বাংলা সাহিত্য: অনলাইন টেস্ট
চতুর্থ শ্রেণি | ষষ্ঠ পাঠ: আমার মা-র বাপের বাড়ি (রাণী চন্দ)
ষষ্ঠ অধ্যায়: নোটস ও প্রস্তুতি (৩, ৪, ৫ নম্বরের উপযোগী)
১. ৫ নম্বর: লেখিকার মা-র বাপের বাড়ি যাওয়ার অভিজ্ঞতার সামগ্রিক বর্ণনা দাও।
লেখিকার মা-র বাপের বাড়ি যাওয়ার যাত্রাটি ছিল নদীপথে নৌকা করে।
- **যাত্রা ও নৌকা:** লেখিকা, তাঁর দাদা, মামা, শম্ভু ও খোকনকে নিয়ে যাত্রা শুরু হয়। নৌকাটি ছিল **’একটুখানি মালামালবাহী’** এবং **’ছোট্টো ডিঙি’**। নৌকাটি **হিজলবনী নদীতে** এসে পড়ে।
- **মায়ের ভয়:** লেখিকার মা জলের দেশের মেয়ে হওয়া সত্ত্বেও জলকে ভয় পেতেন এবং নৌকো উঠতেই তাঁর মাথা ঘুরত। তিনি নৌকার ভিতরে বিছানা পেতে শুয়ে পড়তেন।
- **শিশুদের আনন্দ:** বাচ্চারা নৌকাতে বসে বসে বাঁশি বাজাত, গান গাইত। যখন নৌকা স্থির হয়ে থাকত, তখন তারা **শম্ভু ও খোকনের সঙ্গে সাঁতার কাটত** এবং জলের ধারে খেলা করত।
- **নদীপথ:** সারাদিন ধরে নদীর বাঁকে বাঁকে চলে সন্ধ্যায় মাঝিরা নৌকা বাঁধত। লেখিকার মা এই নদীকে **’ঘরের লক্ষ্মী’** বলে উল্লেখ করেছিলেন।
২. ৪ নম্বর: শম্ভু ও খোকনের সাথে নদীতে সাঁতার কাটার অভিজ্ঞতার বর্ণনা দাও।
নৌকা যখন কোনো এক গ্রামে থামত, তখন শম্ভু ও খোকনের সঙ্গে লেখিকা নদীতে সাঁতার কাটার আনন্দে মেতে উঠতেন।
- **সাঁতারের মজা:** তারা জলে ঝাঁপিয়ে পড়ত এবং **’টলমল টলমল করে’** অনেকটা সাঁতরাত। শম্ভু সাঁতারে বেশ পটু ছিল।
- **প্রতিযোগিতা:** তারা ছোটোখাটো একটি **’নৌকো বাইচ’** খেলারও উদ্যোগ নিত।
- **আনন্দ:** সাঁতার শেষে তারা জল থেকে উঠে শুকিয়ে আবার নৌকোয় বসত। জল থেকে ওঠার পর শরীরের ঠান্ডা এবং মুক্ত হওয়ার অনুভূতি খুব উপভোগ করত।
৩. ৩ নম্বর: লেখিকার মায়ের জলকে কেন ভয় ছিল?
- **বিপরীত স্বভাব:** লেখিকার মা ছিলেন জলের দেশের মেয়ে (নদীর ধারে যার বাপের বাড়ি), তবুও তিনি জলের দোলা সইতে পারতেন না।
- **ভয়:** নৌকো উঠতেই তাঁর মাথা ঘুরত এবং বসে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ত।
- **অবস্থান:** তাই তিনি বেশিরভাগ সময় নৌকার ভিতরে বিছানা পেতে শুয়ে থাকতেন এবং ছোটো ছেলেমেয়েদের কোলে শুইয়ে রাখতেন।
৪. ৩ নম্বর: বাড়ির বড়রা বাপের বাড়িতে কীভাবে সময় কাটাতেন?
লেখিকার মা-র বাপের বাড়িতে গিয়ে বাড়ির বড়রা সবাই একসঙ্গে গল্পগুজব করে সময় কাটাতেন:
- **গল্পগুজব:** বাড়ির বড়রা, বিশেষত মহিলারা, **’সুখ-দুঃখের নানান গল্প’** নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতেন।
- **সময়:** তাদের কাছে সময়ের কোনো হিসেব থাকত না। সারাদিন ধরে গল্প করার পর রাতে আবার ঘুম পাড়ানোর ছড়া কেটে ঘুমিয়ে পড়তেন।
৫. ৪ নম্বর: লেখিকা কেন নদীকে ‘ঘরের লক্ষ্মী’ বলে উল্লেখ করেছেন?
লেখিকার মা-র বাপের বাড়ির নদীটি ছিল তাদের জীবনের প্রতিবেশ:
- **সম্পদ:** নদীর জল কেবল জল নয়, এটি ধানক্ষেতের জন্য জল সরবরাহ করত। অর্থাৎ, নদী তাদের **জীবিকা ও প্রাচুর্য** যোগাত।
- **তুলনা:** লক্ষ্মী হলেন ধন ও সমৃদ্ধির দেবী। নদী যেহেতু তাদের ধন-সম্পদ ও জীবনধারণের উৎস ছিল, তাই মা নদীকে **’ঘরের লক্ষ্মী’** বলে উল্লেখ করেছিলেন।
- **স্নেহ:** লেখিকার মা নদীকে **’আদর করে ঘরের লক্ষ্মী’** বলে উল্লেখ করেছিলেন, যার অর্থ হলো নদীটি ছিল তাদের অত্যন্ত প্রিয় ও শ্রদ্ধার পাত্র।
৬. ৩ নম্বর: নদীতে নৌকা চালানোর সময় মাঝি ও পালদের ভূমিকা কেমন ছিল?
নদীপথে চলার সময় মাঝি ও পালরা প্রয়োজন অনুসারে নৌকা চালাতেন:
- **মাঝির কাজ:** যখন অনুকূল বাতাস থাকত না, তখন মাঝি **গুণ টেনে** বা **লগি ঠেলে** নৌকা চালাতেন।
- **পলের কাজ:** অনুকূল বাতাস পেলে **পাল তুলে দেওয়া হতো** এবং নৌকা বাতাসকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত চলত।
৭. ৪ নম্বর: লেখিকার দিদিমার বাড়িতে কী কী বিশেষ জিনিস ছিল?
লেখিকার দিদিমার বাড়িতে ছেলেমেয়েদের খেলার জন্য অনেক জিনিস মজুত ছিল:
- **পুতুল:** দিদিমার ঘরে **মাটির পুতুল** ছিল, যাদের চোখ-মুখ আঁকা ছিল না।
- **খেলনা:** এছাড়া নানা রঙের **পুতুলের আসবাবপত্র, খাট-বিছানা, চেয়ার-টেবিল, টি-সেট, ডিনার-সেট** ছিল।
- **অন্যান্য:** রান্নাঘরের জন্য পিতল ও মাটির **হাঁড়িকুড়ি, হাতাবেড়ি** ইত্যাদি ছিল, যা দিয়ে ছেলেমেয়েরা ঘরকন্না ও রান্নাবাটি খেলত।
৮. ৩ নম্বর: লেখিকার মা কীভাবে তাঁর ছোটো ছেলেমেয়েদের কোলে শুইয়ে রাখতেন?
নৌকা উঠলেই লেখিকার মায়ের মাথা ঘুরত বলে তিনি নৌকার ভিতরে বিছানা পেতে শুয়ে পড়তেন।
- **নিয়ম:** তিনি তাঁর ছোটো ছেলেমেয়েদের **কোলের কাছে শুইয়ে-বসিয়ে** রাখতেন।
- **কারণ:** জলকে ভয় পেতেন বলে তিনি চাইতেন না, তার ছেলেমেয়েরা যেন অতিরিক্ত জলে না নামে বা কোনো বিপদ হয়।
৯. ৪ নম্বর: শম্ভুর মা নদীর জল দেখে কী বলেছিলেন? তাঁর এই মন্তব্যের কারণ কী ছিল?
শম্ভুর মা নদীতে সাঁতার কাটার সময় নদীর জল দেখে বলেছিলেন, **”নদীর জল এত গভীর আর এত চেনা হয় না।”**
- **কারণ:** নদীর জলকে অত্যন্ত গভীর ও বিপজ্জনক মনে হয়েছিল তাঁর।
- **সাবধানতা:** তিনি চেয়েছিলেন যেন লেখিকার মা ছেলেদের **জল থেকে তুলে নেন**। তিনি ভয় পেয়েছিলেন যে ছেলেরা সাঁতার কাটতে গিয়ে কোনো বিপদে পড়তে পারে।
১০. ৩ নম্বর: লেখিকা কেন মা-র বাপের বাড়ি যাওয়াকে ‘তিনদিনের ছুটি’ বলেছেন?
- **সময়কাল:** লেখিকা এবং তাঁর সঙ্গীরা নৌকায় চড়ে **তিনদিনের** যাত্রাপথে বাপের বাড়ি যেতেন।
- **বাস্তবতা:** বাপের বাড়িতে গিয়ে তাঁরা অনেক আনন্দ করতেন। কিন্তু সেখানে তিন দিন থাকার পর তাদের আবার ফিরে যেতে হতো। তাই এই যাত্রাটি ছিল যেন তিন দিনের একটি আনন্দময় ছুটি।