DAY 1 Kalingodeshe jhor-brishti CLASS NOTES
কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি
কবি: মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
শিক্ষকের কথা
প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা, আজ আমরা মধ্যযুগের বিখ্যাত কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর লেখনীতে কলিঙ্গদেশের সেই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কাহিনী পড়ব। দেবী চণ্ডীর মায়ায় কীভাবে একটি জনপদ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল, তা এই কবিতায় জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
বিষয়বস্তু ও সারসংক্ষেপ
দেবী চণ্ডীর ইচ্ছায় কলিঙ্গদেশে প্রবল প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে আসে। আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢেকে যায় এবং ঈশান কোণে বিদ্যুৎ চমকাতে শুরু করে।
ঝড়ের দাপটে চারিদিক অন্ধকার হয়ে যায়, ফলে প্রজারা নিজেদের রূপও দেখতে পায় না। প্রবল বৃষ্টিতে শস্যক্ষেত নষ্ট হয় এবং গর্ত থেকে সাপ বেরিয়ে জলে ভাসতে থাকে।
দেবীর আদেশে বীর হনুমান কলিঙ্গদেশের মঠ-অট্টালিকা ভেঙে চুরমার করেন। সাত দিন একটানা বৃষ্টির ফলে ঘরবাড়ি ও ফসল ধ্বংস হয় এবং প্রজারা কলিঙ্গ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।
শব্দার্থ ভাণ্ডার
গুরুত্বপূর্ণ পঙ্ক্তি ও ব্যাখ্যা
"ঈশানে উড়িল মেঘ সঘনে চিকুর"
উত্তর-পূর্ব কোণে মেঘের ঘনঘটা এবং বিদ্যুতের ঝলকানি দেখা দিচ্ছে।
"করভ সমান বরিষে জলধারা"
হাতির শুঁড়ের মতো মোটা ধারায় বৃষ্টি পড়ছে।
"জলে মহী একাকার পথ হইল হারা"
বৃষ্টির জলে স্থলভাগ ডুবে একাকার হয়ে গেছে, রাস্তাঘাট চেনা যাচ্ছে না।
"চণ্ডীর আদেশে ধায় বীর হনুমান"
দেবী চণ্ডীর আজ্ঞায় বীর হনুমান কলিঙ্গবাসীর মঠ ও অট্টালিকা ধ্বংস করতে উদ্যত হয়েছেন।
এই অধ্যায়টি ভালোভাবে বোঝার জন্য শব্দার্থগুলি মুখস্থ করো এবং কবিতার চিত্রকল্পগুলি মনে রাখার চেষ্টা করো।
কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি
নবম শ্রেণী | বাংলা (প্রথম ভাষা) | মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
S সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (Short Answer Questions)
১. 'কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
উত্তর: কবিতাটি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর 'অভয়ামঙ্গল' বা 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের অন্তর্গত।
২. কবিতাটি চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কোন খণ্ড থেকে নেওয়া হয়েছে?
উত্তর: এটি চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের 'আখেটিক খণ্ড' থেকে সংগৃহীত।
৩. 'চিকুর' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: 'চিকুর' শব্দের অর্থ হলো বিদ্যুৎ।
৪. মেঘ কোন কোণে প্রথম উদিত হয়েছিল?
উত্তর: মেঘ প্রথম ঈশান কোণে (উত্তর-পূর্ব কোণে) উদিত হয়েছিল।
৫. 'করভ' শব্দের আক্ষরিক অর্থ কী?
উত্তর: 'করভ' শব্দের অর্থ হলো হাতির শুঁড়।
৬. কলিঙ্গদেশে কতদিন একটানা বৃষ্টি চলেছিল?
উত্তর: দেবী চণ্ডীর মায়ায় কলিঙ্গদেশে সাত দিন একটানা বৃষ্টি চলেছিল।
৭. 'মহী' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: 'মহী' শব্দের অর্থ হলো পৃথিবী বা স্থলভাগ।
৮. কলিঙ্গদেশের মঠ-অট্টালিকা কে ভেঙে চুরমার করেন?
উত্তর: দেবী চণ্ডীর আদেশে বীর হনুমান মঠ-অট্টালিকা ভেঙে চুরমার করেন।
৯. প্রজারা কেন নিজেদের রূপ দেখতে পাচ্ছিল না?
উত্তর: ঘন কালো মেঘে চারিদিক অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় প্রজারা নিজেদের রূপ দেখতে পাচ্ছিল না।
১০. বৃষ্টির দাপটে গর্ত থেকে কী বেরিয়ে এসেছিল?
উত্তর: প্রবল বৃষ্টির ফলে গর্ত থেকে সাপ বেরিয়ে জলে ভাসতে শুরু করেছিল।
১১. 'আশু' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: 'আশু' শব্দের অর্থ হলো দ্রুত বা শীঘ্র।
১২. 'উতরোল' শব্দটির অর্থ কী?
উত্তর: 'উতরোল' শব্দের অর্থ হলো প্রবল শব্দ বা কলরোল।
১৩. কলিঙ্গদেশে বিপর্যয় কার ইচ্ছায় নেমে এসেছিল?
উত্তর: দেবী চণ্ডীর ইচ্ছায় কলিঙ্গদেশে বিপর্যয় নেমে এসেছিল।
১৪. বৃষ্টির ফলে পথঘাটের কী অবস্থা হয়েছিল?
উত্তর: বৃষ্টির জলে স্থলভাগ ডুবে একাকার হয়ে যাওয়ায় পথঘাট চেনা যাচ্ছিল না।
১৫. প্রজারা শেষ পর্যন্ত কী করতে বাধ্য হলো?
উত্তর: প্রজারা ভয় পেয়ে কলিঙ্গ দেশ ত্যাগ করে চলে যেতে বাধ্য হলো।
১৬. "সঘনে চিকুর" বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: ঘন ঘন বিদ্যুতের ঝলকানিকে কবি "সঘনে চিকুর" বলেছেন।
১৭. শস্যক্ষেতের কী ক্ষতি হয়েছিল?
উত্তর: প্রবল ঝড় ও বৃষ্টির দাপটে কলিঙ্গদেশের সমস্ত শস্যক্ষেত নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।
১৮. আকাশ কীসে ঢেকে গিয়েছিল?
উত্তর: আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢেকে গিয়েছিল।
১৯. মেঘের ডাক কেমন ছিল?
উত্তর: মেঘের ডাক ছিল অত্যন্ত গম্ভীর এবং প্রবল শব্দযুক্ত (উতরোল)।
২০. কলিঙ্গদেশের ঘরবাড়ির কী অবস্থা হয়েছিল?
উত্তর: সাত দিনের বৃষ্টি ও হনুমানের তাণ্ডবে ঘরবাড়ি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল।
L রচনাধর্মী প্রশ্ন (Long Answer Questions)
১. কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট অন্ধকারের বর্ণনা দাও।
উত্তর: দেবী চণ্ডীর ইচ্ছায় কলিঙ্গদেশে যখন প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে আসে, তখন আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢেকে যায়। ঈশান কোণে মেঘের ঘনঘটা দেখা দেয় এবং দ্রুত তা সারা আকাশে ছড়িয়ে পড়ে। এই মেঘের দাপটে চারিদিক এমন অন্ধকার হয়ে যায় যে, দিনের বেলাতেও রাতের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রজারা এতটাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে যে অন্ধকারের তীব্রতায় তারা নিজেদের শরীরের রূপ বা অঙ্গপ্রত্যঙ্গও দেখতে পাচ্ছিল না।
২. "করভ সমান বরিষে জলধারা" — পঙ্ক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী কলিঙ্গদেশের বৃষ্টির তীব্রতা বোঝাতে এই উপমাটি ব্যবহার করেছেন। 'করভ' শব্দের অর্থ হলো হাতির শুঁড়। হাতি যেমন তার শুঁড় দিয়ে মোটা ধারায় জল বর্ষণ করে, কলিঙ্গদেশেও ঠিক তেমনি অত্যন্ত মোটা ধারায় বিরামহীন বৃষ্টি পড়ছিল। এই অতিবৃষ্টির ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং চারিদিকের স্থলভাগ জলে ডুবে যায়।
৩. দেবী চণ্ডীর আদেশে বীর হনুমান কলিঙ্গদেশে কী করেছিলেন?
উত্তর: কলিঙ্গদেশকে ধ্বংস করার জন্য দেবী চণ্ডী বীর হনুমানকে আদেশ দিয়েছিলেন। দেবীর আজ্ঞা পালন করতে হনুমান কলিঙ্গদেশে প্রবল তাণ্ডব চালান। তিনি সেখানকার বড় বড় মঠ এবং অট্টালিকাগুলি ভেঙে চুরমার করে দেন। হনুমানের এই ধ্বংসলীলা কলিঙ্গবাসীদের মনে চরম ত্রাসের সৃষ্টি করে এবং তাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস করে দেশত্যাগে বাধ্য করে।
৪. কলিঙ্গদেশে সাত দিনের একটানা বৃষ্টির প্রভাবে কী কী পরিবর্তন ঘটেছিল?
উত্তর: দেবী চণ্ডীর মায়ায় কলিঙ্গদেশে একটানা সাত দিন বৃষ্টি চলেছিল। এর ফলে: ১) সমস্ত শস্যক্ষেত নষ্ট হয়ে যায়। ২) ঘরবাড়ি ও মঠ-অট্টালিকা ভেঙে পড়ে। ৩) স্থলভাগ ও জলভাগ মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়, ফলে রাস্তাঘাট চেনা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ৪) গর্ত থেকে সাপ বেরিয়ে এসে জলে ভাসতে থাকে। ৫) সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্কে দেশ ছেড়ে পালাতে শুরু করে।
৫. "জলে মহী একাকার পথ হইল হারা" — এই উক্তিটির মাধ্যমে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: কলিঙ্গদেশে সাত দিন ধরে যে প্রবল বৃষ্টিপাত হয়েছিল, তার ফলে চারিদিকের নিচু জমি, মাঠ এবং রাস্তাঘাট সব জলের তলায় তলিয়ে যায়। 'মহী' অর্থাৎ পৃথিবী বা স্থলভাগ এমনভাবে জলে ডুবে গিয়েছিল যে আলাদা করে কোনো পথ বা সীমানা চেনা যাচ্ছিল না। জল ও স্থলের এই একাকার হয়ে যাওয়া কলিঙ্গদেশের ভয়াবহ বন্যার রূপকে ফুটিয়ে তোলে।
৬. কলিঙ্গদেশের প্রজাদের আতঙ্কের কারণগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তর: প্রজাদের আতঙ্কের প্রধান কারণ ছিল অভাবনীয় প্রাকৃতিক বিপর্যয়। প্রথমত, আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢেকে যাওয়ায় চারিদিক অন্ধকার হয়ে যায়। দ্বিতীয়ত, মেঘের প্রবল গর্জন ও বিদ্যুতের ঝলকানি তাদের ভীত করে তোলে। তৃতীয়ত, হাতির শুঁড়ের মতো মোটা ধারায় বৃষ্টি ও প্রবল ঝড়ে শস্য ও ঘরবাড়ি ধ্বংস হতে থাকে। সবশেষে, দেবীর আদেশে হনুমানের ধ্বংসলীলা তাদের মনে নিশ্চিত মৃত্যুর ভয় জাগিয়ে তোলে।
৭. কবিতার বিষয়বস্তু অবলম্বনে কলিঙ্গদেশের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের চিত্রটি অঙ্কন করো।
উত্তর: কলিঙ্গদেশের বিপর্যয় শুরু হয় ঈশান কোণে মেঘের উদয় দিয়ে। দ্রুত আকাশ অন্ধকার হয়ে যায় এবং শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি। ঝড়ের দাপটে চারিদিক লণ্ডভণ্ড হতে থাকে। বৃষ্টির জলে মাঠের শস্য ডুবে যায় এবং সাপেরা আশ্রয়ের খোঁজে জলে ভাসতে থাকে। দেবী চণ্ডীর মায়ায় সাত দিন এই তাণ্ডব চলে। হনুমান মঠ-অট্টালিকা ভেঙে ফেলেন। এই সামগ্রিক চিত্রটি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক।
৮. "ঈশানে উড়িল মেঘ সঘনে চিকুর" — পঙ্ক্তিটির মধ্য দিয়ে ঝড়ের কোন পূর্বাভাস পাওয়া যায়?
উত্তর: ঈশান কোণ বা উত্তর-পূর্ব কোণকে ঝড়ের সংকেত হিসেবে দেখা হয়। সেখানে মেঘের ঘনঘটা এবং 'সঘনে চিকুর' অর্থাৎ ঘন ঘন বিদ্যুতের চমকানি ইঙ্গিত দেয় যে একটি অতি শক্তিশালী ঝড় ও বৃষ্টি ধেয়ে আসছে। এটি ছিল আসন্ন মহাপ্রলয়ের প্রাথমিক লক্ষণ, যা কলিঙ্গবাসীকে সতর্ক করার আগেই গ্রাস করে নেয়।
৯. কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টির ফলে সাপেদের অবস্থা কেমন হয়েছিল?
উত্তর: প্রবল বর্ষণে কলিঙ্গদেশের সমস্ত নিচু জমি ও গর্ত জলে ভরে গিয়েছিল। সাপেরা সাধারণত মাটির নিচে গর্তে বাস করে। কিন্তু একটানা সাত দিনের বৃষ্টিতে তাদের বাসস্থান জলে ডুবে যাওয়ায় তারা গর্ত থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হয়। তারা নিরুপায় হয়ে জলের ওপর ভাসতে থাকে, যা বিপর্যয়ের এক করুণ ও ভয়াবহ দিক তুলে ধরে।
১০. কলিঙ্গবাসীরা কেন দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিল?
উত্তর: কলিঙ্গবাসীরা তাদের জীবন ও জীবিকা উভয়ই সংকটে পড়ায় দেশ ত্যাগ করে। সাত দিনের প্রবল বৃষ্টিতে তাদের ফসল নষ্ট হয়ে যায়, ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ে এবং চারিদিক অন্ধকারে ডুবে যায়। দেবী চণ্ডীর অলৌকিক মায়ায় সৃষ্ট এই বিপর্যয় থেকে বাঁচার কোনো উপায় না দেখে এবং প্রাণভয়ে তারা নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে চলে যেতে বাধ্য হয়।
১১. মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর বর্ণনায় ঝড়ের শব্দ ও গর্জনের প্রভাব আলোচনা করো।
উত্তর: কবি ঝড়ের শব্দকে 'উতরোল' বা প্রবল কলরোল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মেঘের গম্ভীর গর্জন এবং ঝড়ের শোঁ শোঁ শব্দে কলিঙ্গদেশ কেঁপে উঠেছিল। এই শব্দ প্রজাদের মনে ত্রাসের সৃষ্টি করেছিল। শব্দের এই ভয়াবহতা বোঝাতে কবি মেঘের ডাক ও বিদ্যুতের চমকানিকে অত্যন্ত নিপুণভাবে ব্যবহার করেছেন, যা পাঠককে সেই প্রলয়ঙ্করী পরিস্থিতির অনুভূতি দেয়।
১২. "চণ্ডীর আদেশে ধায় বীর হনুমান" — হনুমানের এই ধাবিত হওয়ার পরিণাম কী হয়েছিল?
উত্তর: দেবী চণ্ডীর আদেশে বীর হনুমান যখন কলিঙ্গদেশের দিকে ধাবিত হন, তখন তার লক্ষ্য ছিল ধ্বংসসাধন। তার প্রবল শক্তিতে কলিঙ্গদেশের মজবুত মঠ ও অট্টালিকাগুলি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। এই ধ্বংসলীলা কলিঙ্গদেশের স্থাপত্য ও জনবসতিকে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত করে দেয়, যা ছিল দেবীর ইচ্ছারই প্রতিফলন।
১৩. কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টির বর্ণনায় কবির পর্যবেক্ষণ শক্তির পরিচয় দাও।
উত্তর: কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে ঝড়ের বর্ণনা দিয়েছেন। মেঘের কোণ নির্ধারণ (ঈশান কোণ), বিদ্যুতের চমক (চিকুর), বৃষ্টির ধারাকে হাতির শুঁড়ের (করভ) সাথে তুলনা করা এবং সাপেদের জলে ভাসা — এই প্রতিটি বর্ণনাই কবির গভীর পর্যবেক্ষণ শক্তির পরিচয় দেয়। তিনি কেবল একটি ঝড়কে বর্ণনা করেননি, বরং তার সামাজিক ও প্রাকৃতিক প্রভাবকেও নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
১৪. কলিঙ্গদেশের কৃষিজীবী মানুষের ওপর এই বিপর্যয়ের প্রভাব কেমন ছিল?
উত্তর: কলিঙ্গদেশের অধিকাংশ মানুষ ছিল কৃষিজীবী। সাত দিনের একটানা বৃষ্টি ও ঝড়ে তাদের শস্যক্ষেত সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। বৃষ্টির জলে মাঠ ডুবে যাওয়ায় ফসল পচে নষ্ট হয়। কৃষকদের সারা বছরের পরিশ্রম ও খাদ্যের সংস্থান ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় তারা চরম অর্থনৈতিক ও খাদ্য সংকটের মুখে পড়ে, যা তাদের দেশত্যাগের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল।
১৫. "আশু নিবারিতে প্রজারা করিল বিষাদ" — প্রজাদের বিষাদের কারণ কী?
উত্তর: 'আশু' অর্থাৎ দ্রুত এই বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো পথ না দেখে প্রজারা বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। তারা দেখেছিল যে তাদের প্রার্থনা বা কোনো চেষ্টাই এই প্রবল প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে থামাতে পারছে না। চারিদিকের অন্ধকার, ঘরবাড়ি ভাঙা এবং শস্যহানি তাদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলেছিল, যার ফলে তাদের মনে গভীর বিষাদ ও হতাশা নেমে আসে।
১৬. কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টির ঘটনায় অলৌকিকতার স্থান কোথায়?
উত্তর: এই কবিতার মূলে রয়েছে দেবী চণ্ডীর ইচ্ছা। সাধারণ প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরিবর্তে এখানে দেবীর মায়াকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেবীর আদেশে হনুমানের ধ্বংসলীলা চালানো এবং সাত দিন ধরে একটানা অপরিবর্তিতভাবে বৃষ্টি হওয়া — এই বিষয়গুলি অলৌকিকতার পরিচয় দেয়। মধ্যযুগীয় কাব্যের ধারা অনুযায়ী দেবীর মহিমা প্রচারের জন্যই এই অলৌকিক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।
১৭. কলিঙ্গদেশের মঠ ও অট্টালিকার ধ্বংসের বর্ণনা দাও।
উত্তর: কলিঙ্গদেশের মঠ ও অট্টালিকাগুলি ছিল মানুষের তৈরি স্থায়ী স্থাপত্য। কিন্তু দেবী চণ্ডীর আদেশে বীর হনুমান যখন আক্রমণ করেন, তখন সেই শক্তিশালী স্থাপত্যগুলিও রক্ষা পায়নি। হনুমান সেগুলি ভেঙে চুরমার করে দেন। বৃষ্টির তোড়ে মাটির ঘরগুলি যেমন ধসে গিয়েছিল, হনুমানের তাণ্ডবে তেমনি বড় বড় অট্টালিকাগুলি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল।
১৮. "সাত দিন নিরবধি বরিষে ব্যঞ্জন" — এই দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টির ফলাফল কী হয়েছিল?
উত্তর: সাত দিন ধরে বিরামহীন বৃষ্টির ফলে কলিঙ্গদেশের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায়। কোনো মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছিল না। রান্নাবান্না বা দৈনন্দিন কাজ বন্ধ হয়ে যায়। চারিদিকে শুধু জল আর জল। এই দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টিই কলিঙ্গদেশকে একটি বিশাল জলাশয়ে পরিণত করেছিল এবং মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিয়েছিল।
১৯. কবিতার শেষে প্রজাদের মানসিক অবস্থার বর্ণনা দাও।
উত্তর: কবিতার শেষে প্রজারা চরম আতঙ্কিত, অসহায় এবং দিশেহারা। তারা বুঝতে পারে যে এই বিপর্যয় কোনো সাধারণ প্রাকৃতিক ঘটনা নয়, বরং দৈব অভিশাপ। তাদের মনে কোনো আশা অবশিষ্ট ছিল না। নিজেদের ভিটেমাটি ও সম্পদ হারানোর শোকে এবং প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে তারা অত্যন্ত করুণ অবস্থায় কলিঙ্গ দেশ ত্যাগ করে।
২০. 'কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি' কবিতায় প্রকৃতির রুদ্র রূপ কীভাবে ফুটে উঠেছে?
উত্তর: কবিতায় প্রকৃতি তার শান্ত রূপ ত্যাগ করে রুদ্র ও ধ্বংসাত্মক রূপ ধারণ করেছে। ঘন কালো মেঘ, কান ফাটানো গর্জন, বিদ্যুতের ঝিলিক এবং হাতির শুঁড়ের মতো বৃষ্টির ধারা প্রকৃতির এই ভয়াল রূপকে প্রকাশ করে। প্রকৃতি এখানে দয়াময় নয়, বরং দেবী চণ্ডীর নির্দেশে এক সংহারক মূর্তিতে অবতীর্ণ হয়েছে, যা সবকিছু ধ্বংস করে নতুন বিন্যাসের পথ তৈরি করছে।
DAY 2 Kalingodeshe jhor-brishti MOCK TEST
WBBSE AI Engine - Mock Test
শ্রেণী: নবম | বিষয়: বাংলা (প্রথম ভাষা)
পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে!
DAY 3 Kalingodeshe jhor-brishti ONLINE EXAM
অনলাইন মূল্যায়ন পরীক্ষা (২০২৪)
শ্রেণী: নবম | বিষয়: বাংলা (প্রথম ভাষা)
অধ্যায়: কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি (মুকুন্দরাম চক্রবর্তী)
আপনার ফলাফল
০ / ১০
* বড় প্রশ্নের উত্তরগুলি আপনার শিক্ষককে দিয়ে যাচাই করিয়ে নিন।
DAY 4 Kalingodeshe jhor-brishti QUESTIONS'S SOLUTIONS (BANGLA BAKARAN)
কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
১. সাহিত্য বিষয়ক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: কলিঙ্গদেশে কেন প্রবল প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে এসেছিল?
প্রশ্ন ২: "ঈশানে উড়িল মেঘ সঘনে চিকুর" — পঙ্ক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
প্রশ্ন ৩: "করভ সমান বরিষে জলধারা" — এখানে 'করভ' শব্দের অর্থ কী এবং উপমাটি কেন ব্যবহৃত হয়েছে?
প্রশ্ন ৪: কলিঙ্গদেশের মঠ ও অট্টালিকা ধ্বংসের জন্য দেবী কাকে আদেশ দিয়েছিলেন?
প্রশ্ন ৫: একটানা কতদিন বৃষ্টি চলেছিল এবং তার পরিণতি কী হয়েছিল?
২. শব্দার্থ লিখন
৩. ব্যাকরণ ও নির্মিতি
প্রশ্ন ১: স্বরভক্তি বা বিপ্রকর্ষ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উদাহরণ: রত্ন > রতন, প্রীতি > পীরিতি।
প্রশ্ন ২: অপিনিহিতি ও অভিশ্রুতির মধ্যে পার্থক্য কী?
প্রশ্ন ৩: উপসর্গ ও অনুসর্গের একটি করে উদাহরণ দাও।
উপসর্গ: 'হার' শব্দের আগে 'প্র' যোগ করলে হয় 'প্রহার'।
অনুসর্গ: হতে, থেকে, দ্বারা ইত্যাদি।
প্রশ্ন ৪: কৃৎ প্রত্যয় ও তদ্ধিত প্রত্যয়ের পার্থক্য উদাহরণসহ লেখো।
৪. ভাব-সম্প্রসারণ
"শৈবাল দিঘিরে বলে উচ্চ করি শির / লিখে রেখো এক ফোঁটা দিলেম শিশির।"
মূল ভাব: সামান্য দানে গর্বিত হওয়া এবং অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা নীচ মনের পরিচয়।
সম্প্রসারিত ভাব: দিঘির অসীম জলরাশির ওপর শৈবাল বা শ্যাওলা ভেসে থাকে। দিঘির জলেই শৈবালের জীবন রক্ষা হয়। কিন্তু ভোরের এক ফোঁটা শিশির যখন শৈবালের গায় জমে, তখন সে দিঘিকে তুচ্ছ জ্ঞান করে গর্বের সাথে বলে যে সে দিঘিকে এক ফোঁটা শিশির দান করেছে। বাস্তবে দিঘির অঢেল দানকে সে অস্বীকার করে। সমাজের কিছু মানুষ অন্যের অসীম উপকারের কথা ভুলে গিয়ে সামান্য কিছু করলে তা বড় করে প্রচার করে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।
মন্তব্য: উপকারীর মহত্ত্ব স্বীকার করাই প্রকৃত মনুষ্যত্ব।
নবম শ্রেণী বাংলা (WBBSE)
ব্যাকরণ ও নির্মিতি (Grammar & Writing)
বিষয়সংক্ষেপ
এই অধ্যায়ে নবম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণের ধ্বনি পরিবর্তন এবং শব্দ গঠন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও অনুশীলনী দেওয়া হয়েছে।
২.১ ধ্বনি ও ধ্বনি পরিবর্তন
প্রধান প্রক্রিয়া ও উদাহরণ:
উচ্চারণের সুবিধার জন্য যুক্ত ব্যঞ্জনের মাঝে স্বরধ্বনির আগমন।
শব্দের শেষে থাকা 'ই' বা 'উ' কার আগেই উচ্চারিত হয়।
অপিনিহিতি জাত ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে পূর্ববর্তী স্বরের সাথে মিলে যাওয়া।
শব্দের মধ্যে পাশাপাশি দুটি সমধ্বনি থাকলে একটির লোপ পাওয়া।
শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের স্থান পরিবর্তন।
নিজেকে যাচাই করো (Test Yourself) - ১০টি প্রশ্ন
নিচের শব্দগুলিতে কোন ধ্বনি পরিবর্তন ঘটেছে তা নির্ণয় করো:
২.২ শব্দ গঠন (Word Formation)
ক) উপসর্গ (Prefix)
শব্দের বা ধাতুর আগে বসে নতুন অর্থ তৈরি করে।
খ) অনুসর্গ (Postposition)
বিশেষ্য বা সর্বনামের পরে বসে বিভক্তির মতো কাজ করে।
গ) ধাতু ও প্রত্যয় (Root & Suffix)
| বিষয় | সংজ্ঞা ও উদাহরণ |
|---|---|
| কৃৎ প্রত্যয় | ধাতুর পরে বসে। (উদা: চল্ + অন্ত = চলন্ত) |
| তদ্ধিত প্রত্যয় | শব্দের পরে বসে। (উদা: ঢাকা + আই = ঢাকাই) |
নিজেকে যাচাই করো (Test Yourself) - ৮টি প্রশ্ন
নির্দেশ অনুসারে উত্তর দাও:
৩ নির্মিতি: ভাব-সম্প্রসারণ
নিয়মাবলী:
- মূল ভাবটিকে সহজ ভাষায় সংক্ষেপে বলতে হবে।
- উদাহরণ বা যুক্তির সাহায্যে বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা করতে হবে।
- শেষে একটি ছোট উপসংহার বা মন্তব্য দিতে হবে।
- পুনরাবৃত্তি বর্জন করতে হবে।
উদাহরণ (নমুনা):
"শৈবাল দিঘিরে বলে উচ্চ করি শির / লিখে রেখো এক ফোঁটা দিলেম শিশির।"
মূল ভাব: সামান্য দানে গর্বিত হওয়া এবং অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা নীচ মনের পরিচয়।
সম্প্রসারিত ভাব: দিঘির অসীম জলরাশির ওপর শৈবাল বা শ্যাওলা ভেসে থাকে। দিঘির জলেই শৈবালের জীবন রক্ষা হয়। কিন্তু ভোরের এক ফোঁটা শিশির যখন শৈবালের গায় জমে, তখন সে দিঘিকে তুচ্ছ জ্ঞান করে গর্বের সাথে বলে যে সে দিঘিকে এক ফোঁটা শিশির দান করেছে। বাস্তবে দিঘির অঢেল দানকে সে অস্বীকার করে। সমাজের কিছু মানুষ অন্যের অসীম উপকারের কথা ভুলে গিয়ে সামান্য কিছু করলে তা বড় করে প্রচার করে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।
অনুশীলনী (Practice Test) - ৮টি বিষয়
নিচের পঙ্ক্তিগুলির ভাব-সম্প্রসারণ অভ্যাস করো:
- মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে।
- অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে / তব ঘৃণা যেন তারে তৃণসম দহে।
- আত্মশক্তি অর্জনই শিক্ষার উদ্দেশ্য।
- দন্ডের সাথে দন্ডদাতা / কাঁদে যবে সমান আঘাতে সর্বশ্রেষ্ঠ সে বিচার।
- বিশ্রাম কাজের অঙ্গ একসাথে গাঁথা / নয়নের অংশ যেন নয়নের পাতা।
- পরের অনিষ্ট চিন্তা করে যেই জন / নিজের অনিষ্ট বীজ করে সে বপন।
- বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।
- গ্রন্থগত বিদ্যা আর পরহস্তে ধন / নহে বিদ্যা, নহে ধন হলে প্রয়োজন।
DAY 5 Kalingodeshe jhor-brishti Revision & Mistake Analysis / Active Recall & Teaching Method
কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি
কবি: মুকুন্দরাম চক্রবর্তী | নবম শ্রেণী (বাংলা)
Common Conceptual Mistakes & Pitfalls
| ভুল ধারণা (Common Mistake) | সঠিক ধারণা (Correction) |
|---|---|
| ✕ "চিকুর" শব্দটিকে সাধারণ অর্থে 'চুল' বলে মনে করা। | ✓ এই কবিতায় "চিকুর" শব্দের অর্থ হলো বিদ্যুৎ। (পঙ্ক্তি: "সঘনে চিকুর") |
| ✕ "করভ" শব্দটিকে কোনো পাখি বা সাধারণ বৃষ্টির ধারা ভাবা। | ✓ "করভ" শব্দের অর্থ হাতির শুঁড়। বৃষ্টির তীব্রতা বোঝাতে হাতির শুঁড়ের মতো মোটা ধারার কথা বলা হয়েছে। |
| ✕ কলিঙ্গদেশের এই বিপর্যয়কে নিছক প্রাকৃতিক দুর্যোগ মনে করা। | ✓ এটি দেবী চণ্ডীর ইচ্ছায় সৃষ্ট মায়াবী বিপর্যয়। দেবী কলিঙ্গবাসীকে ভয় দেখিয়ে দেশত্যাগে বাধ্য করতে চেয়েছিলেন। |
| ✕ "ঈশান" কোণ বলতে যেকোনো দিক মনে করা। | ✓ ঈশান হলো উত্তর-পূর্ব কোণ। কবিতায় এই কোণ থেকেই মেঘের সঞ্চার শুরু হয়। |
Power Revision Summary
সাহিত্য: মূল তথ্য
- • উৎস: মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর 'অভয়ামঙ্গল' বা 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের 'আখেটিক খণ্ড'।
- • সময়কাল: দেবী চণ্ডীর মায়ায় টানা সাত দিন বৃষ্টি চলেছিল।
- • বিপর্যয়: ঈশান কোণে মেঘ, ঘন ঘন বিদ্যুৎ (চিকুর), এবং প্রবল বৃষ্টিতে স্থলভাগ (মহী) ডুবে পথ হারিয়ে যায়।
- • ধ্বংসলীলা: দেবীর আদেশে বীর হনুমান মঠ ও অট্টালিকা ভেঙে চুরমার করেন।
- • পরিণতি: গর্ত থেকে সাপ বেরিয়ে জলে ভাসে; প্রজারা ঘরবাড়ি ও ফসল হারিয়ে কলিঙ্গ ত্যাগ করে।
ব্যাকরণ: কুইক চেক
ধ্বনি পরিবর্তন:
শব্দ গঠন:
- উপসর্গ: শব্দের আগে বসে (উদা: প্র + হার = প্রহার)।
- অনুসর্গ: শব্দের পরে বসে বিভক্তির কাজ করে (হতে, থেকে)।
- কৃৎ প্রত্যয়: ধাতুর পরে বসে (চল্ + অন্ত = চলন্ত)।
মনে রেখো: "জলে মহী একাকার পথ হইল হারা" — এই পঙ্ক্তিটি কলিঙ্গদেশের জলমগ্ন অবস্থার চূড়ান্ত রূপ প্রকাশ করে।
Active Recall Toolkit
বিষয়: কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি (মুকুন্দরাম চক্রবর্তী)
শ্রেণী: নবম | বাংলা (প্রথম ভাষা)
১. Blind Questions (স্মৃতি পরীক্ষা)
১. 'কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
২. চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কোন খণ্ড থেকে এই অংশটি সংগৃহীত?
৩. কার ইচ্ছায় কলিঙ্গদেশে প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে এসেছিল?
৪. আকাশের কোন কোণে প্রথম মেঘের সঞ্চার হয়েছিল?
৫. 'চিকুর' শব্দের অর্থ কী?
৬. প্রজারা কেন নিজেদের রূপ দেখতে পাচ্ছিল না?
৭. বৃষ্টির ধারাকে কিসের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে?
৮. 'করভ' শব্দের আক্ষরিক অর্থ কী?
৯. প্রবল বৃষ্টির ফলে গর্ত থেকে কারা বেরিয়ে এসেছিল?
১০. দেবী চণ্ডীর আদেশে কে মঠ ও অট্টালিকা ধ্বংস করতে উদ্যত হন?
১১. কলিঙ্গদেশে একটানা কতদিন বৃষ্টি চলেছিল?
১২. 'মহী' শব্দের অর্থ কী?
১৩. 'উতরোল' শব্দের অর্থ কী?
১৪. ঝড়ের দাপটে কলিঙ্গদেশের শস্যক্ষেতের কী অবস্থা হয়েছিল?
১৫. শেষ পর্যন্ত কলিঙ্গদেশের প্রজারা কী করতে বাধ্য হয়েছিল?
২. The Feynman Method (সহজ ব্যাখ্যা)
৫ বছরের শিশুকে বোঝানোর স্ক্রিপ্ট:
"শোনো ছোট বন্ধু, অনেকদিন আগে কলিঙ্গ নামে একটা সুন্দর দেশ ছিল। সেখানে চণ্ডী মা চাইলেন একটু খেলা দেখাতে। হঠাৎ আকাশটা ঘন কালো মেঘে ঢেকে গেল, ঠিক যেমন তুমি ঘুমানোর সময় ঘরের আলো নিভিয়ে দাও। তারপর শুরু হলো খুব জোরে বৃষ্টি—কেমন বৃষ্টি জানো? হাতির শুঁড় দিয়ে যেমন জল বেরোয়, ঠিক তেমন মোটা ধারায়! চারদিক অন্ধকার হয়ে গেল, কেউ কাউকে দেখতে পাচ্ছিল না। বীর হনুমান এসে সব বড় বড় বাড়ি ভেঙে দিলেন। সাত দিন ধরে শুধু বৃষ্টি আর বৃষ্টি! শেষে মানুষজন ভয় পেয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে গেল। এটাই হলো কলিঙ্গদেশের ঝড়ের গল্প।"
৩. Spaced Repetition (স্মৃতি ঝালাইয়ের রুটিন)
- • কবিতার মূল বিষয়বস্তু ও সারসংক্ষেপ পড়ুন।
- • শব্দার্থগুলো (চিকুর, করভ, মহী) মুখস্থ করুন।
- • গুরুত্বপূর্ণ পঙ্ক্তিগুলোর ব্যাখ্যা নিজে নিজে বলার চেষ্টা করুন।
- • দেবী চণ্ডী ও হনুমানের ভূমিকাটি মনে করুন।
- • ব্লাইন্ড কোশ্চেনগুলোর উত্তর দিন।
- • ব্যাকরণ অংশের 'ধ্বনি পরিবর্তন' ও 'উপসর্গ' অংশটি ঝালাই করুন।