অধ্যায় ৩: তুমি কোথায় আছো? (নোটস)
Processing…

অধ্যায় ৩: তুমি কোথায় আছো? (নোটস)

১. অবস্থান নির্ণয়ের প্রয়োজনীয়তা

একটি গোলকাকার বস্তুর (যেমন পৃথিবী) কোনো ধার, কোণা বা ওপর-নীচ নেই। তাই পৃথিবীতে কোনো স্থানের সঠিক অবস্থান বোঝানোর জন্য কিছু কাল্পনিক বিন্দু ও রেখার সাহায্য নেওয়া হয়।

  • অক্ষ (Axis): পৃথিবীর কেন্দ্র দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত একটি কাল্পনিক দণ্ড বা রেখা।
  • উত্তর মেরু (North Pole): পৃথিবীর অক্ষের উত্তর প্রান্তবিন্দু (মান ৯০° উত্তর)।
  • দক্ষিণ মেরু (South Pole): পৃথিবীর অক্ষের দক্ষিণ প্রান্তবিন্দু (মান ৯০° দক্ষিণ)।

২. অক্ষরেখা (Parallels of Latitude)

  • সংজ্ঞা: নিরক্ষরেখার সমান্তরালে পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত কাল্পনিক পূর্ণবৃত্ত রেখাগুলিকে অক্ষরেখা বলে।
  • নিরক্ষরেখা (Equator): [Image of the Earth showing the Equator] পৃথিবীর ঠিক মাঝ বরাবর পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত প্রধান অক্ষরেখা। এর মান ০°
  • গোলার্ধ (Hemisphere): নিরক্ষরেখা পৃথিবীকে দুটি সমান ভাগে ভাগ করে: উত্তর গোলার্ধ (Northern Hemisphere) এবং দক্ষিণ গোলার্ধ (Southern Hemisphere)

অক্ষরেখার বৈশিষ্ট্য

  • অক্ষরেখাগুলি পরস্পর সমান্তরাল।
  • এগুলি প্রতিটিই এক-একটি পূর্ণবৃত্ত।
  • নিরক্ষরেখাই দীর্ঘতম অক্ষরেখা। একে **মহাবৃত্ত (Great Circle)** বলা হয়।
  • নিরক্ষরেখা থেকে যত মেরুর দিকে যাওয়া যায়, অক্ষরেখার পরিধি তত কমতে থাকে।
  • উত্তর ও দক্ষিণ মেরু দুটি বিন্দু মাত্র।

গুরুত্বপূর্ণ অক্ষরেখা

  1. নিরক্ষরেখা (Equator): ০°
  2. কর্কটক্রান্তি রেখা (Tropic of Cancer): ২৩.৫° উত্তর (বা ২৩ ১/২° উঃ)
  3. মকরক্রান্তি রেখা (Tropic of Capricorn): ২৩.৫° দক্ষিণ (বা ২৩ ১/২° দঃ)
  4. সুমেরুবৃত্ত রেখা (Arctic Circle): ৬৬.৫° উত্তর (বা ৬৬ ১/২° উঃ)
  5. কুমেরুবৃত্ত রেখা (Antarctic Circle): ৬৬.৫° দক্ষিণ (বা ৬৬ ১/২° দঃ)

৩. দ্রাঘিমারেখা (Meridians of Longitude)

  • সংজ্ঞা: উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত কাল্পনিক অর্ধবৃত্ত রেখাগুলিকে দ্রাঘিমারেখা বলে।
  • মূলমধ্যরেখা (Prime Meridian): [Image of the Earth showing the Prime Meridian] লন্ডনের গ্রিনিচ মানমন্দিরের ওপর দিয়ে বিস্তৃত প্রধান দ্রাঘিমারেখা। এর মান ০°
  • গোলার্ধ (Hemisphere): মূলমধ্যরেখা (এবং তার বিপরীত ১৮০° দ্রাঘিমারেখা) পৃথিবীকে দুটি ভাগে ভাগ করে: পূর্ব গোলার্ধ (Eastern Hemisphere) এবং পশ্চিম গোলার্ধ (Western Hemisphere)

দ্রাঘিমারেখার বৈশিষ্ট্য

  • দ্রাঘিমারেখাগুলি পরস্পর সমান্তরাল নয়, এগুলি দুই মেরুতে গিয়ে মিলিত হয়েছে।
  • প্রতিটি দ্রাঘিমারেখা একটি অর্ধবৃত্ত।
  • প্রতিটি দ্রাঘিমারেখার দৈর্ঘ্য সমান।
  • মোট দ্রাঘিমারেখার সংখ্যা ৩৬০টি (০° বাদে পূর্বে ১৭৯টি, পশ্চিমে ১৭৯টি, এবং একটি ১৮০° রেখা)।
পৃথিবীর অক্ষের অবস্থান:
  • কক্ষতল (Orbital Plane): পৃথিবী যে পথে (কক্ষপথ) সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে, সেই পথটি যে তলে অবস্থিত।
  • নিরক্ষীয় তল (Equatorial Plane): নিরক্ষরেখা যে তলে অবস্থিত।
  • পৃথিবীর অক্ষ তার কক্ষতলের সাথে ৬৬.৫° (বা ৬৬ ১/২°) কোণে হেলে থাকে।

৪. অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার তুলনা

বৈশিষ্ট্য অক্ষরেখা (Parallels) দ্রাঘিমারেখা (Meridians)
আকার পূর্ণবৃত্ত অর্ধবৃত্ত
দৈর্ঘ্য অসমান (নিরক্ষরেখা দীর্ঘতম) সবগুলি সমান দৈর্ঘ্যের
সমান্তরাল পরস্পর সমান্তরাল পরস্পর সমান্তরাল নয়
সংখ্যা ১৭৮ টি (মেরু বিন্দু বাদে) ৩৬০ টি

BISWAZ GROWTH ACADEMY - Class Menu
BISWAZ GROWTH ACADEMY - Class Menu