বাংলা সাহিত্য: অনলাইন টেস্ট
চতুর্থ শ্রেণি | নবম পাঠ: ঘুম পাড়ানি ছড়া ও স্বপন বুড়ো
নবম অধ্যায়: নোটস ও প্রস্তুতি (৩, ৪, ৫ নম্বরের উপযোগী)
১. ৫ নম্বর: ‘স্বপন বুড়ো’কে কবি কীভাবে বর্ণনা করেছেন? তাঁর কাজ কী?
‘স্বপন বুড়ো’ হলেন শিশুদের স্বপ্নরাজ্যের এক কাল্পনিক চরিত্র, যিনি ঘুমন্ত শিশুদের জন্য নানা জাদু ও রহস্য নিয়ে আসেন।
- **বর্ণনা:** স্বপন বুড়ো দেখতে ছিলেন জাদুকরের মতো। তাঁর মাথায় ছিল **মুক্তোঝরা টুপি**। তাঁর হাতে থাকে **রূপকথার কাঠি** এবং তাঁর কোমরে ঝোলানো থাকে **রূপোলি থলে**।
- **কাজ:** দিনের শেষে, যখন চারদিকে আলো নিভে আসে, তখন স্বপন বুড়ো ঝোলা কাঁধে নিয়ে আসে। সে শিশুদের চোখের তারায় **রঙিন স্বপ্ন** ভরে দেয়। সে তার থলে থেকে **রূপকথা আর মজার গল্প** বের করে শিশুদের দেখায়, তাদের ঘুম পাড়িয়ে দেয়।
- **আগমনের উদ্দেশ্য:** তাঁর কাজ হলো শিশুদের কল্পনার জগৎকে আরও সুন্দর ও আনন্দময় করে তোলা।
২. ৪ নম্বর: একটি আদর্শ ঘুম পাড়ানি ছড়ার বৈশিষ্ট্যগুলি কী হওয়া উচিত?
একটি আদর্শ ঘুম পাড়ানি ছড়ার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
- **স্বর ও ছন্দ:** ছড়াটি হবে **ধীর লয়ের, মৃদু স্বরের এবং ললিত** (gentle/sweet) ছন্দের। এটি শিশুর কানে আরাম দেয়।
- **কল্পনা:** ছড়ায় স্বপ্ন, চাঁদ, তারা, পাখি বা দূরদেশের মতো **শান্ত ও মনোহর** বিষয় থাকে, যা শিশুর কল্পনাকে জাগিয়ে তোলে। [Image of a mother singing a lullaby to a child]
- **নিরাপত্তা:** ছড়াটির ভাব এমন হয় যে, শিশু যেন মনে করে—সে সম্পূর্ণ নিরাপদ আছে। মা বা কল্পিত চরিত্র (যেমন স্বপন বুড়ো) তাকে রক্ষা করছে।
- **পুনরাবৃত্তি:** ছড়ার মধ্যে কিছু কথা বা শব্দ বারবার আসে, যা একঘেয়েমি তৈরি করে শিশুকে ঘুমিয়ে পড়তে সাহায্য করে।
৩. ৩ নম্বর: শিশুটি রাতে ঘুমানোর সময় দিনের কোন কোন কাজ ভুলে যায়?
ঘুম পাড়ানি ছড়ায় শিশুটি রাতে ঘুমানোর সময় সাধারণত দিনের বেলার সব ব্যস্ততা ও চিন্তা ভুলে যায়:
- **পড়াশোনা:** দিনের বেলার **পড়াশোনার চাপ**।
- **খেলাধুলো:** সারাদিনের **দৌড়ঝাঁপ ও খেলাধুলোর** উত্তেজনা।
- **অন্যান্য:** জেগে থাকার সমস্ত চিন্তা, ভয় বা রাগ। সে কেবল শান্তভাবে স্বপ্নের রাজ্যে প্রবেশ করে।
৪. ৩ নম্বর: ‘স্বপন বুড়ো’র ঝোলায় কী থাকে?
স্বপন বুড়ো যখন ঝোলা কাঁধে নিয়ে আসে, তখন তার ঝোলায় থাকে:
- শিশুদের জন্য **রঙিন স্বপ্ন** (চোখের তারায় ভরে দেওয়ার জন্য)।
- নানান ধরনের **রূপকথা**।
- মন ভোলানো **মজার গল্প**।
৫. ৪ নম্বর: ‘স্বপন বুড়ো’র টুপি ও কাঠির বিশেষত্ব কী?
স্বপন বুড়োর টুপি এবং কাঠির বিশেষত্ব ছিল তার জাদুকরী ক্ষমতা:
- **টুপি:** তাঁর মাথায় ছিল **মুক্তোঝরা টুপি**। এই টুপি স্বপ্নের জাদুকে বোঝাত।
- **কাঠি:** তাঁর হাতে ছিল **রূপকথার কাঠি**। এই কাঠির ছোঁয়ায় ঘুমন্ত শিশুরা স্বপ্নের রাজ্যে প্রবেশ করে এবং বিভিন্ন রূপকথার গল্প দেখতে পায়।
- **কাজ:** এই সরঞ্জামগুলি স্বপন বুড়োর পরিচয় বহন করত এবং তাঁর জাদুর কাজে সাহায্য করত।
৬. ৩ নম্বর: ‘নইলে’ কবিতায় শিশুটি কেন তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়তে চায়?
কবি অজিত দত্তের ‘নইলে’ কবিতায় শিশুটি তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়তে চায়, কারণ:
- **স্বপন বুড়োর ভয়:** যদি সে জেগে থাকে, তাহলে **স্বপন বুড়ো তাকে না দেখতে পেয়ে চলে যাবেন** এবং সে স্বপ্ন দেখতে পাবে না।
- **উপহার:** স্বপন বুড়ো স্বপ্ন ও রূপকথার উপহার নিয়ে আসেন। সেই উপহার পাওয়ার লোভেই সে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ে।
৭. ৪ নম্বর: দিনের শেষে কখন স্বপন বুড়ো আসে এবং কখন তাঁর আলো নিভে যায়?
স্বপন বুড়োর আগমনের সময়:
- **আগমনের সময়:** স্বপন বুড়ো আসে যখন **আলো নিভে আসে**, অর্থাৎ সন্ধ্যা বা রাত শুরু হয়। এটি দিনের কাজ শেষে ঘুমের সময়কে নির্দেশ করে।
- **ফিরে যাওয়া:** স্বপ্ন দেখানোর পর, যখন **সকাল হয়ে যায়** এবং সূর্য ওঠে, তখন স্বপন বুড়োর জাদুর খেলা শেষ হয় এবং তার আলো নিভে যায়।
- **উদ্দেশ্য:** স্বপন বুড়ো জেগে থাকা মানুষের কাছে আসে না, কেবল ঘুমন্ত শিশুদের কাছেই আসে।
৮. ৩ নম্বর: ‘মায়াদ্বীপ’ কবিতায় শিশুটি কেন মায়াদ্বীপে যেতে চায়?
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘মায়াদ্বীপ’ কবিতায় শিশুটি মায়াদ্বীপে যেতে চায় কারণ:
- **রহস্য:** মায়াদ্বীপ হলো এক **অজানা ও রহস্যময়** দ্বীপ, যেখানে নানারকমের অ্যাডভেঞ্চার ও সুন্দর দৃশ্য রয়েছে।
- **কল্পনা:** শিশুটি তার কল্পনার জগৎকে বাস্তব করতে চেয়েছিল এবং সেই দ্বীপে গিয়ে মজা করতে চেয়েছিল।
- **মুক্তি:** দিনের বেলার রুটিন ও বাস্তবতা থেকে মুক্তি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এখানে প্রকাশ পেয়েছে।
৯. ৪ নম্বর: ‘ঘুম ভাঙানি’ কবিতার মাধ্যমে কবি কী বলতে চেয়েছেন?
মোহিতলাল মজুমদারের ‘ঘুম ভাঙানি’ কবিতাটি ছিল ঘুম পাড়ানোর ছড়ার ঠিক বিপরীত:
- **উদ্দেশ্য:** এই কবিতার মূল উদ্দেশ্য হলো ঘুম ভাঙানো এবং **শিশুকে বাস্তবে ফিরিয়ে আনা**।
- **বিবরণ:** কবি এখানে দিনের আলোর আগমন, পাখির কিচিরমিচির, এবং সকালের ব্যস্ততার কথা বলেছেন।
- **শিক্ষা:** এর মাধ্যমে শিশুটিকে স্বপ্নের জগত ছেড়ে **কর্মের জগতে প্রবেশ করতে** উৎসাহিত করা হয়।
১০. ৪ নম্বর: চারটি সমার্থক শব্দ এবং চারটি বিপরীতার্থক শব্দ লেখো।
- **সমার্থক শব্দ:** ঘুম – নিদ্রা, স্বপ্ন – স্বপন, বুড়ো – বৃদ্ধ, আলো – জ্যোতি, কথা – বচন।
- **বিপরীতার্থক শব্দ:** দিন – রাত, আলো – আঁধার, ভাঙা – জোড়া, শেষে – প্রথমে, নতুন – পুরোনো।