Day 1: (AMADER PRITHIBI) PRITHIBIR ANDARMAHAL CHAPTER NOTES
অধ্যায় ১: পৃথিবীর অন্দরমহল
ভূপৃষ্ঠের নিচে লুকিয়ে থাকা রহস্যের সন্ধান
পৃথিবীর ব্যাসার্ধ
৬,৩৭০ কিমি
গভীরতম গর্ত
রাশিয়ার কোলা উপদ্বীপের ১২ কিমি গভীর গর্তটি মানুষের তৈরি গভীরতম ছিদ্র।
উষ্ণতা বৃদ্ধি
প্রতি ৩৩ মিটার গভীরতায় প্রায় ১° সেলসিয়াস করে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে।
ভূ-তাপ শক্তি
আইসল্যান্ড তাদের বিদ্যুতের বড় অংশ এই ভূ-তাপ শক্তি থেকে পায়।
পৃথিবীর স্তরবিন্যাস
সবচেয়ে বাইরের পাতলা স্তর
- সিয়াল (SIAL): সিলিকা ও অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি মহাদেশীয় ভূত্বক।
- সিমা (SIMA): সিলিকা ও ম্যাগনেসিয়াম দিয়ে তৈরি মহাসাগরীয় ভূত্বক।
বিযুক্তি রেখা:
১. কনরাড বিযুক্তি (সিয়াল ও সিমা)
২. মোহোরোভিসিক বিযুক্তি (ভূত্বক ও গুরুমণ্ডল)
ম্যাগমা বনাম লাভা
ভূগর্ভের প্রচণ্ড তাপ ও চাপে শিলা ও খনিজ পদার্থ যখন গলিত অবস্থায় থাকে।
ম্যাগমা যখন ফাটল বা আগ্নেয়গিরি দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে।
ঘনত্ব (Density)
ভারী পদার্থ (লোহা ও নিকেল) কেন্দ্রে থিতিয়ে পড়ায় গভীরতা বাড়লে ঘনত্ব বাড়ে।
বাইরের স্তর
২.৬ - ৩.৩
গ্রাম/ঘন সেমি
কেন্দ্রে
১৩ - ১৪
গ্রাম/ঘন সেমি
অধ্যায় ১: পৃথিবীর অন্দরমহল
শ্রেণি: অষ্টম | বিষয়: আমাদের পৃথিবী
20 সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (SAQ)
১. পৃথিবীর ব্যাসার্ধ কত কিমি?
উত্তর: পৃথিবীর ব্যাসার্ধ প্রায় ৬,৩৭০ কিমি।
২. পৃথিবীর গভীরতম কৃত্রিম গর্তটি কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: রাশিয়ার কোলা উপদ্বীপে (১২ কিমি গভীর)।
৩. প্রতি কত মিটার গভীরতায় ১° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়?
উত্তর: প্রতি ৩৩ মিটার গভীরতায়।
৪. ভূ-তাপ শক্তি কাকে বলে?
উত্তর: পৃথিবীর ভেতরের তাপ যখন আগ্নেয়গিরি বা উষ্ণ প্রস্রবণের মাধ্যমে বাইরে বেরিয়ে আসে, তাকে ভূ-তাপ শক্তি বলে।
৫. ম্যাগমা কী?
উত্তর: ভূগর্ভের প্রচণ্ড তাপ ও চাপে শিলা ও খনিজ পদার্থ গলিত অবস্থায় থাকলে তাকে ম্যাগমা বলে।
৬. লাভা কাকে বলে?
উত্তর: ম্যাগমা যখন ভূপৃষ্ঠের কোনো ফাটল বা আগ্নেয়গিরি দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে, তাকে লাভা বলে।
৭. পৃথিবীর কেন্দ্রের কাছে গড় ঘনত্ব কত?
উত্তর: পৃথিবীর কেন্দ্রের কাছে গড় ঘনত্ব প্রায় ১১ গ্রাম/ঘন সেমি (একদম কেন্দ্রে ১৩-১৪ গ্রাম/ঘন সেমি)।
৮. সিয়াল (SIAL) স্তর কোন কোন উপাদান দিয়ে তৈরি?
উত্তর: সিলিকা (Si) এবং অ্যালুমিনিয়াম (Al) দিয়ে তৈরি।
৯. সিমা (SIMA) স্তর কোন শিলা দিয়ে গঠিত?
উত্তর: সিমা স্তর প্রধানত ব্যাসাল্ট শিলা দিয়ে গঠিত।
১০. কনরাড বিযুক্তি রেখা কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: সিয়াল ও সিমা স্তরের মধ্যবর্তী সীমানায়।
১১. মোহোরোভিসিক বিযুক্তি রেখা কাকে পৃথক করেছে?
উত্তর: ভূত্বক ও গুরুমণ্ডলকে।
১২. গুরুমণ্ডল ভূত্বকের নিচে কত কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত?
উত্তর: প্রায় ২,৯০০ কিমি পর্যন্ত।
১৩. ক্রোফেসিমা স্তরের প্রধান উপাদানগুলি কী কী?
উত্তর: ক্রোমিয়াম, লোহা, সিলিকন ও ম্যাগনেসিয়াম।
১৪. রেপেত্তি বিযুক্তি রেখা কোথায় দেখা যায়?
উত্তর: ক্রোফেসিমা ও নিফেসিমার মধ্যবর্তী সীমানায়।
১৫. অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার কী?
উত্তর: এটি ঊর্ধ্ব গুরুমণ্ডলের একটি বিশেষ নমনীয় স্তর যেখানে পরিচলন স্রোত দেখা যায়।
১৬. কেন্দ্রমণ্ডলকে 'নিফে' (NIFE) বলা হয় কেন?
উত্তর: এই স্তরটি নিকেল (Ni) ও লোহা (Fe) দিয়ে গঠিত বলে একে নিফে বলা হয়।
১৭. গুটেনবার্গ বিযুক্তি রেখা কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডলের মধ্যবর্তী সীমানায়।
১৮. লেহম্যান বিযুক্তি রেখা কাকে আলাদা করেছে?
উত্তর: বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল ও অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডলকে।
১৯. বিযুক্তি রেখা কাকে বলে?
উত্তর: ভিন্ন ঘনত্বের দুটি স্তরের সংযোগস্থলে যেখানে ভূমিকম্পের তরঙ্গের গতিবেগ পরিবর্তিত হয়, তাকে বিযুক্তি রেখা বলে।
২০. আইসল্যান্ড তাদের বিদ্যুতের বড় অংশ কোন শক্তি থেকে পায়?
উত্তর: ভূ-তাপ শক্তি থেকে।
20 দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্ন (LAQ)
১. পৃথিবীর অভ্যন্তর ভাগ সম্পর্কে সরাসরি তথ্য পাওয়া কঠিন কেন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: পৃথিবীর অভ্যন্তর ভাগ সম্পর্কে সরাসরি তথ্য পাওয়া অত্যন্ত কঠিন কারণ পৃথিবীর ব্যাসার্ধ প্রায় ৬,৩৭০ কিমি। মানুষের তৈরি গভীরতম গর্তটি (কোলা উপদ্বীপ) মাত্র ১২ কিমি গভীর, যা পৃথিবীর ব্যাসার্ধের তুলনায় নগণ্য। এছাড়া ভূগর্ভে প্রতি ৩৩ মিটার গভীরতায় ১° সেলসিয়াস করে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে, ফলে কেন্দ্রের তাপমাত্রা প্রায় ৫০০০° সেলসিয়াসে পৌঁছায়। এই প্রচণ্ড তাপ ও চাপের কারণে পৃথিবীর গভীরে যাওয়া বা যন্ত্র পাঠানো অসম্ভব।
২. ভূ-তাপ শক্তি কী? এটি কীভাবে ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: পৃথিবীর ভেতরের তাপ যখন আগ্নেয়গিরির মুখ দিয়ে বা উষ্ণ প্রস্রবণের মাধ্যমে বাইরে বেরিয়ে আসে, তাকে ভূ-তাপ শক্তি বলে। এটি একটি নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎস। আইসল্যান্ডের মতো দেশগুলি তাদের প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের একটি বড় অংশ এই ভূ-তাপ শক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন করে। এটি পরিবেশবান্ধব এবং সাশ্রয়ী।
৩. ম্যাগমা ও লাভার মধ্যে তিনটি প্রধান পার্থক্য লেখো।
উত্তর: ম্যাগমা ও লাভার পার্থক্যগুলি হলো:
১. অবস্থান: ম্যাগমা ভূগর্ভে অবস্থান করে, আর লাভা ভূপৃষ্ঠের উপরে থাকে।
২. অবস্থা: ম্যাগমা প্রচণ্ড তাপ ও চাপে ভূগর্ভে গলিত অবস্থায় থাকে। লাভা হলো ভূপৃষ্ঠে বেরিয়ে আসা গ্যাসহীন ম্যাগমা।
৩. নির্গমন: ম্যাগমা বাইরে বেরিয়ে এলে তাকে লাভা বলে, কিন্তু লাভা কখনোই ভূগর্ভে ম্যাগমা নামে পরিচিত হয় না।
৪. পৃথিবীর কেন্দ্রের ঘনত্ব বাইরের স্তরের তুলনায় বেশি কেন?
উত্তর: পৃথিবী সৃষ্টির সময় এটি অত্যন্ত উত্তপ্ত ও তরল অবস্থায় ছিল। সেই সময় বেশি ঘনত্বের ভারী পদার্থগুলি (যেমন লোহা ও নিকেল) পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে থিতিয়ে পড়ে এবং কম ঘনত্বের হালকা পদার্থগুলি উপরের দিকে ভেসে ওঠে। এই কারণেই পৃথিবীর বাইরের স্তরের ঘনত্ব (২.৬ - ৩.৩ গ্রাম/ঘন সেমি) কম এবং কেন্দ্রের ঘনত্ব (১১ - ১৪ গ্রাম/ঘন সেমি) অনেক বেশি।
৫. সিয়াল (SIAL) ও সিমা (SIMA) স্তরের বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।
উত্তর: সিয়াল: এটি মহাদেশীয় ভূত্বক গঠন করে। এটি সিলিকা ও অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি, হালকা এবং গ্রানাইট শিলা দ্বারা গঠিত।
সিমা: এটি মহাসাগরীয় ভূত্বক গঠন করে। এটি সিলিকা ও ম্যাগনেসিয়াম দিয়ে তৈরি, তুলনামূলক ভারী এবং ব্যাসাল্ট শিলা দ্বারা গঠিত। সিয়াল স্তরের নিচেই সিমার অবস্থান।
৬. গুরুমণ্ডলের উপস্তর দুটির বর্ণনা দাও।
উত্তর: গুরুমণ্ডলের দুটি উপস্তর হলো:
১. ক্রোফেসিমা: এটি ২৪ থেকে ৭০০ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত। এখানে ক্রোমিয়াম (Cr), লোহা (Fe), সিলিকন (Si) ও ম্যাগনেসিয়াম (Mg) থাকে।
২. নিফেসিমা: এটি ৭০০ থেকে ২৯০০ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত। এখানে নিকেল (Ni), লোহা (Fe), সিলিকন (Si) ও ম্যাগনেসিয়াম (Mg) থাকে।
৭. অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার স্তরের গুরুত্ব কী?
উত্তর: অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার হলো ঊর্ধ্ব গুরুমণ্ডলের একটি বিশেষ নমনীয় ও সান্দ্র স্তর। এই স্তরে প্রচণ্ড তাপে শিলা অর্ধ-গলিত অবস্থায় থাকে। এখানে পরিচলন স্রোতের সৃষ্টি হয়, যা ভূত্বকের পাতের চলনে প্রধান ভূমিকা পালন করে। আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের সময় ম্যাগমা মূলত এই স্তর থেকেই আসে।
৮. কেন্দ্রমণ্ডলের ভৌত অবস্থা সম্পর্কে কী জানা যায়?
উত্তর: কেন্দ্রমণ্ডল দুটি অংশে বিভক্ত। বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল সান্দ্র বা থকথকে অর্ধ-তরল অবস্থায় আছে। কিন্তু অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল পৃথিবীর একদম কেন্দ্রে অবস্থিত হওয়ায় এখানে চাপ অত্যন্ত বেশি। এই প্রচণ্ড চাপের কারণে এখানকার পদার্থসমূহ অত্যন্ত উত্তপ্ত হওয়া সত্ত্বেও তরল হতে পারে না এবং কঠিন অবস্থায় থাকে।
৯. বিযুক্তি রেখা কাকে বলে? এটি কেন তৈরি হয়?
উত্তর: পৃথিবীর অভ্যন্তরে যেখানে দুটি ভিন্ন ঘনত্বের স্তর মিলিত হয় এবং ভূমিকম্পের তরঙ্গের গতিবেগ হঠাৎ পরিবর্তিত হয়, সেই সীমারেখাকে বিযুক্তি রেখা বলে। পৃথিবীর অভ্যন্তরে বিভিন্ন স্তরের রাসায়নিক গঠন ও ঘনত্ব আলাদা হওয়ার কারণে এই বিযুক্তি রেখাগুলি তৈরি হয়। যেমন—ভূত্বক ও গুরুমণ্ডলের মাঝে মোহো বিযুক্তি রেখা।
১০. 'নিফে' (NIFE) স্তরের গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তর: কেন্দ্রমণ্ডলকে নিফে বলা হয় কারণ এটি নিকেল ও লোহা দিয়ে গঠিত। এই স্তরটি পৃথিবীর চৌম্বকত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করে। বহিঃকেন্দ্রমণ্ডলে লোহার ঘূর্ণনের ফলেই পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এছাড়া এই স্তরের ঘনত্ব ও চাপ পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।
১১. ভূত্বক ও গুরুমণ্ডলের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর: ১. গভীরতা: ভূত্বক পৃথিবীর সবচেয়ে পাতলা স্তর, কিন্তু গুরুমণ্ডল প্রায় ২৯০০ কিমি গভীর।
২. উপাদান: ভূত্বক সিলিকা, অ্যালুমিনিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম দিয়ে তৈরি; গুরুমণ্ডল লোহা, ক্রোমিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ।
৩. বিযুক্তি: এই দুই স্তরের মাঝে মোহো বিযুক্তি রেখা অবস্থিত।
১২. পরিচলন স্রোত কীভাবে পাতের চলনে সাহায্য করে?
উত্তর: গুরুমণ্ডলের অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার স্তরে তেজস্ক্রিয় পদার্থের প্রভাবে প্রচণ্ড তাপ সৃষ্টি হয়। এই তাপের ফলে নিচের দিকের উত্তপ্ত ম্যাগমা উপরে ওঠে এবং উপরের শীতল ম্যাগমা নিচে নামে। এই চক্রাকার গতিকে পরিচলন স্রোত বলে। এই স্রোতের ধাক্কায় উপরের ভূত্বকীয় পাতগুলি ধীরে ধীরে স্থান পরিবর্তন করে।
১৩. বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল ও অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডলের মধ্যে তুলনা করো।
উত্তর: বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল ২৯০০ কিমি থেকে ৫১০০ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত এবং এটি অর্ধ-তরল অবস্থায় আছে। অন্যদিকে, অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল ৫১০০ কিমি থেকে ৬৩৭০ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত এবং এটি প্রচণ্ড চাপে কঠিন অবস্থায় আছে। এই দুই স্তরের মাঝে লেহম্যান বিযুক্তি রেখা অবস্থিত।
১৪. বিজ্ঞানীরা কীভাবে পৃথিবীর অন্দরমহল সম্পর্কে জানতে পেরেছেন?
উত্তর: বিজ্ঞানীরা প্রধানত ভূমিকম্পের তরঙ্গের (P ও S তরঙ্গ) গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে পৃথিবীর অন্দরমহল সম্পর্কে জেনেছেন। তরঙ্গের গতিবেগ বিভিন্ন ঘনত্বের স্তরে পরিবর্তিত হয়, যা থেকে স্তরের গঠন ও গভীরতা বোঝা যায়। এছাড়া আগ্নেয়গিরির লাভা এবং উল্কাপাত থেকেও কিছু তথ্য পাওয়া যায়।
১৫. মোহো ও গুটেনবার্গ বিযুক্তি রেখার অবস্থান ও গুরুত্ব লেখো।
উত্তর: মোহো বিযুক্তি রেখা ভূত্বক ও গুরুমণ্ডলের মাঝে অবস্থিত, যা এই দুই স্তরের উপাদানের ভিন্নতা নির্দেশ করে। গুটেনবার্গ বিযুক্তি রেখা গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডলের মাঝে অবস্থিত। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিযুক্তি রেখা কারণ এখানে তরঙ্গের গতিবেগের বিশাল পরিবর্তন ঘটে।
১৬. পৃথিবীর অন্দরমহলের স্তরবিন্যাসের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা দাও।
উত্তর: পৃথিবীর অন্দরমহল তিনটি প্রধান স্তরে বিভক্ত:
১. ভূত্বক: সিয়াল ও সিমা উপস্তর নিয়ে গঠিত।
২. গুরুমণ্ডল: ক্রোফেসিমা ও নিফেসিমা উপস্তর নিয়ে গঠিত।
৩. কেন্দ্রমণ্ডল: বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল ও অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল নিয়ে গঠিত।
১৭. মহাসাগরীয় ভূত্বক কেন মহাদেশীয় ভূত্বকের নিচে থাকে?
উত্তর: মহাসাগরীয় ভূত্বক বা সিমা স্তরটি সিলিকা ও ম্যাগনেসিয়াম দিয়ে তৈরি এবং এটি ব্যাসাল্ট শিলা দ্বারা গঠিত। এর ঘনত্ব মহাদেশীয় ভূত্বক বা সিয়াল স্তরের তুলনায় বেশি। বেশি ঘনত্বের কারণে সিমা স্তরটি ভারী হয় এবং হালকা সিয়াল স্তরের নিচে অবস্থান করে।
১৮. পৃথিবীর কেন্দ্রে তাপমাত্রা কত এবং কেন সেখানে যাওয়া অসম্ভব?
উত্তর: পৃথিবীর কেন্দ্রের তাপমাত্রা প্রায় ৫০০০° সেলসিয়াস। ভূপৃষ্ঠ থেকে যত গভীরে যাওয়া যায়, তাপমাত্রা ও চাপ উভয়ই বাড়তে থাকে। এই প্রচণ্ড তাপে যেকোনো কঠিন বস্তু গলে যাবে এবং প্রচণ্ড চাপে মানুষ বা কোনো যন্ত্র পিষ্ট হয়ে যাবে। এই কারণেই পৃথিবীর কেন্দ্রে যাওয়া অসম্ভব।
১৯. রেপেত্তি ও লেহম্যান বিযুক্তি রেখার মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: রেপেত্তি বিযুক্তি রেখা গুরুমণ্ডলের দুটি অংশ—ক্রোফেসিমা ও নিফেসিমার মধ্যে অবস্থিত। অন্যদিকে, লেহম্যান বিযুক্তি রেখা কেন্দ্রমণ্ডলের দুটি অংশ—বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল ও অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডলের মধ্যে অবস্থিত। প্রথমটি গুরুমণ্ডলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন এবং দ্বিতীয়টি কেন্দ্রমণ্ডলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন নির্দেশ করে।
২০. পৃথিবীর অন্দরমহলের চিত্র অঙ্কন করলে কোন কোন বিযুক্তি রেখা দেখানো প্রয়োজন?
উত্তর: পৃথিবীর অন্দরমহলের চিত্রে প্রধান পাঁচটি বিযুক্তি রেখা দেখানো প্রয়োজন: ১. কনরাড (সিয়াল-সিমা), ২. মোহো (ভূত্বক-গুরুমণ্ডল), ৩. রেপেত্তি (ক্রোফেসিমা-নিফেসিমা), ৪. গুটেনবার্গ (গুরুমণ্ডল-কেন্দ্রমণ্ডল) এবং ৫. লেহম্যান (বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল-অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল)।
এই নোটটি শুধুমাত্র শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে তৈরি।
Day 2: (AMADER PRITHIBI) PRITHIBIR ANDARMAHAL CHAPTER ACTIVITIES
অধ্যায় ১: পৃথিবীর অন্দরমহল (Inside our Earth)
শ্রেণি: অষ্টম | বিষয়: আমাদের পৃথিবী
১ অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: পৃথিবীর ব্যাসার্ধ কত?
উত্তর: পৃথিবীর ব্যাসার্ধ প্রায় ৬,৩৭০ কিমি।
প্রশ্ন ২: পৃথিবীর গভীরতম কৃত্রিম গর্তটি কোথায় অবস্থিত এবং এর গভীরতা কত?
উত্তর: রাশিয়ার কোলা উপদ্বীপের ১২ কিমি গভীর গর্তটি মানুষের তৈরি পৃথিবীর গভীরতম গর্ত।
প্রশ্ন ৩: পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রতি কত মিটার গভীরতায় ১° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়?
উত্তর: প্রতি ৩৩ মিটার গভীরতায় প্রায় ১° সেলসিয়াস করে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে।
প্রশ্ন ৪: পৃথিবীর কেন্দ্রের তাপমাত্রা কত?
উত্তর: পৃথিবীর কেন্দ্রের কাছে তাপমাত্রা প্রায় ৫০০০° সেলসিয়াস।
২ সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: ভূ-তাপ শক্তি (Geothermal Energy) বলতে কী বোঝো? এর একটি ব্যবহার লেখো।
উত্তর: পৃথিবীর ভেতরের তাপ যখন আগ্নেয়গিরির মুখ দিয়ে বা উষ্ণ প্রস্রবণের মাধ্যমে বাইরে বেরিয়ে আসে, তাকে ভূ-তাপ শক্তি বলে। আইসল্যান্ড তাদের বিদ্যুতের বড় অংশ এই শক্তি থেকে পায়।
প্রশ্ন ২: ম্যাগমা ও লাভা-র মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: ভূগর্ভের প্রচণ্ড তাপ ও চাপে শিলা ও খনিজ পদার্থ গলিত অবস্থায় থাকলে তাকে ম্যাগমা বলে। অন্যদিকে, এই ম্যাগমা যখন ভূপৃষ্ঠের কোনো ফাটল বা আগ্নেয়গিরি দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে, তখন তাকে লাভা বলে।
প্রশ্ন ৩: পৃথিবীর কেন্দ্রের ঘনত্ব বাইরের স্তরের তুলনায় বেশি কেন?
উত্তর: পৃথিবী সৃষ্টির সময় ভারী পদার্থগুলি (যেমন লোহা ও নিকেল) পৃথিবীর কেন্দ্রে থিতিয়ে পড়েছে এবং হালকা পদার্থগুলি বাইরের দিকে ভেসে উঠেছে। এই কারণেই কেন্দ্রের ঘনত্ব (১৩-১৪ গ্রাম/ঘন সেমি) বাইরের স্তরের (২.৬-৩.৩ গ্রাম/ঘন সেমি) তুলনায় অনেক বেশি।
৩ পৃথিবীর স্তরবিন্যাস ও বিযুক্তি রেখা
| স্তর | উপাদান/বৈশিষ্ট্য | বিযুক্তি রেখা |
|---|---|---|
| ভূত্বক (সিয়াল ও সিমা) | সিলিকা, অ্যালুমিনিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম | কনরাড (সিয়াল-সিমা), মোহো (ভূত্বক-গুরুমণ্ডল) |
| গুরুমণ্ডল (ক্রোফেসিমা ও নিফেসিমা) | ক্রোমিয়াম, লোহা, নিকেল, সিলিকন ও ম্যাগনেসিয়াম | রেপেত্তি (ক্রোফেসিমা-নিফেসিমা) |
| কেন্দ্রমণ্ডল (নিফে) | নিকেল ও লোহা (Ni + Fe) | গুটেনবার্গ (গুরুমণ্ডল-কেন্দ্রমণ্ডল), লেহম্যান (বহিঃ-অন্তঃ কেন্দ্রমণ্ডল) |
প্রশ্ন ৪: অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার (Asthenosphere) কী?
উত্তর: এটি ঊর্ধ্ব গুরুমণ্ডলের একটি বিশেষ নমনীয় স্তর। এখানে পরিচলন স্রোত দেখা যায় যা পাতের চলনে সাহায্য করে।
প্রশ্ন ৫: বিযুক্তি রেখা (Discontinuity Line) কাকে বলে?
উত্তর: ভিন্ন ঘনত্বের দুটি স্তরের সংযোগস্থলে ভূমিকম্পের তরঙ্গের গতিবেগ পরিবর্তিত হয়। এই পরিবর্তনের সীমারেখাকেই বিযুক্তি রেখা বলে।
Day 3: (AMADER PRITHIBI) PRITHIBIR ANDARMAHAL CHAPTER MOCK TEST
অধ্যায় ১: পৃথিবীর অন্দরমহল
অষ্টম শ্রেণী | বিষয়: আমাদের পৃথিবী
নির্দেশিকা: নিচের প্রশ্নগুলি মনোযোগ দিয়ে পড়ো। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেখার জন্য 'উত্তর দেখুন' বাটনে ক্লিক করো।
Day 4: (AMADER PRITHIBI) PRITHIBIR ANDARMAHAL CHAPTER ONLINE EXAM
WBBSE অনলাইন মূল্যায়ন - ২০২৪
বিষয়: আমাদের পৃথিবী (অষ্টম শ্রেণী)
অধ্যায় ১: পৃথিবীর অন্দরমহল
আপনার ফলাফল
বিভাগ 'ক'-এর সঠিক উত্তরের ভিত্তিতে এই স্কোর দেওয়া হয়েছে। বিভাগ 'খ'-এর উত্তরগুলি শিক্ষকের দ্বারা মূল্যায়িত হবে।
Day 5: (AMADER PRITHIBI) PRITHIBIR ANDARMAHAL CHAPTER Activities Revision + Mistake Analysis Active Recall / Teaching Leave a Reply
অধ্যায় ১: পৃথিবীর অন্দরমহল
Common Mistakes & Power Revision Summary
Mistake Analysis (ভ্রান্তি ও সংশোধন)
| সাধারণ ভুল (Common Mistake) | সঠিক ধারণা (Correction) |
|---|---|
| ম্যাগমা ও লাভাকে একই মনে করা। | ভূগর্ভের গলিত পদার্থ হলো ম্যাগমা; যখন তা বাইরে বেরিয়ে আসে তখন তাকে লাভা বলে। |
| ভূপৃষ্ঠ থেকে ভেতরে গেলে তাপমাত্রা কমে মনে করা। | ভূপৃষ্ঠ থেকে ভেতরে প্রতি ৩৩ মিটার গভীরতায় ১° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। |
| সিয়াল (SIAL) ও সিমা (SIMA)-র অবস্থান গুলিয়ে ফেলা। | সিয়াল হলো হালকা মহাদেশীয় ভূত্বক (উপরে থাকে), আর সিমা হলো ভারী মহাসাগরীয় ভূত্বক (নিচে থাকে)। |
| অত্যধিক তাপে অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল তরল অবস্থায় আছে ভাবা। | প্রচণ্ড চাপের কারণে অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল অত্যন্ত উত্তপ্ত হওয়া সত্ত্বেও কঠিন অবস্থায় আছে। |
| বিযুক্তি রেখা কী তা না বুঝে মুখস্থ করা। | দুটি ভিন্ন ঘনত্বের স্তরের মাঝে যেখানে ভূমিকম্পের তরঙ্গের গতিবেগ পরিবর্তিত হয়, তাকেই বিযুক্তি রেখা বলে। |
Power Revision Summary (হাই-ইয়েল্ড নোটস)
মৌলিক তথ্য
- ব্যাসার্ধ: প্রায় ৬,৩৭০ কিমি।
- গভীরতম গর্ত: কোলা উপদ্বীপ (১২ কিমি)।
- ভূ-তাপ শক্তি: আগ্নেয়গিরি বা উষ্ণ প্রস্রবণ থেকে প্রাপ্ত তাপ (উদা: আইসল্যান্ড)।
- ঘনত্ব: কেন্দ্রের দিকে বৃদ্ধি পায় (২.৬ থেকে ১৪ গ্রাম/ঘন সেমি)।
স্তরবিন্যাস
- ভূত্বক: সিয়াল (Si+Al) ও সিমা (Si+Mg)।
- গুরুমণ্ডল: ক্রোফেসিমা (Cr, Fe, Si, Mg) ও নিফেসিমা (Ni, Fe, Si, Mg)।
- কেন্দ্রমণ্ডল: নিফে (Ni+Fe)। বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল অর্ধ-তরল, অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল কঠিন।
- অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার: ঊর্ধ্ব গুরুমণ্ডলের নমনীয় স্তর, পরিচলন স্রোত দেখা যায়।
বিযুক্তি রেখা একনজরে (Discontinuity Lines)
সিয়াল-সিমা
ভূত্বক-গুরুমণ্ডল
ক্রোফে-নিফেসিমা
গুরু-কেন্দ্রমণ্ডল
বহিঃ-অন্তঃকেন্দ্র
অ্যাক্টিভ রিকল টুলকিট (Active Recall Toolkit)
অধ্যায় ১: পৃথিবীর অন্দরমহল
১. ব্লাইন্ড কোশ্চেনস (Blind Questions)
- পৃথিবীর ব্যাসার্ধ কত কিলোমিটার?
- রাশিয়ার কোলা উপদ্বীপের গর্তটির গভীরতা কত?
- ভূপৃষ্ঠ থেকে গভীরে প্রতি কত মিটারে ১° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়ে?
- পৃথিবীর কেন্দ্রের তাপমাত্রা আনুমানিক কত?
- ভূ-তাপ শক্তির একটি ব্যবহারিক উদাহরণ দাও।
- ম্যাগমা ও লাভার মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?
- পৃথিবীর কেন্দ্রের গড় ঘনত্ব কত?
- কেন পৃথিবীর কেন্দ্রের ঘনত্ব বাইরের স্তরের চেয়ে বেশি?
- সিয়াল (SIAL) স্তরটি কোন দুটি প্রধান উপাদান দিয়ে গঠিত?
- মহাসাগরীয় ভূত্বক কোন শিলা দিয়ে তৈরি?
- সিয়াল ও সিমার মধ্যবর্তী বিযুক্তি রেখাটির নাম কী?
- অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার স্তরটি কোথায় অবস্থিত?
- ক্রোফেসিমা স্তরে কোন কোন খনিজ উপাদান থাকে?
- কেন্দ্রমণ্ডলকে কেন 'নিফে' (NIFE) বলা হয়?
- গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডলের মধ্যবর্তী বিযুক্তি রেখা কোনটি?
২. ফাইনম্যান মেথড (The Feynman Method)
৫ বছরের শিশুকে বোঝানোর সহজ স্ক্রিপ্ট:
"মনে করো, পৃথিবীটা একটা বড় সেদ্ধ ডিমের মতো। ডিমের যেমন পাতলা খোসা থাকে, পৃথিবীর উপরের শক্ত স্তরটা হলো 'ভূত্বক'। ডিমের সাদা অংশটা হলো 'গুরুমণ্ডল', যেটা অনেক মোটা। আর ডিমের মাঝখানের কুসুমটা হলো পৃথিবীর 'কেন্দ্রমণ্ডল'।
তুমি যত ভেতরে যাবে, তত গরম বাড়বে—ঠিক যেন একটা জ্বলন্ত উনুন! একদম ভেতরে লোহা আর নিকেলের মতো ভারী জিনিসগুলো জমা হয়ে আছে। আর এই স্তরগুলোর মাঝে যে বর্ডার বা সীমানা থাকে, তাদের আমরা বলি 'বিযুক্তি রেখা'।"
৩. স্পেসড রিপিটিশন শিডিউল (Spaced Repetition)
১ দিন পর (Day 1)
- • পৃথিবীর ব্যাসার্ধ ও গভীরতম গর্ত।
- • তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার (৩৩ মিটারে ১°C)।
- • ম্যাগমা বনাম লাভা।
৩ দিন পর (Day 3)
- • ভূত্বকের ভাগ: সিয়াল ও সিমা।
- • গুরুমণ্ডলের উপস্তর: ক্রোফেসিমা ও নিফেসিমা।
- • ঘনত্বের পরিবর্তন (২.৬ থেকে ১৪ গ্রাম/ঘন সেমি)।
৭ দিন পর (Day 7)
- • সমস্ত বিযুক্তি রেখা (কনরাড, মোহো, রেপেত্তি, গুটেনবার্গ, লেহম্যান)।
- • কেন্দ্রমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য (NIFE)।
- • অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার ও পরিচলন স্রোত।