বাংলা সাহিত্য: অনলাইন টেস্ট
চতুর্থ শ্রেণি | দ্বিতীয় পাঠ: তোত্তো-চানের অ্যাডভেঞ্চার (তেৎসুকো কুরোয়ানাগি)
দ্বিতীয় অধ্যায়: নোটস ও প্রস্তুতি (৩, ৪, ৫ নম্বরের উপযোগী)
১. ৫ নম্বর: তোত্তো-চানের বন্ধু ইয়াসুয়াকি-চানকে গাছে তোলার জন্য সে কী কী প্রচেষ্টা করেছিল?
ইয়াসুয়াকি-চানের পায়ে পোলিয়োর জন্য দুর্বলতা ছিল, তাই তার নিজের কোনো গাছ ছিল না। তাকে নিজের গাছে তোলার জন্য তোত্তো-চান জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিল।
- **প্রথম চেষ্টা (মই):** প্রথমে সে দারোয়ানের ঘর থেকে একটি সাধারণ মই নিয়ে আসে। কিন্তু ইয়াসুয়াকি-চানের কম জোরের জন্য সে মই বেয়ে উঠতে পারছিল না এবং মইটিও সোজা রাখা যাচ্ছিল না।
- **দ্বিতীয় চেষ্টা (সিঁড়ি-মই):** তোত্তো-চান তখন একটি বাড়ির সিঁড়ির মতো শক্ত সিঁড়ি-মই নিয়ে আসে, যা নিজে থেকেই সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এই ভারী মই সে একাই টেনে নিয়ে আসে।
- **সাহায্য:** ইয়াসুয়াকি-চান যখন মই বেয়ে ওঠে, তোত্তো-চান নীচ থেকে তার পা ঠেলে ওপরে তুলে দেয় এবং মাথা দিয়ে পেছনটা ঠেলে সাহায্য করে।
- **চূড়ান্ত ঝুঁকি:** মইয়ের মাথায় পৌঁছানোর পর ডালে চড়ার জন্য তোত্তো-চান তাকে শুইয়ে দিয়ে তার হাত ধরে সমস্ত শক্তি দিয়ে টেনে তোলে। কোনো বড়ো মানুষ দেখলে এই দৃশ্যকে ‘ভয়ানক বিপজ্জনক’ মনে করতেন।
২. ৪ নম্বর: তোমোই স্কুলের ছেলেমেয়েদের কাছে গাছগুলির গুরুত্ব কেমন ছিল?
তোমোই স্কুলে প্রতিটি ছেলেমেয়ে স্কুলের চত্বরের একটি করে গাছের দখল নিয়েছিল।
- **ব্যক্তিগত সম্পত্তি:** ছেলেমেয়েরা মনে করত গাছগুলো তাদের **নিজস্ব সম্পত্তি**।
- **অনুমতি:** কেউ যদি অন্য কারো গাছে চড়তে চাইত, তাহলে তাকে গিয়ে বিনীতভাবে বলতে হতো, ‘আমি কি একটু ভিতরে আসতে পারি?’
- **তোত্তো-চানের গাছ:** তোত্তো-চানের গাছটি ছিল বেড়ার ধারে। মাটি থেকে ছ-ফুট উঁচুতে তার ডাল এমনভাবে ভাগ হয়ে গিয়েছিল যে মনে হতো যেন দড়ির দোলনায় চেপে আছে। তোত্তো-চান সেখানে উঠে নীচের লোকজন ও উপরের আকাশ দেখত।
৩. ৩ নম্বর: তোত্তো-চান তার বন্ধুকে নিমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি কেন গোপন রাখতে চেয়েছিল?
তোত্তো-চান জানত যে ইয়াসুয়াকি-চানের পায়ে পোলিওর কারণে দুর্বলতা আছে।
- ইয়াসুয়াকি-চানের কোনো নিজস্ব গাছ ছিল না।
- যদি অন্য ছেলেমেয়েরা তার পোলিওর সমস্যার কথা জানত, তাহলে তারা খুব **ঝামেলা** করত বা বাঁধা দিত।
- এই অ্যাডভেঞ্চারটি একান্তই তাদের দুজনের ইচ্ছা ছিল, তাই তারা ঠিক করেছিল যে এটা **লুকিয়ে লুকিয়ে** করবে।
৪. ৩ নম্বর: ইয়াসুয়াকি-চানের শারীরিক দুর্বলতার দুটি লক্ষণ উল্লেখ করো।
পোলিওর জন্য ইয়াসুয়াকি-চানের শরীরে যে দুর্বলতা দেখা গিয়েছিল, তা হলো:
- **পায়ে অসুবিধা:** তার হাতে পায়ে কম জোর ছিল, তাই সে মইয়ের প্রথম ধাপটাও বিনা সাহায্যে ওঠা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না।
- **হাতে বিকৃতি:** পোলিওর কারণে তার **আঙুলগুলোও সব দলা পাকিয়ে গিয়েছিল**। (তবু তোত্তো-চানের চেয়ে হাতটা বড়ো ছিল।)
৫. ৪ নম্বর: গাছে উঠে তোত্তো-চান ইয়াসুয়াকি-চানকে কীভাবে ‘স্বাগতম’ জানিয়েছিল?
অনেক কষ্টের পর যখন তোত্তো-চান ইয়াসুয়াকি-চানকে তার ডালের উপর টেনে তোলে, তখন তারা দুজনে গাছে **মুখোমুখি দাঁড়াতে** পারে। ইয়াসুয়াকি-চানকে তার গাছে স্বাগত জানানোর এই মুহূর্তটি ছিল পরম আনন্দের। তোত্তো-চান তখন ঘামে ভেজা চুল মুখের উপর থেকে সরিয়ে মাথা নীচু করে ইয়াসুয়াকি-চানকে **’স্বাগতম!’** জানিয়েছিল। এই স্বাগতম ছিল কেবল বন্ধুকে আমন্ত্রণ নয়, বরং অসম্ভবকে সম্ভব করার সাহসিকতার প্রতি সম্মান।
৬. ৩ নম্বর: তোত্তো-চান তার মায়ের কাছে কী মিথ্যা বলেছিল? সে কেন মায়ের মুখের দিকে তাকাতে পারছিল না?
- **মিথ্যা:** বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় তোত্তো-চান মা-কে বলেছিল যে সে ডেনেনচফুতে ইয়াসুয়াকি-চানের বাড়িতে যাচ্ছে।
- **কারণ:** সে মিথ্যা বলেছিল বলে মায়ের মুখের দিকে তাকাতে পারছিল না। তাই সে জুতোর ফিতের দিকে তাকিয়ে ছিল।
৭. ৪ নম্বর: গাছে চড়ার পর দুই বন্ধুর মধ্যে টেলিভিশন নিয়ে কী আলোচনা হয়েছিল?
গাছে উঠে দুই বন্ধু বিভিন্ন গল্প করে। ইয়াসুয়াকি-চান খুব উৎসাহের সঙ্গে বলে:
- তার দিদি আমেরিকায় থাকে এবং সেখানে টেলিভিশন বলে একটি জিনিস আছে।
- জাপানে যখন টেলিভিশন আসবে, তখন তারা বাড়িতে বসেই **সুমো পালোয়ানদের** দেখতে পাবে।
- টেলিভিশন নাকি একটি **বাক্সের মতন**।
৮. ৩ নম্বর: তোত্তো-চান কখন বুঝতে পারল যে কাজটি সহজ হবে না?
তোত্তো-চান প্রথমে ভেবেছিল কাজটা সহজ। কিন্তু যখন সে ইয়াসুয়াকি-চানকে নীচ থেকে ঠেলে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করতে গেল, তখন সে বুঝতে পারল কাজটা সহজ নয়। কারণ:
- ইয়াসুয়াকি-চানের হাতে পায়ে কম জোর ছিল।
- তোত্তো-চান নিজেও ছোটোখাটো রোগা মানুষ ছিল, তাই সে একা মইটাকে সোজা করে ধরে ইয়াসুয়াকি-চানকে তুলতে পারছিল না।
৯. ৪ নম্বর: তোত্তো-চান কেন কান্নার আবেগ লুকিয়েছিল?
সিঁড়ি-মইয়ের মাথায় পৌঁছানোর পরেও যখন ইয়াসুয়াকি-চানকে ডালে চড়ানো যাচ্ছিল না, তখন তোত্তো-চানের খুব কান্না পাচ্ছিল। সে ভেবেছিল, ইয়াসুয়াকি-চানকে তার ডালে নিয়ে এসে কত কী দেখাবে। কিন্তু সে কাঁদল না, কারণ:
- সে কাঁদলে ইয়াসুয়াকি-চানও হয়তো কেঁদে ফেলত।
- তার কান্না বন্ধুদের মনে ভয় ও হতাশা তৈরি করতে পারত।
১০. ৪ নম্বর: তেৎসুকো কুরোয়ানাগি সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।
তেৎসুকো কুরোয়ানাগি (জন্ম ১৯৩৩) জাপানের একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব, অভিনেত্রী এবং লেখক। তিনি তাঁর ছোটোবেলার স্কুলজীবনের স্মৃতিকে কেন্দ্র করে লেখেন **’তোত্তো-চান, দ্য লিটল গার্ল অ্যাট দ্য উইন্ডো’**। ‘তোত্তো-চান’ শব্দটির অর্থ অনেকটা ‘ছোট্ট খুকু’। এই বইটি সারা পৃথিবী জুড়ে বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত ও সমাদৃত হয়েছে এবং সর্বকালের সর্বজনীন এক আদর্শ শিক্ষাব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে।