী?
উত্তর: রাশিয়া অভিযানের জন্য নেপোলিয়ন যে বিশাল বাহিনী গঠন করেছিলেন, তাকে 'গ্র্যান্ড আর্মি' বলা হয়।
১৪. লিপজিগের যুদ্ধ (১৮১৩) কী নামে পরিচিত?
উত্তর: লিপজিগের যুদ্ধ 'জাতিসমূহের যুদ্ধ' (Battle of Nations) নামে পরিচিত।
১৫. নেপোলিয়নকে প্রথমবার কোথায় নির্বাসিত করা হয়েছিল?
উত্তর: ১৮১৩ সালে লিপজিগের যুদ্ধে পরাজয়ের পর তাঁকে 'এলবা' দ্বীপে নির্বাসিত করা হয়।
১৬. 'শত দিবসের শাসন' (Hundred Days) কী?
উত্তর: এলবা দ্বীপ থেকে পালিয়ে এসে ১৮১৫ সালে নেপোলিয়ন পুনরায় ১০০ দিনের জন্য ফ্রান্সের শাসনভার গ্রহণ করেছিলেন, যা 'শত দিবসের শাসন' নামে পরিচিত।
১৭. ওয়াটারলুর যুদ্ধ কবে হয়েছিল?
উত্তর: ১৮১৫ সালের ১৮ জুন বেলজিয়ামের ওয়াটারলু প্রান্তরে এই যুদ্ধ হয়েছিল।
১৮. ওয়াটারলুর যুদ্ধে নেপোলিয়ন কার কাছে পরাজিত হন?
উত্তর: নেপোলিয়ন ব্রিটিশ সেনাপতি ডিউক অফ ওয়েলিংটন-এর কাছে পরাজিত হন।
১৯. নেপোলিয়নের মৃত্যু কোথায় হয়েছিল?
উত্তর: আটলান্টিক মহাসাগরের নির্জন সেন্ট হেলেনা দ্বীপে ১৮২১ সালে নেপোলিয়নের মৃত্যু হয়।
২০. নেপোলিয়ন নিজেকে কীসের সন্তান বলে মনে করতেন?
উত্তর: নেপোলিয়ন নিজেকে ফরাসি বিপ্লবের সন্তান বলে মনে করতেন এবং বলতেন— "বিপ্লব আমার মাধ্যমেই পূর্ণতা পেয়েছে।"
দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্ন (Long Answer Questions - 20)
১. নেপোলিয়ন বোনাপার্টের উত্থান সম্পর্কে আলোচনা করো।
নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ১৭৬৯ সালে কর্সিকা দ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন ফরাসি বিপ্লবের এক মহান সন্তান। ১৭৯৯ সালে ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে তিনি ডাইরেক্টরি শাসনের অবসান ঘটান এবং নিজেকে ফ্রান্সের 'প্রথম কনসাল' হিসেবে ঘোষণা করেন। কনসুলেট শাসনের মাধ্যমে তিনি ফ্রান্সে তাঁর ক্ষমতা সুদৃঢ় করেন। অবশেষে ১৮০৪ সালে নটরদাম ক্যাথেড্রালে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি নিজেকে 'ফরাসিদের সম্রাট' হিসেবে ঘোষণা করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে বিপ্লবের আদর্শ তাঁর মাধ্যমেই পূর্ণতা পেয়েছে।
২. 'কোড নেপোলিয়ন' বা নেপোলিয়নের আইনসংহিতার গুরুত্ব আলোচনা করো।
নেপোলিয়নের প্রশাসনিক সংস্কারের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ১৮০৪ সালের 'কোড নেপোলিয়ন'। তিনি ফ্রান্সের বিভিন্ন প্রান্তে প্রচলিত ৩৫০টি আইনকে একত্রিত করে একটি সুশৃঙ্খল আইনসংহিতা তৈরি করেন। এর গুরুত্ব অপরিসীম কারণ: ১. এটি আইনের চোখে সকলের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। ২. যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ব্যবস্থা করে। ৩. সামন্ততান্ত্রিক সুযোগ-সুবিধার অবসান ঘটায় এবং ৪. ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়। নেপোলিয়ন নিজেই গর্ব করে বলতেন যে তাঁর সামরিক জয়ের চেয়েও এই আইনসংহিতা তাঁকে ইতিহাসে অমর করে রাখবে।
৩. নেপোলিয়নের ধর্মীয় সংস্কার বা 'কনকর্ডাট' সম্পর্কে কী জানো?
ফরাসি বিপ্লবের সময় চার্চ ও রাষ্ট্রের মধ্যে যে তিক্ত সম্পর্কের সৃষ্টি হয়েছিল, নেপোলিয়ন তা দূর করার উদ্যোগ নেন। ১৮০১ সালে তিনি পোপ সপ্তম পায়াস-এর সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন, যা 'কনকর্ডাট' (Concordat) বা 'ধর্মীয় মীমাংসা' নামে পরিচিত। এই চুক্তির মাধ্যমে ক্যাথলিক ধর্মকে ফ্রান্সের 'সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্ম' হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এর ফলে রাষ্ট্রের সাথে চার্চের দীর্ঘদিনের বিবাদের অবসান ঘটে এবং নেপোলিয়ন ক্যাথলিক জনগণের সমর্থন লাভ করেন।
৪. মহাদেশীয় ব্যবস্থা (Continental System) বলতে কী বোঝো? এর উদ্দেশ্য কী ছিল?
নেপোলিয়ন বুঝতে পেরেছিলেন যে ইংল্যান্ডকে সরাসরি যুদ্ধে পরাজিত করা কঠিন। তাই তিনি ইংল্যান্ডকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার জন্য এক বিশেষ অর্থনৈতিক অবরোধ নীতি গ্রহণ করেন, যা 'মহাদেশীয় ব্যবস্থা' নামে পরিচিত। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ইউরোপের বাজারে ব্রিটিশ পণ্য নিষিদ্ধ করা এবং ব্রিটিশ বাণিজ্য ধ্বংস করা। এই উদ্দেশ্যে তিনি ১৮০৬ সালে 'বার্লিন ডিক্রি' এবং ১৮০৭ সালে 'মিলান ডিক্রি' জারি করেন।
৫. মহাদেশীয় ব্যবস্থার ব্যর্থতার কারণ ও ফলাফল বিশ্লেষণ করো।
মহাদেশীয় ব্যবস্থা নেপোলিয়নের পতনের অন্যতম কারণ ছিল। এর ব্যর্থতার কারণগুলি হলো: ১. ইংল্যান্ডের নৌ-শক্তি অত্যন্ত প্রবল ছিল, যা ফ্রান্সের ছিল না। ২. ইউরোপের দেশগুলি ব্রিটিশ পণ্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল, ফলে অবরোধের ফলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ৩. চোরাচালান বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। ফলাফল হিসেবে, এই ব্যবস্থা ইংল্যান্ডের চেয়ে ফ্রান্স ও তার মিত্র দেশগুলোর বেশি ক্ষতি করেছিল। মিত্র দেশগুলো নেপোলিয়নের ওপর ক্ষুব্ধ হয় এবং তাঁর সাম্রাজ্যের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
৬. উপদ্বীপের যুদ্ধ ও 'স্পেনীয় ক্ষত' সম্পর্কে আলোচনা করো।
পর্তুগাল মহাদেশীয় ব্যবস্থা মানতে অস্বীকার করলে নেপোলিয়ন স্পেন আক্রমণ করেন। কিন্তু স্পেনের সাধারণ মানুষ ফরাসি শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। তারা 'গেরিলা' যুদ্ধের মাধ্যমে ফরাসি বাহিনীকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে। এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ফ্রান্সের প্রচুর অর্থ ও সৈন্যক্ষয় হয়। নেপোলিয়ন নিজেই এই পরাজয় ও ক্ষয়ক্ষতিকে 'স্পেনীয় ক্ষত' (Spanish Ulcer) বলে অভিহিত করেছেন। এটি তাঁর সাম্রাজ্যের বিনাশের পথ প্রশস্ত করেছিল।
৭. নেপোলিয়নের রাশিয়া অভিযানের (১৮১২) বিবরণ দাও।
রাশিয়া মহাদেশীয় ব্যবস্থা ত্যাগ করলে নেপোলিয়ন ১৮১২ সালে তাঁর বিশাল 'গ্র্যান্ড আর্মি' নিয়ে রাশিয়া আক্রমণ করেন। রুশ বাহিনী সম্মুখ যুদ্ধ এড়িয়ে পিছু হটতে থাকে এবং 'পোড়ামাটি নীতি' গ্রহণ করে। নেপোলিয়ন মস্কো শহর দখল করলেও সেখানে কোনো রসদ পাননি। প্রচণ্ড শীত, খাদ্যাভাব এবং রুশ গেরিলা বাহিনীর আক্রমণে তাঁর বিশাল বাহিনী ধ্বংস হয়ে যায়। এই ব্যর্থ অভিযান নেপোলিয়নের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের অবসান ঘটায়।
৮. রাশিয়ার 'পোড়ামাটি নীতি' (Scorched Earth Policy) বলতে কী বোঝো?
১৮১২ সালে নেপোলিয়ন যখন রাশিয়া আক্রমণ করেন, তখন রুশ বাহিনী এক বিশেষ রণকৌশল গ্রহণ করে, যা 'পোড়ামাটি নীতি' নামে পরিচিত। রুশরা ফরাসি বাহিনীর সাথে সরাসরি যুদ্ধ না করে দেশের অভ্যন্তরে পিছু হটতে থাকে। পিছু হটার সময় তারা নিজেদের খাদ্যশস্যের ভাণ্ডার পুড়িয়ে দেয়, ঘরবাড়ি ধ্বংস করে এবং পানীয় জলের উৎস নষ্ট করে দেয়। এর ফলে ফরাসি বাহিনী রসদ ও আশ্রয়ের অভাবে চরম সংকটে পড়ে এবং ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়।
৯. লিপজিগের যুদ্ধ বা 'জাতিসমূহের যুদ্ধ'-এর গুরুত্ব আলোচনা করো।
১৮১৩ সালে লিপজিগের যুদ্ধে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ (যেমন— রাশিয়া, প্রাশিয়া, অস্ট্রিয়া ও ব্রিটেন) সম্মিলিতভাবে নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। এই যুদ্ধে নেপোলিয়ন শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন। যেহেতু ইউরোপের বহু জাতি এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল, তাই একে 'জাতিসমূহের যুদ্ধ' (Battle of Nations) বলা হয়। এই পরাজয়ের ফলে নেপোলিয়নকে ফ্রান্সের সিংহাসন ত্যাগ করতে হয় এবং তাঁকে এলবা দ্বীপে নির্বাসিত করা হয়।
১০. ওয়াটারলুর যুদ্ধ ও নেপোলিয়নের চূড়ান্ত পতন সম্পর্কে লেখো।
১৮১৫ সালে এলবা দ্বীপ থেকে পালিয়ে এসে নেপোলিয়ন পুনরায় ফ্রান্সের ক্ষমতা দখল করেন (শত দিবসের শাসন)। কিন্তু ইউরোপীয় শক্তিবর্গ পুনরায় তাঁর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়। ১৮১৫ সালের ১৮ জুন বেলজিয়ামের ওয়াটারলু প্রান্তরে ডিউক অফ ওয়েলিংটন-এর নেতৃত্বাধীন ব্রিটিশ ও মিত্র বাহিনীর কাছে নেপোলিয়ন চূড়ান্তভাবে পরাজিত হন। এরপর তাঁকে সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসিত করা হয়, যেখানে ১৮২১ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। এর মাধ্যমেই নেপোলিয়নীয় যুগের অবসান ঘটে।
১১. নেপোলিয়ন কেন নিজেকে "বিপ্লবের সন্তান" বলতেন?
নেপোলিয়ন মনে করতেন ফরাসি বিপ্লব যে সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতার আদর্শ প্রচার করেছিল, তিনি তাঁর প্রশাসনিক সংস্কার ও কোড নেপোলিয়নের মাধ্যমে সেই আদর্শকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। তিনি বলতেন, "বিপ্লব আমার মাধ্যমেই পূর্ণতা পেয়েছে।" তিনি সামন্ততন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে বিপ্লবের মূল লক্ষ্যগুলি পূরণ করেছিলেন বলেই নিজেকে বিপ্লবের সন্তান মনে করতেন।
১২. বার্লিন ডিক্রি ও মিলান ডিক্রির মধ্যে পার্থক্য কী?
বার্লিন ডিক্রি (১৮০৬) ছিল মহাদেশীয় ব্যবস্থার প্রথম পদক্ষেপ, যার মাধ্যমে ইউরোপের বন্দরে ব্রিটিশ পণ্য প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। অন্যদিকে, মিলান ডিক্রি (১৮০৭) ছিল আরও কঠোর; এতে ঘোষণা করা হয় যে কোনো নিরপেক্ষ দেশের জাহাজ যদি ইংল্যান্ডের বন্দরে যায় বা ব্রিটিশ তল্লাশিতে রাজি হয়, তবে সেই জাহাজকে ফরাসি নৌবাহিনী বাজেয়াপ্ত করবে এবং তাকে শত্রুপক্ষ হিসেবে গণ্য করা হবে।
১৩. নেপোলিয়নের পতনে 'গ্র্যান্ড আর্মি'-র ধ্বংসের ভূমিকা কী ছিল?
নেপোলিয়নের সামরিক শক্তির মূল ভিত্তি ছিল তাঁর 'গ্র্যান্ড আর্মি'। ১৮১২ সালের রাশিয়া অভিযানে এই বিশাল বাহিনীর অধিকাংশ সৈন্য প্রচণ্ড শীত, খাদ্যাভাব এবং রুশদের পোড়ামাটি নীতির কারণে মারা যায়। এই বিশাল সৈন্যক্ষয় নেপোলিয়নের সামরিক আধিপত্যকে চূর্ণ করে দেয়, যার ফলে পরবর্তীকালে লিপজিগ ও ওয়াটারলুর যুদ্ধে তিনি আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি।
১৪. কোড নেপোলিয়নের সামাজিক প্রভাব আলোচনা করো।
কোড নেপোলিয়ন ফরাসি সমাজে আমূল পরিবর্তন আনে। এটি সামন্ততান্ত্রিক বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি করে। যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরির সুযোগ মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করে। এছাড়া পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার স্বীকার করায় সমাজে স্থিতিশীলতা আসে। এটি আধুনিক ইউরোপীয় আইনি ব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
১৫. নেপোলিয়নের পতনে ইংল্যান্ডের ভূমিকা কী ছিল?
ইংল্যান্ড ছিল নেপোলিয়নের প্রধান শত্রু। ইংল্যান্ডের শক্তিশালী নৌ-বাহিনীর কারণে নেপোলিয়ন কখনোই ইংল্যান্ড আক্রমণ করতে পারেননি। মহাদেশীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে ইংল্যান্ডকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করার চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত ওয়াটারলুর যুদ্ধে ব্রিটিশ সেনাপতি ডিউক অফ ওয়েলিংটন নেপোলিয়নকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করেন এবং তাঁর পতনে প্রধান ভূমিকা পালন করেন।
১৬. 'শত দিবসের শাসন' বলতে কী বোঝায়?
১৮১৪ সালে এলবা দ্বীপে নির্বাসিত হওয়ার পর নেপোলিয়ন সেখান থেকে পালিয়ে ১৮১৫ সালের ২০ মার্চ প্যারিসে ফিরে আসেন। তিনি পুনরায় ফ্রান্সের শাসনভার গ্রহণ করেন এবং টানা ১০০ দিন রাজত্ব করেন। এই সংক্ষিপ্ত সময়কালকে ইতিহাসের পাতায় 'শত দিবসের শাসন' বলা হয়। ১৮১৫ সালের ১৮ জুন ওয়াটারলুর যুদ্ধে পরাজয়ের মাধ্যমে এই শাসনের অবসান ঘটে।
১৭. নেপোলিয়নের প্রশাসনিক সংস্কারের মূল লক্ষ্য কী ছিল?
নেপোলিয়নের প্রশাসনিক সংস্কারের মূল লক্ষ্য ছিল ফ্রান্সে একটি সুশৃঙ্খল, দক্ষ এবং কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। তিনি বিপ্লব-পরবর্তী বিশৃঙ্খলা দূর করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। কোড নেপোলিয়ন, কনকর্ডাট এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগের মাধ্যমে তিনি ফ্রান্সকে একটি আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করেছিলেন।
১৮. মস্কো দহন ও নেপোলিয়নের ব্যর্থতা সম্পর্কে লেখো।
১৮১২ সালে নেপোলিয়ন যখন মস্কো দখল করেন, তখন রুশরা শহরটি পুড়িয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। জনশূন্য ও খাদ্যহীন মস্কো শহরে ফরাসি বাহিনী আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে। শীতের প্রকোপ বাড়লে নেপোলিয়ন পিছু হটতে বাধ্য হন। ফেরার পথে রুশ গেরিলা আক্রমণ এবং প্রচণ্ড ঠান্ডায় তাঁর বাহিনীর অধিকাংশ সৈন্য মারা যায়। মস্কো দখল করেও রসদ না পাওয়া ছিল তাঁর অভিযানের চরম ব্যর্থতা।
১৯. সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নেপোলিয়নের শেষ জীবন কেমন ছিল?
১৮১৫ সালে ওয়াটারলুর যুদ্ধে পরাজয়ের পর নেপোলিয়নকে আটলান্টিক মহাসাগরের নির্জন সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসিত করা হয়। সেখানে তিনি ব্রিটিশদের কড়া নজরদারিতে বন্দি জীবন কাটান। নিঃসঙ্গতা ও অসুস্থতার মধ্যে তাঁর শেষ দিনগুলো অতিবাহিত হয়। ১৮২১ সালে ৫ মে এই দ্বীপেই তাঁর মৃত্যু হয়।
২০. নেপোলিয়নের সাম্রাজ্যের পতনের প্রধান কারণগুলি সংক্ষেপে লেখো।
নেপোলিয়নের পতনের প্রধান কারণগুলি ছিল: ১. মহাদেশীয় ব্যবস্থার ব্যর্থতা যা মিত্র দেশগুলিকে শত্রু করে তোলে। ২. স্পেনীয় ক্ষত বা উপদ্বীপের যুদ্ধে পরাজয়। ৩. ১৮১২ সালের রাশিয়া অভিযানের বিপর্যয় ও গ্র্যান্ড আর্মির ধ্বংস। ৪. ইউরোপীয় শক্তিবর্গের সম্মিলিত প্রতিরোধ (চতুর্থ শক্তিজোট)। ৫. ইংল্যান্ডের অজেয় নৌ-শক্তি এবং শেষ পর্যন্ত ওয়াটারলুর যুদ্ধে পরাজয়।
DAY 2 Biplobi Adorsho: Napoleoner Samrajyo O Jatiyotabader Dharona MOCK TEST
WBBSE AI Engine: Mock Test
অধ্যায় ২: বিপ্লবী আদর্শ : নেপোলিয়নের সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদের ধারণা
Class: IX | Subject: ইতিহাস
Loading question...
পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে!
আপনার প্রাপ্ত নম্বর: 0 / 60
DAY 3 Biplobi Adorsho: Napoleoner Samrajyo O Jatiyotabader Dharona ONLINE EXAM
অনলাইন মূল্যায়ন পরীক্ষা
অধ্যায় ২: বিপ্লবী আদর্শ : নেপোলিয়নের সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদের ধারণা
বিষয়: ইতিহাস
আপনার ফলাফল
MCQ অংশে আপনার প্রাপ্ত নম্বর উপরে দেখানো হয়েছে। বর্ণনামূলক প্রশ্নগুলি আপনার শিক্ষক দ্বারা মূল্যায়িত হবে।
DAY 4 Biplobi Adorsho: Napoleoner Samrajyo O Jatiyotabader Dharona QUESTIONS'S SOLUTIONS
অধ্যায় ২: বিপ্লবী আদর্শ : নেপোলিয়নের সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদের ধারণা
পাঠ্যপুস্তক ভিত্তিক অনুশীলন ও সমাধান
বিভাগ ক: অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (VSA)
প্রশ্ন ১: নেপোলিয়ন বোনাপার্ট কোথায় এবং কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ১৭৬৯ সালে কর্সিকা দ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
প্রশ্ন ২: নেপোলিয়ন কত সালে নিজেকে ফ্রান্সের 'প্রথম কনসাল' হিসেবে ঘোষণা করেন?
উত্তর: ১৭৯৯ সালে ডাইরেক্টরি শাসনের অবসান ঘটিয়ে তিনি নিজেকে 'প্রথম কনসাল' হিসেবে ঘোষণা করেন।
প্রশ্ন ৩: 'কোড নেপোলিয়ন' (Code Napoléon) কী?
উত্তর: নেপোলিয়ন তাঁর ৩৫০টি আইনকে একত্রিত করে ১৮০৪ সালে যে বিধিবদ্ধ আইনসংহিতা তৈরি করেন, তাকে 'কোড নেপোলিয়ন' বলা হয়।
প্রশ্ন ৪: 'কনকর্ডাট' (Concordat) চুক্তি কাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল?
উত্তর: ১৮০১ সালে নেপোলিয়ন এবং পোপ সপ্তম পায়াস-এর মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
প্রশ্ন ৫: নেপোলিয়ন কোন যুদ্ধকে 'স্পেনীয় ক্ষত' (Spanish Ulcer) বলে অভিহিত করেছেন?
উত্তর: উপদ্বীপের যুদ্ধকে (Peninsular War) নেপোলিয়ন 'স্পেনীয় ক্ষত' বলে অভিহিত করেছেন।
বিভাগ খ: সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (SA)
প্রশ্ন ১: মহাদেশীয় ব্যবস্থা (Continental System) বলতে কী বোঝো?
উত্তর: ইংল্যান্ডকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার জন্য নেপোলিয়ন যে বিশেষ অর্থনৈতিক অবরোধ নীতি গ্রহণ করেছিলেন, তাকে মহাদেশীয় ব্যবস্থা বলা হয়। এর অধীনে ১৮০৬ সালের 'বার্লিন ডিক্রি' ও ১৮০৭ সালের 'মিলান ডিক্রি'র মাধ্যমে ইউরোপের বন্দরে ব্রিটিশ পণ্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
প্রশ্ন ২: রাশিয়ার 'পোড়ামাটি নীতি' (Scorched Earth Policy) কী ছিল?
উত্তর: ১৮১২ সালে নেপোলিয়ন যখন রাশিয়া আক্রমণ করেন, তখন রুশ বাহিনী সরাসরি যুদ্ধ না করে পিছু হটতে থাকে। পিছু হটার সময় তারা খাদ্যদ্রব্য ও বাসস্থান পুড়িয়ে ধ্বংস করে দেয় যাতে ফরাসি বাহিনী কোনো রসদ না পায়। এই রণকৌশলই 'পোড়ামাটি নীতি' নামে পরিচিত।
বিভাগ গ: বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন
প্রশ্ন: নেপোলিয়নের পতনের প্রধান কারণগুলি আলোচনা করো।
১. মহাদেশীয় ব্যবস্থা: এই ব্যবস্থা ইংল্যান্ডের চেয়ে ফ্রান্স ও তার মিত্র দেশগুলোর ক্ষতি বেশি করেছিল, যা তাঁর পতনের পথ প্রশস্ত করে।
২. স্পেনীয় ক্ষত: স্পেনের গেরিলা যুদ্ধে ফরাসি বাহিনী ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে এবং প্রচুর অর্থ ও সৈন্য ক্ষয় হয়।
৩. রাশিয়া অভিযান: রাশিয়ার প্রচণ্ড শীত এবং পোড়ামাটি নীতির ফলে নেপোলিয়নের বিশাল 'গ্র্যান্ড আর্মি' ধ্বংস হয়ে যায়।
৪. ওয়াটারলুর যুদ্ধ: ১৮১৫ সালে ডিউক অফ ওয়েলিংটনের কাছে চূড়ান্ত পরাজয় তাঁর শাসনের অবসান ঘটায়।
DAY 5 Biplobi Adorsho: Napoleoner Samrajyo O Jatiyotabader Dharona Revision & Mistake Analysis / Active Recall & Teaching Method
অধ্যায় ২: বিপ্লবী আদর্শ : নেপোলিয়নের সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদের ধারণা
WBBSE Class IX History • Quick Review & Mistake Analysis
Mistake Analysis (ভ্রান্তি নিরসন)
| সাধারণ ভুল ধারণা (Common Pitfalls) | সঠিক ধারণা (Correction/Clarification) |
|---|---|
| শিক্ষার্থীরা মনে করে নেপোলিয়ন জন্ম থেকেই ফ্রান্সের সম্রাট ছিলেন। | না, নেপোলিয়ন ১৭৯৯ সালে 'প্রথম কনসাল' হিসেবে ক্ষমতা দখল করেন এবং ১৮০৪ সালে নিজেকে 'সম্রাট' ঘোষণা করেন। |
| 'কোড নেপোলিয়ন' ও 'কনকর্ডাট' গুলিয়ে ফেলা। | কোড নেপোলিয়ন: আইনসংহিতা (১৮০৪)। কনকর্ডাট: পোপের সাথে ধর্মীয় মীমাংসা চুক্তি (১৮০১)। |
| মহাদেশীয় ব্যবস্থার ফলে ইংল্যান্ডের বেশি ক্ষতি হয়েছিল বলে ভাবা। | প্রকৃতপক্ষে, এই অবরোধ ব্যবস্থার ফলে ইংল্যান্ডের চেয়ে ফ্রান্স ও তার মিত্র দেশগুলোর অর্থনৈতিক ক্ষতি অনেক বেশি হয়েছিল। |
| 'স্পেনীয় ক্ষত' ও 'পোড়ামাটি নীতি'র মধ্যে বিভ্রান্তি। | স্পেনীয় ক্ষত: উপদ্বীপের যুদ্ধে স্পেনের গেরিলা আক্রমণ। পোড়ামাটি নীতি: রাশিয়া অভিযানের সময় রুশদের রসদ ধ্বংস করার কৌশল। |
| ওয়াটারলুর যুদ্ধই নেপোলিয়নের প্রথম পরাজয় মনে করা। | ভুল। ১৮১৩ সালে 'লিপজিগের যুদ্ধ' বা 'জাতিসমূহের যুদ্ধে' তিনি আগেই পরাজিত হয়ে এলবা দ্বীপে নির্বাসিত হয়েছিলেন। |
Power Revision Summary (হাই-yield সারাংশ)
উত্থান ও শাসনকাল
- জন্ম: ১৭৬৯, কর্সিকা দ্বীপ।
- কনসুলেট: ১৭৯৯ (ডাইরেক্টরি শাসনের অবসান)।
- সম্রাট: ১৮০৪ (নটরদাম ক্যাথেড্রাল)।
- উক্তি: "বিপ্লব আমার মাধ্যমেই পূর্ণতা পেয়েছে।"
প্রশাসনিক ও ধর্মীয় সংস্কার
- কোড নেপোলিয়ন (১৮০৪): ৩৫০টি আইনের সংকলন। আইনের চোখে সাম্য ও সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত।
- কনকর্ডাট (১৮০১): পোপ সপ্তম পায়াস-এর সাথে ধর্মীয় চুক্তি।
অর্থনৈতিক ও সামরিক সংঘাত
- মহাদেশীয় ব্যবস্থা: ইংল্যান্ডকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার অবরোধ (বার্লিন ও মিলান ডিক্রি)।
- স্পেনীয় ক্ষত: উপদ্বীপের যুদ্ধে গেরিলা বাহিনীর কাছে বিপর্যয়।
- রাশিয়া অভিযান (১৮১২): রুশদের 'পোড়ামাটি নীতি' ও প্রচণ্ড শীতে গ্র্যান্ড আর্মির ধ্বংস।
পতন ও শেষ জীবন
- লিপজিগের যুদ্ধ (১৮১৩): 'জাতিসমূহের যুদ্ধ' ও এলবা দ্বীপে নির্বাসন।
- শত দিবসের শাসন: ১৮১৫ সালে পুনরায় ক্ষমতা দখল।
- ওয়াটারলুর যুদ্ধ: ১৮ জুন, ১৮১৫ (চূড়ান্ত পরাজয়)।
- মৃত্যু: ১৮২১, সেন্ট হেলেনা দ্বীপে।
WBBSE AI Engine • Revision Module • Class IX History
অ্যাক্টিভ রিকল টুলকিট (Active Recall Toolkit)
অধ্যায় ২: বিপ্লবী আদর্শ : নেপোলিয়নের সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদের ধারণা
১. ব্লাইন্ড কোয়েশ্চেন (Blind Questions)
*নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর মনে করার চেষ্টা করো। কোনো অপশন দেওয়া নেই, সরাসরি স্মৃতি থেকে উত্তর দাও।*
- নেপোলিয়ন বোনাপার্ট কত সালে এবং কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
- কত সালে নেপোলিয়ন নিজেকে ফ্রান্সের 'প্রথম কনসাল' হিসেবে ঘোষণা করেন?
- ১৮০৪ সালে নেপোলিয়ন নিজেকে সম্রাট হিসেবে কোথায় ঘোষণা করেছিলেন?
- 'কোড নেপোলিয়ন' (Code Napoléon) মোট কতটি আইনের সংকলন ছিল?
- কোড নেপোলিয়নের যেকোনো দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।
- "আমার ৪০টি যুদ্ধের জয়ের গৌরব আমার একটি আইনসংহিতা মুছিয়ে দিতে পারবে না" — উক্তিটি কার?
- পোপ সপ্তম পায়াস-এর সাথে নেপোলিয়নের স্বাক্ষরিত ধর্মীয় চুক্তির নাম কী?
- ইংল্যান্ডকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার জন্য নেপোলিয়ন কোন নীতি গ্রহণ করেন?
- ১৮০৬ সালের 'বার্লিন ডিক্রি'-র মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
- নেপোলিয়ন কোন যুদ্ধকে 'স্পেনীয় ক্ষত' বা 'Spanish Ulcer' বলে অভিহিত করেছেন?
- রাশিয়া আক্রমণকারী নেপোলিয়নের বিশাল বাহিনীর নাম কী ছিল?
- রুশ বাহিনী পিছু হটার সময় কোন বিশেষ যুদ্ধকৌশল বা নীতি গ্রহণ করেছিল?
- ১৮১৩ সালে কোন যুদ্ধে নেপোলিয়ন ইউরোপীয় শক্তিবর্গের কাছে পরাজিত হন?
- নেপোলিয়নের চূড়ান্ত পরাজয় কোন যুদ্ধে হয়েছিল এবং কত সালে?
- নেপোলিয়নকে শেষ পর্যন্ত কোন দ্বীপে নির্বাসিত করা হয়েছিল?
২. ফাইনম্যান পদ্ধতি (The Feynman Method)
৫ বছরের শিশুকে নেপোলিয়নের গল্প শোনানো:
"কল্পনা করো, নেপোলিয়ন ছিলেন একজন খুব শক্তিশালী এবং বুদ্ধিমান সেনাপতি। তিনি ফ্রান্সের রাজা হয়ে সবার জন্য একটি 'আইন বই' (Code Napoleon) তৈরি করেছিলেন যাতে সবাই সমান অধিকার পায়। কিন্তু তিনি চেয়েছিলেন পুরো পৃথিবী শাসন করতে। তিনি ইংল্যান্ডকে জব্দ করার জন্য সবার সাথে তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দেন। এরপর তিনি যখন বিশাল এক সৈন্যদল নিয়ে রাশিয়া জয় করতে গেলেন, তখন রাশিয়ার প্রচণ্ড শীত আর খাবারের অভাবে তাঁর অনেক সৈন্য মারা গেল। শেষে 'ওয়াটারলু' নামের এক বড় লড়াইয়ে তিনি হেরে গেলেন এবং তাঁকে অনেক দূরের এক নির্জন দ্বীপে পাঠিয়ে দেওয়া হলো।"
৩. স্পেসড রিপিটিশন শিডিউল (Spaced Repetition)
- • নেপোলিয়নের উত্থান ও সম্রাট ঘোষণা
- • কোড নেপোলিয়নের বৈশিষ্ট্য
- • কনকর্ডাট বা ধর্মীয় মীমাংসা
- • মহাদেশীয় ব্যবস্থা (বার্লিন ও মিলান ডিক্রি)
- • উপদ্বীপের যুদ্ধ ও 'স্পেনীয় ক্ষত'
- • ইংল্যান্ডের সাথে অর্থনৈতিক সংঘাত
- • রাশিয়া অভিযান ও পোড়ামাটি নীতি
- • লিপজিগের যুদ্ধ ও এলবা দ্বীপে নির্বাসন
- • ওয়াটারলুর যুদ্ধ ও সেন্ট হেলেনায় মৃত্যু