বাংলা সাহিত্য: অনলাইন টেস্ট
চতুর্থ শ্রেণি | অষ্টম পাঠের অতিরিক্ত: হেঁয়ালি নাট্য (সুকুমার রায়)
অষ্টম অধ্যায়: নোটস ও প্রস্তুতি (৩, ৪, ৫ নম্বরের উপযোগী)
১. ৫ নম্বর: ‘হেঁয়ালি নাট্য’ রচনায় সুকুমার রায় যে হাস্যরস সৃষ্টি করেছেন, তার বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।
সুকুমার রায়ের ‘হেঁয়ালি নাট্য’ উদ্ভট কল্পনা ও শব্দের কারিকুরির মাধ্যমে হাস্যরস সৃষ্টি করেছে:
- **উদ্ভট চরিত্র:** এই রচনায় **হাঁসজারু, বকচ্ছপ, কিংবা গিরগিটি**র মতো অদ্ভুত প্রাণীদের আনাগোনা, যা বাস্তবের সঙ্গে মেলে না।
- **হেঁয়ালি ও যুক্তিহীনতা:** চরিত্রগুলির কথোপকথন যুক্তিহীন এবং হেঁয়ালি পূর্ণ। তারা এমন সব বিষয়ে তর্ক করে, যা অবাস্তব এবং মজার।
- **শব্দ নিয়ে খেলা:** কবি নতুন নতুন অদ্ভুত শব্দ তৈরি করে (যেমন: বকচ্ছপ) ভাষা নিয়ে খেলা করেছেন, যা শিশুদের আনন্দ দেয়।
- **বিদ্রূপ:** রচনার মাধ্যমে হাস্যরসের আড়ালে কিছু সামাজিক বিষয় বা মানুষের দুর্বলতাকে বিদ্রূপ করা হয়েছে।
২. ৪ নম্বর: হাঁসজারু ও বকচ্ছপ—এই দুটি উদ্ভট প্রাণীর বর্ণনা দাও।
এই চরিত্রগুলি সুকুমার রায়ের **’আবোল তাবোল’** বা **’হ-য-ব-র-ল’**-এর মতো রচনায় দেখা যায়:
- **হাঁসজারু:** এটি হলো হাঁস (Duck) এবং সজারু (Porcupine)-এর অদ্ভুত মিশ্রণ। হাঁসের মতো শরীর এবং সজারুর মতো কাঁটাযুক্ত প্রাণী, যা দেখলে হাসি পায়।
- **বকচ্ছপ:** এটি হলো বক (Crane) এবং কচ্ছপ (Turtle)-এর মিশ্রণ। বকের মতো লম্বা গলা ও কচ্ছপের মতো খোলসের অধিকারী এই প্রাণীটিরও কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
- **তাৎপর্য:** এই ধরনের মিশ্র প্রাণীগুলি কল্পনার জগতে এক মজার পরিবেশ তৈরি করে।
৩. ৩ নম্বর: ‘হেঁয়ালি’ শব্দের অর্থ কী? সুকুমার রায়ের রচনায় এই হেঁয়ালি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
- **অর্থ:** ‘হেঁয়ালি’ শব্দের অর্থ হলো **ধাঁধা, কৌতুক বা রহস্যময় কথা**।
- **গুরুত্ব:** সুকুমার রায়ের রচনায় হেঁয়ালিগুলো শুধুমাত্র ধাঁধা নয়। তিনি হেঁয়ালি এবং উদ্ভট কল্পনার মাধ্যমে পাঠককে হাসাতে ও আনন্দ দিতে চেয়েছেন, পাশাপাশি এর মাধ্যমে তিনি একটি **যুক্তিহীন, অদ্ভুত জগৎ** সৃষ্টি করেছেন।
৪. ৩ নম্বর: ‘যুক্তিহীন’ ও ‘উদ্ভট’ বলতে কী বোঝায়?
- **যুক্তিহীন:** যার কোনো **বুদ্ধিগত কারণ বা ভিত্তি নেই**। যেমন: হেঁয়ালি নাট্যে চরিত্রদের কথা যুক্তিহীন হয়।
- **উদ্ভট:** যা **অদ্ভুত, আজগুবি বা অবাস্তব**। যেমন: হাঁসজারু বা বকচ্ছপ হলো উদ্ভট প্রাণী।
- **সম্পর্ক:** সুকুমার রায়ের এই রচনাগুলি মূলত এই যুক্তিহীন ও উদ্ভট বিষয়গুলির ওপরই প্রতিষ্ঠিত।
৫. ৪ নম্বর: সুকুমার রায় তাঁর রচনায় কীভাবে শব্দ নিয়ে খেলা করেন?
সুকুমার রায়ের রচনার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো নতুন ও অদ্ভুত শব্দ সৃষ্টি:
- **মিশ্রণ:** তিনি দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রাণীর নাম বা দুটি ভিন্ন বস্তুর নামকে একসঙ্গে মিলিয়ে নতুন শব্দ তৈরি করেন। যেমন: **হাঁস + সজারু = হাঁসজারু**।
- **ছন্দ:** এই উদ্ভট শব্দগুলি কবিতার মধ্যে বা ছড়ার মধ্যে এক বিশেষ ছন্দ ও হাস্যরস তৈরি করে।
- **অবাস্তবতা:** এই শব্দের ব্যবহার রচনার মধ্যে একটি অবাস্তব, কিন্তু মজাদার পরিবেশ তৈরি করে, যা শিশু সাহিত্যকে নতুন মাত্রা দেয়।
৬. ৩ নম্বর: ‘মিলিয়ে পড়ো’ অংশে এই রচনাটিকে রাখার উদ্দেশ্য কী?
এই রচনাটিকে সাধারণত অন্য গল্পের সঙ্গে ‘মিলিয়ে পড়ো’ অংশে রাখা হয়, কারণ:
- **তুলনা:** এটিকে মূল পাঠ (যেমন যতীনের জুতো) এর হাস্যরসের সাথে মিলিয়ে পড়ানো যায়।
- **সাহিত্যিক ঘরানা:** এটি শিক্ষার্থীদেরকে সুকুমার রায়ের **’ননসেন্স রাইমিং’ (Nonsense Rhyming)** নামক সাহিত্যিক ঘরানার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়।
৭. ৪ নম্বর: ‘হেঁয়ালি নাট্য’-এর চরিত্রগুলির মধ্যে কোনো একটির সংলাপের বিশেষত্ব লেখো।
(যে কোনো একটি চরিত্র সম্পর্কে লেখা যেতে পারে)
- **গিরগিটি:** রচনার একটি চরিত্র হলো গিরগিটি, যার সংলাপগুলি প্রায়শই **অসংলগ্ন ও দ্রুত পরিবর্তনশীল**। এই চরিত্রটির মাধ্যমে কবি গিরগিটির মতো দ্রুত রং বদলানো স্বভাবকে বোঝাতে চেয়েছেন।
- **বিশেষত্ব:** গিরগিটির পরিবর্তনশীল ও উদ্ভট কথায় রচনার হাস্যরস আরও বাড়ে।
৮. ৩ নম্বর: সুকুমার রায় কোন বিখ্যাত সাহিত্যিকের পুত্র ছিলেন? তাঁর রচিত একটি পত্রিকার নাম লেখো।
- **পিতা:** সুকুমার রায় ছিলেন বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক **উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর** সুযোগ্য পুত্র।
- **পত্রিকা:** তাঁর পিতা উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর দ্বারা প্রকাশিত পত্রিকার নাম ছিল **’সন্দেশ’**।
৯. ৪ নম্বর: ‘হেঁয়ালি নাট্য’-এর মতো দুটি উদ্ভট চরিত্রের নাম লেখো এবং তাদের মিশ্রণগুলি ব্যাখ্যা করো।
সুকুমার রায়ের সৃষ্ট আরও দুটি মিশ্র চরিত্র:
- **হাঁসজারু:** হাঁস (Duck) ও সজারু (Porcupine) এর মিশ্রণ।
- **বকচ্ছপ:** বক (Crane) ও কচ্ছপ (Turtle) এর মিশ্রণ।
- **অন্যান্য:** **ব্যাঙ-মানুষ** (ব্যাঙ + মানুষ) বা **তেলাপোকা-বিড়াল** (তেলাপোকা + বিড়াল) এই ধরনের উদ্ভট সংমিশ্রণ সুকুমার রায়ের রচনায় দেখা যায়।
১০. ৪ নম্বর: সুকুমার রায় সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।
সুকুমার রায় (১৮৮৭-১৯২৩) ছিলেন বাংলা শিশু সাহিত্যের একজন প্রবাদপ্রতিম শিল্পী, যিনি তার **উদ্ভট কল্পনা, ছড়া ও হাস্যরসের** জন্য বিখ্যাত।
- **রচনা:** তাঁর রচিত বিখ্যাত বইগুলির মধ্যে রয়েছে— **’আবোল তাবোল’**, **’হ-য-ব-র-ল’** এবং **’খাই খাই’**।
- **অবদান:** তিনি বাংলা সাহিত্যে ‘ননসেন্স’ ধারার প্রবর্তন করেছিলেন।