অধ্যায় ৯: শব্দ দূষণ (নোটস)
১. শব্দ দূষণ কী?
মাত্রাতিরিক্ত ও অযাচিত শব্দ যখন মানুষের পক্ষে অসহ্য, যন্ত্রণাদায়ক ও বিরক্তিকর হয় এবং শারীরিক ও মানসিক সমস্যার সৃষ্টি করে, তখন তাকে শব্দ দূষণ বলে।
সাধারণত ৬৫ ডেসিবেলের (db) বেশি জোরে শব্দ মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর নানা শারীরিক ও মানসিক অসুবিধা তৈরি করে।
ডেসিবেল (db): শব্দের তীব্রতা মাপার একক হলো ডেসিবেল (db)। যে যন্ত্রের সাহায্যে শব্দের তীব্রতা মাপা হয় তার নাম ডেসিবেল মিটার।
২. শব্দ দূষণের উৎস
গ্রামাঞ্চলের তুলনায় শহরে শব্দ দূষণের মাত্রা অনেক বেশি।
ক) শহরের প্রধান উৎস
- যানবাহন: বাস, লরি, মোটরগাড়ি, ট্যাক্সি, বিমান ইত্যাদির তীব্র হর্নের আওয়াজ।
- নির্মাণ কাজ: কংক্রিট ভাঙার শব্দ, জেনারেটরের শব্দ।
- অন্যান্য: কলকারখানার শব্দ, লাউডস্পিকার, বাজি ফাটানোর আওয়াজ, উচ্চস্বরে গানবাজনা।
খ) গ্রামের প্রধান উৎস
- কৃষিকাজ: ট্রাক্টর, পাম্প বা শস্য ঝাড়াই মেশিনের শব্দ।
- অনুষ্ঠান: বিভিন্ন অনুষ্ঠানে জোরে মাইক বা লাউডস্পিকার বাজানো।
বিভিন্ন শব্দের তীব্রতা (ডেসিবেল)
| শব্দের উৎস | তীব্রতা (db) |
|---|---|
| কানে কানে কথা | ২০ db |
| সাধারণ কথাবার্তা | ৬৫ db |
| ব্যস্ত রাস্তার যানবাহন | ৭০ db |
| লাউডস্পিকার / মোটর হর্ন | ৮০ db |
| উচ্চস্বরে গানবাজনা | ৯০ db |
| জেট প্লেনের শব্দ (৩০০ মি. দূর থেকে) | ১০০ db |
| বজ্রের শব্দ / কলকারখানা | ১১০-১৩০ db |
৩. শব্দ দূষণের ফলাফল (কুফল)
শব্দ দূষণের ফলে শারীরিক ও মানসিক—উভয় প্রকার সমস্যাই দেখা দেয়।
ক) শারীরিক সমস্যা
- শ্রবণ ক্ষমতা হ্রাস: ধীরে ধীরে শোনার ক্ষমতা কমে যেতে পারে বা সম্পূর্ণ বধিরতা আসতে পারে।
- হৃৎপিণ্ডের রোগ: উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃৎপিণ্ডের রোগ হতে পারে।
- অন্যান্য: হজমের সমস্যা, পেশির উত্তেজনা ও চোখের রোগ হতে পারে।
খ) মানসিক সমস্যা
- অনিদ্রা: ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, ফলে অনিদ্রা রোগ হয়।
- বিরক্তি ও ক্লান্তি: অনেকক্ষণ ধরে জোরে বা একঘেঁয়ে শব্দ মানসিক ক্লান্তি ও বিরক্তি তৈরি করে।
- মনোযোগের অভাব: কাজে বা পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া যায় না, ফলে কাজে ভুলের সম্ভাবনা বাড়ে।
৪. শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ (প্রতিকার)
শব্দ দূষণ কমানোর জন্য শব্দের উৎসকে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।
- সাইলেন্সার ব্যবহার: যানবাহনে বা জেনারেটরে ‘সাইলেন্সার’ ব্যবহার করে শব্দ কমানো যায়।
- বৃক্ষরোপণ: স্কুল, হাসপাতাল ও বাড়ির চারদিকে গাছ লাগালে শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা যায়, কারণ গাছপালা তীব্র শব্দ শোষণ করতে পারে। একে ‘গ্রিন মাফলার’ (Green Muffler) বলা হয়।
- আইনগত ব্যবস্থা: অকারণে হর্ন বাজানো, উচ্চস্বরে লাউডস্পিকার বা শব্দ বাজি ফাটানো আইনত বন্ধ করা উচিত।
- দূরত্ব বজায় রাখা: কলকারখানা, হাইওয়ে, বিমানবন্দর ইত্যাদি মানুষের বসবাসের অঞ্চল থেকে দূরে তৈরি করা উচিত।
- ব্যক্তিগত সতর্কতা: খুব বেশি শব্দের জায়গায় কানে তুলো বা ইয়ার প্লাগ (Ear Plug) ব্যবহার করা যেতে পারে।
- সচেতনতা: স্কুল, হাসপাতাল ইত্যাদির সামনে ‘সাইলেন্স জোন’ (Silence Zone) বা ‘নীরব এলাকা’ বোর্ড লাগানো এবং সেই নিয়ম মেনে চলা।