বাংলা সাহিত্য: অনলাইন টেস্ট
চতুর্থ শ্রেণি | সপ্তম পাঠ: উঠো গো ভারতলক্ষ্মী (অতুলপ্রসাদ সেন)
সপ্তম অধ্যায়: নোটস ও প্রস্তুতি (৩, ৪, ৫ নম্বরের উপযোগী)
১. ৫ নম্বর: কবি অতুলপ্রসাদ সেনের ‘উঠো গো ভারতলক্ষ্মী’ কবিতার মূল ভাব এবং আহ্বান আলোচনা করো।
**কবিতার মূল ভাব:** কবি দেশমাতৃকাকে **’ভারতলক্ষ্মী’** রূপে কল্পনা করেছেন। একসময় ভারতবর্ষ জ্ঞান, সম্পদ ও গৌরবে সমৃদ্ধ ছিল। কিন্তু বিদেশি শাসনের কারণে সেই ভারতলক্ষ্মী আজ শোকে ও বিষাদে ডুবে আছেন, তিনি ঘুমিয়ে আছেন। কবি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তাঁকে জাগিয়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
- **আহ্বান:** কবি ভারতবাসীকে দেশমাতৃকার দুঃখ দূর করার জন্য জেগে উঠতে বলছেন। ভারতলক্ষ্মীকে **’উঠো গো’** বলে আহ্বান জানানো হয়েছে।
- **কর্তব্য:** দেশের সন্তানরা যদি ঐক্যবদ্ধ না হয় এবং আলস্য ত্যাগ না করে, তবে ভারতলক্ষ্মীর ঘুম ভাঙবে না। তাই সকলকে **কাজে লেগে** দেশমাতৃকাকে তার পুরনো গৌরব ফিরিয়ে দিতে হবে।
- **ঐতিহ্য:** কবি দেশের পুরাতন ঐতিহ্য ও শৌর্য স্মরণ করিয়ে দিয়ে দেশবাসীকে প্রেরণা জুগিয়েছেন।
২. ৪ নম্বর: ভারতলক্ষ্মী কেন ঘুমিয়ে আছেন? এই ঘুম ভাঙানোর উপায় কী?
- **ঘুমের কারণ:** একসময় ভারত সম্পদ ও গৌরবে পূর্ণ ছিল। কিন্তু পরাধীনতার কারণে এবং দেশবাসীর আলস্য ও কর্মবিমুখতার জন্য সেই গৌরব হারিয়ে গেছে। এই **গৌরবহীনতা ও দুঃখের** কারণেই ভারতলক্ষ্মী আজ শোকে ঘুমিয়ে আছেন।
- **ঘুম ভাঙানোর উপায়:** কবি দেশবাসীকে **আলস্য ত্যাগ করে জেগে উঠতে** এবং দেশের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে আহ্বান জানিয়েছেন। দেশের সন্তানরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করলেই ভারতলক্ষ্মীর ঘুম ভাঙবে।
৩. ৩ নম্বর: কবি কাকে ‘ভারতলক্ষ্মী’ বলে উল্লেখ করেছেন? তাঁকে কেন ‘উঠো গো’ বলে ডাকা হয়েছে?
- **ভারতলক্ষ্মী:** কবি **দেশমাতৃকা ভারতবর্ষকে** ‘ভারতলক্ষ্মী’ বলে উল্লেখ করেছেন। লক্ষ্মী হলেন ধন ও সম্পদের দেবী।
- **আহ্বান:** দেশকে তার পুরনো গৌরব, জ্ঞান ও সম্পদ ফিরিয়ে আনতে এবং পরাধীনতার আলস্য ঝেড়ে ফেলতে কবি তাঁকে ঘুম থেকে **জেগে ওঠার** জন্য ‘উঠো গো’ বলে ডেকেছেন।
৪. ৩ নম্বর: ‘ভারতী’ ও ‘কমলা’ শব্দের দ্বারা কবি কাকে বুঝিয়েছেন?
- **ভারতী:** ‘ভারতী’ শব্দের দ্বারা **বিদ্যা ও জ্ঞানের দেবী সরস্বতীকে** বোঝানো হয়েছে। এখানে এটি ভারতের জ্ঞানের ঐতিহ্যকে ইঙ্গিত করে।
- **কমলা:** ‘কমলা’ শব্দের দ্বারা **ধন ও সম্পদের দেবী লক্ষ্মীকে** বোঝানো হয়েছে। এখানে এটি ভারতের সম্পদ ও সমৃদ্ধিকে ইঙ্গিত করে।
- **ঐক্য:** দেশমাতৃকা ভারতলক্ষ্মী হলেন এই দুই গুণের (জ্ঞান ও সম্পদ) সমন্বয়।
৫. ৪ নম্বর: ‘আলস্য’ ও ‘উদ্যম’ এই দুটি বিপরীত শব্দের মধ্যে কবি কাকে গ্রহণ করতে বলেছেন এবং কেন?
- **আলস্য:** এটি হলো অলসতা, কাজ না করার মনোভাব, যা দেশকে পিছিয়ে দিয়েছে।
- **উদ্যম:** এটি হলো **সাহস, শক্তি ও কর্মপ্রচেষ্টা**। কবি দেশবাসীকে আলস্য ত্যাগ করে উদ্যমী হতে বলেছেন।
- **কারণ:** কেবল উদ্যমের মাধ্যমেই দেশের সন্তানরা কাজ করতে পারবে, দেশের দুঃখ দূর করতে পারবে এবং ভারতলক্ষ্মীকে তাঁর **পুরনো গৌরবে জাগিয়ে** তুলতে পারবে।
৬. ৩ নম্বর: ‘ভীত’ ও ‘বিপদ’ শব্দের বিপরীত শব্দ লেখো।
- **ভীত (ভয় পাওয়া):** এর বিপরীত শব্দ হলো **সাহসী**।
- **বিপদ:** এর বিপরীত শব্দ হলো **নিরাপদ/সম্পদ**।
৭. ৪ নম্বর: ‘স্বদেশ’ ও ‘সন্তান’ শব্দের দ্বারা কবি কাদের ইঙ্গিত করেছেন এবং কেন?
- **স্বদেশ:** এটি হলো নিজের দেশ, অর্থাৎ **ভারতবর্ষ**। কবি এই স্বদেশকে ভারতলক্ষ্মী বলে মনে করেন।
- **সন্তান:** এটি হলো দেশের জনগণ। কবি দেশের সন্তানদেরকে **একসাথে কাজ করার** জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
- **তাৎপর্য:** দেশের সন্তানরাই (জনগণ) ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে স্বদেশকে (ভারতলক্ষ্মী) তার গৌরব ফিরিয়ে দিতে পারে।
৮. ৩ নম্বর: ‘আলো’ ও ‘জাগো’ এই দুটি শব্দের প্রতীকী অর্থ কী?
- **আলো:** এখানে আলো হলো **জ্ঞান ও চেতনার** প্রতীক। অজ্ঞানতা ও দুঃখের আঁধার দূর করে জ্ঞান ও সমৃদ্ধি আনতে হবে।
- **জাগো:** ‘জাগো’ হলো **উদ্যম ও কর্মপ্রচেষ্টার** প্রতীক। আলস্য ও হতাশা ছেড়ে দেশবাসীকে সচেতন ও কর্মঠ হওয়ার আহ্বান।
৯. ৪ নম্বর: ‘উঠো গো ভারতলক্ষ্মী’ কবিতায় ব্যবহৃত চারটি সমার্থক শব্দ এবং চারটি বিপরীতার্থক শব্দ লেখো।
- **সমার্থক শব্দ:** ভারতী – সরস্বতী/জ্ঞান, কমলা – লক্ষ্মী/সম্পদ, স্বদেশ – নিজ দেশ, সন্তান – ছেলেমেয়ে, আলস্য – ক্লান্তি।
- **বিপরীতার্থক শব্দ:** উঠো – বসো/ঘুমাও, দুঃখ – সুখ, সাহস – ভয়, জাগো – ঘুমাও/নিদ্রা যাও, বড়ো – ছোটো।
১০. ৪ নম্বর: কবি অতুলপ্রসাদ সেন সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।
অতুলপ্রসাদ সেন (১৮৭১-১৯৩৪) ছিলেন একজন বিখ্যাত বাঙালি গীতিকার, সুরকার এবং কবি। তাঁর রচিত গানগুলি **’অতুলপ্রসাদী গান’** নামে পরিচিত।
- **বৈশিষ্ট্য:** তাঁর গানে একদিকে যেমন **দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধ** ফুটে উঠেছে, তেমনই অন্যদিকে আধ্যাত্মিকতা ও মানবপ্রেমের সুর ছিল।
- **ভাষা:** তিনি বাংলা এবং উর্দুর মিশ্রণে গান লিখতেন।