বাংলা সাহিত্য: অনলাইন টেস্ট
চতুর্থ শ্রেণি | নবম পাঠের চূড়ান্ত পরীক্ষা: নইলে, মায়াদ্বীপ ও ঘুম ভাঙানি
নবম অধ্যায়: নোটস ও প্রস্তুতি (৩, ৪, ৫ নম্বরের উপযোগী)
১. ৫ নম্বর: ‘নইলে’ ও ‘মায়াদ্বীপ’ কবিতায় প্রকাশিত শিশুটির কল্পনা ও বাস্তবতার আকাঙ্ক্ষাগুলি আলোচনা করো।
এই কবিতাগুলিতে শিশুমন তার চারপাশের রুটিন ও বাস্তবতাকে অতিক্রম করে কল্পনার রাজ্যে মুক্তি খুঁজেছে:
- **’নইলে’ (অজিত দত্ত):** শিশুটি **বাস্তবের ভয়** (জেগে থাকা) ভুলে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়তে চায়, কারণ সে **স্বপন বুড়োর উপহার** (রূপকথা, রঙিন স্বপ্ন) পেতে চায়। এটি সেই কল্পনাকে বোঝায়, যেখানে ঘুমই হলো স্বপ্নের রাজ্যের দরজা।
- **’মায়াদ্বীপ’ (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়):** এখানে শিশুটি কোনো কাল্পনিক দ্বীপে যেতে চায়, যা **অজানা ও রহস্যময়**। শিশুটি অ্যাডভেঞ্চার এবং রোমাঞ্চের জন্য মায়াদ্বীপে যেতে আগ্রহী। সে দৈনন্দিন জীবনের একঘেয়েমি থেকে **মুক্তি** চেয়েছিল।
২. ৪ নম্বর: ‘ঘুম ভাঙানি’ কবিতার মাধ্যমে কবি কীভাবে শিশুকে বাস্তবের জগতে আহ্বান জানিয়েছেন?
‘ঘুম ভাঙানি’ কবিতাটি ছিল ঘুম পাড়ানোর ছড়ার বিপরীত। এখানে কবি মোহিতলাল মজুমদার শিশুটিকে স্বপ্ন ও আলস্যের জগৎ থেকে কর্মের জগতে আহ্বান জানিয়েছেন।
- **ঘুম ভাঙানো:** কবি ঘুমন্ত শিশুটিকে ডেকে বলছেন যে স্বপ্নের সময় শেষ, এখন সকাল হয়েছে।
- **বাস্তবতার আহ্বান:** তিনি দিনের আলোর আগমন, পাখির কিচিরমিচির, এবং সকালের ব্যস্ততার কথা বলেছেন।
- **কর্মের জগতে প্রবেশ:** শিশুটিকে স্বপ্নের জগত ছেড়ে **কর্মের জগতে প্রবেশ করতে** উৎসাহিত করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, দিনের বেলা অলসভাবে না থেকে, জেগে উঠে কর্মঠ হওয়া এবং বাস্তব পৃথিবীর দিকে মনোযোগ দেওয়া।
৩. ৩ নম্বর: ‘নইলে’ কবিতায় শিশুটি কেন তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়তে চায়?
- **স্বপন বুড়োর ভয়:** যদি সে জেগে থাকে, তাহলে **স্বপন বুড়ো তাকে না দেখতে পেয়ে চলে যাবেন** এবং সে স্বপ্ন দেখতে পাবে না।
- **উপহার:** স্বপন বুড়ো স্বপ্ন ও রূপকথার উপহার নিয়ে আসেন। সেই উপহার পাওয়ার লোভেই সে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ে।
৪. ৩ নম্বর: ‘স্বপন বুড়ো’র হাতে কী থাকে এবং তাঁর কোমরে কী ঝোলানো থাকে?
স্বপন বুড়ো দেখতে ছিলেন জাদুকরের মতো।
- **হাতে:** তাঁর হাতে থাকে **রূপকথার কাঠি**।
- **কোমরে:** তাঁর কোমরে ঝোলানো থাকে **রূপোলি থলে**।
- **কাজ:** তিনি এই জিনিসগুলির সাহায্যে শিশুদের চোখের তারায় **রঙিন স্বপ্ন** ভরে দেন।
৫. ৪ নম্বর: ‘কর্ম’ ও ‘আলস্য’ শব্দদুটি এই পাঠের দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করো।
‘ঘুম ভাঙানি’ কবিতার প্রেক্ষাপটে এই শব্দদুটি গুরুত্বপূর্ণ:
- **কর্ম:** এটি হলো **জেগে থাকা, কাজ করা এবং দায়িত্ব পালন** করা। দিন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মের শুরু হয়।
- **আলস্য:** এটি হলো **অলসতা, ঘুম বা স্বপ্নের জগতে** ডুবে থাকা। কর্ম থেকে বিরত থাকাকে আলস্য বলে।
- **শিক্ষা:** এই পাঠে শিশুকে আলস্য ত্যাগ করে কর্মের পথে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করা হয়েছে।
৬. ৩ নম্বর: ‘মায়াদ্বীপ’ কবিতায় শিশুটি কেন মায়াদ্বীপে যেতে চায়?
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘মায়াদ্বীপ’ কবিতায় শিশুটি মায়াদ্বীপে যেতে চায় কারণ:
- **রহস্য:** মায়াদ্বীপ হলো এক **অজানা ও রহস্যময়** দ্বীপ।
- **মুক্তি:** দিনের বেলার রুটিন ও বাস্তবতা থেকে **মুক্তি** পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এখানে প্রকাশ পেয়েছে।
৭. ৪ নম্বর: ‘রূপোলি থলে’ এবং ‘মুক্তোঝরা টুপি’ কিসের প্রতীক?
স্বপন বুড়োর এই জিনিসগুলি ছিল তাঁর জাদুকরী ক্ষমতার প্রতীক:
- **মুক্তোঝরা টুপি:** এটি স্বপ্ন রাজ্যের **ঐশ্বর্য ও রহস্য**কে বোঝায়।
- **রূপোলি থলে:** এই থলে হলো স্বপ্ন বুড়োর **উপহারের ভাণ্ডার**। এর মধ্যে থাকে রূপকথা, মজার গল্প এবং রঙিন স্বপ্ন।
৮. ৩ নম্বর: ‘ঘুম পাড়ানি ছড়া’ ও ‘ঘুম ভাঙানি’ কবিতার মধ্যে একটি প্রধান পার্থক্য লেখো।
- **ঘুম পাড়ানি ছড়া:** এর লক্ষ্য হলো শিশুকে **আরাম ও নিরাপত্তা**র অনুভূতি দিয়ে ঘুম পাড়ানো। এটি রাতের সময় লেখা হয়।
- **ঘুম ভাঙানি:** এর লক্ষ্য হলো শিশুকে **আলস্য ভেঙে জাগিয়ে তোলা** এবং তাকে বাস্তব ও **কর্মের জগতে** নিয়ে আসা। এটি দিনের বেলা লেখা হয়।
৯. ৪ নম্বর: ‘বিস্মরণী’ ও ‘স্বপন পসারি’ বইদুটির লেখক মোহিতলাল মজুমদার সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।
মোহিতলাল মজুমদার (১৮৮৮-১৯৫২) ছিলেন একজন বিখ্যাত বাঙালি কবি, সমালোচক ও প্রবন্ধকার।
- **বিশেষত্ব:** তিনি ছিলেন রবীন্দ্র-পরবর্তী যুগের অন্যতম প্রধান সাহিত্যিক। তিনি মূলত তাঁর **শক্তিশালী গদ্য ও কাব্যের** জন্য পরিচিত।
- **রচনা:** তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা সংকলনগুলির মধ্যে রয়েছে— **’বিস্মরণী’** এবং **’স্বপন পসারি’**।
১০. ৪ নম্বর: এই পাঠের কবিতাগুলিতে ব্যবহৃত চারটি সমার্থক শব্দ এবং চারটি বিপরীতার্থক শব্দ লেখো।
- **সমার্থক শব্দ:** ঘুম – নিদ্রা, স্বপ্ন – স্বপন, বুড়ো – বৃদ্ধ, আলো – জ্যোতি, কথা – বচন।
- **বিপরীতার্থক শব্দ:** ভাঙা – জোড়া, আলো – আঁধার, যুবক – বৃদ্ধ, শেষ – আরম্ভ, ঘুম – জাগরণ।