বিষয়: পরমাণু, অণু ও রাসায়নিক বিক্রিয়া (সপ্তম শ্রেণি)
অধ্যায় ৩: চিহ্ন, সংকেত ও যোজ্যতা (নোটস)
১. মৌলের চিহ্ন ও পরমাণুর গঠন
১. মৌলের চিহ্ন (Symbol) কেন ব্যবহার করা হয়?
মৌলের নামকে সংক্ষেপে প্রকাশ করার জন্য মৌলের চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। চিহ্নগুলি সাধারণত মৌলের নামের ইংরেজি বা ল্যাটিন ভাষার প্রথম এক বা দুটি অক্ষর নিয়ে তৈরি হয়।
২. মৌলের চিহ্ন লেখার নিয়মগুলি কী কী? উদাহরণ দাও।
- যদি মৌলের চিহ্ন একটি মাত্র অক্ষর দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তবে তা সর্বদা **বড়ো হাতের (Capital Letter)** হবে। (যেমন – অক্সিজেন: **O**, হাইড্রোজেন: **H**)।
- যদি মৌলের চিহ্ন দুটি অক্ষর দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তবে প্রথম অক্ষরটি **বড়ো হাতের** এবং দ্বিতীয় অক্ষরটি **ছোটো হাতের (Small Letter)** হবে। (যেমন – ক্যালসিয়াম: **Ca**, নিকেল: **Ni**)।
- কিছু ক্ষেত্রে ল্যাটিন নাম থেকে চিহ্ন নেওয়া হয়। (যেমন – সোডিয়াম: **Na** [নেট্রিয়াম], লোহা: **Fe** [ফেরাম])।
৩. পরমাণু ক্রমাঙ্ক (Atomic Number, Z) ও ভরসংখ্যা (Mass Number, A) কাকে বলে?
- পরমাণু ক্রমাঙ্ক ($Z$): কোনো মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে উপস্থিত মোট **প্রোটন সংখ্যাকে** তার পরমাণু ক্রমাঙ্ক বলে।
- ভরসংখ্যা ($A$): নিউক্লিয়াসে উপস্থিত মোট **প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যার** যোগফলকে তার ভরসংখ্যা বলে।
চিত্র: নাইট্রোজেন পরমাণুর গঠন (7 প্রোটন, 7 নিউট্রন)।
৪. আয়ন (Ion) কাকে বলে? ক্যাটায়ন ও অ্যানায়ন কী?
আয়ন: তড়িৎগ্রস্ত পরমাণু বা পরমাণুর জোটকে আয়ন বলে।
- **ক্যাটায়ন (Cation):** পরমাণু ইলেকট্রন **ছেড়ে দিলে** ধনাত্মক (+) আধানযুক্ত হয়। (যেমন – $Na^+$)।
- **অ্যানায়ন (Anion):** পরমাণু ইলেকট্রন **নিয়ে নিলে** ঋণাত্মক (-) আধানযুক্ত হয়। (যেমন – $Cl^-$)।
৫. মূলক বা র্যাডিক্যাল (Radical) কী?
একাধিক পরমাণু জোটবদ্ধ হয়ে যখন একটি একক আয়ন রূপে অবস্থান করে এবং রাসায়নিক বিক্রিয়ায় একটি এককের মতো অংশগ্রহণ করে, তখন তাকে মূলক বা র্যাডিক্যাল বলে। মূলকের মোট আধানের পরিমাণই তার যোজ্যতা।
উদাহরণ: অ্যামোনিয়াম ($NH_4^+$), সালফেট ($SO_4^{2-}$), নাইট্রেট ($NO_3^-$)।
২. যোজ্যতা (Valency) ও সংকেত লেখার কৌশল
৬. যোজ্যতা (Valency) কাকে বলে?
যোজ্যতা হলো অন্য মৌলের সঙ্গে কোনো মৌলের **যুক্ত হবার ক্ষমতা**। সাধারণত, কোনো মৌলের একটি পরমাণু অন্য মৌলের কয়টি হাইড্রোজেন পরমাণুর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, তার সংখ্যা দিয়ে যোজ্যতা প্রকাশ করা হয়।
৭. মৌলের পরিবর্তনশীল যোজ্যতা (Variable Valency) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যখন কোনো একটি মৌল একাধিক যোজ্যতা নিয়ে বিভিন্ন যৌগ গঠন করতে পারে, তখন সেই যোজ্যতাকে পরিবর্তনশীল যোজ্যতা বলে।
- উদাহরণ: **লোহা (Fe)** যোজ্যতা ২ ও ৩ প্রদর্শন করে।
- যোজ্যতা ২: ফেরাস ক্লোরাইড ($FeCl_2$)
- যোজ্যতা ৩: ফেরিক ক্লোরাইড ($FeCl_3$)
- তামা (Cu): যোজ্যতা ১ (কিউপ্রাস) ও ২ (কিউপ্রিক) প্রদর্শন করে।
৮. ল্যাটিন নাম থেকে আসা দুটি পরিবর্তনশীল যোজ্যতার উদাহরণ দাও।
| মৌল (ল্যাটিন নাম) | কম যোজ্যতা (নামের শেষে -আস) | বেশি যোজ্যতা (নামের শেষে -ইক) |
|---|---|---|
| লোহা (Ferrum) | ২ (ফেরাস) | ৩ (ফেরিক) |
| তামা (Cuprum) | ১ (কিউপ্রাস) | ২ (কিউপ্রিক) |
৯. সংকেত লেখার কৌশলটি (Criss-cross Method) ব্যাখ্যা করো।
যখন $A$ ও $B$ দুটি মৌল বা মূলক যুক্ত হয়ে যৌগ গঠন করে, তখন একটি মৌল বা মূলকের যোজ্যতা অন্যটির ডানদিকে নীচে লেখা হয়।
- $A$ মৌলের যোজ্যতা $m$ এবং $B$ মৌলের যোজ্যতা $n$ ধরলে,
- $A$ -এর নীচে $B$ -এর যোজ্যতা ($n$) লেখা হয় এবং $B$ -এর নীচে $A$ -এর যোজ্যতা ($m$) লেখা হয়।
গঠিত যৌগের সংকেত: $A_n B_m$
১০. অ্যালুমিনিয়াম (যোজ্যতা ৩) ও সালফেটের (যোজ্যতা ২) সংকেত লেখো।
$$\text{Al (যোজ্যতা ৩) } \quad \text{SO}_4 \text{ (যোজ্যতা ২)}$$
$$\text{সংকেত: } Al_2(SO_4)_3$$
১১. ক্যালসিয়াম (যোজ্যতা ২) ও হাইড্রক্সাইডের (যোজ্যতা ১) সংকেত লেখো।
$$\text{Ca (যোজ্যতা ২) } \quad \text{OH (যোজ্যতা ১)}$$
$$\text{সংকেত: } Ca(OH)_2$$
১২. অ্যামোনিয়াম (যোজ্যতা ১) ও সালফেটের (যোজ্যতা ২) সংকেত লেখো।
$$\text{NH}_4 \text{ (যোজ্যতা ১) } \quad \text{SO}_4 \text{ (যোজ্যতা ২)}$$
$$\text{সংকেত: } (NH_4)_2SO_4$$
৩. রাসায়নিক বিক্রিয়া ও সমীকরণ
১৩. ভৌত পরিবর্তন ও রাসায়নিক পরিবর্তনের মূল পার্থক্য কী?
- ভৌত পরিবর্তন: পদার্থের শুধুমাত্র বাহ্যিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে, মূল রাসায়নিক গঠনের কোনো পরিবর্তন হয় না। (যেমন – বরফ গলে জল)।
- রাসায়নিক পরিবর্তন: পদার্থের মূল রাসায়নিক গঠনের পরিবর্তন ঘটে এবং নতুন ধর্মবিশিষ্ট এক বা একাধিক পদার্থ উৎপন্ন হয়। (যেমন – লোহায় মরচে পড়া)।
১৪. রাসায়নিক সমীকরণ (Chemical Equation) কাকে বলে?
চিহ্ন ও সংকেতের সাহায্যে কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়াকে সংক্ষেপে প্রকাশ করার পদ্ধতিকে রাসায়নিক সমীকরণ বলে।
উদাহরণ: $H_2 + Cl_2 \rightarrow 2HCl$
১৫. বিক্রিয়ক (Reactant) ও বিক্রিয়াজাত পদার্থ (Product) কাকে বলে?
- বিক্রিয়ক: রাসায়নিক বিক্রিয়ায় যে পদার্থগুলি অংশগ্রহণ করে। (সমীকরণের বাঁ দিকে লেখা হয়)।
- বিক্রিয়াজাত পদার্থ: রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে যে নতুন পদার্থ উৎপন্ন হয়। (সমীকরণের ডান দিকে লেখা হয়)।
১৬. রাসায়নিক বিক্রিয়ার দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় নিম্নলিখিত ঘটনাগুলি ঘটতে পারে:
- উষ্ণতার পরিবর্তন (তাপ উৎপন্ন বা শোষিত হতে পারে)।
- বর্ণের পরিবর্তন।
- অধঃক্ষেপ (Precipitate) সৃষ্টি।
- গ্যাস নির্গমন।