Smart AI Education | Study Smart

Smart AI Education

পরীক্ষার প্রস্তুতি, দ্রুত রিভিশন এবং স্মার্ট স্টাডির জন্য AI-এর জাদুকরী ব্যবহার শিখুন।

Study Smart, Not Just Hard

AI কে আপনার পার্সোনাল টিউটর হিসেবে ব্যবহার করুন। যেকোনো কঠিন বিষয় বোঝা, নোটস বানানো, কিংবা পরীক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা—সবকিছুই এখন ৩ গুণ দ্রুত!

DOWNLOAD PDF AI GUIDE
Day 1: অধ্যায় ২: আঞ্চলিক শক্তির উত্থান NOTES
অধ্যায় ২: আঞ্চলিক শক্তির উত্থান - WBBSE Class VIII
Class VIII | Atit-O-Aitihya

অধ্যায় ২: আঞ্চলিক শক্তির উত্থান

Rise of Regional Powers

শিক্ষকের কথা

স্বাগতম ছাত্র-ছাত্রীরা! এই অধ্যায়ে আমরা দেখব কীভাবে ১৭০৭ সালে আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর মুঘল সাম্রাজ্য ভেঙে পড়ে এবং বাংলা, হায়দ্রাবাদ ও অযোধ্যার মতো নতুন আঞ্চলিক শক্তির জন্ম হয়। পাশাপাশি, ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কীভাবে বাণিজ্যের অছিলায় ভারতের রাজনীতিতে ঢুকে পড়েছিল, তাও আমরা জানব।

মুঘল সাম্রাজ্যের সংকট

১৭০৭ সালে আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর জাগিরদারি ও মনসবদারি সংকট এবং ১৭৩৯ সালে নাদির শাহের দিল্লি আক্রমণের ফলে সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে।

আঞ্চলিক শক্তির উত্থান

মুর্শিদকুলি খানের নেতৃত্বে বাংলা, নিজাম-উল-মুলকের নেতৃত্বে হায়দ্রাবাদ এবং সাদাৎ খানের নেতৃত্বে অযোধ্যা স্বাধীনভাবে গড়ে ওঠে।

পলাশী ও বক্সারের যুদ্ধ

১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধ এবং ১৭৬৪ সালের বক্সারের যুদ্ধের মাধ্যমে ব্রিটিশরা বাংলায় রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার করে।

দেওয়ানি ও দ্বৈত শাসন

১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভের পর রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈত শাসন প্রবর্তন করেন, যার চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১৭৭০)।

১৭০৭ — সম্রাট আওরঙ্গজেবের মৃত্যু

মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের সূচনা।

১৭১৭ — ফারুখশিয়ারের ফরমান

কোম্পানিকে 'দস্তক' ব্যবহারের অধিকার প্রদান।

১৭৩৯ — নাদির শাহের ভারত আক্রমণ

দিল্লি লুণ্ঠন ও ময়ূর সিংহাসন অপহরণ।

১৭৫৭ (২৩ জুন) — পলাশীর যুদ্ধ

সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও ব্রিটিশ আধিপত্যের শুরু।

১৭৬৪ — বক্সারের যুদ্ধ

মীর কাশিম ও জোট বাহিনীর পরাজয়।

১৭৭০ — ছিয়াত্তরের মন্বন্তর

ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে বাংলার এক-তৃতীয়াংশ মানুষের মৃত্যু।

দস্তক: ফারুখশিয়ারের ফরমান অনুযায়ী কোম্পানিকে দেওয়া বিনা শুল্কে বাণিজ্যের ছাড়পত্র।
দেওয়ানি: মুঘল সম্রাটের থেকে প্রাপ্ত বাংলা, বিহার ও ওড়িশার রাজস্ব আদায়ের আইনি অধিকার।
দ্বৈত শাসন: রবার্ট ক্লাইভ প্রবর্তিত ব্যবস্থা যেখানে কোম্পানির হাতে ক্ষমতা কিন্তু দায়িত্ব নেই, আর নবাবের হাতে দায়িত্ব কিন্তু ক্ষমতা নেই।
পলাশীর লুণ্ঠন: পলাশীর যুদ্ধের পর মীর জাফরের থেকে কোম্পানির বিপুল অর্থ ও সম্পদ আত্মসাৎ করা।

নিজেকে যাচাই করো

১. নাদির শাহ কত সালে ভারত আক্রমণ করেন?

২. 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' বাংলা কত সালে হয়েছিল?

© WBBSE AI Engine | Atit-O-Aitihya Class VIII | Chapter 2

WBBSE Class 8 History - Chapter 2 Notes

অতীত ও ঐতিহ্য (অষ্টম শ্রেণি)

অধ্যায় ২: আঞ্চলিক শক্তির উত্থান

WBBSE AI Engine - Study Notes & Q&A

সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (Short Answer Questions)

১. মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব কবে মারা যান?

উত্তর: ১৭০৭ সালে সম্রাট আওরঙ্গজেব মারা যান।

২. নাদির শাহ কবে ভারত আক্রমণ করেন?

উত্তর: ১৭৩৯ সালে পারস্যের শাসক নাদির শাহ ভারত আক্রমণ করেন।

৩. 'দস্তক' কী?

উত্তর: ১৭১৭ সালে মুঘল সম্রাট ফারুখশিয়ার ব্রিটিশ কোম্পানিকে বাংলায় বিনা শুল্কে বাণিজ্যের যে অধিকার দেন, তার ছাড়পত্রকে 'দস্তক' বলা হয়।

৪. হায়দ্রাবাদে স্বাধীন নিজাম বংশের শাসন কে শুরু করেন?

উত্তর: নিজাম-উল-মুলক আসফ জাহ ১৭১৪ সালে হায়দ্রাবাদে স্বাধীন শাসন শুরু করেন।

৫. পলাশীর যুদ্ধ কবে হয়েছিল?

উত্তর: ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধ হয়েছিল।

৬. সিরাজউদ্দৌলার প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?

উত্তর: সিরাজউদ্দৌলার প্রধান সেনাপতি ছিলেন মীর জাফর।

৭. বক্সারের যুদ্ধ কত সালে হয়েছিল?

উত্তর: বক্সারের যুদ্ধ ১৭৬৪ সালে হয়েছিল।

৮. 'দেওয়ানি' লাভ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে নির্দিষ্ট অঞ্চলের (বাংলা, বিহার, ওড়িশা) রাজস্ব আদায়ের আইনি অধিকার লাভ করাকে দেওয়ানি লাভ বলে।

৯. দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা কে প্রবর্তন করেন?

উত্তর: ১৭৬৫ সালে রবার্ট ক্লাইভ বাংলায় দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।

১০. ছিয়াত্তরের মন্বন্তর কবে হয়েছিল?

উত্তর: বাংলা ১১৭৬ সনে (ইংরেজি ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে) ছিয়াত্তরের মন্বন্তর হয়েছিল।

১১. অযোধ্যায় কার নেতৃত্বে আঞ্চলিক শক্তি গড়ে ওঠে?

উত্তর: সাদাৎ খানের নেতৃত্বে অযোধ্যায় আঞ্চলিক শক্তি গড়ে ওঠে।

১২. মুর্শিদকুলি খান কবে বাংলার নাজিম পদ পান?

উত্তর: ১৭১৭ সালে মুর্শিদকুলি খান বাংলার নাজিম পদ পান।

১৩. অন্ধকূপ হত্যা (Black Hole Tragedy) কী?

উত্তর: সিরাজউদ্দৌলার কলকাতা জয়ের পর একটি ছোট ঘরে ইংরেজ বন্দিদের আটকে রাখার ঘটনাকে ইংরেজরা 'অন্ধকূপ হত্যা' বলে প্রচার করে।

১৪. পলাশীর লুণ্ঠন কাকে বলে?

উত্তর: পলাশীর যুদ্ধের পর মীর জাফরের আমল থেকে ব্রিটিশ কোম্পানি ও তার কর্মচারীরা বাংলার কোষাগার থেকে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ আত্মসাৎ করে, তাকে পলাশীর লুণ্ঠন বলে।

১৫. মীর কাশিম কেন ইংরেজদের সাথে যুদ্ধে জড়িয়েছিলেন?

উত্তর: মীর কাশিম স্বাধীনভাবে শাসন পরিচালনা করতে চেয়েছিলেন এবং ইংরেজদের দস্তকের অপব্যবহার রুখতে চেয়েছিলেন বলে যুদ্ধ বাঁধে।

১৬. বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজদের বিরুদ্ধে কারা জোট বেঁধেছিলেন?

উত্তর: মীর কাশিম, অযোধ্যার নবাব সুজা-উদ-দৌলা এবং মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম।

১৭. দ্বৈত শাসনের ফলে নবাবের হাতে কী ক্ষমতা ছিল?

উত্তর: নবাবের হাতে ছিল কেবল প্রশাসনিক দায়িত্ব কিন্তু কোনো প্রকৃত ক্ষমতা বা অর্থবল ছিল না।

১৮. নাদির শাহ দিল্লি থেকে কী কী লুণ্ঠন করেছিলেন?

উত্তর: নাদির শাহ মুঘলদের রাজকোষ ও বিখ্যাত ময়ূর সিংহাসন লুণ্ঠন করেছিলেন।

১৯. আলিবর্দি খান কাদের দস্তকের অপব্যবহার নিয়ে সতর্ক করেছিলেন?

উত্তর: আলিবর্দি খান ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মচারীদের সতর্ক করেছিলেন।

২০. ছিয়াত্তরের মন্বন্তরে বাংলার কত শতাংশ মানুষ মারা গিয়েছিল?

উত্তর: ছিয়াত্তরের মন্বন্তরে বাংলার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ মারা গিয়েছিল।

দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্ন (Long Answer Questions)

১. মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের পিছনে জাগিরদারি ও মনসবদারি সংকটের ভূমিকা আলোচনা করো।

উত্তর: মুঘল সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোর মূল ভিত্তি ছিল মনসবদারি ব্যবস্থা। সম্রাট আওরঙ্গজেবের পরবর্তী সময়ে ভালো মানের জাগির বা জমির অভাব দেখা দেয়। মনসবদাররা তাদের পদমর্যাদা অনুযায়ী উপযুক্ত জাগির পাওয়ার জন্য নিজেদের মধ্যে কোন্দলে জড়িয়ে পড়ে। এর ফলে আমলাতন্ত্রে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং সম্রাটের নিয়ন্ত্রণ শিথিল হয়ে পড়ে। এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অর্থনৈতিক সংকট মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত দুর্বল করে দেয়, যা শেষ পর্যন্ত সাম্রাজ্যের পতনের পথ প্রশস্ত করে।

২. নাদির শাহের ভারত আক্রমণের ফলাফল কী হয়েছিল?

উত্তর: ১৭৩৯ সালে পারস্যের শাসক নাদির শাহের ভারত আক্রমণ মুঘল সাম্রাজ্যের জন্য এক চরম আঘাত ছিল। তিনি দিল্লি আক্রমণ করে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালান এবং মুঘল রাজকোষ শূন্য করে দেন। তিনি শাহজাহানের তৈরি অমূল্য 'ময়ূর সিংহাসন' এবং প্রচুর ধনরত্ন পারস্যে নিয়ে যান। এই আক্রমণের ফলে মুঘল সম্রাটদের সামরিক ও আর্থিক দুর্বলতা প্রকাশ্য হয়ে পড়ে এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর কাছে পরিষ্কার হয়ে যায় যে মুঘলদের আর রক্ষা করার ক্ষমতা নেই।

৩. মুর্শিদকুলি খানের আমলে বাংলার আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে উত্থানের বিবরণ দাও।

উত্তর: মুঘল সম্রাটদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে মুর্শিদকুলি খান বাংলায় কার্যত স্বাধীন শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। ১৭১৭ সালে তিনি বাংলার নাজিম পদ পান। তিনি মুঘল সম্রাটকে নিয়মিত রাজস্ব পাঠালেও অভ্যন্তরীণ শাসনের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাধীন ছিলেন। তিনি বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে সরিয়ে মুর্শিদাবাদে নিয়ে আসেন। তাঁর সুদক্ষ প্রশাসনিক ও ভূমি সংস্কারের ফলে বাংলা একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত হয় এবং মুঘল নিয়ন্ত্রণ নামমাত্র থেকে যায়।

৪. ফারুখশিয়ারের ফরমান (১৭১৭) ব্রিটিশ কোম্পানির জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল?

উত্তর: ১৭১৭ সালে মুঘল সম্রাট ফারুখশিয়ার ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে একটি ফরমান দেন। এর গুরুত্ব ছিল অপরিসীম: (ক) কোম্পানি বছরে মাত্র ৩০০০ টাকার বিনিময়ে বাংলায় বিনা শুল্কে বাণিজ্যের অধিকার পায়। (খ) কোম্পানিকে নিজস্ব মুদ্রা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। (গ) কোম্পানির পণ্য চলাচলের জন্য 'দস্তক' বা ছাড়পত্র ব্যবহারের অধিকার দেওয়া হয়। এই ফরমান কোম্পানিকে অন্যান্য ইউরোপীয় বণিক ও দেশীয় বণিকদের তুলনায় অনেক বেশি বাণিজ্যিক সুবিধা প্রদান করে, যা পরবর্তীকালে তাদের রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারে সাহায্য করে।

৫. দস্তকের অপব্যবহার নিয়ে নবাব ও কোম্পানির বিবাদের কারণ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: ফারুখশিয়ারের ফরমান অনুযায়ী কেবল কোম্পানি বিনা শুল্কে বাণিজ্য করতে পারত। কিন্তু কোম্পানির কর্মচারীরা তাদের ব্যক্তিগত বাণিজ্যেও দস্তক ব্যবহার করতে শুরু করে। এর ফলে তারা শুল্ক ফাঁকি দিত, যা নবাবের রাজস্বের ব্যাপক ক্ষতি করত। আলিবর্দি খান এবং পরে সিরাজউদ্দৌলা এর তীব্র প্রতিবাদ করেন। নবাব চেয়েছিলেন কোম্পানির কর্মচারীরাও সাধারণ বণিকদের মতো শুল্ক দিক, কিন্তু কোম্পানি তা মানতে অস্বীকার করায় বিবাদ চরমে ওঠে।

৬. সিরাজউদ্দৌলার সাথে ইংরেজদের বিরোধের প্রধান কারণগুলো কী ছিল?

উত্তর: সিরাজউদ্দৌলা সিংহাসনে বসার পর ইংরেজদের সাথে বিরোধের মূল কারণগুলো ছিল: (১) ইংরেজদের উদ্ধত আচরণ এবং নবাবকে যথাযথ সম্মান না জানানো। (২) নবাবের নিষেধ সত্ত্বেও কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গের সংস্কার করা। (৩) নবাবের শত্রু কৃষ্ণদাসকে ইংরেজদের আশ্রয় দেওয়া। (৪) দস্তকের ব্যাপক অপব্যবহার করে নবাবের রাজস্বে ক্ষতি করা। এই বহুমুখী সংঘাতের কারণেই সিরাজউদ্দৌলা কলকাতা আক্রমণ করতে বাধ্য হন।

৭. পলাশীর যুদ্ধের (১৭৫৭) ঐতিহাসিক গুরুত্ব আলোচনা করো।

উত্তর: পলাশীর যুদ্ধ ভারতের ইতিহাসে একটি মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা। এই যুদ্ধের ফলে বাংলায় স্বাধীন নবাবী শাসনের অবসান ঘটে এবং ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি স্থাপিত হয়। যদিও এটি একটি ছোট যুদ্ধ ছিল, কিন্তু এর রাজনৈতিক প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী। মীর জাফরের মতো পুতুল নবাবকে সিংহাসনে বসিয়ে ইংরেজরা বাংলার প্রকৃত ক্ষমতা দখল করে। এই জয়ের ফলে কোম্পানি প্রচুর অর্থ ও সম্পদ লাভ করে, যা তাদের পরবর্তীকালে সমগ্র ভারত জয়ের রসদ জুগিয়েছিল।

৮. মীর জাফর ও ইংরেজদের সম্পর্কের অবনতি কেন হয়েছিল?

উত্তর: পলাশীর যুদ্ধের পর ইংরেজরা মীর জাফরকে নবাব করলেও তাদের অর্থের চাহিদা ছিল সীমাহীন। কোম্পানি ও তার কর্মচারীদের উপঢৌকন দিতে দিতে বাংলার রাজকোষ শূন্য হয়ে পড়ে। মীর জাফর যখন ইংরেজদের এই বিপুল অর্থের দাবি মেটাতে ব্যর্থ হন, তখন ইংরেজরা তাঁর ওপর অসন্তুষ্ট হয়। এছাড়া মীর জাফর ওলন্দাজদের সাথে হাত মিলিয়ে ইংরেজদের প্রভাব কমানোর চেষ্টা করছেন বলে সন্দেহ করায় ইংরেজরা তাঁকে সরিয়ে মীর কাশিমকে নবাব পদে বসায়।

৯. মীর কাশিমের সাথে ইংরেজদের যুদ্ধের কারণসমূহ বিশ্লেষণ করো।

উত্তর: মীর কাশিম ছিলেন একজন স্বাধীনচেতা শাসক। তিনি ইংরেজদের হাতের পুতুল হয়ে থাকতে চাননি। যুদ্ধের প্রধান কারণগুলো ছিল: (১) তিনি রাজধানী মুর্শিদাবাদ থেকে মুঙ্গেরে সরিয়ে নিয়ে যান যাতে ইংরেজদের হস্তক্ষেপ কমানো যায়। (২) তিনি তাঁর সেনাবাহিনীতে ইউরোপীয় কায়দায় প্রশিক্ষণ শুরু করেন। (৩) দস্তকের অপব্যবহার রুখতে তিনি দেশীয় বণিকদের ওপর থেকেও শুল্ক তুলে দেন, যা ইংরেজদের বাণিজ্যিক একচেটিয়া অধিকারে আঘাত হানে। এই পদক্ষেপগুলো ইংরেজদের ক্ষুব্ধ করে এবং যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায়।

১০. বক্সারের যুদ্ধের (১৭৬৪) ফলাফল ও গুরুত্ব আলোচনা করো।

উত্তর: বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজদের জয় পলাশীর যুদ্ধের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই যুদ্ধে ইংরেজরা কেবল বাংলার নবাব নয়, বরং অযোধ্যার নবাব এবং মুঘল সম্রাটকেও পরাজিত করে। এর ফলে: (১) উত্তর ভারতে ইংরেজদের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হয়। (২) মুঘল সম্রাট ইংরেজদের হাতের পুতুলে পরিণত হন। (৩) এই যুদ্ধের ফলেই কোম্পানি দেওয়ানি লাভের পথ প্রশস্ত করে এবং বাংলায় ব্রিটিশদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্য চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

১১. ১৭৬৫ সালের দেওয়ানি লাভের তাৎপর্য কী ছিল?

উত্তর: ১৭৬৫ সালে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে বাংলা, বিহার ও ওড়িশার দেওয়ানি বা রাজস্ব আদায়ের অধিকার দেন। এর তাৎপর্য হলো: (১) কোম্পানি আইনগতভাবে বাংলার রাজস্বের মালিক হয়। (২) কোম্পানি একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে রাজনৈতিক শাসকে রূপান্তরিত হয়। (৩) বাংলার বিপুল সম্পদ এখন থেকে কোম্পানির হাতে চলে যায়, যা তারা ইংল্যান্ডে পাচার করতে শুরু করে। এটি বাংলার অর্থনৈতিক শোষণের এক নতুন অধ্যায় শুরু করে।

১২. রবার্ট ক্লাইভের দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: ১৭৬৫ সালে রবার্ট ক্লাইভ বাংলায় যে শাসন ব্যবস্থা চালু করেন তা 'দ্বৈত শাসন' নামে পরিচিত। এই ব্যবস্থায় শাসনের ক্ষমতা দুটি ভাগে বিভক্ত হয়: (১) কোম্পানির হাতে থাকে রাজস্ব আদায় ও সামরিক ক্ষমতা, অর্থাৎ 'ক্ষমতা কিন্তু কোনো দায়িত্ব নেই'। (২) নবাবের হাতে থাকে বিচার ও প্রশাসনিক কাজ, অর্থাৎ 'দায়িত্ব কিন্তু কোনো ক্ষমতা বা অর্থ নেই'। এই অদ্ভুত ব্যবস্থার ফলে বাংলার সাধারণ মানুষের ওপর শোষণ চরম আকার ধারণ করে এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে।

১৩. ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের কারণ ও প্রভাব আলোচনা করো।

উত্তর: ১৭৭০ সালে (বাংলা ১১৭৬) বাংলায় যে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হয়েছিল তা ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত। এর প্রধান কারণ ছিল: (১) অনাবৃষ্টির ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি। (২) কোম্পানির অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের চাপ। (৩) দ্বৈত শাসনের ফলে প্রশাসনিক চরম বিশৃঙ্খলা। এর প্রভাবে বাংলার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ অনাহারে মারা যায়। কৃষি ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে এবং বহু গ্রাম জনশূন্য হয়ে যায়। এটি ছিল ব্রিটিশ শাসনের সূচনালগ্নে বাংলার ইতিহাসে এক কলঙ্কিত অধ্যায়।

১৪. হায়দ্রাবাদ ও অযোধ্যা কীভাবে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল?

উত্তর: মুঘল সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সুযোগে নিজাম-উল-মুলক আসফ জাহ ১৭১৪ সালে হায়দ্রাবাদে স্বাধীন শাসন শুরু করেন। তিনি মুঘলদের অনুগত থাকলেও কার্যত স্বাধীনভাবে রাজ্য পরিচালনা করতেন। অন্যদিকে, সাদাৎ খানের নেতৃত্বে অযোধ্যা একটি শক্তিশালী রাজ্যে পরিণত হয়। তিনি রাজস্ব ও প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে অযোধ্যাকে মুঘল নিয়ন্ত্রণ মুক্ত করেন। এই রাজ্যগুলো মুঘল সাম্রাজ্যের সংহতি নষ্ট করে ভারতে নতুন আঞ্চলিক রাজনীতির জন্ম দেয়।

১৫. পলাশীর লুণ্ঠন কীভাবে বাংলার অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছিল?

উত্তর: পলাশীর যুদ্ধের পর মীর জাফর ও মীর কাশিমের কাছ থেকে কোম্পানি ও তার কর্মচারীরা কোটি কোটি টাকা উপঢৌকন হিসেবে আদায় করে। এছাড়া দস্তকের অপব্যবহারের মাধ্যমে তারা শুল্কহীন বাণিজ্য করে বাংলার দেশীয় বণিকদের প্রতিযোগিতার বাইরে ঠেলে দেয়। বাংলার সম্পদ কোনো প্রতিদান ছাড়াই ইংল্যান্ডে পাচার হতে থাকে। এই সম্পদ নির্গমন বা লুণ্ঠনের ফলে বাংলার সমৃদ্ধ অর্থনীতি দ্রুত দারিদ্র্যের দিকে ধাবিত হয় এবং সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।

১৬. সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের পিছনে মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতা কতটা দায়ী ছিল?

উত্তর: সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের প্রধান কারণ ছিল সেনাপতি মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতা। পলাশীর যুদ্ধক্ষেত্রে মীর জাফরের নেতৃত্বাধীন বিশাল বাহিনী নিষ্ক্রিয় দাঁড়িয়ে ছিল। সিরাজের অনুগত মোহনলাল ও মীর মদন বীরত্বের সাথে লড়াই করলেও মীর জাফরের অসহযোগিতার কারণে সিরাজ যুদ্ধে হেরে যান। মীর জাফরের নবাব হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে কাজে লাগিয়ে রবার্ট ক্লাইভ এই ষড়যন্ত্র সফল করেন, যা বাংলার স্বাধীনতা হরণের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

১৭. মুঘল সম্রাটদের দুর্বলতা কীভাবে ব্রিটিশদের সুবিধা করে দিয়েছিল?

উত্তর: আওরঙ্গজেবের পরবর্তী মুঘল সম্রাটরা (যেমন বাহাদুর শাহ, মহম্মদ শাহ) বিশাল সাম্রাজ্য শাসন করার মতো যোগ্য ছিলেন না। কেন্দ্রীয় শাসনের দুর্বলতার কারণে আঞ্চলিক সুবাদাররা স্বাধীন হয়ে যায়। এই অনৈক্যের সুযোগ নিয়ে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এক এক করে আঞ্চলিক শক্তিগুলোকে পরাজিত করে। এছাড়া সম্রাটদের আর্থিক সংকট কোম্পানিকে দেওয়ানি বা বাণিজ্যের অধিকার পাওয়ার সুযোগ করে দেয়, যা শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশদের ভারতে সর্বেসর্বা করে তোলে।

১৮. অন্ধকূপ হত্যা বিতর্কটি সংক্ষেপে আলোচনা করো।

উত্তর: ১৭৫৬ সালে সিরাজউদ্দৌলা যখন কলকাতা জয় করেন, তখন হলওয়েল নামক এক ইংরেজ কর্মচারী দাবি করেন যে নবাব ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে একটি ছোট ঘরে আটকে রেখেছিলেন, যার ফলে শ্বাসকষ্টে ১২৩ জন মারা যায়। একেই 'অন্ধকূপ হত্যা' বলা হয়। তবে আধুনিক ঐতিহাসিকদের মতে, এই সংখ্যাটি ছিল অতিরঞ্জিত এবং ইংরেজদের ভারত আক্রমণের যৌক্তিকতা প্রমাণের জন্য এটি একটি সাজানো প্রচার ছিল। সিরাজউদ্দৌলার ভাবমূর্তি নষ্ট করাই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য।

১৯. আলিবর্দি খানের সাথে ব্রিটিশদের সম্পর্কের স্বরূপ কেমন ছিল?

উত্তর: আলিবর্দি খান ছিলেন একজন দূরদর্শী নবাব। তিনি ইউরোপীয় বণিকদের বাণিজ্যের সুযোগ দিলেও তাদের রাজনৈতিক বা সামরিক হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। তিনি ব্রিটিশদের দস্তকের অপব্যবহার এবং দুর্গ নির্মাণের প্রচেষ্টাকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন। তিনি বলতেন, "ইউরোপীয়রা হলো মৌমাছির মতো, তাদের না ঘাঁটালে মধু পাওয়া যায়, কিন্তু ঘাঁটালে হুল ফুটিয়ে দেয়।" তাঁর সময়ে ইংরেজরা নবাবের ভয়ে সংযত থাকলেও তাঁর মৃত্যুর পর তারা সক্রিয় হয়ে ওঠে।

২০. দ্বৈত শাসনের অবসান কেন জরুরি হয়ে পড়েছিল?

উত্তর: দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার ফলে বাংলায় চরম অরাজকতা ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখা দেয়। কোম্পানির কর্মচারীদের সীমাহীন দুর্নীতি এবং রাজস্ব আদায়ের অত্যাচারে কৃষকরা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ে। ১৭৭০ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে বাংলার এক-তৃতীয়াংশ মানুষ মারা গেলে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এই ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা হয়। কোম্পানির দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম এবং বাংলার প্রশাসনিক কাঠামো সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ায় ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস এই দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে কোম্পানির সরাসরি শাসন প্রবর্তন করেন।

© 2024 WBBSE AI Study Engine. All Rights Reserved.
Strictly based on "অতীত ও ঐতিহ্য - অষ্টম শ্রেণি" Textbook Material.
WBBSE Class 8 History - Chapter 2 Activities
WBBSE AI Engine • Activities

অধ্যায় ২: আঞ্চলিক শক্তির উত্থান

অতীত ও ঐতিহ্য | অষ্টম শ্রেণি

বিভাগ ক: সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (পাঠ্যভিত্তিক)

প্রশ্ন ১: সম্রাট আওরঙ্গজেবের মৃত্যু কবে হয়েছিল এবং এর ফলে মুঘল সাম্রাজ্যের কী পরিবর্তন ঘটে?

উত্তর: ১৭০৭ সালে সম্রাট আওরঙ্গজেবের মৃত্যু হয়। এর ফলে মুঘল সাম্রাজ্য দ্রুত দুর্বল হতে শুরু করে এবং কেন্দ্রীয় শাসন শিথিল হয়ে পড়ে।

প্রশ্ন ২: নাদির শাহ কবে ভারত আক্রমণ করেন এবং তিনি কী কী লুণ্ঠন করেছিলেন?

উত্তর: পারস্যের শাসক নাদির শাহ ১৭৩৯ সালে দিল্লি আক্রমণ করেন। তিনি মুঘলদের রাজকোষ এবং বিখ্যাত 'ময়ূর সিংহাসন' লুণ্ঠন করে নিয়ে যান।

প্রশ্ন ৩: মুঘলদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কোন তিনটি প্রধান আঞ্চলিক শক্তির উত্থান ঘটেছিল?

উত্তর: মুঘলদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বাংলা (মুর্শিদকুলি খানের নেতৃত্বে), হায়দ্রাবাদ (নিজাম-উল-মুলকের নেতৃত্বে) এবং অযোধ্যা (সাদাৎ খানের নেতৃত্বে) - এই তিনটি আঞ্চলিক শক্তির উত্থান ঘটে।

প্রশ্ন ৪: 'দস্তক' কী?

উত্তর: ১৭১৭ সালে মুঘল সম্রাট ফারুখশিয়ার ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে বার্ষিক মাত্র ৩০০০ টাকার বিনিময়ে বাংলায় বিনা শুল্কে বাণিজ্যের যে অধিকারপত্র প্রদান করেন, তাকেই 'দস্তক' বলা হয়।

বিভাগ খ: গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও টীকা (বিশ্লেষণধর্মী)

১. ফারুখশিয়ারের ফরমানের গুরুত্ব কী ছিল?

উত্তর: ১৭১৭ সালের ফারুখশিয়ারের ফরমান ব্রিটিশ কোম্পানির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এর মাধ্যমে কোম্পানি বাংলায় বিনা শুল্কে বাণিজ্যের আইনি অধিকার পায়। তবে কোম্পানির কর্মচারীরা তাদের ব্যক্তিগত বাণিজ্যেও এই দস্তক ব্যবহার করতে শুরু করলে বাংলার নবাবদের সাথে কোম্পানির বিবাদ শুরু হয়, যা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের দিকে গড়ায়।

২. পলাশীর যুদ্ধের (১৭৫৭) কারণ ও ফলাফল সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর:
কারণ: সিরাজউদ্দৌলার সাথে ব্রিটিশদের উদ্ধত আচরণ, দস্তকের অপব্যবহার এবং কলকাতার দুর্গ সংস্কার নিয়ে বিবাদ।
ফলাফল: ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধে সেনাপতি মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতায় সিরাজউদ্দৌলা পরাজিত ও নিহত হন। এর ফলে ভারতে ব্রিটিশ শাসনের পথ প্রশস্ত হয়।

৩. বক্সারের যুদ্ধ ও দেওয়ানি লাভের গুরুত্ব আলোচনা করো।

উত্তর: ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধে মীর কাশিম, সুজা-উদ-দৌলা এবং দ্বিতীয় শাহ আলমের সম্মিলিত বাহিনী ইংরেজদের কাছে পরাজিত হয়। এর ফলে ১৭৬৫ সালে মুঘল সম্রাট কোম্পানিকে বাংলা, বিহার ও ওড়িশার 'দেওয়ানি' বা রাজস্ব আদায়ের অধিকার দিতে বাধ্য হন। এর মাধ্যমে কোম্পানি বাংলায় প্রকৃত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়।

৪. দ্বৈত শাসন ও ছিয়াত্তরের মন্বন্তর বলতে কী বোঝো?

উত্তর:
দ্বৈত শাসন: ১৭৬৫ সালে রবার্ট ক্লাইভ প্রবর্তিত এই ব্যবস্থায় কোম্পানির হাতে ছিল রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা (দায়িত্বহীন ক্ষমতা) এবং নবাবের হাতে ছিল প্রশাসনিক দায়িত্ব (ক্ষমতাহীন দায়িত্ব)।
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর: দ্বৈত শাসনের ফলে কোম্পানির অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় এবং ১৭৭০ সালে (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) অনাবৃষ্টির কারণে বাংলায় যে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, যাতে এক-তৃতীয়াংশ মানুষ মারা যায়, তাকেই ছিয়াত্তরের মন্বন্তর বলা হয়।

© WBBSE AI Engine - Atit-O-Aitihya Class VIII Educational Resource

WBBSE Mock Test - Class VIII History Chapter 2

WBBSE AI Engine: Mock Test

অষ্টম শ্রেণি | ইতিহাস | অধ্যায় ২: আঞ্চলিক শক্তির উত্থান

Time: 00:00
Question 1 of 60

Loading question...

WBBSE Online Exam: আঞ্চলিক শক্তির উত্থান

WBBSE Online Assessment

অতীত ও ঐতিহ্য: অষ্টম শ্রেণি

অধ্যায় ২: আঞ্চলিক শক্তির উত্থান (Rise of Regional Powers)

পূর্ণমান: ৫০ সময়: ৪৫ মিনিট

I বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) - সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (১০ x ১ = ১০)

১. মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব কত সালে মারা যান?

২. পারস্যের শাসক নাদির শাহ কবে দিল্লি আক্রমণ করেন?

৩. মুর্শিদকুলি খান কত সালে বাংলার নাজিম পদ পান?

৪. হায়দ্রাবাদে স্বাধীন নিজাম বংশের শাসন কে শুরু করেন?

৫. 'দস্তক' ব্যবহারের অধিকার কোম্পানিকে কে দিয়েছিলেন?

৬. পলাশীর যুদ্ধ কবে হয়েছিল?

৭. বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজদের বিরুদ্ধে কে লড়েননি?

৮. কত সালে ব্রিটিশ কোম্পানি 'দেওয়ানি' লাভ করে?

৯. বাংলায় দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা কে প্রবর্তন করেন?

১০. ছিয়াত্তরের মন্বন্তর বঙ্গাব্দের কোন সালে হয়েছিল?

II সংক্ষিপ্ত ও ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন (১০ x ৪ = ৪০)

১. মুঘল আমলের 'জাগিরদারি ও মনসবদারি সংকট' বলতে কী বোঝো?

২. নাদির শাহের ভারত আক্রমণের ফলাফল কী হয়েছিল?

৩. ফারুখশিয়ারের ফরমানের (১৭১৭) গুরুত্ব আলোচনা করো।

৪. দস্তকের অপব্যবহার নিয়ে নবাব ও ইংরেজদের বিবাদের কারণ কী ছিল?

৫. সিরাজউদ্দৌলার সাথে ইংরেজদের বিবাদের প্রধান তিনটি কারণ লেখো।

৬. পলাশীর যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের প্রধান কারণ কী ছিল?

৭. বক্সারের যুদ্ধের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।

৮. রবার্ট ক্লাইভ প্রবর্তিত 'দ্বৈত শাসন' ব্যবস্থাটি বর্ণনা করো।

৯. ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের ভয়াবহতা সম্পর্কে একটি টীকা লেখো।

১০. 'পলাশীর লুণ্ঠন' বলতে কী বোঝো?

Revision Tab Class VIII History • Chapter 2

অধ্যায় ২: আঞ্চলিক শক্তির উত্থান

Common Mistakes Analysis & Power Revision Summary

Mistake Analysis (ভুল সংশোধন)

সাধারণ ভুল ধারণা (Common Pitfalls)সঠিক ধারণা (Correct Concept)
অনেকে মনে করে 'দস্তক' কোম্পানির কর্মচারীদের ব্যক্তিগত বাণিজ্যে ব্যবহারের অধিকার ছিল।ফারুখশিয়ারের ফরমান অনুযায়ী 'দস্তক' শুধুমাত্র ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্যের জন্য ছিল, কর্মচারীদের ব্যক্তিগত বাণিজ্যের জন্য নয়।
পলাশীর যুদ্ধ ও বক্সারের যুদ্ধের সাল গুলিয়ে ফেলা।পলাশীর যুদ্ধ হয়েছিল ১৭৫৭ সালে এবং বক্সারের যুদ্ধ হয়েছিল ১৭৬৪ সালে।
মুর্শিদকুলি খান মুঘলদের থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন রাজা হয়েছিলেন।তিনি কার্যত স্বাধীন হলেও মুঘল সম্রাটের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখতেন এবং নিয়মিত রাজস্ব পাঠাতেন।
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর শুধুমাত্র অনাবৃষ্টির কারণে হয়েছিল।অনাবৃষ্টির সাথে সাথে কোম্পানির অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় এবং দ্বৈত শাসনের কুফল এই দুর্ভিক্ষের প্রধান কারণ ছিল।
দ্বৈত শাসনে নবাবের হাতে সব ক্ষমতা ছিল।নবাবের হাতে ছিল কেবল 'দায়িত্ব কিন্তু ক্ষমতাহীনতা', আর কোম্পানির হাতে ছিল 'ক্ষমতা কিন্তু দায়িত্বহীনতা'।

Power Revision Summary (দ্রুত রিভিশন)

মুঘল সংকট ও আঞ্চলিক শক্তি

  • ১৭০৭: আওরঙ্গজেবের মৃত্যু ও সাম্রাজ্যের অবনতি শুরু।
  • ১৭৩৯: নাদির শাহের দিল্লি আক্রমণ ও ময়ূর সিংহাসন লুণ্ঠন।
  • তিনটি স্বাধীন রাজ্য: বাংলা (মুর্শিদকুলি খান), হায়দ্রাবাদ (নিজাম-উল-মুলক), অযোধ্যা (সাদাৎ খান)।

পলাশীর যুদ্ধ (১৭৫৭)

  • তারিখ: ২৩ জুন, ১৭৫৭।
  • পক্ষ: সিরাজউদ্দৌলা বনাম রবার্ট ক্লাইভ।
  • কারণ: দস্তকের অপব্যবহার, কৃষ্ণদাসকে আশ্রয় দান, দুর্গ সংস্কার।
  • ফলাফল: মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতায় সিরাজের পরাজয় ও মৃত্যু।

বক্সার ও দেওয়ানি (১৭৬৪-৬৫)

  • বক্সারের যুদ্ধ (১৭৬৪): মীর কাশিম + সুজা-উদ-দৌলা + দ্বিতীয় শাহ আলম বনাম ইংরেজ।
  • দেওয়ানি লাভ (১৭৬৫): সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম কোম্পানিকে বাংলা, বিহার ও ওড়িশার রাজস্ব আদায়ের অধিকার দেন।

দ্বৈত শাসন ও দুর্ভিক্ষ

  • দ্বৈত শাসন: ১৭৬৫ সালে রবার্ট ক্লাইভ প্রবর্তন করেন।
  • ছিয়াত্তরের মন্বন্তর: ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দ (১১৭৬ বঙ্গাব্দ)।
  • প্রভাব: বাংলার এক-তৃতীয়াংশ মানুষের মৃত্যু।

মনে রেখো (Key Terms):

দস্তক (বিনা শুল্কে বাণিজ্যের ছাড়পত্র), পলাশীর লুণ্ঠন (মীর জাফরের থেকে অর্থ আত্মসাৎ), অন্ধকূপ হত্যা (সিরাজ সম্পর্কিত বিতর্কিত ঘটনা)।

Active Recall Toolkit - WBBSE Class VIII History

Active Recall Toolkit 🧠

অধ্যায় ২: আঞ্চলিক শক্তির উত্থান (Rise of Regional Powers)

Class VIII WBBSE Atit-O-Aitihya
1

Blind Questions (স্মৃতি পরীক্ষা)

নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর মনে করার চেষ্টা করো। কোনো অপশন নেই, সরাসরি স্মৃতি থেকে উত্তর দাও।

১. সম্রাট আওরঙ্গজেব কত সালে মারা যান?

২. ১৭৩৯ সালে পারস্যের কোন শাসক দিল্লি আক্রমণ করেন?

৩. মুর্শিদকুলি খান কত সালে বাংলার নাজিম পদ পান?

৪. হায়দ্রাবাদে স্বাধীন নিজাম বংশের সূচনা কে করেন?

৫. সাদাৎ খানের নেতৃত্বে কোন আঞ্চলিক শক্তি গড়ে ওঠে?

৬. ফারুখশিয়ারের ফরমান কত সালে জারি করা হয়?

৭. ব্রিটিশ কোম্পানির বিনা শুল্কে বাণিজ্যের অধিকারকে কী বলা হতো?

৮. সিরাজউদ্দৌলা কলকাতার নাম বদলে কী রেখেছিলেন? (অন্ধকূপ হত্যা প্রসঙ্গ)

৯. পলাশীর যুদ্ধ কত তারিখে সংঘটিত হয়েছিল?

১০. পলাশীর যুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনীর প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?

১১. বক্সারের যুদ্ধ কত সালে হয়েছিল?

১২. কোন মুঘল সম্রাট কোম্পানিকে 'দেওয়ানি' অধিকার দেন?

১৩. বাংলায় 'দ্বৈত শাসন' ব্যবস্থা কে প্রবর্তন করেন?

১৪. ছিয়াত্তরের মন্বন্তর বাংলা কত সালে হয়েছিল?

১৫. 'পলাশীর লুণ্ঠন' বলতে কী বোঝায়?

2

The Feynman Method (সহজ ব্যাখ্যা)

৫ বছরের শিশুকে বোঝানোর মতো সহজ স্ক্রিপ্ট:

"মনে করো একটা বিশাল বড় স্কুল ছিল, যার একজন প্রধান শিক্ষক (মুঘল সম্রাট) ছিলেন। তিনি মারা যাওয়ার পর স্কুলটা অগোছালো হয়ে গেল। তখন তিনজন ক্লাস টিচার (বাংলা, হায়দ্রাবাদ ও অযোধ্যা) নিজেদের মতো করে ক্লাস চালাতে শুরু করলেন।

এমন সময় কিছু বিদেশি ব্যবসায়ী (ব্রিটিশ কোম্পানি) স্কুলে এল পেন বিক্রি করতে। তারা একটা স্পেশাল পাস (দস্তক) পেল যাতে তাদের ট্যাক্স দিতে না হয়। কিন্তু তারা চালাকি করে সেই পাসের অপব্যবহার শুরু করল। যখন বাংলার নতুন টিচার (সিরাজউদ্দৌলা) প্রতিবাদ করলেন, তখন ব্যবসায়ীরা তার সাথে যুদ্ধ করল এবং প্রতারণা করে তাকে হারিয়ে দিল।

শেষে ব্যবসায়ীরা স্কুলের সব টাকা আদায়ের ক্ষমতা (দেওয়ানি) নিয়ে নিল, কিন্তু স্কুলের কোনো দায়িত্ব নিল না। এর ফলে স্কুলে খুব অভাব দেখা দিল, যেটাকে আমরা 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' বলি।"

3

Spaced Repetition Schedule (রিভিশন রুটিন)

১ দিন পর (Day 1)

ফোকাস: ভিত্তি স্থাপন

  • মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের কারণ।
  • তিনটি আঞ্চলিক শক্তির নাম ও প্রতিষ্ঠাতা।
  • নাদির শাহের ভারত আক্রমণ।
৩ দিন পর (Day 3)

ফোকাস: সংঘাত ও যুদ্ধ

  • ফারুখশিয়ারের ফরমান ও দস্তক।
  • পলাশীর যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল।
  • বক্সারের যুদ্ধ ও মীর কাশিম।
৭ দিন পর (Day 7)

ফোকাস: ফলাফল ও প্রভাব

  • দেওয়ানি লাভের গুরুত্ব।
  • দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার কুফল।
  • ছিয়াত্তরের মন্বন্তর ও এর ভয়াবহতা।
WBBSE AI Engine • Class VIII History • Active Recall Module
    BISWAZ GROWTH ACADEMY - Free WBBSE Class 1 to 10 Books

    Biswaz Growth Academy: Free WBBSE Books & Study Materials

    Welcome to biswaz.com, your premier destination for high-quality educational resources. Explore our comprehensive library of West Bengal Board (WBBSE) textbooks from Class 1 to Class 10. Whether you are looking for Amar Boi, Sahaj Path, Ganit Prabha, Butterfly, Bliss, or Amader Paribesh, we provide easily accessible PDF downloads to support student growth, learning, and exam preparation.

    WBBSE Books PDF Download Class 1 to 10 Syllabus West Bengal Board Solutions Free School Textbooks Biswaz Educational Portal

    Biswaz Growth

    Academy Portal

    Select a Class

    0 items