অধ্যায় ২: পৃথিবী কি গোল? (নোটস)
১. প্রাচীন ধারণা (Ancient Beliefs)
- প্রাচীনকালে মানুষ মনে করত পৃথিবী চ্যাপ্টা, সমতল। তাদের ভয় ছিল যে ক্রমাগত এক দিকে হাঁটলে পৃথিবীর ধার থেকে পড়ে যেতে পারে।
- গ্রিক দার্শনিক **এরাটোস্থেনিস** (Eratosthenes) প্রথম পৃথিবীর গোলক আকৃতির কথা বলেন।
২. পৃথিবী যে গোল তার প্রমাণ (Evidence of Earth’s Shape)
-
দিগন্ত রেখা (Horizon):
- ফাঁকা মাঠ বা সমুদ্রের ধারে দাঁড়ালে মনে হয় আকাশ ও ভূমি একটি বৃত্তাকার রেখায় মিশেছে। একে দিগন্ত রেখা বলে।
- যত উঁচু জায়গা থেকে দেখা যায়, দিগন্ত রেখাকে তত বড় এবং গোলাকার মনে হয়। পৃথিবী গোল বলেই এমনটা সম্ভব।
-
সমুদ্রগামী জাহাজ (Approaching Ship):
- দূর থেকে কোনো জাহাজকে তীরের দিকে আসতে দেখলে প্রথমে শুধু মাস্তুল, তারপর পাল এবং শেষে পুরো জাহাজটিকে দেখা যায়।
- পৃথিবী চ্যাপ্টা হলে পুরো জাহাজটিকেই একসাথে দেখা যেত। পৃথিবী গোল বলেই জাহাজটি বাঁকানো ঢাল বেয়ে ওঠার মতো করে ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হয়।
-
ম্যাগেলানের ভূ-প্রদক্ষিণ (Magellan’s Circumnavigation):
- পর্তুগিজ নাবিক **ম্যাগেলান** (Ferdinand Magellan) ১৫১৯ সালে ৫টি জাহাজ নিয়ে পশ্চিম দিকে যাত্রা শুরু করেন।
- প্রায় তিন বছর পর তার একটি জাহাজ আবার যাত্রাস্থানেই ফিরে আসে। এটি প্রমাণ করে যে পৃথিবী গোল, কারণ চ্যাপ্টা হলে তারা একই জায়গায় ফিরে আসতে পারতেন না।
-
চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবীর ছায়া (Earth’s Shadow during Lunar Eclipse):
- [Image of a lunar eclipse showing Earth’s curved shadow on the Moon] চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের ওপর পৃথিবীর যে ছায়া পড়ে, তা সর্বদা গোলাকার হয়।
- কেবলমাত্র একটি গোলকাকার বস্তুর ছায়াই সব সময় গোল হতে পারে।
-
মহাকাশ থেকে তোলা ছবি (Satellite Imagery):
- মহাকাশচারীরা এবং কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশ থেকে পৃথিবীর যে ছবি তুলেছে, তাতে পৃথিবীকে একটি উজ্জ্বল নীল গোলকের মতো দেখায়। এটিই অকাট্য প্রমাণ।
৩. পৃথিবীর প্রকৃত আকৃতি: জিয়ড (Earth’s True Shape: Geoid)
- পৃথিবী নিজের অক্ষের চারিদিকে খুব দ্রুত ঘোরে (আবর্তন করে)।
- এই আবর্তন গতির জন্য পৃথিবীর উত্তর-দক্ষিণ (দুই মেরু) অংশ কিছুটা চাপা এবং মাঝখানের নিরক্ষীয় অঞ্চল কিছুটা স্ফীত বা ফোলা।
- তাই পৃথিবী পুরোপুরি গোল নয়, এর আকৃতি একটি **অভিগত গোলক (Oblate Spheroid)**-এর মতো।
- মেরু ব্যাস (Polar Diameter): ১২,৭১৪ কিমি।
- নিরক্ষীয় ব্যাস (Equatorial Diameter): ১২,৭৫৬ কিমি।
- পার্থক্য: নিরক্ষীয় ব্যাস মেরু ব্যাসের চেয়ে **৪২ কিমি** বেশি।
জিয়ড (Geoid): পৃথিবীর এই বিশেষ আকৃতিকে (ওপর-নীচ চাপা এবং মাঝবরাবর স্ফীত) ‘জিয়ড’ বলা হয়, যার অর্থ ‘পৃথিবীরই মতো’ (Earth-shaped)।
৪. পৃথিবীর উচ্চতা ও গভীরতা (Highest and Lowest Points)
- সর্বোচ্চ স্থান: হিমালয় পর্বতের **মাউন্ট এভারেস্ট** (সমুদ্র সমতল থেকে ৮,৮৪৮ মিটার উঁচু)।
- সর্বনিম্ন স্থলভাগ/স্থান: প্রশান্ত মহাসাগরের **মারিয়ানা খাত** (সমুদ্র সমতল থেকে ১০,৯১৫ মিটার নীচু)।
- এই উচ্চতা ও গভীরতার পার্থক্য (প্রায় ২০ কিমি) পৃথিবীর বিশাল আকৃতির তুলনায় খুবই নগণ্য। তাই মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে একটি মসৃণ গোলক হিসাবেই দেখায়।