এই অধ্যায়ের নোট এবং প্রশ্ন ও উত্তর
আমাদের পরিবেশ: পৃথিবীর গতি
সপ্তম শ্রেণি | বিস্তারিত পাঠ্যক্রম ও ৩০টি মডেল প্রশ্নোত্তর
📂 পর্ব ১: লাইন-টু-লাইন পাঠ্যসার
১. পৃথিবীর স্থিরতা বনাম গতি
প্রাচীনকালে মানুষ মনে করত পৃথিবী স্থির এবং সূর্য ও অন্যান্য জ্যোতিষ্ক পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে। কিন্তু ষোড়শ শতাব্দীতে বিজ্ঞানী নিকোলাস কোপারনিকাস প্রথম জানান যে, পৃথিবী নয়, সূর্যই কেন্দ্রে স্থির এবং পৃথিবী তার চারদিকে ঘোরে। পৃথিবীর প্রধানত দুটি গতি—আবর্তন (আহ্নিক) ও পরিক্রমণ (বার্ষিক)।
২. আবর্তন গতি বা আহ্নিক গতি
পৃথিবী তার নিজের মেরুরেখা বা অক্ষের চারদিকে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে পাক খায়। একে আবর্তন গতি বলে। একবার আবর্তন করতে সময় লাগে ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড (প্রায় ২৪ ঘণ্টা)। একে সৌরদিন বলে। এই গতির ফলে দিন ও রাত্রি হয় এবং সমুদ্রস্রোত ও বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তন হয় (কোরিওলিস বল)।
৩. পরিক্রমণ গতি বা বার্ষিক গতি
নিজের অক্ষের ওপর ঘুরতে ঘুরতে পৃথিবী একটি নির্দিষ্ট উপবৃত্তাকার পথে সূর্যের চারদিকে প্রদক্ষিণ করে। একে পরিক্রমণ গতি বলে। এর সময়কাল ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড। এর প্রভাবে ঋতু পরিবর্তন ঘটে এবং দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্যের হ্রাস-বৃদ্ধি হয়।
৪. কক্ষপথ ও মুক্তিবেগ
পৃথিবী যে পথে ঘোরে তাকে কক্ষপথ বলে। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৬ কোটি কিমি। কক্ষপথটি যে সমতলে থাকে তাকে কক্ষতল বলে। পৃথিবী তার কক্ষতলের সাথে ৬৬.৫° কোণে হেলে থাকে। আবার কোনো বস্তুকে পৃথিবী থেকে দূরে পাঠাতে হলে তাকে প্রতি সেকেন্ডে ১১.২ কিমি বেগে ছুড়তে হয়, একে মুক্তিবেগ বলে।
৫. অপসূর ও অনুসূর অবস্থান
- অনুসূর: ৩ জানুয়ারি। সূর্য ও পৃথিবীর দূরত্ব সবচেয়ে কম (১৪ কোটি ৭০ লক্ষ কিমি)।
- অপসূর: ৪ জুলাই। সূর্য ও পৃথিবীর দূরত্ব সবচেয়ে বেশি (১৫ কোটি ২০ লক্ষ কিমি)।
৬. বিষুব ও সংক্রান্তি
২১ মার্চ (মহাবিষুব) ও ২৩ সেপ্টেম্বর (জলবিষুব)—এই দুই দিন পৃথিবীর সর্বত্র দিন ও রাত সমান হয়। ২১ জুন (কর্কট সংক্রান্তি) উত্তর গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন এবং ২২ ডিসেম্বর (মকর সংক্রান্তি) উত্তর গোলার্ধে ক্ষুদ্রতম দিন হয়।