Smart AI Education | Study Smart

Smart AI Education

পরীক্ষার প্রস্তুতি, দ্রুত রিভিশন এবং স্মার্ট স্টাডির জন্য AI-এর জাদুকরী ব্যবহার শিখুন।

Study Smart, Not Just Hard

AI কে আপনার পার্সোনাল টিউটর হিসেবে ব্যবহার করুন। যেকোনো কঠিন বিষয় বোঝা, নোটস বানানো, কিংবা পরীক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা—সবকিছুই এখন ৩ গুণ দ্রুত!

DOWNLOAD PDF AI GUIDE
Day 1: অধ্যায় ২: মৌল, যৌগ ও রাসায়নিক বিক্রিয়া NOTES
পদার্থের প্রকৃতি
এই অধ্যায়ের নোট এবং প্রশ্ন ও উত্তর
পদার্থের প্রকৃতি - অষ্টম শ্রেণি
CLASS VIII পরিবেশ ও বিজ্ঞান

পদার্থের প্রকৃতি (Nature of Matter)

এই অধ্যায়ে আমরা পদার্থের বিভিন্ন ধর্ম, তাদের শনাক্তকরণ এবং মিশ্রণ পৃথকীকরণের পদ্ধতি সম্পর্কে জানব।

ভৌত ধর্ম (Physical Properties)

অণুর গঠন পরিবর্তন না করে যে ধর্ম পর্যবেক্ষণ বা পরিমাপ করা যায়।

  • স্পর্শ বা কঠিনতা (শক্ত/নরম)
  • গন্ধ (ন্যাপথলিন, কেরোসিন)
  • দ্রাব্যতা ও চৌম্বক ধর্ম
  • অবস্থার পরিবর্তন (তাপ প্রয়োগে)

রাসায়নিক ধর্ম (Chemical Properties)

সম্পূর্ণ নতুন পদার্থে পরিণত হওয়ার ক্ষমতা বা প্রবণতা।

  • দহন (ম্যাগনেশিয়াম তারের দহন)
  • জলের সাথে বিক্রিয়া (সোডিয়াম + জল)
  • অ্যাসিডের সাথে বিক্রিয়া (জিংক + অ্যাসিড)

🔍 বিভিন্ন পদার্থ শনাক্তকরণ

পদার্থভৌত বৈশিষ্ট্যশনাক্তকরণের উপায়
অ্যালুমিনিয়ামরুপোলি সাদা, হালকা ধাতু।অ্যাসিড বা ক্ষার উভয়ের সাথেই হাইড্রোজেন উৎপন্ন করে।
লোহাধূসর রঙের কঠিন ধাতু।চুম্বক দ্বারা আকৃষ্ট হয় এবং মরচে পড়ে।
তামালালচে আভা যুক্ত ধাতু।বিদ্যুতের সুপরিবাহী, নীল রঙের দ্রবণ তৈরি করে।
সালফারহলুদ রঙের ভঙ্গুর অধাতু।নীল শিখা এবং ঝাঁঝালো গন্ধযুক্ত গ্যাস উৎপন্ন হয়।

গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক

বরফ: $0^\circ \text{C}$ (গলনাঙ্ক)

জল: $100^\circ \text{C}$ (স্ফুটনাঙ্ক)

ঊর্ধ্বপাতন (Sublimation)

ন্যাপথলিন, কর্পূর, আয়োডিন।

দ্রবণ ও দ্রাব্যতা

দ্রবণ = দ্রাব + দ্রাবক

জল হলো সার্বজনীন দ্রাবক

সম্পৃক্ত অসম্পৃক্ত

পৃথকীকরণ পদ্ধতি

  • 🧪 ছাঁকন: বালি ও জল আলাদা করা।
  • 🔥 পাতন: বাষ্পীভূত করে বিশুদ্ধ তরল।
  • 💧 বিযোজী ফানেল: তেল ও জল।

স্পর্শ ছাড়া ক্রিয়াশীল বল

১. মহাকর্ষ বল

ভরের কারণে আকর্ষণ। যেমন: পৃথিবী বস্তুকে কেন্দ্রের দিকে টানে।

২. স্থিরতড়িৎ বল

আহিত বস্তুর আকর্ষণ। যেমন: চিরুনি ও কাগজের টুকরো।

৩. চৌম্বক বল

চুম্বক ও লোহা বা দুটি চুম্বকের মধ্যে আকর্ষণ/বিকর্ষণ।

গুরুত্বপূর্ণ ছোট প্রশ্ন (Quick Check)

তরল ধাতু: পারদ
তরল অধাতু: ব্রোমিন
সবচেয়ে হালকা গ্যাস: হাইড্রোজেন
শুষ্ক বরফ: কঠিন CO₂

তামার ওপর সবুজ আস্তরণ: বেসিক কপার কার্বনেট

পদার্থের প্রকৃতি - নোটস | WBBSE Class VIII

পদার্থের প্রকৃতি (Nature of Matter)

অষ্টম শ্রেণি | পরিবেশ ও বিজ্ঞান | অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর

Notes Tab

সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (Short Answer Questions - 20)

১. পদার্থের ভৌত ধর্ম বলতে কী বোঝো?

যেসব ধর্ম পর্যবেক্ষণ বা পরিমাপ করা যায় কিন্তু অণুর গঠন পরিবর্তন হয় না, তাদের ভৌত ধর্ম বলে।

২. একটি তরল ধাতুর নাম লেখো।

পারদ হলো একটি তরল ধাতু।

৩. একটি তরল অধাতুর নাম কী?

ব্রোমিন হলো একটি তরল অধাতু।

৪. শুষ্ক বরফ আসলে কী?

কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইডকে শুষ্ক বরফ বলা হয়।

৫. সবচেয়ে হালকা গ্যাস কোনটি?

হাইড্রোজেন হলো সবচেয়ে হালকা গ্যাস।

৬. বরফের গলনাঙ্ক কত?

বরফের গলনাঙ্ক $0^\circ \text{C}$।

৭. জলের স্ফুটনাঙ্ক কত?

জলের স্ফুটনাঙ্ক $100^\circ \text{C}$।

৮. সার্বজনীন দ্রাবক কাকে বলা হয়?

জলকে সার্বজনীন দ্রাবক বলা হয়।

৯. ঊর্ধ্বপাতন হয় এমন একটি পদার্থের নাম লেখো।

ন্যাপথলিন বা কর্পূর।

১০. দ্রবণ তৈরির সূত্রটি কী?

$\text{দ্রবণ} = \text{দ্রাব} + \text{দ্রাবক}$।

১১. চৌম্বক পদার্থ কাকে বলে?

লোহা, নিকেল, কোবাল্ট প্রভৃতি পদার্থ যা চুম্বক দ্বারা আকৃষ্ট হয়।

১২. তামার ওপর পড়া সবুজ আস্তরণটি কী?

বেসিক কপার কার্বনেট।

১৩. অমিশ্রণীয় তরল পৃথক করার যন্ত্র কোনটি?

বিযোজী ফানেল।

১৪. সালফারের বর্ণ কেমন?

সালফার হলুদ রঙের ভঙ্গুর অধাতু।

১৫. দহন কী ধরনের ধর্ম?

দহন একটি রাসায়নিক ধর্ম।

১৬. লোহার একটি ভৌত বৈশিষ্ট্য লেখো।

লোহা ধূসর রঙের কঠিন ধাতু এবং চুম্বক দ্বারা আকৃষ্ট হয়।

১৭. একটি স্পর্শ ছাড়া ক্রিয়াশীল বলের নাম লেখো।

মহাকর্ষ বল।

১৮. অসম্পৃক্ত দ্রবণ কাকে বলে?

যে দ্রবণে নির্দিষ্ট উষ্ণতায় আরও দ্রাব যোগ করা সম্ভব।

১৯. ছাঁকন পদ্ধতিতে কী আলাদা করা হয়?

তরল থেকে অদ্রাব্য কঠিন পদার্থ (যেমন— জল থেকে বালি)।

২০. তামা বিদ্যুতের কেমন পরিবাহী?

তামা বিদ্যুতের সুপরিবাহী।

দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্ন (Long Answer Questions - 20)

১. পদার্থের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের মধ্যে পার্থক্য উদাহরণসহ বুঝিয়ে লেখো।

ভৌত ধর্ম: পদার্থের যে ধর্মগুলি পর্যবেক্ষণ বা পরিমাপ করা যায় কিন্তু পদার্থের অভ্যন্তরীণ অণুর গঠন পরিবর্তন হয় না, তাদের ভৌত ধর্ম বলে। উদাহরণ: গন্ধ, দ্রাব্যতা, চৌম্বক ধর্ম।
রাসায়নিক ধর্ম: যে ধর্মের জন্য পদার্থ অন্য কোনো পদার্থের সংস্পর্শে এলে সম্পূর্ণ নতুন পদার্থে পরিণত হয়, তাকে রাসায়নিক ধর্ম বলে। উদাহরণ: ম্যাগনেশিয়াম তারের দহন বা লোহার মরচে পড়া।

২. অ্যালুমিনিয়াম ধাতু শনাক্ত করার উপায়গুলি আলোচনা করো।

অ্যালুমিনিয়াম একটি রুপোলি সাদা রঙের হালকা ধাতু। একে শনাক্ত করার প্রধান উপায় হলো এর রাসায়নিক বিক্রিয়া। অ্যালুমিনিয়াম অ্যাসিড এবং ক্ষার— উভয়ের সাথেই বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন করে। এই বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমেই পরীক্ষাগারে অ্যালুমিনিয়াম শনাক্ত করা হয়।

৩. স্পর্শ ছাড়া ক্রিয়াশীল বল বলতে কী বোঝো? এর প্রকারভেদগুলি লেখো।

যে সকল বল দুটি বস্তুর মধ্যে কোনো প্রত্যক্ষ সংযোগ বা ভৌত স্পর্শ ছাড়াই কাজ করতে পারে, তাদের স্পর্শ ছাড়া ক্রিয়াশীল বল বলে। এটি প্রধানত তিন প্রকার:
১. মহাকর্ষ বল: ভরের কারণে দুটি বস্তুর আকর্ষণ।
২. স্থিরতড়িৎ বল: দুটি আহিত বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ।
৩. চৌম্বক বল: চুম্বক ও চৌম্বক পদার্থের মধ্যে আকর্ষণ।

৪. ঊর্ধ্বপাতন কাকে বলে? উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো।

সাধারণত কঠিন পদার্থকে তাপ দিলে তা তরলে পরিণত হয়। কিন্তু কিছু পদার্থ তাপ দিলে তরল না হয়ে সরাসরি গ্যাসে পরিণত হয়, এই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে। উদাহরণস্বরূপ— ন্যাপথলিন, কর্পূর বা আয়োডিনকে খোলা বাতাসে রাখলে বা তাপ দিলে তা সরাসরি বাষ্পীভূত হয়ে যায়।

৫. দ্রবণ, দ্রাব ও দ্রাবকের মধ্যে সম্পর্ক বুঝিয়ে লেখো।

দ্রবণ হলো দ্রাব ও দ্রাবকের একটি সমসত্ত্ব মিশ্রণ।
দ্রাব: যা দ্রবণে গুলে যায় (যেমন— চিনি)।
দ্রাবক: যার মধ্যে দ্রাব গুলে যায় (যেমন— জল)।
সম্পর্কটি হলো: $\text{দ্রবণ} = \text{দ্রাব} + \text{দ্রাবক}$। জলকে এর অসাধারণ দ্রবীভূত করার ক্ষমতার জন্য সার্বজনীন দ্রাবক বলা হয়।

৬. পাতন (Distillation) পদ্ধতিটি সংক্ষেপে বর্ণনা করো।

পাতন হলো এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে কোনো তরল মিশ্রণ থেকে বিশুদ্ধ তরল পাওয়া যায়। এই পদ্ধতিতে প্রথমে তরলকে তাপ দিয়ে বাষ্পীভূত করা হয় এবং পরে সেই বাষ্পকে ঠান্ডা করে পুনরায় তরলে পরিণত (ঘনীভবন) করা হয়। এর ফলে অশুদ্ধিগুলি পাত্রে পড়ে থাকে এবং বিশুদ্ধ তরল আলাদা হয়ে যায়।

৭. সোডিয়ামের সাথে জলের বিক্রিয়ায় কী ঘটে?

সোডিয়াম একটি অত্যন্ত সক্রিয় ধাতু। এটি জলের সংস্পর্শে এলে অত্যন্ত তীব্রভাবে বিক্রিয়া করে। এই বিক্রিয়ার ফলে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয় এবং হাইড্রোজেন গ্যাস তৈরি হয়। বিক্রিয়াটি এতই দ্রুত ঘটে যে উৎপন্ন হাইড্রোজেন গ্যাসে আগুন ধরে যেতে পারে।

৮. সালফার শনাক্ত করার ভৌত ও রাসায়নিক উপায়গুলি কী কী?

ভৌত উপায়: সালফার একটি হলুদ রঙের ভঙ্গুর অধাতু।
রাসায়নিক উপায়: সালফারকে পোড়ালে নীল শিখা দেখা যায় এবং একটি তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধযুক্ত গ্যাস (সালফার ডাই-অক্সাইড) উৎপন্ন হয়।

৯. সম্পৃক্ত ও অসম্পৃক্ত দ্রবণের মধ্যে পার্থক্য করো।

সম্পৃক্ত দ্রবণ: কোনো নির্দিষ্ট উষ্ণতায় যখন কোনো দ্রাবকে আর নতুন করে দ্রাব যোগ করা সম্ভব হয় না (অর্থাৎ সর্বোচ্চ পরিমাণ দ্রাব গুলে গেছে), তাকে সম্পৃক্ত দ্রবণ বলে।
অসম্পৃক্ত দ্রবণ: যদি কোনো দ্রবণে আরও দ্রাব যোগ করলে তা গুলে যাওয়ার সুযোগ থাকে, তবে তাকে অসম্পৃক্ত দ্রবণ বলে।

১০. বিযোজী ফানেলের সাহায্যে কীভাবে তেল ও জল পৃথক করা যায়?

তেল ও জল হলো অমিশ্রণীয় তরল, অর্থাৎ এরা একে অপরের সাথে মেশে না। এদের মিশ্রণকে বিযোজী ফানেলে রেখে কিছুক্ষণ স্থিরভাবে রাখলে ঘনত্বের পার্থক্যের কারণে জল নিচে এবং তেল উপরে স্তর তৈরি করে। এরপর ফানেলের নিচের স্টপকক খুলে সাবধানে নিচের জলের স্তরটি বের করে নেওয়া হয়, ফলে তেল ফানেলে থেকে যায়।

১১. তামা বা কপার শনাক্তকরণের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।

তামা একটি লালচে আভা যুক্ত ধাতু। এটি বিদ্যুতের খুব ভালো সুপরিবাহী। রাসায়নিকভাবে তামা অ্যাসিডের সাথে বিক্রিয়া করে নীল রঙের দ্রবণ তৈরি করে। এছাড়া আর্দ্র বাতাসে দীর্ঘক্ষণ থাকলে এর ওপর বেসিক কপার কার্বনেটের সবুজ আস্তরণ পড়ে।

১২. স্থিরতড়িৎ বলের একটি বাস্তব উদাহরণ ব্যাখ্যা করো।

শুকনো চুলে প্লাস্টিকের চিরুনি দিয়ে কিছুক্ষণ আঁচড়ানোর পর চিরুনিটি ছোট ছোট কাগজের টুকরোর কাছে ধরলে দেখা যায় চিরুনিটি কাগজগুলিকে আকর্ষণ করছে। এখানে ঘর্ষণের ফলে চিরুনিতে তড়িৎ আধান সৃষ্টি হয়, যা কাগজের টুকরোর ওপর স্থিরতড়িৎ বল প্রয়োগ করে। এটি একটি স্পর্শ ছাড়া ক্রিয়াশীল বল।

১৩. গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক বলতে কী বোঝো?

গলনাঙ্ক: যে নির্দিষ্ট স্থির উষ্ণতায় কোনো কঠিন পদার্থ গলে তরলে পরিণত হতে শুরু করে, তাকে ওই পদার্থের গলনাঙ্ক বলে। যেমন— বরফের গলনাঙ্ক $0^\circ \text{C}$।
স্ফুটনাঙ্ক: যে নির্দিষ্ট স্থির উষ্ণতায় কোনো তরল পদার্থ ফুটতে শুরু করে এবং বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে স্ফুটনাঙ্ক বলে। যেমন— জলের স্ফুটনাঙ্ক $100^\circ \text{C}$।

১৪. ম্যাগনেশিয়াম তারের দহন কী ধরনের পরিবর্তন এবং কেন?

ম্যাগনেশিয়াম তারের দহন একটি রাসায়নিক পরিবর্তন বা রাসায়নিক ধর্ম। কারণ বায়ুর অক্সিজেনের উপস্থিতিতে ম্যাগনেশিয়াম জ্বলে উঠে সম্পূর্ণ নতুন ধর্মবিশিষ্ট সাদা গুঁড়ো (ম্যাগনেশিয়াম অক্সাইড) উৎপন্ন করে। এই পরিবর্তনটি স্থায়ী এবং একে সহজে আগের অবস্থায় ফেরানো যায় না।

১৫. মহাকর্ষ বল বলতে কী বোঝো? একটি উদাহরণ দাও।

মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দ্বারা আকর্ষণ করে, তাকে মহাকর্ষ বল বলে। উদাহরণস্বরূপ— পৃথিবী তার ওপর থাকা প্রতিটি বস্তুকে নিজের কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে। এই বলের কারণেই গাছ থেকে ফল মাটিতে পড়ে।

১৬. ধাতু ও অ্যাসিডের বিক্রিয়ায় কী ঘটে? জিংকের উদাহরণ দাও।

অধিকাংশ ধাতু অ্যাসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ এবং হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন করে। উদাহরণস্বরূপ— জিংক (দস্তা) লঘু সালফিউরিক অ্যাসিডের সাথে বিক্রিয়া করে জিংক সালফেট (লবণ) এবং হাইড্রোজেন গ্যাস তৈরি করে। এই হাইড্রোজেন গ্যাস বুদবুদ আকারে নির্গত হয়।

১৭. ছাঁকন (Filtration) পদ্ধতিটি কোথায় এবং কেন ব্যবহার করা হয়?

যখন কোনো তরলের মধ্যে অদ্রাব্য কঠিন পদার্থ মিশে থাকে, তখন তাদের আলাদা করতে ছাঁকন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। যেমন— জল থেকে বালি আলাদা করা। ফিল্টার পেপার বা সূক্ষ্ম ছিদ্রযুক্ত কাপড়ের মাধ্যমে মিশ্রণটি ঢাললে কঠিন কণাগুলি উপরে আটকে যায় এবং পরিষ্কার তরল নিচে জমা হয়।

১৮. লোহা শনাক্ত করার উপায় ও মরচে পড়া সম্পর্কে লেখো।

লোহা একটি ধূসর রঙের কঠিন ধাতু যা চুম্বক দ্বারা তীব্রভাবে আকৃষ্ট হয়। এটি লোহার একটি প্রধান শনাক্তকরণ বৈশিষ্ট্য। লোহার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক ধর্ম হলো আর্দ্র বাতাসের উপস্থিতিতে অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে এর ওপর লালচে বাদামী রঙের আস্তরণ পড়া, যাকে মরচে বলা হয়।

১৯. পদার্থের দ্রাব্যতা কোন কোন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে?

পদার্থের দ্রাব্যতা প্রধানত পদার্থের প্রকৃতি (দ্রাব ও দ্রাবক উভয়ের) এবং উষ্ণতার ওপর নির্ভর করে। সাধারণত উষ্ণতা বাড়লে তরলে কঠিন পদার্থের দ্রাব্যতা বৃদ্ধি পায়। যেমন— গরম জলে চিনি ঠান্ডা জলের চেয়ে দ্রুত এবং বেশি পরিমাণে গুলে যায়।

২০. চৌম্বক বলের বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।

চৌম্বক বল হলো একটি স্পর্শ ছাড়া ক্রিয়াশীল বল। এটি চুম্বক এবং চৌম্বক পদার্থের (লোহা, নিকেল, কোবাল্ট) মধ্যে কাজ করে। এই বল আকর্ষণধর্মী হতে পারে (চুম্বক ও লোহার মধ্যে) অথবা আকর্ষণ ও বিকর্ষণ উভয়ই হতে পারে (দুটি চুম্বকের সমমেরু ও বিপরীত মেরুর মধ্যে)। এটি কোনো মাধ্যম ছাড়াই কাজ করতে পারে।

© 2024 WBBSE AI Engine - পদার্থের প্রকৃতি নোটস
পদার্থের প্রকৃতি - অষ্টম শ্রেণি | WBBSE Activities
WBBSE Class VIII

পদার্থের প্রকৃতি (Nature of Matter)

অনুশীলনী ও সমাধান (Activities & Solutions)

১. গুরুত্বপূর্ণ ছোট প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন: একটি তরল ধাতুর নাম কী?

উত্তর: পারদ।

প্রশ্ন: একটি তরল অধাতুর নাম কী?

উত্তর: ব্রোমিন।

প্রশ্ন: সবচেয়ে হালকা গ্যাস কোনটি?

উত্তর: হাইড্রোজেন।

প্রশ্ন: শুষ্ক বরফ কী?

উত্তর: কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড।

প্রশ্ন: তামার ওপর যে সবুজ রঙের আস্তরণ পড়ে তাকে কী বলে?

উত্তর: বেসিক কপার কার্বনেট।

২. সংক্ষিপ্ত ও ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন: পদার্থের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর:
ভৌত ধর্ম: যে সকল ধর্ম পর্যবেক্ষণ বা পরিমাপ করা যায় কিন্তু পদার্থের অভ্যন্তরীণ অণুর গঠন পরিবর্তন হয় না (যেমন— গন্ধ, দ্রাব্যতা)।
রাসায়নিক ধর্ম: যে ধর্মের জন্য পদার্থটি অন্য কোনো পদার্থের সংস্পর্শে এলে সম্পূর্ণ নতুন পদার্থে পরিণত হয় (যেমন— দহন, অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া)।

প্রশ্ন: ঊর্ধ্বপাতন (Sublimation) বলতে কী বোঝো? উদাহরণ দাও।

উত্তর: কিছু পদার্থ কঠিন অবস্থা থেকে তাপ প্রয়োগে সরাসরি গ্যাসে পরিণত হয়, এই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে।
উদাহরণ: ন্যাপথলিন, কর্পূর, আয়োডিন।

প্রশ্ন: দ্রবণ, দ্রাব ও দ্রাবকের মধ্যে সম্পর্কটি লেখো।

উত্তর: দ্রবণ হলো দ্রাব ও দ্রাবকের সমসত্ত্ব মিশ্রণ।
গাণিতিক সম্পর্ক: দ্রবণ = দ্রাব + দ্রাবক

প্রশ্ন: স্পর্শ ছাড়া ক্রিয়াশীল বল কয়টি ও কী কী?

উত্তর: স্পর্শ ছাড়া ক্রিয়াশীল বল প্রধানত তিনটি:
১. মহাকর্ষ বল: ভরের কারণে আকর্ষণ।
২. স্থিরতড়িৎ বল: আহিত বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ।
৩. চৌম্বক বল: চুম্বক ও চৌম্বক পদার্থের মধ্যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ।

৩. পদার্থ শনাক্তকরণ ছক

পদার্থভৌত বৈশিষ্ট্যশনাক্তকরণের উপায়
অ্যালুমিনিয়ামরুপোলি সাদা, হালকা ধাতু।অ্যাসিড বা ক্ষার উভয়ের সাথেই হাইড্রোজেন উৎপন্ন করে।
লোহাধূসর রঙের কঠিন ধাতু।চুম্বক দ্বারা আকৃষ্ট হয় এবং আর্দ্র বাতাসে মরচে পড়ে।
তামালালচে আভা যুক্ত ধাতু।বিদ্যুতের সুপরিবাহী, অ্যাসিডের সাথে নীল রঙের দ্রবণ তৈরি করে।
সালফারহলুদ রঙের ভঙ্গুর অধাতু।পোড়ালে নীল শিখা এবং ঝাঁঝালো গন্ধযুক্ত গ্যাস উৎপন্ন হয়।

© WBBSE AI Engine - পরিবেশ ও বিজ্ঞান (অষ্টম শ্রেণি)

WBBSE Mock Test - পদার্থের প্রকৃতি

পদার্থের প্রকৃতি (Nature of Matter)

শ্রেণি: অষ্টম | পরিবেশ ও বিজ্ঞান (WBBSE)

Mock Test Bank
Question 1/60

Loading question...

অনলাইন মক টেস্ট: পরিবেশ ও বিজ্ঞান (অষ্টম শ্রেণী)

🎉 পরীক্ষার ফলাফল 🎉

0 / 30

পরিবেশ ও বিজ্ঞান

অধ্যায় ১: ভৌত পরিবেশ (অ্যাডভান্সড লেভেল)

শ্রেণী: অষ্টম বিষয়: বিজ্ঞান পূর্ণমান: ৩০
সময় বাকি: ১৫:০০
ক) সঠিক ধারণা প্রয়োগ করে উত্তর দাও (১ × ৬ = ৬)
১. তরলের গভীরতা (h), ঘনত্ব (d) এবং অভিকর্ষজ ত্বরণ (g) হলে, তরলের কোনো বিন্দুতে চাপ (P) হবে—
২. কোন তাপমাত্রায় সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট স্কেলের পাঠ সমান হয়?
৩. সমতল দর্পণে আলোক রশ্মি ৩০° কোণে আপতিত হলে, চ্যুতিকোণের (Deviation Angle) মান কত হবে?
৪. ০°C উষ্ণতার ১ গ্রাম বরফকে ০°C উষ্ণতার ১ গ্রাম জলে পরিণত করতে কত তাপ লাগবে?
৫. একটি বস্তু তরলে ভাসবে যদি—
৬. সদবিম্ব (Real Image) গঠন করতে পারে কোন দর্পণ?
খ) সত্য না মিথ্যা বিচার করো (২ × ৫ = ১০)
৭. পারদের ঘনত্ব ১৩.৬ গ্রাম/সেমি³ (g/cm³)।
৮. অবতল লেন্স সর্বদা বস্তুর চেয়ে আকারে ছোট এবং অসদ বিম্ব গঠন করে।
৯. সীমাস্ত ঘর্ষণ বলের মান, গতীয় ঘর্ষণ বলের মানের চেয়ে কম হয়।
১০. চাপ বাড়লে তরলের স্ফুটনাঙ্ক বৃদ্ধি পায়।
১১. চাঁদে বায়ুমণ্ডল নেই, তাই সেখানে স্ট্র (Straw) দিয়ে কোল্ড ড্রিংকস খাওয়া সম্ভব নয়।
গ) প্রতিসরাঙ্ক (Refractive Index) অনুযায়ী কম থেকে বেশি সাজাও (২ × ৫ = ১০)

মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্ক (বা আলোকীয় ঘনত্ব) অনুযায়ী ১ থেকে ৫ নম্বরে সাজাও। (সবচেয়ে লঘু মাধ্যম -> সবচেয়ে ঘন মাধ্যম)

কেরোসিন (Kerosene)
হিরে (Diamond)
বায়ু বা শূন্যস্থান (Air/Vacuum)
কাঁচ (Glass)
জল (Water)
ঘ) বুদ্ধি খাটিয়ে উত্তর দাও (২ × ২ = ৪)
১২. একটি ফাঁপা লোহার বল জলে ভাসে, কিন্তু নিরেট লোহার বল ডুবে যায়। কারণ—
১৩. পেরিস্কোপে (Periscope) দুটি সমতল দর্পণ পরস্পরের সাথে কত ডিগ্রি কোণে রাখা থাকে?
WBBSE Online Exam: পদার্থের প্রকৃতি

WBBSE Online Examination System

শ্রেণি: অষ্টম | বিষয়: পরিবেশ ও বিজ্ঞান

অধ্যায়: পদার্থের প্রকৃতি (Nature of Matter)

বিভাগ 'ক' : বহুবিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ)

বিভাগ 'খ' : সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (Descriptive)

এই অধ্যায়ের নোট এবং প্রশ্ন ও উত্তর
অধ্যায় ২: পদার্থের গঠন - WBBSE
Class VIII | পরিবেশ ও বিজ্ঞান WBBSE AI Engine

অধ্যায় ২: মৌল, যৌগ ও রাসায়নিক বিক্রিয়া

পদার্থের গঠন

এই অংশটি মৌল, যৌগ এবং পরমাণুর অভ্যন্তরীণ গঠন সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা প্রদান করে। পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা থেকে শুরু করে আধুনিক পরমাণুবাদ পর্যন্ত সব কিছু এখানে আলোচনা করা হয়েছে।

পরমাণু (Atom)

মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যার মধ্যে ওই মৌলের সমস্ত রাসায়নিক ধর্ম বজায় থাকে এবং যা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে।

বিজ্ঞানী ডেমোক্রিটাস প্রথম 'অ্যাটোমস' শব্দটি ব্যবহার করেন।

অণু (Molecule)

মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা স্বাধীনভাবে থাকতে পারে এবং যার মধ্যে ওই পদার্থের সব ধর্ম বর্তমান।

1808 জন ডালটনের পরমাণুবাদ

  • পদার্থ অত্যন্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অবিভাজ্য কণা দিয়ে গঠিত, যাদের পরমাণু বলে।

  • পরমাণুকে সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না।

  • একই মৌলের পরমাণুগুলির ভর ও রাসায়নিক ধর্ম একই।

  • ভিন্ন ভিন্ন মৌলের পরমাণুগুলির ভর ও ধর্ম ভিন্ন হয়।

  • রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় পরমাণুগুলি পূর্ণ সংখ্যার সরল অনুপাতে যুক্ত হয়ে যৌগ গঠন করে।

কণাআবিষ্কারকআধান (Charge)অবস্থান
ইলেকট্রন (e⁻)জে. জে. থমসনঋণাত্মক (-)কক্ষপথে ঘূর্ণায়মান
প্রোটন (p⁺)আর্নেস্ট রাদারফোর্ডধনাত্মক (+)নিউক্লিয়াসের ভেতরে
নিউট্রন (n)জেমস চ্যাডউইকনিস্তড়িৎ (নিরপেক্ষ)নিউক্লিয়াসের ভেতরে

নিউক্লিয়াস (Nucleus)

পরমাণুর কেন্দ্রে অবস্থিত অত্যন্ত ছোট ও ভারী অংশ। এখানে প্রোটন ও নিউট্রন থাকে।

নিউক্লিয়াস বহির্ভূত অংশ

নিউক্লিয়াসের চারপাশে বিভিন্ন কক্ষপথে ইলেকট্রনগুলি ঘোরে।

গাণিতিক সূত্র

ভরসংখ্যা (A) =

প্রোটন সংখ্যা (P) + নিউট্রন সংখ্যা (N)

নিউট্রন সংখ্যা =

A - Z (ভরসংখ্যা - পারমাণবিক সংখ্যা)

আইসোটোপ ও যোজ্যতা

  • আইসোটোপ: একই পারমাণবিক সংখ্যা কিন্তু ভিন্ন ভরসংখ্যা। (উদা: প্রোটিয়াম, ডয়টেরিয়াম, ট্রিটিয়াম)
  • যোজ্যতা: অন্য পরমাণুর সাথে যুক্ত হওয়ার ক্ষমতা। (উদা: জলের অণুতে অক্সিজেনের যোজ্যতা ২)

গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

১. পরমাণুর চার্জহীন কণা কোনটি?

উত্তর: নিউট্রন।

২. সোডিয়ামের (Na) নিউট্রন সংখ্যা কত?

উত্তর: ২৩ - ১১ = ১২ (ভরসংখ্যা - পারমাণবিক সংখ্যা)।

৩. নিউক্লিয়াস কাকে বলে?

উত্তর: পরমাণুর কেন্দ্রে অবস্থিত প্রোটন ও নিউট্রন সম্বলিত ধনাত্মক অংশ।

৪. অক্সিজেনের প্রতীক ও সংকেত কী?

উত্তর: প্রতীক O, সংকেত O₂।

© WBBSE Class VIII Science Interactive Module

অষ্টম শ্রেণি - পদার্থের গঠন নোটস

পরিবেশ ও বিজ্ঞান: অষ্টম শ্রেণি

অধ্যায় ২: মৌল, যৌগ ও রাসায়নিক বিক্রিয়া (পদার্থের গঠন)

WBBSE AI Engine - Notes Tab

20 সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (SAQ)

১. 'অ্যাটোমস' (Atoms) শব্দটি প্রথম কে ব্যবহার করেন?

উত্তর: বিজ্ঞানী ডেমোক্রিটাস প্রথম 'অ্যাটোমস' শব্দটি ব্যবহার করেন।

২. পরমাণু কাকে বলে?

উত্তর: মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যার মধ্যে ওই মৌলের সমস্ত রাসায়নিক ধর্ম বজায় থাকে এবং যা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে তাকে পরমাণু বলে।

৩. অণু বলতে কী বোঝো?

উত্তর: মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা স্বাধীনভাবে থাকতে পারে এবং যার মধ্যে ওই পদার্থের সব ধর্ম বর্তমান থাকে।

৪. জন ডালটন কত সালে পরমাণুবাদ প্রকাশ করেন?

উত্তর: ১৮০৮ সালে।

৫. পরমাণুর প্রধান দুটি অংশ কী কী?

উত্তর: ১. কেন্দ্রক বা নিউক্লিয়াস এবং ২. নিউক্লিয়াস বহির্ভূত অংশ।

৬. নিউক্লিয়াসে কোন কোন কণা থাকে?

উত্তর: প্রোটন ও নিউট্রন।

৭. ইলেকট্রন কে আবিষ্কার করেন?

উত্তর: বিজ্ঞানী জে. জে. থমসন।

৮. প্রোটন ও নিউট্রনের আবিষ্কারকের নাম লেখো।

উত্তর: প্রোটন আবিষ্কার করেন আর্নেস্ট রাদারফোর্ড এবং নিউট্রন আবিষ্কার করেন জেমস চ্যাডউইক।

৯. পরমাণুর নিস্তড়িৎ কণাটির নাম কী?

উত্তর: নিউট্রন।

১০. পারমাণবিক সংখ্যা বা পরমাণু ক্রমাঙ্ক কাকে বলে?

উত্তর: কোনো মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটন সংখ্যাকে ওই মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বলে।

১১. ভরসংখ্যা নির্ণয়ের সূত্রটি লেখো।

উত্তর: ভরসংখ্যা (A) = প্রোটন সংখ্যা (P) + নিউট্রন সংখ্যা (N)।

১২. একটি নিস্তড়িৎ পরমাণুতে কোন দুটি কণার সংখ্যা সমান হয়?

উত্তর: প্রোটন সংখ্যা ও ইলেকট্রন সংখ্যা।

১৩. আইসোটোপ কাকে বলে?

উত্তর: একই মৌলের ভিন্ন ভিন্ন পরমাণু যাদের পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা আলাদা, তাদের আইসোটোপ বলে।

১৪. হাইড্রোজেনের তিনটি আইসোটোপের নাম লেখো।

উত্তর: প্রোটিয়াম, ডয়টেরিয়াম এবং ট্রিটিয়াম।

১৫. যোজ্যতা কাকে বলে?

উত্তর: একটি মৌলের পরমাণু অপর একটি মৌলের পরমাণুর সাথে যুক্ত হওয়ার ক্ষমতাকে যোজ্যতা বলে।

১৬. জলের অণুতে অক্সিজেনের যোজ্যতা কত?

উত্তর: ২ (যেহেতু একটি অক্সিজেন দুটি হাইড্রোজেনের সাথে যুক্ত)।

১৭. প্রতীক ও সংকেতের মধ্যে একটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর: প্রতীক হলো মৌলের নামের সংক্ষিপ্ত রূপ, আর সংকেত হলো অণুর সংক্ষিপ্ত প্রকাশ।

১৮. গ্লুকোজের সংকেত কী?

উত্তর: C₆H₁₂O₆।

১৯. সোডিয়ামের (Na) প্রোটন সংখ্যা ১১ ও ভরসংখ্যা ২৩ হলে নিউট্রন সংখ্যা কত?

উত্তর: নিউট্রন সংখ্যা = ২৩ - ১১ = ১২।

২০. অক্সিজেনের প্রতীক ও অণুর সংকেত লেখো।

উত্তর: প্রতীক: O, সংকেত: O₂।

20 দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্ন (LAQ)

১. ডালটনের পরমাণুবাদের মূল নীতিগুলি আলোচনা করো।

উত্তর: ১৮০৮ সালে জন ডালটন পরমাণু সম্পর্কে পাঁচটি প্রধান মতবাদ দেন: ১. পদার্থ অত্যন্ত ক্ষুদ্র অবিভাজ্য কণা 'পরমাণু' দিয়ে গঠিত। ২. পরমাণুকে সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না। ৩. একই মৌলের পরমাণুগুলির ভর ও রাসায়নিক ধর্ম অভিন্ন। ৪. ভিন্ন মৌলের পরমাণুর ভর ও ধর্ম ভিন্ন হয়। ৫. রাসায়নিক বিক্রিয়ায় পরমাণুগুলি সরল অনুপাতে যুক্ত হয়ে যৌগ গঠন করে।

২. পরমাণুর অভ্যন্তরীণ গঠন চিত্রসহ বর্ণনা করো (তাত্ত্বিক)।

উত্তর: আধুনিক বিজ্ঞান অনুযায়ী পরমাণু দুটি অংশে বিভক্ত। ১. কেন্দ্রক বা নিউক্লিয়াস: এটি পরমাণুর কেন্দ্রে অবস্থিত অত্যন্ত ভারী অংশ যেখানে ধনাত্মক প্রোটন ও নিস্তড়িৎ নিউট্রন থাকে। ২. নিউক্লিয়াস বহির্ভূত অংশ: নিউক্লিয়াসের চারপাশে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঋণাত্মক আধানযুক্ত ইলেকট্রনগুলি অনবরত ঘুরতে থাকে।

৩. ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রনের তুলনামূলক আলোচনা করো।

উত্তর: ইলেকট্রন ঋণাত্মক আধানযুক্ত এবং কক্ষপথে থাকে। প্রোটন ধনাত্মক আধানযুক্ত এবং নিউক্লিয়াসে থাকে। নিউট্রন নিস্তড়িৎ বা আধানহীন এবং নিউক্লিয়াসে থাকে। ইলেকট্রন আবিষ্কার করেন থমসন, প্রোটন রাদারফোর্ড এবং নিউট্রন চ্যাডউইক।

৪. পারমাণবিক সংখ্যা ও ভরসংখ্যার মধ্যে সম্পর্ক বুঝিয়ে লেখো।

উত্তর: কোনো মৌলের প্রোটন সংখ্যাই হলো তার পারমাণবিক সংখ্যা (Z)। প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যার সমষ্টি হলো ভরসংখ্যা (A)। সুতরাং, ভরসংখ্যা (A) = পারমাণবিক সংখ্যা (Z) + নিউট্রন সংখ্যা (N)। এই সম্পর্ক থেকে আমরা নিউট্রন সংখ্যা (A - Z) নির্ণয় করতে পারি।

৫. হাইড্রোজেনের আইসোটোপগুলি সংকেতসহ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: হাইড্রোজেনের তিনটি আইসোটোপ হলো: ১. প্রোটিয়াম ($^1_1H$): এতে ১টি প্রোটন আছে, নিউট্রন নেই। ২. ডয়টেরিয়াম ($^2_1H$): এতে ১টি প্রোটন ও ১টি নিউট্রন আছে। ৩. ট্রিটিয়াম ($^3_1H$): এতে ১টি প্রোটন ও ২টি নিউট্রন আছে। এদের প্রত্যেকের পারমাণবিক সংখ্যা ১ কিন্তু ভরসংখ্যা আলাদা।

৬. পরমাণু কেন নিস্তড়িৎ হয়? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যতগুলি ধনাত্মক আধানযুক্ত প্রোটন থাকে, নিউক্লিয়াসের বাইরে ঠিক ততগুলিই ঋণাত্মক আধানযুক্ত ইলেকট্রন থাকে। প্রোটন ও ইলেকট্রনের আধানের মান সমান ও বিপরীত হওয়ায় তারা একে অপরকে প্রশমিত করে, ফলে সামগ্রিকভাবে পরমাণুটি নিস্তড়িৎ হয়।

৭. যোজ্যতা পরিমাপের পদ্ধতি উদাহরণসহ লেখো।

উত্তর: সাধারণত হাইড্রোজেনের যোজ্যতাকে ১ ধরে অন্য মৌলের যোজ্যতা মাপা হয়। কোনো মৌলের একটি পরমাণু যতগুলি হাইড্রোজেন পরমাণুর সাথে যুক্ত হতে পারে, সেটিই তার যোজ্যতা। যেমন— জলের অণুতে (H₂O) ১টি অক্সিজেন পরমাণু ২টি হাইড্রোজেন পরমাণুর সাথে যুক্ত হয়, তাই অক্সিজেনের যোজ্যতা ২।

৮. অণু ও পরমাণুর মধ্যে তিনটি প্রধান পার্থক্য লেখো।

উত্তর: ১. পরমাণু মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা, অণু মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা। ২. পরমাণু সাধারণত স্বাধীনভাবে থাকতে পারে না (নিষ্ক্রিয় গ্যাস বাদে), কিন্তু অণু স্বাধীনভাবে থাকতে পারে। ৩. পরমাণু রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে, অণু সরাসরি অংশগ্রহণ করে না (প্রথমে পরমাণুতে ভাঙে)।

৯. নিউক্লিয়াসকে পরমাণুর 'ভারী অংশ' বলা হয় কেন?

উত্তর: পরমাণুর তিনটি মূল কণার মধ্যে প্রোটন ও নিউট্রনের ভর ইলেকট্রনের তুলনায় অনেক বেশি। এই প্রোটন ও নিউট্রন পরমাণুর কেন্দ্রে বা নিউক্লিয়াসে অবস্থান করে। ইলেকট্রনের ভর নগণ্য হওয়ায় পরমাণুর প্রায় সমস্ত ভরই নিউক্লিয়াসে কেন্দ্রীভূত থাকে, তাই একে ভারী অংশ বলা হয়।

১০. প্রতীক ও সংকেতের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করো।

উত্তর: প্রতীক ও সংকেত রসায়নকে সহজতর করে। প্রতীকের মাধ্যমে একটি মৌলকে সংক্ষেপে চেনা যায় (যেমন অক্সিজেনের জন্য O)। সংকেতের মাধ্যমে একটি পদার্থের অণুতে কোন কোন মৌল কত পরিমাণে আছে তা বোঝা যায় ( যেমন H₂O মানে ২ ভাগ হাইড্রোজেন ও ১ ভাগ অক্সিজেন)। এটি রাসায়নিক সমীকরণ লিখতেও সাহায্য করে।

১১. পারমাণবিক সংখ্যাকে মৌলের 'পরিচয়পত্র' বলা হয় কেন?

উত্তর: প্রতিটি মৌলের পরমাণুতে প্রোটন সংখ্যা বা পারমাণবিক সংখ্যা নির্দিষ্ট। প্রোটন সংখ্যা পরিবর্তিত হলে মৌলটিই বদলে যায়। ভরসংখ্যা বা নিউট্রন সংখ্যা আলাদা হলেও (আইসোটোপের ক্ষেত্রে) মৌলের রাসায়নিক ধর্ম মূলত পারমাণবিক সংখ্যার ওপর নির্ভর করে। তাই একে মৌলের অনন্য পরিচয় বলা হয়।

১২. ডালটনের পরমাণুবাদের সীমাবদ্ধতা বা আধুনিক ধারণা কী?

উত্তর: ডালটন বলেছিলেন পরমাণু অবিভাজ্য, কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞানে দেখা গেছে পরমাণু ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন দ্বারা গঠিত। আবার তিনি বলেছিলেন একই মৌলের পরমাণুর ভর এক, কিন্তু আইসোটোপ আবিষ্কারের ফলে দেখা গেছে একই মৌলের পরমাণুর ভর ভিন্ন হতে পারে।

১৩. নিউট্রন সংখ্যা কীভাবে নির্ণয় করবে? একটি উদাহরণের সাহায্যে দেখাও।

উত্তর: নিউট্রন সংখ্যা নির্ণয় করতে ভরসংখ্যা থেকে পারমাণবিক সংখ্যা বিয়োগ করতে হয়। উদাহরণ: সোডিয়ামের ভরসংখ্যা ২৩ এবং পারমাণবিক সংখ্যা ১১। অতএব, সোডিয়ামের নিউট্রন সংখ্যা = (২৩ - ১১) = ১২।

১৪. আইসোটোপের ক্ষেত্রে প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যার কী পরিবর্তন ঘটে?

উত্তর: আইসোটোপের ক্ষেত্রে প্রোটন সংখ্যা বা পারমাণবিক সংখ্যা সর্বদা একই থাকে। কিন্তু নিউক্লিয়াসে নিউট্রন সংখ্যার ভিন্নতার কারণে এদের ভরসংখ্যা আলাদা হয়ে যায়। যেমন কার্বনের বিভিন্ন আইসোটোপে প্রোটন ৬টিই থাকে, কিন্তু নিউট্রন ৬, ৭ বা ৮টি হতে পারে।

১৫. রাসায়নিক বিক্রিয়ায় পরমাণুর ভূমিকা ডালটনের মতে কী ছিল?

উত্তর: ডালটনের মতে, রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় বিভিন্ন মৌলের পরমাণুগুলি ধ্বংস হয় না বা নতুন করে সৃষ্টি হয় না। তারা কেবল একে অপরের থেকে আলাদা হয় বা পূর্ণ সংখ্যার সরল অনুপাতে পুনর্সংগঠিত হয়ে নতুন যৌগিক পদার্থ গঠন করে।

১৬. ইলেকট্রন কক্ষপথ বলতে কী বোঝো?

উত্তর: পরমাণুর নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে ঋণাত্মক আধানযুক্ত ইলেকট্রনগুলি যে নির্দিষ্ট পথে ঘোরে, তাদের কক্ষপথ বলে। এই কক্ষপথগুলিতে ইলেকট্রনগুলি সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো থাকে এবং নিউক্লিয়াসের আকর্ষণে আবদ্ধ থাকে।

১৭. কোনো মৌলের ভরসংখ্যা ৪০ এবং পারমাণবিক সংখ্যা ২০ হলে তার গঠন ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: মৌলটির পারমাণবিক সংখ্যা ২০, অর্থাৎ এতে ২০টি প্রোটন আছে। যেহেতু পরমাণুটি নিস্তড়িৎ, তাই এতে ২০টি ইলেকট্রন আছে। মৌলটির নিউট্রন সংখ্যা = ভরসংখ্যা - পারমাণবিক সংখ্যা = ৪০ - ২০ = ২০। অর্থাৎ পরমাণুটির নিউক্লিয়াসে ২০টি প্রোটন ও ২০টি নিউট্রন আছে এবং বাইরে ২০টি ইলেকট্রন আছে।

১৮. যোজ্যতা ও সংকেত লেখার মধ্যে সম্পর্ক কী?

উত্তর: কোনো যৌগের সংকেত লেখার সময় মৌলগুলির যোজ্যতা বিনিময় হয়। যদি একটি মৌল A-এর যোজ্যতা x এবং B-এর যোজ্যতা y হয়, তবে তাদের দ্বারা গঠিত যৌগের সংকেত হবে AᵧBₓ। যোজ্যতাই নির্ধারণ করে একটি পরমাণু অপর কতগুলি পরমাণুর সাথে যুক্ত হবে।

১৯. ডেমোক্রিটাসের পরমাণু ভাবনাটি সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর: প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস মনে করতেন যে পদার্থকে ভাঙতে ভাঙতে এমন এক অবস্থায় পৌঁছানো যাবে যখন তাকে আর ভাঙা সম্ভব নয়। তিনি এই অবিভাজ্য কণার নাম দিয়েছিলেন 'অ্যাটোমস' (Atoms), যার অর্থ হলো 'যাকে আর কাটা যায় না'।

২০. নিউক্লিয়াস বহির্ভূত অংশে ইলেকট্রনের অবস্থান বর্ণনা করো।

উত্তর: পরমাণুর নিউক্লিয়াসের বাইরে বিশাল ফাঁকা জায়গা থাকে। এই অংশে ইলেকট্রনগুলি বিভিন্ন কক্ষপথে নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে ঘোরে। ইলেকট্রনের সংখ্যা মৌলের পারমাণবিক সংখ্যার সমান হয়। এই ইলেকট্রনগুলিই রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে পরমাণুর যোজ্যতা নির্ধারণ করে।

© 2024 WBBSE AI Engine - শিক্ষামূলক নোটস (অষ্টম শ্রেণি)
WBBSE Class 8 Science - Chapter 2 Activities
WBBSE AI Engine

অধ্যায় ২: মৌল, যৌগ ও রাসায়নিক বিক্রিয়া

পদার্থের গঠন - অনুশীলনী ও ক্রিয়াকলাপ

১. ডালটনের পরমাণুবাদ ও প্রাথমিক ধারণা

প্রশ্ন ১: পরমাণু ও অণুর মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?

উত্তর:
পরমাণু: মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে কিন্তু স্বাধীনভাবে থাকতে পারে না (ব্যতিক্রম নিষ্ক্রিয় গ্যাস)।
অণু: মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা স্বাধীনভাবে থাকতে পারে এবং যার মধ্যে পদার্থের সব ধর্ম বজায় থাকে।

প্রশ্ন ২: ডালটনের পরমাণুবাদের প্রধান তিনটি স্বীকার্য লেখো।

উত্তর: ডালটনের পরমাণুবাদ অনুযায়ী:
১. পদার্থ অত্যন্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অবিভাজ্য কণা দিয়ে গঠিত, যাদের পরমাণু বলে।
২. পরমাণুকে সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না।
৩. একই মৌলের পরমাণুগুলির ভর ও রাসায়নিক ধর্ম একই হয়।

২. পরমাণুর গঠন ও স্থায়ী কণাসমূহ

প্রশ্ন: পরমাণুর প্রধান তিনটি কণার বৈশিষ্ট্য একটি সারণির মাধ্যমে দেখাও।

কণাআবিষ্কারকআধান (Charge)অবস্থান
ইলেকট্রন (e⁻)জে. জে. থমসনঋণাত্মক (-)নিউক্লিয়াসের বাইরে কক্ষপথে
প্রোটন (p⁺)আর্নেস্ট রাদারফোর্ডধনাত্মক (+)নিউক্লিয়াসের ভেতরে
নিউট্রন (n)জেমস চ্যাডউইকনিস্তড়িৎ (০)নিউক্লিয়াসের ভেতরে

৩. গাণিতিক সমস্যা ও সমাধান

প্রশ্ন ১: সোডিয়ামের (Na) পারমাণবিক সংখ্যা ১১ এবং ভরসংখ্যা ২৩ হলে নিউট্রন সংখ্যা কত?

সমাধান:
আমরা জানি, নিউট্রন সংখ্যা = ভরসংখ্যা (A) - পারমাণবিক সংখ্যা (Z)
এখানে, ভরসংখ্যা (A) = ২৩ এবং পারমাণবিক সংখ্যা (Z) = ১১
অতএব, নিউট্রন সংখ্যা = ২৩ - ১১ = ১২

প্রশ্ন ২: একটি নিস্তড়িৎ পরমাণুতে প্রোটন ও ইলেকট্রন সংখ্যার সম্পর্ক কী?

উত্তর: একটি নিস্তড়িৎ পরমাণুতে প্রোটন সংখ্যা ও ইলেকট্রন সংখ্যা সমান হয়।

৪. আইসোটোপ ও যোজ্যতা

প্রশ্ন ১: হাইড্রোজেনের তিনটি আইসোটোপের নাম ও তাদের সংকেত লেখো।

  • প্রোটিয়াম বা সাধারণ হাইড্রোজেন: 11H
  • ডয়টেরিয়াম: 21H
  • ট্রিটিয়াম: 31H

প্রশ্ন ২: জলের অণুতে (H₂O) অক্সিজেনের যোজ্যতা ২ কেন?

উত্তর: যোজ্যতা হলো একটি মৌলের পরমাণুর অন্য মৌলের পরমাণুর সাথে যুক্ত হওয়ার ক্ষমতা। জলের অণুতে একটি অক্সিজেন পরমাণু দুটি হাইড্রোজেন পরমাণুর সাথে যুক্ত থাকে। যেহেতু হাইড্রোজেনের যোজ্যতা ১ ধরা হয়, তাই অক্সিজেনের যোজ্যতা এখানে

৫. সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (এক কথায়)

প্রশ্ন: পরমাণুর চার্জহীন কণা কোনটি?

উত্তর: নিউট্রন।

প্রশ্ন: 'অ্যাটোমস' শব্দটি প্রথম কে ব্যবহার করেন?

উত্তর: বিজ্ঞানী ডেমোক্রিটাস।

প্রশ্ন: নিউক্লিয়াস কী দিয়ে গঠিত?

উত্তর: প্রোটন ও নিউট্রন।

প্রশ্ন: গ্লুকোজের সংকেত কী?

উত্তর: C₆H₁₂O₆

© WBBSE AI Engine - Class VIII Science Study Material

WBBSE Mock Test - পদার্থের গঠন

WBBSE AI Engine

অষ্টম শ্রেণি | পরিবেশ ও বিজ্ঞান

অধ্যায় ২: পদার্থের গঠন (মৌল, যৌগ ও রাসায়নিক বিক্রিয়া)

00:00
প্রশ্ন সংখ্যা: 1/60

WBBSE Online Exam: পদার্থের গঠন

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE)

অনলাইন মূল্যায়ন: ২০২৪

শ্রেণি: অষ্টম বিষয়: পরিবেশ ও বিজ্ঞান অধ্যায়: পদার্থের গঠন

বহুবিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) - ১০টি

১. 'অ্যাটোমস' (Atoms) শব্দটি প্রথম কে ব্যবহার করেন?

২. পরমাণুর চার্জহীন বা নিস্তড়িৎ কণা কোনটি?

৩. ইলেকট্রন কে আবিষ্কার করেন?

৪. পরমাণুর নিউক্লিয়াসে কোন কোন কণা থাকে?

৫. হাইড্রোজেনের কোন আইসোটোপটি 'ডয়টেরিয়াম' নামে পরিচিত?

৬. জলের অণুতে (H₂O) অক্সিজেনের যোজ্যতা কত?

৭. সোডিয়ামের (Na) পারমাণবিক সংখ্যা ১১ এবং ভরসংখ্যা ২৩ হলে নিউট্রন সংখ্যা কত?

৮. গ্লুকোজের সঠিক সংকেত কোনটি?

৯. ডালটনের পরমাণুবাদ কত সালে প্রকাশিত হয়?

১০. একটি নিস্তড়িৎ পরমাণুতে কোন দুটি কণার সংখ্যা সমান হয়?

সংক্ষিপ্ত ও দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্ন - ১০টি

১১. পরমাণু ও অণুর মধ্যে প্রধান দুটি পার্থক্য লেখো।

১২. ডালটনের পরমাণুবাদের যেকোনো তিনটি প্রধান স্বীকার্য উল্লেখ করো।

১৩. পরমাণুর নিউক্লিয়াস কাকে বলে? এর আধান কী রূপ?

১৪. পারমাণবিক সংখ্যা ও ভরসংখ্যার মধ্যে সম্পর্কটি সূত্রের আকারে দেখাও।

১৫. আইসোটোপ কাকে বলে? হাইড্রোজেনের তিনটি আইসোটোপের নাম লেখো।

১৬. যোজ্যতা বলতে কী বোঝো? একটি উদাহরণের সাহায্যে ব্যাখ্যা করো।

১৭. প্রতীক ও সংকেতের মধ্যে পার্থক্য কী? উদাহরণ দাও।

১৮. পরমাণুর স্থায়ী মূল কণিকাগুলির নাম, আবিষ্কারক এবং আধানের প্রকৃতি একটি ছকের মাধ্যমে দেখাও।

১৯. পরমাণুর গঠন সম্পর্কে আধুনিক বিজ্ঞানের ধারণা সংক্ষেপে আলোচনা করো।

২০. কোনো মৌলের পরমাণু ক্রমাঙ্কই হলো তার আসল পরিচয়— উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।

এই অধ্যায়ের নোট এবং প্রশ্ন ও উত্তর
বল ও চাপ - অষ্টম শ্রেণি
Class VIII • পরিবেশ ও বিজ্ঞান

বল ও চাপ (Force and Pressure)

সুপ্রভাত ছাত্র-ছাত্রীরা! আজ আমরা আমাদের চারপাশের ভৌত জগতের দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধারণা— বল এবং চাপ নিয়ে আলোচনা করব। এই দুটি বিষয় বুঝলে আমরা দৈনন্দিন জীবনের অনেক বৈজ্ঞানিক ঘটনা সহজে ব্যাখ্যা করতে পারব।

বল (Force)

বল হলো এমন একটি প্রভাব যা কোনো বস্তুর গতি, দিক বা আকার পরিবর্তন করতে পারে।

বলের প্রভাবসমূহ:

  • স্থির বস্তুকে চলমান করতে পারে
  • চলমান বস্তুকে থামাতে পারে
  • বস্তুর গতির দিক পরিবর্তন করতে পারে
  • বস্তুর আকার পরিবর্তন করতে পারে
দরজা ঠেলা/টানা ফুটবল কিক রাবার ব্যান্ড টানা

তরল ও গ্যাসে চাপ

💧

তরলে চাপ

গভীরতা বাড়লে চাপও বাড়ে। তাই বাঁধের নীচের অংশ বেশি শক্ত হয়।

🎈

গ্যাসে চাপ

গ্যাস সবদিকে সমানভাবে চাপ দেয়। যেমন: বেলুন ফোলালে তার আকার বৃদ্ধি পায়।

চাপ (Pressure)

চাপ হলো একক ক্ষেত্রফলের উপর প্রয়োগিত বলের পরিমাণ।

গাণিতিক সূত্র

চাপ = বল ÷ ক্ষেত্রফল

ক্ষেত্রফল কম হলে

চাপ বেশি হয় ↑

ক্ষেত্রফল বেশি হলে

চাপ কম হয় ↓

বাস্তব উদাহরণ

  • ধারালো ছুরি: ক্ষেত্রফল কম হওয়ায় সহজে সবজি কাটা যায়।

  • উঁচু হিল: সরু হিলের ক্ষেত্রফল কম বলে মাটিতে বেশি দেবে যায়।

  • চওড়া জুতো: ক্ষেত্রফল বেশি হওয়ায় মাটিতে কম দেবে যায়।

উপসংহার

বল ও চাপ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। এই দুটি ধারণা বুঝলে প্রাকৃতিক ও বৈজ্ঞানিক ঘটনাগুলি সহজে ব্যাখ্যা করা যায়।

বল ও চাপ - নোটস | Class VIII
WBBSE AI Engine • Class VIII

পরিবেশ ও বিজ্ঞান: বল ও চাপ

অধ্যায় ভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (নোটস)

S

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (Short Answer Questions)

১. বল কাকে বলে?

উত্তর: বল হলো এমন একটি প্রভাব যা কোনো বস্তুর গতি, দিক বা আকার পরিবর্তন করতে পারে।

২. বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তুর অবস্থা কী হয়?

উত্তর: বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থিরই থাকে।

৩. বলের একটি উদাহরণ দাও যেখানে বস্তুর আকার পরিবর্তন হয়।

উত্তর: রাবার ব্যান্ড টানা বলের প্রভাবে আকার পরিবর্তনের একটি উদাহরণ।

৪. চাপের সংজ্ঞা দাও।

উত্তর: একক ক্ষেত্রফলের উপর প্রয়োগিত বলের পরিমাণকে চাপ বলে।

৫. চাপের গাণিতিক সূত্রটি কী?

উত্তর: চাপ = বল ÷ ক্ষেত্রফল।

৬. ক্ষেত্রফল কমলে চাপের কী পরিবর্তন হয়?

উত্তর: ক্ষেত্রফল কমলে চাপের মান বৃদ্ধি পায়।

৭. ক্ষেত্রফল বাড়লে চাপের কী পরিবর্তন হয়?

উত্তর: ক্ষেত্রফল বাড়লে চাপের মান কমে যায়।

৮. ধারালো ছুরি দিয়ে কাটা সহজ কেন?

উত্তর: ধারালো ছুরির অগ্রভাগের ক্ষেত্রফল কম হওয়ায় অল্প বলেই বেশি চাপ সৃষ্টি হয়, তাই কাটা সহজ হয়।

৯. উঁচু হিলের জুতো মাটিতে বেশি দেবে যায় কেন?

উত্তর: উঁচু হিলের ক্ষেত্রফল খুব কম হওয়ায় মাটির ওপর চাপের পরিমাণ অনেক বেশি হয়।

১০. চওড়া জুতোর তলা মাটিতে কম দেবে যায় কেন?

উত্তর: চওড়া জুতোর তলার ক্ষেত্রফল বেশি হওয়ায় মাটির ওপর চাপের পরিমাণ কমে যায়।

১১. তরলের চাপের সাথে গভীরতার সম্পর্ক কী?

উত্তর: তরলের মধ্যে গভীরতা বাড়লে চাপের পরিমাণও বাড়ে।

১২. বাঁধের নীচের অংশ কেন বেশি শক্ত করে তৈরি করা হয়?

উত্তর: গভীরতা বাড়লে তরলের চাপ বাড়ে, তাই সেই চাপ সহ্য করার জন্য বাঁধের নীচের অংশ শক্ত করা হয়।

১৩. গ্যাস কোন দিকে চাপ প্রয়োগ করে?

উত্তর: গ্যাস সবদিকে সমানভাবে চাপ প্রয়োগ করে।

১৪. বেলুন ফোলালে তার আকার বড় হয় কেন?

উত্তর: বেলুনের ভেতরে থাকা গ্যাসের চাপের কারণে বেলুনের আকার বড় হয়।

১৫. বলের প্রভাবে গতির দিক পরিবর্তনের একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: ফুটবল খেলার সময় চলন্ত বলে কিক করে তার গতির দিক পরিবর্তন করা যায়।

১৬. স্থির বস্তুকে চলমান করতে কী প্রয়োজন?

উত্তর: স্থির বস্তুকে চলমান করতে বল প্রয়োগের প্রয়োজন।

১৭. সমবেগে সরলরেখায় চলা বস্তুর ওপর বল প্রয়োগ না করলে কী হবে?

উত্তর: বস্তুটি সমবেগে সরলরেখাতেই চলতে থাকবে।

১৮. দরজার হাতল ধরে টানা কিসের উদাহরণ?

উত্তর: এটি বল প্রয়োগের একটি উদাহরণ।

১৯. একই বল ভিন্ন ক্ষেত্রফলে প্রয়োগ করলে চাপের মান কেমন হবে?

উত্তর: চাপের মান ভিন্ন হবে (ক্ষেত্রফল কমলে চাপ বাড়বে, ক্ষেত্রফল বাড়লে চাপ কমবে)।

২০. বল ও চাপের মধ্যে মূল সম্পর্কটি কী?

উত্তর: বল বাড়লে চাপ বাড়ে এবং ক্ষেত্রফল কমলে চাপ বাড়ে।

L

দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্ন (Long Answer Questions)

১. বলের বিভিন্ন প্রভাবগুলি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করো।

উত্তর: বলের প্রভাবগুলি অত্যন্ত বহুমুখী। প্রথমত, বল কোনো স্থির বস্তুকে গতিশীল করতে পারে, যেমন স্থির ফুটবলকে কিক করলে সেটি চলতে শুরু করে। দ্বিতীয়ত, এটি কোনো চলমান বস্তুকে থামাতে পারে। তৃতীয়ত, বল প্রয়োগের মাধ্যমে কোনো বস্তুর গতির দিক পরিবর্তন করা সম্ভব। চতুর্থত, বল প্রয়োগ করে কোনো বস্তুর আকার বা আকৃতির পরিবর্তন ঘটানো যায়, যেমন একটি রাবার ব্যান্ডকে টানলে তার আকার লম্বা হয়ে যায়।

২. চাপের ধারণাটি উদাহরণের সাহায্যে ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: চাপ হলো একক ক্ষেত্রফলের ওপর প্রযুক্ত বল। এটি বল এবং ক্ষেত্রফল উভয়ের ওপর নির্ভর করে। উদাহরণস্বরূপ, একটি ধারালো ছুরি এবং একটি ভোঁতা ছুরির কথা ভাবা যেতে পারে। ধারালো ছুরির অগ্রভাগের ক্ষেত্রফল খুব কম হওয়ায় অল্প বল প্রয়োগ করলেও সেখানে চাপের মান অনেক বেশি হয়, ফলে সবজি বা ফল সহজে কাটা যায়। অন্যদিকে, ভোঁতা ছুরির ক্ষেত্রফল বেশি হওয়ায় একই বল প্রয়োগ করলেও চাপের মান কম হয় এবং কাটা কঠিন হয়ে পড়ে।

৩. তরলের চাপের বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।

উত্তর: তরলের চাপের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো গভীরতার সাথে এর বৃদ্ধি। তরলের যত গভীরে যাওয়া যায়, তার ওপরের স্তরের তরলের ওজন তত বাড়ে, ফলে চাপের পরিমাণও বৃদ্ধি পায়। এই কারণেই নদী বা সমুদ্রের বাঁধের নিচের অংশ অনেক বেশি চওড়া ও শক্তিশালী করে তৈরি করা হয় যাতে গভীর জলের প্রচণ্ড চাপ সহ্য করতে পারে। এছাড়া তরল পাত্রের দেওয়ালে সবদিকে চাপ প্রয়োগ করে।

৪. গ্যাসের চাপের প্রকৃতি এবং বেলুন ফোলানোর উদাহরণটি বুঝিয়ে লেখো।

উত্তর: গ্যাসীয় পদার্থ যে পাত্রে থাকে তার দেওয়ালে সবদিকে সমানভাবে চাপ প্রয়োগ করে। যখন আমরা একটি বেলুন ফোলাই, তখন আমাদের মুখ থেকে নির্গত বায়ু বেলুনের ভেতরে প্রবেশ করে এবং বেলুনের ভেতরের দেওয়ালে চাপ দিতে থাকে। এই বায়ুর চাপের কারণেই বেলুনটি চারদিকে সমানভাবে প্রসারিত হয় এবং আকারে বড় হয়। যদি কোনো একদিকের চাপ বেশি হতো, তবে বেলুনটি সুষমভাবে ফুলত না।

৫. "চাপ ক্ষেত্রফলের ওপর ব্যস্তানুপাতে নির্ভরশীল" - ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: চাপের সূত্র অনুযায়ী, চাপ = বল ÷ ক্ষেত্রফল। এখান থেকে বোঝা যায় যে যদি প্রযুক্ত বল স্থির থাকে, তবে ক্ষেত্রফল যত কমবে, চাপের মান তত বাড়বে। আবার ক্ষেত্রফল যত বাড়বে, চাপের মান তত কমবে। এই কারণেই উঁচু হিলের জুতোর তলার ক্ষেত্রফল কম হওয়ায় তা মাটিতে বেশি চাপ দেয় এবং দেবে যায়, কিন্তু চওড়া জুতোর তলার ক্ষেত্রফল বেশি হওয়ায় তা মাটিতে কম চাপ দেয় এবং সহজে দেবে যায় না।

৬. দৈনন্দিন জীবনে বলের তিনটি প্রয়োগ উদাহরণসহ লেখো।

উত্তর: ১) দরজা খোলা বা বন্ধ করার সময় আমরা হাতল ধরে ঠেলা বা টানি, যা বলের প্রয়োগ। ২) ফুটবল খেলার সময় খেলোয়াড়রা বলের ওপর কিক করে বলকে গতিশীল করে বা তার দিক পরিবর্তন করে। ৩) কোনো রাবার ব্যান্ড বা স্প্রিংকে টানলে তার আকার পরিবর্তন হয়, যা বলের প্রভাবে ঘটে। এই উদাহরণগুলি প্রমাণ করে যে বল আমাদের দৈনন্দিন কাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

৭. বাঁধের নকশা করার সময় কেন তরলের চাপের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়?

উত্তর: তরলের একটি ধর্ম হলো গভীরতা বাড়লে তার চাপ বৃদ্ধি পায়। বাঁধের ক্ষেত্রে জলের উপরিভাগের তুলনায় তলদেশের গভীরতা অনেক বেশি থাকে। ফলে বাঁধের নিচের অংশে জলের চাপ অত্যন্ত প্রবল হয়। যদি বাঁধের নিচের অংশ উপরের মতো পাতলা রাখা হয়, তবে জলের চাপে বাঁধটি ভেঙে যেতে পারে। তাই বাঁধের নিচের অংশকে অনেক বেশি চওড়া ও মজবুত করে তৈরি করা হয়।

৮. বল ও চাপের মধ্যে পার্থক্য বুঝিয়ে লেখো।

উত্তর: বল হলো কোনো বস্তুর ওপর বাহ্যিক প্রভাব যা বস্তুর স্থিতি বা গতিশীল অবস্থার পরিবর্তন ঘটায়। অন্যদিকে, চাপ হলো একক ক্ষেত্রফলের ওপর প্রযুক্ত বলের মান। বলের কোনো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রফলের প্রয়োজন নেই, কিন্তু চাপের ক্ষেত্রে ক্ষেত্রফল একটি প্রধান বিষয়। একই পরিমাণ বল প্রয়োগ করলেও ক্ষেত্রফল পরিবর্তনের সাথে সাথে চাপের মান পরিবর্তিত হতে পারে।

৯. গতির দিক পরিবর্তনে বলের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: কোনো বস্তু একটি নির্দিষ্ট দিকে চলতে থাকলে তার ওপর বল প্রয়োগ করে তার গতির অভিমুখ বদলে দেওয়া যায়। যেমন, ক্রিকেট খেলায় বোলার যখন বল ছোড়েন, তখন ব্যাটসম্যান ব্যাটের সাহায্যে বলের ওপর বল প্রয়োগ করে সেটিকে ভিন্ন দিকে পাঠিয়ে দেন। এখানে বলের প্রভাবে বস্তুর গতির মান পরিবর্তন না হলেও গতির দিক পরিবর্তিত হয়।

১০. চাপের সূত্রটি ব্যবহার করে একটি গাণিতিক ব্যাখ্যা দাও।

উত্তর: চাপের সূত্রটি হলো চাপ = বল / ক্ষেত্রফল। ধরা যাক, ১০ নিউটন বল ২ বর্গমিটার জায়গায় প্রয়োগ করা হলো, তবে চাপ হবে ১০/২ = ৫ একক। এখন যদি একই ১০ নিউটন বল ১ বর্গমিটার জায়গায় প্রয়োগ করা হয়, তবে চাপ হবে ১০/১ = ১০ একক। অর্থাৎ, বল স্থির রেখে ক্ষেত্রফল অর্ধেক করে দিলে চাপের মান দ্বিগুণ হয়ে যায়।

১১. স্থির বস্তু ও গতিশীল বস্তুর ওপর বলের প্রভাবের তুলনা করো।

উত্তর: স্থির বস্তুর ওপর বল প্রয়োগ করলে সেটি গতিশীল হওয়ার চেষ্টা করে বা গতিশীল হয়। যেমন মেঝেতে রাখা একটি বাক্সকে ঠেললে সেটি সরতে শুরু করে। অন্যদিকে, গতিশীল বস্তুর ওপর বল প্রয়োগ করলে তার গতি বাড়তে পারে, কমতে পারে, বস্তুটি থেমে যেতে পারে অথবা তার গতির দিক পরিবর্তন হতে পারে। অর্থাৎ বল স্থিতি ও গতি উভয় অবস্থাকেই প্রভাবিত করে।

১২. তরলের চাপ কীভাবে গভীরতার ওপর নির্ভর করে তা একটি উদাহরণের মাধ্যমে লেখো।

উত্তর: তরলের চাপ গভীরতার সাথে সমানুপাতিক। একটি লম্বা জলের পাত্রের গায়ে ওপর থেকে নিচে তিনটি ছিদ্র করলে দেখা যাবে যে সবচেয়ে নিচের ছিদ্রটি দিয়ে জল সবচেয়ে বেশি বেগে এবং দূরে গিয়ে পড়ছে। এর কারণ হলো নিচের ছিদ্রটির ওপর জলের গভীরতা সবচেয়ে বেশি, ফলে সেখানে জলের চাপও সবচেয়ে বেশি। ওপরের ছিদ্র দিয়ে জল কম বেগে পড়ে কারণ সেখানে গভীরতা ও চাপ কম।

১৩. আকার পরিবর্তনে বলের ভূমিকা উদাহরণসহ আলোচনা করো।

উত্তর: বল প্রয়োগের মাধ্যমে অনেক বস্তুর আকার বা আয়তন পরিবর্তন করা যায়। যেমন, একটি নরম মাটির তালকে হাত দিয়ে চাপ দিলে তার আকার বদলে যায়। আবার একটি স্প্রিংকে দুই দিক থেকে টানলে সেটি লম্বা হয়ে যায়। এই প্রতিটি ক্ষেত্রেই বল বস্তুর অভ্যন্তরীণ অণুগুলোর বিন্যাসকে প্রভাবিত করে তার বাহ্যিক আকার পরিবর্তন করে।

১৪. কেন চওড়া জুতোর তলা কাদা মাটিতে হাঁটার জন্য সুবিধাজনক?

উত্তর: কাদা মাটিতে হাঁটার সময় শরীরের ওজন (যা একটি বল) মাটির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। চওড়া জুতোর তলার ক্ষেত্রফল বেশি হওয়ায় শরীরের ওজন বড় একটি জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। চাপের সূত্র অনুযায়ী (চাপ = বল / ক্ষেত্রফল), ক্ষেত্রফল বেশি হলে চাপের মান কমে যায়। ফলে পা কাদা মাটিতে বেশি গভীরে দেবে যায় না এবং হাঁটা সহজ হয়।

১৫. গ্যাসের চাপ সবদিকে সমান - এটি কীভাবে বোঝা যায়?

উত্তর: যখন আমরা কোনো বায়ুশূন্য ফুটবল বা বেলুনে পাম্প করি, তখন দেখা যায় সেটি সবদিক থেকে সমানভাবে ফুলে উঠছে। যদি গ্যাস কেবল নিচের দিকে বা একদিকে চাপ দিত, তবে ফুটবলটি কেবল সেই দিকেই প্রসারিত হতো। যেহেতু এটি একটি গোলক আকারে ফোলে, তাই প্রমাণিত হয় যে গ্যাস তার আধারের সব দেওয়ালে সমানভাবে চাপ প্রয়োগ করছে।

১৬. বল প্রয়োগের ফলে বস্তুর গতির পরিবর্তনের তিনটি সম্ভাবনা কী কী?

উত্তর: বল প্রয়োগের ফলে গতির তিনটি প্রধান পরিবর্তন হতে পারে: ১) বস্তুর দ্রুতি বা গতিবেগ বৃদ্ধি পেতে পারে (যেমন চলন্ত সাইকেলে আরও জোরে প্যাডেল করলে)। ২) বস্তুর গতিবেগ হ্রাস পেতে পারে বা বস্তু থেমে যেতে পারে (যেমন ব্রেক কষলে)। ৩) বস্তুর গতির মান অপরিবর্তিত রেখে কেবল গতির দিক পরিবর্তন হতে পারে।

১৭. চাপের একক ক্ষেত্রফলের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: চাপ পরিমাপের ক্ষেত্রে 'একক ক্ষেত্রফল' অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ মোট বলের পরিমাণ দিয়ে চাপের সঠিক প্রভাব বোঝা যায় না। ধরা যাক, একটি বড় হাতুড়ি দিয়ে একটি বড় কাঠের তক্তায় আঘাত করা হলো এবং একটি ছোট পেরেকে আঘাত করা হলো। পেরেকটি কাঠের ভেতরে ঢুকে যাবে কারণ পেরেকের অগ্রভাগের একক ক্ষেত্রফলের ওপর প্রযুক্ত বল (চাপ) অনেক বেশি। তাই চাপের সঠিক ধারণা পেতে একক ক্ষেত্রফলের ওপর বলের হিসাব নেওয়া জরুরি।

১৮. বল ও চাপের ধারণা আমাদের প্রাকৃতিক ঘটনা বুঝতে কীভাবে সাহায্য করে?

উত্তর: বল ও চাপের ধারণা ব্যবহার করে আমরা অনেক প্রাকৃতিক ও বৈজ্ঞানিক ঘটনা ব্যাখ্যা করতে পারি। যেমন, কেন বায়ুমণ্ডলীয় চাপের কারণে আমরা পিষ্ট হই না, কেন গভীর সমুদ্রে মাছের গঠন ভিন্ন হয়, বা কেন পাহাড়ের ওপর রান্না করা কঠিন। এই ধারণাগুলি আমাদের চারপাশের ভৌত জগতকে গাণিতিক ও যৌক্তিকভাবে বুঝতে সাহায্য করে।

১৯. বল প্রয়োগ না করলে কোনো বস্তুর অবস্থার কী পরিবর্তন হয়?

উত্তর: বল প্রয়োগ না করলে কোনো বস্তুর অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয় না। স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকে এবং গতিশীল বস্তু চিরকাল সমবেগে সরলরেখায় চলতে থাকে। একে জড়তা বলা হয়। বল হলো সেই বাহ্যিক কারণ যা এই জড়তাকে ভেঙে বস্তুর অবস্থার পরিবর্তন ঘটায়।

২০. দৈনন্দিন জীবনে চাপের একটি সুবিধাজনক ও একটি অসুবিধাজনক উদাহরণ দাও।

উত্তর: সুবিধাজনক উদাহরণ: ইনজেকশনের সিরিঞ্জের সূঁচ খুব সরু করা হয় যাতে অল্প বলেই বেশি চাপ তৈরি হয় এবং সূঁচটি সহজে চামড়ায় প্রবেশ করে। অসুবিধাজনক উদাহরণ: ভারী স্কুল ব্যাগ যদি সরু ফিতে দিয়ে কাঁধে ঝোলানো হয়, তবে ক্ষেত্রফল কম হওয়ায় কাঁধে প্রচণ্ড চাপ পড়ে এবং ব্যথা হয়। এই কারণেই স্কুল ব্যাগের ফিতে চওড়া করা হয়।

© 2023 WBBSE AI Engine • পরিবেশ ও বিজ্ঞান নোটস • ক্লাস ৮
বল ও চাপ - প্রশ্নোত্তর
Class VIII | পরিবেশ ও বিজ্ঞান

অধ্যায়: বল ও চাপ

পাঠ্যবইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি অনুশীলনী ও সমাধান

বিভাগ ১: বল (Force) সংক্রান্ত প্রশ্ন

প্রশ্ন ১: বল কাকে বলে?

উত্তর: বল হলো এমন একটি প্রভাব যা কোনো বস্তুর গতি, দিক বা আকার পরিবর্তন করতে পারে। বল প্রয়োগ না করলে কোনো বস্তু স্থির থাকতে পারে বা সমবেগে সরলরেখায় চলতে পারে।

প্রশ্ন ২: বলের চারটি প্রভাব উল্লেখ করো।

উত্তর: বলের চারটি প্রভাব হলো:

  • স্থির বস্তুকে চলমান করতে পারে।
  • চলমান বস্তুকে থামাতে পারে।
  • বস্তুর গতির দিক পরিবর্তন করতে পারে।
  • বস্তুর আকার পরিবর্তন করতে পারে।

প্রশ্ন ৩: দৈনন্দিন জীবনে বল প্রয়োগের কয়েকটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: বল প্রয়োগের কয়েকটি উদাহরণ হলো— দরজা ঠেলা বা টানা, ফুটবল কিক করা এবং রাবার ব্যান্ড টানা।

বিভাগ ২: চাপ (Pressure) সংক্রান্ত প্রশ্ন

প্রশ্ন ৪: চাপের সংজ্ঞা দাও এবং এর গাণিতিক সূত্রটি লেখো।

উত্তর: একক ক্ষেত্রফলের উপর প্রয়োগিত বলের পরিমাণকে চাপ বলে।
চাপ = বল ÷ ক্ষেত্রফল

প্রশ্ন ৫: ক্ষেত্রফলের পরিবর্তনের সাথে চাপের সম্পর্ক কী?

উত্তর: একই পরিমাণ বল প্রয়োগ করলে:

  • ক্ষেত্রফল কম হলে চাপ বেশি হয়।
  • ক্ষেত্রফল বেশি হলে চাপ কম হয়।

প্রশ্ন ৬: ধারালো ছুরি দিয়ে সহজে কাটা যায় কেন?

উত্তর: ধারালো ছুরির প্রান্তের ক্ষেত্রফল খুব কম হয়। ফলে অল্প বল প্রয়োগ করলেও অনেক বেশি চাপ সৃষ্টি হয়, যা বস্তুকে সহজে কাটতে সাহায্য করে।

বিভাগ ৩: তরল ও গ্যাসের চাপ

প্রশ্ন ৭: নদী বা বাঁধের নীচের অংশ বেশি শক্ত করে তৈরি করা হয় কেন?

উত্তর: তরলের মধ্যে গভীরতা বাড়লে চাপের মানও বাড়ে। নদীর গভীরে বা বাঁধের নীচের অংশে জলের চাপ অনেক বেশি থাকে, তাই সেই চাপ সহ্য করার জন্য নীচের অংশ বেশি শক্ত করে তৈরি করা হয়।

প্রশ্ন ৮: বেলুন ফোলালে তা বড় হয় কেন?

উত্তর: গ্যাস সবদিকে সমানভাবে চাপ প্রয়োগ করে। যখন বেলুন ফোলানো হয়, তখন ভেতরের গ্যাসের চাপের কারণে বেলুনের দেওয়াল বাইরের দিকে প্রসারিত হয় এবং বেলুনের আকার বড় হয়।

© WBBSE AI Engine - পরিবেশ ও বিজ্ঞান (অষ্টম শ্রেণি)

WBBSE Class 8 Science Notes - Physical Environment
WBBSE Class VIII

ভৌত পরিবেশ (Physical Environment)

অধ্যায় ১: বল, চাপ, মহাকর্ষ ও আর্কিমিডিসের নীতি

সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (SAQ) - ২০টি

১. মহাকর্ষ কাকে বলে?

উত্তর: মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তু একে অপরকে নিজের কেন্দ্রের দিকে যে বল দ্বারা আকর্ষণ করে, তাকে মহাকর্ষ বলে।

২. অভিকর্ষ বলতে কী বোঝো?

উত্তর: পৃথিবী যখন কোনো বস্তুকে নিজের কেন্দ্রের দিকে টানে, তখন সেই আকর্ষণ বলকে অভিকর্ষ বলে।

৩. বস্তুর ওজন মাপার যন্ত্রের নাম কী?

উত্তর: বস্তুর ওজন মাপার যন্ত্র হলো স্প্রিং তুলা।

৪. ঘর্ষণ বল কাকে বলে?

উত্তর: একটি তল যখন অন্য একটি তলের ওপর দিয়ে চলে বা চলার চেষ্টা করে, তখন দুই তলের সংযোগস্থলে গতির বিরুদ্ধে যে বল সৃষ্টি হয়, তাকে ঘর্ষণ বলে।

৫. চাপের সংজ্ঞা দাও।

উত্তর: একক ক্ষেত্রফলের ওপর লম্বভাবে প্রযুক্ত বলকে চাপ বলে।

৬. SI পদ্ধতিতে চাপের একক কী?

উত্তর: SI পদ্ধতিতে চাপের একক হলো পাস্কাল (Pa) বা নিউটন/বর্গমিটার (N/m²)।

৭. প্লবতা কী?

উত্তর: কোনো বস্তুকে তরল বা গ্যাসে নিমজ্জিত করলে ওই প্রবাহী বস্তুর ওপর যে উর্ধ্বমুখী বল প্রয়োগ করে, তাকে প্লবতা বলে।

৮. ঘনত্ব কাকে বলে?

উত্তর: একক আয়তনের বস্তুর ভরকে ওই বস্তুর উপাদানের ঘনত্ব বলে।

৯. ঘনত্বের গাণিতিক রূপটি লেখো।

উত্তর: ঘনত্ব (D) = ভর (M) / আয়তন (V)।

১০. CGS পদ্ধতিতে ঘনত্বের একক কী?

উত্তর: CGS পদ্ধতিতে ঘনত্বের একক হলো গ্রাম/ঘন সেমি (g/cm³)।

১১. তরলের গভীরতা বাড়লে চাপের কী পরিবর্তন হয়?

উত্তর: তরলের গভীরতা বাড়লে তরলের চাপ বৃদ্ধি পায়।

১২. বস্তুর ওজন ও প্লবতা সমান হলে কী ঘটবে?

উত্তর: বস্তুর ওজন ও প্লবতা সমান হলে বস্তুটি তরলে সম্পূর্ণ নিমজ্জিত অবস্থায় ভাসবে।

১৩. ঘর্ষণ বল কোন দিকে কাজ করে?

উত্তর: ঘর্ষণ বল সর্বদা বস্তুর গতির বা প্রযুক্ত বলের বিপরীত দিকে কাজ করে।

১৪. মহাকর্ষীয় ধ্রুবককে কোন অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়?

উত্তর: মহাকর্ষীয় ধ্রুবককে ইংরেজি বড় হাতের 'G' অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

১৫. তরলের ঘনত্ব বাড়লে চাপের কী পরিবর্তন হয়?

উত্তর: তরলের ঘনত্ব বাড়লে তরলের চাপ বৃদ্ধি পায়।

১৬. আর্কিমিডিসের নীতি কোন ধরনের পদার্থের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?

উত্তর: আর্কিমিডিসের নীতি স্থির তরল বা গ্যাসীয় (প্রবাহী) পদার্থের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

১৭. ঘর্ষণ বল কিসের ওপর নির্ভর করে?

উত্তর: ঘর্ষণ বল সংস্পর্শে থাকা তল দুটির প্রকৃতির (মসৃণ বা অমসৃণ) ওপর নির্ভর করে।

১৮. বস্তুর ওজন > প্লবতা হলে কী হবে?

উত্তর: বস্তুটি তরলে ডুবে যাবে।

১৯. SI পদ্ধতিতে ঘনত্বের একক কী?

উত্তর: SI পদ্ধতিতে ঘনত্বের একক হলো কিগ্রা/ঘনমিটার (kg/m³)।

২০. মহাকর্ষ বল বস্তুর ভরের সাথে কীভাবে সম্পর্কিত?

উত্তর: মহাকর্ষ বল বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক।

দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্ন (LAQ) - ২০টি

১. নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রটি বিবৃত করো এবং এর গাণিতিক রূপটি লেখো।

বিবৃতি: মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুকণার মধ্যেকার আকর্ষণ বলের মান— (১) বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং (২) তাদের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক।

গাণিতিক রূপ: F = G · (m₁m₂ / r²)

যেখানে F = মহাকর্ষ বল, m₁, m₂ = বস্তু দুটির ভর, r = তাদের মধ্যবর্তী দূরত্ব এবং G = মহাকর্ষীয় ধ্রুবক।

২. মহাকর্ষ ও অভিকর্ষের মধ্যে পার্থক্য বুঝিয়ে লেখো।

মহাকর্ষ: মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল কাজ করে তাকে মহাকর্ষ বলে। যেমন— সূর্য ও পৃথিবীর আকর্ষণ।

অভিকর্ষ: পৃথিবী যখন কোনো বস্তুকে নিজের কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে, তখন তাকে অভিকর্ষ বলে। অর্থাৎ অভিকর্ষ হলো মহাকর্ষের একটি বিশেষ রূপ যেখানে একটি বস্তু অবশ্যই পৃথিবী।

৩. ঘর্ষণ বলের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।

  • ঘর্ষণ বল সর্বদা সংস্পর্শে থাকা তল দুটির আপেক্ষিক গতির বিরুদ্ধে কাজ করে।
  • এটি স্পর্শতলের প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে; তল যত অমসৃণ হয়, ঘর্ষণ বল তত বেশি হয়।
  • ঘর্ষণ বল গতির সৃষ্টিতে বাধা দেয় বা গতিশীল বস্তুকে থামিয়ে দিতে চায়।

৪. আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ঘর্ষণের সুবিধা ও অসুবিধাগুলি লেখো।

সুবিধা: ঘর্ষণ আছে বলেই আমরা মাটিতে পা দিয়ে হাঁটতে পারি, পেন দিয়ে কাগজে লিখতে পারি এবং যানবাহনকে ব্রেক কষে থামানো সম্ভব হয়।

অসুবিধা: ঘর্ষণের ফলে যন্ত্রপাতির বিভিন্ন অংশ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। এছাড়া ঘর্ষণের ফলে অপ্রয়োজনীয় তাপ উৎপন্ন হয় যা শক্তির অপচয় ঘটায়।

৫. চাপের গাণিতিক রূপটি ব্যাখ্যা করো এবং এর এককগুলি উল্লেখ করো।

চাপ বলতে বোঝায় একক ক্ষেত্রফলের ওপর লম্বভাবে প্রযুক্ত বল।

গাণিতিক রূপ: চাপ = বল / ক্ষেত্রফল।

একক: SI পদ্ধতিতে চাপের একক নিউটন/বর্গমিটার (N/m²), যাকে পাস্কাল (Pa) বলা হয়। ক্ষেত্রফল কমলে একই বলের জন্য চাপের মান বৃদ্ধি পায়।

৬. তরলের চাপের বৈশিষ্ট্যগুলি বিস্তারিতভাবে লেখো।

  • তরলের গভীরতা যত বৃদ্ধি পায়, তরলের চাপের মান তত বাড়ে।
  • তরলের ঘনত্ব যত বেশি হয়, নির্দিষ্ট গভীরতায় চাপের মান তত বেশি হয়।
  • স্থির তরল তার অভ্যন্তরে কোনো বিন্দুতে সবদিকে সমান চাপ দেয়।
  • তরলের চাপ পাত্রের আকারের ওপর নির্ভর করে না, কেবল গভীরতা ও ঘনত্বের ওপর নির্ভর করে।

৭. আর্কিমিডিসের নীতিটি ব্যাখ্যা করো।

নীতি: কোনো বস্তুকে স্থির তরল বা গ্যাসীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণ নিমজ্জিত করলে বস্তুটির ওজনের আপাত হ্রাস ঘটে। এই ওজনের হ্রাস বস্তুটির দ্বারা অপসারিত প্রবাহীর (তরল বা গ্যাস) ওজনের সমান।

অর্থাৎ, বস্তুর হারানো ওজন = বস্তু দ্বারা অপসারিত তরলের ওজন।

৮. বস্তুর ভাসন ও নিমজ্জনের তিনটি শর্ত আলোচনা করো।

  1. নিমজ্জন: যদি বস্তুর ওজন প্লবতার চেয়ে বেশি হয় (ওজন > প্লবতা), তবে বস্তুটি তরলে ডুবে যাবে।
  2. সম্পূর্ণ নিমজ্জিত অবস্থায় ভাসন: যদি বস্তুর ওজন ও প্লবতা সমান হয় (ওজন = প্লবতা), তবে বস্তুটি তরলের ভেতরে যেকোনো স্থানে সম্পূর্ণ নিমজ্জিত অবস্থায় ভাসবে।
  3. আংশিক নিমজ্জিত অবস্থায় ভাসন: যদি বস্তুর ওজন প্লবতার চেয়ে কম হয় (ওজন < প্লবতা), তবে বস্তুটি তরলে আংশিক ভেসে থাকবে।

৯. ঘনত্ব ও আয়তনের মধ্যে সম্পর্কটি উদাহরণসহ বুঝিয়ে দাও।

ঘনত্ব হলো একক আয়তনের ভর। সূত্রানুসারে, ঘনত্ব = ভর / আয়তন।

যদি দুটি বস্তুর ভর সমান হয়, তবে যার আয়তন কম তার ঘনত্ব বেশি হবে। যেমন— ১ কেজি লোহা ও ১ কেজি তুলোর মধ্যে লোহার আয়তন অনেক কম, তাই লোহার ঘনত্ব তুলোর চেয়ে অনেক বেশি।

১০. প্লবতা কোন কোন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে?

প্লবতা প্রধানত দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে:

  • বস্তুর নিমজ্জিত অংশের আয়তন: বস্তুর যত বেশি আয়তন তরলে নিমজ্জিত হবে, প্লবতা তত বাড়বে।
  • তরলের ঘনত্ব: যে তরলে বস্তুকে ডোবানো হচ্ছে, তার ঘনত্ব যত বেশি হবে, প্লবতা বলও তত বেশি হবে।

১১. ওজন ও ভরের মধ্যে পার্থক্য কী?

ভর হলো বস্তুর মধ্যেকার পদার্থের পরিমাণ, যা সব জায়গায় সমান থাকে। কিন্তু ওজন হলো বস্তুর ওপর পৃথিবীর আকর্ষণ বল, যা স্থানভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। ওজন স্প্রিং তুলার সাহায্যে মাপা হয়।

১২. মহাকর্ষীয় ধ্রুবক (G) বলতে কী বোঝো?

নিউটনের সূত্রে G হলো একটি সর্বজনীন ধ্রুবক। একক ভরের দুটি বস্তুকণা একক দূরত্বে থাকলে তাদের মধ্যে যে আকর্ষণ বল কাজ করে, তাকেই মহাকর্ষীয় ধ্রুবক বলে।

১৩. কেন মসৃণ মেঝের চেয়ে বালুযুক্ত রাস্তায় হাঁটা সহজ?

মসৃণ মেঝেতে ঘর্ষণ বল খুব কম থাকে, ফলে পা পিছলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বালুযুক্ত রাস্তা অমসৃণ হওয়ায় সেখানে ঘর্ষণ বল বেশি কাজ করে, যা আমাদের হাঁটতে প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া বল জোগায়।

১৪. গভীর সমুদ্রের মাছকে ডাঙায় তুললে ফেটে যায় কেন?

গভীর সমুদ্রে জলের চাপ অনেক বেশি থাকে। মাছের শরীরের ভেতরের চাপও সেই বাইরের চাপের সমান থাকে। ডাঙায় তুললে বাইরের চাপ হঠাৎ কমে যায়, কিন্তু শরীরের ভেতরের উচ্চ চাপের কারণে মাছের দেহ ফেটে যেতে পারে।

১৫. আর্কিমিডিসের নীতির সাহায্যে কীভাবে বস্তুর ওজনের আপাত হ্রাস নির্ণয় করা যায়?

বস্তুকে তরলে ডোবালে তা কিছু পরিমাণ তরল সরিয়ে দেয়। আর্কিমিডিসের নীতি অনুযায়ী, ওই অপসারিত তরলের ওজনই হলো বস্তুর ওজনের আপাত হ্রাস। বায়ুতে ওজন থেকে তরলে নিমজ্জিত অবস্থায় ওজন বিয়োগ করলে এই হ্রাস পাওয়া যায়।

১৬. একটি লোহার পেরেক জলে ডুবে যায় কিন্তু লোহার তৈরি জাহাজ ভাসে কেন?

লোহার পেরেকের ওজন তার দ্বারা অপসারিত জলের ওজনের চেয়ে বেশি। কিন্তু জাহাজের গঠন এমন ফাঁপা হয় যে এটি বিশাল আয়তনের জল সরিয়ে দেয়। জাহাজের ওজন অপসারিত জলের ওজনের (প্লবতা) চেয়ে কম বা সমান হওয়ায় জাহাজ ভাসে।

১৭. তরলের চাপের রাশিমালাটি ব্যাখ্যা করো।

তরলের কোনো বিন্দুতে চাপ = গভীরতা (h) × তরলের ঘনত্ব (d) × অভিকর্ষজ ত্বরণ (g)। অর্থাৎ চাপ সরাসরি গভীরতা ও ঘনত্বের ওপর নির্ভর করে।

১৮. ঘর্ষণ কমানোর উপায়গুলি কী কী?

স্পর্শতলকে মসৃণ করে, পিচ্ছিলকারক পদার্থ (যেমন তেল বা গ্রিজ) ব্যবহার করে এবং বল-বেয়ারিং ব্যবহারের মাধ্যমে ঘর্ষণ বল কমানো যায়।

১৯. মহাকর্ষ বল দূরত্বের ওপর কীভাবে নির্ভর করে?

মহাকর্ষ বল দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক। অর্থাৎ দুটি বস্তুর মধ্যে দূরত্ব দ্বিগুণ করলে আকর্ষণ বল চার ভাগের এক ভাগ (১/৪) হয়ে যাবে।

২০. পাস্কালের সূত্রের সাথে চাপের সংজ্ঞার সম্পর্ক কী?

চাপের সংজ্ঞা থেকে আমরা জানি চাপ সবদিকে সমানভাবে প্রযুক্ত হয় (প্রবাহীর ক্ষেত্রে)। পাস্কালের নীতি অনুযায়ী, আবদ্ধ তরলে চাপ দিলে তা সবদিকে সমানভাবে সঞ্চালিত হয়, যা চাপের মৌলিক ধর্মেরই বহিঃপ্রকাশ।

© ২০২৪ WBBSE AI Engine - ভৌত বিজ্ঞান নোটস

WBBSE Mock Test - বল ও চাপ

WBBSE AI Engine

অষ্টম শ্রেণি | পরিবেশ ও বিজ্ঞান | বল ও চাপ

00:00
মক টেস্ট ব্যাংক
প্রশ্ন ১ / ৬০ স্কোর: ০

লোড হচ্ছে...

অনলাইন মক টেস্ট: পরিবেশ ও বিজ্ঞান (অষ্টম শ্রেণী)

🎉 পরীক্ষার ফলাফল 🎉

0 / 30

পরিবেশ ও বিজ্ঞান

অধ্যায় ১: ভৌত পরিবেশ (অ্যাডভান্সড লেভেল)

শ্রেণী: অষ্টম বিষয়: বিজ্ঞান পূর্ণমান: ৩০
সময় বাকি: ১৫:০০
ক) সঠিক ধারণা প্রয়োগ করে উত্তর দাও (১ × ৬ = ৬)
১. তরলের গভীরতা (h), ঘনত্ব (d) এবং অভিকর্ষজ ত্বরণ (g) হলে, তরলের কোনো বিন্দুতে চাপ (P) হবে—
২. কোন তাপমাত্রায় সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট স্কেলের পাঠ সমান হয়?
৩. সমতল দর্পণে আলোক রশ্মি ৩০° কোণে আপতিত হলে, চ্যুতিকোণের (Deviation Angle) মান কত হবে?
৪. ০°C উষ্ণতার ১ গ্রাম বরফকে ০°C উষ্ণতার ১ গ্রাম জলে পরিণত করতে কত তাপ লাগবে?
৫. একটি বস্তু তরলে ভাসবে যদি—
৬. সদবিম্ব (Real Image) গঠন করতে পারে কোন দর্পণ?
খ) সত্য না মিথ্যা বিচার করো (২ × ৫ = ১০)
৭. পারদের ঘনত্ব ১৩.৬ গ্রাম/সেমি³ (g/cm³)।
৮. অবতল লেন্স সর্বদা বস্তুর চেয়ে আকারে ছোট এবং অসদ বিম্ব গঠন করে।
৯. সীমাস্ত ঘর্ষণ বলের মান, গতীয় ঘর্ষণ বলের মানের চেয়ে কম হয়।
১০. চাপ বাড়লে তরলের স্ফুটনাঙ্ক বৃদ্ধি পায়।
১১. চাঁদে বায়ুমণ্ডল নেই, তাই সেখানে স্ট্র (Straw) দিয়ে কোল্ড ড্রিংকস খাওয়া সম্ভব নয়।
গ) প্রতিসরাঙ্ক (Refractive Index) অনুযায়ী কম থেকে বেশি সাজাও (২ × ৫ = ১০)

মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্ক (বা আলোকীয় ঘনত্ব) অনুযায়ী ১ থেকে ৫ নম্বরে সাজাও। (সবচেয়ে লঘু মাধ্যম -> সবচেয়ে ঘন মাধ্যম)

কেরোসিন (Kerosene)
হিরে (Diamond)
বায়ু বা শূন্যস্থান (Air/Vacuum)
কাঁচ (Glass)
জল (Water)
ঘ) বুদ্ধি খাটিয়ে উত্তর দাও (২ × ২ = ৪)
১২. একটি ফাঁপা লোহার বল জলে ভাসে, কিন্তু নিরেট লোহার বল ডুবে যায়। কারণ—
১৩. পেরিস্কোপে (Periscope) দুটি সমতল দর্পণ পরস্পরের সাথে কত ডিগ্রি কোণে রাখা থাকে?
অনলাইন পরীক্ষা: বল ও চাপ | অষ্টম শ্রেণি

পরিবেশ ও বিজ্ঞান অনলাইন পরীক্ষা

অধ্যায়: বল ও চাপ (অষ্টম শ্রেণি)

মোট প্রশ্ন: ২০ পূর্ণমান: ৫০ সময়: ৪৫ মিনিট

বিভাগ 'ক': বহু বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ)

১. একক ক্ষেত্রফলের উপর প্রযুক্ত বলের পরিমাণকে কী বলা হয়?

২. চাপের সঠিক গাণিতিক সূত্রটি কোনটি?

৩. বল প্রয়োগের ফলে বস্তুর কী পরিবর্তন হতে পারে?

৪. ক্ষেত্রফল কম হলে চাপের মান কী হয়?

৫. তরলের গভীরতা বাড়লে চাপের কী পরিবর্তন হয়?

৬. গ্যাস কোন দিকে চাপ প্রয়োগ করে?

৭. ধারালো ছুরি দিয়ে সহজে কাটা যায় কেন?

৮. ফুটবল কিক করা কিসের উদাহরণ?

৯. বেলুন ফোলালে তার আকার বড় হয় কেন?

১০. উঁচু হিলের জুতো মাটিতে বেশি দেবে যায় কেন?

বিভাগ 'খ': সংক্ষিপ্ত ও বড় উত্তরধর্মী প্রশ্ন

১১. বল কাকে বলে? বলের একটি উদাহরণ দাও।

১২. বল প্রয়োগের ফলে বস্তুর গতির কী কী পরিবর্তন হতে পারে?

১৩. চাপের সংজ্ঞা দাও এবং এর গাণিতিক রূপটি লেখো।

১৪. ক্ষেত্রফলের সাথে চাপের সম্পর্ক উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো।

১৫. নদী বা বাঁধের নিচের অংশ বেশি শক্ত ও চওড়া করে তৈরি করা হয় কেন?

১৬. তরলের চাপের বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।

১৭. গ্যাসের চাপের একটি বাস্তব উদাহরণ দাও এবং এটি সবদিকে কীভাবে কাজ করে তা বুঝিয়ে বলো।

১৮. রাবার ব্যান্ড টানলে তার আকারের কী পরিবর্তন হয়? এটি বলের কোন প্রভাবকে নির্দেশ করে?

১৯. চওড়া জুতোর তলা মাটিতে কম দেবে যায় কেন? বৈজ্ঞানিক কারণ দর্শাও।

২০. দৈনন্দিন জীবনে বল ও চাপের গুরুত্ব আলোচনা করো।

এই অধ্যায়ের নোট এবং প্রশ্ন ও উত্তর
অধ্যায় ২.৩: রাসায়নিক বিক্রিয়া - WBBSE
অষ্টম শ্রেণি | পরিবেশ ও বিজ্ঞান

অধ্যায় ২.৩: রাসায়নিক বিক্রিয়া (Chemical Reaction)

এই অধ্যায়ে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটার বিভিন্ন শর্ত, অনুঘটক, তাপের আদান-প্রদান এবং জারণ-বিজারণ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

রাসায়নিক বিক্রিয়ার শর্ত (Conditions)

১.১ তাপ (Heat)

কিউপ্রিক নাইট্রেটকে গরম করলে কালো কপার অক্সাইড ও বাদামি NO₂ গ্যাস উৎপন্ন হয়।

2Cu(NO₃)₂ → 2CuO + 4NO₂ + O₂

১.২ আলো (Light)

সালোকসংশ্লেষ ও ফটোগ্রাফিতে আলোক শক্তি রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটায়।

6CO₂ + 6H₂O → C₆H₁₂O₆ + 6O₂

১.৩ চাপ (Pressure)

খেলনা বন্দুকের ক্যাপে আঘাত করলে (চাপ প্রয়োগে) শব্দ ও তাপ উৎপন্ন হয়।

১.৪ দ্রাবক (Solvent)

শুকনো খাবার সোডা ও টারটারিক অ্যাসিডে জল দিলে দ্রুত CO₂ উৎপন্ন হয়।

১.৫ তড়িৎ (Electricity)

জলের তড়িৎ বিশ্লেষণে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়।

2H₂O → 2H₂ + O₂

অনুঘটক (Catalyst)

যেসব পদার্থ বিক্রিয়ার বেগ বাড়ায় বা কমায় কিন্তু বিক্রিয়া শেষে নিজেরা অপরিবর্তিত থাকে।

অজৈব অনুঘটক

উদাহরণ: MnO₂ (ম্যাঙ্গানিজ ডাইঅক্সাইড)

হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডকে ($H_2O_2$) দ্রুত ভাঙতে সাহায্য করে।

জৈব অনুঘটক (Enzymes)

  • ক্যাটালেজ: আলু বা লিভারের কোশে থাকে।
  • ইউরিয়েজ: অড়হর ডালে থাকে, ইউরিয়াকে ভাঙে।

তাপমোচী ও তাপগ্রাহী পরিবর্তন

তাপমোচী (Exothermic)

বিক্রিয়ায় তাপ উৎপন্ন হয়।

CaO + H₂O → Ca(OH)₂ + তাপ

তাপগ্রাহী (Endothermic)

বিক্রিয়ায় তাপ শোষিত হয়।

উদাহরণ: নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন মিলে নাইট্রিক অক্সাইড তৈরি।

জারণ ও বিজারণ (Redox)

ইলেকট্রনীয় মতবাদ (Electronic Theory)

জারণ (Oxidation): ইলেকট্রন বর্জন।

Na - e⁻ → Na⁺

বিজারণ (Reduction): ইলেকট্রন গ্রহণ।

Cl + e⁻ → Cl⁻

একটি পূর্ণাঙ্গ উদাহরণ
CuO + H₂ → Cu + H₂O
CuO → Cu (বিজারণ)
H₂ → H₂O (জারণ)

গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ

পরীক্ষাপর্যবেক্ষণসিদ্ধান্ত
জিঙ্ক ও লঘু H₂SO₄ বিক্রিয়াবুদবুদ আকারে গ্যাস বের হয়, যা নীল শিখায় জ্বলে।হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়েছে।
CuCl₂ দ্রবণে লোহার পেরেকপেরেকের গায়ে লালচে বাদামি আস্তরণ পড়ে।লোহা তামা বা কপারকে প্রতিস্থাপিত করেছে।
KI ও H₂O₂ এর বিক্রিয়াআয়োডিন মুক্ত হয় এবং স্টার্চ পেপার নীল হয়।H₂O₂ জারক হিসেবে KI কে জারিত করেছে।

© WBBSE AI Engine - পরিবেশ ও বিজ্ঞান (অষ্টম শ্রেণি)

অধ্যায় ২.৩: রাসায়নিক বিক্রিয়া - নোটস
WBBSE Class VIII

অধ্যায় ২.৩: রাসায়নিক বিক্রিয়া

পরিবেশ ও বিজ্ঞান: বিস্তারিত প্রশ্নোত্তর সংকলন

সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (Short Answer Questions)

১. অনুঘটক কাকে বলে?

উত্তর: যেসব পদার্থ রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উপস্থিত থেকে বিক্রিয়ার বেগ বাড়ায় বা কমায় কিন্তু বিক্রিয়া শেষে নিজেরা ওজনে ও ধর্মে অপরিবর্তিত থাকে, তাদের অনুঘটক বলে।

২. একটি জৈব অনুঘটকের উদাহরণ দাও।

উত্তর: আলুর কোশে থাকা 'ক্যাটালেজ' এনজাইম বা উৎসেচক একটি জৈব অনুঘটক।

৩. তাপমোচী বিক্রিয়া কী?

উত্তর: যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় তাপ উৎপন্ন হয়, তাকে তাপমোচী বা তাপোৎপাদী বিক্রিয়া বলে। যেমন: পোড়াচুনে জল মেশানো।

৪. ইলেকট্রনীয় মতবাদ অনুযায়ী জারণ কাকে বলে?

উত্তর: কোনো পরমাণু বা আয়ন দ্বারা ইলেকট্রন বর্জন (Electron Loss) করাকে জারণ বলে। যেমন: Na - e⁻ → Na⁺।

৫. আলোক রাসায়নিক বিক্রিয়ার একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: সালোকসংশ্লেষ একটি আলোক রাসায়নিক বিক্রিয়া, যেখানে সূর্যালোকের উপস্থিতিতে উদ্ভিদ শর্করা তৈরি করে।

৬. ইউরিয়েজ এনজাইম কোথায় পাওয়া যায়?

উত্তর: ইউরিয়েজ এনজাইম অড়হর ডালে পাওয়া যায়।

৭. কিউপ্রিক নাইট্রেটকে উত্তপ্ত করলে কী রঙের গ্যাস নির্গত হয়?

উত্তর: কিউপ্রিক নাইট্রেটকে তীব্র উত্তপ্ত করলে বাদামি রঙের নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড (NO₂) গ্যাস নির্গত হয়।

৮. জারক দ্রব্য কাকে বলে?

উত্তর: যে পদার্থ অন্যকে জারিত করে কিন্তু নিজে বিজারিত হয় (অর্থাৎ ইলেকট্রন গ্রহণ করে), তাকে জারক দ্রব্য বলে।

৯. শুষ্ক অবস্থায় খাবার সোডা ও টারটারিক অ্যাসিড বিক্রিয়া করে না কেন?

উত্তর: কারণ শুষ্ক অবস্থায় অণু বা আয়নগুলো পরস্পরের সংস্পর্শে আসতে পারে না; বিক্রিয়া ঘটার জন্য দ্রাবক (জল) প্রয়োজন।

১০. হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ভাঙতে কোন অনুঘটক ব্যবহৃত হয়?

উত্তর: ম্যাঙ্গানিজ ডাইঅক্সাইড (MnO₂) গুঁড়ো।

১১. তড়িৎ বিশ্লেষণ কী?

উত্তর: কোনো পদার্থের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ চালনা করে সেটিকে রাসায়নিকভাবে বিশ্লিষ্ট করার পদ্ধতিকে তড়িৎ বিশ্লেষণ বলে।

১২. বিজারক দ্রব্যের একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: হাইড্রোজেন (H₂) বা কার্বন (C) হলো বিজারক দ্রব্যের উদাহরণ।

১৩. লোহার পেরেকের ওপর তামা বা কপারের আস্তরণ পড়ে কেন?

উত্তর: লোহা কিউপ্রিক ক্লোরাইড দ্রবণ থেকে কপারকে প্রতিস্থাপিত করে বলে পেরেকের গায়ে লালচে বাদামি আস্তরণ পড়ে।

১৪. তাপগ্রাহী বিক্রিয়ার একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: নাইট্রোজেন ও অক্সিজেনের বিক্রিয়ায় নাইট্রিক অক্সাইড তৈরি হওয়া একটি তাপগ্রাহী বিক্রিয়া।

১৫. এনজাইম কী জাতীয় পদার্থ?

উত্তর: এনজাইম বা উৎসেচক হলো প্রোটিন জাতীয় পদার্থ।

১৬. জারণ-বিজারণ কি একই সাথে ঘটে?

উত্তর: হ্যাঁ, জারণ ও বিজারণ সর্বদা একই সাথে ঘটে।

১৭. খেলনা বন্দুকের ক্যাপে আঘাত করলে কী ঘটে?

উত্তর: চাপ প্রয়োগের ফলে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে এবং শব্দ ও তাপ উৎপন্ন হয়।

১৮. স্টার্চ পেপার নীল হয় কেন?

উত্তর: পটাশিয়াম আয়োডাইড ও হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের বিক্রিয়ায় মুক্ত আয়োডিন উৎপন্ন হয়, যা স্টার্চ পেপারকে নীল করে।

১৯. বিজারণের ইলেকট্রনীয় সংজ্ঞা দাও।

উত্তর: কোনো পরমাণু বা আয়ন দ্বারা ইলেকট্রন গ্রহণ (Electron Gain) করাকে বিজারণ বলে।

২০. দহন কী ধরনের বিক্রিয়া?

উত্তর: দহন একটি তাপমোচী বা তাপোৎপাদী বিক্রিয়া।

দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্ন (Long Answer Questions)

১. রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটার প্রধান শর্তগুলি উদাহরণসহ আলোচনা করো।

উত্তর: রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটার প্রধান শর্তগুলি হলো:
১. তাপ: অনেক বিক্রিয়া শুরু করতে তাপ লাগে। যেমন কিউপ্রিক নাইট্রেটকে গরম করলে তা ভেঙে কপার অক্সাইড ও গ্যাস উৎপন্ন করে।
২. আলো: সালোকসংশ্লেষের জন্য সূর্যালোক অপরিহার্য।
৩. চাপ: উচ্চ চাপে অনেক বিক্রিয়া দ্রুত ঘটে, যেমন খেলনা বন্দুকের ক্যাপে আঘাত।
৪. দ্রাবক: অনেক কঠিন পদার্থ জলে দ্রবীভূত করলে তবেই বিক্রিয়া করে।
৫. তড়িৎ: জলের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ চালনা করলে তা হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনে ভেঙে যায়।

২. অনুঘটকের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো এবং একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: অনুঘটকের বৈশিষ্ট্য:
১. বিক্রিয়ার শেষে অনুঘটককে ওজনে ও ধর্মে অপরিবর্তিত অবস্থায় ফিরে পাওয়া যায়।
২. খুব সামান্য পরিমাণ অনুঘটকই অনেক বেশি পরিমাণ বিক্রিয়কের বিক্রিয়া ঘটাতে পারে।
৩. এটি বিক্রিয়ার বেগ বাড়াতে বা কমাতে পারে।
উদাহরণ: হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ($H_2O_2$) সাধারণ অবস্থায় ধীরে ভাঙে, কিন্তু ম্যাঙ্গানিজ ডাইঅক্সাইড ($MnO_2$) মেশালে তা দ্রুত ভেঙে জল ও অক্সিজেন তৈরি করে।

৩. ইলেকট্রনীয় মতবাদ অনুযায়ী জারণ ও বিজারণ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: আধুনিক ইলেকট্রনীয় মতবাদ অনুযায়ী:
জারণ: কোনো পরমাণু বা আয়ন যখন এক বা একাধিক ইলেকট্রন বর্জন করে, তখন তাকে জারণ বলে। যেমন: $Fe^{2+} - e^- \rightarrow Fe^{3+}$।
বিজারণ: কোনো পরমাণু বা আয়ন যখন এক বা একাধিক ইলেকট্রন গ্রহণ করে, তখন তাকে বিজারণ বলে। যেমন: $Cu^{2+} + 2e^- \rightarrow Cu$।
এই মতবাদ অনুযায়ী ইলেকট্রন ত্যাগ মানে জারণ এবং ইলেকট্রন গ্রহণ মানে বিজারণ।

৪. $CuO + H_2 \rightarrow Cu + H_2O$ - এই বিক্রিয়াটিতে জারণ, বিজারণ, জারক ও বিজারক দ্রব্য চিহ্নিত করো।

উত্তর: এই বিক্রিয়াটিতে:
১. $CuO$ থেকে অক্সিজেন অপসারিত হয়ে $Cu$ তৈরি হয়েছে, তাই এটি বিজারণ
২. $H_2$-এর সঙ্গে অক্সিজেন যুক্ত হয়ে $H_2O$ তৈরি হয়েছে, তাই এটি জারণ
৩. $CuO$ অন্যকে জারিত করেছে এবং নিজে বিজারিত হয়েছে, তাই এটি জারক দ্রব্য
৪. $H_2$ অন্যকে বিজারিত করেছে এবং নিজে জারিত হয়েছে, তাই এটি বিজারক দ্রব্য

৫. এনজাইম বা উৎসেচক কী? জীবদেহে এদের গুরুত্ব আলোচনা করো।

উত্তর: জীবদেহে নানা রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটাতে যে প্রোটিন জাতীয় জৈব অনুঘটক সাহায্য করে, তাদের এনজাইম বা উৎসেচক বলে।
গুরুত্ব: জীবদেহের বিপাকীয় ক্রিয়াগুলি এনজাইম ছাড়া অসম্ভব। যেমন: আলুর কোশে থাকা 'ক্যাটালেজ' ক্ষতিকারক হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডকে ভেঙে জল ও অক্সিজেনে পরিণত করে দেহকে রক্ষা করে। আবার অড়হর ডালের 'ইউরিয়েজ' ইউরিয়া ভাঙতে সাহায্য করে।

৬. তাপমোচী ও তাপগ্রাহী বিক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য উদাহরণসহ লেখো।

উত্তর:
তাপমোচী বিক্রিয়া: যে বিক্রিয়ায় তাপ উৎপন্ন হয়। উদাহরণ: পোড়াচুনে জল দিলে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়ে কলিচুন তৈরি হয় ($CaO + H_2O \rightarrow Ca(OH)_2 + \text{তাপ}$)।
তাপগ্রাহী বিক্রিয়া: যে বিক্রিয়ায় তাপ শোষিত হয় বা বাইরে থেকে তাপ দিতে হয়। উদাহরণ: নাইট্রোজেন ও অক্সিজেনের বিক্রিয়ায় নাইট্রিক অক্সাইড তৈরির সময় তাপ শোষিত হয়।

৭. কিউপ্রিক নাইট্রেটকে উত্তপ্ত করলে কী কী পরিবর্তন দেখা যায়? সমীকরণসহ লেখো।

উত্তর: কিউপ্রিক নাইট্রেটের নীল রঙের কেলাসকে তীব্র গরম করলে নিম্নলিখিত পরিবর্তন ঘটে:
১. নীল রঙের কেলাস ভেঙে কালো রঙের কপার অক্সাইড (CuO) তৈরি হয়।
২. বাদামি রঙের নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড (NO₂) গ্যাস নির্গত হয়।
৩. অক্সিজেন (O₂) গ্যাস উৎপন্ন হয়।
সমীকরণ: $2Cu(NO_3)_2 \xrightarrow{\text{তাপ}} 2CuO + 4NO_2 + O_2$

৮. রাসায়নিক বিক্রিয়ায় দ্রাবকের ভূমিকা একটি পরীক্ষার মাধ্যমে বুঝিয়ে দাও।

উত্তর: শুকনো খাবার সোডা ও টারটারিক অ্যাসিডের ক্রিস্টাল বা গুঁড়ো মেশালে কোনো বিক্রিয়া হয় না। কিন্তু এতে সামান্য জল যোগ করলে দেখা যায় দ্রুত বুদবুদ আকারে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস বের হচ্ছে।
ব্যাখ্যা: কঠিন অবস্থায় বিক্রিয়ক অণু বা আয়নগুলো স্থির থাকে। জল বা দ্রাবক যোগ করলে তারা সচল হয় এবং পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বিক্রিয়া ঘটায়। এখানে জল দ্রাবক হিসেবে কাজ করে।

৯. আলোক শক্তির প্রভাবে ঘটে এমন দুটি ভিন্ন ধরনের ঘটনার বর্ণনা দাও।

উত্তর:
১. সালোকসংশ্লেষ: উদ্ভিদ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে জল ও কার্বন ডাইঅক্সাইড ব্যবহার করে শর্করা খাদ্য তৈরি করে। এটি একটি অত্যাবশ্যকীয় জৈব-রাসায়নিক বিক্রিয়া।
২. ফটোগ্রাফি: আগেকার দিনের ক্যামেরার ফিল্মে সিলভার সল্টের প্রলেপ থাকত। তার ওপর আলো পড়লে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে এবং ফিল্মটি কালো হয়ে ছবি ফুটে উঠত।

১০. জলের তড়িৎ বিশ্লেষণ প্রক্রিয়াটি সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর: বিশুদ্ধ জল তড়িতের কুপরিবাহী। তাই জলের মধ্যে সামান্য অ্যাসিড মিশিয়ে তার মধ্য দিয়ে ব্যাটারির সাহায্যে বিদ্যুৎ চালনা করলে জল বিশ্লিষ্ট হয়। এই প্রক্রিয়ায় জল ভেঙে হাইড্রোজেন ($H_2$) ও অক্সিজেন ($O_2$) গ্যাস উৎপন্ন হয়।
সমীকরণ: $2H_2O \xrightarrow{\text{তড়িৎ}} 2H_2 + O_2$। এটি একটি তড়িৎ-রাসায়নিক বিক্রিয়া।

১১. জিঙ্ক ও লঘু সালফিউরিক অ্যাসিডের বিক্রিয়াটি বর্ণনা করো।

উত্তর: একটি টেস্ট টিউবে কিছু জিঙ্কের ($Zn$) টুকরো নিয়ে তাতে লঘু সালফিউরিক অ্যাসিড ($H_2SO_4$) যোগ করলে দেখা যায় বুদবুদ আকারে গ্যাস নির্গত হচ্ছে। এই গ্যাসের মুখে জ্বলন্ত কাঠি ধরলে তা নীল শিখায় জ্বলতে থাকে।
সিদ্ধান্ত: জিঙ্ক ও অ্যাসিডের বিক্রিয়ায় হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়েছে। এটি একটি প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া।

১২. কিউপ্রিক ক্লোরাইড দ্রবণে লোহার পেরেক রাখলে কী ঘটে এবং কেন?

উত্তর: কিউপ্রিক ক্লোরাইড ($CuCl_2$) দ্রবণে একটি পরিষ্কার লোহার পেরেক ডুবিয়ে রাখলে কিছুক্ষণ পর দেখা যায় পেরেকের গায়ে লালচে বাদামি রঙের আস্তরণ পড়েছে।
কারণ: লোহা ($Fe$) তামা বা কপারের ($Cu$) চেয়ে বেশি সক্রিয়। তাই লোহা কিউপ্রিক ক্লোরাইড থেকে কপারকে প্রতিস্থাপিত করে এবং মুক্ত কপার পেরেকের গায়ে জমা হয়।
বিক্রিয়া: $Fe + CuCl_2 \rightarrow FeCl_2 + Cu$

১৩. পটাশিয়াম আয়োডাইড ও হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের বিক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: পটাশিয়াম আয়োডাইড ($KI$) দ্রবণে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ($H_2O_2$) যোগ করলে আয়োডিন ($I_2$) মুক্ত হয়। এই দ্রবণে স্টার্চ পেপার ধরলে তা নীল বর্ণ ধারণ করে।
ব্যাখ্যা: এখানে $H_2O_2$ জারক দ্রব্য হিসেবে কাজ করে $KI$ কে জারিত করে আয়োডিনে পরিণত করে। এটি একটি জারণ বিক্রিয়ার উদাহরণ।

১৪. জারণ ও বিজারণের সাধারণ (অক্সিজেন/হাইড্রোজেন ভিত্তিক) ধারণা দাও।

উত্তর:
জারণ: কোনো মৌল বা যৌগের সঙ্গে অক্সিজেন যুক্ত হওয়া অথবা কোনো যৌগ থেকে হাইড্রোজেন অপসারিত হওয়াকে জারণ বলে। যেমন: $C + O_2 \rightarrow CO_2$।
বিজারণ: কোনো যৌগের সঙ্গে হাইড্রোজেন যুক্ত হওয়া অথবা কোনো যৌগ থেকে অক্সিজেন অপসারিত হওয়াকে বিজারণ বলে। যেমন: $CuO$ থেকে অক্সিজেন চলে গিয়ে $Cu$ হওয়া।

১৫. ম্যাঙ্গানিজ ডাইঅক্সাইডকে কেন হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের বিয়োজনে অনুঘটক বলা হয়?

উত্তর: হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড একা খুব ধীরে ভাঙে। কিন্তু $MnO_2$ যোগ করলে বিক্রিয়ার গতি বহুগুণ বেড়ে যায়। বিক্রিয়া শেষে $MnO_2$-কে ওজনে ও ধর্মে একই রকম ফিরে পাওয়া যায়। যেহেতু এটি বিক্রিয়ায় উপস্থিত থেকে বিক্রিয়ার বেগ বাড়ায় কিন্তু নিজে অপরিবর্তিত থাকে, তাই একে অনুঘটক বলা হয়।

১৬. দহন বিক্রিয়ার বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী?

উত্তর: দহন বিক্রিয়ার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
১. এটি একটি জারণ বিক্রিয়া (অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া)।
২. এটি একটি তীব্র তাপমোচী বিক্রিয়া, অর্থাৎ প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়।
৩. দহনের ফলে তাপের সাথে সাথে আলোক শক্তিও উৎপন্ন হয়। যেমন: কয়লা বা কার্বন পোড়ালে $CO_2$ ও তাপ উৎপন্ন হয়।

১৭. ইউরিয়েজ এনজাইম কীভাবে কাজ করে?

উত্তর: ইউরিয়েজ এনজাইম প্রধানত অড়হর ডালের মতো কিছু উদ্ভিদে থাকে। এটি ইউরিয়াকে দ্রুত ভেঙে অ্যামোনিয়া ও কার্বন ডাইঅক্সাইড তৈরি করতে সাহায্য করে। এই বিক্রিয়াটি এনজাইম ছাড়া অত্যন্ত ধীর গতিতে সম্পন্ন হতো। এটি একটি জৈব-রাসায়নিক অনুঘটন প্রক্রিয়ার উদাহরণ।

১৮. জারক ও বিজারক দ্রব্যের দুটি করে উদাহরণ দাও।

উত্তর:
জারক দ্রব্য: অক্সিজেন ($O_2$), ক্লোরিন ($Cl_2$), পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট ($KMnO_4$)। এরা অন্যকে জারিত করে নিজে বিজারিত হয়।
বিজারক দ্রব্য: হাইড্রোজেন ($H_2$), কার্বন ($C$), হাইড্রোজেন সালফাইড ($H_2S$)। এরা অন্যকে বিজারিত করে নিজে জারিত হয়।

১৯. চাপ প্রয়োগে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে এমন একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: খেলনা বন্দুকের ক্যাপের মধ্যে পটাশিয়াম ক্লোরেট ও সালফারের মিশ্রণ থাকে। যখন বন্দুকের ঘোড়া ক্যাপের ওপর সজোরে আঘাত করে, তখন তীব্র চাপের সৃষ্টি হয়। এই চাপের ফলে পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে দ্রুত রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, যার ফলে শব্দ ও তাপ উৎপন্ন হয়।

২০. চুনাপাথরকে উত্তপ্ত করলে কী ধরনের পরিবর্তন হয়?

উত্তর: চুনাপাথরকে (ক্যালসিয়াম কার্বনেট) উচ্চ তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে তা বিয়োজিত হয়ে পোড়াচুন (ক্যালসিয়াম অক্সাইড) ও কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন করে। এই বিক্রিয়াটি ঘটানোর জন্য বাইরে থেকে ক্রমাগত তাপ দিতে হয়, তাই এটি একটি তাপগ্রাহী বা তাপশোষী রাসায়নিক পরিবর্তনের উদাহরণ।

© WBBSE AI Engine - Class VIII Science Notes

অধ্যায় ২.৩: রাসায়নিক বিক্রিয়া

অধ্যায় ২.৩: রাসায়নিক বিক্রিয়া - প্রশ্ন ও উত্তর
Class VIII | পরিবেশ ও বিজ্ঞান WBBSE AI Engine

অধ্যায় ২.৩: রাসায়নিক বিক্রিয়া

পাঠ্যবইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও সমাধান।

রাসায়নিক বিক্রিয়ার শর্তসমূহ

প্রশ্ন ১: কিউপ্রিক নাইট্রেটের কেলাসকে তীব্র উত্তপ্ত করলে কী কী উৎপন্ন হয়? সমীকরণসহ লেখো।

উত্তর: কিউপ্রিক নাইট্রেটের নীল রঙের কেলাসকে তীব্র গরম করলে তা ভেঙে গিয়ে কালো রঙের কপার অক্সাইড (CuO), বাদামি রঙের নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড (NO₂) গ্যাস এবং অক্সিজেন (O₂) তৈরি হয়।

2Cu(NO₃)₂ → 2CuO + 4NO₂ + O₂ (তাপ প্রয়োগে)

প্রশ্ন ২: সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় আলোর ভূমিকা কী?

উত্তর: সালোকসংশ্লেষ একটি আলোক-রাসায়নিক বিক্রিয়া। উদ্ভিদ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে জল ও কার্বন ডাইঅক্সাইড ব্যবহার করে শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে। আলোকশক্তি ছাড়া এই বিক্রিয়া সম্ভব নয়।

প্রশ্ন ৩: শুষ্ক অবস্থায় খাবার সোডা ও টারটারিক অ্যাসিডের মধ্যে জল যোগ করলে কী ঘটে এবং কেন?

উত্তর: শুষ্ক অবস্থায় এদের মধ্যে কোনো বিক্রিয়া হয় না। কিন্তু জল যোগ করলে দ্রুত কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO₂) গ্যাসের বুদবুদ বের হতে থাকে। কারণ, এখানে জল দ্রাবক হিসেবে কাজ করে বিক্রিয়ক অণু বা আয়নগুলোকে পরস্পরের কাছে আসতে সাহায্য করে।

অনুঘটক ও এনজাইম

প্রশ্ন ৪: অনুঘটক কাকে বলে? এর একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: যেসব পদার্থ রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উপস্থিত থেকে বিক্রিয়ার বেগ বাড়ায় বা কমায় কিন্তু বিক্রিয়া শেষে নিজেরা ওজনে ও ধর্মে অপরিবর্তিত থাকে, তাদের অনুঘটক বলে।

উদাহরণ: হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড (H₂O₂) ভাঙার সময় ম্যাঙ্গানিজ ডাইঅক্সাইড (MnO₂) অনুঘটক হিসেবে কাজ করে বিক্রিয়ার বেগ বাড়ায়।

প্রশ্ন ৫: এনজাইম বা উৎসেচক কী? দুটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: জীবদেহে নানা রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটাতে সাহায্যকারী প্রোটিন জাতীয় জৈব অনুঘটককে এনজাইম বা উৎসেচক বলে।

  • ক্যাটালেজ: আলু বা লিভারের কোশে থাকে, যা H₂O₂ কে ভাঙে।
  • ইউরিয়েজ: অড়হর ডালে থাকে, যা ইউরিয়াকে ভেঙে অ্যামোনিয়া ও CO₂ তৈরি করে।

তাপমোচী ও তাপগ্রাহী বিক্রিয়া

প্রশ্ন ৬: তাপমোচী ও তাপগ্রাহী বিক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য উদাহরণসহ লেখো।

বৈশিষ্ট্যতাপমোচী (Exothermic)তাপগ্রাহী (Endothermic)
তাপের প্রভাবতাপ উৎপন্ন হয়।তাপ শোষিত হয়।
উদাহরণপোড়াচুনে জল দিলে তাপ উৎপন্ন হওয়া।নাইট্রোজেন ও অক্সিজেনের মিলনে নাইট্রিক অক্সাইড গঠন।

জারণ ও বিজারণ

প্রশ্ন ৭: ইলেকট্রনীয় মতবাদ অনুসারে জারণ ও বিজারণের সংজ্ঞা দাও।

জারণ: কোনো পরমাণু বা আয়ন দ্বারা ইলেকট্রন বর্জন (Loss) করাকে জারণ বলে। (যেমন: Na - e⁻ → Na⁺)

বিজারণ: কোনো পরমাণু বা আয়ন দ্বারা ইলেকট্রন গ্রহণ (Gain) করাকে বিজারণ বলে। (যেমন: Cl + e⁻ → Cl⁻)

প্রশ্ন ৮: CuO + H₂ → Cu + H₂O বিক্রিয়াটিতে জারক ও বিজারক দ্রব্য চিহ্নিত করো।

উত্তর:

  • জারক দ্রব্য: CuO (কারণ এটি নিজে বিজারিত হয়ে Cu-তে পরিণত হয়েছে)।
  • বিজারক দ্রব্য: H₂ (কারণ এটি নিজে জারিত হয়ে H₂O-তে পরিণত হয়েছে)।

পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ

প্রশ্ন ৯: কিউপ্রিক ক্লোরাইড (CuCl₂) দ্রবণে লোহার পেরেক ডোবালে কী পরিবর্তন দেখা যায়?

পর্যবেক্ষণ: পেরেকের গায়ে লালচে বাদামি আস্তরণ পড়ে।

সিদ্ধান্ত: লোহা তামা বা কপারকে প্রতিস্থাপিত করেছে। বিক্রিয়াটি হলো: Fe + CuCl₂ → FeCl₂ + Cu।

প্রশ্ন ১০: জিঙ্কের সাথে লঘু সালফিউরিক অ্যাসিডের বিক্রিয়ায় কোন গ্যাস উৎপন্ন হয় এবং তা কীভাবে বোঝা যায়?

উত্তর: হাইড্রোজেন গ্যাস (H₂) উৎপন্ন হয়। বুদবুদ আকারে গ্যাসটি বের হয় এবং এটি নীল শিখায় জ্বলে ওঠে।

© WBBSE Class VIII Environment & Science Study Material

অধ্যায় ২.৩: রাসায়নিক বিক্রিয়া

WBBSE Mock Test: রাসায়নিক বিক্রিয়া

WBBSE Mock Test

শ্রেণি: অষ্টম | অধ্যায় ২.৩: রাসায়নিক বিক্রিয়া

Progress
1/60

Loading question...

WBBSE Online Exam: রাসায়নিক বিক্রিয়া

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE)

অনলাইন মূল্যায়ন: ২০২৪

শ্রেণি: অষ্টম বিষয়: পরিবেশ ও বিজ্ঞান অধ্যায় ২.৩: রাসায়নিক বিক্রিয়া

বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) - ১০ নম্বর

১. কিউপ্রিক নাইট্রেটের কেলাসকে উত্তপ্ত করলে কোন রঙের অবশেষ পড়ে থাকে?

২. সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় কোন শক্তির প্রয়োজন হয়?

৩. খাবার সোডা ও টারটারিক অ্যাসিডের বিক্রিয়ায় দ্রাবক হিসেবে কাজ করে কোনটি?

৪. হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ($H_2O_2$) ভাঙতে কোন অনুঘটক ব্যবহৃত হয়?

৫. অড়হর ডালে কোন এনজাইম বা উৎসেচক থাকে?

৬. পোড়াচুনে জল দিলে কোন ধরনের বিক্রিয়া ঘটে?

৭. ইলেকট্রনীয় মতবাদ অনুযায়ী জারণ মানে হলো—

৮. $Cu^{2+} + 2e^- \rightarrow Cu$ — এটি কিসের উদাহরণ?

৯. জিঙ্কের সাথে লঘু সালফিউরিক অ্যাসিডের বিক্রিয়ায় কোন গ্যাস উৎপন্ন হয়?

১০. নিচের কোনটি একটি জারক দ্রব্য?

সংক্ষিপ্ত ও বড় উত্তরধর্মী প্রশ্ন (Descriptive)

১১. রাসায়নিক বিক্রিয়ায় তাপের প্রভাব একটি উদাহরণের সাহায্যে ব্যাখ্যা করো।

১২. দ্রাবক কীভাবে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটাতে সাহায্য করে? উদাহরণ দাও।

১৩. অনুঘটক কাকে বলে? এর দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।

১৪. এনজাইম বা উৎসেচক কী? জীবদেহে এর গুরুত্ব একটি উদাহরণের মাধ্যমে লেখো।

১৫. তাপমোচী ও তাপগ্রাহী বিক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য উদাহরণসহ লেখো।

১৬. ইলেকট্রনীয় মতবাদ অনুযায়ী জারণ ও বিজারণের সংজ্ঞা দাও।

১৭. $CuO + H_2 \rightarrow Cu + H_2O$ বিক্রিয়াটিতে কোনটি জারিত ও কোনটি বিজারিত হয়েছে দেখাও।

১৮. জলের তড়িৎ বিশ্লেষণ করলে কী কী উৎপন্ন হয়? সংশ্লিষ্ট বিক্রিয়াটি লেখো।

১৯. কিউপ্রিক ক্লোরাইড দ্রবণে লোহার পেরেক ডোবালে কী পর্যবেক্ষণ করবে? এটি কী ধরনের বিক্রিয়া?

২০. জারক দ্রব্য ও বিজারক দ্রব্য বলতে কী বোঝো? উদাহরণ দাও।

এই অধ্যায়ের নোট এবং প্রশ্ন ও উত্তর
অধ্যায় ২: তড়িতের রাসায়নিক প্রভাব - WBBSE
Class VIII | পরিবেশ ও বিজ্ঞান

অধ্যায় ২: মৌল, যৌগ ও রাসায়নিক বিক্রিয়া

৫. তড়িতের রাসায়নিক প্রভাব

তড়িৎ প্রবাহের ফলে অনেক সময় পদার্থের রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে। এই বিষয়টিকে তড়িৎ বিশ্লেষণ বলা হয়। নিচে এই প্রক্রিয়ার বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

তড়িৎ বিশ্লেষ্য (Electrolytes)

যারা গলিত বা জলে দ্রবীভূত অবস্থায় তড়িৎ পরিবহন করে এবং নতুন পদার্থ উৎপন্ন করে।

অ্যাসিড মিশ্রিত জল লবণ জল (NaCl) CuSO₄ দ্রবণ

তড়িৎ অবিশ্লেষ্য (Non-electrolytes)

যারা গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় তড়িৎ পরিবহন করতে পারে না।

চিনি/গ্লুকোজ দ্রবণ কেরোসিন অ্যালকোহল

৫.২ তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতি (Process of Electrolysis)

ভোল্টামিটার

যে পাত্রে বিশ্লেষণ করা হয়

ক্যাথোড (-)

ব্যাটারির নেগেটিভ প্রান্ত

অ্যানোড (+)

ব্যাটারির পজিটিভ প্রান্ত

জলের তড়িৎ বিশ্লেষণ (৫.৩)

সামান্য সালফিউরিক অ্যাসিড যোগ করলে জল দ্রুত আয়নে ভেঙে যায়।

H₂ ক্যাথোড
:
O₂ অ্যানোড
২ : ১ আয়তন অনুপাত

৫.৪ তড়িৎ লেপন (Electroplating)

অপেক্ষাকৃত বেশি সক্রিয় ধাতুর (লোহা, তামা) ওপর কম সক্রিয় ধাতুর (সোনা, রুপো, নিকেল) প্রলেপ দেওয়ার পদ্ধতি। উদ্দেশ্য: মরচে থেকে রক্ষা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি।

অ্যানোড হিসেবে

যে ধাতুর প্রলেপ দিতে হবে

ক্যাথোড হিসেবে

যে বস্তুর ওপর প্রলেপ পড়বে

বস্তু (ক্যাথোড)প্রলেপ (অ্যানোড)তড়িৎ বিশ্লেষ্য (লবণ)
লোহার চামচনিকেলনিকেল সালফেট ও বোরিক অ্যাসিড
লোহার গয়নাসোনাপটাশিয়াম অরোসায়ানাইড
তামা বা পিতলরুপোপটাশিয়াম আর্জেন্টোসায়ানাইড

৬. গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ

জিঙ্ক (Zn) ও লঘু সালফিউরিক অ্যাসিডের বিক্রিয়া

পর্যবেক্ষণ

বুদবুদ আকারে গ্যাস বের হয়, যা নীল শিখায় জ্বলে।

সিদ্ধান্ত

হাইড্রোজেন গ্যাস (H₂) উৎপন্ন হয়েছে।
CuCl₂ দ্রবণে লোহার পেরেক ডোবানো

পর্যবেক্ষণ

পেরেকের গায়ে লালচে বাদামি আস্তরণ পড়ে।

সিদ্ধান্ত

লোহা তামা বা কপারকে প্রতিস্থাপিত করেছে।

© WBBSE AI Engine - Class VIII Science Interactive Module

WBBSE Class 8 Science Notes - Chapter 2.5

পরিবেশ ও বিজ্ঞান: অষ্টম শ্রেণি

অধ্যায় ২: মৌল, যৌগ ও রাসায়নিক বিক্রিয়া

৫. তড়িতের রাসায়নিক প্রভাব

WBBSE AI Engine - Study Notes

PART A সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (Short Answer Questions - 20)

১. তড়িৎ বিশ্লেষণ কাকে বলে?

উত্তর: তড়িৎ প্রবাহের ফলে পদার্থের যে রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে, তাকে তড়িৎ বিশ্লেষণ বলা হয়।

২. তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ বলতে কী বোঝো?

উত্তর: যে সব পদার্থ গলিত বা জলে দ্রবীভূত অবস্থায় তড়িৎ পরিবহন করে এবং নতুন পদার্থ উৎপন্ন করে, তাদের তড়িৎ বিশ্লেষ্য বলে।

৩. দুটি তড়িৎ অবিশ্লেষ্য পদার্থের উদাহরণ দাও।

উত্তর: চিনি বা গ্লুকোজের দ্রবণ এবং কেরোসিন।

৪. ভোল্টামিটার কী?

উত্তর: যে পাত্রে তড়িৎ বিশ্লেষণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়, তাকে ভোল্টামিটার বলে।

৫. ক্যাথোড কাকে বলে?

উত্তর: তড়িৎ বিশ্লেষণে ব্যাটারির নেগেটিভ (-) প্রান্তের সাথে যুক্ত তড়িৎদ্বারকে ক্যাথোড বলে।

৬. অ্যানোড কাকে বলে?

উত্তর: তড়িৎ বিশ্লেষণে ব্যাটারির পজিটিভ (+) প্রান্তের সাথে যুক্ত তড়িৎদ্বারকে অ্যানোড বলে।

৭. ক্যাটায়ন কী এবং এটি কোন দিকে যায়?

উত্তর: পজিটিভ আয়নকে ক্যাটায়ন বলে। এটি ক্যাথোডের দিকে যায়।

৮. অ্যানায়ন কী এবং এটি কোন দিকে যায়?

উত্তর: নেগেটিভ আয়নকে অ্যানায়ন বলে। এটি অ্যানোডের দিকে যায়।

৯. জলের তড়িৎ বিশ্লেষণে ক্যাথোডে কোন গ্যাস উৎপন্ন হয়?

উত্তর: হাইড্রোজেন গ্যাস (H₂)।

১০. জলের তড়িৎ বিশ্লেষণে অ্যানোডে কোন গ্যাস উৎপন্ন হয়?

উত্তর: অক্সিজেন গ্যাস (O₂)।

১১. উৎপন্ন হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের আয়তনের অনুপাত কত?

উত্তর: ২ : ১।

১২. তড়িৎ লেপন কাকে বলে?

উত্তর: তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতিতে সক্রিয় ধাতুর ওপর কম সক্রিয় ধাতুর প্রলেপ দেওয়াকে তড়িৎ লেপন বলে।

১৩. লোহার ওপর নিকেলের প্রলেপ দিতে তড়িৎ বিশ্লেষ্য হিসেবে কী ব্যবহৃত হয়?

উত্তর: নিকেল সালফেট ও বোরিক অ্যাসিড।

১৪. সোনার প্রলেপ দিতে কোন তড়িৎ বিশ্লেষ্য ব্যবহৃত হয়?

উত্তর: পটাশিয়াম অরোসায়ানাইড।

১৫. রুপোর প্রলেপ দিতে তড়িৎ বিশ্লেষ্য হিসেবে কী নেওয়া হয়?

উত্তর: পটাশিয়াম আর্জেন্টোসায়ানাইড।

১৬. জিঙ্কের সাথে লঘু সালফিউরিক অ্যাসিডের বিক্রিয়ায় কোন গ্যাস উৎপন্ন হয়?

উত্তর: হাইড্রোজেন গ্যাস (H₂)।

১৭. কিউপ্রিক ক্লোরাইড দ্রবণে লোহার পেরেক রাখলে কী রঙের আস্তরণ পড়ে?

উত্তর: লালচে বাদামি আস্তরণ (তামার আস্তরণ)।

১৮. স্টার্চ পেপার নীল হয় কোন বিক্রিয়ায়?

উত্তর: পটাশিয়াম আয়োডাইড ও হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের বিক্রিয়ায় মুক্ত আয়োডিনের উপস্থিতিতে।

১৯. তড়িৎ লেপনের একটি উদ্দেশ্য লেখো।

উত্তর: ধাতুকে মরচে পড়া বা ক্ষয় থেকে রক্ষা করা।

২০. তড়িৎ লেপনে যে বস্তুর ওপর প্রলেপ দিতে হবে তাকে কী হিসেবে ব্যবহার করা হয়?

উত্তর: ক্যাথোড হিসেবে।

PART B দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্ন (Long Answer Questions - 20)

১. তড়িৎ বিশ্লেষ্য ও অবিশ্লেষ্য পদার্থের মধ্যে পার্থক্য উদাহরণসহ বুঝিয়ে লেখো।

উত্তর: তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থগুলি গলিত বা জলে দ্রবীভূত অবস্থায় তড়িৎ পরিবহন করতে পারে এবং এর ফলে নতুন রাসায়নিক পদার্থ উৎপন্ন হয়। যেমন: লবণ জল (NaCl), কপার সালফেট দ্রবণ। অন্যদিকে, তড়িৎ অবিশ্লেষ্য পদার্থগুলি গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় তড়িৎ পরিবহন করতে পারে না। যেমন: চিনি বা গ্লুকোজের দ্রবণ, কেরোসিন।

২. তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতিতে ক্যাথোড ও অ্যানোডের ভূমিকা আলোচনা করো।

উত্তর: তড়িৎ বিশ্লেষণে ব্যাটারির নেগেটিভ প্রান্তের সাথে যুক্ত দণ্ডটি হলো ক্যাথোড এবং পজিটিভ প্রান্তের সাথে যুক্ত দণ্ডটি হলো অ্যানোড। দ্রবণে থাকা পজিটিভ আয়ন বা ক্যাটায়নগুলি ক্যাথোডের দিকে আকৃষ্ট হয় এবং সেখানে ইলেকট্রন গ্রহণ করে। একইভাবে নেগেটিভ আয়ন বা অ্যানায়নগুলি অ্যানোডের দিকে যায় এবং ইলেকট্রন বর্জন করে। এভাবেই তড়িৎ প্রবাহের মাধ্যমে রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে।

৩. জলের তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতিটি সংক্ষেপে বর্ণনা করো।

উত্তর: বিশুদ্ধ জল তড়িতের সুপরিবাহী নয়, তাই এতে সামান্য সালফিউরিক অ্যাসিড যোগ করা হয় যাতে জল দ্রুত আয়নে ভেঙে যায়। এরপর ভোল্টামিটারে তড়িৎ চালনা করলে ক্যাথোডে হাইড্রোজেন গ্যাস এবং অ্যানোডে অক্সিজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়। এই প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের আয়তনের অনুপাত হয় ২:১।

৪. তড়িৎ লেপন কাকে বলে? এর প্রধান উদ্দেশ্যগুলি কী কী?

উত্তর: তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতি ব্যবহার করে অপেক্ষাকৃত বেশি সক্রিয় ধাতুর (যেমন লোহা) ওপর কম সক্রিয় ধাতুর (যেমন সোনা, নিকেল) প্রলেপ দেওয়ার পদ্ধতিকে তড়িৎ লেপন বলে। এর প্রধান দুটি উদ্দেশ্য হলো: ১. ধাতুকে মরচে পড়া বা বায়ুমণ্ডলের কারণে হওয়া ক্ষয় থেকে রক্ষা করা। ২. ধাতব বস্তুর সৌন্দর্য ও স্থায়িত্ব বাড়ানো।

৫. তড়িৎ লেপনের সাধারণ নিয়মগুলি উল্লেখ করো।

উত্তর: তড়িৎ লেপনের তিনটি প্রধান নিয়ম হলো: ১. যে ধাতুর প্রলেপ দিতে হবে, তাকে অ্যানোড হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। ২. যে বস্তুর ওপর প্রলেপ দিতে হবে, তাকে ক্যাথোড হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। ৩. তড়িৎ বিশ্লেষ্য হিসেবে ওই প্রলেপ দেওয়ার ধাতুর কোনো দ্রবণ বা লবণ ব্যবহার করতে হবে।

৬. লোহার চামচের ওপর নিকেলের প্রলেপ দেওয়ার পদ্ধতিটি লেখো।

উত্তর: লোহার চামচের ওপর নিকেলের প্রলেপ দিতে হলে: ১. ক্যাথোড হিসেবে লোহার চামচটিকে নিতে হবে। ২. অ্যানোড হিসেবে বিশুদ্ধ নিকেলের দণ্ড নিতে হবে। ৩. তড়িৎ বিশ্লেষ্য হিসেবে নিকেল সালফেট ও সামান্য বোরিক অ্যাসিডের মিশ্রণ ব্যবহার করতে হবে। তড়িৎ চালনা করলে লোহার চামচের ওপর নিকেলের আস্তরণ পড়বে।

৭. লোহার গয়নায় সোনার প্রলেপ (Gold Plating) কীভাবে দেওয়া হয়?

উত্তর: লোহার গয়নায় সোনার প্রলেপ দিতে হলে ক্যাথোড হিসেবে লোহার গয়না এবং অ্যানোড হিসেবে বিশুদ্ধ সোনার পাত ব্যবহার করা হয়। তড়িৎ বিশ্লেষ্য হিসেবে পটাশিয়াম অরোসায়ানাইড দ্রবণ ব্যবহার করা হয়। তড়িৎ প্রবাহের ফলে সোনার আয়নগুলি ক্যাথোডে গিয়ে লোহার গয়নার ওপর জমা হয়।

৮. তামা বা পিতলের ওপর রুপোর প্রলেপ দেওয়ার জন্য কী কী প্রয়োজন?

উত্তর: তামা বা পিতলের ওপর রুপোর প্রলেপ দিতে হলে ক্যাথোড হিসেবে তামা বা পিতলের বস্তু এবং অ্যানোড হিসেবে বিশুদ্ধ রুপোর পাত নিতে হবে। তড়িৎ বিশ্লেষ্য হিসেবে পটাশিয়াম আর্জেন্টোসায়ানাইড দ্রবণ ব্যবহার করতে হবে।

৯. জিঙ্ক ও লঘু সালফিউরিক অ্যাসিডের বিক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণসহ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: জিঙ্ক (Zn) এর সাথে লঘু সালফিউরিক অ্যাসিড (H₂SO₄) যোগ করলে দেখা যায় যে বুদবুদ আকারে গ্যাস নির্গত হচ্ছে। এই গ্যাসটি নীল শিখায় জ্বলে ওঠে, যা প্রমাণ করে যে উৎপন্ন গ্যাসটি হলো হাইড্রোজেন (H₂)। এটি একটি রাসায়নিক পরিবর্তনের উদাহরণ।

১০. কিউপ্রিক ক্লোরাইড দ্রবণে লোহার পেরেক ডোবালে কী ঘটে এবং কেন?

উত্তর: কিউপ্রিক ক্লোরাইড (CuCl₂) দ্রবণে লোহার পেরেক ডোবালে পেরেকের গায়ে লালচে বাদামি আস্তরণ পড়ে। এর কারণ হলো লোহা (Fe) তামা (Cu) অপেক্ষা বেশি সক্রিয় হওয়ায় দ্রবণ থেকে তামা বা কপারকে প্রতিস্থাপিত করে। বিক্রিয়াটি হলো: Fe + CuCl₂ → FeCl₂ + Cu।

১১. পটাশিয়াম আয়োডাইড ও হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের বিক্রিয়াটি বুঝিয়ে লেখো।

উত্তর: পটাশিয়াম আয়োডাইড (KI) ও হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড (H₂O₂) এর বিক্রিয়ায় আয়োডিন মুক্ত হয়। এই মুক্ত আয়োডিনের উপস্থিতিতে স্টার্চ পেপার নীল বর্ণ ধারণ করে। এখানে H₂O₂ জারক দ্রব্য হিসেবে কাজ করে KI কে জারিত করে আয়োডিন উৎপন্ন করে।

১২. তড়িৎ বিশ্লেষণে আয়ন কীভাবে তড়িৎ পরিবহন করে?

উত্তর: তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ দ্রবীভূত বা গলিত অবস্থায় ক্যাটায়ন (পজিটিভ) এবং অ্যানায়ন (নেগেটিভ) এ বিভক্ত হয়ে যায়। যখন তড়িৎদ্বার দুটির মাধ্যমে বিদ্যুৎ চালনা করা হয়, তখন ক্যাটায়নগুলি ক্যাথোডের দিকে এবং অ্যানায়নগুলি অ্যানোডের দিকে ছুটতে থাকে। আয়নের এই গতির মাধ্যমেই দ্রবণের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হয়।

১৩. বিশুদ্ধ জল তড়িৎ পরিবহন করে না কেন? কীভাবে একে পরিবাহী করা যায়?

উত্তর: বিশুদ্ধ জলে মুক্ত আয়নের সংখ্যা অত্যন্ত কম থাকে, তাই এটি তড়িৎ পরিবহন করতে পারে না। জলে সামান্য অ্যাসিড (যেমন H₂SO₄) বা ক্ষার বা লবণ যোগ করলে জল আয়নে ভেঙে যায় এবং তড়িৎ পরিবহনের উপযোগী হয়।

১৪. তড়িৎ লেপনের মাধ্যমে কীভাবে লোহার স্থায়িত্ব বাড়ানো যায়?

উত্তর: লোহা খুব সহজেই বায়ুর অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্পের সাথে বিক্রিয়া করে মরচে উৎপন্ন করে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। তড়িৎ লেপন পদ্ধতিতে লোহার ওপর নিকেল, ক্রোমিয়াম বা টিনের মতো কম সক্রিয় ধাতুর প্রলেপ দিলে লোহা সরাসরি বায়ুর সংস্পর্শে আসতে পারে না, ফলে মরচে পড়ে না এবং স্থায়িত্ব বাড়ে।

১৫. ক্যাটায়ন ও অ্যানায়নের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর: ১. ক্যাটায়ন হলো পজিটিভ আধানযুক্ত আয়ন, আর অ্যানায়ন হলো নেগেটিভ আধানযুক্ত আয়ন। ২. তড়িৎ বিশ্লেষণের সময় ক্যাটায়ন ক্যাথোডের দিকে যায়, কিন্তু অ্যানায়ন অ্যানোডের দিকে যায়। ৩. ক্যাটায়ন ইলেকট্রন গ্রহণ করে নিস্তড়িৎ হয়, আর অ্যানায়ন ইলেকট্রন বর্জন করে নিস্তড়িৎ হয়।

১৬. তড়িৎ বিশ্লেষণের ব্যবহারিক প্রয়োগগুলি সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর: তড়িৎ বিশ্লেষণের প্রধান ব্যবহারিক প্রয়োগগুলি হলো: ১. তড়িৎ লেপন (ধাতুর প্রলেপ দেওয়া), ২. আকরিক থেকে ধাতু নিষ্কাশন, ৩. ধাতুর বিশোধন এবং ৪. বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ (যেমন হাইড্রোজেন, অক্সিজেন গ্যাস) উৎপাদন।

১৭. তড়িৎ বিশ্লেষণে কেন সমপ্রবাহ (DC) ব্যবহার করা হয়?

উত্তর: তড়িৎ বিশ্লেষণে একটি নির্দিষ্ট তড়িৎদ্বারে নির্দিষ্ট আয়নকে জমা করতে হয়। সমপ্রবাহ বা DC তড়িতের মেরু (পজিটিভ ও নেগেটিভ) স্থির থাকে, ফলে ক্যাটায়ন ও অ্যানায়ন নির্দিষ্ট দিকে চলাচল করতে পারে। পরিবর্তী প্রবাহ (AC) ব্যবহার করলে মেরু বারবার পরিবর্তিত হবে এবং বিশ্লেষণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে।

১৮. কপার সালফেট দ্রবণের তড়িৎ বিশ্লেষণে কী ঘটে?

উত্তর: কপার সালফেট (CuSO₄) দ্রবণে তড়িৎ চালনা করলে এটি Cu²⁺ এবং SO₄²⁻ আয়নে ভেঙে যায়। Cu²⁺ আয়নগুলি ক্যাথোডে গিয়ে ইলেকট্রন গ্রহণ করে তামা হিসেবে জমা হয়। এর ফলে ক্যাথোডের ওজন বাড়ে।

১৯. তড়িৎ লেপনের সময় অ্যানোডটি কেন ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়?

উত্তর: তড়িৎ লেপনের সময় অ্যানোড হিসেবে বিশুদ্ধ ধাতুর পাত নেওয়া হয়। বিক্রিয়া চলাকালীন অ্যানোড থেকে ধাতু পরমাণু ইলেকট্রন বর্জন করে আয়নে পরিণত হয়ে দ্রবণে মিশতে থাকে। এই আয়নগুলি আবার ক্যাথোডে গিয়ে জমা হয়। তাই অ্যানোডটি ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।

২০. তড়িৎ বিশ্লেষণের মাধ্যমে রাসায়নিক শক্তি কীভাবে রূপান্তরিত হয়?

উত্তর: তড়িৎ বিশ্লেষণে বাইরে থেকে তড়িৎ শক্তি সরবরাহ করা হয়। এই তড়িৎ শক্তি দ্রবণের মধ্যে থাকা অণু বা আয়নগুলির মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটায়। অর্থাৎ, এখানে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয় এবং নতুন ধর্মবিশিষ্ট পদার্থ উৎপন্ন করে।

© 2023 WBBSE AI Engine. প্রস্তুতকৃত নোটস - ক্লাস ৮ বিজ্ঞান।
WBBSE Activities - তড়িতের রাসায়নিক প্রভাব
CLASS VIII পরিবেশ ও বিজ্ঞান

অধ্যায় ২: মৌল, যৌগ ও রাসায়নিক বিক্রিয়া

৫. তড়িতের রাসায়নিক প্রভাব (Activities)

মৌলিক ধারণা ও সংজ্ঞা

প্রশ্ন ১: তড়িৎ বিশ্লেষণ কাকে বলে?

উত্তর: তড়িৎ প্রবাহের ফলে অনেক সময় পদার্থের যে রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে, সেই বিষয়টিকে তড়িৎ বিশ্লেষণ বলা হয়।

প্রশ্ন ২: তড়িৎ বিশ্লেষ্য ও তড়িৎ অবিশ্লেষ্য পদার্থের মধ্যে পার্থক্য উদাহরণসহ লেখো।

উত্তর:

  • তড়িৎ বিশ্লেষ্য: যারা গলিত বা জলে দ্রবীভূত অবস্থায় তড়িৎ পরিবহন করে এবং নতুন পদার্থ উৎপন্ন করে। যেমন: অ্যাসিড মিশ্রিত জল, লবণ জল (NaCl), কপার সালফেট দ্রবণ।
  • তড়িৎ অবিশ্লেষ্য: যারা গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় তড়িৎ পরিবহন করতে পারে না। যেমন: চিনি বা গ্লুকোজের দ্রবণ, কেরোসিন, অ্যালকোহল।

তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতি

ভোল্টামিটার কী?

যে পাত্রে তড়িৎ বিশ্লেষণ করা হয় তাকে ভোল্টামিটার বলে।

তড়িৎদ্বার কয় প্রকার ও কী কী?

তড়িৎদ্বার দুই প্রকার:
১. ক্যাথোড: ব্যাটারির নেগেটিভ (-) প্রান্তের সাথে যুক্ত।
২. অ্যানোড: ব্যাটারির পজিটিভ (+) প্রান্তের সাথে যুক্ত।

ক্যাটায়ন ও অ্যানায়ন কাকে বলে?

তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ দ্রবীভূত অবস্থায় আয়নে ভেঙে যায়। পজিটিভ আয়নকে ক্যাটায়ন (ক্যাথোডের দিকে যায়) এবং নেগেটিভ আয়নকে অ্যানায়ন (অ্যানোডের দিকে যায়) বলে।

জলের তড়িৎ বিশ্লেষণে কী ঘটে?

সামান্য অ্যাসিড মিশ্রিত জলের তড়িৎ বিশ্লেষণে ক্যাথোডে হাইড্রোজেন গ্যাস ($H_2$) এবং অ্যানোডে অক্সিজেন গ্যাস ($O_2$) উৎপন্ন হয়। এদের আয়তনের অনুপাত ২ : ১।

তড়িৎ লেপন (Electroplating)

প্রশ্ন: তড়িৎ লেপন কাকে বলে? এর উদ্দেশ্য ও নিয়মগুলি লেখো।

সংজ্ঞা: তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতিতে অপেক্ষাকৃত বেশি সক্রিয় ধাতুর ওপর কম সক্রিয় ধাতুর প্রলেপ দেওয়ার পদ্ধতিকে তড়িৎ লেপন বলে।

উদ্দেশ্য: ধাতুকে মরচে পড়া বা ক্ষয় থেকে রক্ষা করা এবং সৌন্দর্য বাড়ানো।

তড়িৎ লেপনের নিয়ম:

  • যে ধাতুর প্রলেপ দিতে হবে, তাকে অ্যানোড হিসেবে ব্যবহার করতে হয়।
  • যে বস্তুর ওপর প্রলেপ দিতে হবে, তাকে ক্যাথোড হিসেবে ব্যবহার করতে হয়।
  • তড়িৎ বিশ্লেষ্য হিসেবে ওই প্রলেপ দেওয়ার ধাতুর কোনো দ্রবণ ব্যবহার করতে হয়।
বস্তুযার প্রলেপ দেওয়া হয়তড়িৎ বিশ্লেষ্য (লবণ)
লোহার চামচনিকেলনিকেল সালফেট ও বোরিক অ্যাসিড
লোহার গয়নাসোনাপটাশিয়াম অরোসায়ানাইড
তামা বা পিতলরুপোপটাশিয়াম আর্জেন্টোসায়ানাইড

পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ

প্রশ্ন: কিউপ্রিক ক্লোরাইড ($CuCl_2$) দ্রবণে লোহার পেরেক ডোবালে কী ঘটে এবং কেন?

উত্তর: পেরেকের গায়ে লালচে বাদামি আস্তরণ পড়ে। কারণ লোহা তামা বা কপারকে প্রতিস্থাপিত করেছে। বিক্রিয়াটি হলো: $Fe + CuCl_2 \rightarrow FeCl_2 + Cu$।

প্রশ্ন: জিঙ্ক ($Zn$) ও লঘু সালফিউরিক অ্যাসিডের বিক্রিয়ায় কী পর্যবেক্ষণ করা যায়?

উত্তর: বুদবুদ আকারে গ্যাস বের হয়, যা নীল শিখায় জ্বলে। এর থেকে প্রমাণিত হয় যে হাইড্রোজেন গ্যাস ($H_2$) উৎপন্ন হয়েছে।

WBBSE AI Engine • অধ্যায় ২: মৌল, যৌগ ও রাসায়নিক বিক্রিয়া • Class VIII Science
WBBSE Mock Test - Class VIII Science

WBBSE AI Engine: Mock Test

অধ্যায় ২: মৌল, যৌগ ও রাসায়নিক বিক্রিয়া (তড়িতের রাসায়নিক প্রভাব)

শ্রেণি: অষ্টম | বিষয়: পরিবেশ ও বিজ্ঞান
প্রশ্ন: 1 / 60

লোড হচ্ছে...

WBBSE Online Exam - তড়িতের রাসায়নিক প্রভাব
WBBSE Online Assessment

পরিবেশ ও বিজ্ঞান: অষ্টম শ্রেণি

অধ্যায় ২: মৌল, যৌগ ও রাসায়নিক বিক্রিয়া (তড়িতের রাসায়নিক প্রভাব)

সময়: ৪৫ মিনিট পূর্ণমান: ৫০

বহুবিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ) - সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো:

১. নিচের কোনটি একটি তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ?

২. জলের তড়িৎ বিশ্লেষণে ক্যাথোডে কোন গ্যাস উৎপন্ন হয়?

৩. ব্যাটারির পজিটিভ (+) প্রান্তের সাথে যুক্ত দণ্ডকে কী বলা হয়?

৪. জলের তড়িৎ বিশ্লেষণে উৎপন্ন হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের আয়তনের অনুপাত কত?

৫. লোহার ওপর নিকেলের প্রলেপ দিতে তড়িৎ বিশ্লেষ্য হিসেবে কী ব্যবহৃত হয়?

৬. তড়িৎ লেপনের সময় যে বস্তুর ওপর প্রলেপ দিতে হবে তাকে কী হিসেবে ব্যবহার করা হয়?

৭. পজিটিভ আয়নকে কী বলা হয়?

৮. জিঙ্ক ও লঘু সালফিউরিক অ্যাসিডের বিক্রিয়ায় কোন গ্যাস উৎপন্ন হয়?

৯. কিউপ্রিক ক্লোরাইড দ্রবণে লোহার পেরেক ডোবালে পেরেকের ওপর কী রঙের আস্তরণ পড়ে?

১০. পটাশিয়াম আয়োডাইড ও হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের বিক্রিয়ায় কোনটি মুক্ত হয়?

সংক্ষিপ্ত ও বড় উত্তরধর্মী প্রশ্ন:

১১. তড়িৎ বিশ্লেষ্য ও তড়িৎ অবিশ্লেষ্য পদার্থ বলতে কী বোঝো? উদাহরণ দাও।

১২. ভোল্টামিটার ও তড়িৎদ্বার কাকে বলে?

১৩. জলের তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতিটি সংক্ষেপে বর্ণনা করো।

১৪. তড়িৎ লেপন কাকে বলে? এর প্রধান উদ্দেশ্য কী?

১৫. তড়িৎ লেপনের সময় অ্যানোড ও ক্যাথোড নির্বাচনের নিয়মগুলি লেখো।

১৬. লোহার গয়নার ওপর সোনার প্রলেপ দিতে হলে অ্যানোড, ক্যাথোড ও তড়িৎ বিশ্লেষ্য হিসেবে কী কী ব্যবহার করবে?

১৭. ক্যাটায়ন ও অ্যায়ন কাকে বলে? এরা কোন তড়িৎদ্বারের দিকে অগ্রসর হয়?

১৮. কিউপ্রিক ক্লোরাইড দ্রবণে লোহার পেরেক ডুবিয়ে রাখলে কী পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়? সমীকরণসহ লেখো।

১৯. হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ও পটাশিয়াম আয়োডাইডের বিক্রিয়ায় স্টার্চ পেপার কেন নীল হয়?

২০. তড়িৎ লেপনের দুটি ব্যবহারিক উদাহরণ দাও।

অধ্যায় ২: মৌল, যৌগ ও রাসায়নিক বিক্রিয়া - প্রশ্নোত্তর
Class VIII পরিবেশ ও বিজ্ঞান

অধ্যায় ২: মৌল, যৌগ ও রাসায়নিক বিক্রিয়া

পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর ও অনুশীলন

২.১ পদার্থের প্রকৃতি ও পরমাণুর গঠন

প্রশ্ন ১: ডালটনের পরমাণুবাদ অনুযায়ী পদার্থের অবিভাজ্য কণা কোনটি?

উত্তর: ডালটনের পরমাণুবাদ অনুযায়ী পদার্থের অবিভাজ্য কণা হলো পরমাণু

প্রশ্ন ২: আধুনিক বিজ্ঞান অনুযায়ী পরমাণুর প্রধান তিনটি স্থায়ী কণা কী কী?

উত্তর: পরমাণুর তিনটি স্থায়ী কণা হলো— ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন

প্রশ্ন ৩: নিউক্লিয়াস কাকে বলে? এতে কোন কোন কণা থাকে?

উত্তর: পরমাণুর কেন্দ্রে অবস্থিত অংশকে নিউক্লিয়াস বলে। এতে প্রোটন (+)নিউট্রন (তড়িৎ নিরপেক্ষ) থাকে।

প্রশ্ন ৪: পারমাণবিক সংখ্যা ও ভরসংখ্যার সংজ্ঞা দাও। এদের মধ্যে সম্পর্ক কী?

উত্তর:
পারমাণবিক সংখ্যা: কোনো মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটন সংখ্যাকে ওই মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বলে।
ভরসংখ্যা: কোনো পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যার সমষ্টিকে ভরসংখ্যা বলে।
সম্পর্ক: ভরসংখ্যা = প্রোটন সংখ্যা + নিউট্রন সংখ্যা।

২.২ আইসোটোপ ও যোজ্যতা

প্রশ্ন ৫: আইসোটোপ কাকে বলে? হাইড্রোজেনের তিনটি আইসোটোপের নাম লেখো।

উত্তর: একই মৌলের ভিন্ন ভিন্ন পরমাণু যাদের পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা আলাদা, তাদের আইসোটোপ বলে। হাইড্রোজেনের তিনটি আইসোটোপ হলো— প্রোটিয়াম, ডয়টেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম

প্রশ্ন ৬: যোজ্যতা বলতে কী বোঝো?

উত্তর: একটি মৌলের পরমাণু অপর একটি মৌলের পরমাণুর সাথে যুক্ত হওয়ার ক্ষমতাকে যোজ্যতা বলে। সাধারণত হাইড্রোজেনের সাপেক্ষে এটি মাপা হয়।

২.৩ রাসায়নিক বিক্রিয়া ও শক্তি

প্রশ্ন ৭: তাপমোচী ও তাপগ্রাহী বিক্রিয়া কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তর:
তাপমোচী বিক্রিয়া: যে রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে তাপ উৎপন্ন হয়। যেমন— পোড়াচুন ও জলের বিক্রিয়া।
তাপগ্রাহী বিক্রিয়া: যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় তাপ শোষিত হয়। যেমন— নাইট্রোজেন ও অক্সিজেনের বিক্রিয়ায় নাইট্রিক অক্সাইড তৈরি।

প্রশ্ন ৮: অনুঘটক কী? একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: যে পদার্থ রাসায়নিক বিক্রিয়ার উপস্থিত থেকে বিক্রিয়ার হারকে বাড়ায় বা কমায় কিন্তু নিজে অপরিবর্তিত থাকে, তাকে অনুঘটক বলে। যেমন— পটাশিয়াম ক্লোরেট থেকে অক্সিজেন তৈরিতে ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।

২.৪ তড়িৎ বিশ্লেষণ (Electrolysis)

প্রশ্ন ৯: তড়িৎ বিশ্লেষণ কাকে বলে? ক্যাথোড ও অ্যানোড কী?

উত্তর: গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় কোনো যৌগের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত করলে যৌগটি বিশ্লেষিত হয়ে নতুন পদার্থ উৎপন্ন করে, একে তড়িৎ বিশ্লেষণ বলে।
ক্যাথোড: ঋণাত্মক (-) তড়িৎদ্বার।
অ্যানোড: ধনাত্মক (+) তড়িৎদ্বার।

প্রশ্ন ১০: তড়িৎ বিশ্লেষণের দুটি প্রয়োগ লেখো।

উত্তর: তড়িৎ বিশ্লেষণের দুটি প্রয়োগ হলো— ১. তড়িৎ লেপন (Electroplating) এবং ২. ধাতু নিষ্কাশন ও শোধন।

© WBBSE AI Engine - Class VIII Science Study Material

WBBSE Mock Test - Class VIII Science

WBBSE AI Engine: Mock Test

অষ্টম শ্রেণি | পরিবেশ ও বিজ্ঞান

অধ্যায় ২: মৌল, যৌগ ও রাসায়নিক বিক্রিয়া

মোট প্রশ্ন: ৬০ সময়: ৬০ মিনিট
WBBSE Online Exam - Class VIII Science

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE)

অনলাইন মূল্যায়ন: পরিবেশ ও বিজ্ঞান

শ্রেণি: অষ্টম | অধ্যায় ২: মৌল, যৌগ ও রাসায়নিক বিক্রিয়া

মোট প্রশ্ন: ২০ পূর্ণমান: ৫০

I বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) - সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো:

II সংক্ষিপ্ত ও দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্ন:

সব উত্তর দেওয়া হয়ে গেলে 'Submit Exam' বাটনে ক্লিক করো।

    BISWAZ GROWTH ACADEMY - Free WBBSE Class 1 to 10 Books

    Biswaz Growth Academy: Free WBBSE Books & Study Materials

    Welcome to biswaz.com, your premier destination for high-quality educational resources. Explore our comprehensive library of West Bengal Board (WBBSE) textbooks from Class 1 to Class 10. Whether you are looking for Amar Boi, Sahaj Path, Ganit Prabha, Butterfly, Bliss, or Amader Paribesh, we provide easily accessible PDF downloads to support student growth, learning, and exam preparation.

    WBBSE Books PDF Download Class 1 to 10 Syllabus West Bengal Board Solutions Free School Textbooks Biswaz Educational Portal

    Biswaz Growth

    Academy Portal

    Select a Class

    0 items