বাংলা সাহিত্য: অনলাইন টেস্ট
চতুর্থ শ্রেণি | ষষ্ঠ পাঠ: অ্যাডভেঞ্চার: বর্ষায় (মণীন্দ্র গুপ্ত)
ষষ্ঠ অধ্যায়: নোটস ও প্রস্তুতি (৩, ৪, ৫ নম্বরের উপযোগী)
১. ৫ নম্বর: ছোটো পিসিমার বাড়ি থেকে সেজো পিসিমার বাড়ি পর্যন্ত যাত্রার বিবরণ দাও।
গল্পের কথক তার ছোটোপিসিমা ও সেজোপিসিমার ছেলেদের নিয়ে একটি অ্যাডভেঞ্চার শুরু করেন।
- **দল:** ছোটোপিসিমা এবং সেজোপিসিমার ছেলেমেয়েদের নিয়ে গঠিত দলটি ছিল আনন্দময় ও চঞ্চল। দলের নেতৃত্ব দিচ্ছিল সেজোপিসিমার মেয়ে, যে ছিল **’পাক্কা টমবয়’**।
- **যাত্রা শুরু:** সকালবেলা **ফেনসা ভাত** খেয়ে দলটি যাত্রা শুরু করে। তাদের মন ছিল হালকা, শরীর লঘু, এবং মনে আনন্দ ছিল **রামধনুর মতো**।
- **পথের বর্ণনা:** যাত্রা পথে তাদের **কাদা ও জলে ভর্তি** পথ পাড়ি দিতে হয়েছিল। কোথাও কোথাও পুকুরের জল বেড়ে চারপাশের জমিকেও গ্রাস করে নিয়েছিল। বৃষ্টির কারণে **ডালপালা-পাতা-ছাওয়া** পথ ছিল অন্ধকার।
- **আবেগ:** যাত্রা পথে তাদের মনে কোনো ভয় ছিল না, কেবল **ফুর্তি ও অ্যাডভেঞ্চারের** আগ্রহ ছিল।
২. ৪ নম্বর: সেজোপিসিমার মেয়েটিকে ‘পাক্কা টমবয়’ বলা হয়েছে কেন?
সেজোপিসিমার মেয়েটি ছিল এই দলটির নেতা এবং তার আচরণ ও পোশাক ছিল ছেলের মতো:
- **পোশাক:** সে **গাছকোমর বেঁধে** (কোমরে কাপড় শক্ত করে) চলত।
- **কাজ:** সে দলটির **আগে আগে গাছে উঠে যায়**।
- **স্বভাব:** মারামারি বাঁধলে সে **দঙ্গলে লড়ত**।
- **বৈশিষ্ট্য:** যদিও তার নাকে নোলক ছিল, তবুও তার মাথাটি ছিল ন্যাড়া। তার এই সাহসিকতা এবং ছেলেসুলভ আচরণের জন্যই তাকে **’পাক্কা টমবয়’** বলা হয়েছে।
৩. ৩ নম্বর: কথক কেন মনে করতেন, চাইলে তিনি পাখির মতো শিস দিতে ও উড়তেও পারেন?
ছোটোপিসিমার বাড়ি থেকে সেজোপিসিমার বাড়ির দিকে যাত্রার সময় পরিবেশ ও মনের অবস্থা ছিল:
- **শরীরের লঘুতা:** কথক ও তার সঙ্গীদের **শরীর ছিল লঘু** (হালকা)।
- **মানসিকতা:** তাদের মনে ছিল **বিপুল উদ্দীপনা ও ফুর্তি**, যা রামধনুর মতো ঠিকরোচ্ছিল।
- **আবেগ:** এই বাঁধনহারা আনন্দ ও উদ্দীপনার কারণেই তাদের মনে হয়েছিল যে তারা পাখির মতো শিস দিতে পারে, আর চাইলে উড়তেও বোধহয় পারে।
৪. ৩ নম্বর: ছোটোপিসিমার বাড়িতে কেন মজা যথেষ্ট ছিল না?
- **কারণ:** ছোটোপিসিমার বাড়িতে সেজোপিসিমার ছেলেমেয়েরা **দু-এক বছর ধরে ছিল**, তাই সেখানকার মজা **’যথেষ্ট না’** বলে মনে হয়েছিল।
- **সিদ্ধান্ত:** এক বাড়ির মজা ফুরিয়ে যাওয়ায়, দলটি নতুন অভিজ্ঞতার জন্য ছোটোপিসিমার বাড়ি হয়ে সেজোপিসিমার বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
৫. ৪ নম্বর: গল্পটিতে বর্ষাকালের দুটি প্রাকৃতিক দৃশ্যের বর্ণনা দাও।
গল্পটিতে বর্ষাকালের যে চিত্র ফুটে উঠেছে:
- **পুকুরের জল:** বর্ষার সময় পুকুরের জল অনেক বেড়ে গিয়েছিল। সেই জল চারপাশের জমিকেও গ্রাস করে নিয়েছিল। [Image of flooded rural Bengal landscape]
- **পথের অবস্থা:** পথে ছিল **কাদা ও জল**, যার কারণে হাঁটা খুব কষ্টকর ছিল। বৃষ্টির কারণে গাছের ডালপালা ও পাতা ঘেরা পথ ছিল অন্ধকার।
- **বৃষ্টি:** অবিশ্রান্তভাবে বৃষ্টি পড়ছিল, যাকে **’ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি’** বা **’অবিশ্রান্ত বৃষ্টি’** বলা হয়েছে।
৬. ৩ নম্বর: কথক সেজোপিসিমার বাড়ি যাওয়ার পথে কী কী স্থান পার হয়েছিলেন?
ছোটোপিসিমার বাড়ি থেকে সেজোপিসিমার বাড়িতে যাওয়ার সময় দলটি নিম্নলিখিত স্থানগুলি পার হয়েছিল:
- **প্রাথমিক স্থান:** তারা প্রথমে **চাঁদপুর, ফতেহপুর, বাখরপুর, শিবপুর, অনুকূলপুর, সুবীনয়পুর** হয়ে যাত্রা শুরু করেছিল।
- **মধ্য পথ:** তারা **আমাগাছের বাঁক** পার হয়েছিল।
- **গন্তব্য:** সবশেষে তারা সেজোপিসিমার বাড়ি **চামরপুর** গ্রামে পৌঁছোবার আশা করেছিল।
৭. ৪ নম্বর: পুকুরের জলে মুখ ধোওয়ার সময় কথক কেন অবাক হয়েছিলেন?
চলার পথে তারা যখন একটি পুকুরের জলে মুখ ধোওয়ার জন্য ঝুঁকে পড়ে, তখন কথক অদ্ভুতভাবে অবাক হন:
- **বৃষ্টির শব্দ:** বৃষ্টির বেগ ও বাতাসের গর্জনের কারণে পুকুরের জল থেকে তাদের **পরিষ্কার প্রতিচ্ছবি (ছবি) দেখা যাচ্ছিল না**।
- **বাতাসের বেগ:** পুকুরের উপর দিয়ে বাতাসের বেগ এত তীব্রভাবে ছুটে যাচ্ছিল যে জল স্থির ছিল না।
- **অনুভব:** এই দৃশ্য দেখে কথকের মনে হয়েছিল যে বাতাসের চাপ তাঁকে যেন **’তার শেষপর্যন্ত খ্যাতি দেবার’** জন্য প্রস্তুত করছে। এই অদ্ভুত প্রাকৃতিক ঘটনায় তিনি অভিভূত হন।
৮. ৩ নম্বর: ছোটোপিসিমার বাড়ি থেকে সেজোপিসিমার বাড়ি যাওয়ার কারণ কী ছিল?
- **ছুটি:** গ্রীষ্মের ছুটিতে পরিবারের সব ছেলেমেয়ে একসঙ্গে এসেছিল।
- **নতুনত্ব:** ছোটোপিসিমার বাড়িতে মজা ফুরিয়ে গিয়েছিল (দু-এক বছর ধরে ছিল বলে)। তাই নতুন অ্যাডভেঞ্চার এবং ফুর্তির জন্য তারা এই যাত্রা করেছিল।
- **উদ্দেশ্য:** তাদের উদ্দেশ্য ছিল সেজোপিসিমার বাড়ি হয়ে সেখানে থাকা পিসির চার ছেলেমেয়ের দূর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানো।
৯. ৪ নম্বর: অ্যাডভেঞ্চার যাত্রা শেষে বৃষ্টি থামার পর কথক কেমন অনুভব করেছিলেন?
অবিশ্রান্ত বৃষ্টির মধ্যে দীর্ঘ পথ চলার পর যখন বৃষ্টি থামে, তখন সেই অনুভব ছিল এক নতুন অভিজ্ঞতা:
- **শান্তি:** বৃষ্টি থামার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসের গর্জন থেমে গিয়েছিল।
- **পরিষ্কার হওয়া:** চারপাশের সবকিছু যেন পরিষ্কার ও শান্ত হয়ে এসেছিল।
- **অনুভূতি:** কথকের মনে হয়েছিল, **’সারাদিনের গ্লানি-মাখা, শুকনো কাপড় পরে, তবু কী মাটির সেঁধিয়ে গেলাম শরীর করাতো।’** অর্থাৎ, এত কষ্টের পর এক গভীর শান্তি ও মাটিতে মিশে যাওয়ার মতো আরাম তিনি অনুভব করেছিলেন।
১০. ৪ নম্বর: মণীন্দ্র গুপ্ত সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।
মণীন্দ্র গুপ্ত (১৯২৬-২০১০) ছিলেন বাংলা সাহিত্যে জীবনানন্দ-পরবর্তী যুগের একজন জনপ্রিয় কবি, প্রাবন্ধিক এবং ভ্রমণ কাহিনিকার।
- **কাজ:** তিনি সাহিত্য পত্রিকা **’কৃত্তিবাস’** সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- **সাহিত্য:** তাঁর লেখা বইগুলি হলো— **’ছড়ার পর ছড়া’**, **’অক্ষয় মালবের পথে’**, ‘বন থেকে ঘন বনে’ ইত্যাদি।
- **পুরস্কার:** সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার এবং সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার লাভ করেছিলেন। তাঁর এই রচনাটিতে ছেলেবেলার আনন্দ ও অ্যাডভেঞ্চার ফুটে উঠেছে।