Smart AI Education
পরীক্ষার প্রস্তুতি, দ্রুত রিভিশন এবং স্মার্ট স্টাডির জন্য AI-এর জাদুকরী ব্যবহার শিখুন।
Study Smart, Not Just Hard
AI কে আপনার পার্সোনাল টিউটর হিসেবে ব্যবহার করুন। যেকোনো কঠিন বিষয় বোঝা, নোটস বানানো, কিংবা পরীক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা—সবকিছুই এখন ৩ গুণ দ্রুত!
DOWNLOAD PDF AI GUIDE DAY 1 অধ্যায় ২: নরহরি দাস CLASS NOTES
অধ্যায় ২: নরহরি দাস
— উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
গল্পের সারসংক্ষেপ
গল্পটি একটি ছোট ছাগলছানা ও একটি শিয়ালের বুদ্ধিমত্তার লড়াই নিয়ে। এক ছাগলছানা বনের ধারে ঘাস খেতে খেতে একটি শিয়ালের গর্তে ঢুকে পড়ে। শিয়াল ফিরে এসে গর্তের ভেতর থেকে অদ্ভুত জন্তুর উপস্থিতি টের পায়। ছাগলছানাটি ভয় না পেয়ে বুদ্ধির সাথে নিজেকে 'নরহরি দাস' হিসেবে পরিচয় দেয় এবং বলে যে সে সিংহের মামা এবং পঞ্চাশটি বাঘ তার এক গ্রাস। বুদ্ধির জোরে ছোট ছাগলছানাটি নিজেকে রক্ষা করে।
নরহরি দাসের পরিচয়
"লম্বা লম্বা দাড়ি,
ঘন ঘন নাড়ি।
সিংহের মামা আমি নরহরি দাস,
পঞ্চাশ বাঘে মোর এক এক গ্রাস!"
শব্দার্থ (Vocabulary)
নরহরি
মানুষ ও সিংহ
গ্রাস
একবারের খাবার
আড়ি
শত্রুতা
কড়ি
দাম বা মূল্য
নাজেহাল
খুব হয়রান
হাতে কলমে (প্রশ্নোত্তর)
১. ছাগলছানাটি গর্তের ভেতর থেকে শিয়ালকে কী বলেছিল?
২. বাঘ শিয়ালকে কীভাবে গর্তের কাছে নিয়ে গিয়েছিল?
৩. গল্পের শেষে শিয়ালের কী অবস্থা হয়েছিল?
গল্পের শিক্ষা
শারীরিক শক্তির চেয়ে বুদ্ধির জোর অনেক বেশি। বিপদে ভয় না পেয়ে বুদ্ধির প্রয়োগ করলে বড় বিপদ থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়।
সবার আমি ছাত্র
কবি: সুনির্মল বসু
20 সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (Short Answer Questions)
১. 'সবার আমি ছাত্র' কবিতাটি কার লেখা?
উত্তর: কবিতাটি কবি সুনির্মল বসুর লেখা।
২. আকাশ কবিকে কী শিক্ষা দিল?
উত্তর: আকাশ কবিকে উদার হওয়ার শিক্ষা দিল।
৩. কবি বায়ুর কাছে কী মন্ত্র পান?
উত্তর: কবি বায়ুর কাছে কর্মী হওয়ার মন্ত্র পান।
৪. পাহাড় কবিকে কী হতে শিখায়?
উত্তর: পাহাড় কবিকে মৌন-মহান হতে শিখায়।
৫. কার উপদেশে কবি দিল-খোলা হন?
উত্তর: খোলা মাঠের উপদেশে কবি দিল-খোলা হন।
৬. সূর্য কবিকে কী মন্ত্রণা দেয়?
উত্তর: সূর্য কবিকে আপন তেজে জ্বলতে মন্ত্রণা দেয়।
৭. চাঁদ কবিকে কী শিখাল?
উত্তর: চাঁদ কবিকে মিষ্টি হাসতে ও মধুর কথা বলতে শিখাল।
৮. সাগর কবিকে কী ইঙ্গিত দেয়?
উত্তর: সাগর ইঙ্গিত দেয় যেন অন্তর রত্ন-আকর বা সমৃদ্ধ হয়।
৯. নদীর কাছে কবি কী শিক্ষা পেলেন?
উত্তর: নদীর কাছে কবি আপন বেগে চলার শিক্ষা পেলেন।
১০. মাটির কাছে কবি কী শিক্ষা পেলেন?
উত্তর: মাটির কাছে কবি সহিষ্ণুতা বা সহ্য করার শিক্ষা পেলেন।
১১. পাষাণ কবিকে কী দীক্ষা দিল?
উত্তর: পাষাণ কবিকে আপন কাজে কঠোর হওয়ার দীক্ষা দিল।
১২. ঝরনা কবির প্রাণে কী জাগাল?
উত্তর: ঝরনা তার সহজ গানে কবির প্রাণে গান জাগাল।
১৩. শ্যাম-বনানী কবিকে কী ভিক্ষা দিল?
উত্তর: শ্যাম-বনানী কবিকে সরসতা বা সজীবতা ভিক্ষা দিল।
১৪. কবি বিশ্বকে কীসের সাথে তুলনা করেছেন?
উত্তর: কবি বিশ্বকে একটি পাঠশালার সাথে তুলনা করেছেন।
১৫. কবি কখন নতুন জিনিস শিখছেন?
উত্তর: কবি দিবারাত্র বা সারাক্ষণ নতুন জিনিস শিখছেন।
১৬. 'মৌন' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: 'মৌন' শব্দের অর্থ নীরব বা চুপচাপ থাকা।
১৭. 'পাষাণ' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: 'পাষাণ' শব্দের অর্থ পাথর।
১৮. সুনির্মল বসুর লেখা দুটি বইয়ের নাম লেখো।
উত্তর: ছানাবড়া এবং হইচই।
১৯. 'রত্ন-আকর' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: রত্ন-আকর মানে রত্নের খনি বা ভাণ্ডার।
২০. পৃথিবীটাকে কবি কীসের খাতা বলেছেন?
উত্তর: কবি পৃথিবীকে একটি বিরাট খাতা বলেছেন।
20 রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর (Long Answer Questions)
১. "বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর, সবার আমি ছাত্র" — কবি কেন এমন কথা বলেছেন?
উত্তর: কবি সুনির্মল বসু মনে করেন যে প্রকৃত শিক্ষা কেবল স্কুলের চার দেওয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এই বিশাল পৃথিবীর প্রতিটি উপাদানের মধ্যেই শিক্ষার উপকরণ লুকিয়ে আছে। আকাশ, বাতাস, পাহাড়, নদী, সূর্য, চাঁদ — প্রকৃতির এই সব অংশ আমাদের প্রতিনিয়ত কোনো না কোনো মহৎ শিক্ষা দিয়ে চলেছে। যেহেতু কবি এই পৃথিবীর প্রতিটি জিনিস থেকে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন বিষয় শিখছেন, তাই তিনি নিজেকে এই বিশ্বরূপ পাঠশালার একজন ছাত্র বলে মনে করেছেন।
২. আকাশ ও বায়ু কবিকে কী কী শিক্ষা দেয়? বিস্তারিত লেখো।
উত্তর: কবিতায় কবি প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদানের থেকে প্রাপ্ত শিক্ষার কথা বলেছেন। আকাশ তার সীমাহীন বিস্তৃতি দিয়ে কবিকে 'উদার' বা মহৎ হওয়ার শিক্ষা দেয়। অন্যদিকে, বায়ু বা বাতাস কবিকে অলসতা ত্যাগ করে নিরন্তর কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয়। বায়ুর কাছ থেকে কবি 'কর্মী' হওয়ার মন্ত্র পান, যা তাকে জীবনে সচল ও কর্মঠ থাকতে সাহায্য করে।
৩. পাহাড় ও খোলা মাঠের থেকে প্রাপ্ত শিক্ষার গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তর: পাহাড় অটল ও শান্ত। পাহাড়ের এই গাম্ভীর্য কবিকে 'মৌন-মহান' হতে শেখায়, অর্থাৎ চুপচাপ থেকেও কীভাবে মহৎ কাজ করা যায় তা পাহাড়ের থেকে শেখা যায়। আবার খোলা মাঠের অবারিত প্রান্তর কবিকে 'দিল-খোলা' বা উদারমনা হতে উৎসাহিত করে। সংকীর্ণতা ত্যাগ করে মনকে বড় করার শিক্ষা কবি খোলা মাঠের উপদেশে লাভ করেন।
৪. সূর্য ও চাঁদ মানুষের আচরণে কী প্রভাব ফেলে বলে কবি মনে করেন?
উত্তর: সূর্য নিজের তেজে জগতকে আলোকিত করে। সূর্যের এই গুণ থেকে কবি শিক্ষা নেন নিজের তেজে বা শক্তিতে জ্বলে উঠতে, অর্থাৎ আত্মনির্ভরশীল হতে। অন্যদিকে চাঁদ তার স্নিগ্ধ আলো দিয়ে আমাদের মন শান্ত করে। চাঁদের কাছ থেকে কবি মিষ্টি হাসতে এবং অন্যের সাথে মধুর ভাষায় কথা বলতে শেখেন। এই দুই মহাজাগতিক বস্তু আমাদের ব্যক্তিত্ব গঠনে তেজ ও নম্রতার শিক্ষা দেয়।
৫. "নদীর কাছে শিক্ষা পেলাম আপন বেগে চলতে" — কথাটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: নদী যেমন কোনো বাধা-বিপত্তি মান্য না করে নিজের ছন্দে বা গতিতে পাহাড়-পর্বত পেরিয়ে সাগরের দিকে এগিয়ে চলে, তেমনি মানুষের জীবনও হওয়া উচিত গতিশীল। নদী আমাদের শেখায় যে জীবনের পথে বাধা আসবেই, কিন্তু থেমে না গিয়ে নিজের আত্মবিশ্বাস ও গতি বজায় রেখে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। এই স্বকীয় গতিই সাফল্যের চাবিকাঠি।
৬. সাগর কীভাবে মানুষের অন্তরকে সমৃদ্ধ করার ইঙ্গিত দেয়?
উত্তর: সাগরের অতল গভীরে যেমন অসংখ্য রত্ন লুকিয়ে থাকে, তেমনি মানুষের মনের গভীরতাও হওয়া উচিত অসীম। সাগর কবিকে ইঙ্গিত দেয় যেন মানুষের অন্তর 'রত্ন-আকর' বা রত্নভাণ্ডারের মতো জ্ঞান ও গুণে সমৃদ্ধ হয়। বাইরে থেকে শান্ত থাকলেও ভেতরে যেন মানবিক মূল্যবোধ ও জ্ঞানের প্রাচুর্য থাকে, সাগর আমাদের সেই শিক্ষাই দেয়।
৭. মাটি ও পাথরের থেকে কবি কী কী কঠোর ও কোমল শিক্ষা পেয়েছেন?
উত্তর: মাটি সব আঘাত ও ভার সহ্য করে আমাদের অন্ন জোগায়, তাই মাটির কাছ থেকে কবি পেয়েছেন 'সহিষ্ণুতা' বা সহ্য করার ক্ষমতা। আবার পাথর বা পাষাণ অত্যন্ত শক্ত। পাথর কবিকে শিক্ষা দেয় নিজের আদর্শে ও কাজে 'কঠোর' হতে। অর্থাৎ প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ভেঙে না পড়ে পাথরের মতো দৃঢ় থেকে নিজের কর্তব্য পালন করার দীক্ষা কবি পাথরের থেকে লাভ করেছেন।
৮. ঝরনা এবং শ্যাম-বনানী কবির মনকে কীভাবে সজীব করে তোলে?
উত্তর: ঝরনা তার কলকল ধ্বনিতে বয়ে চলে, যা কবির কানে একটি সহজ গানের মতো মনে হয়। এই ঝরনা কবির মনেও আনন্দের গান জাগিয়ে তোলে। অন্যদিকে 'শ্যাম-বনানী' বা সবুজ বনজঙ্গল তার সজীবতা দিয়ে কবিকে 'সরসতা' বা মনের সজীবতা উপহার দেয়। প্রকৃতির এই রূপ আমাদের মনকে আনন্দময় ও প্রাণবন্ত রাখতে সাহায্য করে।
৯. "এই পৃথিবীর বিরাট খাতায়, পাঠ্য যে সব পাতায় পাতায়" — পঙক্তিটির অর্থ বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: কবি পৃথিবীকে একটি বিশাল বই বা খাতার সাথে তুলনা করেছেন। একটি বইয়ের পাতায় যেমন অনেক তথ্য লেখা থাকে, তেমনি পৃথিবীর প্রতিটি ধূলিকণা, গাছপালা, নদী-নালা এক একটি পাঠ্য বিষয়। প্রকৃতির প্রতিটি পরতে পরতে শিক্ষার উপকরণ ছড়িয়ে আছে। কবি অত্যন্ত কৌতূহলের সাথে সেই সব পাঠ বা শিক্ষা গ্রহণ করছেন, যা কোনো সাধারণ পাঠ্যবইয়ে পাওয়া সম্ভব নয়।
১০. 'সবার আমি ছাত্র' কবিতার মূল ভাববস্তু সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তর: 'সবার আমি ছাত্র' কবিতায় কবি সুনির্মল বসু প্রকৃতিকে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে তুলে ধরেছেন। মানুষ জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রকৃতির সান্নিধ্যে থাকে। আকাশ আমাদের উদারতা, বাতাস কর্মতৎপরতা, পাহাড় গাম্ভীর্য এবং মাটি সহনশীলতা শেখায়। কবি মনে করেন, আমরা যদি চোখ-কান খোলা রাখি, তবে পৃথিবীর প্রতিটি উপাদান থেকে ভালো মানুষ হওয়ার শিক্ষা পেতে পারি। এই নিরন্তর শেখার মানসিকতাই কবিতায় ফুটে উঠেছে।
১১. সহিষ্ণুতা বলতে কী বোঝো? মাটি কীভাবে এই শিক্ষা দেয়?
উত্তর: সহিষ্ণুতা মানে হলো কোনো কষ্ট বা প্রতিকূলতাকে মুখ বুজে সহ্য করার ক্ষমতা। মাটি আমাদের পায়ের নিচে থাকে, আমরা তার ওপর চাষবাস করি, ঘরবাড়ি বানাই, এমনকি তাকে খুঁড়িও। কিন্তু মাটি কোনো প্রতিবাদ না করে সবকিছু সহ্য করে আমাদের আশ্রয় দেয়। মাটির এই অসীম ধৈর্য ও সহ্যশক্তি দেখে কবি সহিষ্ণু হওয়ার শিক্ষা পেয়েছেন।
১২. 'কর্মী হবার মন্ত্র' বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন? বায়ু কীভাবে এই মন্ত্র দেয়?
উত্তর: 'কর্মী হবার মন্ত্র' বলতে কবি নিরলসভাবে কাজ করার প্রেরণা বা ইচ্ছাকে বুঝিয়েছেন। বাতাস বা বায়ু এক মুহূর্তের জন্যও থেমে থাকে না, সে সর্বদা প্রবহমান। বায়ুর এই অবিরাম বয়ে চলা দেখে কবি অনুপ্রাণিত হন যে, মানুষেরও উচিত অলসতা ত্যাগ করে সবসময় কর্মতৎপর থাকা। বায়ুর এই গতিশীলতাই হলো কর্মী হওয়ার আসল মন্ত্র।
১৩. "অন্তর হোক রত্ন-আকর" — এই কামনার মাধ্যমে কবির কোন মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে?
উত্তর: এই কামনার মাধ্যমে কবির জ্ঞানপিপাসু ও গুণগ্রাহী মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে। সাগরের ভেতরে যেমন মূল্যবান রত্ন থাকে, কবি চান মানুষের মনও যেন কেবল বাইরের চাকচিক্যে না ভুলে ভেতরের সদ্গুণ, জ্ঞান এবং দয়া-মায়ার মতো রত্নে পূর্ণ থাকে। মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার অন্তরের সম্পদে — এই সত্যটিই কবি এখানে তুলে ধরেছেন।
১৪. প্রকৃতির পাঠশালায় কবি কীভাবে শিক্ষা গ্রহণ করছেন?
উত্তর: কবি প্রকৃতির পাঠশালায় অত্যন্ত কৌতূহল ও নিষ্ঠার সাথে শিক্ষা গ্রহণ করছেন। তিনি দিবারাত্র বা সারাক্ষণ প্রকৃতির প্রতিটি পরিবর্তন ও বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি কেবল দেখেন না, বরং সেই শিক্ষাগুলো নিজের জীবনে প্রয়োগ করার চেষ্টা করেন। পৃথিবীর প্রতিটি পাতায় ছড়িয়ে থাকা এই বিচিত্র শিক্ষা তিনি কোনো সন্দেহ ছাড়াই সানন্দে গ্রহণ করছেন।
১৫. 'মৌন-মহান' কথাটির অর্থ কী? পাহাড়ের প্রসঙ্গে এটি কেন ব্যবহার করা হয়েছে?
উত্তর: 'মৌন-মহান' মানে হলো নীরবে বা চুপ থেকে মহত্ত্ব প্রদর্শন করা। পাহাড় আকাশের দিকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকে, কিন্তু সে কোনো কথা বলে না। পাহাড়ের এই শান্ত ও গম্ভীর রূপ আমাদের শেখায় যে, বড় হতে হলে সবসময় চিৎকার বা আস্ফালন করার প্রয়োজন নেই; নিজের কাজ ও ব্যক্তিত্বের মাধ্যমেই মহান হওয়া যায়। তাই পাহাড়ের এই গাম্ভীর্য বোঝাতে শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।
১৬. সুনির্মল বসুর কবি হিসেবে বৈশিষ্ট্য 'সবার আমি ছাত্র' কবিতার নিরিখে আলোচনা করো।
উত্তর: সুনির্মল বসু মূলত শিশুসাহিত্যিক। তাঁর লেখায় প্রকৃতি ও মানুষের সহজ সম্পর্কের কথা ফুটে ওঠে। এই কবিতায় তাঁর পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা অত্যন্ত গভীর। তিনি প্রকৃতির জড় ও জীবন্ত বস্তুর মধ্যে মানবিক গুণাবলি খুঁজে পেয়েছেন। সহজ-সরল ভাষায় গভীর জীবনদর্শন প্রচার করা তাঁর কবিতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য, যা শিশুদের মনে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জাগিয়ে তোলে।
১৭. "আপন কাজে কঠোর হতে পাষাণ দিল দীক্ষা" — পাষাণ কীভাবে এই দীক্ষা দেয়?
উত্তর: পাষাণ বা পাথর অত্যন্ত কঠিন ও দৃঢ়। সে রোদ, বৃষ্টি, ঝড় সবকিছুতে নিজের জায়গায় অটল থাকে। কবি পাথরের এই গুণটি থেকে শিক্ষা নিয়েছেন যে, নিজের কর্তব্য পালন করার সময় বা কোনো কঠিন লক্ষ্য অর্জনের পথে আমাদেরও পাথরের মতো দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হতে হবে। আলগা আবেগ বা দুর্বলতায় গা না ভাসিয়ে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের লক্ষ্যে স্থির থাকাই হলো পাথরের দেওয়া দীক্ষা।
১৮. শ্যাম-বনানী কীভাবে আমাদের মনে 'সরসতা' ফিরিয়ে আনে?
উত্তর: শ্যাম-বনানী বা সবুজ বনভূমি সজীবতার প্রতীক। যান্ত্রিক জীবনে মানুষ যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন বনের সবুজ ছায়া ও সজীবতা মনে প্রশান্তি আনে। বন যেমন সবসময় সতেজ থাকে, তেমনি সে আমাদের শেখায় মনকে শুষ্ক বা নিরস না রেখে আনন্দ ও রসবোধে পূর্ণ রাখতে। এই সজীবতাই হলো কবির ভাষায় 'সরসতা'।
১৯. 'সবার আমি ছাত্র' কবিতাটি পাঠ করে তুমি প্রকৃতি সম্পর্কে কী নতুন ধারণা পেলে?
উত্তর: এই কবিতাটি পাঠ করে আমি শিখলাম যে প্রকৃতি কেবল উপভোগের বস্তু নয়, এটি একটি বিশাল জ্ঞানের ভাণ্ডার। আমরা সচরাচর আকাশ বা নদীকে কেবল প্রাকৃতিক দৃশ্য হিসেবে দেখি, কিন্তু কবি দেখিয়েছেন এগুলোর প্রতিটি আমাদের চরিত্র গঠনে সাহায্য করতে পারে। প্রকৃতি আমাদের ধৈর্য, উদারতা, কঠোরতা এবং নম্রতা — সবকিছুরই শিক্ষা দেয়। প্রকৃতিই হলো আমাদের আদি ও অকৃত্রিম শিক্ষক।
২০. কবিতার শেষ স্তবকে কবির যে কৌতূহলী মনের পরিচয় পাওয়া যায়, তা বর্ণনা করো।
উত্তর: কবিতার শেষ স্তবকে কবি জানিয়েছেন যে তিনি এই পৃথিবীর বিরাট খাতার প্রতিটি পাতায় ছড়িয়ে থাকা শিক্ষাগুলো অত্যন্ত কৌতূহলের সাথে শিখছেন। তাঁর মনে কোনো সন্দেহ নেই যে এই পৃথিবীই শ্রেষ্ঠ পাঠশালা। তিনি দিবারাত্র নতুন কিছু শেখার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকেন। কবির এই নিরন্তর শেখার ইচ্ছা এবং অজানাকে জানার আগ্রহই তাঁকে একজন আদর্শ ছাত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
DAY 2 অধ্যায় ২: নরহরি দাস MOCK TEST
WBBSE AI Engine - Mock Test
শ্রেণী: নবম | বিষয়: বাংলা (প্রথম ভাষা)
পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে!
DAY 3 অধ্যায় ২: নরহরি দাস ONLINE EXAM
WBBSE Online Examination
বিষয়: বাংলা (পাতাবাহার)
অধ্যায় ২: নরহরি দাস — উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
ফলাফল
তুমি MCQ অংশে এই নম্বর পেয়েছ। বড় প্রশ্নগুলো নমুনা উত্তরের সাথে মিলিয়ে নিজের মূল্যায়ন করো।
DAY 4 অধ্যায় ২: নরহরি দাস Revision + Mistake Analysis Active Recall
অধ্যায় ২: নরহরি দাস
— উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
Common Conceptual Mistakes & Pitfalls
| ভুল ধারণা (Common Mistake) | সঠিক ধারণা (Correction) |
|---|---|
| "নরহরি দাস" আসলে বনের কোনো ভয়ংকর জন্তুর নাম। | এটি ছাগলছানার তৈরি একটি কাল্পনিক নাম। শিয়ালকে ভয় দেখানোর জন্য সে নিজেকে 'সিংহের মামা' ও 'নরহরি দাস' বলে পরিচয় দিয়েছিল। |
| বাঘ শিয়ালকে ভয় পেয়ে একা পালিয়ে গিয়েছিল। | বাঘ একা পালায়নি; সে শিয়ালের লেজের সাথে নিজের লেজ বেঁধে নিয়ে এসেছিল যাতে শিয়াল পালাতে না পারে। পালানোর সময় শিয়ালকেও টেনে নিয়ে গিয়েছিল। |
| 'কড়ি' মানে এখানে সমুদ্রের কড়ি বা শামুক বোঝানো হয়েছে। | গল্পে 'কড়ি' বলতে মূল্য বা দাম বোঝানো হয়েছে (যেমন: "দশ বাঘের কড়ি" অর্থাৎ দশটি বাঘের পাওনা বা দাম)। |
| বাঘ ছাগলছানাকে দেখে ভয় পেয়েছিল। | বাঘ ছাগলছানাকে দেখে নয়, বরং ছাগলছানার কথা শুনে ভয় পেয়েছিল। সে ভেবেছিল শিয়াল তাকে ফাঁকি দিয়ে নরহরি দাসের খাবার হিসেবে নিয়ে এসেছে। |
Power Revision Summary
মূল চরিত্র: বুদ্ধিমান ছাগলছানা, বোকা শিয়াল এবং ভীতু বাঘ।
ছাগলছানার কৌশল: বিপদে ঘাবড়ে না গিয়ে নিজেকে 'সিংহের মামা' হিসেবে পরিচয় দিয়ে শিয়ালকে ভয় পাইয়ে দেওয়া।
পরিচয় কবিতা: "লম্বা লম্বা দাড়ি, ঘন ঘন নাড়ি। সিংহের মামা আমি নরহরি দাস, পঞ্চাশ বাঘে মোর এক এক গ্রাস!" (এটি মুখস্থ রাখা জরুরি)।
লেজ বাঁধার কারণ: শিয়াল যাতে ভয়ে বাঘকে ফেলে পালিয়ে না যায়, তাই বাঘ শিয়ালের লেজের সাথে নিজের লেজ বেঁধেছিল।
চূড়ান্ত চাল: ছাগলছানা বাঘকে বলে যে সে ১০টি বাঘ চেয়েছিল কিন্তু শিয়াল মাত্র ১টি এনেছে। এতে বাঘ বিশ্বাস করে শিয়াল তাকে ঠকিয়েছে।
মূল শিক্ষা: শারীরিক শক্তির চেয়ে বুদ্ধির জোর অনেক বেশি। উপস্থিত বুদ্ধি বড় বিপদ থেকে বাঁচায়।
দ্রুত শব্দার্থ (Quick Vocabulary):
নবম শ্রেণী বাংলা (WBBSE)
ব্যাকরণ ও নির্মিতি (Grammar & Writing)
বিষয়সংক্ষেপ
এই অধ্যায়ে নবম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণের ধ্বনি পরিবর্তন এবং শব্দ গঠন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও অনুশীলনী দেওয়া হয়েছে।
২.১ ধ্বনি ও ধ্বনি পরিবর্তন
প্রধান প্রক্রিয়া ও উদাহরণ:
উচ্চারণের সুবিধার জন্য যুক্ত ব্যঞ্জনের মাঝে স্বরধ্বনির আগমন।
শব্দের শেষে থাকা 'ই' বা 'উ' কার আগেই উচ্চারিত হয়।
অপিনিহিতি জাত ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে পূর্ববর্তী স্বরের সাথে মিলে যাওয়া।
শব্দের মধ্যে পাশাপাশি দুটি সমধ্বনি থাকলে একটির লোপ পাওয়া।
শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের স্থান পরিবর্তন।
নিজেকে যাচাই করো (Test Yourself) - ১০টি প্রশ্ন
নিচের শব্দগুলিতে কোন ধ্বনি পরিবর্তন ঘটেছে তা নির্ণয় করো:
২.২ শব্দ গঠন (Word Formation)
ক) উপসর্গ (Prefix)
শব্দের বা ধাতুর আগে বসে নতুন অর্থ তৈরি করে।
খ) অনুসর্গ (Postposition)
বিশেষ্য বা সর্বনামের পরে বসে বিভক্তির মতো কাজ করে।
গ) ধাতু ও প্রত্যয় (Root & Suffix)
| বিষয় | সংজ্ঞা ও উদাহরণ |
|---|---|
| কৃৎ প্রত্যয় | ধাতুর পরে বসে। (উদা: চল্ + অন্ত = চলন্ত) |
| তদ্ধিত প্রত্যয় | শব্দের পরে বসে। (উদা: ঢাকা + আই = ঢাকাই) |
নিজেকে যাচাই করো (Test Yourself) - ৮টি প্রশ্ন
নির্দেশ অনুসারে উত্তর দাও:
৩ নির্মিতি: ভাব-সম্প্রসারণ
নিয়মাবলী:
- মূল ভাবটিকে সহজ ভাষায় সংক্ষেপে বলতে হবে।
- উদাহরণ বা যুক্তির সাহায্যে বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা করতে হবে।
- শেষে একটি ছোট উপসংহার বা মন্তব্য দিতে হবে।
- পুনরাবৃত্তি বর্জন করতে হবে।
উদাহরণ (নমুনা):
"শৈবাল দিঘিরে বলে উচ্চ করি শির / লিখে রেখো এক ফোঁটা দিলেম শিশির।"
মূল ভাব: সামান্য দানে গর্বিত হওয়া এবং অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা নীচ মনের পরিচয়।
সম্প্রসারিত ভাব: দিঘির অসীম জলরাশির ওপর শৈবাল বা শ্যাওলা ভেসে থাকে। দিঘির জলেই শৈবালের জীবন রক্ষা হয়। কিন্তু ভোরের এক ফোঁটা শিশির যখন শৈবালের গায় জমে, তখন সে দিঘিকে তুচ্ছ জ্ঞান করে গর্বের সাথে বলে যে সে দিঘিকে এক ফোঁটা শিশির দান করেছে। বাস্তবে দিঘির অঢেল দানকে সে অস্বীকার করে। সমাজের কিছু মানুষ অন্যের অসীম উপকারের কথা ভুলে গিয়ে সামান্য কিছু করলে তা বড় করে প্রচার করে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।
অনুশীলনী (Practice Test) - ৮টি বিষয়
নিচের পঙ্ক্তিগুলির ভাব-সম্প্রসারণ অভ্যাস করো:
- মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে।
- অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে / তব ঘৃণা যেন তারে তৃণসম দহে।
- আত্মশক্তি অর্জনই শিক্ষার উদ্দেশ্য।
- দন্ডের সাথে দন্ডদাতা / কাঁদে যবে সমান আঘাতে সর্বশ্রেষ্ঠ সে বিচার।
- বিশ্রাম কাজের অঙ্গ একসাথে গাঁথা / নয়নের অংশ যেন নয়নের পাতা।
- পরের অনিষ্ট চিন্তা করে যেই জন / নিজের অনিষ্ট বীজ করে সে বপন।
- বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।
- গ্রন্থগত বিদ্যা আর পরহস্তে ধন / নহে বিদ্যা, নহে ধন হলে প্রয়োজন।
DAY 5 অধ্যায় ২: নরহরি দাস Teaching Revision & Mistake Analysis
অধ্যায় ২: নরহরি দাস
— উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
১. Blind Questions (স্মৃতি পরীক্ষা)
১. 'নরহরি দাস' গল্পটির লেখক কে?
২. ছাগলছানাটি কোথায় ঘাস খেতে গিয়েছিল?
৩. শিয়াল যখন নিমন্ত্রণ খেতে গিয়েছিল, তখন তার গর্তে কে ঢুকে পড়েছিল?
৪. ছাগলছানাটি নিজেকে কার মামা বলে পরিচয় দিয়েছিল?
৫. ছাগলছানাটির মতে তার এক এক গ্রাসে কয়টি বাঘ লাগে?
৬. শিয়াল ভয় পেয়ে কার কাছে সাহায্য চাইতে গিয়েছিল?
৭. বাঘ শিয়ালকে কীভাবে নিজের সাথে বেঁধে গর্তে নিয়ে এসেছিল?
৮. ছাগলছানাটি বাঘকে দেখে কী বলেছিল?
৯. বাঘ কেন প্রাণভয়ে দৌড়াতে শুরু করেছিল?
১০. 'নরহরি' শব্দের অর্থ কী?
১১. 'নাজেহাল' কথাটির অর্থ কী?
১২. 'কড়ি' বলতে গল্পে কী বোঝানো হয়েছে?
১৩. গল্পের শেষে শিয়ালের অবস্থা কেমন হয়েছিল?
১৪. ছাগলছানাটি নিজেকে কী নামে পরিচয় দিয়েছিল?
১৫. এই গল্প থেকে আমরা কী শিক্ষা পাই?
২. The Feynman Method (সহজ ব্যাখ্যা)
৫ বছরের শিশুকে বোঝানোর স্ক্রিপ্ট:
"শোনো, একটা ছোট্ট ছাগলছানা ছিল। সে খুব বুদ্ধিমান! একদিন সে বনের ধারে ঘাস খেতে খেতে একটা শিয়ালের গর্তে ঢুকে পড়ে। শিয়াল যখন ফিরে এল, ছাগলছানাটি ভয় না পেয়ে গম্ভীর গলায় বলল, 'আমি নরহরি দাস, সিংহের মামা! আমি একবারে ৫০টা বাঘ খাই!' শিয়াল তো ভয়ে অস্থির! সে বাঘকে ডেকে আনল। কিন্তু ছাগলছানাটি আবার বুদ্ধি খাটিয়ে বলল, 'কিরে শিয়াল, তোকে ১০টা বাঘ আনতে বলেছিলাম, তুই একটা আনলি?' এটা শুনে বাঘ ভাবল শিয়াল তাকে ফাসিয়েছে, তাই সে দৌড়ে পালাল। ছোট্ট ছাগলটি তার বুদ্ধি দিয়ে বড় বাঘ আর শিয়ালকে হারিয়ে দিল। মানে, বুদ্ধি থাকলে যে কোনো বিপদ থেকে বাঁচা যায়!"
৩. Spaced Repetition Schedule (রিভিশন প্ল্যান)
শব্দার্থ (যেমন: নরহরি, গ্রাস, নাজেহাল) এবং ছাগলছানার বলা সেই বিখ্যাত ছড়াটি মুখস্থ বলো।
শিয়াল ও বাঘের কথোপকথন এবং বাঘ কেন ভয় পেয়ে পালিয়েছিল সেই অংশটি মনে করার চেষ্টা করো।
পুরো গল্পের সারসংক্ষেপ নিজের ভাষায় লেখো এবং গল্পের মূল শিক্ষাটি বাস্তব জীবনে কীভাবে কাজে লাগে তা ভাবো।
WBBSE AI Engine • Active Recall Toolkit • Class IV Bengali