অধ্যায় ৮: বায়ুদূষণ (নোটস)
Processing…

অধ্যায় ৮: বায়ুদূষণ (নোটস)

১. বায়ুদূষণ কী?

বিভিন্ন প্রকার বিষাক্ত গ্যাস (যেমন-কার্বন ডাইঅক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড ইত্যাদি), রাসায়নিক পদার্থ (সিসা, ক্লোরোফ্লুরো কার্বন), যানবাহনের ধোঁয়া, ধূলিকণা, জৈবপদার্থ বাতাসে মিশলে বাতাস দূষিত হয়। একেই বায়ুদূষণ বলে।

শ্বাস নিয়ে ফুসফুসে যে বাতাস টেনে নাও, তার থেকে অক্সিজেন রক্তে মিশে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু দূষিত বাতাস শরীরে ঢুকলে নানা রকম রোগ হয়, যেমন – হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি।

২. বায়ুদূষণের প্রধান কারণ

ক) প্রাকৃতিক কারণ

  • অগ্ন্যুৎপাত: আগ্নেয়গিরির লাভা, ছাই ও গ্যাস বাতাসে মেশে।
  • দাবানল: বনে আগুন লাগলে প্রচুর ধোঁয়া ও কার্বন কণা বাতাসে ছড়ায়।
  • ধূলিঝড়: ঝড়ের ফলে প্রচুর ধূলিকণা বাতাসকে দূষিত করে।

খ) মনুষ্যসৃষ্ট কারণ

  • বৃক্ষচ্ছেদন: মানুষের সংখ্যা যত বাড়ছে চাষবাস, ঘরবাড়ি তৈরি করার জন্য তত গাছপালা, বনজঙ্গল কেটে ফেলা হচ্ছে। ফলে বাতাসে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে চলেছে।
  • শিল্পায়ন: কলকারখানা, শিল্পকেন্দ্র, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রচুর পরিমাণে কার্বনের গুঁড়ো, ধোঁয়া, ধূলিকণা ও ক্ষতিকারক গ্যাস (কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড) বাতাসে মিশছে।
  • যানবাহনের ধোঁয়া: বাস, লরি, প্রাইভেট গাড়ি থেকে পেট্রোল, ডিজেল পোড়ানোর ফলে প্রচুর পরিমাণে কার্বন মনোক্সাইড ও সিসা বাতাসে মেশে।
  • চাষের জমি: রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের গুঁড়ো বাতাসকে দূষিত করে।
  • ঘরের ভিতরের দূষণ: রান্নার জন্য কাঠ, কয়লা বা ঘুঁটের ধোঁয়া; মশা তাড়ানোর ধূপ; সিগারেট-বিড়ির ধোঁয়া; ঘর পরিষ্কার করার রাসায়নিক থেকেও ঘরের বাতাস দূষিত হয়।

৩. বায়ুদূষণের ফলাফল

ক) ওজোন স্তরের ক্ষয়

ফ্রিজ, এ.সি., সুগন্ধী স্প্রে, রং থেকে নির্গত ক্লোরোফ্লুরো কার্বন (CFC) গ্যাস বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তরকে ক্ষয় করছে। ওজোন স্তর পাতলা হয়ে যাওয়ায় সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি পৃথিবীতে এসে পৌঁছাচ্ছে। এর ফলে ত্বকের ক্যানসার, চোখের অসুখ এবং শস্য উৎপাদন কমে যাচ্ছে।

খ) অ্যাসিড বৃষ্টি (Acid Rain)

যানবাহন ও কলকারখানার ধোঁয়ায় থাকা সালফার ডাইঅক্সাইড ও নাইট্রোজেন অক্সাইড বৃষ্টির জলের সঙ্গে বিক্রিয়া করে অ্যাসিড তৈরি করে। এই অ্যাসিড বৃষ্টিকে ‘অ্যাসিড বৃষ্টি’ বলে।

  • ক্ষতি: এর ফলে গাছপালা, জলজ প্রাণী মারা যায়, মাটির গুণাগুণ নষ্ট হয় এবং মার্বেল পাথরের সৌধ (যেমন তাজমহল) ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গ) গ্রিনহাউস এফেক্ট ও বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming)

বাতাসে থাকা জলীয় বাষ্প, কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন প্রভৃতি গ্যাসগুলি (গ্রিনহাউস গ্যাস) পৃথিবী থেকে ফিরে যাওয়া তাপকে শোষণ করে বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা বাড়িয়ে দেয়। কাঁচের ঘরের (গ্রিনহাউস) মতো পৃথিবীও গরম হয়ে উঠছে। একেই ‘বিশ্ব উষ্ণায়ন’ বলে।

ধোঁয়াশা (Smog)

শীতকালে শহরের ধুলো, ধোঁয়া ও কুয়াশা একসঙ্গে মিশে একধরণের ধূসর আবরণ তৈরি করে, একে ধোঁয়াশা (Smoke + Fog = Smog) বলে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট ও হাঁচি-কাশি হয়।

৪. বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের উপায়

  • প্রাইভেট গাড়ির বদলে বাস, ট্রেন বা মেট্রোর মতো ‘গণপরিবহন’ ব্যবহার করা।
  • ইলেকট্রিক ট্রেন, ট্রাম, সাইকেলের মতো দূষণহীন যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানো।
  • কলকারখানা লোকালয় থেকে দূরে তৈরি করা এবং চিমনিগুলিতে ফিল্টার ব্যবহার করা।
  • প্রচুর পরিমাণে গাছ লাগানো, কারণ গাছ কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করে বাতাসকে शुद्ध রাখে।
  • কয়লা, পেট্রোলের বদলে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তির মতো ‘অপ্রচলিত শক্তির’ ব্যবহার বাড়ানো।
  • ঘরের মধ্যে ধূমপান না করা এবং রান্নার সময় যাতে ধোঁয়া সহজে বেরিয়ে যেতে পারে তার ব্যবস্থা রাখা।

BISWAZ GROWTH ACADEMY - Class Menu
BISWAZ GROWTH ACADEMY - Class Menu