DAY 1 বনের খবর CLASS NOTES
বনের খবর - প্রমদারাঞ্জন রায়
Class IV | Bengali

বনের খবর

প্রমদারাঞ্জন রায়

উৎস: পাতাবাহার

পৃষ্ঠা: ১০১-১০২

পাঠ পরিচিতি

বনের রহস্যময় জগতের রোমাঞ্চকর কাহিনী নিয়ে এই পাঠ। বনের পশুদের জীবনযাত্রা, তাদের চলাফেরার কৌশল এবং বনের ভয়ংকর অথচ সুন্দর পরিবেশের এক জীবন্ত বর্ণনা দিয়েছেন লেখক।

নিঃশব্দে চলাফেরা

হাতিরা যখন বনের মধ্য দিয়ে চলে, তখন কোনো শব্দ হয় না। অত বড়ো শরীর, অথচ পা ফেলার আওয়াজ পাওয়া যায় না। তারা যখন দল বেঁধে চলে, তখন একটার পিছে আর-একটা এমনভাবে পা ফেলে যেন একটি মাত্র হাতি চলেছে।

"বনের ভেতর হাতিদের চলাফেরা দেখবার মতো।"

[হাতিদের সারিবদ্ধ চলার চিত্র]
[বাঘের শিকার ধরার চিত্র]

অব্যর্থ শিকারি

বাঘেরাও খুব সাবধানে চলে। তারা যখন শিকার ধরতে যায়, তখন নিঃশব্দে এগিয়ে যায়। শুকনো পাতার ওপর দিয়ে গেলেও কোনো আওয়াজ হয় না। বনের পশুরা বনের খবর ভালো করেই জানে।

  • কোথায় জল পাওয়া যাবে তা তারা জানে।
  • কোথায় ভালো খাবার আছে তা অনায়াসেই বোঝে।

ভয়ংকর সুন্দর রাত

বনের মধ্যে রাত কাটানো খুব ভয়ংকর। চারিদিকে অন্ধকার, তার ওপর হিংস্র জন্তুদের ডাক। সেই ডাক শুনলে গা ছমছম করে। তবুও বনের খবর পাওয়ার নেশায় অনেকে বনের মধ্যে যায়।

পরিবেশ

ঘুটঘুটে অন্ধকার

শব্দ

হিংস্র জন্তুর ডাক

অনুভূতি

গা ছমছম করা নেশা

এক নজরে তথ্য

যামিনীনাথ বর্মা কে ছিলেন?

তিনি লেখকের বন্ধু এবং বন-বিভাগে কাজ করতেন।

হাতিরা কীভাবে চলে?

সারিবদ্ধভাবে এবং নিঃশব্দে পা ফেলে চলে।

WBBSE AI Engine - Interactive Learning Module

বনের খবর - নোটস | WBBSE AI Engine
WBBSE AI Engine • Notes Tab

বনের খবর

প্রমদারাঞ্জন রায় | চতুর্থ শ্রেণি (পাতাবাহার)

শ্রেণি: চতুর্থ পৃষ্ঠা: ১০১-১০২
S

সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (Short Answer Questions)

১. 'বনের খবর' গদ্যাংশটির লেখক কে?

উত্তর: 'বনের খবর' গদ্যাংশটির লেখক হলেন প্রমদারাঞ্জন রায়।

২. বনের জীবজন্তুদের খবর পাওয়া শক্ত কেন?

উত্তর: বনের জীবজন্তুরা বনের গভীরে বাস করে এবং তারা খুব সাবধানে চলাফেরা করে বলে তাদের খবর পাওয়া শক্ত।

৩. বনের খবর কারা বেশি রাখেন?

উত্তর: যারা বনের ধারে থাকেন বা বনের ভেতর যাতায়াত করেন, তারা বনের অনেক খবর রাখেন।

৪. লেখকের বন্ধু যামিনীনাথ বর্মা কোথায় কাজ করতেন?

উত্তর: লেখকের বন্ধু যামিনীনাথ বর্মা বন-বিভাগে কাজ করতেন।

৫. বনের মধ্যে চলতে গেলে কী করা প্রয়োজন?

উত্তর: বনের মধ্যে চলতে গেলে সব সময় খুব সাবধান থাকতে হয়।

৬. হাতিরা যখন বনের মধ্যে চলে তখন কী আওয়াজ হয়?

উত্তর: হাতিরা যখন বনের মধ্যে চলে তখন কোনো শব্দ হয় না, এমনকি তাদের পা ফেলার আওয়াজও পাওয়া যায় না।

৭. হাতিরা দল বেঁধে কীভাবে চলে?

উত্তর: হাতিরা দল বেঁধে চলার সময় একটার পিছে আর-একটা এমনভাবে পা ফেলে যেন মনে হয় একটি মাত্র হাতি চলেছে।

৮. বাঘেরা কখন নিঃশব্দে এগিয়ে যায়?

উত্তর: বাঘেরা যখন শিকার ধরতে যায়, তখন তারা নিঃশব্দে এগিয়ে যায়।

৯. শুকনো পাতার ওপর দিয়ে চললে কাদের আওয়াজ হয় না?

উত্তর: বাঘেরা শুকনো পাতার ওপর দিয়ে গেলেও কোনো আওয়াজ হয় না।

১০. বনের পশুরা বনের কোন খবরগুলো অনায়াসেই বুঝতে পারে?

উত্তর: বনের কোথায় জল পাওয়া যাবে এবং কোথায় ভালো খাবার আছে, তা বনের পশুরা অনায়াসেই বুঝতে পারে।

১১. বনের মধ্যে রাত কাটানো কেমন?

উত্তর: বনের মধ্যে রাত কাটানো খুব ভয়ংকর।

১২. রাতে বনের পরিবেশ কেমন থাকে?

উত্তর: রাতে বনের চারিদিকে অন্ধকার থাকে এবং হিংস্র জন্তুদের ডাক শোনা যায়।

১৩. হিংস্র জন্তুদের ডাক শুনলে কেমন লাগে?

উত্তর: হিংস্র জন্তুদের ডাক শুনলে গা ছমছম করে।

১৪. মানুষ কেন বনের মধ্যে যায়?

উত্তর: বনের খবর পাওয়ার নেশায় অনেকে বনের মধ্যে যায়।

১৫. বনের কোন জিনিসটি লেখকের কাছে চমৎকার মনে হয়েছে?

উত্তর: বনের সৌন্দর্য এবং বন্য জীবজন্তুদের জীবনযাত্রা লেখকের কাছে চমৎকার মনে হয়েছে।

১৬. বনের খবর জানতে হলে কী করা দরকার?

উত্তর: বনের খবর জানতে হলে বনের মধ্যে ঘোরাফেরা করা দরকার।

১৭. যামিনীনাথ বর্মার কথা শুনে লেখকের কেমন লাগত?

উত্তর: যামিনীনাথ বর্মার কথা শুনে লেখক অবাক হয়ে যেতেন।

১৮. হাতিদের শরীর কেমন?

উত্তর: হাতিদের শরীর অনেক বড়ো।

১৯. বনের পশুরা কোন খবর ভালো করে জানে?

উত্তর: বনের পশুরা বনের খবর ভালো করেই জানে।

২০. 'বনের খবর' পাঠ্যাংশটি কোন বই থেকে নেওয়া হয়েছে?

উত্তর: এটি চতুর্থ শ্রেণির 'পাতাবাহার' পাঠ্যবই থেকে নেওয়া হয়েছে।

L

রচনাধর্মী প্রশ্ন (Long Answer Questions)

১. বনের খবর পাওয়া কেন কঠিন কাজ? পাঠ্য অনুসারে আলোচনা করো।

উত্তর: বনের খবর পাওয়া অত্যন্ত কঠিন কারণ বনের গভীরে যে সকল জীবজন্তু বাস করে, তারা মানুষের চোখের আড়ালে থাকতেই পছন্দ করে। তারা অত্যন্ত সতর্ক এবং নিঃশব্দে চলাফেরা করে। বনের পরিবেশ দুর্গম এবং সেখানে যাতায়াত করা সাধারণ মানুষের পক্ষে সহজ নয়। তবে যারা বনের ধারে বাস করেন বা বনের কাজে নিয়মিত যাতায়াত করেন, তারা কিছুটা খবর রাখতে পারেন। বনের খবর জানতে হলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বনের মধ্যে ঘোরাফেরা করা প্রয়োজন, যা সবার পক্ষে সম্ভব হয় না।

২. যামিনীনাথ বর্মা কে ছিলেন? তিনি বনের খবর সম্পর্কে কী বলতেন?

উত্তর: যামিনীনাথ বর্মা ছিলেন লেখকের বন্ধু। তিনি দেশের বন-বিভাগে কাজ করতেন। বন-বিভাগে কাজ করার সুবাদে বনের জীবজন্তুদের সম্পর্কে তাঁর গভীর অভিজ্ঞতা ছিল। তিনি বলতেন যে বনের মধ্যে চলতে গেলে সব সময় অত্যন্ত সাবধান থাকতে হয়। বনের ভেতর কত রকম জীবজন্তু থাকে এবং তারা কীভাবে তাদের দিন কাটায়, সেই সব রোমাঞ্চকর গল্প তিনি লেখককে শোনাতেন। তাঁর বলা বনের খবর শুনে লেখক এবং অন্যরা অবাক হয়ে যেতেন।

৩. হাতিদের চলাফেরার বৈশিষ্ট্য পাঠ্যবই অনুযায়ী বর্ণনা করো।

উত্তর: পাঠ্য অনুসারে, হাতিদের চলাফেরা অত্যন্ত বিস্ময়কর। হাতিদের শরীর অনেক বড়ো হওয়া সত্ত্বেও তারা যখন বনের মধ্য দিয়ে চলে, তখন কোনো শব্দ হয় না। এমনকি তাদের পা ফেলার আওয়াজও পাওয়া যায় না। তারা যখন দল বেঁধে চলে, তখন তারা একটার পেছনে আর-একটা এমন সুশৃঙ্খলভাবে পা ফেলে যেন মনে হয় একটি মাত্র হাতি চলেছে। হাতিদের এই নিঃশব্দ এবং সুশৃঙ্খল চলাফেরা বনের ভেতরে এক দেখবার মতো দৃশ্য।

৪. শিকার ধরার সময় বাঘেরা কীভাবে সতর্কতা অবলম্বন করে?

উত্তর: বাঘেরা অত্যন্ত চতুর এবং সাবধানী শিকারি। তারা যখন শিকার ধরতে যায়, তখন সম্পূর্ণ নিঃশব্দে এগিয়ে যায় যাতে শিকার টের না পায়। এমনকি তারা যখন বনের শুকনো পাতার ওপর দিয়ে হেঁটে যায়, তখনও কোনো মড়মড় শব্দ হয় না। তাদের পায়ের গঠন এবং হাঁটার কৌশল এমন যে তারা বনের প্রতিকূল পরিবেশেও নিঃশব্দে চলাফেরা করতে পারে। এই সতর্কতাই তাদের সফল শিকারি হতে সাহায্য করে।

৫. "বনের পশুরা বনের খবর ভালো করেই জানে"—উক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: বনের পশুরা বনের আদি বাসিন্দা, তাই বনের প্রতিটি কোণ তাদের নখদর্পণে। তারা তাদের সহজাত প্রবৃত্তি দিয়ে বুঝতে পারে বনের কোথায় জল পাওয়া যাবে এবং কোথায় ভালো খাবার আছে। প্রতিকূল পরিবেশে কীভাবে টিকে থাকতে হয় এবং বিপদ থেকে কীভাবে বাঁচতে হয়, তা তারা অনায়াসেই বুঝতে পারে। মানুষের কাছে যা অজানা বা রহস্যময়, বনের পশুদের কাছে তা দৈনন্দিন জীবনের অংশ। এই কারণেই বলা হয়েছে যে তারা বনের খবর ভালো করেই জানে।

৬. বনের রাতের পরিবেশ কেন ভয়ংকর বলে মনে হয়?

উত্তর: বনের রাতের পরিবেশ অত্যন্ত ভয়ংকর হওয়ার প্রধান কারণ হলো চারিদিকের ঘুটঘুটে অন্ধকার। দিনের আলো না থাকায় বনের পথঘাট চেনা অসম্ভব হয়ে পড়ে। তার ওপর যোগ হয় হিংস্র বন্য জন্তুদের ডাক। নিস্তব্ধ রাতে সেই সব ডাক শুনলে মানুষের মনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয় এবং গা ছমছম করে। যেকোনো সময় বন্য জন্তুর আক্রমণের ভয় থাকে বলেই বনের রাতকে ভয়ংকর বলা হয়েছে।

৭. বিপদ থাকা সত্ত্বেও মানুষ কেন বনের মধ্যে যায়?

উত্তর: বনের মধ্যে হিংস্র জন্তুর ভয় এবং প্রাণের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও মানুষ বনের মধ্যে যায় মূলত বনের খবর পাওয়ার নেশায়। বনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, গাছপালা এবং বন্য জীবজন্তুদের বিচিত্র জীবনযাত্রা মানুষকে প্রবলভাবে আকর্ষণ করে। এই অজানাকে জানার কৌতূহল এবং বনের রোমাঞ্চ অনুভব করার ইচ্ছাই মানুষকে সমস্ত ভয় কাটিয়ে বনের গভীরে টেনে নিয়ে যায়।

৮. "বনের সৌন্দর্য এবং সেখানকার বন্য জীবজন্তুদের জীবনযাত্রা সত্যিই চমৎকার"—লেখক কেন এমন বলেছেন?

উত্তর: লেখক বনের প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং জীবজন্তুদের স্বভাব পর্যবেক্ষণ করে মুগ্ধ হয়েছেন। হাতিদের নিঃশব্দে দল বেঁধে চলা, বাঘের নিপুণ শিকার করার কৌশল এবং পশুদের নিজস্ব বুদ্ধিতে খাবার ও জল খুঁজে নেওয়ার ক্ষমতা লেখকের কাছে বিস্ময়কর মনে হয়েছে। বনের এই শৃঙ্খলা এবং বন্য প্রাণের স্পন্দন লেখকের চোখে অত্যন্ত সুন্দর ও চমৎকার হিসেবে ধরা দিয়েছে, যা সাধারণ লোকালয়ে দেখা যায় না।

৯. বনের খবর পাওয়ার জন্য কাদের ওপর নির্ভর করতে হয় এবং কেন?

উত্তর: বনের খবর পাওয়ার জন্য মূলত যারা বনের ধারে বাস করেন অথবা যারা বনের ভেতরে যাতায়াত করেন (যেমন বনকর্মী), তাদের ওপর নির্ভর করতে হয়। কারণ বনের জীবজন্তুরা লোকালয়ে আসে না এবং সাধারণ মানুষের পক্ষে বনের গভীরে যাওয়া সম্ভব হয় না। যারা বনের পরিবেশে অভ্যস্ত, তারাই পশুদের গতিবিধি, ডাক এবং স্বভাব সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিতে পারেন। যেমন লেখকের বন্ধু যামিনীনাথ বর্মা বন-বিভাগে কাজ করতেন বলে অনেক অজানা খবর দিতে পারতেন।

১০. বনের মধ্যে চলতে গেলে সব সময় সাবধান থাকতে হয় কেন?

উত্তর: বনের মধ্যে চলতে গেলে সাবধান থাকা জরুরি কারণ সেখানে যেকোনো সময় হিংস্র জন্তুর সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অনেক সময় ঝোপঝাড়ের আড়ালে বা গাছের ওপর বিষাক্ত সাপ বা হিংস্র পশু লুকিয়ে থাকতে পারে। এছাড়া বনের পশুরা খুব নিঃশব্দে চলাফেরা করে, তাই তারা কখন কাছে চলে আসবে তা বোঝা যায় না। সামান্য অসাবধানতা বড়ো বিপদের কারণ হতে পারে বলেই বনের মধ্যে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হয়।

১১. হাতিদের দলবদ্ধভাবে চলার দৃশ্যটি বর্ণনা করো।

উত্তর: হাতিরা যখন দল বেঁধে বনের মধ্য দিয়ে চলে, তখন তাদের মধ্যে এক অদ্ভুত শৃঙ্খলা দেখা যায়। তারা সারিবদ্ধভাবে চলে এবং সামনের হাতিটি যেখানে পা ফেলে, পেছনের হাতিটিও ঠিক সেই জায়গাতেই পা রাখার চেষ্টা করে। এর ফলে অনেকগুলো হাতি চললেও মাটিতে পায়ের ছাপ বা শব্দ এমনভাবে তৈরি হয় যেন মনে হয় মাত্র একটি হাতি সেখান দিয়ে গেছে। বড়ো শরীর নিয়েও তাদের এই নিঃশব্দ ও সুশৃঙ্খল যাত্রা সত্যিই দেখার মতো।

১২. বাঘ কেন শুকনো পাতার ওপর দিয়ে হাঁটলেও শব্দ হয় না?

উত্তর: বাঘের পায়ের তলায় নরম গদি বা প্যাড থাকে, যা তাদের হাঁটার সময় শব্দ হতে দেয় না। এছাড়া বাঘ অত্যন্ত ভারসাম্য বজায় রেখে এবং ধীরস্থিরভাবে পা ফেলে। শিকার ধরার সময় তারা তাদের শরীরকে মাটির সাথে মিশিয়ে এমনভাবে অগ্রসর হয় যে শুকনো পাতার মড়মড় শব্দও শোনা যায় না। এটি তাদের প্রাকৃতিক শিকারি বৈশিষ্ট্যের একটি অংশ, যা তাদের টিকে থাকতে সাহায্য করে।

১৩. বনের পশুদের বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে পাঠ্য থেকে কী জানা যায়?

উত্তর: পাঠ্য থেকে জানা যায় যে বনের পশুরা অত্যন্ত বুদ্ধিমান এবং সচেতন। তারা বনের কোথায় জল পাওয়া যাবে এবং কোথায় ভালো খাবার মিলবে, তা সহজেই বুঝতে পারে। তারা প্রতিকূল পরিবেশে নিজেদের রক্ষা করার কৌশল জানে। হাতিদের সুশৃঙ্খলভাবে চলা বা বাঘের নিঃশব্দে শিকার ধরার পদ্ধতি তাদের বুদ্ধিমত্তা ও অভিজ্ঞতার পরিচয় দেয়। বনের খবর তারা মানুষের চেয়ে অনেক ভালো জানে।

১৪. "গা ছমছম করে"—কখন এবং কেন এমন অনুভূতি হয়?

উত্তর: বনের মধ্যে রাত কাটানোর সময় যখন চারিদিকে ঘন অন্ধকার নেমে আসে এবং হিংস্র জন্তুদের ডাক শোনা যায়, তখন মানুষের মনে এক ধরনের ভয়ের উদ্রেক হয়। এই ভয় ও রোমাঞ্চের মিশ্র অনুভূতিকেই বলা হয়েছে "গা ছমছম করা"। অন্ধকারের মধ্যে অদৃশ্য কোনো বিপদের আশঙ্কা এবং বন্য প্রাণীদের গর্জনের শব্দ মানুষের স্নায়ুর ওপর চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে এই শারীরিক ও মানসিক অনুভূতি হয়।

১৫. 'বনের খবর' গদ্যাংশটির মূল বক্তব্য নিজের ভাষায় লেখো।

উত্তর: 'বনের খবর' গদ্যাংশটিতে লেখক প্রমদারাঞ্জন রায় বনের রহস্যময় ও রোমাঞ্চকর জগতের কথা তুলে ধরেছেন। বনের খবর পাওয়া কঠিন হলেও যারা বনের সংস্পর্শে থাকেন, তারা অনেক কিছু জানেন। হাতি ও বাঘের মতো প্রাণীরা কত নিঃশব্দে ও সাবধানে চলাফেরা করে, তা এখানে বর্ণিত হয়েছে। বনের পশুরা তাদের প্রয়োজনীয় খাবার ও জলের সন্ধান সহজেই পায়। বনের রাত ভয়ংকর হলেও এর সৌন্দর্য এবং বন্য প্রাণের জীবনযাত্রা মানুষকে মুগ্ধ করে।

১৬. বনের খবর পেতে কার না ভালো লাগে?—এই বাক্যের মাধ্যমে লেখক কী বোঝাতে চেয়েছেন?

উত্তর: এই বাক্যের মাধ্যমে লেখক মানুষের চিরন্তন কৌতূহলের কথা বলেছেন। মানুষ জন্মগতভাবেই অজানাকে জানতে চায়। বনের রহস্যময় জগত, সেখানকার বিচিত্র পশুপাখি এবং তাদের জীবনধারা সম্পর্কে জানার আগ্রহ সবারই থাকে। বনের গল্প বা খবর শুনলে মানুষের মনে এক ধরনের আনন্দ ও রোমাঞ্চ তৈরি হয়। তাই লেখক মনে করেন যে বনের খবর শোনার বা জানার ইচ্ছা সবার মধ্যেই বর্তমান।

১৭. বন-বিভাগের কর্মীদের কাজ কেন গুরুত্বপূর্ণ বলে তুমি মনে করো?

উত্তর: বন-বিভাগের কর্মীরা বনের ভেতরে যাতায়াত করেন এবং বন্য প্রাণীদের রক্ষণাবেক্ষণ করেন। তারা বনের পশুদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেন এবং বনের সম্পদ রক্ষা করেন। যামিনীনাথ বর্মার মতো কর্মীরা বনের অনেক অজানা তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেন। বনের ভারসাম্য রক্ষা এবং বন্যপ্রাণী ও মানুষের মধ্যে দূরত্ব বজায় রাখতে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মাধ্যমেই আমরা বনের ভেতরের অনেক রোমাঞ্চকর খবর জানতে পারি।

১৮. বনের পশুদের জীবনযাত্রা থেকে আমরা কী শিক্ষা পেতে পারি?

উত্তর: বনের পশুদের জীবনযাত্রা থেকে আমরা শৃঙ্খলা এবং সতর্কতার শিক্ষা পেতে পারি। হাতিদের দলবদ্ধভাবে চলা আমাদের একতা ও শৃঙ্খলার গুরুত্ব শেখায়। বাঘের শিকার ধরার কৌশল আমাদের ধৈর্য ও একাগ্রতার শিক্ষা দেয়। এছাড়া বনের পশুরা যেভাবে প্রকৃতির সাথে খাপ খাইয়ে চলে এবং নিজেদের প্রয়োজনীয় সম্পদ খুঁজে নেয়, তা থেকে আমরা পরিবেশের সাথে মানিয়ে চলার শিক্ষা পাই।

১৯. বনের খবর জানার জন্য লেখকের বন্ধুর ভূমিকা কী ছিল?

উত্তর: লেখকের বন্ধু যামিনীনাথ বর্মা ছিলেন বনের খবরের প্রধান উৎস। তিনি বন-বিভাগে কাজ করার কারণে বনের গভীরের অনেক বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন। তিনি যখন বনের পশুদের চলাফেরা, তাদের স্বভাব এবং বনের বিপদের কথা বলতেন, তখন লেখক ও তাঁর সঙ্গীরা নতুন এক জগতের সন্ধান পেতেন। যামিনীনাথের গল্পের মাধ্যমেই লেখক বনের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন এবং বন্য প্রাণের চমৎকার দিকগুলো বুঝতে পেরেছিলেন।

২০. বনের সৌন্দর্য ও ভয়ংকর রূপের মধ্যে তুলনা করো।

উত্তর: বনের সৌন্দর্য ও ভয়ংকর রূপ মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। দিনের বেলা বনের গাছপালা, পশুপাখিদের বিচিত্র চলাফেরা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ অত্যন্ত চমৎকার ও সুন্দর। কিন্তু রাত নামলেই সেই বনই হয়ে ওঠে ভয়ংকর। অন্ধকারের নিস্তব্ধতা আর হিংস্র পশুর গর্জন মনে ত্রাসের সৃষ্টি করে। একদিকে যেমন বনের জীবনযাত্রা মানুষকে মুগ্ধ করে, অন্যদিকে বনের বিপদ মানুষকে সাবধান করে দেয়। এই দুইয়ের সংমিশ্রণই বনকে অনন্য করে তুলেছে।

© ২০২৪ WBBSE AI Engine - পাতাবাহার নোটস সিরিজ

"শিক্ষাই প্রগতির মূল ভিত্তি"

বনের খবর - মক টেস্ট | পাতাবাহার চতুর্থ শ্রেণি

বনের খবর - প্রমদারাঞ্জন রায়

পাতাবাহার (চতুর্থ শ্রেণি) | পৃষ্ঠা: ১০১-১০২

মোট প্রশ্ন: ৬০ সময়: ০০:০০

লোড হচ্ছে...

প্রশ্ন ১ / ৬০
অনলাইন পরীক্ষা: বনের খবর - চতুর্থ শ্রেণি

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE)

অনলাইন মূল্যায়ন - ২০২৪

শ্রেণি: চতুর্থ বিষয়: বাংলা (পাতাবাহার) অধ্যায়: বনের খবর

বিভাগ ক: সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (MCQ)

১. 'বনের খবর' গল্পটির লেখক কে?

২. লেখকের বন্ধু যামিনীনাথ বর্মা কোন বিভাগে কাজ করতেন?

৩. হাতিরা যখন বনের মধ্য দিয়ে চলে তখন কী হয়?

৪. বাঘেরা কখন নিঃশব্দে এগিয়ে যায়?

৫. শুকনো পাতার ওপর দিয়ে গেলেও কাদের চলাচলের আওয়াজ হয় না?

৬. বনের পশুরা সহজেই কী বুঝতে পারে?

৭. বনের মধ্যে রাত কাটানো কেমন?

৮. হাতিরা যখন দল বেঁধে চলে তখন কেমন দেখায়?

৯. হিংস্র জন্তুদের ডাক শুনলে কী হয়?

১০. বনের খবর পেতে হলে কী করা দরকার?

বিভাগ খ: সংক্ষিপ্ত ও বড়ো প্রশ্ন (Descriptive)

১১. বনের খবর পাওয়া কেন শক্ত কাজ বলে লেখক মনে করেন?

১২. যামিনীনাথ বর্মা কে ছিলেন? তিনি বন সম্পর্কে কী সাবধানবাণী দিতেন?

১৩. হাতিরা যখন বনের ভেতর দিয়ে চলে, তখন তাদের হাঁটার ধরণ কেমন হয়?

১৪. "বনের পশুরা বনের খবর ভালো করেই জানে" - তারা বনের কোন কোন বিষয়ের খবর রাখে?

১৫. বাঘেরা কীভাবে শিকার ধরে? তাদের চলাফেরার বিশেষত্ব কী?

১৬. বনের মধ্যে রাত কাটানো কেন ভয়ংকর বলে বর্ণনা করা হয়েছে?

১৭. বনের খবর পাওয়ার নেশায় মানুষ কেন বনের মধ্যে যায়?

১৮. "বনের ভেতর হাতিদের চলাফেরা দেখবার মতো" - কেন এমন বলা হয়েছে?

১৯. বনের ধারে যারা থাকে তারা কেন বনের অনেক খবর রাখে?

২০. 'বনের খবর' পাঠ্যাংশটি পড়ে বনের সৌন্দর্য এবং বন্য জীবজন্তুদের জীবনযাত্রা সম্পর্কে তোমার ধারণা লেখো।

Revision: বনের খবর - প্রমদারাঞ্জন রায়
WBBSE AI Engine • Revision Tab

বনের খবর

প্রমদারাঞ্জন রায়

Mistake Analysis: Common Pitfalls

সাধারণ ভুল (Common Mistake)সঠিক ধারণা (Correction/Fact)
মনে করা যে হাতি বড়ো শরীর বলে চলার সময় অনেক শব্দ করে।হাতিরা যখন বনের মধ্য দিয়ে চলে, তখন কোনো শব্দ হয় না। তারা নিঃশব্দে পা ফেলে।
ভুল করা যে বাঘেরা শুধু নরম মাটিতে নিঃশব্দে চলে।বাঘেরা শুকনো পাতার ওপর দিয়ে গেলেও কোনো আওয়াজ হয় না।
যামিনীনাথ বর্মা গল্পটির লেখক—এই ধারণা।লেখক হলেন প্রমদারাঞ্জন রায়। যামিনীনাথ বর্মা লেখকের বন্ধু, যিনি বন-বিভাগে কাজ করতেন।
হাতিরা দল বেঁধে চলার সময় এলোমেলোভাবে চলে।তারা একটার পিছে আর-একটা এমনভাবে পা ফেলে যেন একটি মাত্র হাতি চলেছে।
বনের পশুরা জল বা খাবার খুঁজতে খুব সমস্যায় পড়ে।পশুরা বনের খবর ভালো জানে; কোথায় জল বা খাবার আছে তা তারা অনায়াসেই বুঝতে পারে।

Power Revision Summary

বন ও বন্যপ্রাণীর আচরণ

  • হাতিরা অত্যন্ত নিঃশব্দে চলাফেরা করে এবং দলবদ্ধভাবে সুশৃঙ্খলভাবে চলে।
  • শিকার ধরার সময় বাঘেরা শুকনো পাতার ওপর দিয়েও শব্দহীনভাবে এগোতে পারে।
  • বন্য পশুরা প্রাকৃতিক উপায়েই বনের জল ও খাবারের উৎস চিনে নিতে দক্ষ।

অভিজ্ঞতা ও পরিবেশ

  • বনের খবর পেতে হলে বনের ভেতরে ঘোরাফেরা করা বা যারা বনের ধারে থাকে তাদের সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন।
  • যামিনীনাথ বর্মা বন-বিভাগে কাজ করার সুবাদে বনের অনেক রোমাঞ্চকর তথ্য জানতেন।
  • বনের রাত অন্ধকার ও হিংস্র জন্তুর ডাকে ভয়ংকর হলেও বনের সৌন্দর্য ও জীবনযাত্রা চমৎকার।
নিঃশব্দে চলা বন-বিভাগ হিংস্র জন্তু গা ছমছম জীবনযাত্রা
WBBSE Class IV Bengali Revision Module • পাতাবাহার
Active Recall Toolkit

বনের খবর — প্রমদারাঞ্জন রায়

চতুর্থ শ্রেণি | পাতাবাহার (পৃষ্ঠা ১০১-১০২)

১. Blind Questions (স্মৃতি পরীক্ষা)

১. 'বনের খবর' গদ্যাংশটির লেখকের নাম কী?

২. বনের খবর পাওয়া কেন শক্ত কাজ?

৩. বনের খবর কারা বেশি ভালো জানেন?

৪. লেখকের বন্ধু যামিনীনাথ বর্মা কোথায় কাজ করতেন?

৫. বনের মধ্যে চলতে গেলে সব সময় কী থাকতে হয়?

৬. হাতিরা যখন বনের মধ্য দিয়ে চলে, তখন কী শোনা যায় না?

৭. হাতিরা দল বেঁধে চলার সময় কীভাবে পা ফেলে?

৮. বাঘেরা কখন খুব সাবধানে এবং নিঃশব্দে চলে?

৯. শুকনো পাতার ওপর দিয়ে গেলেও কাদের পায়ের আওয়াজ হয় না?

১০. বনের পশুরা অনায়াসেই কোন দুটি জিনিসের খোঁজ বুঝতে পারে?

১১. বনের মধ্যে রাত কাটানো কেমন অভিজ্ঞতা?

১২. হিংস্র জন্তুদের ডাক শুনলে মানুষের কেমন অনুভূতি হয়?

১৩. মানুষ কেন ভয়ংকর জেনেও বনের মধ্যে যায়?

১৪. যামিনীনাথ বর্মার বনের গল্প শুনে লেখক ও অন্যরা কেমন হতেন?

১৫. বনের কোন সৌন্দর্যকে লেখক 'চমৎকার' বলেছেন?

২. The Feynman Method (সহজ পাঠ)

৫ বছরের শিশুকে বোঝানোর মতো সহজ স্ক্রিপ্ট:

"জানো, বন এক ভারী মজার জায়গা! সেখানে হাতি আর বাঘেরা লুকোচুরি খেলায় খুব ওস্তাদ। হাতিরা কত বড় শরীর, কিন্তু যখন বনের ভেতর দিয়ে হাঁটে, একটুও শব্দ হয় না! তারা এমনভাবে লাইন দিয়ে চলে যে মনে হয় যেন একটাই হাতি যাচ্ছে। আবার বাঘমামা যখন শিকার ধরতে যায়, শুকনো পাতার ওপর দিয়ে হাঁটলেও মড়মড় শব্দ হয় না। বনের পশুরা খুব বুদ্ধিমান, তারা জানে কোথায় জল আর খাবার পাওয়া যাবে। রাতে বন একটু অন্ধকার আর ভয়ংকর হলেও, সেখানকার পশুদের জীবন আর বনের রূপ কিন্তু খুব সুন্দর!"

৩. Spaced Repetition Schedule (পুনরালোচনা)

১ দিন পর (Day 1)
  • • লেখক ও যামিনীনাথ বর্মার পরিচয়।
  • • হাতিদের নিঃশব্দে চলাফেরার কৌশল।
৩ দিন পর (Day 3)
  • • বাঘেদের শিকার ধরার সময়কার সতর্কতা।
  • • পশুরা কীভাবে খাবার ও জলের খোঁজ পায়।
৭ দিন পর (Day 7)
  • • বনের রাতের পরিবেশ ও মানুষের বনের প্রতি আকর্ষণ।
  • • সম্পূর্ণ গল্পের মূল ভাব ও কঠিন শব্দার্থ।

WBBSE AI Engine • Educational Toolkit 2024

    BISWAZ GROWTH ACADEMY - Free WBBSE Class 1 to 10 Books

    Biswaz Growth Academy: Free WBBSE Books & Study Materials

    Welcome to biswaz.com, your premier destination for high-quality educational resources. Explore our comprehensive library of West Bengal Board (WBBSE) textbooks from Class 1 to Class 10. Whether you are looking for Amar Boi, Sahaj Path, Ganit Prabha, Butterfly, Bliss, or Amader Paribesh, we provide easily accessible PDF downloads to support student growth, learning, and exam preparation.

    WBBSE Books PDF Download Class 1 to 10 Syllabus West Bengal Board Solutions Free School Textbooks Biswaz Educational Portal

    Biswaz Growth

    Academy Portal

    Select a Class

    0 items