বাংলা সাহিত্য: অনলাইন টেস্ট
চতুর্থ শ্রেণি | নবম পাঠ: ঘুম ভাঙানি (মোহিতলাল মজুমদার)
নবম অধ্যায়: নোটস ও প্রস্তুতি (৩, ৪, ৫ নম্বরের উপযোগী)
১. ৫ নম্বর: ‘ঘুম ভাঙানি’ কবিতার মাধ্যমে কবি কীভাবে শিশুকে বাস্তবের জগতে আহ্বান জানিয়েছেন?
‘ঘুম ভাঙানি’ কবিতাটি ছিল ঘুম পাড়ানোর ছড়ার বিপরীত। এখানে কবি মোহিতলাল মজুমদার শিশুটিকে স্বপ্ন ও আলস্যের জগৎ থেকে কর্মের জগতে আহ্বান জানিয়েছেন।
- **ঘুম ভাঙানো:** কবি ঘুমন্ত শিশুটিকে ডেকে বলছেন যে স্বপ্নের সময় শেষ, এখন সকাল হয়েছে।
- **বাস্তবতার আহ্বান:** তিনি দিনের আলোর আগমন, পাখির কিচিরমিচির, এবং সকালের ব্যস্ততার কথা বলেছেন।
- **কর্মের জগতে প্রবেশ:** শিশুটিকে স্বপ্নের জগত ছেড়ে **কর্মের জগতে প্রবেশ করতে** উৎসাহিত করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, দিনের বেলা অলসভাবে না থেকে, জেগে উঠে কর্মঠ হওয়া এবং বাস্তব পৃথিবীর দিকে মনোযোগ দেওয়া।
২. ৪ নম্বর: ‘স্বপন’ ও ‘নিদ্রা’ শব্দের মধ্যে পার্থক্য লেখো। ঘুমের সময় শিশুটি কী ভুলে যায়?
- **স্বপন (স্বপ্ন):** এটি হলো ঘুমের সময় মনের মধ্যে তৈরি হওয়া **কাল্পনিক দৃশ্য বা ঘটনা**। স্বপ্ন অনেক সময় রঙিন বা অদ্ভুত হতে পারে।
- **নিদ্রা (ঘুম):** এটি হলো শরীর ও মনকে **বিশ্রাম** দেওয়ার জন্য সাময়িকভাবে অচেতন অবস্থা। নিদ্রা হলো শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।
৩. ৩ নম্বর: ‘ঘুম ভাঙানি’ কবিতাটির লেখক কে এবং কেন এই কবিতাটি ‘ঘুম পাড়ানি ছড়া’র বিপরীত?
- **লেখক:** ‘ঘুম ভাঙানি’ কবিতাটির লেখক হলেন **মোহিতলাল মজুমদার**।
- **বিপরীত কারণ:** ঘুম পাড়ানি ছড়ার উদ্দেশ্য হলো **শিশুকে ঘুম পাড়ানো** এবং তাকে স্বপ্নের জগতে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু ‘ঘুম ভাঙানি’ কবিতার উদ্দেশ্য হলো **শিশুকে আলস্য ও স্বপ্ন থেকে জাগিয়ে তুলে** তাকে দিনের আলোয় কর্মঠ হতে উৎসাহিত করা।
৪. ৩ নম্বর: ‘যুবক’ ও ‘নবীন’ শব্দদুটির মাধ্যমে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
- **যুবক:** ‘যুবক’ শব্দটি **বয়স্ক বা বুড়ো** শব্দের বিপরীত। এটি শক্তি, তারুণ্য এবং উদ্যমকে বোঝায়।
- **নবীন:** ‘নবীন’ শব্দটি **নতুন** বা সতেজ কিছু বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
- **তাৎপর্য:** ‘ঘুম ভাঙানি’ কবিতায় এই শব্দগুলি শিশুকে আলস্য ত্যাগ করে **নতুন উদ্যমে** কর্মের জগতে প্রবেশ করতে উৎসাহিত করে।
৫. ৪ নম্বর: ঘুম ভাঙানি ছড়ায় ‘আলো’ ও ‘দিন’ কিসের প্রতীক?
ঘুম ভাঙানি ছড়ায় ‘আলো’ এবং ‘দিন’ কেবল সময়ের নির্দেশক নয়, এগুলি গভীর অর্থের প্রতীক:
- **আলো:** এটি **জ্ঞান, কর্ম, আশা ও সতেজতার** প্রতীক। আলোর আগমনে আলস্য দূর হয়।
- **দিন:** দিন হলো **কর্মজীবন ও কর্তব্যের** প্রতীক। দিন শুরু হওয়ার অর্থ হলো এখন বিশ্রামের সময় শেষ করে কাজে মন দিতে হবে।
- **আহ্বান:** এই দুটি প্রতীকের মাধ্যমে কবি ঘুমন্ত শিশুটিকে স্বপ্নের অলস জগত ছেড়ে বাস্তব পৃথিবীর কঠোর ও কর্মময় জীবনে আহ্বান জানিয়েছেন।
৬. ৩ নম্বর: ‘ঘুম পাড়ানি ছড়া’ ও ‘ঘুম ভাঙানি’ কবিতার মধ্যে একটি প্রধান পার্থক্য লেখো।
- **ঘুম পাড়ানি ছড়া:** এর লক্ষ্য হলো শিশুকে **আরাম ও নিরাপত্তা**র অনুভূতি দিয়ে ঘুম পাড়ানো এবং তাকে স্বপ্নের জগতে (কল্পনা) প্রবেশ করানো। এটি রাতের সময় লেখা হয়।
- **ঘুম ভাঙানি:** এর লক্ষ্য হলো শিশুকে **আলস্য ভেঙে জাগিয়ে তোলা** এবং তাকে বাস্তব ও **কর্মের জগতে** (কর্তব্য) নিয়ে আসা। এটি দিনের বেলা লেখা হয়।
৭. ৪ নম্বর: ‘বিস্মরণী’ ও ‘স্বপন পসারি’ বইদুটির লেখক কে? তাঁর লেখার দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
- **লেখক:** ‘বিস্মরণী’ ও ‘স্বপন পসারি’ বইদুটির লেখক হলেন **মোহিতলাল মজুমদার**।
- **বৈশিষ্ট্য:** তাঁর লেখার দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো:
- **শক্তিশালী গদ্য ও কাব্য:** তিনি ছিলেন একজন শক্তিশালী গদ্যকার ও কবি।
- **সমালোচনা:** তিনি রবীন্দ্র-পরবর্তী যুগের অন্যতম প্রধান সাহিত্যিক ও সমালোচক ছিলেন।
৮. ৩ নম্বর: ‘কর্ম’ ও ‘আলস্য’ শব্দদুটি এই পাঠের দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করো।
‘ঘুম ভাঙানি’ কবিতার প্রেক্ষাপটে এই শব্দদুটি গুরুত্বপূর্ণ:
- **কর্ম:** এটি হলো **জেগে থাকা, কাজ করা এবং দায়িত্ব পালন** করা। দিন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মের শুরু হয়।
- **আলস্য:** এটি হলো **অলসতা, ঘুম বা স্বপ্নের জগতে** ডুবে থাকা। কর্ম থেকে বিরত থাকাকে আলস্য বলে।
- **শিক্ষা:** এই পাঠে শিশুকে আলস্য ত্যাগ করে কর্মের পথে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করা হয়েছে।
৯. ৪ নম্বর: ‘স্বপন পসারি’ বইটির অর্থ কী হতে পারে? স্বপন বুড়োর সঙ্গে এর সম্পর্ক কী?
- **অর্থ:** ‘স্বপন’ মানে স্বপ্ন এবং ‘পসারি’ মানে যিনি পসরা (পণ্য) নিয়ে বেচাকেনা করেন। তাই ‘স্বপন পসারি’ মানে যিনি **স্বপ্ন বিক্রি বা বিতরণ করেন**।
- **সম্পর্ক:** **স্বপন বুড়ো**ও তাঁর রূপোলি থলেতে করে **রঙিন স্বপ্ন ও রূপকথা** নিয়ে আসেন, যা শিশুদের বিতরণ করেন। তাই স্বপন বুড়োকে এক প্রকারের স্বপন পসারি বলা যেতে পারে।
১০. ৪ নম্বর: ‘ঘুম ভাঙানি’ কবিতায় উল্লেখিত চারটি সমার্থক শব্দ এবং চারটি বিপরীতার্থক শব্দ লেখো।
- **সমার্থক শব্দ:** ঘুম – নিদ্রা, স্বপ্ন – স্বপন, বুড়ো – বৃদ্ধ, আলো – জ্যোতি, কথা – বচন।
- **বিপরীতার্থক শব্দ:** ভাঙা – গড়া/জোড়া, আলো – আঁধার, যুবক – বৃদ্ধ, শেষ – আরম্ভ, ঘুম – জাগরণ।