Day 1: (AMADER PRITHIBI) Osthir Prithibi CHAPTER NOTES
অধ্যায় ২: অস্থিত পৃথিবী
(Unstable Earth)
🌍 ২.১ মহাদেশীয় সঞ্চরণ
আজ থেকে প্রায় ৩০ কোটি বছর আগে পৃথিবীর সমস্ত মহাদেশগুলো একটি বিশাল ভূখণ্ড হিসেবে একসাথে যুক্ত ছিল। ১৯১২ সালে জার্মান বিজ্ঞানী আলফ্রেড ভেগনার এই তত্ত্বটি তুলে ধরেন।
বিবর্তন প্রক্রিয়া
🧩 ২.২ পাত সংস্থান তত্ত্ব (Plate Tectonics)
১৯৬০-এর দশকে পিচোঁ, উইলসন প্রমুখ বিজ্ঞানীরা এই তত্ত্বটি জনপ্রিয় করেন। লিথোস্ফিয়ার কতগুলো শক্ত খণ্ডে বিভক্ত, যাকে 'পাত' বলা হয়।
৭টি প্রধান পাতসমূহ:
২.৩ পাত সীমানা ও তাদের প্রকৃতি
গঠনকারী পাত সীমানা
দুটি পাত একে অপরের থেকে দূরে সরে যায়। ফাটল দিয়ে ম্যাগমা বেরিয়ে এসে নতুন ভূত্বক তৈরি করে।
বিনাশকারী পাত সীমানা
দুটি পাত একে অপরের দিকে এগিয়ে আসে এবং সংঘর্ষ ঘটে। ভারী পাতটি নিচে ঢুকে ধ্বংস হয়।
নিরপেক্ষ পাত সীমানা
দুটি পাত একে অপরের পাশাপাশি ঘঁষে অগ্রসর হয়। এখানে ভূত্বকের সৃষ্টি বা ধ্বংস কিছুই হয় না।
🌋 চলনের ফলাফল
- ভঙ্গিল পর্বত: হিমালয়, আল্পস, আন্দিজের সৃষ্টি।
- ভূমিকম্প ও অগ্ন্যুৎপাত: পাত সীমানার অস্থিরতা।
- সমুদ্রতলের বিস্তার: নতুন ভূত্বক গঠন।
মহীখাত তত্ত্ব (Geosyncline)
বর্তমান হিমালয় যেখানে অবস্থিত সেখানে আগে 'টেথিস' (Tethys) নামে এক অগভীর সমুদ্র ছিল। উত্তর ও দক্ষিণ দিকের ভূখণ্ড থেকে আসা পলিতে চাপ পড়ে ভাঁজ খেয়ে হিমালয় তৈরি হয়েছে।
অষ্টম শ্রেণী: আমাদের পৃথিবী
অধ্যায় ২: অস্থিত পৃথিবী (Unstable Earth)
WBBSE AI Engine - Study Notes & Question Bank
সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (Short Answer Questions)
১. প্যানজিয়া (Pangaea) কী?
উত্তর: আজ থেকে প্রায় ৩০ কোটি বছর আগে পৃথিবীর সমস্ত মহাদেশগুলো একটি বিশাল অখণ্ড ভূখণ্ড হিসেবে একসাথে যুক্ত ছিল, একেই প্যানজিয়া বলা হয়।
২. প্যানথালাসা (Panthalassa) বলতে কী বোঝো?
উত্তর: প্যানজিয়া নামক বিশাল স্থলভাগকে ঘিরে থাকা যে বিশাল জলভাগ বা মহাসাগর ছিল, তাকে প্যানথালাসা বলা হতো।
৩. মহাদেশীয় সঞ্চরণ তত্ত্বটি প্রথম কে প্রদান করেন?
উত্তর: ১৯১২ সালে জার্মান বিজ্ঞানী আলফ্রেড ভেগনার (Alfred Wegener) প্রথম মহাদেশীয় সঞ্চরণ তত্ত্বটি প্রদান করেন।
৪. পাত (Plate) কাকে বলে?
উত্তর: পাত সংস্থান তত্ত্ব অনুযায়ী, পৃথিবীর উপরিভাগ বা লিথোস্ফিয়ার কতগুলো শক্ত ও কঠিন খণ্ডে বিভক্ত, এই খণ্ডগুলোকেই পাত বলা হয়।
৫. পৃথিবীতে বর্তমানে কয়টি বড় পাত রয়েছে?
উত্তর: পৃথিবীতে বর্তমানে ৭টি বড় পাত রয়েছে।
৬. পাতের চলনের প্রধান কারণ কী?
উত্তর: গুরুমণ্ডলের পরিচলন স্রোত (Convection Current) হলো পাতের চলনের প্রধান কারণ।
৭. অপসারী পাত সীমানা কাকে বলে?
উত্তর: যখন দুটি পাত একে অপরের থেকে দূরে সরে যায়, তাকে অপসারী পাত সীমানা বলে।
৮. গঠনকারী পাত সীমানা কাকে বলা হয়?
উত্তর: অপসারী পাত সীমানাকে গঠনকারী পাত সীমানা বলা হয় কারণ এখানে নতুন ভূত্বক তৈরি হয়।
৯. অভিসারী পাত সীমানা কাকে বলে?
উত্তর: যখন দুটি পাত একে অপরের দিকে এগিয়ে আসে এবং সংঘর্ষ ঘটে, তাকে অভিসারী পাত সীমানা বলে।
১০. বিনাশকারী পাত সীমানা কোনটি?
উত্তর: অভিসারী পাত সীমানাকে বিনাশকারী পাত সীমানা বলা হয় কারণ এখানে ভারী পাতটি ধ্বংস হয়।
১১. নিরপেক্ষ পাত সীমানা কাকে বলে?
উত্তর: যখন দুটি পাত একে অপরের পাশাপাশি ঘঁষে অগ্রসর হয়, তাকে নিরপেক্ষ পাত সীমানা বলে।
১২. সান আন্দ্রিয়াস চ্যুতি কোন ধরনের পাত সীমানার উদাহরণ?
উত্তর: এটি নিরপেক্ষ (Transform) পাত সীমানার উদাহরণ।
১৩. হিমালয় পর্বতমালা কোন দুটি পাতের সংঘর্ষে তৈরি হয়েছে?
উত্তর: ইউরেশীয় ও ইন্দো-অস্ট্রেলীয় পাতের সংঘর্ষে হিমালয় তৈরি হয়েছে।
১৪. টেথিস (Tethys) কী?
উত্তর: বর্তমান হিমালয় যেখানে অবস্থিত, সেখানে আগে থাকা অগভীর সমুদ্র বা মহীখাতকে টেথিস বলা হতো।
১৫. মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরা কোন পাত সীমানায় অবস্থিত?
উত্তর: এটি অপসারী পাত সীমানায় অবস্থিত।
১৬. পাতের চলন কোথায় ঘটে?
উত্তর: পাতগুলো অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারের ওপর অত্যন্ত ধীর গতিতে ভেসে বেড়ায়।
১৭. পাত সংস্থান তত্ত্বের দুজন প্রবক্তার নাম লেখো।
উত্তর: পিচোঁ এবং উইলসন।
১৮. পৃথিবীতে মাঝারি পাতের সংখ্যা কয়টি?
উত্তর: পৃথিবীতে বর্তমানে ৮টি মাঝারি পাত রয়েছে।
১৯. প্যানজিয়া ভাঙতে শুরু করে কত বছর আগে?
উত্তর: আজ থেকে প্রায় ২০ কোটি বছর আগে।
২০. নিরপেক্ষ পাত সীমানায় কী সৃষ্টি হয়?
উত্তর: নিরপেক্ষ পাত সীমানায় তীব্র ভূমিকম্প ও চ্যুতি (Fault) তৈরি হয়।
দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্ন (Long Answer Questions)
১. মহাদেশীয় সঞ্চরণ তত্ত্বটি ব্যাখ্যা করো।
জার্মান বিজ্ঞানী আলফ্রেড ভেগনার ১৯১২ সালে এই তত্ত্বটি দেন। তাঁর মতে, প্রায় ৩০ কোটি বছর আগে পৃথিবীর সমস্ত মহাদেশ একটি অখণ্ড ভূখণ্ড 'প্যানজিয়া' হিসেবে ছিল। এর চারপাশে ছিল বিশাল মহাসাগর 'প্যানথালাসা'। প্রায় ২০ কোটি বছর আগে প্যানজিয়া ভাঙতে শুরু করে এবং মহাদেশগুলো একে অপরের থেকে দূরে সরে গিয়ে বর্তমান অবস্থানে পৌঁছায়। একেই মহাদেশীয় সঞ্চরণ বলা হয়।
২. পাত সংস্থান তত্ত্ব (Plate Tectonics) বলতে কী বোঝো?
১৯৬০-এর দশকে পিচোঁ, উইলসন প্রমুখ বিজ্ঞানীরা এই তত্ত্বটি জনপ্রিয় করেন। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, পৃথিবীর লিথোস্ফিয়ার কতগুলো কঠিন খণ্ডে বা 'পাতে' বিভক্ত। এই পাতগুলো অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারের ওপর ভাসমান এবং গুরুমণ্ডলের পরিচলন স্রোতের প্রভাবে অত্যন্ত ধীর গতিতে সঞ্চরণশীল। পাতের এই চলনের ফলেই পৃথিবীতে পর্বত গঠন, ভূমিকম্প ও অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।
৩. অপসারী পাত সীমানাকে কেন 'গঠনকারী পাত সীমানা' বলা হয়?
যখন দুটি পাত একে অপরের থেকে দূরে সরে যায়, তখন তাদের মাঝখানের ফাটল দিয়ে ভূগর্ভের উত্তপ্ত ম্যাগমা বাইরে বেরিয়ে আসে। এই ম্যাগমা শীতল ও কঠিন হয়ে নতুন ভূত্বক বা সমুদ্রতল তৈরি করে। যেহেতু এখানে নতুন ভূখণ্ড গঠিত হয়, তাই একে গঠনকারী পাত সীমানা বলা হয়। উদাহরণ: মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরা।
৪. অভিসারী পাত সীমানার বৈশিষ্ট্য ও ফলাফল আলোচনা করো।
অভিসারী পাত সীমানায় দুটি পাত পরস্পরের দিকে এগিয়ে আসে এবং সংঘর্ষ ঘটে। এর ফলে ভারী পাতটি হালকা পাতের নিচে প্রবেশ করে এবং উত্তাপে গলে গিয়ে ধ্বংস হয়। এই কারণে একে 'বিনাশকারী পাত সীমানা' বলে। এর ফলে ভঙ্গিল পর্বত (যেমন হিমালয়) এবং গভীর সমুদ্রখাত তৈরি হয়।
৫. নিরপেক্ষ পাত সীমানা সম্পর্কে টীকা লেখো।
নিরপেক্ষ পাত সীমানায় দুটি পাত একে অপরের পাশাপাশি ঘঁষে অগ্রসর হয়। এখানে পাতগুলো একে অপরের কাছেও আসে না বা দূরেও সরে যায় না। ফলে এখানে ভূত্বকের সৃষ্টি বা ধ্বংস কিছুই হয় না। তবে পাতের ঘর্ষণের ফলে এই অঞ্চলে তীব্র ভূমিকম্প ও চ্যুতি (Fault) তৈরি হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার সান আন্দ্রিয়াস চ্যুতি এর একটি প্রধান উদাহরণ।
৬. হিমালয় পর্বতমালা কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে?
মহীখাত তত্ত্ব অনুযায়ী, বর্তমান হিমালয় যেখানে অবস্থিত সেখানে আগে 'টেথিস' নামে এক অগভীর সমুদ্র ছিল। উত্তর ও দক্ষিণ দিকের দুটি বিশাল ভূখণ্ড (ইউরেশীয় ও ইন্দো-অস্ট্রেলীয় পাত) পরস্পরের দিকে এগিয়ে আসায় টেথিস সাগরের তলদেশে জমা হওয়া পলিতে প্রবল চাপ পড়ে। এই চাপের ফলে পলিরাশি ভাঁজ খেয়ে উপরে উঠে হিমালয় পর্বতমালার সৃষ্টি করেছে।
৭. পৃথিবীর ৭টি প্রধান পাতের নাম উল্লেখ করো।
পৃথিবীর ৭টি বড় পাত হলো: ১. প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাত, ২. ইউরেশীয় পাত, ৩. আফ্রিকান পাত, ৪. উত্তর আমেরিকান পাত, ৫. দক্ষিণ আমেরিকান পাত, ৬. ইন্দো-অস্ট্রেলীয় পাত এবং ৭. আন্টার্কটিকা পাত।
৮. পাতের চলনের ফলে কী কী ভৌগোলিক পরিবর্তন ঘটে?
পাতের চলনের ফলে প্রধানত তিনটি পরিবর্তন ঘটে: ১. ভঙ্গিল পর্বতের সৃষ্টি (অভিসারী চলনের ফলে), ২. ভূমিকম্প ও অগ্ন্যুৎপাত (পাত সীমানা অস্থির হওয়ার কারণে), এবং ৩. সমুদ্রতলের বিস্তার (অপসারী সীমানায় নতুন ভূত্বক তৈরির ফলে)।
৯. পরিচলন স্রোত কীভাবে পাতের চলনে সাহায্য করে?
পৃথিবীর অভ্যন্তরে গুরুমণ্ডলে অত্যধিক তাপে ম্যাগমা উত্তপ্ত হয়ে উপরের দিকে ওঠে এবং শীতল হয়ে আবার নিচে নামে। এইভাবে একটি চক্রাকার স্রোত বা পরিচলন স্রোত তৈরি হয়। এই স্রোতের ধাক্কায় উপরের লিথোস্ফিয়ারিক পাতগুলো অত্যন্ত ধীর গতিতে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরে যায়।
১০. সমুদ্রতলের বিস্তার (Seafloor Spreading) প্রক্রিয়াটি বুঝিয়ে বলো।
অপসারী পাত সীমানায় দুটি সামুদ্রিক পাত যখন একে অপরের থেকে দূরে সরে যায়, তখন ভূগর্ভস্থ ম্যাগমা ফাটল দিয়ে বেরিয়ে এসে সমুদ্রের তলদেশে জমা হয়। এই ম্যাগমা জমে নতুন ভূত্বক তৈরি করে, যার ফলে সমুদ্রের তলদেশ ধীরে ধীরে বিস্তৃত হতে থাকে। একেই সমুদ্রতলের বিস্তার বলা হয়।
১১. পাত সীমানাগুলো কেন অস্থির প্রকৃতির হয়?
পাত সীমানাগুলো হলো দুটি পাতের মিলনস্থল। এখানে পাতগুলো হয় একে অপরের দিকে আসে, না হয় দূরে সরে যায় অথবা পাশাপাশি ঘঁষে চলে। এই গতির কারণে সীমানা অঞ্চলে প্রবল ঘর্ষণ, চাপ ও তাপের সৃষ্টি হয়। ফলে এই অঞ্চলগুলোতে ভূমিকম্প ও অগ্ন্যুৎপাতের মতো ঘটনা বেশি ঘটে, তাই এগুলি অস্থির প্রকৃতির।
১২. ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টির প্রক্রিয়াটি বর্ণনা করো।
অভিসারী পাত সীমানায় যখন দুটি মহাদেশীয় পাত বা একটি সামুদ্রিক ও একটি মহাদেশীয় পাত পরস্পরের দিকে এগিয়ে আসে, তখন তাদের মধ্যবর্তী পাললিক শিলাস্তরে প্রবল পার্শ্বচাপ পড়ে। এই চাপের ফলে শিলাস্তরে ভাঁজ পড়ে এবং তা উপরে উঠে ভঙ্গিল পর্বত তৈরি করে। হিমালয়, আল্পস, আন্দিজ এভাবেই সৃষ্টি হয়েছে।
১৩. সামুদ্রিক ও মহাদেশীয় পাতের সংঘর্ষে কী ঘটে?
সামুদ্রিক পাত সাধারণত মহাদেশীয় পাতের চেয়ে ভারী হয়। ফলে এদের সংঘর্ষে সামুদ্রিক পাতটি মহাদেশীয় পাতের নিচে ঢুকে যায়। এর ফলে সমুদ্রের তলদেশে গভীর সমুদ্রখাত তৈরি হয় এবং মহাদেশের কিনারায় ভঙ্গিল পর্বত ও আগ্নেয়গিরি সৃষ্টি হতে পারে।
১৪. প্যানজিয়ার বিচ্ছেদ সম্পর্কে আলফ্রেড ভেগনারের মত কী ছিল?
ভেগনারের মতে, প্যানজিয়া নামক অখণ্ড ভূখণ্ডটি আজ থেকে প্রায় ২০ কোটি বছর আগে বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে ভাঙতে শুরু করে। এই ভাঙনের ফলে সৃষ্ট খণ্ডগুলো (বর্তমান মহাদেশগুলো) পশ্চিম ও উত্তর দিকে ভাসতে শুরু করে। এই সঞ্চরণের ফলেই বর্তমানের আটলান্টিক ও ভারত মহাসাগরের সৃষ্টি হয়েছে।
১৫. পাত সংস্থান তত্ত্বের গুরুত্ব আলোচনা করো।
পাত সংস্থান তত্ত্ব ভূগোলের একটি আধুনিক ও বৈপ্লবিক তত্ত্ব। এর মাধ্যমে পৃথিবীর প্রধান প্রধান ভৌগোলিক ঘটনা যেমন—পর্বত গঠন, ভূমিকম্পের কারণ, অগ্ন্যুৎপাতের উৎস এবং সমুদ্রতলের প্রসারণ সম্পর্কে বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। এটি পৃথিবীর বিবর্তন বুঝতে সাহায্য করে।
১৬. মহীখাত তত্ত্ব (Geosyncline Theory) কী?
এই তত্ত্ব অনুযায়ী, পৃথিবীর বিশাল পর্বতগুলো (যেমন হিমালয়) একসময় অগভীর ও সংকীর্ণ সমুদ্র বা মহীখাতে অবস্থিত ছিল। পার্শ্ববর্তী ভূখণ্ড থেকে আসা পলি এই মহীখাতে জমা হতো। পরবর্তীকালে পাতের চলনের ফলে সৃষ্ট প্রবল চাপে এই পলিরাশি ভাঁজ খেয়ে পর্বতের আকার ধারণ করে।
১৭. অভিসারী ও অপসারী পাত সীমানার মধ্যে পার্থক্য লেখো।
অভিসারী সীমানায় পাত দুটি পরস্পরের দিকে আসে, কিন্তু অপসারী সীমানায় পাত দুটি দূরে সরে যায়। অভিসারী সীমানায় ভূত্বক ধ্বংস হয় (বিনাশকারী), অন্যদিকে অপসারী সীমানায় নতুন ভূত্বক তৈরি হয় (গঠনকারী)। অভিসারী সীমানায় ভঙ্গিল পর্বত তৈরি হয়, আর অপসারী সীমানায় শৈলশিরা তৈরি হয়।
১৮. পাতের চলন কেন অত্যন্ত ধীর গতিতে হয়?
পাতগুলো অত্যন্ত বিশাল এবং ভারী শিলাখণ্ড দিয়ে গঠিত। এগুলি যে অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারের ওপর ভাসছে, তা অত্যন্ত সান্দ্র (Viscous) বা থকথকে প্রকৃতির। গুরুমণ্ডলের পরিচলন স্রোতের শক্তি এই বিশাল পাতগুলোকে সরানোর জন্য যথেষ্ট হলেও তা অত্যন্ত ধীর প্রক্রিয়ায় কাজ করে, তাই পাতের চলন বছরে মাত্র কয়েক সেন্টিমিটার হয়।
১৯. প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাতের গুরুত্ব কী?
প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাত হলো পৃথিবীর বৃহত্তম সামুদ্রিক পাত। এই পাতের সীমানা বরাবর পৃথিবীর অধিকাংশ সক্রিয় আগ্নেয়গিরি ও ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চল অবস্থিত, যাকে 'প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা' বলা হয়। এই পাতের চলন পৃথিবীর ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রাখে।
২০. চ্যুতি (Fault) কীভাবে সৃষ্টি হয়?
নিরপেক্ষ পাত সীমানায় যখন দুটি পাত পাশাপাশি ঘঁষে অগ্রসর হয়, তখন তাদের মধ্যে প্রবল ঘর্ষণ ও টানের সৃষ্টি হয়। এই টানের ফলে শিলাস্তরে ফাটল ধরে এবং শিলাস্তর এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বিচ্যুত হয়। একেই চ্যুতি বলা হয়। সান আন্দ্রিয়াস চ্যুতি এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
Day 2: (AMADER PRITHIBI) Osthir Prithibi CHAPTER ACTIVITIES
অধ্যায় ২: অস্থিত পৃথিবী (Unstable Earth)
নিচে প্রদত্ত পাঠ্যবইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং উত্তরগুলি আলোচনা করা হলো।
২.১ মহাদেশীয় সঞ্চরণ (Continental Drift)
প্রশ্ন ১: প্যানজিয়া (Pangaea) ও প্যানথালাসা (Panthalassa) বলতে কী বোঝো?
উত্তর: আজ থেকে প্রায় ৩০ কোটি বছর আগে পৃথিবীর সমস্ত মহাদেশগুলো একটি বিশাল ভূখণ্ড হিসেবে একসাথে যুক্ত ছিল, এই অখণ্ড স্থলভাগকে বলা হতো প্যানজিয়া। প্যানজিয়াকে ঘিরে থাকা বিশাল জলভাগ বা মহাসাগরকে বলা হতো প্যানথালাসা।
প্রশ্ন ২: 'মহাদেশীয় সঞ্চরণ' তত্ত্বটি কে এবং কবে প্রথম তুলে ধরেন?
উত্তর: ১৯১২ সালে জার্মান বিজ্ঞানী আলফ্রেড ভেগনার (Alfred Wegener) প্রথম মহাদেশীয় সঞ্চরণ তত্ত্বটি তুলে ধরেন।
২.২ পাত সংস্থান তত্ত্ব (Plate Tectonics)
প্রশ্ন ৩: 'পাত' (Plate) কাকে বলে? পৃথিবীতে কয়টি বড় পাত রয়েছে?
উত্তর: পাত সংস্থান তত্ত্ব অনুযায়ী, পৃথিবীর উপরিভাগ (লিথোস্ফিয়ার) কতগুলো শক্ত ও কঠিন খণ্ডে বিভক্ত, যেগুলোকে 'পাত' বলা হয়। পৃথিবীতে বর্তমানে ৭টি বড় পাত রয়েছে।
প্রশ্ন ৪: পৃথিবীর ৭টি বড় পাতের নাম লেখো।
উত্তর: ৭টি বড় পাত হলো— ১. প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাত, ২. ইউরেশীয় পাত, ৩. আফ্রিকান পাত, ৪. উত্তর আমেরিকান পাত, ৫. দক্ষিণ আমেরিকান পাত, ৬. ইন্দো-অস্ট্রেলীয় পাত এবং ৭. আন্টার্কটিকা পাত।
প্রশ্ন ৫: পাতের চলনের প্রধান কারণ কী?
উত্তর: পাতের চলনের প্রধান কারণ হলো গুরুমণ্ডলের পরিচলন স্রোত (Convection Current)। এই স্রোতের প্রভাবেই পাতগুলো অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারের ওপর ধীর গতিতে ভেসে বেড়ায়।
২.৩ পাত সীমানা (Plate Boundaries)
প্রশ্ন ৬: অপসারী পাত সীমানাকে কেন 'গঠনকারী পাত সীমানা' বলা হয়? একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: যখন দুটি পাত একে অপরের থেকে দূরে সরে যায়, তখন ফাটল দিয়ে ভূগর্ভের ম্যাগমা বাইরে বেরিয়ে এসে নতুন ভূত্বক বা সমুদ্রতল তৈরি করে। এই কারণে একে গঠনকারী পাত সীমানা বলা হয়। উদাহরণ: মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরা।
প্রশ্ন ৭: অভিসারী পাত সীমানার ফলাফল কী? একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: অভিসারী পাত সীমানায় দুটি পাত পরস্পরের দিকে এগিয়ে আসে এবং সংঘর্ষ ঘটে। এর ফলে ভারী পাতটি হালকা পাতের নিচে ঢুকে ধ্বংস হয়, তাই একে 'বিনাশকারী পাত সীমানা' বলে। এর ফলে ভঙ্গিল পর্বত ও সমুদ্রখাত তৈরি হয়। উদাহরণ: ইউরেশীয় ও ইন্দো-অস্ট্রেলীয় পাতের সংঘর্ষে হিমালয় পর্বতমালার সৃষ্টি।
প্রশ্ন ৮: নিরপেক্ষ পাত সীমানা বা ট্রান্সফর্ম চ্যুতির বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: এখানে দুটি পাত একে অপরের পাশাপাশি ঘঁষে অগ্রসর হয়। ফলে ভূত্বকের সৃষ্টি বা ধ্বংস কিছুই হয় না। তবে ঘর্ষণের ফলে তীব্র ভূমিকম্প ও চ্যুতি (Fault) তৈরি হয়। উদাহরণ: ক্যালিফোর্নিয়ার সান আন্দ্রিয়াস চ্যুতি।
২.৪ ও ২.৫ ফলাফল ও মহীখাত তত্ত্ব
প্রশ্ন ৯: পাতের চলনের ফলে পৃথিবীতে কী কী ভৌগোলিক পরিবর্তন ঘটে?
উত্তর: পাতের চলনের ফলে প্রধান তিনটি পরিবর্তন ঘটে:
১. ভঙ্গিল পর্বতের সৃষ্টি: অভিসারী চলনের ফলে হিমালয়, আল্পসের মতো পর্বত তৈরি হয়।
২. ভূমিকম্প ও অগ্ন্যুৎপাত: পাত সীমানাগুলো অস্থির হওয়ার কারণে এখানে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি দেখা যায়।
৩. সমুদ্রতলের বিস্তার: অপসারী সীমানায় নতুন ভূত্বক তৈরির ফলে সমুদ্রতল বিস্তৃত হয়।
প্রশ্ন ১০: মহীখাত তত্ত্ব (Geosyncline Theory) অনুযায়ী হিমালয় কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে?
উত্তর: বিজ্ঞানীদের মতে, বর্তমান হিমালয় যেখানে অবস্থিত সেখানে আগে 'টেথিস' (Tethys) নামে এক অগভীর সমুদ্র বা মহীখাত ছিল। উত্তর ও দক্ষিণ দিকের ভূখণ্ড থেকে আসা পলিতে চাপ পড়ে ভাঁজ খেয়ে হিমালয় পর্বত তৈরি হয়েছে।
Day 3: (AMADER PRITHIBI) Osthir Prithibi CHAPTER MOCK TEST
অধ্যায় ২: অস্থিত পৃথিবী
Interactive Test Bank (৬০টি প্রশ্ন)
Note: All questions are based on the provided textbook material.
Day 4: (AMADER PRITHIBI) Osthir Prithibi CHAPTER ONLINE EXAM
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE)
বিষয়: আমাদের পৃথিবী | অষ্টম শ্রেণী
অধ্যায় ২: অস্থিত পৃথিবী (অনলাইন মূল্যায়ন)
আপনার ফলাফল
চমৎকার প্রচেষ্টা!
* বড় প্রশ্নগুলি আপনার শিক্ষক দ্বারা মূল্যায়িত হবে। এখানে শুধুমাত্র MCQ স্কোর দেখানো হয়েছে।
Day 5: (AMADER PRITHIBI) Osthir Prithibi CHAPTER Activities Revision + Mistake Analysis Active Recall / Teaching Leave a Reply
অধ্যায় ২: অস্থিত পৃথিবী
Mistake Analysis & Power Revision Summary
সাধারণ ভুল ও সংশোধনী (Mistake Analysis)
| সাধারণ ভুল (Common Mistake) | সঠিক ধারণা (Correction) |
|---|---|
| প্যানজিয়া (Pangaea) ও প্যানথালাসা (Panthalassa)-কে গুলিয়ে ফেলা। | মনে রাখবে: প্যানজিয়া হলো বিশাল অখণ্ড 'স্থলভাগ' এবং প্যানথালাসা হলো তাকে ঘিরে থাকা 'জলভাগ'। |
| মহাদেশীয় সঞ্চরণ ও পাত সংস্থান তত্ত্বের প্রবক্তাকে এক মনে করা। | মহাদেশীয় সঞ্চরণ তত্ত্ব দেন আলফ্রেড ভেগনার (১৯১২)। পাত সংস্থান তত্ত্বটি জনপ্রিয় করেন পিচোঁ, উইলসন প্রমুখ (১৯৬০-এর দশক)। |
| পাতের চলনের কারণ হিসেবে শুধু ভূমিকম্পকে দায়ী করা। | পাতের চলনের প্রধান ও মূল কারণ হলো গুরুমণ্ডলের পরিচলন স্রোত (Convection Current)। ভূমিকম্প চলনের ফলাফল, কারণ নয়। |
| অপসারী ও অভিসারী সীমানার কাজ গুলিয়ে ফেলা। | অপসারী = গঠনকারী (নতুন ভূত্বক তৈরি হয়)। অভিসারী = বিনাশকারী (পাত ধ্বংস হয়)। |
| মনে করা যে নিরপেক্ষ সীমানায় কিছুই ঘটে না। | নিরপেক্ষ সীমানায় ভূত্বক সৃষ্টি বা ধ্বংস না হলেও, ঘর্ষণের ফলে এখানে তীব্র ভূমিকম্প ও চ্যুতি তৈরি হয় (যেমন: সান আন্দ্রিয়াস চ্যুতি)। |
পাওয়ার রিভিশন সামারি (High-Yield Points)
উৎপত্তি ও তত্ত্ব
- ৩০ কোটি বছর আগে সব মহাদেশ ছিল প্যানজিয়া।
- ২০ কোটি বছর আগে বিচ্ছেদ শুরু হয় (ভেগনারের তত্ত্ব)।
- পৃথিবীর উপরিভাগ বা লিথোস্ফিয়ার কতগুলো পাতে বিভক্ত।
পাতের পরিসংখ্যান
- ৭টি বড় পাত: প্রশান্ত মহাসাগরীয়, ইউরেশীয়, আফ্রিকান, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকান, ইন্দো-অস্ট্রেলীয় এবং আন্টার্কটিকা।
- ৮টি মাঝারি এবং অসংখ্য ছোট পাত রয়েছে।
পাত সীমানা ও উদাহরণ
- অপসারী: মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরা।
- অভিসারী: হিমালয় পর্বতমালা (ইউরেশীয় ও ইন্দো-অস্ট্রেলীয় পাতের সংঘর্ষ)।
- নিরপেক্ষ: সান আন্দ্রিয়াস চ্যুতি।
হিমালয়ের জন্মকথা
- আগে এখানে ছিল টেথিস নামক মহীখাত।
- অভিসারী চলনের ফলে পাললিক শিলাস্তরে ভাঁজ পড়ে ভঙ্গিল পর্বত (হিমালয়) তৈরি হয়েছে।
Active Recall Toolkit
বিষয়: আমাদের পৃথিবী | অধ্যায় ২: অস্থিত পৃথিবী
১. Blind Questions (স্মৃতি পরীক্ষা)
- ১. প্যানজিয়া (Pangaea) বলতে কী বোঝায়?
- ২. প্যানথালাসা কী ছিল?
- ৩. মহাদেশীয় সঞ্চরণ তত্ত্বটি কে এবং কত সালে প্রথম তুলে ধরেন?
- ৪. কত বছর আগে প্যানজিয়া ভাঙতে শুরু করে?
- ৫. পাত সংস্থান তত্ত্বের সাথে যুক্ত দুজন বিজ্ঞানীর নাম লেখো।
- ৬. পৃথিবীতে বর্তমানে কয়টি বড় পাত রয়েছে?
- ৭. পাতের চলনের প্রধান কারণ কী?
- ৮. পাতগুলো কার ওপর অত্যন্ত ধীর গতিতে ভেসে বেড়াচ্ছে?
- ৯. অপসারী পাত সীমানাকে কেন 'গঠনকারী' সীমানা বলা হয়?
- ১০. মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরা কোন ধরনের পাত সীমানার উদাহরণ?
- ১১. অভিসারী পাত সীমানার অপর নাম কী?
- ১২. হিমালয় পর্বতমালা কোন দুটি পাতের সংঘর্ষে সৃষ্টি হয়েছে?
- ১৩. নিরপেক্ষ পাত সীমানায় কী ধরনের ভৌগোলিক পরিবর্তন ঘটে?
- ১৪. সান আন্দ্রিয়াস চ্যুতি কোথায় অবস্থিত?
- ১৫. হিমালয় সৃষ্টির আগে সেখানে কোন সমুদ্র বা মহীখাত ছিল?
২. The Feynman Method (সহজ ব্যাখ্যা)
"৫ বছরের শিশুকে বোঝানোর মতো করে পাত সংস্থান তত্ত্ব:"
"মনে করো, পৃথিবীটা একটা বড় ফুটবলের মতো, কিন্তু তার ওপরের চামড়াটা এক টুকরো নয়, বরং অনেকগুলো ভাঙা বিস্কুটের টুকরোর মতো জোড়া লাগানো। এই টুকরোগুলোকে আমরা বলি 'পাত'।
এখন, এই বিস্কুটের টুকরোগুলো মাটির নিচে থাকা গরম জেলি বা আঠালো তরলের (ম্যাগমা) ওপর ভাসছে। যখন এই জেলি নড়াচড়া করে, তখন বিস্কুটের টুকরোগুলোও নড়ে।
- যখন দুটো টুকরো একে অপরের থেকে দূরে সরে যায়, তখন নিচ থেকে নতুন জেলি উঠে এসে নতুন মাটি তৈরি করে।
- যখন দুটো টুকরো ধাক্কা খায়, তখন মাটি কুঁচকে গিয়ে উঁচু পাহাড় (যেমন হিমালয়) তৈরি হয়।
- আর যখন তারা একে অপরের পাশ দিয়ে ঘঁষে চলে যায়, তখন পৃথিবী কেঁপে ওঠে, যেটাকে আমরা ভূমিকম্প বলি।"
৩. Spaced Repetition Schedule (রিভিশন রুটিন)
- • প্যানজিয়া ও প্যানথালাসা।
- • আলফ্রেড ভেগনারের তত্ত্ব।
- • ৭টি বড় পাতের নাম মুখস্থ করা।
- • পরিচলন স্রোত ও পাতের চলন।
- • তিন প্রকার পাত সীমানার পার্থক্য।
- • গঠনকারী বনাম বিনাশকারী সীমানা।
- • হিমালয় ও সান আন্দ্রিয়াস চ্যুতি।
- • টেথিস সাগর ও মহীখাত তত্ত্ব।
- • ম্যাপ দেখে পাত সীমানা চিহ্নিতকরণ।