অধ্যায়: পরিবেশের উপাদান : জীবজগৎ
সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (Short Answer Questions)
SAQ-1
১. জীব ও জড় পদার্থের মূল পার্থক্য কী?
উত্তর: জীবদের প্রাণ আছে, তারা নিজেরা নড়াচড়া করতে পারে, খাবার খায় এবং বংশবৃদ্ধি করে। কিন্তু জড় পদার্থের প্রাণ নেই, তারা নিজেরা নড়াচড়া করতে পারে না এবং খাবারও খায় না।
SAQ-2
২. উদ্ভিদ ও প্রাণীর মধ্যে একটি প্রধান পার্থক্য লেখো।
উত্তর: উদ্ভিদরা সাধারণত এক জায়গায় স্থির থাকে এবং নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, প্রাণীরা চলাফেরা করতে পারে কিন্তু খাদ্যের জন্য উদ্ভিদের ওপর নির্ভর করে।
SAQ-3
৩. 'খাদ্যশৃঙ্খল' বলতে কী বোঝো?
উত্তর: পরিবেশে এক জীব অন্য জীবকে খেয়ে বেঁচে থাকে। যেমন ঘাস খায় ফড়িং, ফড়িংকে খায় ব্যাঙ, ব্যাঙকে খায় সাপ। খাদ্যের এই ক্রমিক সম্পর্ককে খাদ্যশৃঙ্খল বলে।
SAQ-4
৪. দুটি জলজ উদ্ভিদের নাম লেখো।
উত্তর: দুটি জলজ উদ্ভিদ হলো— পদ্ম এবং শাপলা।
SAQ-5
৫. মরুভূমিতে জন্মায় এমন একটি গাছের নাম ও বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: ফনীমনসা বা ক্যাকটাস। এদের গায়ে কাঁটা থাকে এবং কাণ্ড রসালো হয় যাতে জল সঞ্চয় করে রাখতে পারে।
SAQ-6
৬. অণুবীক্ষণ যন্ত্র বা মাইক্রোস্কোপ কী কাজে লাগে?
উত্তর: যেসব অতি ক্ষুদ্র জীব বা বস্তুকে খালি চোখে দেখা যায় না, তাদের বড় করে দেখার জন্য অণুবীক্ষণ যন্ত্র বা মাইক্রোস্কোপ ব্যবহার করা হয়।
SAQ-7
৭. মেরুদণ্ডী প্রাণী কাদের বলা হয়?
উত্তর: যেসব প্রাণীর শরীরে শিরদাঁড়া বা মেরুদণ্ড আছে, তাদের মেরুদণ্ডী প্রাণী বলা হয়। যেমন— মানুষ, মাছ, কুকুর।
SAQ-8
৮. অমেরুদণ্ডী প্রাণী কাদের বলা হয়?
উত্তর: যেসব প্রাণীর শরীরে শিরদাঁড়া বা মেরুদণ্ড নেই, তাদের অমেরুদণ্ডী প্রাণী বলা হয়। যেমন— কেঁচো, চিংড়ি, আরশোলা।
SAQ-9
৯. পাখিদের হাড় কেমন হয় এবং কেন?
উত্তর: পাখিদের হাড় ফাঁপা ও হালকা হয়। হাড়ের ভেতরে বাতাস ভরা থলি থাকে, যা তাদের আকাশে উড়তে সাহায্য করে।
SAQ-10
১০. হাঁসের পায়ের আঙুলগুলো জোড়া থাকে কেন?
উত্তর: হাঁস জলে সাঁতার কাটে। পায়ের আঙুলগুলো পাতলা চামড়া দিয়ে জোড়া থাকায় (লিপ্তপদ) তারা সহজেই জল ঠেলে এগিয়ে যেতে পারে।
SAQ-11
১১. গিরগিটি কীভাবে নিজেকে শত্রুর হাত থেকে বাঁচায়?
উত্তর: গিরগিটি পরিবেশের রঙের সাথে মিলিয়ে নিজের গায়ের রং পরিবর্তন করতে পারে, ফলে শত্রুরা তাকে সহজে দেখতে পায় না।
SAQ-12
১২. সজারুর গায়ের কাঁটা আসলে কী?
উত্তর: সজারুর গায়ের কাঁটা হলো শক্ত ও সুঁচালো লোম, যা তাদের শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
SAQ-13
১৩. 'লিপ্তপদ' দেখা যায় এমন দুটি প্রাণীর নাম লেখো।
উত্তর: হাঁস এবং ব্যাঙ-এর পায়ে লিপ্তপদ দেখা যায়।
SAQ-14
১৪. বিলুপ্ত হয়ে গেছে এমন দুটি প্রাণীর নাম লেখো।
উত্তর: মরিশাসের ডোডো পাখি এবং হিমালয়ের বামন তিতির।
SAQ-15
১৫. বর্তমানে বিপন্ন বা হারিয়ে যেতে চলেছে এমন দুটি প্রাণীর নাম লেখো।
উত্তর: রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার এবং একশৃঙ্গ গণ্ডার।
SAQ-16
১৬. সংরক্ষণ বা কনজারভেশন বলতে কী বোঝো?
উত্তর: যে কারণে কোনো জীবের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, সেই কারণগুলো যাতে না ঘটে তার ব্যবস্থা করা এবং তাদের টিকিয়ে রাখার প্রচেষ্টাকে সংরক্ষণ বা কনজারভেশন বলে।
SAQ-17
১৭. চোরাশিকারিরা বাঘ শিকার করে কেন?
উত্তর: বাঘের সুন্দর চামড়া, নখ এবং হাড়ের লোভে চোরাশিকারিরা বাঘ শিকার করে।
SAQ-18
১৮. পতঙ্গ বা পোকাদের চেনার উপায় কী?
উত্তর: পতঙ্গদের সাধারণত তিনটি অংশ (মাথা, বুক, পেট), তিন জোড়া পা এবং মাথায় এক জোড়া শুঁড় বা অ্যান্টেনা থাকে।
SAQ-19
১৯. পাহাড়ি অঞ্চলে দেখা যায় এমন একটি গাছের নাম লেখো।
উত্তর: পাইন গাছ পাহাড়ি অঞ্চলে দেখা যায়।
SAQ-20
২০. এমন একটি প্রাণীর নাম লেখো যার লেজ কেটে গেলে আবার গজায়।
উত্তর: টিকটিকি। এদের লেজ কেটে গেলে কিছুদিন পর আবার নতুন লেজ গজায়।
দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (Long Answer Questions)
LAQ-1
১. জীব ও জড় পদার্থের মধ্যে তিনটি মূল পার্থক্য আলোচনা করো।
উত্তর:- প্রাণ: জীবের প্রাণ আছে, কিন্তু জড় পদার্থের প্রাণ নেই।
- বংশবৃদ্ধি: জীব বংশবৃদ্ধি করতে পারে অর্থাৎ নিজের মতো অপত্যের জন্ম দেয়। জড় পদার্থ বংশবৃদ্ধি করতে পারে না।
- খাদ্যগ্রহণ ও বৃদ্ধি: জীব বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য গ্রহণ করে এবং ছোট থেকে বড় হয়। জড় পদার্থ খাবার খায় না এবং নিজে থেকে বড় হয় না।
LAQ-2
২. উদ্ভিদ ও প্রাণীরা কীভাবে একে অপরের ওপর নির্ভরশীল?
উত্তর: প্রাণীরা খাদ্যের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল (যেমন হরিণ ঘাস খায়, বাঘ হরিণ খায়)। আবার শ্বাসকার্যের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন প্রাণীরা উদ্ভিদ থেকে পায়। অন্যদিকে, উদ্ভিদরা কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে যা প্রাণীরা ত্যাগ করে। এছাড়া পরাগমিলন ও বীজ বিস্তারের জন্য অনেক উদ্ভিদ প্রাণীদের ওপর নির্ভর করে।
LAQ-3
৩. একটি পুকুরের খাদ্যশৃঙ্খল উদাহরণসহ বর্ণনা করো।
উত্তর: পুকুরে প্রথমে ছোট ছোট শ্যাওলা বা জলজ উদ্ভিদ জন্মায়। জলের ছোট পোকা বা মাছ সেই শ্যাওলা খায়। আবার বড় মাছ সেই ছোট পোকা বা ছোট মাছদের খেয়ে বেঁচে থাকে। সবশেষে মাছরাঙা বা বক সেই বড় মাছ শিকার করে খায়।
উদাহরণ: শ্যাওলা → ছোট মাছ → বড় মাছ → মাছরাঙা।
LAQ-4
৪. জলজ উদ্ভিদ ও মরুভূমির উদ্ভিদের গঠনগত পার্থক্য কী?
উত্তর: জলজ উদ্ভিদের (যেমন পদ্ম) কাণ্ড সাধারণত নরম ও ফাঁপা হয় যাতে জলে ভাসতে পারে এবং পাতাগুলো চ্যাপ্টা হয়। অন্যদিকে, মরুভূমির উদ্ভিদের (যেমন ক্যাকটাস) কাণ্ড রসালো ও সবুজ হয় জল সঞ্চয় করার জন্য এবং পাতাগুলো কাঁটায় রূপান্তরিত হয় যাতে জল বাষ্প হয়ে উড়ে না যায়।
LAQ-5
৫. পাখিরা কীভাবে আকাশে ওড়ে? তাদের শরীরের বিশেষ গঠনটি লেখো।
উত্তর: পাখিদের শরীর মাকু আকৃতির হয় যা বাতাস কেটে এগোতে সাহায্য করে। তাদের সামনের পা দুটি ডানায় রূপান্তরিত হয়েছে। হাড়গুলো ফাঁপা ও হালকা এবং শরীরের ভেতরে বায়ুথলি থাকে, যা শরীরকে হালকা রাখে। এই বিশেষ গঠনের কারণেই পাখিরা সহজে আকাশে উড়তে পারে।
LAQ-6
৬. মাছের শ্বাসকার্য ও চলাচলের জন্য কী কী অঙ্গ থাকে?
উত্তর: মাছের শ্বাসকার্যের জন্য 'ফুলকা' থাকে, যার সাহায্যে তারা জল থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে। চলাচলের জন্য মাছের শরীরে বিভিন্ন ধরণের 'পাকনা' থাকে যা সাঁতার কাটতে ও দিক পরিবর্তন করতে সাহায্য করে। এছাড়া তাদের শরীর পিচ্ছিল আঁশ দিয়ে ঢাকা থাকে যা জলের মধ্যে চলাচলে সুবিধা দেয়।
LAQ-7
৭. প্রাণীরা কেন এবং কীভাবে নিজেদের রং পরিবর্তন করে? উদাহরণ দাও।
উত্তর: আত্মরক্ষা বা শিকার ধরার জন্য কিছু প্রাণী নিজেদের গায়ের রং পরিবর্তন করে পরিবেশের সাথে মিশে যায়, একে 'ক্যামোফ্লেজ' বা ছদ্মবেশ বলে।
উদাহরণ: গিরগিটি গাছের পাতা বা ডালের রঙের সাথে মিলিয়ে নিজের রং বদলায় যাতে শত্রুরা তাকে দেখতে না পায়।
LAQ-8
৮. বিভিন্ন প্রাণী কীভাবে আত্মরক্ষা করে? তিনটি উদাহরণ দাও।
উত্তর:- সজারু: এদের গায়ের লোমগুলো শক্ত কাঁটায় পরিণত হয়েছে। ভয় পেলে এরা কাঁটা খাড়া করে দেয়।
- কচ্ছপ: এদের পিঠে শক্ত খোলস থাকে। বিপদ বুঝলে এরা হাত-পা ও মুখ খোলসের মধ্যে ঢুকিয়ে নেয়।
- গণ্ডার: এদের নাকের ডগায় শক্ত খড়্গ থাকে যা দিয়ে এরা শত্রুকে আক্রমণ করতে পারে।
LAQ-9
৯. বাঘ কেন বিপন্ন বা বিলুপ্তপ্রায় হয়ে যাচ্ছে?
উত্তর: মানুষ জঙ্গল কেটে ফেলার ফলে বাঘের থাকার জায়গা কমে যাচ্ছে। জঙ্গলে হরিণ ও বুনো শুয়োরের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বাঘের খাবারের অভাব দেখা দিচ্ছে। এছাড়া চোরাশিকারিরা চামড়া, নখ ও হাড়ের লোভে বাঘ হত্যা করছে। এসব কারণে বাঘের সংখ্যা কমে তারা বিপন্ন হয়ে পড়েছে।
LAQ-10
১০. ডোডো পাখি কেন পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেল?
উত্তর: ডোডো পাখি ভারত মহাসাগরের মরিশাস দ্বীপে থাকত। এরা উড়তে পারত না। বিদেশি নাবিকরা দ্বীপে এসে প্রচুর ডোডো পাখি মেরে ফেলে এবং তাদের সাথে আসা কুকুর, ইঁদুর ও বিড়াল ডোডো পাখির ডিম ও বাচ্চা খেয়ে ফেলে। আত্মরক্ষার উপায় না থাকায় ডোডো পাখি পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায়।
LAQ-11
১১. মেরুদণ্ডী ও অমেরুদণ্ডী প্রাণীর পার্থক্য কী? উদাহরণসহ লেখো।
উত্তর:- মেরুদণ্ডী: এদের শরীরে শিরদাঁড়া বা মেরুদণ্ড থাকে। শরীরের গঠন শক্ত হয়। উদাহরণ: মানুষ, বাঘ, মাছ।
- অমেরুদণ্ডী: এদের শরীরে শিরদাঁড়া থাকে না। শরীর সাধারণত নরম হয়। উদাহরণ: কেঁচো, মশা, শামুক।
LAQ-12
১২. পোকা বা পতঙ্গদের শরীরের গঠন বর্ণনা করো।
উত্তর: পোকা বা পতঙ্গদের শরীর তিনটি অংশে বিভক্ত— মাথা, বুক এবং পেট। এদের সাধারণত তিন জোড়া (মোট ৬টি) পা থাকে। অনেকের ডানা থাকে যা দিয়ে তারা উড়তে পারে। মাথার সামনে এক জোড়া শুঁড় বা অ্যান্টেনা থাকে যা দিয়ে তারা ঘ্রাণ নেয় বা পরিবেশ অনুভব করে।
LAQ-13
১৩. ব্যাঙ এবং কচ্ছপের মধ্যে মিল ও অমিল লেখো।
উত্তর:- মিল: উভয়েই জলে ও ডাঙায় থাকতে পারে (উভচর স্বভাবের)। উভয়েই ডিম পাড়ে।
- অমিল: কচ্ছপের পিঠে শক্ত খোলস থাকে, ব্যাঙের থাকে না। কচ্ছপ বুকে ভর দিয়ে চলে (সরীসৃপ), ব্যাঙ লাফিয়ে চলে।
LAQ-14
১৪. বর্তমানে হারিয়ে যাচ্ছে এমন চারটি প্রাণীর নাম ও তাদের বিপন্ন হওয়ার কারণ লেখো।
উত্তর: ১. রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার: জঙ্গল ধ্বংস ও চোরাশিকার।
২. একশৃঙ্গ গণ্ডার: খড়্গের জন্য শিকার ও বাসস্থান ধ্বংস।
৩. অলিভ রিডলে কচ্ছপ: সমুদ্রের দূষণ ও ডিম নষ্ট হওয়া।
৪. কৃষ্ণসার হরিণ: বাসস্থান কমে যাওয়া ও শিকার।
LAQ-15
১৫. পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় জীবজগতের ভূমিকা কী?
উত্তর: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় জীবজগৎ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদ্ভিদরা অক্সিজেন দেয় ও কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে বাতাস শুদ্ধ রাখে। খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে প্রাণীরা একে অপরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে। যেমন— ব্যাঙ পোকা খেয়ে ফসলের ক্ষতি কমায়, আবার সাপ ব্যাঙ খেয়ে তাদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখে। কোনো একটি জীব হারিয়ে গেলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়।
LAQ-16
১৬. কেঁচো এবং সাপের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: কেঁচো একটি অমেরুদণ্ডী প্রাণী, এর মেরুদণ্ড নেই এবং শরীর আংটির মতো খণ্ড খণ্ড অংশ দিয়ে তৈরি। সাপ একটি মেরুদণ্ডী প্রাণী (সরীসৃপ), এর মেরুদণ্ড আছে এবং শরীর আঁশ দিয়ে ঢাকা। কেঁচো মাটির নিচে থাকে ও মাটি খায়, সাপ সাধারণত ছোট প্রাণী খায়।
LAQ-17
১৭. পাহাড়ি অঞ্চলের গাছপালা (যেমন পাইন) সমতলের গাছপালার চেয়ে আলাদা কেন?
উত্তর: পাহাড়ি অঞ্চলে ঠান্ডা বেশি এবং মাঝে মাঝে বরফ পড়ে। তাই সেখানকার গাছগুলো (যেমন পাইন, ফার) মোচাকৃতি বা শঙ্কু আকৃতির হয় যাতে বরফ জমে না থাকে এবং গড়িয়ে পড়ে যায়। এদের পাতাগুলোও সুঁচালো হয়। সমতলের গাছপালা (যেমন আম, বট) সাধারণত গম্বুজাকার হয় এবং পাতা চওড়া হয়।
LAQ-18
১৮. "সবুজ গাছপালা না থাকলে প্রাণীরা বাঁচত না"—উক্তিটি বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: সবুজ উদ্ভিদ সূর্যের আলো ব্যবহার করে সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করে এবং বাতাসে অক্সিজেন ত্যাগ করে। প্রাণীরা শ্বাসকার্যের জন্য এই অক্সিজেনের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। এছাড়া তৃণভোজী প্রাণীরা সরাসরি উদ্ভিদ খেয়ে বাঁচে এবং মাংসাশী প্রাণীরা তৃণভোজীদের খেয়ে বাঁচে। তাই উদ্ভিদ না থাকলে খাদ্যাভাব ও অক্সিজেনের অভাবে প্রাণীরা বাঁচত না।
LAQ-19
১৯. বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য আমরা কী কী করতে পারি?
উত্তর: ১. জঙ্গল বা বনভূমি কাটা বন্ধ করতে হবে।
২. বন্যপ্রাণীদের শিকার করা বা মারা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।
৩. জলাশয় ও পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখতে হবে।
৪. লুপ্তপ্রায় প্রাণীদের জন্য অভয়ারণ্য বা সংরক্ষিত বনাঞ্চল তৈরি করতে হবে।
LAQ-20
২০. আমাদের চারপাশে থাকা বিভিন্ন ধরণের উদ্ভিদের (জলজ, কাঁটাযুক্ত, লতানো) উদাহরণসহ তালিকা তৈরি করো।
উত্তর:- জলজ উদ্ভিদ: পদ্ম, শাপলা, কচুরিপানা (জলে জন্মায়)।
- কাঁটাযুক্ত উদ্ভিদ: ফনীমনসা, বাবলা, গোলাপ (কাঁটা থাকে)।
- লতানো উদ্ভিদ: লাউ, কুমড়ো, পুঁইশাক (কোনো অবলম্বনকে জড়িয়ে ওপরে ওঠে)।
- বড় বৃক্ষ: আম, জাম, বট (শক্ত কাণ্ড ও অনেক ডালপালা থাকে)।