বিষয়: ভৌত পরিবেশ (সপ্তম শ্রেণি)
অধ্যায় ১(iv): তড়িৎ (নোটস)
১. তড়িৎ উৎস ও বর্তনী (Circuit)
১. সেল (Cell) ও ব্যাটারির (Battery) মধ্যে পার্থক্য কী?
- **সেল:** এটি তড়িৎ শক্তির একক উৎস। যেমন – টর্চের ড্রাই সেল।
- **ব্যাটারি:** একাধিক সেলকে যখন একসঙ্গে যুক্ত করা হয়, তখন তাকে ব্যাটারি বলে। এটি সেলের চেয়ে বেশি তড়িৎ শক্তি সরবরাহ করে। যেমন – গাড়ির ব্যাটারি।
২. একটি সেলের প্রধান দুটি মেরু কী কী?
সেলের দুটি মেরু হলো: **ধনাত্মক মেরু (+)** (সাধারণত ধাতব টুপি প্রান্ত) এবং **ঋণাত্মক মেরু (-)** (সাধারণত ধাতব চাকতি প্রান্ত)।
৩. বর্তনী বা সার্কিট (Circuit) কাকে বলে?
তড়িৎ উৎস (সেল), তার এবং বাল্ব বা অন্য কোনো তড়িৎ গ্রাহক যন্ত্রকে **সুপরিবাহী তারের মাধ্যমে** একটি সম্পূর্ণ ও বদ্ধ পথে যুক্ত করার ব্যবস্থাকে বর্তনী বা সার্কিট বলে।
৪. মুক্ত বর্তনী (Open Circuit) ও বদ্ধ বর্তনী (Closed Circuit) কাকে বলে?
- **বদ্ধ বর্তনী:** যদি বর্তনীতে তারের সংযোগ কোথাও ছিন্ন না হয় এবং তড়িৎ প্রবাহের পথটি সম্পূর্ণ থাকে, তবে সেই বর্তনীকে বদ্ধ বর্তনী বলে। এই অবস্থায় বাল্ব জ্বলে।
- **মুক্ত বর্তনী:** যদি বর্তনীর কোনো অংশ ছিন্ন হয়ে যায় বা সুইচ ‘অফ’ থাকে, তবে তড়িৎ প্রবাহের পথটি অসম্পূর্ণ থাকে। সেই বর্তনীকে মুক্ত বর্তনী বলে। এই অবস্থায় বাল্ব জ্বলে না।
চিত্র: বদ্ধ বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ চলে (বাল্ব জ্বলে); মুক্ত বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ বন্ধ থাকে।
৫. তড়িৎ পরিবাহী (Conductor) ও তড়িৎ কুপরিবাহী (Insulator) পদার্থ কাকে বলে?
- **তড়িৎ পরিবাহী:** যেসব পদার্থের মধ্যে দিয়ে তড়িৎ সহজে চলাচল করতে পারে। (যেমন – তামা, লোহা, সোনা, গ্রাফাইট)।
- **তড়িৎ কুপরিবাহী (অন্তরক):** যেসব পদার্থের মধ্যে দিয়ে তড়িৎ চলাচল করতে পারে না। (যেমন – প্লাস্টিক, কাঠ, কাঁচ, রাবার, বায়ু)।
৬. প্লাস্টিকের আবরণের গুরুত্ব কী?
ইলেকট্রিকের তার সাধারণত তামার মতো সুপরিবাহী ধাতু দিয়ে তৈরি হয়। এই তারের ওপর প্লাস্টিকের (বা রাবারের) আবরণ দেওয়া হয় কারণ প্লাস্টিক তড়িতের কুপরিবাহী। ফলে তড়িৎ-স্পৃষ্ট হওয়ার হাত থেকে মানুষ রক্ষা পায় এবং শর্ট সার্কিট এড়ানো যায়।
২. তড়িৎ প্রবাহের ফল
৭. তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ফল (Magnetic Effect) কাকে বলে?
কোনো পরিবাহী তারের মধ্যে দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হলে, তারের চারপাশে একটি চৌম্বক ক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনাকে তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ফল বলে। (এই নীতির ওপর ভিত্তি করে তড়িৎ চুম্বক তৈরি হয়)।
৮. তড়িৎ চুম্বক (Electromagnet) কাকে বলে?
কোনো চৌম্বক পদার্থের (যেমন নরম লোহা) ওপর অন্তরিত তামার তার পেঁচিয়ে, তারের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ পাঠালে বস্তুটি সাময়িকভাবে চুম্বকে পরিণত হয়। এই ধরনের চুম্বককে তড়িৎ চুম্বক বলে।
৯. তড়িৎ চুম্বকের দুটি ব্যবহার লেখো।
- ইলেকট্রিক ক্রেন দিয়ে ভারী লোহার বস্তু ওঠানো।
- ইলেকট্রিক কলিং বেল (Electric Bell)।
- লাউড স্পিকার ও টেলিফোন।
১০. তড়িৎ প্রবাহের তাপীয় ফল (Heating Effect) কী?
কোনো পরিবাহী তারের মধ্যে দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হলে পরিবাহীটি গরম হয়ে ওঠে। এই ঘটনাকে তড়িৎ প্রবাহের তাপীয় ফল বলে।
১১. তড়িৎ প্রবাহের তাপীয় ফলের দুটি ব্যবহার লেখো।
- ইলেকট্রিক ইস্ত্রি (Electric Iron)।
- ইলেকট্রিক হিটার।
- বৈদ্যুতিক বাল্ব (আলোক শক্তি উৎপাদনের আগে তাপ শক্তি তৈরি হয়)।
- ফিউজ তার (Fuse Wire)।
১২. ফিউজ তার (Fuse Wire) কী এবং এটি কেন ব্যবহৃত হয়?
ফিউজ তার হলো খুব কম গলনাঙ্কবিশিষ্ট ধাতু বা সংকর ধাতু দিয়ে তৈরি একটি সরু তার।
ব্যবহার: কোনো কারণে সার্কিটে খুব বেশি পরিমাণে তড়িৎ প্রবাহিত হলে, ফিউজ তারটি অতিরিক্ত গরম হয়ে গলে যায়। ফলে বর্তনী ছিন্ন হয়ে যায় এবং তড়িৎ প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে বাড়ির মূল্যবান সরঞ্জাম বা যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায়।
চিত্র: ফিউজ তার (বাম) ও তাপীয় ফলের একটি প্রয়োগ (ডান)।
১৩. LED (Light Emitting Diode) -তে আলো জ্বলে তড়িৎ শক্তির কোন রূপান্তরের ফলে?
LED -এর মধ্যে দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হলে **তড়িৎ শক্তি আলোক শক্তিতে** রূপান্তরিত হয়। LED বাল্ব সাধারণ বাল্বের চেয়ে অনেক কম শক্তি ব্যবহার করে।
১৪. সোলার ক্যালকুলেটর (Solar Calculator) কোন নীতির ওপর কাজ করে?
সোলার ক্যালকুলেটর **সৌর শক্তিকে (আলোক শক্তিকে) সরাসরি তড়িৎ শক্তিতে** রূপান্তরিত করার নীতির ওপর কাজ করে। এর জন্য সোলার প্যানেল ব্যবহৃত হয়।
১৫. জীবদেহের শারীরবৃত্তীয় কাজে তড়িৎ প্রবাহের একটি ভূমিকা লেখো।
স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে উদ্দীপনা (তথ্য) পরিবাহিত হয় **তড়িৎ উদ্দীপনা** বা সংকেত রূপে। এই সংকেতই পেশি সংকোচন-প্রসারণ ঘটিয়ে আমাদের হাঁটাচলা ও বিভিন্ন কাজে সাহায্য করে।