বিষয়: ভৌত পরিবেশ (সপ্তম শ্রেণি)
অধ্যায় ১(v): পরিবেশবান্ধব শক্তি (নোটস)
১. শক্তির উৎস ও প্রকারভেদ
১. প্রচলিত শক্তি (Conventional Energy) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যেসব শক্তির উৎস প্রাচীনকাল থেকে বা বহুকাল ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং যার ভান্ডার সীমিত, তাকে প্রচলিত শক্তি বলে।
উদাহরণ: **জীবাশ্ম জ্বালানি** (কয়লা, পেট্রল, ডিজেল), জলবিদ্যুৎ (কিছু ক্ষেত্রে)।
২. অপ্রচলিত শক্তি বা পরিবেশবান্ধব শক্তি (Non-conventional/Green Energy) কাকে বলে?
যেসব শক্তির উৎসগুলি অপেক্ষাকৃত নতুন, সহজে ফুরিয়ে যায় না (অফুরন্ত) এবং যা পরিবেশের কম ক্ষতি করে, তাকে অপ্রচলিত বা পরিবেশবান্ধব শক্তি বলে।
উদাহরণ: **সৌরশক্তি**, **বায়ুশক্তি**, **জৈবশক্তি** (বায়োগ্যাস)।
৩. জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuels) কাকে বলে? এর দুটি ক্ষতিকর প্রভাব লেখো।
লক্ষ লক্ষ বছর ধরে মাটির গভীরে উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ তাপ, চাপ ও রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলে কয়লা, পেট্রলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসে পরিণত হয়। এদের **জীবাশ্ম জ্বালানি** বলে।
ক্ষতিকর প্রভাব:
- দহনের ফলে প্রচুর পরিমাণে **কার্বন ডাইঅক্সাইড ($CO_2$)** উৎপন্ন হয়, যা বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য দায়ী।
- দহনের ফলে **সালফার ডাইঅক্সাইড ($SO_2$)** ও **নাইট্রোজেন অক্সাইড ($NO_x$)** উৎপন্ন হয়, যা অ্যাসিড বৃষ্টির কারণ।
৪. প্রচলিত শক্তির তুলনায় পরিবেশবান্ধব শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করা কেন প্রয়োজন?
এর প্রধান কারণগুলি হলো:
- **ভান্ডার সীমিত:** জীবাশ্ম জ্বালানির ভান্ডার অফুরন্ত নয়, তা একদিন শেষ হয়ে যাবে।
- **পরিবেশ দূষণ:** প্রচলিত শক্তি ব্যবহারের ফলে ব্যাপক বায়ু দূষণ ও বিশ্ব উষ্ণায়ন ঘটে।
- **অফুরন্ত জোগান:** পরিবেশবান্ধব শক্তির জোগান **অফুরন্ত** (যেমন সূর্য, বায়ু)।
২. পরিবেশবান্ধব শক্তির উৎসসমূহ
৫. সৌরশক্তি (Solar Energy) কী? এর দুটি ব্যবহার লেখো।
সূর্য থেকে সরাসরি যে বিপুল পরিমাণ শক্তি পৃথিবীতে আসে, তাকে সৌরশক্তি বলে। এটি সমস্ত শক্তির মূল উৎস এবং একটি অফুরন্ত ভান্ডার।
ব্যবহার:
- **সৌরকোশ (Solar Cell) / সোলার প্যানেল:** আলোক শক্তিকে সরাসরি তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে (যেমন – ক্যালকুলেটর, সোলার লাইট)।
- **সোলার কুকার ও সোলার ওয়াটার হিটার:** তাপ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে রান্না করা বা জল গরম করা।
চিত্র: সৌরশক্তির কয়েকটি প্রয়োগ।
৬. বায়ুশক্তি (Wind Energy) কী? এর দুটি সুবিধা লেখো।
বায়ুপ্রবাহের গতিশক্তিকে বায়ুকল (Windmill) ব্যবহারের মাধ্যমে যান্ত্রিক শক্তি বা তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করাকে বায়ুশক্তি বলে।
সুবিধা:
- এটি একটি **অফুরন্ত** এবং **পরিষ্কার** শক্তির উৎস, যা কোনো দূষণ ঘটায় না।
- একবার বায়ুকল বসালে দীর্ঘকাল ধরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।
৭. জৈবশক্তি (Bioenergy) কী? এটি কীভাবে উৎপন্ন হয়?
উদ্ভিদ বা প্রাণীজ বর্জ্য, গোবর বা কৃষি বর্জ্যকে পচিয়ে যে গ্যাস (বায়োগ্যাস বা মিথেন) বা শক্তি উৎপাদন করা হয়, তাকে জৈবশক্তি বলে।
উৎপাদন: জৈব বর্জ্যগুলিকে অক্সিজেনের **অনুপস্থিতিতে** (অনার্দ্র পরিবেশে) পচানো হয়, ফলে মিথেন ($CH_4$) সমৃদ্ধ বায়োগ্যাস উৎপন্ন হয়।
৮. বায়োগ্যাসের দুটি ব্যবহার লেখো।
রান্না করার জ্বালানি হিসেবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে বায়োগ্যাস ব্যবহৃত হয়।
৯. অপ্রচলিত শক্তির আরো দুটি উৎসের নাম লেখো।
- **জোয়ারভাটার শক্তি (Tidal Energy):** সমুদ্রের জোয়ারভাটার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে তড়িৎ উৎপাদন।
- **ভূ-তাপীয় শক্তি (Geothermal Energy):** পৃথিবীর অভ্যন্তরের তাপকে কাজে লাগিয়ে শক্তি উৎপাদন।
৩. শক্তির সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা
১০. শক্তির অপচয় রোধ করার দুটি উপায় লেখো।
- বাইসাইকেল বা যন্ত্রহীন নৌকার মতো জ্বালানিবিহীন পরিবহন ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ানো।
- কলকারখানা ও ঘরোয়া কাজে শক্তির **অপব্যবহার** বা **নিয়ন্ত্রণ** করা।
- যেখানে সম্ভব সেখানে জল সেচের জন্য নদীর জল ব্যবহার করা (গভীর নলকূপের জল তুলে বিদ্যুৎ খরচ না করা)।