বিষয়: অতীত ও ঐতিহ্য
অধ্যায় ১: ইতিহাসের ধারণা (প্রকল্প নোটস)
মূল ধারণা ও প্রশ্নাবলী
১. ‘আধুনিক’ শব্দটি কোথা থেকে এসেছে? এর অর্থ কী?
উত্তর: ‘আধুনিক’ শব্দটি এসেছে ‘অধুনা’ থেকে। এর আক্ষরিক অর্থ হলো ‘বর্তমান কাল’, ‘সাম্প্রতিক’ বা ‘নতুন’। যে ঘটনা সম্প্রতি বা বর্তমানে ঘটেছে, তাকেই আধুনিক কালের ঘটনা বলা হয়।
২. জেমস মিল কে ছিলেন? তিনি ভারতের ইতিহাসকে কীভাবে ভাগ করেছেন?
উত্তর: জেমস মিল ছিলেন একজন ব্রিটিশ ঐতিহাসিক। ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি ‘History of British India’ নামে ভারতের ইতিহাস লেখেন।
তিনি ভারতের ইতিহাসকে তিনটি যুগে ভাগ করেছেন:
- হিন্দু যুগ: প্রাচীন পর্ব (শাসকের ধর্মের নামে)।
- মুসলিম যুগ: মধ্য পর্ব (শাসকের ধর্মের নামে)।
- ব্রিটিশ যুগ: আধুনিক পর্ব (শাসকের জাতির নামে)।
এই যুগ বিভাজনটি সমস্যাপূর্ণ কারণ এটি ধর্মকে ভিত্তি করে তৈরি এবং এতে ব্রিটিশ যুগকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
৩. ইতিহাস নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মূল আপত্তি কী ছিল?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মূল আপত্তি ছিল প্রচলিত ইতিহাস বইগুলির বিষয়বস্তু নিয়ে। তাঁর মতে:
- প্রচলিত ইতিহাস ছিল শুধুমাত্র রাজা-বাদশাহদের যুদ্ধ, সিংহাসন নিয়ে কাড়াকাড়ি আর কাটাকাটি-খুনোখুনির “দুঃস্বপ্নকাহিনী”।
- এই ইতিহাসে সাধারণ “ভারতবাসী” বা ঘরের কথার কোনো স্থান ছিল না।
- বিদেশিদের লেখা এই ইতিহাস ভারতের আসল পরিচয়কে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল, তাকে জানতে সাহায্য করেনি।
৪. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কেন বলেছিলেন “বাঙালির ইতিহাস চাই”?
উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মনে করতেন যে, বাঙালির নিজেদের ইতিহাস জানা অত্যন্ত জরুরি। তাঁর আপত্তির মূল কারণ ছিল:
- বিদেশিদের লেখা বাঙালির ইতিহাসে প্রচুর ভুল তথ্য ও বিকৃতি ছিল।
- তিনি বিশ্বাস করতেন যে, বাঙালিকে নিজের ইতিহাস “বাঙালিকেই” লিখতে হবে।
- তাঁর মতে, যে জাতি নিজের ইতিহাস জানে না, তার রক্ষা নেই। অর্থাৎ, আত্মপরিচয় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ইতিহাস জানা দরকার।
৫. ব্রিটিশরা ভারতে উপনিবেশ স্থাপনের পক্ষে কী যুক্তি দিয়েছিল? ভারতীয়রা কীভাবে তার জবাব দেয়?
ব্রিটিশদের যুক্তি: ব্রিটিশ শাসকরা যুক্তি দিয়েছিল যে, ভারতবাসী অসভ্য, তাদের দেশে বিজ্ঞান বা শিক্ষার অভাব। ব্রিটিশরা যেহেতু ‘সভ্য’ তাই তাদের ‘কর্তব্য’ হলো অসভ্য ভারতীয়দের সভ্য করে তোলা। এই যুক্তিতেই তারা ভারতে সাম্রাজ্য কায়েম করে।
ভারতীয়দের জবাব: ভারতীয়রা এই যুক্তি মেনে নেয়নি। তারাও ইতিহাস থেকেই পাল্টা যুক্তি দেয়। তারা সম্রাট অশোক, আকবর, আর্যভট্ট এবং চৈতন্যদেবের মতো ব্যক্তিত্বদের উদাহরণ তুলে ধরে। এর মাধ্যমে তারা প্রমাণ করে যে, ভারতের নিজস্ব এক প্রাচীন সভ্যতা ছিল, যা ব্রিটিশ সভ্যতার থেকে কোনো অংশে খাটো নয়। তাই ভারতকে ‘সভ্য’ করার জন্য ব্রিটিশ শাসনের কোনো প্রয়োজন নেই।
৬. ‘যুগ বিভাজন’ বলতে কী বোঝায়? জেমস মিলের যুগ বিভাজনের সমস্যাগুলি কী কী?
যুগ বিভাজন: ‘যুগ’ বলতে একটি বড় সময়কে বোঝায়, যার কিছু নিজস্ব বৈশিষ্ট্য থাকে। ইতিহাসের সুবিধার জন্য ঐতিহাসিকরা সময়কে প্রাচীন, মধ্য ও আধুনিক—এই তিন ভাগে ভাগ করেন।
জেমস মিলের যুগ বিভাজনের সমস্যা:
- ধর্মভিত্তিক: মিলের ভাগটি ছিল শাসকের ধর্মের ভিত্তিতে (হিন্দু যুগ, মুসলিম যুগ)। এটি একটি অতিসরলীকরণ। যেমন, প্রাচীন ভারতে বৌদ্ধ বা জৈন ধর্মাবলম্বী শাসকরাও ছিলেন, কিন্তু মিল সকলকেই ‘হিন্দু’ যুগের অন্তর্ভুক্ত করেন।
- জাতিভিত্তিক: শেষ যুগটিকে তিনি ‘খ্রিস্টান যুগ’ না বলে ‘ব্রিটিশ যুগ’ বলেন। এর মাধ্যমে তিনি ধর্ম নয়, নিজের জাতিকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করতে চেয়েছেন।
- অন্ধকারময় portrayal: মিল মুসলিম যুগকে ‘অন্ধকারময়’ বলে দেখিয়েছেন এবং হিন্দু যুগকেও অশ্রদ্ধা করেছেন, যা ছিল সাম্রাজ্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গিসঞ্জাত।
- অস্পষ্ট সীমানা: এই বিভাজনে সময়ের সীমানা অস্পষ্ট। যেমন, ঔরঙ্গজেব (মধ্যযুগ) ও সিরাজ উদ-দৌলার (আধুনিক যুগ) মধ্যে মাত্র ৫০ বছরের ব্যবধান থাকলেও দুজনের যুগ সম্পূর্ণ আলাদা দেখানো হয়, যদিও প্রশাসনিক মিল ছিল।
৭. আধুনিক ভারতের ইতিহাসের উপাদানগুলি কী কী?
উত্তর: আধুনিক ভারতের ইতিহাসের উপাদানগুলি অনেক বৈচিত্র্যপূর্ণ। যেমন:
- প্রশাসনিক নথিপত্র: সরকারি কাগজপত্র, দলিল, পুলিশ ও গোয়েন্দা রিপোর্ট।
- ব্যক্তিগত লেখা: চিঠি, ডায়েরি, আত্মজীবনী বা জীবনী।
- মুদ্রিত উপাদান: সংবাদপত্র, সাময়িকপত্র, বিজ্ঞাপন, পোস্টার এবং বই।
- দৃশ্য উপাদান: মানচিত্র, আঁকা ছবি এবং ফটোগ্রাফ (ক্যামেরায় তোলা ছবি)।
- অন্যান্য: মুদ্রা, ডাকটিকিট ইত্যাদি।
চিত্র: ইতিহাসের উপাদান। আধুনিক যুগের ইতিহাস রচনায় মুদ্রা, সংবাদপত্র, ছবি ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ।
৮. ইতিহাসের উপাদান হিসেবে ‘ফটোগ্রাফ’ বা ছবির সীমাবদ্ধতা কী?
উত্তর: ফটোগ্রাফকে ইতিহাসের নিরপেক্ষ উপাদান মনে হলেও এর সীমাবদ্ধতা রয়েছে:
- ফটোগ্রাফ যিনি তুলছেন, তাঁর ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি ছবির ওপর প্রভাব ফেলে। তিনি কোন দিক থেকে, কী দেখাতে চাইছেন, সেটাই ছবিতে ওঠে আসে।
- একটি ছবি সব সময় সম্পূর্ণ সত্যকে তুলে ধরে না। এটি একটি বিশেষ মুহূর্তকে দেখায়, তার আগে বা পরের ঘটনাকে দেখায় না।
- **উদাহরণ:** পাঠ্যবইয়ের হরিপুরা কংগ্রেসের ছবিতে (১৯৩৮) গান্ধীজি ও সুভাষচন্দ্র বসুকে হাসিমুখে কথা বলতে দেখা যায়। কিন্তু সেই সময়েই তাঁদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ ছিল, যা এই ছবি দেখে বোঝা যায় না।
৯. ‘সাম্রাজ্যবাদ’ (Imperialism) ও ‘উপনিবেশবাদ’ (Colonialism) -এর মধ্যে সম্পর্ক কী?
সাম্রাজ্যবাদ: এটি একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী দেশ বা রাষ্ট্র অন্য একটি দুর্বল দেশ বা রাষ্ট্রের ওপর প্রভুত্ব কায়েম করে এবং তাকে নিজের দখলে আনে।
উপনিবেশবাদ: এটি সাম্রাজ্যবাদেরই একটি দিক। যখন একটি অঞ্চলের জনগণ ও সম্পদকে অন্য একটি অঞ্চলের স্বার্থে ব্যবহার করা হয়, তখন তাকে উপনিবেশবাদ বলে।
সম্পর্ক: সাম্রাজ্যবাদ হলো তত্ত্ব বা প্রক্রিয়া, আর উপনিবেশবাদ হলো তার বাস্তব প্রয়োগ। ব্রিটিশরা সাম্রাজ্যবাদী প্রক্রিয়ায় ভারত দখল করেছিল এবং ভারতের অর্থনীতিকে (যেমন – নীল চাষ, সম্পদ) ব্রিটেনের স্বার্থে ব্যবহার করে ভারতকে একটি উপনিবেশে পরিণত করেছিল।
১০. ‘জাতীয়তাবাদ’ (Nationalism) কী? ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে এটি কীভাবে গড়ে উঠেছিল?
জাতীয়তাবাদ: জাতীয়তাবাদ হলো একটি ভাবধারা, যা একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার মানুষকে ভাষা, সংস্কৃতি, বা ইতিহাসের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ করে এবং নিজেদের একটি ‘জাতি’ হিসেবে ভাবতে শেখায়।
গড়ে ওঠার প্রেক্ষাপট:
- ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী ঐতিহাসিকরা (যেমন – জেমস মিল) প্রচার করতেন যে ভারতের কোনো ইতিহাস নেই বা ভারতীয়রা অসভ্য।
- এর প্রতিক্রিয়ায়, ভারতের শিক্ষিত জনগণ (যাদের ‘জাতীয়তাবাদী’ ঐতিহাসিক বলা হয়) ভারতের গৌরবময় অতীত অনুসন্ধান শুরু করেন।
- তাঁরা প্রমাণ করতে চাইলেন যে, ভারতেরও সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ইতিহাস আছে।
- এই “দেশের ইতিহাস” লেখার তাগিদ থেকেই সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে দেশীয় তথা জাতীয়তাবাদী ভাবধারার জন্ম হয় ও মানুষের মধ্যে ঐক্যের বোধ তৈরি হয়।
নতুন অতিরিক্ত প্রশ্নাবলী
১১. ইতিহাসকে “যুক্তি-তর্কের খতিয়ান” বলা হয় কেন?
উত্তর: ইতিহাস শুধুমাত্র ঘটনা ও ফলাফলের বর্ণনা নয়। এই ঘটনাগুলি কেন ঘটল, তার ফলাফল কী হলো—তা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে নানা রকম মতামত ও বিতর্ক থাকে। ইতিহাসের সাক্ষ্য হাজির করে নিজের পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি দেওয়া যায়, তাই ইতিহাসকে “যুক্তি-তর্কের খতিয়ান” বলা হয়।
১২. “নেকড়ে ও ছাগলছানার” গল্পের মাধ্যমে লেখক ইতিহাসের কোন দিকটি বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: এই গল্পের মাধ্যমে লেখক বোঝাতে চেয়েছেন যে, ইতিহাসকে প্রায়শই বর্তমানের কোনো কাজকে நியாயসঙ্গত প্রমাণ করার জন্য ব্যবহার করা হয়। যেমন:
- গল্পে নেকড়েটি ছাগলছানার পূর্বপুরুষের করা অপরাধের যুক্তি দেখিয়ে তাকে আক্রমণ করে।
- একইভাবে, ব্রিটিশ শাসকরা ” ভারতীয়রা অসভ্য” – এই ঐতিহাসিক যুক্তি দেখিয়ে ভারতে তাদের শাসন কায়েম করেছিল।
- অর্থাৎ, ইতিহাসকে যুক্তির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
১৩. ইতিহাস রচনায় “সাধারণ মানুষের” কথা বাদ পড়ে যায় কেন?
উত্তর: ইতিহাস রচনার কাজটা সাধারণত সমাজের শিক্ষিত মানুষেরাই করে থাকেন। এর ফলে:
- যিনি ইতিহাস লেখেন, তিনি যেভাবে ঘটনাকে দেখেন বা বোঝেন, সেভাবেই তা লেখেন।
- এই শিক্ষিত ঐতিহাসিকদের চোখে প্রায়শই রাজা, সম্রাট বা বড় নেতারা (যেমন সিধু-কানহু বা মহাত্মা গান্ধী) বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন।
- সাধারণ হাজার হাজার মানুষ, যারা বিদ্রোহে বা আন্দোলনে অংশ নেয়, তাদের নাম বা কথা আলাদা করে জরুরি বলে মনে করা হয় না। তাই তারা ইতিহাসে “হাজার হাজার মানুষ” সংখ্যা হিসেবেই থেকে যায়, ব্যক্তি হিসেবে নয়।
১৪. সুলতানা রাজিয়া ও ব্রিটিশ গভর্নরদের উদাহরণটি যুগ বিভাজনের কোন সমস্যাটি তুলে ধরে?
উত্তর: এই উদাহরণটি জেমস মিলের ‘প্রাচীন-মধ্য-আধুনিক’ যুগ বিভাজনের সমস্যাকে তুলে ধরে।
- সুলতান ইলতুৎমিস (মধ্যযুগ) তাঁর কন্যা রাজিয়াকে দিল্লির শাসনভার দিয়েছিলেন। এটি নারীর ক্ষমতায়নের একটি উদাহরণ।
- কিন্তু ‘আধুনিক’ যুগে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কোনো নারী গভর্নর জেনারেল বা প্রশাসনিক কর্তা ছিলেন না।
- সুতরাং, নারীর ক্ষমতার নিরিখে বিচার করলে, ‘মধ্যযুগ’-কে ‘আধুনিক’ যুগের চেয়ে বেশি প্রগতিশীল বলে মনে হতে পারে। এটি প্রমাণ করে যে, সময় অনুযায়ী ‘আধুনিক’ বা ‘মধ্যযুগ’ ভাগ করা সবক্ষেত্রে সঠিক নয়।
১৫. ঔপনিবেশিক শাসকের চোখে কৃষক বা উপজাতি বিদ্রোহগুলিকে কীভাবে দেখা হতো?
উত্তর: ব্রিটিশ সরকারের চোখে, বাংলা বা ভারতের বিভিন্ন কৃষক ও উপজাতি বিদ্রোহগুলিকে (যেমন সাঁওতাল হুল) নিছক ‘হাঙ্গামা’ বা ‘উৎপাত’ (আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা) বলে মনে করা হতো। তারা এই বিদ্রোহীদের ‘অসভ্য’ বা ‘হাঙ্গামাকারী’ বলে চিহ্নিত করত, স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসেবে নয়।
১৬. “ইতিহাসের উপাদান সব সময় নিরপেক্ষ হয় না।” – আত্মজীবনী ও সরকারি নথিপত্রের উদাহরণ দিয়ে বক্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: ইতিহাসের উপাদানগুলি নিরপেক্ষ নয়, কারণ সেগুলি কোনো না কোনো ব্যক্তির বা গোষ্ঠীর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তৈরি হয়।
১. আত্মজীবনী/জীবনী:
- যিনি আত্মজীবনী লেখেন, তিনি তাঁর নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও বিচার থেকেই সব কিছু ব্যাখ্যা করেন।
- **উদাহরণ:** উইলিয়ম ওয়েডারবার্ন তাঁর লেখা অ্যালান অক্টোভিয়ান হিউমের জীবনীতে জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব হিউমকেই দিয়েছেন। কিন্তু পরবর্তীকালের ঐতিহাসিকরা দেখিয়েছেন যে, হিউমের একার কৃতিত্ব ততটা ছিল না।
২. সরকারি নথিপত্র:
- সরকারি নথি শাসকের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লেখা হয়।
- **উদাহরণ:** ব্রিটিশ সরকারের নথিতে তিতুমির, বিরসা মুন্ডা বা সিধু-কানহুর বিদ্রোহকে ‘হাঙ্গামা’ বলা হয়েছে। কিন্তু ভারতীয় জাতীয়তাবাদী ঐতিহাসিকদের কাছে তাঁরা হলেন ‘স্বাধীনতা সংগ্রামী’।
সুতরাং, ঐতিহাসিককে এই সমস্ত উপাদানকেই প্রশ্ন করে, খুঁটিয়ে বিচার করে তবেই ব্যবহার করতে হয়।