Smart AI Education
পরীক্ষার প্রস্তুতি, দ্রুত রিভিশন এবং স্মার্ট স্টাডির জন্য AI-এর জাদুকরী ব্যবহার শিখুন।
Study Smart, Not Just Hard
AI কে আপনার পার্সোনাল টিউটর হিসেবে ব্যবহার করুন। যেকোনো কঠিন বিষয় বোঝা, নোটস বানানো, কিংবা পরীক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা—সবকিছুই এখন ৩ গুণ দ্রুত!
DOWNLOAD PDF AI GUIDE Day 1: অধ্যায় ৩: ঔপনিবেশিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা: কাঠামো ও ভিত্তি NOTES
অধ্যায় ৩: ঔপনিবেশিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা: কাঠামো ও ভিত্তি
ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনব্যবস্থাকে মজবুত করার প্রশাসনিক ও আইনি বিবর্তনের রূপরেখা (পৃষ্ঠা ৩৫ - ৫২)।
প্রেসিডেন্সি ব্যবস্থা
বাণিজ্যিক প্রয়োজনে মাদ্রাজ, বোম্বাই এবং কলকাতা—এই তিনটি কেন্দ্রকে ঘিরে গড়ে ওঠা শাসন এলাকা। ১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্ট অনুযায়ী বাংলার গভর্নরকে 'গভর্নর জেনারেল' করা হয়।
আইনি কাঠামো
- • রেগুলেটিং অ্যাক্ট (১৭৭৩): সংসদীয় নিয়ন্ত্রণের প্রথম পদক্ষেপ।
- • পিটের ভারত শাসন আইন (১৭৮৪): বোর্ড অফ কন্ট্রোল-এর মাধ্যমে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ।
আমলাতন্ত্র (Civil Service)
লর্ড কর্নওয়ালিস হলেন সিভিল সার্ভিসের জনক। ১৮০০ সালে লর্ড ওয়েলেসলি আমলাদের প্রশিক্ষণের জন্য কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
পুলিশ ও সেনাবাহিনী
১৭৯৩ সালে থানা ব্যবস্থা ও দারোগা নিয়োগ। সেনাবাহিনীতে ভারতীয় কৃষকদের 'সিপাহি' হিসেবে নিয়োগ ও আধুনিক মাস্কেট ব্যবহার।
বিচার ও শিক্ষা সংস্কার
বিচার ব্যবস্থা ও কর্নওয়ালিস কোড (১৭৯৩)
১৭৭৪ সালে কলকাতায় সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠিত হয় (প্রধান বিচারপতি: স্যার এলিজা ইম্পে)। কর্নওয়ালিস কোডের মাধ্যমে দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিচার আলাদা করা হয়।
শিক্ষা ভাবনা: ম্যাকালে ও উড
ম্যাকালে মিনিট (১৮৩৫): ইংরেজি শিক্ষার প্রস্তাব।
উডের ডেসপ্যাচ (১৮৫৪): আধুনিক শিক্ষার ভিত্তি বা 'মহাসনদ'। এর ফলে কলকাতা, বোম্বাই ও মাদ্রাজে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে ওঠে।
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (Q&A)
১. 'প্রেসিডেন্সি ব্যবস্থা' বলতে কী বোঝায়?
২. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ কেন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
৩. 'কর্নওয়ালিস কোড' কী?
৪. উডের ডেসপ্যাচকে কেন 'মহাসনদ' বলা হয়?
বিষয়: ইতিহাস (অষ্টম শ্রেণি)
অধ্যায় ৩: ঔপনিবেশিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা: কাঠামো ও ভিত্তি
পৃষ্ঠা ৩৫ - ৫২ | ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর সংকলন
সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (Short Answer Questions - 20)
১. 'প্রেসিডেন্সি' বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তাদের বাণিজ্যিক প্রয়োজনে মাদ্রাজ, বোম্বাই ও কলকাতাকে কেন্দ্র করে যে তিনটি প্রশাসনিক ঘাঁটি তৈরি করেছিল, তাদের প্রেসিডেন্সি বলা হয়।
২. ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
উত্তর: ১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্ট অনুযায়ী ওয়ারেন হেস্টিংস ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন।
৩. রেগুলেটিং অ্যাক্ট কবে পাস হয়?
উত্তর: ১৭৭৩ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট রেগুলেটিং অ্যাক্ট পাস করে।
৪. পিটের ভারত শাসন আইন কবে প্রবর্তিত হয়?
উত্তর: ১৭৮৪ সালে উইলিয়াম পিট এই আইন প্রবর্তন করেন।
৫. কাকে ভারতের 'সিভিল সার্ভিসের জনক' বলা হয়?
উত্তর: লর্ড কর্নওয়ালিসকে ভারতে সিভিল সার্ভিসের জনক বলা হয়।
৬. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ কেন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
উত্তর: ভারতে আগত ব্রিটিশ সিভিলিয়ানদের ভারতের ভাষা, সংস্কৃতি ও আইন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য এই কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
৭. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ কবে এবং কে প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তর: ১৮০০ সালে লর্ড ওয়েলেসলি কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
৮. হেলিবেরি কলেজ কোথায় অবস্থিত ছিল?
উত্তর: হেলিবেরি কলেজ ইংল্যান্ডে অবস্থিত ছিল, যেখানে ১৮০৬ সাল থেকে সিভিলিয়ানদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।
৯. কর্নওয়ালিস কেন কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি করেছিলেন?
উত্তর: আমলাতন্ত্রে দুর্নীতি রোধ করতে এবং কর্মচারীদের ব্যক্তিগত বাণিজ্য বন্ধ করার উদ্দেশ্যে তিনি বেতন বৃদ্ধি করেন।
১০. 'থানা' ব্যবস্থা কে প্রবর্তন করেন?
উত্তর: ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস জেলাগুলিকে থানায় ভাগ করে পুলিশি ব্যবস্থা আধুনিক করেন।
১১. 'দারোগা' পদের কাজ কী ছিল?
উত্তর: প্রতিটি থানার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করা ছিল দারোগার প্রধান কাজ।
১২. কোম্পানির সেনাবাহিনীতে 'সিপাহি' কারা ছিল?
উত্তর: ব্রিটিশরা ভারতীয় কৃষকদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করত, যাদের 'সিপাহি' বলা হতো।
১৩. 'মাস্কেট' কী?
উত্তর: মাস্কেট হলো এক ধরণের আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র যা ব্রিটিশ কোম্পানির সেনাবাহিনীতে ব্যবহৃত হতো।
১৪. কলকাতায় সুপ্রিম কোর্ট কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তর: ১৭৭৪ সালে কলকাতায় সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৫. সুপ্রিম কোর্টের প্রথম প্রধান বিচারপতি কে ছিলেন?
উত্তর: স্যার এলিজা ইম্পে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রথম প্রধান বিচারপতি।
১৬. 'কর্নওয়ালিস কোড' কী?
উত্তর: ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস বিচার বিভাগীয় ও রাজস্ব সংক্রান্ত নিয়মাবলি সংকলিত করে যে আইনবিধি তৈরি করেন, তাকে কর্নওয়ালিস কোড বলে।
১৭. ম্যাকালে মিনিট (১৮৩৫) এর প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?
উত্তর: ভারতে পাশ্চাত্য জ্ঞান ও ইংরেজি শিক্ষার প্রসার ঘটানো এবং একদল অনুগত ভারতীয় কেরানি তৈরি করা।
১৮. উডের ডেসপ্যাচ কবে প্রকাশিত হয়?
উত্তর: ১৮৫৪ সালে চার্লস উড তাঁর শিক্ষা সংক্রান্ত নির্দেশনামা বা ডেসপ্যাচ পেশ করেন।
১৯. উডের ডেসপ্যাচের ফলে কোথায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়?
উত্তর: উডের ডেসপ্যাচের ফলে কলকাতা, বোম্বাই ও মাদ্রাজে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।
২০. বোর্ড অফ কন্ট্রোল কেন গঠিত হয়েছিল?
উত্তর: পিটের ভারত শাসন আইন অনুযায়ী কোম্পানির রাজনৈতিক ও সামরিক কাজের ওপর ব্রিটিশ সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য এটি গঠিত হয়।
দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্ন (Long Answer Questions - 20)
১. ব্রিটিশ ভারতের প্রেসিডেন্সি ব্যবস্থার বিবর্তন আলোচনা করো।
উত্তর: ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তাদের বাণিজ্যিক স্বার্থে ভারতে তিনটি প্রধান ঘাঁটি তৈরি করেছিল—মাদ্রাজ, বোম্বাই এবং কলকাতা। এই তিনটি কেন্দ্রকে ঘিরে যে প্রশাসনিক অঞ্চল গড়ে ওঠে, তাকেই 'প্রেসিডেন্সি' বলা হতো। প্রথম দিকে প্রতিটি প্রেসিডেন্সি আলাদাভাবে একজন গভর্নর ও তাঁর কাউন্সিলের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। কিন্তু ১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্ট পাসের পর প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিবর্তন আসে। বাংলার গভর্নরকে 'গভর্নর জেনারেল' পদে উন্নীত করা হয় এবং মাদ্রাজ ও বোম্বাই প্রেসিডেন্সিকে তাঁর অধীনে আনা হয়। এর ফলে ভারতে ব্রিটিশ শাসনের একটি কেন্দ্রীয় কাঠামো তৈরি হয়।
২. ১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্টের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্ট ছিল ভারতের ব্রিটিশ শাসনের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট প্রথমবারের মতো কোম্পানির শাসনের ওপর সংসদীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে। এই আইনের প্রধান দিকগুলি হলো: (ক) বাংলার গভর্নরকে গভর্নর জেনারেল করা হয়, (খ) বোম্বাই ও মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সিকে বাংলার অধীনে আনা হয় এবং (গ) কলকাতায় একটি সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত হয়। এই আইনের মাধ্যমেই ভারতে কোম্পানির একচ্ছত্র ক্ষমতার ওপর আইনি সীমাবদ্ধতা আরোপ করা শুরু হয়।
৩. পিটের ভারত শাসন আইনের (১৭৮৪) প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি কী ছিল?
উত্তর: ১৭৮৪ সালে উইলিয়াম পিট প্রবর্তিত ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে ভারতে কোম্পানির শাসনের ওপর ব্রিটিশ সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো: (ক) লন্ডনে একটি 'বোর্ড অফ কন্ট্রোল' গঠন করা হয় যা কোম্পানির রাজনৈতিক ও সামরিক কার্যাবলি তদারকি করত। (খ) কোম্পানির বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক কাজকে আলাদা করে দেওয়া হয়। (গ) ভারতে ব্রিটিশ অধিকৃত অঞ্চলগুলিকে প্রথমবারের মতো 'ভারতে ব্রিটিশ অধিকৃত এলাকা' হিসেবে অভিহিত করা হয়। এই আইনের ফলে ভারতে দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার সূচনা হয়।
৪. লর্ড কর্নওয়ালিস কেন সিভিল সার্ভিস সংস্কার করেছিলেন?
উত্তর: লর্ড কর্নওয়ালিস ভারতে ব্রিটিশ আমলাতন্ত্র বা সিভিল সার্ভিসকে একটি সুসংগঠিত রূপ দিয়েছিলেন। তাঁর সংস্কারের প্রধান কারণগুলি ছিল: (ক) কোম্পানির কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক দুর্নীতি দমন করা। (খ) কর্মচারীদের ব্যক্তিগত বাণিজ্য বন্ধ করা। (গ) শাসনব্যবস্থাকে দক্ষ ও পেশাদার করে তোলা। এই উদ্দেশ্যে তিনি কর্মচারীদের বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেন এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগের ওপর জোর দেন। তাঁর এই প্রচেষ্টার ফলেই সিভিল সার্ভিস ব্রিটিশ শাসনের 'ইস্পাত-কাঠামো' হিসেবে পরিচিতি পায়।
৫. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তর: ১৮০০ সালে লর্ড ওয়েলেসলি কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ইংল্যান্ড থেকে আগত নবীন সিভিলিয়ানদের ভারতীয় ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং আইন বিষয়ে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া। ওয়েলেসলি মনে করতেন যে, ভারতের মানুষকে শাসন করতে হলে তাদের ভাষা ও প্রথা জানা জরুরি। যদিও ১৮০৬ সালে ইংল্যান্ডের হেলিবেরি কলেজে এই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা স্থানান্তরিত হয়, তবুও ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারে এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
৬. ব্রিটিশ আমলের পুলিশি ব্যবস্থার বিবর্তন বর্ণনা করো।
উত্তর: ব্রিটিশ শাসনের শুরুতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা ছিল না। ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস পুলিশি ব্যবস্থাকে আধুনিক করার উদ্যোগ নেন। তিনি প্রতিটি জেলাকে কয়েকটি 'থানা' এলাকায় বিভক্ত করেন এবং প্রতিটি থানায় একজন করে 'দারোগা' নিয়োগ করেন। দারোগার অধীনে পুলিশ বাহিনী শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করত। এছাড়া গ্রাম এলাকায় চৌকিদার ও কোতোয়াল ব্যবস্থা বজায় রাখা হয়। এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য ছিল ঔপনিবেশিক শাসনকে তৃণমূল স্তরে মজবুত করা এবং জনগণের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।
৭. কোম্পানির সেনাবাহিনীর গঠন ও প্রশিক্ষণের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
উত্তর: ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সামরিক শক্তির প্রধান ভিত্তি ছিল ভারতীয় কৃষকদের নিয়ে গঠিত 'সিপাহি' বাহিনী। এই সেনাবাহিনীর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো: (ক) ইউরোপীয় ধাঁচে কঠোর শৃঙ্খলা ও নিয়মিত প্রশিক্ষণ। (খ) আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র যেমন 'মাস্কেট' ব্যবহার। (গ) নিয়মিত বেতন ও পেশাদারিত্ব। ব্রিটিশরা ভারতীয়দের নিয়োগ করলেও উচ্চপদস্থ অফিসাররা ছিলেন সর্বদা ইউরোপীয়। এই শক্তিশালী ও আধুনিক প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনীর সাহায্যেই কোম্পানি ভারতের বিশাল ভূখণ্ড জয় করতে সক্ষম হয়েছিল।
৮. কর্নওয়ালিস কোড (১৭৯৩) সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করো।
উত্তর: লর্ড কর্নওয়ালিস ১৭৯৩ সালে বিচার বিভাগ ও রাজস্ব আদায়ের নিয়মাবলিকে সুসংহত করে একটি আইন সংকলন প্রকাশ করেন, যা 'কর্নওয়ালিস কোড' নামে পরিচিত। এর প্রধান দিকগুলি হলো: (ক) দেওয়ানি (সিভিল) ও ফৌজদারি (ক্রিমিনাল) বিচার ব্যবস্থাকে আলাদা করা হয়। (খ) বিচার বিভাগকে প্রশাসনিক বিভাগ থেকে পৃথক করা হয়। (গ) আইনের চোখে সকলের সমান অধিকার বা সমতার নীতি ঘোষিত হয়। এই কোড ভারতে একটি আধুনিক ও বিধিবদ্ধ বিচার ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করেছিল।
৯. ঔপনিবেশিক বিচার ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা কী ছিল?
উত্তর: ১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্ট অনুযায়ী ১৭৭৪ সালে কলকাতায় সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠিত হয়। স্যার এলিজা ইম্পে ছিলেন এর প্রথম প্রধান বিচারপতি। সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ভারতে ব্রিটিশ আইনের প্রয়োগ শুরু হয়। এটি ছিল ভারতের সর্বোচ্চ আদালত, যা কোম্পানির কর্মচারী এবং ব্রিটিশ নাগরিকদের বিচার করত। যদিও প্রথম দিকে এর এক্তিয়ার নিয়ে বিতর্ক ছিল, তবুও এটি ভারতে একটি কেন্দ্রীয় ও আধুনিক বিচার কাঠামো গড়ে তুলতে সাহায্য করেছিল এবং পরবর্তীকালে হাইকোর্ট ও জেলা আদালত ব্যবস্থার পথ প্রশস্ত করেছিল।
১০. ম্যাকালে মিনিটের (১৮৩৫) গুরুত্ব ও প্রভাব আলোচনা করো।
উত্তর: টমাস ব্যাবিংটন ম্যাকালে ১৮৩৫ সালে ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা ও ইংরেজি ভাষা প্রবর্তনের সমর্থনে একটি প্রস্তাব দেন, যা 'ম্যাকালে মিনিট' নামে পরিচিত। তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল এমন এক শিক্ষিত ভারতীয় সমাজ তৈরি করা যারা রক্তে ও বর্ণে ভারতীয় হলেও রুচি, নীতি ও চিন্তায় হবে ইংরেজ। তিনি মনে করতেন ইংরেজি শিক্ষার মাধ্যমেই ভারতে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসার সম্ভব। এর ফলে ভারতে সরকারি ভাষা হিসেবে ফারসির পরিবর্তে ইংরেজি স্বীকৃত হয় এবং পাশ্চাত্য শিক্ষার দ্রুত প্রসার ঘটে, যা পরবর্তীকালে ভারতের সামাজিক ও রাজনৈতিক চিন্তায় বড় পরিবর্তন আনে।
১১. উডের ডেসপ্যাচকে (১৮৫৪) কেন ভারতের আধুনিক শিক্ষার 'মহাসনদ' বলা হয়?
উত্তর: ১৮৫৪ সালে চার্লস উড শিক্ষা সংক্রান্ত যে নির্দেশনামা পেশ করেন, তাকে ভারতের আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তি বা 'মহাসনদ' বলা হয়। এর কারণগুলি হলো: (ক) এটি প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তর পর্যন্ত শিক্ষার একটি সুসংগঠিত কাঠামো তৈরি করে। (খ) প্রতিটি প্রদেশে শিক্ষা বিভাগ বা 'ডিপার্টমেন্ট অফ পাবলিক ইনস্ট্রাকশন' গঠনের নির্দেশ দেয়। (গ) এর ফলেই ১৮৫৭ সালে কলকাতা, বোম্বাই ও মাদ্রাজে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। (ঘ) এটি নারীশিক্ষা ও শিক্ষক প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিয়েছিল। এই ডেসপ্যাচের মাধ্যমেই ভারতে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক রূপায়ন ঘটে।
১২. ব্রিটিশ আমলাতন্ত্রকে কেন শাসনের 'ইস্পাত-কাঠামো' বলা হয়?
উত্তর: ব্রিটিশ আমলাতন্ত্র বা সিভিল সার্ভিস ছিল ভারতে ব্রিটিশ শাসনের প্রধান ভিত্তি। লর্ড কর্নওয়ালিস একে সুসংগঠিত করেন। একে 'ইস্পাত-কাঠামো' বলা হয় কারণ: (ক) আমলারা ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ ও প্রশিক্ষিত। (খ) তাঁরা সরাসরি ব্রিটিশ সরকারের প্রতি অনুগত ছিলেন এবং ভারতের বিশাল প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করতেন। (গ) রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও আমলাতন্ত্রের কাঠামোটি অপরিবর্তিত থাকত। এই শক্তিশালী আমলাতন্ত্রের মাধ্যমেই ব্রিটিশরা দীর্ঘকাল ভারতে তাদের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিল।
১৩. ঔপনিবেশিক শিক্ষা ভাবনার মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
উত্তর: ব্রিটিশদের ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রসারের পেছনে গভীর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্দেশ্য ছিল। প্রথমত, শাসনকার্য পরিচালনার জন্য তাদের একদল ইংরেজি জানা অনুগত কেরানি ও মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন ছিল। দ্বিতীয়ত, পাশ্চাত্য শিক্ষার মাধ্যমে তারা ভারতীয়দের মধ্যে ব্রিটিশ সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জাগিয়ে তুলতে চেয়েছিল। তৃতীয়ত, শিক্ষিত ভারতীয়দের মাধ্যমে তারা ব্রিটিশ পণ্য ও চিন্তাধারার বাজার তৈরি করতে চেয়েছিল। অর্থাৎ, শিক্ষা ছিল তাদের ঔপনিবেশিক শাসনকে দীর্ঘস্থায়ী করার একটি হাতিয়ার।
১৪. লর্ড কর্নওয়ালিসের বিচার বিভাগীয় সংস্কারের সীমাবদ্ধতাগুলি কী ছিল?
উত্তর: লর্ড কর্নওয়ালিস বিচার ব্যবস্থাকে আধুনিক করলেও এর কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। প্রথমত, বিচার ব্যবস্থা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছিল, যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ছিল। দ্বিতীয়ত, আইনের ভাষা ইংরেজি হওয়ায় সাধারণ মানুষ বিচার প্রক্রিয়া বুঝতে পারত না। তৃতীয়ত, 'আইনের চোখে সমতা'র কথা বলা হলেও বাস্তবে ইউরোপীয়দের বিচারের জন্য আলাদা নিয়ম ছিল। চতুর্থত, ভারতীয়দের উচ্চ বিচার বিভাগীয় পদে নিয়োগ করা হতো না। ফলে এই ব্যবস্থা মূলত ব্রিটিশ স্বার্থ রক্ষার্থেই বেশি কাজ করত।
১৫. ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে ভারতীয় সিপাহিদের অবস্থা কেমন ছিল?
উত্তর: কোম্পানির সেনাবাহিনীতে ভারতীয় সিপাহিরা ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ। তারা আধুনিক প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র পেত ঠিকই, কিন্তু তাদের অবস্থা খুব একটা সন্তোষজনক ছিল না। সিপাহিদের বেতন ছিল ইউরোপীয় সৈন্যদের তুলনায় অনেক কম। পদোন্নতির সুযোগ ছিল অত্যন্ত সীমিত; কোনো ভারতীয় সিপাহি উচ্চপদস্থ অফিসার হতে পারত না। এছাড়া অনেক সময় তাদের ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কারের পরিপন্থী কাজ করতে বাধ্য করা হতো। এই বৈষম্য ও অসন্তোষই পরবর্তীকালে বড় ধরণের বিদ্রোহের পথ তৈরি করেছিল।
১৬. ব্রিটিশ শাসনের প্রশাসনিক কাঠামোর তিনটি প্রধান স্তম্ভ কী কী? আলোচনা করো।
উত্তর: ব্রিটিশ শাসনের প্রশাসনিক কাঠামোর তিনটি প্রধান স্তম্ভ ছিল—আমলাতন্ত্র, পুলিশ এবং সেনাবাহিনী। (১) আমলাতন্ত্র বা সিভিল সার্ভিস ছিল শাসনের মস্তিষ্ক, যা নীতি নির্ধারণ ও রাজস্ব আদায় করত। (২) পুলিশি ব্যবস্থা ছিল অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার হাতিয়ার, যা জনগণের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখত। (৩) সেনাবাহিনী ছিল বাহ্যিক আক্রমণ থেকে রক্ষা এবং নতুন এলাকা জয়ের প্রধান শক্তি। এই তিনটি স্তম্ভের সমন্বয়েই ব্রিটিশরা ভারতে তাদের ঔপনিবেশিক কর্তৃত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিল।
১৭. রেগুলেটিং অ্যাক্ট ও পিটের ভারত শাসন আইনের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: রেগুলেটিং অ্যাক্ট (১৭৭৩) ছিল কোম্পানির ওপর ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণের প্রথম পদক্ষেপ, যেখানে গভর্নর জেনারেলের পদ তৈরি করা হয়। অন্যদিকে, পিটের ভারত শাসন আইন (১৭৮৪) এই নিয়ন্ত্রণকে আরও সুসংহত করে 'বোর্ড অফ কন্ট্রোল' গঠনের মাধ্যমে। রেগুলেটিং অ্যাক্টে কোম্পানির বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতা আলাদা ছিল না, কিন্তু পিটের আইনে তা স্পষ্টভাবে আলাদা করা হয়। রেগুলেটিং অ্যাক্টের ত্রুটিগুলি দূর করতেই মূলত পিটের ভারত শাসন আইন আনা হয়েছিল।
১৮. ব্রিটিশরা কেন ভারতীয়দের উচ্চ প্রশাসনিক পদে নিয়োগ করত না?
উত্তর: ব্রিটিশরা মনে করত যে ভারতীয়দের উচ্চ পদে নিয়োগ করলে ঔপনিবেশিক শাসনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। তাদের ধারণা ছিল ভারতীয়রা ব্রিটিশ আইন ও প্রশাসনিক আদর্শের প্রতি সম্পূর্ণ অনুগত হবে না। এছাড়া শ্বেতাঙ্গ আধিপত্য বজায় রাখাও তাদের একটি উদ্দেশ্য ছিল। লর্ড কর্নওয়ালিস স্পষ্টভাবে বিশ্বাস করতেন যে ভারতীয়রা উচ্চ পদের যোগ্য নয়। এই বর্ণবাদী ও অবিশ্বাসের নীতির কারণেই সিভিল সার্ভিস বা সেনাবাহিনীর উচ্চপদগুলি শুধুমাত্র ইউরোপীয়দের জন্য সংরক্ষিত রাখা হতো।
১৯. ঔপনিবেশিক শাসনের কাঠামো তৈরিতে লর্ড কর্নওয়ালিসের অবদান মূল্যায়ন করো।
উত্তর: লর্ড কর্নওয়ালিসকে আধুনিক ব্রিটিশ প্রশাসনিক কাঠামোর স্থপতি বলা যেতে পারে। তিনি সিভিল সার্ভিসকে দুর্নীতিমুক্ত ও পেশাদার করে তোলেন। বিচার ব্যবস্থায় 'কর্নওয়ালিস কোড' প্রবর্তন করে তিনি দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালতকে আলাদা করেন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। পুলিশি ব্যবস্থায় থানা ও দারোগা প্রথা চালু করে তিনি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মজবুত করেন। তাঁর এই সংস্কারগুলি ব্রিটিশ শাসনকে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি প্রদান করেছিল।
২০. ১৮১৩ থেকে ১৮৫৪ সালের মধ্যে ব্রিটিশ শিক্ষা নীতির বিবর্তন সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর: ১৮১৩ সালের চার্টার অ্যাক্টে প্রথম ভারতীয় শিক্ষার জন্য ১ লক্ষ টাকা বরাদ্দের কথা বলা হয়। এরপর ১৮৩৫ সালে ম্যাকালে মিনিটের মাধ্যমে ইংরেজি শিক্ষাকে সরকারিভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য শিক্ষার সমর্থকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব (Anglicist-Orientalist controversy) চলে। অবশেষে ১৮৫৪ সালে উডের ডেসপ্যাচের মাধ্যমে একটি সুসংহত শিক্ষা কাঠামো তৈরি হয়, যা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এই বিবর্তনের মূল লক্ষ্য ছিল ভারতীয়দের পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত করে ব্রিটিশ শাসনের অনুগত করে তোলা।
Day 2: অধ্যায় ৩: ঔপনিবেশিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা: কাঠামো ও ভিত্তি ACTIVITIES
অধ্যায় ৩: ঔপনিবেশিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা: কাঠামো ও ভিত্তি
বিষয়: ইতিহাস | অষ্টম শ্রেণি (পৃষ্ঠা ৩৫ - ৫২)
📖 পাঠ্যসারসংক্ষেপ
প্রশাসনিক কাঠামো
মাদ্রাজ, বোম্বাই ও কলকাতা প্রেসিডেন্সি গঠন এবং ১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্টের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় শাসন প্রতিষ্ঠা।
আইন ও বিচার
১৭৭৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠা এবং ১৭৯৩ সালে কর্নওয়ালিস কোডের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ।
আমলাতন্ত্র ও পুলিশ
লর্ড কর্নওয়ালিস কর্তৃক সিভিল সার্ভিস ও থানা ব্যবস্থার প্রবর্তন।
শিক্ষা সংস্কার
ম্যাকালে মিনিট ও উডের ডেসপ্যাচের মাধ্যমে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার।
📝 অনুশীলনী ও প্রশ্নোত্তর (Activities)
প্রশ্ন: 'প্রেসিডেন্সি ব্যবস্থা' বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তাদের বাণিজ্যিক স্বার্থে মাদ্রাজ, বোম্বাই ও কলকাতাকে কেন্দ্র করে যে তিনটি আলাদা প্রশাসনিক অঞ্চল বা ঘাঁটি তৈরি করেছিল, তাদের প্রেসিডেন্সি বলা হতো। প্রতিটি প্রেসিডেন্সি পরিচালনার জন্য একজন গভর্নর এবং তাঁর কাউন্সিল থাকত।
প্রশ্ন: ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ কেন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
উত্তর: লর্ড ওয়েলেসলি ভারতে আগত ব্রিটিশ সিভিলিয়ান বা আমলাদের ভারতের ভাষা, সংস্কৃতি ও আইন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রশ্ন: 'কর্নওয়ালিস কোড' কী?
উত্তর: লর্ড কর্নওয়ালিস ১৭৯৩ সালে বিচার ব্যবস্থা ও রাজস্ব আদায়ের নিয়মাবলিকে সুসংহত করে যে আইন সংকলন প্রকাশ করেন, তাকে কর্নওয়ালিস কোড বলা হয়। এর মাধ্যমে দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থাকে আলাদা করা হয়।
প্রশ্ন: উডের ডেসপ্যাচকে কেন 'মহাসনদ' বলা হয়?
উত্তর: ১৮৫৪ সালে চার্লস উডের দেওয়া শিক্ষা সংক্রান্ত নির্দেশনামার ওপর ভিত্তি করেই ভারতে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তর পর্যন্ত আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামো গড়ে ওঠে। এই সুদূরপ্রসারী প্রভাবের কারণেই একে ভারতের আধুনিক শিক্ষার 'মহাসনদ' বলা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কণিকা (Quick Facts)
- রেগুলেটিং অ্যাক্ট: ১৭৭৩ সালে পাস হয়; ওয়ারেন হেস্টিংস প্রথম গভর্নর জেনারেল হন।
- পিটের ভারত শাসন আইন: ১৭৮৪ সালে পাস হয়; বোর্ড অফ কন্ট্রোল গঠিত হয়।
- সিভিল সার্ভিসের জনক: লর্ড কর্নওয়ালিস।
- সুপ্রিম কোর্ট: ১৭৭৪ সালে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত (প্রথম প্রধান বিচারপতি: স্যার এলিজা ইম্পে)।
- ম্যাকালে মিনিট: ১৮৩৫ সালে পাশ্চাত্য ও ইংরেজি শিক্ষার সমর্থনে প্রস্তাব।
Day 3: অধ্যায় ৩: ঔপনিবেশিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা: কাঠামো ও ভিত্তি MOCK TEST
ইতিহাস (অষ্টম শ্রেণি)
অধ্যায় ৩: ঔপনিবেশিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা: কাঠামো ও ভিত্তি
নির্দেশিকা: নিচের ৬০টি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে নিজের প্রস্তুতি যাচাই করো।
পাঠ্যসার সংক্ষেপ:
এই অধ্যায়ে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রশাসনিক কাঠামো, রেগুলেটিং অ্যাক্ট, পিটের ভারত শাসন আইন, সিভিল সার্ভিস, পুলিশি ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ এবং পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। লর্ড কর্নওয়ালিস, ওয়েলেসলি, ম্যাকালে এবং উডের অবদান এখানে প্রধান আলোচ্য বিষয়।
60 প্রশ্নোত্তর ভাণ্ডার
১. ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির তিনটি প্রধান প্রেসিডেন্সি কী কী ছিল?
উত্তর দেখুন
মাদ্রাজ, বোম্বাই এবং কলকাতা।
২. কত সালের রেগুলেটিং অ্যাক্ট অনুযায়ী বাংলার গভর্নরকে 'গভর্নর জেনারেল' করা হয়?
উত্তর দেখুন
১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্ট।
৩. ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
উত্তর দেখুন
ওয়ারেন হেস্টিংস।
৪. পিটের ভারত শাসন আইন কত সালে পাস হয়?
উত্তর দেখুন
১৭৮৪ সালে।
৫. 'বোর্ড অফ কন্ট্রোল' কোন আইনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
উত্তর দেখুন
পিটের ভারত শাসন আইন (১৭৮৪)।
৬. ভারতে 'সিভিল সার্ভিসের জনক' কাকে বলা হয়?
উত্তর দেখুন
লর্ড কর্নওয়ালিস।
৭. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ কে প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তর দেখুন
লর্ড ওয়েলেসলি।
৮. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তর দেখুন
১৮০০ সালে।
৯. সিভিলিয়ানদের প্রশিক্ষণের জন্য ইংল্যান্ডের কোন কলেজে ব্যবস্থা করা হয়েছিল?
উত্তর দেখুন
হেলিবেরি কলেজ (১৮০৬ সাল থেকে)।
১০. কর্নওয়ালিস কেন সিভিল সার্ভিস কর্মচারীদের ব্যক্তিগত বাণিজ্য নিষিদ্ধ করেন?
উত্তর দেখুন
দুর্নীতি রোধ করার জন্য।
১১. লর্ড কর্নওয়ালিস কত সালে থানা ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন?
উত্তর দেখুন
১৭৯৩ সালে।
১২. থানার দায়িত্বে থাকা প্রধান আধিকারিককে কী বলা হতো?
উত্তর দেখুন
দারোগা।
১৩. ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে ভারতীয় কৃষকদের কী বলা হতো?
উত্তর দেখুন
সিপাহি।
১৪. কোম্পানির সেনাবাহিনীতে কোন ধরনের আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হতো?
উত্তর দেখুন
মাস্কেট।
১৫. গ্রাম পাহাড়ার জন্য কোন ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল?
উত্তর দেখুন
চৌকিদার ও কোতোয়াল ব্যবস্থা।
১৬. কলকাতায় সুপ্রিম কোর্ট কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তর দেখুন
১৭৭৪ সালে।
১৭. সুপ্রিম কোর্টের প্রথম প্রধান বিচারপতি কে ছিলেন?
উত্তর দেখুন
স্যার এলিজা ইম্পে।
১৮. 'কর্নওয়ালিস কোড' কত সালে প্রবর্তিত হয়?
উত্তর দেখুন
১৭৯৩ সালে।
১৯. কর্নওয়ালিস কোডের মাধ্যমে কোন দুটি বিচার ব্যবস্থাকে আলাদা করা হয়?
উত্তর দেখুন
দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থা।
২০. ব্রিটিশ বিচার ব্যবস্থার একটি প্রধান নীতি কী ছিল?
উত্তর দেখুন
আইনের চোখে সমতা।
২১. ম্যাকালে মিনিট কত সালে পেশ করা হয়?
উত্তর দেখুন
১৮৩৫ সালে।
২২. ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার সমর্থনে কে প্রস্তাব দিয়েছিলেন?
উত্তর দেখুন
টমাস ব্যাবিংটন ম্যাকালে।
২৩. উডের ডেসপ্যাচ কত সালে প্রকাশিত হয়?
উত্তর দেখুন
১৮৫৪ সালে।
২৪. ভারতের আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তি কাকে বলা হয়?
উত্তর দেখুন
উডের ডেসপ্যাচ-কে।
২৫. উডের ডেসপ্যাচের ফলে কোন তিনটি শহরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তর দেখুন
কলকাতা, বোম্বাই ও মাদ্রাজ।
২৬. ব্রিটিশ শাসনের 'ইস্পাত-কাঠামো' কোনটি?
উত্তর: আমলাতন্ত্র।
২৭. পিটের ভারত শাসন আইন কে প্রবর্তন করেন?
উত্তর: উইলিয়াম পিট।
২৮. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: কলকাতায়।
২৯. সিভিলিয়ানদের কেন প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো?
উত্তর: ভারতের ভাষা ও সংস্কৃতি জানার জন্য।
৩০. ১৭৭৩ সালের আইনের নাম কী?
উত্তর: রেগুলেটিং অ্যাক্ট।
৩১-৬০ দ্রুত রিভিশন তালিকা:
- ৩১. দেওয়ানি লাভ: ১৭৬৫ সাল।
- ৩২. পলাশীর যুদ্ধ: ১৭৫৭ সাল।
- ৩৩. বক্সারের যুদ্ধ: ১৭৬৪ সাল।
- ৩৪. কর্নওয়ালিস কোড কী: আইনের সংকলন।
- ৩৫. ম্যাকালে কী চেয়েছিলেন: ইংরেজি শিক্ষিত অনুগত সমাজ।
- ৩৬. উডের ডেসপ্যাচকে কী বলা হয়: মহাসনদ।
- ৩৭. সিপাহিরা কোন ধাঁচে প্রশিক্ষণ পেত: ইউরোপীয়।
- ৩৮. বোর্ড অফ কন্ট্রোল কেন: কোম্পানির কাজের নিয়ন্ত্রণের জন্য।
- ৩৯. রেগুলেটিং অ্যাক্টের উদ্দেশ্য: সংসদীয় নিয়ন্ত্রণ।
- ৪০. দারোগা ব্যবস্থা কে বিলোপ করেন: (পরবর্তী সংস্কার)।
- ৪১. সুপ্রিম কোর্ট কোথায়: কলকাতায়।
- ৪২. সিভিল সার্ভিসের বেতন বৃদ্ধি করেন: কর্নওয়ালিস।
- ৪৩. মাদ্রাজ কী ছিল: একটি প্রেসিডেন্সি।
- ৪৪. বোম্বাই কী ছিল: একটি প্রেসিডেন্সি।
- ৪৫. ব্রিটিশদের প্রধান লক্ষ্য: রাজনৈতিক ক্ষমতা মজবুত করা।
- ৪৬. ম্যাকালে মিনিটের ভাষা: ইংরেজি।
- ৪৭. প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি: উডের ডেসপ্যাচ।
- ৪৮. ফৌজদারি আদালত: কর্নওয়ালিস কোডের অংশ।
- ৪৯. কোম্পানির একচ্ছত্র ক্ষমতা কমায়: রেগুলেটিং অ্যাক্ট।
- ৫০. নাদির শাহের আক্রমণ: ১৭৩৯ সাল।
- ৫১. ফারুখশিয়ারের ফরমান: ১৭১৭ সাল।
- ৫২. বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব: সিরাজউদ্দৌলা।
- ৫৩. দেওয়ানি কে দেন: মুঘল সম্রাট।
- ৫৪. সিপাহিরা মূলত কারা ছিল: ভারতীয় কৃষক।
- ৫৫. আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র: মাস্কেট।
- ৫৬. হেলিবেরি কলেজ কোথায়: ইংল্যান্ডে।
- ৫৭. সিভিল সার্ভিস কেন: শাসন পরিচালনার জন্য।
- ৫৮. আইনের চোখে সমতা: কর্নওয়ালিস কোড।
- ৫৯. তিনটি প্রধান ঘাঁটি: মাদ্রাজ, বোম্বাই, কলকাতা।
- ৬০. ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি: প্রশাসনিক ও আইনি কাঠামো।
Day 4: অধ্যায় ৩: ঔপনিবেশিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা: কাঠামো ও ভিত্তি ONLINE EXAM
অনলাইন মূল্যায়ন পরীক্ষা
বিষয়: ইতিহাস (অষ্টম শ্রেণি)
অধ্যায় ৩: ঔপনিবেশিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা: কাঠামো ও ভিত্তি
আপনার ফলাফল
আপনি ১০টি MCQ-এর মধ্যে সঠিক উত্তর দিয়েছেন। বড় প্রশ্নগুলি আপনার শিক্ষক মূল্যায়ন করবেন।
Day 5: অধ্যায় ৩: ঔপনিবেশিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা: কাঠামো ও ভিত্তি Activities Revision + Mistake Analysis Active Recall / Teaching Leave a Reply
অধ্যায় ৩: ঔপনিবেশিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা: কাঠামো ও ভিত্তি
ভুল সংশোধন এবং দ্রুত পুনরালোচনা (পৃষ্ঠা ৩৫ - ৫২)
সাধারণ ভুল ও সঠিক ধারণা (Mistake Analysis)
| সাধারণ ভুল ধারণা (Common Pitfalls) | সঠিক ঐতিহাসিক তথ্য (Correction) |
|---|---|
| অনেকে মনে করে লর্ড কর্নওয়ালিস ভারতের প্রথম 'গভর্নর জেনারেল'। | ১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্ট অনুযায়ী ওয়ারেন হেস্টিংস ছিলেন প্রথম গভর্নর জেনারেল। |
| ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ ভারতীয় ছাত্রদের পড়াশোনার জন্য তৈরি হয়েছিল। | না, এটি ১৮০০ সালে লর্ড ওয়েলেসলি প্রতিষ্ঠা করেন ভারতে আগত ব্রিটিশ সিভিলিয়ানদের (আমলাদের) প্রশিক্ষণের জন্য। |
| সিভিল সার্ভিসের জনক হিসেবে ওয়ারেন হেস্টিংসকে ধরা হয়। | লর্ড কর্নওয়ালিসকে ভারতে সিভিল সার্ভিসের জনক বলা হয় কারণ তিনি আমলাতন্ত্রকে সুসংগঠিত করেন। |
| ম্যাকালে মিনিট এবং উডের ডেসপ্যাচ একই বিষয়। | ম্যাকালে (১৮৩৫) ইংরেজি শিক্ষার প্রস্তাব দেন, কিন্তু উডের ডেসপ্যাচ (১৮৫৪) ছিল আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ কাঠামো বা 'মহাসনদ'। |
| সুপ্রিম কোর্ট এবং কর্নওয়ালিস কোড একই সময়ে চালু হয়। | সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠিত হয় ১৭৭৪ সালে, আর কর্নওয়ালিস কোড প্রবর্তিত হয় ১৭৯৩ সালে। |
পাওয়ার রিভিশন সামারি (High-Yield Points)
প্রশাসনিক কাঠামো ও আইন
- প্রেসিডেন্সি: মাদ্রাজ, বোম্বাই ও কলকাতা—এই তিনটি ছিল প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্র।
- রেগুলেটিং অ্যাক্ট (১৭৭৩): ব্রিটিশ পার্লামেন্টের প্রথম নিয়ন্ত্রণমূলক আইন।
- পিটের ভারত শাসন আইন (১৭৮৪): 'বোর্ড অফ কন্ট্রোল' গঠনের মাধ্যমে কোম্পানির ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি।
আমলাতন্ত্র ও পুলিশি ব্যবস্থা
- সিভিল সার্ভিস: কর্নওয়ালিস দুর্নীতি বন্ধে কর্মচারীদের বেতন বাড়ান ও ব্যক্তিগত বাণিজ্য নিষিদ্ধ করেন।
- থানা ব্যবস্থা: ১৭৯৩ সালে কর্নওয়ালিস জেলাকে থানায় ভাগ করে 'দারোগা' নিয়োগ করেন।
- সেনাবাহিনী: ভারতীয় কৃষকদের 'সিপাহি' হিসেবে নিয়োগ ও ইউরোপীয় ধাঁচে প্রশিক্ষণ।
বিচার ব্যবস্থা
- সুপ্রিম কোর্ট (১৭৭৪): কলকাতায় স্থাপিত, প্রথম প্রধান বিচারপতি স্যার এলিজা ইম্পে।
- কর্নওয়ালিস কোড (১৭৯৩): দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিচার আলাদা করা এবং আইনের চোখে সমতা প্রতিষ্ঠা।
শিক্ষা সংস্কার
- ম্যাকালে মিনিট (১৮৩৫): পাশ্চাত্য জ্ঞান ও ইংরেজি শিক্ষার সমর্থনে প্রস্তাব।
- উডের ডেসপ্যাচ (১৮৫৪): আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তি বা 'মহাসনদ'। এর ফলে কলকাতা, বোম্বাই ও মাদ্রাজে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়।
দ্রুত মনে রাখো (Quick Dates)
অধ্যায় ৩: ঔপনিবেশিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা: কাঠামো ও ভিত্তি
পৃষ্ঠা ৩৫ - ৫২ ভিত্তিক স্মৃতি ঝালাই ও প্রস্তুতি মডিউল
১. Blind Questions (স্মৃতি পরীক্ষা)
*নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর মনে মনে ভাবুন বা খাতায় লিখুন। কোনো অপশন দেওয়া হবে না।*
২. The Feynman Method (সহজ ব্যাখ্যা)
৫ বছরের শিশুকে বোঝানোর মতো সহজ স্ক্রিপ্ট:
"মনে করো, তোমার একটা বিশাল বড় বাগান আছে। সেই বাগানটা দেখাশোনা করার জন্য তুমি একটা নিয়ম বানালে। তুমি বাগানটাকে তিনটে বড় ভাগে ভাগ করলে (যেগুলোকে বলা হয় প্রেসিডেন্সি)। বাগান পাহারা দেওয়ার জন্য রাখলে পাহারাদার (পুলিশ ও সেনাবাহিনী), আর বাগানের গাছগুলো যারা দেখাশোনা করবে তাদের দিলে বিশেষ ট্রেনিং (সিভিল সার্ভিস)। যদি কেউ বাগানের ফল চুরি করে, তার জন্য বানালে একটা বিচার করার ঘর (সুপ্রিম কোর্ট)। আর বাগানের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা যাতে তোমার নিয়মগুলো বুঝতে পারে, তার জন্য বানালে স্কুল (পাশ্চাত্য শিক্ষা)। ব্রিটিশরাও ঠিক এভাবেই আমাদের দেশটাকে শাসনের একটা মজবুত কাঠামো বানিয়েছিল।"
৩. Spaced Repetition Schedule (রিভিশন রুটিন)
প্রশাসনিক কাঠামো
- • প্রেসিডেন্সি ব্যবস্থা
- • রেগুলেটিং অ্যাক্ট ও পিটের ভারত শাসন আইন
- • গভর্নর জেনারেলের ক্ষমতা
আইন ও শৃঙ্খলা
- • লর্ড কর্নওয়ালিসের আমলাতন্ত্র সংস্কার
- • পুলিশি ব্যবস্থা (থানা ও দারোগা)
- • সিপাহি ও সামরিক শক্তি
বিচার ও শিক্ষা
- • সুপ্রিম কোর্ট ও কর্নওয়ালিস কোড
- • ম্যাকালে মিনিট ও পাশ্চাত্য শিক্ষা
- • উডের ডেসপ্যাচ (১৮৫৪)
WBBSE AI Engine | অধ্যায় ৩: ঔপনিবেশিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা